Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India China Talks: সীমান্ত-সম্পর্ক উন্নত করতে ফের বৈঠকে ভারত-চিন, কী আলোচনা হল?

    India China Talks: সীমান্ত-সম্পর্ক উন্নত করতে ফের বৈঠকে ভারত-চিন, কী আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলাচ্ছে বৈশ্বিক রাজনীতি। পরিবর্তন হচ্ছে সম্পর্কের গাঁটছড়ারও। প্রত্যাশিতভাবেই গলছে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ (India China Talks)। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বুধবার জানিয়েছে, চিন ও ভারতের সেনাবাহিনী দুই দেশের সীমান্তের (Border) পশ্চিম অংশের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রক এও জানিয়েছে, এই বৈঠকটি ২৫ অক্টোবর ভারতের দিকে মোলদো-চুশুল সীমান্ত বৈঠক পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই রাজি হয়েছে যে তারা সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    আলোচনা হয়েছে আগেও (India China Talks)

    এর আগে জুলাই মাসেও পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ আলোচনায় বসেছিল। চিন তাকে খোলামেলা আলোচনা বলে বর্ণনা করেছিল। এই বৈঠকটি ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যকর প্রক্রিয়া কাঠামোর মধ্যেই হয়। সেই সময়ই চিনের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল যে উভয় পক্ষই চলতি বছরের শেষের দিকে পরবর্তী দফার আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। জুলাই মাসের আলোচনার ফল সম্পর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মন্ত্রক এও জানিয়েছিল যে, এই আলোচনা শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।

    ভারত-চিন সম্পর্কের লেখচিত্র

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক অচলাবস্থা শেষ হওয়ার পর থেকে ভারত ও চিনের সম্পর্কের লেখচিত্র ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী (India China Talks)। অগাস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের ফাঁকে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন। এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাত বছর পর প্রথম চিন সফর। প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠককে ফলপ্রসূ বলেই উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “উভয় পক্ষ সীমান্ত (Border) এলাকায় শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।” উল্লেখ্য যে, ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে সমঝোতা হলেও, উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি (India China Talks)।

  • INDI Bloc Manifesto: ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’, বিহারে মহাজোটের ইস্তাহারকে তুলোধনা বিজেপির

    INDI Bloc Manifesto: ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’, বিহারে মহাজোটের ইস্তাহারকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে বিজেপি (BJP) বিরোধী ২৬টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইন্ডি’ (India Bloc Manifesto)। এই ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি। তার পরেই ‘ইন্ডি’ জোটের গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্সের ইস্তাহারকেই নিশানা করল বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিত্যানন্দ রাই মঙ্গলবার এই ইস্তাহারকে ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। তাঁর মতে, বিহারের জনগণকে ভুল পথে চালিত করাই এই ইস্তাহারের লক্ষ্য।

    স্বপ্ন বিক্রি করার চেষ্টা (India Bloc Manifesto)

    নিত্যানন্দ বলেন, “তেজস্বী যাদব ও তাঁর মিত্ররা স্বপ্ন বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা রাজ্যে ফের একবার জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনতে চান।” তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদব ও মহাগঠবন্ধনের নেতারা ইস্তাহারের নামে একগুচ্ছ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন। বিহারের মানুষ জানেন, এঁরা সেই একই লোক, যাঁরা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে চান।” বিহারের ভোটারদের প্রতি কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রীর আহ্বান, “আপনারা এই ভ্রান্তিকর দাবিতে বিভ্রান্ত হবেন না। ১৪ নভেম্বর ফের একবার ক্ষমতায় আসবে এনডিএ সরকার।” আরজেডি নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী বিহারকে অপরাধমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিন সে প্রসঙ্গ টেনে নিত্যানন্দ বলেন, “তেজস্বী যাদব দাবি করছেন যে তিনি বিহারকে অপরাধমুক্ত করবেন। কিন্তু পুরো রাজ্য জানে বিহারকে অপরাধের পাঁকে ঠেলে দিয়েছিল কে।”

    অরাজক শক্তি

    তিনি বলেন, “যদি মানুষ আরজেডির মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত হন, তাহলে (India Bloc Manifesto) বিহারে আবার দিনের আলোয় অপহরণ, লুটপাট এবং খুনের ঘটনা নিত্য ঘটতে থাকবে।” নিত্যানন্দ উজিয়াপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। তিনি বলেন, “১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে আরজেডি এবং লালু পরিবারের রাজত্বেই বিহার ধ্বংস হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই রাজ্য প্রকৃত উন্নয়ন দেখেছে।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বিহারের মানুষ আর কখনও অরাজক শক্তির হাতে তুলে দেবে না রাজ্যের ক্ষমতার রশি (BJP)।” তেজস্বীকে কটাক্ষ করে বিজেপির এই নেতা প্রশ্ন তোলেন তাঁর প্রশাসনিক রেকর্ড নিয়ে। তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদব তাঁর জঙ্গলরাজের সময় কত চাকরি দিয়েছিলেন? কত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন? কোথায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন? বরং তাঁরা দোকান ও ঘরবাড়ি লুট করেছে, জমি দখল করেছে, আর অপহরণের শিল্প তৈরি করেছিলেন (India Bloc Manifesto)।”

