Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Mark Tully: প্রবীণ সাংবাদিক মার্ক টুলি নতুন দিল্লিতে প্রয়াত

    Mark Tully: প্রবীণ সাংবাদিক মার্ক টুলি নতুন দিল্লিতে প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকতার জগতে আরও এক নক্ষত্রের পতন। ভারতের ইতিহাসবিদ এবং প্রশংসিত লেখক, প্রবীণ সাংবাদিক (Journalist) মার্ক টুলি (Mark Tully) রবিবার নতুন দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, এই সংবাদ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন। টুলির মৃত্যুর সময় বয়স ছিল ৯০।

    সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন (Mark Tully)

    পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাংবাদিক টুলি (Mark Tully) বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং গত এক সপ্তাহ ধরে নতুন দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রবীণ সাংবাদিক (Journalist) এবং টুলির ঘনিষ্ঠ বন্ধু সতীশ জ্যাকব সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এই মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। টুলি মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ মহলে ব্যাপক শোকের ছায়া।

    পদ্মভূষণ পান ২০০৫ সালে

    সতীশ জ্যাকব বলেন,“মার্ক আজ বিকেলে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে মারা গেছেন।” ১৯৩৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মার্ক টুলি (Mark Tully) ।

    তিনি টানা ২২ বছর ধরে নয়াদিল্লিতে বিবিসির ব্যুরো প্রধান (Journalist) ছিলেন। তিনি যেমন একজন প্রশংসিত লেখক তেমনি আবার টুলি বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘সামথিং আন্ডারস্টুড’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপকও ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি নাইট উপাধি লাভ করেন এবং ২০০৫ সালে ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ লাভ করেন।

    টুলি ভারত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ‘নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া’, ‘ইন্ডিয়া ইন স্লো মোশন’ এবং ‘দ্য হার্ট অফ ইন্ডিয়া’ ইত্যাদি। সাংবাদিক মহলে তাঁর চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। অভিজ্ঞ মহলে এখন শোকের ছায়া।

    কেমন ছিল কর্মজীবন

    ১৯৬৪ সালে টুলি বিবিসিতে যোগদান করেছিলেন। ভারতীয় সাংবাদিক হিসেবে ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে আসেন। এরপর দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থানকালীন কর্মজীবনে তিনি অনেকগুলো প্রধান প্রধান ঘটনাবলীর স্বাক্ষ্য থাকেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি – ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলন, ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার, ইন্দিরা হত্যাকাণ্ড, রাজীব হত্যা কাণ্ড – সহ ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে বিবিসিতে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কর্মে তিনি খ্যাত হয়ে আছেন।

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ে এই প্রথমবার বাস্তারের ৪০টি গ্রামে উদযাপিত হবে প্রজাতন্ত্র দিবস

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ে এই প্রথমবার বাস্তারের ৪০টি গ্রামে উদযাপিত হবে প্রজাতন্ত্র দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন মাওবাদী জঙ্গিদের করাল গ্রাসে থাকা ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বাস্তার বিভাগে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসছে। কয়েক দশক ধরে ‘লাল সন্ত্রাস’-এর সঙ্গে লড়াই করার পর, ছত্তিশগড়ের বাস্তার বিভাগের বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু গ্রাম প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের (Republic Day Celebrations) জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ এতদিন তাঁদের ওপর যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠান পালনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

    ৫৮টি নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প (Chhattisgarh)

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাস্তারের বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি গ্রামে প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গত এক বছরে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ৫৮টি নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প (Security Camps) স্থাপিত হওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

    বাস্তার বিভাগের বিজাপুর, দান্তেওয়াড়া, সুকমা এবং নারায়ণপুরের মতো চরম মাওবাদী প্রভাবিত জেলাগুলোর (Chhattisgarh) মোট ৫৩টি গ্রামে এবার প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হবে। এর মধ্যে ৪০টি গ্রাম এমন রয়েছে, যেখানে আগে কখনও কোনোদিন জাতীয় উৎসব পালন করা সম্ভব হয়নি। এই তালিকায় রয়েছে—

