Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিবৃদ্ধি করে ভারতে পৌঁছল রাশিয়া-নির্মিত এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রন (প্রকারান্তরে রেজিমেন্ট)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চতুর্থটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেক্টরে মোতায়েন করা হবে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এবার চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমনের মাধ্যমে সেই প্রকল্প আরও এক ধাপ এগোল।

    ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি ধাপে ধাপে এসে পৌঁছচ্ছে। প্রথম ধাপ ৩ জুন ভারতে এসে পৌঁছেছে। তার আগে গত মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আধিকারিকরা রাশিয়ায় গিয়ে প্রি-ডিসপ্যাচ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রনের বাকি সরঞ্জাম ও উপাদানগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি শেষ হওয়ার কথা।

    পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা

    সামরিক সূত্রের মতে, নতুন এস-৪০০ ইউনিটটি ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, বিশেষত পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এই ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এস-৪০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

    • ● সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
    • ● যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং আকাশে থাকা নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করতে পারে।
    • ● একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
    • ● উন্নত রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    একটি স্কোয়াড্রনে কী কী থাকে?

    প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে মোট ১৬টি বিশেষায়িত যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে—

    • ● কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
    • ● অত্যাধুনিক রাডার ইউনিট
    • ● মোবাইল মিসাইল লঞ্চার
    একটি স্কোয়াড্রন আবার দুটি ব্যাটারিতে বিভক্ত। প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি করে লঞ্চার থাকে। ফলে একটি সম্পূর্ণ স্কোয়াড্রন থেকে একযোগে ১২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত মোট ৬০টি লঞ্চার এবং প্রায় ৬,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, যেগুলি ১২০ কিলোমিটার থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিলম্ব

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে এবং ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। তবে রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি সমস্ত সরঞ্জাম ও পঞ্চম তথা শেষ রেজিমেন্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে।

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ কার্যকারিতার প্রমাণ

    ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই অভিযানে শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশপথে আসা হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের মোট এস-৪০০ বহর ১০টি ইউনিটে পৌঁছবে।

    ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    এস-৪০০ বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (IACCS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এস-৪০০-এর পাশাপাশি দেশীয়ভাবে নির্মিত ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এমআরএসএএম’ (MRSAM)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    চতুর্থ এস-৪০০ রেজিমেন্টের আগমনের ফলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রকল্প সমাপ্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছল। পঞ্চম ও শেষ রেজিমেন্ট হাতে পাওয়ার পর দেশের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস-৪০০ শুধু একটি অস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
  • DK Shivakumar: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ কংগ্রেসের শিবকুমারের, মন্ত্রিসভায় ব্যালেন্সের চেষ্টা রাহুলের

    DK Shivakumar: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ কংগ্রেসের শিবকুমারের, মন্ত্রিসভায় ব্যালেন্সের চেষ্টা রাহুলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার কর্নাটকের লোকভবনে শপথ নিলেন কানাকাপুরার বছর চৌষট্টির ভোক্কালিগা নেতা ডিকে শিবকুমার। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। ৩০ মে তিনি কংগ্রেস বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হন। এদিন শপথ নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে।

    শিবকুমারের উত্থান (DK Shivakumar)

    রাজনৈতিক মহলের মতে, শিবকুমারের এই উত্থান দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলার ফল। শিবকুমার ‘ডিকে শি’ নামেই পরিচিত রাজনৈতিক মহলে। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। দলত্যাগের প্রবণতা, রাজনৈতিক সঙ্কট এবং ভোটের সময় কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সিদ্ধারামাইয়া। সেদিনই জানা গিয়েছিল, ওই কুর্সিতে বসতে চলেছেন ডিকে শি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন। সিদ্ধারামাইয়াকে রাজ্যসভা পাঠানো হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। তিনি যেদিন মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন, সেদিনই তাঁকে প্রণাম করে আশীর্বাদ চেয়ে নিয়েছিলেন ডিকে শি। এদিন বসলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে।