    প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বিজেপি

    বিজেপি যে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, এদিন তা-ও মনে করিয়ে দেন নিত্যানন্দ। তিনি বলেন, “আমরা রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মা সীতার জন্য পুনৌরা ধামে একটি বিশাল মন্দির নির্মাণের। নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা তা করে দেখিয়েছি।” মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার বিহারে প্রকৃতই উন্নয়ন এনেছে।” তিনি বলেন, “দেশজুড়ে ৩০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে ওপরে উঠেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিহারের তিন কোটিরও বেশি মানুষও। এখন প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও কলের জল পৌঁছে গিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা (India Bloc Manifesto)।”

    এনডিএর ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    তেজস্বীদের বর্তমান ইস্তাহারে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতিই ঢের আগে পূরণ করে দিয়েছে বিহারের এনডিএ সরকার, দাবি নিত্যানন্দের। তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদবের ইস্তাহারে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি যেমন, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী কল্যাণ, ও সরকারি চাকরি – অনেক আগেই বাস্তবায়ন করেছে বিহারের বর্তমান সরকার। নিত্যানন্দ বলেন, “এনডিএর ডাবল ইঞ্জিন সরকার বিহারের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটছে (BJP)।” প্রসঙ্গত, ইন্ডি জোটের প্রকাশিত ইস্তাহারের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘তেজস্বী পণ’। একাধিক জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ঘোষণাই এই ইস্তাহারের প্রধান আকর্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার প্রতি একটি করে সরকারি চাকরি, মহিলাদের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা এবং প্রতিটি পরিবারকে ২০০ করে ইউনিট বিদ্যুৎ দেওয়া হবে নিখরচায়।

    তেজস্বীই মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ

    ‘ইন্ডি’ জোটের তরফে ইস্তাহার প্রকাশ করা হলেও, তেজস্বীই যে মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ, দিন কয়েক আগে তেজস্বীকে পাশে বসিয়ে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অশোক গেহলট। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, তেজস্বী যাদব সর্বভারতীয় জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান মুকেশ সাহনি হবেন উপমুখ্যমন্ত্রীর মুখ (India Bloc Manifesto)।

    প্রসঙ্গত, আসন বণ্টন দিয়ে ইন্ডি জোটে এক সময় বিরাট ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সাহনি স্বয়ং। মহাজোট থেকে তিনি বেরিয়ে যেতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে অবশ্য মেটে গন্ডগোল (BJP)।

  • Cyclone Montha: ভিজল কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা! মন্থার প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্র-ওড়িশা

    Cyclone Montha: ভিজল কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা! মন্থার প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্র-ওড়িশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় মন্থার (Cyclone Montha) প্রভাবে জগদ্ধাত্রী পুজোর আগেই কলকাতার আকাশে কালো মেঘ। তবে যতটা অন্ধ্র উপকূলে শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ার পর রাত পোহাতেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় মন্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুধবার ভোর থেকেই তার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে রাজ্যে। আকাশ মেঘলা, সঙ্গে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি। যদিও ঘূর্ণিঝড় মন্থার প্রভাবে অন্ধ্র ও ওড়িশায় ব্যাহত জনজীবন৷ প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রের কমপক্ষে ১৫ জেলা। ওড়িশার একাধিক জেলাতেও প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্য়েই অন্ধ্রে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে গাছ পড়ে।

    কলকাতায় শুরু বৃষ্টি

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শক্তি ক্ষয় হলেও মন্থা এখনও পুরোপুরি থামেনি। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আজও ঝিরঝিরে থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়ছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের বেশকিছু জেলায়। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের মাত্র ৪০ শতাংশ ভূমিভাগে প্রবেশ করেছে। বাকী ৬০ শতাংশ উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে থেকে গিয়েছে সমুদ্রেপৃষ্ঠেই। ল্যান্ডফল হওয়ার সময় মান্থার গতি ধরা হয়েছিল ১১০ কিলোমিার প্রতি ঘণ্টা। কিন্তু অন্ধ্রের কাকিনাড়ায় যখন এটি ল্যান্ডফল করে তখন এটির গতি দাঁড়ায় ঘণ্টায় ৭৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। ঘূর্ণিঝড়ের যে অংশ সুমদ্রপৃষ্টে রয়ে গিয়েছে সেটি জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে করতে ওড়িশা হয়ে বাংলা উপকূলে আসতে পারে।

    বাংলায় মন্থার প্রভাব

    সমুদ্র এখনও অশান্ত, ভাঁজ তুলছে ঢেউ। তাই ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ বহাল রয়েছে। আজ বুধবার বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, দিনের শুরু থেকেই আকাশে ঘন মেঘের ছাপ থাকবে। আজ দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ থেকে ৩১ অক্টোবর পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এই দুদিন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের যে অংশ ইতিমধ্যেই ল্যান্ডফল করেছে সেটিও স্থলভাগ দিয়ে ছত্তিশগড়ের দিকে যাচ্ছে। আগামিকাল ঝাড়খণ্ড, বিহার হয়ে সেটি উত্তরবঙ্গে ঢুকবে। আগামিকাল অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। ল্যান্ডফল না করা অংশ যেটি সমুদ্রপৃষ্টে রয়েছে সেটির অভিমুখ ওড়িশা উপকূল। আজ দুপুরের পরে এর জেরে কলকাতায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে, এই বৃষ্টি আরও বাড়বে। পাশাপাশি যে গুমোট গরম অনুভূত হচ্ছে তা কাটতে সময় লাগবে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে মন্থার প্রভাব

    মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় মন্থা। বুধবার গভীর রাত আড়াইটে নাগাদ, তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে দুর্বল হয়ে মন্থা উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের উপর দিয়ে বয়ে যায়। তারপর এটি আরও দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়, বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের কোনাসিমা জেলার মাকানাগুডেম গ্রামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজ্যের ৩৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়েছে এবং ১.৩৮ লক্ষ হেক্টর বাগানের ফসল নষ্ট হয়েছে। মন্থার প্রভাবে, অন্ধ্রের নেলোর জেলায় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্তত ৭৬ হাজার মানুষকে ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে৷ অন্যদিকে, অন্ধ্র সরকার বিভিন্ন স্থানে ২১৯ টি চিকিৎসা শিবিরের ব্যবস্থা করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের কথা মাথায় রেখে ৮৬৫ টন পশুখাদ্যের ব্যবস্থাও করেছে। সরকার মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় কবলিত জেলা কৃষ্ণা, এলুরু এবং কাকিনাড়ায় রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।

    ওড়িশায় মন্থার প্রভাব

    প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ওড়িশায় ভূমিধস এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ পাশাপাশি উপড়ে গিয়েছে বহু গাছ ৷ দক্ষিণ ওড়িশার আটটি জেলা – মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম, কন্ধমাল, কালাহান্ডি এবং নবরঙ্গপুর থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে । তবে, এই অঞ্চলের মোট ১৫টি জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। গজপতি জেলার আনাকা গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কাছাকাছি পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর পড়ে পাঁচটি গ্রামের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জায়গাটি আগে ভূমিধস-প্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই, অবরোধ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ এছাড়াও রায়গড়া জেলার গুণুপুর, গুড়ারি এবং রামনাগুড়া এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে। খ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের থাকার জন্য ২০০০-টিরও বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং কোনও হতাহতের খবর নেই৷ এনডিআরএফ, ওডিআরএএফ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বয়ে ১৫৩টি উদ্ধারকারী দল (৬০০০ জনেরও বেশি কর্মী) দক্ষিণের আটটি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষ যাতে উপকূলে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন সমস্ত সৈকত সিল করে দিয়েছে।

  • India Maritime Week: ২০৪৭-এর মধ্যেই লক্ষ্যপূরণ! বিশ্বে বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হওয়ার পথে ভারত

    India Maritime Week: ২০৪৭-এর মধ্যেই লক্ষ্যপূরণ! বিশ্বে বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হওয়ার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি জাহাজ নির্মাতা দেশের অন্যতম হয়ে উঠতে চলেছে ভারত। ২০৪৭ সালের মধ্যেই এই সাফল্য মিলবে। “বিকশিত ভারত ২০৪৭” লক্ষ্য সামনে রেখে কেন্দ্র সরকার এবার জোর দিচ্ছে স্বনির্ভর সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সোমবার (২৭ অক্টোবর) মুম্বইয়ে আয়োজিত ইন্ডিয়া মেরিটাইম উইক ২০২৫ (IMW 2025) অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন যে, দেশীয় জাহাজ বহর এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

    ১০ লক্ষ কোটি টাকার সমঝোতা চুক্তি

    জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, “আমাদের নিজস্ব জাহাজ না থাকার কারণে প্রতি বছর বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলিকে ৭০-৭৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়। আমরা নিজেদের ফ্লিট এবং ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ বাড়িয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪-৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারব। এটাই আমাদের স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য।” এই অনুষ্ঠানে মোট ১০ লক্ষ কোটি টাকার সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের জন্য। সোনোয়াল জানান, গত এক দশকে ভারতের বন্দরগুলির বার্ষিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ১,৩৫০ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২,৭০০ এমটিপিএ (MTPA) হয়েছে। আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ১০,০০০ এমটিপিএ-তে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রুজ পর্যটনে দশগুণ বৃদ্ধি এবং উপকূল ও অভ্যন্তরীণ জলপথে কার্গো পরিবহণের অংশীদারি ১২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়।

    ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা চুক্তি

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, সরকার সামুদ্রিক খাতের বাজেট ছয়গুণ বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ১০ বিলিয়ন ডলারের বধভন বন্দর প্রকল্প এবং ৫ বিলিয়ন ডলারের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের বৈশ্বিক সামুদ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এদিন ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে একটি সামুদ্রিক সহযোগিতা চুক্তি (Maritime Cooperation MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় রটারডাম ও ভারতের প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে একটি সবুজ ও ডিজিটাল সি করিডর (Green and Digital Sea Corridor) গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া আদানি পোর্টস, জেএসডব্লিউ ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গোয়া শিপইয়ার্ড এবং আবু ধাবি পোর্টস গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সবুজ জাহাজ নির্মাণ, আর্থিক বিনিয়োগ ও বন্দর সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একাধিক ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এই সম্মেলনে। বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত, ভারতের সামুদ্রিক খাতের এই বিশাল উদ্যোগ দেশকে শুধু আত্মনির্ভরতার পথে নয়, বরং বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণের মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিতে চলেছে।

  • HAL UAC Pact: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান তৈরি হবে ভারতে, সই হল মউ