    • বিজাপুর: বেলনার, কোন্ডাপালি ও উল্লুর।
    • দান্তেওয়াড়া: পিল্লুর, দোডিসোমার ও কামলুর।
    • নারায়ণপুর: আনজাগর, জাতুর, বাইপেটা ও কোডনার।
    • সুকমা: পালাগুড়া ও নাগরাম।

    দশকের পর দশক ধরে চলা লাল সন্ত্রাস কাটিয়ে মাওবাদী বিদ্রোহের স্তিমিত হওয়া এবং এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে আসার এটি এক বড় প্রতিফলন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বাস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ১০০টিরও বেশি ক্যাম্প স্থাপন করেছে, যার ফলে উগ্রপন্থীদের প্রভাবাধীন এলাকাগুলোতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হয়েছে।

    এই ক্যাম্পগুলো কেবল নিরাপত্তার কাজে নয়, বরং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে এবং স্থানীয়দের কাছে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো পৌঁছে দিতে সহায়ক হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতির ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সাহসের সঞ্চার হয়েছে, যার ফলে তাঁরা এখন নির্ভয়ে জাতীয় উৎসবে অংশ নিতে পারছেন।

    ২৯টি গ্রামে উত্তোলন হয়েছিল জাতীয় পতাকা

    পরিবর্তনের এই ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাস্তার (Chhattisgarh)  অঞ্চলের ২৯টি গ্রামে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৪টিরও বেশি গ্রামে প্রথমবারের মতো তেরঙা পতাকা উত্তোলন (Republic Day Celebrations) করা হয়েছিল।

    নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের লক্ষ্য এখন স্কুল খোলা, ব্যাংকিং পরিষেবা চালু, মোবাইল টাওয়ার বসানো এবং রাস্তাঘাট নির্মাণের মাধ্যমে এই জনপদগুলোকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা। সম্প্রতি মাওবাদীদের এককালীন শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ‘জাগরগুন্ডা’-তে একটি ব্যাংক শাখা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

    উন্নয়ন এবং আস্থার প্রতীক

    মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, “জাগরগুন্ডায় (Chhattisgarh)  ব্যাংক শাখা পুনরায় চালু হওয়া কেবল একটি ভবন স্থাপন নয়; এটি পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং আস্থার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনায় বাস্তারকে লাল সন্ত্রাসের ভয় থেকে মুক্ত করে উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ভারত সরকার আগামী মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমরা এই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”

  • Mirzapur: ৫টি জিম, ৫০ জন মহিলাকে টার্গেট, ধর্মান্তকরণের বড় চক্র ফাঁস, গ্রেফতার ৭ অভিযুক্ত

    Mirzapur: ৫টি জিম, ৫০ জন মহিলাকে টার্গেট, ধর্মান্তকরণের বড় চক্র ফাঁস, গ্রেফতার ৭ অভিযুক্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর (Mirzapur) জেলায়, পাঁচটি জিমে একটি ইসলামিক ধর্মান্তকরণ পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। দুজন হিন্দু মহিলা পৃথক ভাবে যৌন শোষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন মুসলিম জিম প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও রয়েছে চাঁদাবাজি এবং ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত (GYM Conversion) হওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়ও। তদন্তে জানা  গিয়েছে, ভাদোহির একজন পুলিশ কনস্টেবল, ইরশাদ খানও এই ইসলামিক ধর্মান্তকরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    ৫০ জনেরও বেশি মেয়েকে টার্গেট (Mirzapur)!

    অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিআরপি কনস্টেবল ইরশাদ খান এবং তার সহযোগী ফরিদ আহমেদ আয়রন ফায়ার এবং কেজিএন ২.০ জিম চালানোর আড়ালে ৫০ জনেরও বেশি মেয়েকে টার্গেট করেছিলেন। এর আগে, মির্জাপুর কোতোয়ালি দেহাত পুলিশ মোহাম্মদ শেখ আলী আলম এবং ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল।

    খারঞ্জা জলপ্রপাতের (Mirzapur) কাছে সংঘর্ষের পর পুলিশ জিআরপি কনস্টেবল ইরশাদ খান এবং তার সহযোগী ফরিদ আহমেদকে গ্রেফতার করে। পুলিশের গুলিতে ফরিদের পায়ে লাগে। মির্জাপুর পুলিশ ফরিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল।