    মন্ত্রিসভায় কারা

    নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকে শির কাছে কর্নাটকবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তিনি দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। সঙ্কটের দিনে কর্নাটক কংগ্রেসকে অক্সিজেন জুগিয়ে পুনর্জীবন দিয়েছিলেন তিনিই। গত এক দশকে কর্নাটকে দলের নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে তাঁর অবদান অপরিসীম। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এদিন তারই প্রতিদান পেলেন ডিকে শি। এদিন ডিকে শির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কংগ্রেসের ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টাকেও তুলে ধরেছে। এদিনই উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্রবীণ নেতা জি পরমেশ্বর। মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় শপথ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন কেএইচ মুনিয়াপ্পা, কেজে জর্জ, এমবি পাটিল, রামালিঙ্গা রেড্ডি, সতীশ জারকিহোলি, কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া, প্রিয়াঙ্ক খাড়গে, ইউটি খাদার, ঈশ্বর খান্দ্রে, ইয়াথীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া, বাইরাথি সুরেশ এবং শরণ প্রকাশ পাটিল। এই তালিকায় অভিজ্ঞ প্রশাসক ও উদীয়মান নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যাতে কর্নাটকের বিভিন্ন অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

    অনুষ্ঠান চলার সময়ও ৩৪ সদস্যের পূর্ণ মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত ছিল কংগ্রেসে। সম্ভাব্য মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে জল্পনাকে গুরুত্ব না দিয়ে শিবকুমার বলেন, “দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবেন।”

     

  • Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের সত্যটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। আচ্ছা, আপনি যে জমিতে আজ বাড়ি বানিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, কাল সকালে উঠে যদি শোনেন সেই জমিটা আর আপনার নয়, ওটা রাতারাতি একটা ধর্মীয় বোর্ডের সম্পত্তি হয়ে গেছে—কেমন লাগবে আপনার? ভাবছেন অবাস্তব? কাল্পনিক গল্প? একদমই নয়! দেশের বুকে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুনামবাম (Munambam) গ্রাম। যেখানে ৬০০-র বেশি সনাতন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার গত চার দশক ধরে নিজেদের রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিতে বাস করছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, রেজিস্ট্রি দলিল পকেটে নিয়ে ঘুরছেন—আজ তারা নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছেন! বর্তমান ইউডিএফ (UDF) সরকার চুপ।

    গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে (Munambam)?

    কারণটা কী জানেন? কারণ, কেরলের ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ফতোয়া জারি করেছে—পুরো মুনামবাম (Munambam) গ্রামটাই নাকি তাদের সম্পত্তি! দলিল, আইন, আদালত—সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নিমেষে কয়েকশো পরিবারকে রিফিউজি বানানোর ছক কষা হয়েছে। আর এই গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে? কেরলের বামপন্থী আর কংগ্রেস জোটের সেই চেনা ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ (Appeasement Politics)! সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক বাঁচানোর জন্য তারা আজ নিশ্চুপ, অসহায় সাধারণ মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না।

    কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! মোদি সরকার যখনই ওয়াকফ বোর্ডের এই একনায়কতন্ত্রের ডানা ছাঁটতে ‘উমিদ’ (UMEED) পোর্টাল আনল এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করল—অমনি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল! ওয়াকফ বোর্ডের ভেতরের এই বিশাল জমি দখলের খেলা আজ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। কী এই মুনামবাম বিতর্ক? কীভাবে ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে একটি আস্ত গ্রাম গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে?

    শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল

    কীভাবে একটা আস্ত গ্রামকে ওয়াকফ সম্পত্তির তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল? ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫০ সালে থেকেই। সিদ্দীক শেঠ নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী কোঝিকোড়ের ফারুক কলেজকে (Farook College) শিক্ষার প্রসারের জন্য মুনামবাম (Munambam) এলাকার প্রায় ৪০৪ একর উপকূলীয় জমি দান করেন। তবে এটি ছিল ফারুক কলেজকে দেওয়া একটি সাধারণ দানপত্র বা ‘গিফট ডিড’। শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, কোনও ধর্মীয় ওয়াকফ করার জন্য নয়।