    HAL UAC Pact: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান তৈরি হবে ভারতে, সই হল মউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান (Civil Jet) তৈরি হবে ভারতে। যাত্রী পরিবহণের জন্য সাড়ে তিন দশকেরও পর ভারতে তৈরি হবে এসজে ১০০। এজন্য মউ স্বাক্ষর করেছে ভারতের হ্যাল (হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড) এবং রাশিয়ার ইউএসি (ইউনাইটেড এয়ারক্র্যাফ্ট কর্পোরেশন) (HAL UAC Pact)। চুক্তি অনুসারে, ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলির জন্য এসজে ১০০ বিমান তৈরি করার স্বত্ব পেয়েছে হ্যাল।

    মস্কোয় স্বাক্ষরিত মউ (HAL UAC Pact)

    সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় স্বাক্ষরিত হয়েছে মউ। তার পরেই হ্যালের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হ্যাল এবং ইউএসির মধ্যে এই সহযোগিতা দুই সংস্থার পারস্পরিক আস্থার ফল। এই প্রথম ভারতে সম্পূর্ণ যাত্রিবাহী বিমান তৈরি করা হবে। এর আগে এই ধরনের শেষ উদ্যোগ ছিল হ্যালের অভ্র এইচএস – ৭৪৮। ১৯৬১ সালে সেগুলি তৈরি শুরু হয়েছিল, বন্ধ হয়ে যায় ১৯৮৮ সালে।” হ্যাল জানিয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে অন্তর্দেশীয় উড়ানের জন্য ভারতের প্রয়োজন ২০০টিরও বেশি বিমান। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের বিদেশি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন আরও সাড়ে তিনশো বিমানের।

    হ্যালের বক্তব্য

    এসজে-১০০ বিমানগুলি সাধারণত স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলি বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারের মতো বড় বিমান নয়। অন্তর্দেশীয় উড়ান পরিষেবায় সচরাচর যে মাপের বিমান ব্যবহার করা হয়, এগুলিও সেই রকমই। বিবৃতিতে হ্যাল জানিয়েছে, “স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য এসজে-১০০ গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। ভারতে অন্তর্দেশীয় বিমান যোগাযোগকে আরও নিবিড় করতে উড়ান প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে স্বল্প দূরত্বের বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র (HAL UAC Pact)। বিমানবন্দরের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

    এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় উড়ান প্রকল্পের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট ন্যারো-বডি এসজে-১০০ বিমান তৈরি করতে উদ্যোগী হল ভারতীয় সংস্থা হ্যাল। সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগ (Civil Jet) ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে আত্মনির্ভর ভারত হিসেবে তুলে ধরার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে (HAL UAC Pact)।

  • Cyclone Montha: আজই ল্যান্ডফল! এগিয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মন্থা, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

    Cyclone Montha: আজই ল্যান্ডফল! এগিয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মন্থা, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে মন্থা (Cyclone Montha)। বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে স্থলভাগের দিকে আসতে আসতে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে আরও শক্তি বেড়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ১১০ কিমি বেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর প্রভাবে অন্ধ্র এবং ওড়িশার উপকূলে বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা৷ তবে বাদ যাবে না বাংলাও ৷ ঘূর্ণিঝড় মন্থার প্রভাবে বঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর ৷ সেই সঙ্গে ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ৷

    অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। দুর্যোগ শুরু হয়েছে ওড়িশা এবং তামিলনাড়ুতেও। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে মঙ্গলবার। সেখানে ১৯টি জেলায় ঝড়বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন জেলায় দুর্যোগের কমলা সতর্কতা এবং চার জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা এবং রাতের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম এবং কলিঙ্গপত্তনমের মাঝে কোথাও আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণি। ওই সময় মন্থার সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ৯০-১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, সে রাজ্যের ৩,৭৭৮টি গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী কিছু এলাকাতেও। সেখানেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে প্রশাসন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর থেকে বেশ কিছু উড়ান বাতিল করা হয়েছে।

    সতর্কতা ওড়িশায়

    মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে ওড়িশার দক্ষিণ ভাগের আট জেলায়। ওড়িশার গঞ্জাম, গজপটি, কোরাপুট, রায়গড় এবং মালাকানগিরি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতেও দুর্যোগের লাল সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। এ ছাড়া পুরী-সহ ওড়িশার ১১ জেলায় জারি রয়েছে ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। দুর্যোগ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আগে দুই রাজ্যেই নিচু এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছে প্রশাসন।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব কতটা

    রাতের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতেও। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী দুই জেলা— দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা হাওয়াও। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷ বেশ কয়েকটি জেলায় হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিও ৷ ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব থাকায় বাংলার উপকূলবর্তী এলাকার জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷

    জেলায় জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ও মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। আজ, মঙ্গলবারের মধ্যে বাংলার উপকূলে মৎস্যজীবীদের ফিরে আসতে নির্দেশ। আগামিকাল ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলার উপকূলে সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের। উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৩১ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে অতি ভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ওই দিন ভারী বৃষ্টি হবে মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরেও। ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা মালদা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইবে। দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। উপকূলের জেলা দিয়ে শুরু হয়ে উত্তরবঙ্গ লাগোয়া জেলা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি বিক্ষিপ্তভাবে হবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা বাতাস বইবে।

    কলকাতায় মন্থার প্রভাব

    কলকাতায় আজ, মঙ্গলবার সকালে ঝলমলে আকাশ। পরে আংশিক মেঘলা আকাশ। বিকেলের দিকে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা। আজ, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি কলকাতাতে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইবে।