    একটি সাধারণ ‘কেরালা স্টোরি’ দৃশ্যে, সান্নো নামে একজন মুসলিম মহিলা সক্রিয়ভাবে এই চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন এবং তাকে হিন্দু মেয়েদের আস্থা অর্জন এবং তাদের ফাঁদে ফেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

    পাঁচটি জিমে কেজিএন-১.০, কেজিএন-২.০, কেজিএন-৩.০ বাজেআপ্ত

    অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মেয়েদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো। যদি কোনও ভুক্তভোগীকে একটি জিমে আটকানো সম্ভব না হত, তবে তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য অন্য একটি জিমে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট করা হতো। পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি জিম, কেজিএন-১.০, কেজিএন-২.০, কেজিএন-৩.০, বি-ফিট এবং আয়রন ফায়ার বাজেআপ্ত করেছে।

    ডিএম (Mirzapur) পবন কুমার গাঙ্গোয়ার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৬৩ ধারার অধীনে এই জিমগুলির পরিচালনার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর পাঁচটি জিম সিল করে দেওয়া হয়েছে। ধৃত অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে, পুলিশ কয়েকশ ছবি, ভিডিও এবং চ্যাট সহ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নানানা ডিজিটাল প্রমাণ পেয়েছে।

    গভীর রাত পর্যন্ত জিমে পার্টি হত

    পুলিশ এই জিম-ভিত্তিক ইসলামিক ধর্মান্তকরণ নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। জিমের বাড়িওয়ালা অমিত দুবে বলেছেন, “আমি জানি না যে বর্তমানে সিল করা কেজিএন ২.০ জিমটি (GYM Conversion) এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।” আবার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “মহিলারা প্রায়শই গভীর রাত পর্যন্ত জিমে আসতেন এবং পার্টি হত।”

    মামলায় পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মির্জাপুরের এসপি সোমেন ভার্মা বলেন, “এই মামলাটি কোতোয়ালি দেহাতের। দুই ভুক্তভোগী মহিলা তাদের জিমের মালিক এবং প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন। জিমের মালিক এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মহিলাদের শোষণ, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং অবৈধভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে এই মামলার অভিযোগ তদন্ত করছি।” এদিকে, এএসপি সিটি নীতেশ সিং বলেন, “পাঁচটি জিমের মধ্যে চারটি তিন ভাই এবং এক শ্যালক দ্বারা পরিচালিত হয়।

    অনেক ভুক্তভোগীর মধ্যে দুজন অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মির্জাপুর পুলিশ তৎপর হয়ে তিনটি জিম সিলগালা করে দেয় এবং মোহাম্মদ শেখ আলী আলম এবং ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

    ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও তোলে

    কোতোয়ালি দেহাত (Mirzapur) থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা দুই হিন্দু মহিলা অভিযোগ করেছেন, মির্জাপুরে জিম প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা প্রথমে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং তাদের ফাঁদে ফেলে, ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও তোলে, তারা এআই-উত্পাদিত অশ্লীল ভিডিও এবং ছবিও তৈরি করে এবং অবশেষে হিন্দু মহিলাদের ব্ল্যাকমেইল করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেয়।

    ২০ জানুয়ারী, কোতোয়ালি সিটি থানার নটওয়ান মিল্লাত নগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ শেখ আলী আলম এবং গোসাই তালাবের বাসিন্দা ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে, পুলিশ জহির এবং শাদাবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে সকল অভিযুক্তই বিভিন্ন জিমের সাথে যুক্ত এবং একটি সংগঠিত লাভ জিহাদ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।

    অভিযুক্ত জহির কেজিএন-১ জিমের মালিক এবং কেজিএন-২, কেজিএন-৩ এবং আয়রন ফায়ার জিমের সাথেও যুক্ত ছিলেন। ভুক্তভোগীরা পূর্বে কেজিএন জিমে গিয়েছিলেন, যেখানে তারা অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

    পাঁচবার নামাজ পড়ার জন্য চাপ

    বি-ফিট জিমে যাওয়া একজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শেখ আলী তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন, ধীরে ধীরে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলেন। পরবর্তীতে শেখ আলী তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন এবং টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ। এমনকি তিনি তার নামে ঋণ নেন এবং বারবার ওটিপি চান।