    ১৯৮৮ সালে ফারুক কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এই জমির কিছু অংশ তারা বিক্রি করে দেবে। এলাকার প্রায় ৬১০টি গরিব পরিবার—যাদের সিংহভাগই খ্রিস্টান এবং হিন্দু মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, আনুমানিক ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে আইনি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ফারুক কলেজের থেকে এই জমি কিনে নেয়। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে ঘর বানিয়েছে, রক্ত জল করে চাষবাস করেছে, প্রতি বছর সরকারকে জমির ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ঘটল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! কেরল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দাবি করল—এই পুরো ৪০৪ একর জমি আদতে ফারুক কলেজের নয়, ওটা ওয়াকফ সম্পত্তি! অতএব, ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষ যে জমি কিনেছিল, সেই কেনাবেচার কোনো আইনি মূল্যই নেই! সরকারও গোটা বিষয় (UDF) নিয়ে চুপ।

    কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়া

    আজ কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়াকান্না কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন বলছেন, “কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন ২০১৯ সালে ওয়াকফ বোর্ড এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো কোথায় ছিল? ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা চুপ করে বসে ওয়াকফ বোর্ডের এই আগ্রাসনকে লাইসেন্স দিয়েছিল।”

    ইতিমধ্যে মুনামবামের হিন্দু এবং খ্রিস্টান সমাজ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা বুঝে গেছে, এই ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের রক্ষা করবে না। আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্ট দেখছে—কেন মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিল আনাটা কতটা জরুরি ছিল। যদি এই আইন সংশোধন না করা হয়, তবে আজ কেরলের মুনামবাম (Munambam), কাল আপনার বা আমার ঘরের জমিও এভাবে ওয়াকফ বোর্ড কেড়ে নিতে পারে!

    মুনামবাম গ্রামে আজ শত শত হিন্দু ও খ্রিস্টান পরিবার চোখের জল ফেলছে, এর আসল অপরাধী কে? এর আসল খলনায়ক হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তাদের দশকের পর দশক ধরে চালানো নির্লজ্জ ‘মুসলিম তোষণ’ নীতি।

    আজ কংগ্রেসের নেতারা কেরলে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভণ্ডামি করছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ওয়াকফ বোর্ডকে দেশের সংবিধান এবং আদালতের ওপরে বসিয়ে দিয়ে একটা ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর লাইসেন্স কারা দিয়েছিল? উত্তরটা হল—কংগ্রেস (UDF)!

    ফিরে যান ১৯৯৫ সালে। কেন্দ্রে তখন পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিজেদের পকেটে রাখতে কংগ্রেস দেশের সংসদে এমন এক কালো আইন পাস করল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক—’ওয়াকফ অ্যাক্ট ১৯৯৫’।

    ওয়েনাডের সাংসদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি?

    কেরলের (Munambam) পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (IUML)। কেরলে ক্ষমতা (UDF) টিকিয়ে রাখতে এবং মুসলিম লীগের ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে কংগ্রেস সেখানে সবসময় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি অন্যায় পদক্ষেপের সামনে নতজানু হয়ে থেকেছে।

    ২০১৯ সালে যখন ওয়াকফ বোর্ড মুনামবামের গরিব মৎস্যজীবীদের জমি নিজেদের বলে কেড়ে নিল, তখন কেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাহুল গান্ধী—যিনি কেরলেরই ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন—একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি? কেন তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই দলগুলো নীরব ছিল? কারণ একটাই—সাধারণ হিন্দু বা খ্রিস্টান মৎস্যজীবীদের কান্নার চেয়ে তাদের কাছে মুসলিম লীগের ভোটব্যাংকের মূল্য অনেক বেশি!

    মুনামবামের ঘটনা আজ ভারতের চোখ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের এই তোষণের রাজনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের জন্য কতটা বড় হুমকি!

    মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে

    আজ কেরলের মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় এটাই যে, আজ আর ভারত আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দিল্লিতে আজ এমন এক সরকার রয়েছে, যারা ভোটব্যাংকের তোষণ নয়, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে।

    আজ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণেই ‘উমিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি গোপন পদক্ষেপ দেশের মানুষের সামনে চলে আসছে। আর সেই কারণেই আজ দেশের আপামর জনতা—তা সে হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান—একজোট হয়ে মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিলের পক্ষে সওয়াল করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি (UDF)।

    মুনামবামের মানুষ আজ লড়াই করছেন তাদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য, আর আমাদের লড়াই করতে হবে এই তোষণের রাজনীতির ধারক-বাহকদের দেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে উপড়ে ফেলার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে ভারতের আর কোনো মুনামবাম গ্রামকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়।

  • CBSE: অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম নিয়ে প্রবল বিতর্ক, সরানো হল সিবিএসইর চেয়ারম্যান-সচিবকে

    CBSE: অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম নিয়ে প্রবল বিতর্ক, সরানো হল সিবিএসইর চেয়ারম্যান-সচিবকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন চালু হওয়া অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (On Screen Marking System) নিয়ে প্রবল বিতর্কের জেরে সরিয়ে দেওয়া হল সিবিএসই (CBSE)-এর চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে। এই পদক্ষেপ এমন একটা সময়ে নেওয়া হল, যখন সিবিএসই পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেমের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    তদন্তের জন্য কমিটি (CBSE)

    অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পরিষেবা ক্রয় প্রক্রিয়া তদন্তের জন্য একটি কমিটিও গড়া হয়েছে। এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন এসরাধা চৌহান। তিনি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারপার্সন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে হবে। অনিয়মগুলির মধ্যে ছিল উত্তরপত্রের অদলবদল, মূল্যায়নে ভুল, ত্রুটিপূর্ণ যাচাই এবং নম্বর বা গ্রেড বরাদ্দে গরমিল। যেসব শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি চেয়েছিল, তারা দেখতে পায় যে আপলোড করা কপিগুলি তাদের নিজেদের উত্তরপত্র নয়। সিবিএসই আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ২০টি উত্তরপত্রের অমিলের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত সমস্যা

    শিক্ষার্থী এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও ওয়েবসাইটের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা ও দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। মূল্যায়ন পোর্টালে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা, ঝাপসা বা অনুপস্থিত পৃষ্ঠা দেখানোর মতো সমস্যাও দেখা গিয়েছে। অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (On Screen Marking System) পরিচালনাকারী পরিষেবা প্রদানকারী অনমার্ক (OnMark) পোর্টালকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য সিবিএসই একটি নতুন পোর্টাল চালু করে। রবিবার বোর্ড জানায়, তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইআইটির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি টিমকে কাজে লাগিয়েছে, যাতে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা যায়। পোর্টালটি চালু থাকবে ৬ জুন, ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত।

    চুক্তির শর্ত

    সিবিএসই (CBSE) ডিজিটাল স্ক্যানিং এবং অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছিল হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা Coempt Edu Teck-কে। তাদের কাজ ছিল, উত্তরপত্র স্ক্যান এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন পরিচালনা করা। অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলও করা যেতে পারে, যদিও, তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা যাবে না। চুক্তিতে এও বলা হয়েছিল, সিবিএসইর পক্ষ থেকে চিহ্নিত কোনও গুরুতর সমস্যা সমাধানে প্রতি ১৫ মিনিট দেরির জন্য ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে (On Screen Marking System)।

    সিকিউরিটি ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত করার শর্ত

    সমস্যার মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে প্রতি ৬০ মিনিট দেরির জন্যও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে সিবিএসই সিকিউরিটি ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত এবং চুক্তি বাতিল করতে পারবে। মঙ্গলবার দুই শীর্ষ আধিকারিককে সরানোর সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বিষয়টি লোকসভায় ওঠার পর। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতারা সিবিএসই এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা ঝাপসা উত্তরপত্র, মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যানিং এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাগুলির উল্লেখ করেন। মূল্যায়নে ত্রুটি এবং পুনর্মূল্যায়নের চড়া ফি নিয়ে জবাবদিহির জন্য সিবিএসই (CBSE) আধিকারিকদের এবং শিক্ষা সচিবকে তলব করেছিল শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি।