    বন্ধ বিমান ও রেল পরিষেবা

    মন্থার কারণে ওড়িশা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩২টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এই নিয়ে ভুবনেশ্বরের ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিপিআরও) দীপক রাউত এএনআইকে বলেন, ‘যাত্রীরা যাতে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য আমরা বিশাখাপত্তনমের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩২টি ট্রেন বাতিল করেছি। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি; এদিকে লোকাল মেমু এবং অন্যান্য ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল ট্রেনের তালিকা সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়েছে… ডাইভারশনের বিষয়ে, টাটানগর-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দুটি ট্রেনকে সংক্ষিপ্তভাবে থামানো হয়েছে- ভুবনেশ্বর-জগদলপুর এক্সপ্রেস এবং রাউরকেলা-জগদলপুর এক্সপ্রেস।’এছাড়া ইস্ট কোস্ট রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম- তিরুপতি, বিশাখাপত্তনম-চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম- কিরণদুল, বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট রুটে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে ৬৫টিরও বেশি লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে রেল। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মন্থার কারণে মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের গন্নাভরম বিমানবন্দরে ৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাখপত্তনম বিমানবন্দর থেকেও মঙ্গলবারের জন্য সমস্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছে।

  • Amit Shah: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করবে, দাবি অমিত শাহের

    Amit Shah: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করবে, দাবি অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প (Great Nicobar Project) ভারতের বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মুম্বইতে সোমবার ‘ইন্ডিয়া মেরিটাইম উইক—২০২৫’ সম্মেলনে (India Maritime Week 2025) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ইন্ডিয়ান মেরিটাইম উইক ২০২৫ সম্মেলনে জাহাজ মন্ত্রকের ডাকে সাড়া দিয়েছে দেশের সমুদ্র তীরবর্তী বিভিন্ন রাজ্য। এই অনুষ্ঠানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নানা বিরোধিতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির মহাসাগার নীতি

    শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সামুদ্রিক নীতি বর্তমানে মহাসাগার-এ (‘MAHASAGAR’: Mutual and Holistic Advancement for Security and Growth Across Regions)–এ রূপান্তরিত হয়েছে, যা ভারতের বৈশ্বিক উপস্থিতির প্রতীক। তাঁর কথায়, “মোদিজির দৃষ্টিভঙ্গি হল ‘সাগর’কে ‘মহাসাগর’-এ রূপ দেওয়া, যাতে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বনেতা হয়ে ওঠে। এই লক্ষ্যে সরকার বাজেট ছয়গুণ বৃদ্ধি করেছে—৪০ মিলিয়ন ডলার থেকে আজ ২৩০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।”

    সাগরমালা প্রকল্পের গুরুত্ব

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) আরও জানান, সাগরমালা প্রকল্পের অধীনে ৮৩৯টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। ইতিমধ্যেই ১৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ২৭২টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। শাহ বলেন, “৫ বিলিয়ন ডলারের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প (Great Nicobar Project) এখন নির্মাণাধীন, যা ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিপুল গতি আনবে।” তিনি জানান, ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে কোচি শিপইয়ার্ডে দেশের সবচেয়ে বড় ডক নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি, গুজরাটে গড়ে উঠছে একটি মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পুরনো ভারতীয় আইন সংস্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সংসদ ১১৭ বছরের পুরনো ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল সংশোধন করে আধুনিক প্রেক্ষাপটে আনা হয়েছে।” শাহের কথায়, “মেজর পোর্ট অথরিটিজ অ্যাক্ট, ২০২১-এর মাধ্যমে বন্দরগুলিকে আরও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়েজ অ্যাক্ট অনুযায়ী ১০৬টি নতুন জলপথ ঘোষণা করা হয়েছে।”

    ব্লু ইকোনমির উন্নয়ন-ই লক্ষ্য

    অমিত শাহ বলেন, “মোদি সরকার ব্লু ইকোনমির উন্নয়ন, উপকূলীয় নিরাপত্তা ও জেলেদের সুরক্ষার জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গত এক দশকে উপকূলীয় নৌপরিবহণ বেড়েছে ১১৮ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম বা জাহাজ পরিষেবার সময়সীমা এখন বৈশ্বিক মানের কাছাকাছি।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের লক্ষ্য একটি গ্রিন মেরিটাইম ফিউচার তৈরি করা—যেখানে উন্নয়ন ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র ও গ্লোবাল সাউথের বহু দেশ সাগরের ওপর নির্ভরশীল; তাদের অস্তিত্বের প্রশ্নেও ভারত দায়বদ্ধ। তাই আমরা এক সবুজ, সমৃদ্ধ ও যৌথ মহাসাগর গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছি।”

    ভারতের সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

    ইন্ডিয়া মেরিটাইম উইক ২০২৫ (India Maritime Week 2025) সোমবার মুম্বইয়ে শুরু হয়েছে। পাঁচ দিন ধরে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি চলবে। পরিবহণ, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়ান পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন–এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছে। এই বৃহৎ অনুষ্ঠানে ভারতের সমুদ্র অর্থনীতি, স্থিতিশীল সামুদ্রিক উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হবে। দেশ ও বিদেশের নৌ পরিবহণ ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক এবং বিভিন্ন অংশীদাররা এতে যোগ দিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, এবং প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও অজিত পওয়ার, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত, এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।