    ভুক্তভোগীর (GYM Conversion) অভিযোগ, অভিযুক্ত শেখ আলী আলম বেশ কয়েকবার তার বোরকা পরা ছবি তোলেন এবং তাকে দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ার জন্য চাপ দেন। তিনি ভুক্তভোগীকে একটি দরগায় নিয়ে যান, তাকে ইসলামিক কলমা পড়তে বাধ্য করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেন।

    তবে, এই হিন্দু ভুক্তভোগী যখন প্রতিবাদ করেন, তখন অভিযুক্ত শেখ আলী আলম তাকে নির্যাতন করেন, তার অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল করার হুমকি দেন। তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জিম প্রশিক্ষক ফয়সাল এবং তার সহযোগীরাও এই লাভ জিহাদ এবং ধর্মান্তকরণ চক্রের সাথে জড়িত।

    ইসলামে ধর্মান্তরিত করার এজেন্ডা

    সিল করা পাঁচটি জিম জুড়ে, অভিযুক্ত মুসলিম ব্যক্তিরা ৫০ জনেরও বেশি হিন্দু মেয়েকে প্রলুব্ধ করে, তাদের শোষণ করে, ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের ইসলামে ধর্মান্তরিত (GYM Conversion) করার এজেন্ডায় কাজ করছিল। এখন, পুলিশ কেবল অভিযুক্ত সকল ব্যক্তির কল ডেটা রেকর্ডই তদন্ত করছে না, বরং প্রশ্নবিদ্ধ জিমের তহবিলও তদন্ত করছে। যদিও জিম প্রশিক্ষকদের ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে বেতন দেওয়া হত, তারা ব্র্যান্ডেড জুতা এবং পোশাক পরতেন এবং দামি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। জানা গেছে যে মির্জাপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং জনপ্রতিনিধিরা এই জিমগুলিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন।

  • Hindus Under Attack: হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছেই, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছেই, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ- উভয় ক্ষেত্রেই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে করে করে করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়ছে হিন্দু-বিদ্বেষও। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ এই সপ্তাহে সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধের একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন।

    কর্নাটক (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই আসা যাক, ভারতের কথায়। কর্নাটকের হাভেরি জেলার ব্যাদগি তালুকের মল্লুর গ্রামে দান করা একটি জমির ওপর নির্মিত একটি সরকারি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকালে দান করা অংশের বাইরের জমিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ দাতা পরিবারের সদস্য বীরাপ্পা কুলকার্নির। তিনি দখলকরা জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিজয়নগর জেলার হোসপেটেতে ভয়াবহ ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন রোড সংলগ্ন চাপালাগাড্ডা এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার গলাকাটা দেহ। নিহতের নাম উমা (৩৫), তিন সন্তানের জননী। দাম্পত্য কলহের কারণে তিনি প্রথম স্বামী রঘু ওরফে রামাঞ্জনেয়ার থেকে প্রায় ছ’বছর ধরে আলাদা ছিলেন এবং বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি চার মাস আগে খাজা হুসেন নামে এক ইসলামপন্থী ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন (Hindus Under Attack)।

    পুলিশের হাতে সমাজকর্মী

    গভীর রাতে ব্যানারঘাট্টা পুলিশের হাতে সমাজকর্মী পুনীত কেরেহল্লির গ্রেফতারি নিয়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে (Roundup Week)। অভিযোগ, বেআইনি বাংলাদেশি অভিবাসী বসতি নিয়ে নাগরিক নজরদারি দমন করতেই এই পুলিশি পদক্ষেপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মুক্তির দাবিতে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। এদিকে, গত সাত বছরে একটি ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুসলিম হিজড়ারা হিন্দু হিজড়াদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, শারীরিক নিপীড়ন, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন করছেন (Hindus Under Attack)। বেলাগাভি জেলার এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মহম্মদ সাহিল নামে এক ইসলামপন্থী ব্যক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও ধর্মান্তরের চেষ্টা করে। বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