     

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজ মৌল বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements, সংক্ষেপে REE)-এর জোগান নিয়ে যখন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন মায়ানমারের সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর ভারত সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পাঁচ দিনের ভারত সফরের অংশ হিসেবে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মায়ানমারের বিপুল বিরল খনিজ সম্পদও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মে ৩০ থেকে জুন ৩ পর্যন্ত চলা এই সফরে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মায়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজ সম্পদ, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মায়ানমারের বিরল খনিজ মৌল?

    বর্তমানে মায়ানমার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল খনিজ মৌল উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পরেই তার অবস্থান। বিশেষ করে দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে বিপুল পরিমাণে মজুত রয়েছে ভারী বিরল খনিজ মৌল— ডিসপ্রোসিয়াম (Dysprosium) এবং টার্বিয়াম (Terbium)। এই খনিজগুলি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), বায়ুচালিত বিদ্যুৎ টারবাইন, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এগুলির ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়াম এমন এক ধরনের উপাদান যা চুম্বককে অত্যধিক তাপমাত্রাতেও কার্যকর রাখে। ফলে যুদ্ধবিমান, রেডার ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরিতে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

    ভারতের জন্য কেন কৌশলগত তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে নিজস্ব যুদ্ধবিমান, উন্নত রেডার ও সামরিক প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে। সেই কারণে মায়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের প্রতি নয়াদিল্লির আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

    বিশেষ করে—

    • ● যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত সুপারঅ্যালয় তৈরিতে ডিসপ্রোসিয়াম প্রয়োজন।
    • ● উন্নত রেডার ব্যবস্থায় বিরল মৃত্তিকা চুম্বক অপরিহার্য।
    • ● স্টেলথ প্রযুক্তি ও বিশেষ প্রতিরক্ষা আবরণ তৈরিতেও এই উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।
    • ● ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের জন্যও এই খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমানে মায়ানমারের অধিকাংশ বিরল খনিজ অপরিশোধিত অবস্থায় চিনে রফতানি বা পাচার হয়ে যায়। কারণ দেশটির নিজস্ব পরিশোধন (refining) পরিকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে চিন দীর্ঘদিন ধরে এই খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    চিনের বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিরল খনিজের সরবরাহে চিনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের মোট পরিশোধিত বিরল খনিজের বড় অংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান এবং ভারত বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মায়ানমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মায়ানমারের ভৌগোলিক সংযোগ এবং দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় দুই দেশের মধ্যে খনিজ সহযোগিতার সম্ভাবনাও বেশি।

    বাণিজ্যিক সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে

    ভারত ও মায়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ২.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মায়ানমার থেকে ভারতে রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে ডালশস্য (Pulses) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা মোট রফতানির প্রায় ৭৭ শতাংশ। এছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া রুপি-কিয়াত (Rupee-Kyat) নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খুলে দিয়েছে। এতে ডলার নির্ভরতা কমবে এবং বাণিজ্য আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিনিয়োগেও বাড়ছে ভারতের উপস্থিতি

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভারত ধীরে ধীরে মায়ানমারে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের একাদশ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। ভারতীয় সংস্থাগুলির অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৮২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল খনিজ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও উৎপাদন শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠলে আগামী কয়েক বছরে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।

    ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

    বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিরল খনিজ মৌলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে ভারত যে সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে, মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মায়ানমারের খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে ওঠে, তাহলে তা ভারতের প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন খাতে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

  • NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনের তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিটও জমা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা (LeT), দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস (Hamas) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সম্পর্ক (Pahalgam Terror Attack Case) নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে হামাস যোগ (NIA)