    আন্দামানের উন্নয়নে এই প্রকল্পে ভূমিকা 

    বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (জিএনআই) ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সংযোগমূলক কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস বাজ (গ্রেট নিকোবর) ঘাঁটি থাকার কারণে এই অঞ্চলটি পূর্ব ভারত মহাসাগরে প্রতিরক্ষা ও নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর অবস্থানগত সুবিধা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক যোগাযোগ গড়ে তোলে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকার জিএনআই-তে ৮০,০০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে। নীতি আয়োগের নেতৃত্বে হলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট অফ আইল্যান্ডস প্রোগ্রাম-এর (দ্বীপপুঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচির) অংশ হিসেবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে একটি সামুদ্রিক, বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে চলেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে গ্যালাথিয়া উপসাগরে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, একটি বিমানবন্দর, একটি গ্রিনফিল্ড টাউনশিপ, একটি পর্যটন প্রকল্প ও একটি গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সরকার এই প্রকল্পকে (Great Nicobar Project) “ভারতের সামুদ্রিক উন্নয়নের চালিকা শক্তি” বললেও পরিবেশবিদদের একাংশের মতে এই প্রকল্পে ১৩০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি অরণ্য ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা নিকোবরিজ ও শম্পেন উপজাতির জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রের দাবি, আন্দামানের উন্নয়নে ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা উদ্যোগের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা নেবে।

  • Indian Economy: ২০২৬ সালে ৬.৬% প্রবৃদ্ধিতে চিনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত, পূর্বাভাস আইএমএফের

    Indian Economy: ২০২৬ সালে ৬.৬% প্রবৃদ্ধিতে চিনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত, পূর্বাভাস আইএমএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবোমা। তার কারণে বেশ কয়েকমাস ধরে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। এর ফলে গোটা বিশ্বে অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ (IMF)। তবে গোটা বিশ্বে অর্থনীতি ধাক্কা খেলেও, ভারতের (Indian Economy) অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে তারা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)–এর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬.৬ শতাংশে। এর ফলে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির আসন ধরে রাখবে ভারত। আইএমএফ জানিয়েছে, শক্তিশালী দেশীয় চাহিদা, উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধার এবং সেবাখাতের জোরালো সম্প্রসারণ ভারতের এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি। তুলনামূলকভাবে, ২০২৬ সালে চিনের প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল

    আইএমএফ জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের (Indian Economy) অপ্রত্যাশিতভাবে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক মন্দাভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দিতে সাহায্য করেছে। এই প্রেক্ষিতে আইএমএফ তার পূর্ববর্তী ৬.৪ শতাংশ পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশে উন্নীত করেছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিয়ের-অলিভিয়ার গৌরিনচাস বলেন, “ভারতের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতের উদ্যোগ, পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য বিনিয়োগ এবং বিদেশে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে।” তবে আইএমএফ-এর তরফে সতর্ক করা হয়েছে যে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এখনও স্থিতিশীল নয়। বাণিজ্য নীতি, বিনিয়োগে মন্দা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ভারতের প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়ে ৬.২ শতাংশ করা হয়েছে।

    মার্কিন শুল্ক-সংঘাত প্রভাব তেমন ফেলেনি

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে তার খুব একটা প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে (Indian Economy) পড়বে না বলেই মনে করছে আইএমএফ (IMF)। চলতি অর্থবর্ষে প্রথম কোয়ার্টারে বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারতের জিডিপি গ্রোথ। তবে আইএমএফ-এর তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কমে ৬.২ শতাংশ হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) গ্রোথ বেড়েছে ৬.৫ শতাংশ হারে। মার্কিন শুল্ক সত্বেও ভারত সরকারের তরফে জিডিপি পূর্বাভাস ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ হবে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফও এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। এমন পূর্বাভাসের ফলে বোঝা যাচ্ছে, ঘরোয়া বাজারের চাহিদার উপরেই আস্থা রেখে চলেছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

    চিনকে ছাপিয়ে যাবে ভারত

    আইএমএফ (IMF) মনে করছে, চলতি বছর চিনের (China) থেকে অনেক বেশি হবে অর্থনীতি বৃদ্ধির হার হবে ভারতের (India)। চলতি বছর চিনের অর্থনীতি বৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধি অনেকটা কমে যেতে পারে। আইএমএফ (IMF)-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধি হবে ৩.২ শতাংশ হারে। ২০২৬ সালে তা ৩.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নত অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি থাকবে মাত্র ১.৬ শতাংশের মতো।

    ভারতের চ্যালেঞ্জ

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের (Indian Economy) জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। ইনফোমেরিকস রেটিংসের অধিকর্তা মনোরঞ্জন শর্মা বলেন, “ভারতকে এখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।” আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে ভারত তার দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কতটা টেকসই ও সর্বস্তরে বিস্তৃত করতে পারে। কাঠামোগত সংস্কার, শ্রমবাজারের আধুনিকীকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই হবে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।

    ভারত একটি প্রধান চালিকাশক্তি

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই বলেছেন, এমন সময়ে যখন বিশ্বের বহু বড় অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়ছে, ভারত বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশটিকে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। জর্জিয়েভা আরও বলেন, “ভারত সাহসী সংস্কার ও ধারাবাহিক নীতিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করছে।” আইএমএফের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের দ্রুততম-বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখছে।

    প্রবৃদ্ধি আগামি দিনেও মজবুত থাকবে

    আরবিআই জানিয়েছে, স্থিতিশীল দেশীয় চাহিদা, অনুকূল মৌসুমি বৃষ্টি, শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি ব্যয়ের বৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে—যা গত দুই বছরের মধ্যে দ্রুততম। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি প্রবৃদ্ধি পুরো বছর জুড়েই মজবুত থাকবে, যদিও বিশ্বের অস্থিরতা কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।” তবে নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, আইএমএফ ও আরবিআই উভয়ই মনে করছে যে ভারতের দেশীয় অর্থনীতি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। শহর ও গ্রামে চাহিদা বাড়ছে, ভোগব্যয় সম্প্রসারিত হচ্ছে, এবং সরকারের জিএসটি সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির ভিতকে আরও শক্ত করছে।

  • ECI: মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু এসআইআর, জানুন কীভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া

    ECI: মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু এসআইআর, জানুন কীভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন, সংক্ষেপে এসআইআর-এর (SIR) কাজ। আগেই জানা গিয়েছিল, সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণা করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রথম পর্যায়ে তারা ঘোষণা করেছিল বিহারে এসআইআরের কাজের নির্ঘণ্ট। তার কারণ, নভেম্বরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সে রাজ্যে।

    কোন কোন রাজ্যে এসআইআর (ECI)

    এদিন দ্বিতীয় দফায় ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। যে সব রাজ্যে আগামী বছরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেই সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হবে আগে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হওয়ার কথা মার্চের শেষাশেষি, তাই মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে এসআইআর প্রক্রিয়া। এই তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির নামও। এদিন বিকেল ৪টে ১৫মিনিট নাগাদ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, সফল হয়েছে প্রথম দফার এসআইআর। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে।

    এসআইআরের মূল উদ্দেশ্য

    এসআইআরের মূল উদ্দেশ্যগুলির একটি হল (ECI), অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত ও অপসারণ করা। এজন্য ভোটারদের জন্মস্থান যাচাই করার কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে যেসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধেই তৎপরতা চালানো হচ্ছে (SIR)। এদিনের বৈঠকে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই দফায় এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হতে চলেছে। তবে অসমে এই পর্বে এসআইআর হচ্ছে না। সেখানে এসআইআর হবে আলাদা করে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “এসআইআরের দায়িত্ব বৈধদের রাখা, অবৈধদের বাদ দেওয়া। আর যে কোনও নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিহারে এসআইআর সফল হয়েছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ বা আবেদন আসেনি।” এসআইআরের সময় প্রথমে এনুমারেশন ফর্ম প্রিন্ট করা হবে। যে রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার ভোটারদের সূচি সোমবার রাত ১২টায় ফ্রিজ করে দেওয়া হবে। সেই সূচিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ওই ফর্ম দেওয়া হবে। বিহারের মতো আধার কার্ডকেও পরিচয়পত্র হিসেবে মান্যতা দেওয়া হবে। যদিও আধার কখনওই নাগরিকত্ব ও জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না (SIR)।

    মঙ্গলবার শুরু প্রশিক্ষণের কাজ

    মঙ্গলবার থেকে (ECI) শুরু হবে প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তার পরের দিন থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়ার কাজ চলবে। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া হবে অভিযোগ। এই পর্বেই শুরু হয়ে যাবে বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশনের কাজ। যা চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। জানা গিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে যাবেন বুথ লেভেল অফিসার, সংক্ষেপে বিএলওরা। এই ফর্মের সফট কপি ইআরও পোর্টালে আগেই তুলে দেবে কমিশন। পরে সেগুলি যাবে ছাপার জন্য। একজন ভোটারের জন্য দু’টো করে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হবে।

    এনুমারেশন ফর্ম

    বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ। এনুমারেশন ফর্মগুলি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন বিএলওরা। এই ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, ঠিকানা, জন্মতারিখ-সহ বেশিরভাগ তথ্য ছাপা থাকবে। ফর্মের বাকি অংশ পূরণ করে উপযুক্ত নথি-সহ জমা দিতে হবে। দু’টি ফর্মের মধ্যে একটি থাকবে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে, অন্যটি নিয়ে যাবেন বিএলওরা। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, বিহারের মতোই এ রাজ্যেও বর্তমানে ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা সবাই এনুমারেশন ফর্ম পাবেন (ECI)। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, বাম জমানায়। সেবারের সংশোধিত তালিকার (SIR) সঙ্গে রাজ্যের ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এসআইআর করে সব ভোটারের নাম নতুনভাবে নথিভুক্ত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন এসআইআর করতেই পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্য তথা দেশের ভোটার তালিকায় কোনও ভুয়ো ভোটার বা ভুতুড়ে ভোটার বা একই নামের ভোটার দু’জায়গায় রয়েছেন কিনা কিংবা তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ মারা গিয়েছেন কিনা – এসবই সংশোধন করার এক বিশেষ প্রক্রিয়া হল এসআইআর।

    এসআইআর হলে বিপাকে পড়বে তৃণমূল!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলে বিপাকে পড়বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ শাসক দলের নেতাদের একাংশকে হাত করে বিভিন্ন আইডি প্রুফ সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা। বাম আমলে ২০০২ সালের পরে দলে দলে এদের পশ্চিমবঙ্গে ঠাঁই দেওয়া হলেও, সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা। বিরোধীদের মতে, এদের ভোটেই পুষ্ট হয়েছে শাসক দল। তাই এসআইআরের মাধ্যমে এদের ছাঁটাই করতে পারলেই কেল্লাফতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই একই ভয় পাচ্ছে রাজ্যের শাসক দলও। গদি খোয়াবার ভয়ে তারা সোচ্চার হয়েছে এসআইআরের বিরুদ্ধে। এসআইআর নিয়ে অপপ্রচারও চালানো (SIR) হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    এখন দেখার, এ রাজ্যে এসআইআর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় কিনা (ECI)!