    চার্জশিটে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ এই প্রথম পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য কার্যকরী সম্পর্কের তদন্তে এনআইএ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করেছে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায়।তদন্তকারীরা জানান, তদন্তের এই অংশটি (হামাস যোগ) আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সম্পর্কের প্রকৃতি, পরিসর ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া কোনও জঙ্গি কার্যকলাপে কোনও রকমের সাহায্য, সমর্থন বা প্রভাব বিস্তার করেছে কি না।

    যেসব তথ্য খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত বৃহত্তর একটি চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্যই হল অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চিহ্নিত করা এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তা বোঝা। এটা করতে গিয়েই এনআইএ একাধিক সূত্র অনুসরণ করছে (NIA)। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই সব তথ্য সম্ভাব্য সংযোগগুলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এনআইএ এই নয়া দিকটিতেই বেশি করে নজর দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্প্রতি হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে।

    হামাসের আক্রমণের সঙ্গে মিল!

    এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই সংগঠনগুলির মধ্যে কোনও ধরনের সহযোগিতা, সমন্বয় বা কৌশল শেয়ার করা হয়েছিল কি না। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এও জানার চেষ্টা করছে, পহেলগাঁও হামলায় হামাস-স্টাইলের কোনও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ছিল কি না। জানা গিয়েছে, ওই হামলার পরিকল্পনা, টার্গেট ঠিক করা, এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু মিল দেখা গিয়েছে (Pahalgam Terror Attack Case)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়েছে (NIA)। যদিও এসব সাদৃশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীরা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে সব উপলব্ধ প্রমাণ মূল্যায়ন করে চলেছেন।

    এনআইএর চার্জশিট

    এনআইএর চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামাস-যোগ প্রতিষ্ঠা করা এখনও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। আধিকারিকদের মতে, এই তদন্তের ফল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য দিতে পারে (Pahalgam Terror Attack Case)। কারণ এনআইএ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (NIA)।

     

  • Foreigners Registration India: বিদেশিদের জন্য বড় নিয়ম বদল! ভারতে থাকার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    Foreigners Registration India: বিদেশিদের জন্য বড় নিয়ম বদল! ভারতে থাকার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, জরুরি পরিস্থিতিতে নিবন্ধনের অনুমতি এবং আপিল ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। রবিবার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬ কার্যকর করেছে কেন্দ্র। এই সংশোধনীগুলি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ।

    বিদেশিদের নিবন্ধনের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন

    সংশোধিত বিধিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে রুল ‘১২-এ’। আগে কোনও বিদেশি নাগরিক ভারতে আগমনের পর ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করাতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই বিধান বদলে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশি নাগরিকদের ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে কোনও সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ নিবন্ধনের জন্য আর অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় পাওয়া যাবে না। সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং তথ্য হালনাগাদ রাখা সহজ হবে।

    দেরিতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি

    সংশোধনী বিধিতে দেরিতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন শর্তও যোগ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে নিবন্ধনের অনুমতি শুধুমাত্র ‘জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে’ (emergent circumstances) দেওয়া হবে। ফলে আগে যেখানে কিছুটা নমনীয়তা ছিল, সেখানে এখন বিলম্বিত নিবন্ধনের জন্য যথাযথ কারণ দেখাতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে।

    ভারতীয় অভিভাবকের সন্তানদের জন্য বিশেষ ছাড়

    নতুন সংশোধনীতে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাদের ভারতীয় ও বিদেশি—দুই ধরনের নাগরিকত্বের দাবি থাকতে পারে। বিধি অনুযায়ী, যদি কোনও শিশুর মা বা বাবা ভারতীয় নাগরিক হন এবং তাঁরা নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৩ অনুযায়ী শিশুর ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে চান, তাহলে সেই শিশুর ক্ষেত্রে বিদেশি হিসেবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। এই সিদ্ধান্ত বহু আন্তঃদেশীয় পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে

    তবে একই সঙ্গে সরকার একটি নতুন বাধ্যবাধকতাও নির্ধারণ করেছে। যদি কোনও শিশু ভারতে অবস্থানকালে পরবর্তী সময়ে অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে, তাহলে শিশুর মা বা বাবা—যে কোনও একজনকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন আধিকারিককে (Registration Officer) সেই তথ্য জানাতে হবে। এই বিধান যুক্ত করার মাধ্যমে কেন্দ্র শিশুদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড আরও নির্ভুল রাখতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘রুল ১৮’-এর একটি ভাষাগত ত্রুটিও সংশোধন করেছে। আগের বিধিতে যেখানে লেখা ছিল “but beyond twenty-four hours”, সেখানে সংশোধন করে “but not beyond twenty-four hours” করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বিধির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করবে।

    আপিল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

    সংশোধনী বিধিতে আপিল প্রক্রিয়াকেও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ অনুযায়ী কোনও সিভিল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখন ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

    তবে এই আপিল করতে হবে:

    • ● নির্দেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে
    • ● নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে

    এছাড়া কমিশনারকে আপিলকারীর বক্তব্য শোনার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে এবং একটি কারণ-সম্বলিত (reasoned) আদেশ দিতে হবে। নতুন বিধি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে।

    কেন এই সংশোধনী?

    কেন্দ্র জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ধারা ৩০-এ প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই সংশোধনী বিধি জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সময়োপযোগী করা, নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য। নতুন বিধি ইতিমধ্যেই কার্যকর হওয়ায় ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক, আন্তর্জাতিক পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত নতুন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের মধ্যেও দেশে কাগজের নোটের চাহিদা কমেনি। তবে এবার ভারতের কাগজের মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহারের ১০ টাকা এবং ২০ টাকার কাগজের নোটগুলো শীঘ্রই ‘প্লাস্টিক’ বা পলিমার নোটে (Plastic Notes) রূপান্তরিত হতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) তাদের এক দশক পুরনো এই পরিকল্পনাটি পুনরায় বাস্তবায়নের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এই খবরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (RBI)?

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাটনা ও মুম্বইতে অনুষ্ঠিত আরবিআই-এর শেষ দুটি বোর্ড বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত দুটি প্রধান কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্লাস্টিক কারেন্সির দিকে ঝুঁকছে:

    ১. উৎপাদন খরচ হ্রাস:

    সাম্প্রতিক সময়ে কাগজের নোট (Plastic Notes) ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে নোট ছাপানোর খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায়। পলিমার নোটের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

    ২. দীর্ঘস্থায়িত্ব বা শেল্ফ লাইফ:

    সাধারণ কাগজের নোট (Plastic Notes) দ্রুত ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন জরাজীর্ণ ও নোংরা নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে আরবিআই-কে। ১০ এবং ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় বলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। প্লাস্টিকের নোট সহজে ছিঁড়বে না, জলেও নষ্ট হবে না। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন সচল থাকবে।

    এটি কি ক্রেডিট কার্ডের মতো শক্ত হবে?

    না, প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট (Plastic Notes) বলা হলেও এগুলো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো শক্ত কোনও প্লাস্টিক নয়। এটি মূলত একটি অত্যন্ত পাতলা, নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট দিয়ে তৈরি। এটি কাগজের নোটের মতোই হালকা হবে এবং সহজেই ভাঁজ করে পকেটে বা মানিব্যাগে রাখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই এই পলিমার নোটের সফল ব্যবহার চলছে।

    প্রাথমিক পাইলট প্রজেক্ট ও এটিএম-এর প্রস্তুতি

    আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে একবারে এই নোট চালু করা হবে না। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) নির্দিষ্ট কিছু শহরে ১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে ২০১২ সালেও ভারত সরকার কোচি, মহীশূর, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলা—এই পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সে সময় এটিএম (ATM) মেশিনগুলো এই নোট চেনা বা গণনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং আধুনিক এটিএমগুলো যাতে খুব সহজেই এই প্লাস্টিক নোট লেনদেন করতে পারে, তার সম্পূর্ণ পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইউপিআই (UPI)-এর বিপ্লবের পর, কাগজের নোটের এই ‘প্লাস্টিক বা পলিমার’ রূপান্তর ভারতের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী অন্যতম বড় সংস্কার হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share