  • PM Modi: “একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির হাতেই”, বিশ্বকে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির হাতেই”, বিশ্বকে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরালো করার পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ভার্চুয়ালি আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ( ASEAN Summit) ভাষণে ঘোষণা করেন যে একবিংশ শতাব্দীতে ভারত ও আসিয়ান দেশগুলোর যৌথ নেতৃত্বেই গঠিত হবে নতুন ভবিষ্যৎ। মোদি তাঁর বক্তব্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আসিয়ান ভারতের (India-ASEAN Relations) অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি–র অন্যতম মূল স্তম্ভ।

    উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির গোষ্ঠী আসিয়ান-এর বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত না-থাকলেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)। নিজের বক্তব্যে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “একবিংশ শতাব্দী আমাদের শতাব্দী। এটা ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি নিশ্চিত যে, আসিয়ান কমিউনিটি ভিশন ২০৪৫ এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ গোটা মানবতার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।” বক্তৃতায় আসিয়ান গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন বিষয়ে বোঝাপড়ার দিকটি তুলে ধরেন মোদি। একই সঙ্গে এ বছর সফল ভাবে আসিয়ান গোষ্ঠীর সম্মেলন আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিমকে। ২০২৬ সালের সম্মেলন আয়োজন করবে ফিলিপিন্স। প্রসঙ্গত, এই বছরের আসিয়ান সম্মেলনকে ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্ব তিমুর-লেস্তে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের ১১তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত ২৬ বছরের মধ্যে এমনটা প্রথম হল। প্রায় ১৪ লক্ষ জনসংখ্যার এই ছোট দেশটি এখন আসিয়ানের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে।

    আসিয়ানে ভারতের গুরুত্ব

    আসিয়ান সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিরা। ভারত যে আসিয়ান (India-ASEAN Relations) দেশগুলোর নেতৃত্ব দিতে চায়, তা পরিষ্কার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে আসিয়ান গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল ভারত। ভারত ওই বছর আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হয় এবং ১৯৯৫ সালে পূর্ণাঙ্গ ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হয়। তার পরে এই গোষ্ঠীতে ভারতের প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে। ২০১৮ সালে দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত ১০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ করেছিল ভারত। আসিয়ান সম্মেলনে রবিবার সকালেই মালয়েশিয়ায় পৌঁছন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে শোনা গিয়েছিল আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকেই মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। পরে অবশ্য জানা যায়, মোদি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন না। এদিন ভার্চুয়ালি মোদি বলেন, “ভারত সর্বদা আসিয়ানের নেতৃত্ব এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর নীতিকে সমর্থন করে। ভারত এবং আসিয়ান একসঙ্গে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশর প্রতিনিধিত্ব করে। কেবল ভৌগোলিক নয়, গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কও রয়েছে এই দেশগুলোর। বলা যায়, আমরা গ্লোবাল সাউথের সহযাত্রী। একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করি। একইসঙ্গে নানাক্ষেত্রের নীতি নির্ধারণে নিজেদের বক্তব্য পেশ করি।”

    মূল বিষয় হল অন্তর্ভুক্তি এবং স্থায়িত্ব

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) কথায়, “বর্তমান আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিষয় হল অন্তর্ভুক্তি এবং স্থায়িত্ব। ভারত সর্বদা আসিয়ান-কেন্দ্রিকতা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে আসছে। অনিশ্চয়তার এই যুগেও, ভারত-আসিয়ান অংশীদারিত্ব অগ্রগতি করেছে। একবিংশ শতাব্দী ভারত এবং আসিয়ানের শতাব্দী, এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। ভারত আসিয়ানের দেশগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে। সব রকমের সঙ্কটে একসঙ্গে কাজ করবে।” উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রায় সব আসিয়ান–ভারত সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, শুধু ২০২২ সালের সম্মেলন ব্যতিক্রম। বর্তমানে ১০টি দেশ আসিয়ানের সদস্য। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, ব্রুনেই, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস এবং ভিয়েতনাম। এ বারের সম্মেলনে পূর্ব তিমুরও আসিয়ানের সদস্য হয়েছে। মোদি তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ভারত ও আসিয়ানের অংশীদারিত্ব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মূল্যবোধে আমরা অভিন্ন।’

    ভারত–আসিয়ান সামুদ্রিক সহযোগিতার বছর

    মোদি (PM Modi) আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতিতে ভারত ও আসিয়ানের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালকে ‘ভারত–আসিয়ান সামুদ্রিক সহযোগিতার বছর’ হিসেবে উদযাপন করা হবে, যা ভারত মহাসাগরজুড়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায় সূচিত করবে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী মোদি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার উল্লেখ করে ‘এক্স’–এ লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তাঁকে মালয়েশিয়ার আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি এবং আসন্ন সম্মেলনগুলোর সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছি।” মোদির অনুপস্থিতিতে সোমবার আসিয়ানের ইস্ট এশিয়া সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share