    লাভ জেহাদ

    উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় লাভ জেহাদের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। সুমেরপুরের এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণ, অশ্লীল ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং ধর্মান্তরের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সনাতনী সংগঠন ও ব্যবসায়ীরা বাজার বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান (Roundup Week)। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া দুটি ঘটনায় নয়া বিতর্কে জড়িয়েছেন। বেলাগাভিতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া পাগড়ি পরতে অস্বীকার করা এবং বেঙ্গালুরুতে এক ভক্তের দেওয়া গুরু রাঘবেন্দ্র স্বামীর ছবি ফিরিয়ে দেওয়া। এতে কংগ্রেস সরকারের তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নিয়েই উঠছে প্রশ্ন (Hindus Under Attack)।

    মুসলমান ইনফ্লুয়েন্সার

    কেরলে সোশ্যাল মিডিয়া মুসলমান ইনফ্লুয়েন্সার শিমজিথা মুস্তাফার অভিযোগের পর ৪২ বছরের ইউ দীপক আত্মহত্যা করেন। ভাইরাল ভিডিওর জেরে জনসমক্ষে অপমানিত হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের অভিযোগ। কেরল মানবাধিকার কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। উদুপিতে শতাব্দীপ্রাচীন পার্যায়া উৎসবে জেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণ নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপি সংঘাত তৈরি হয়েছে। কেসরি পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক। মেকআপ আর্টিস্ট রুচিকা শর্মা দাবি করেন, হিন্দু দেবী মারিয়াম্মা ও খ্রিস্টান মেরি একই, যা মিশনারি যুগের পুরনো মিথ্যাকে আবার প্রচার করেছে (Hindus Under Attack)। বেঙ্গালুরুর কাদুগোডি এলাকায় রোড রেজের ঘটনায় ইসলামপন্থী সৈয়দ আরবাজ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অবিরাম এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। গোয়ালন্দ মোড়ে পেট্রোলের দাম না দিয়ে পালাতে গিয়ে এক হিন্দু কর্মী রিপন সাহাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য সংস্থা মন্ডেলেজ ইন্টারন্যাশনালের পণ্যে গোপনে গরুর মাংস ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ক্যারিতে শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলি একে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশগুলিতেও সূক্ষ্ম ও প্রাত্যহিক বৈষম্য হিন্দু-বিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে। দীপাবলিতে বাজি নিষেধাজ্ঞা তার একটি উদাহরণ। এটি আপাতদৃষ্টিতে পরিবেশগত হলেও, বাস্তবে দ্বিচারিতার পরিচয় দেয় (Hindus Under Attack)।

     

  • President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৫ জানুয়ারি। ফি বছর ভারত এই দিনটি পালন করে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে। গণতন্ত্রের উদ্‌যাপন এবং প্রতিটি নাগরিককে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত (National Voters Day) করতেই পালিত হয় এই দিনটি। সরকারি এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দিনটি ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবেও চিহ্নিত (President Murmu)। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা হল নির্বাচন কমিশন। এখনও পর্যন্ত কমিশন ১৮টি লোকসভা নির্বাচন এবং ৪০০-রও বেশি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

    রাজ্যসভার নির্বাচন (President Murmu)

    এছাড়াও রাজ্যসভার নির্বাচন, যেখানে রাজ্য বিধান পরিষদ রয়েছে, সেখানে তার নির্বাচন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি ও দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের নির্বাচন, এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলির নির্বাচনও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনটি একটি বহুসদস্য সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আরও দু’জন নির্বাচন কমিশনার (President Murmu)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এ বছরের জাতীয় ভোটার দিবসের মূল থিম হল “আমার ভারত, আমার ভোট”, এবং ট্যাগলাইন “ভারতীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রে নাগরিক”। কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন (President Murmu)।

    অনুষ্ঠানে থাকছেন যাঁরা

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন। কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল থাকবেন সম্মানীয় অতিথি হিসেবে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় ভোটার দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় নয়াদিল্লিতে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, সদ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তরুণ ভোটারদের হাতে ভোটার পরিচয়পত্র (এপিক কার্ড) প্রদান এবং অসাধারণ কাজের জন্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সম্মান জানানো হয় (National Voters Day)। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিভাগে সেরা নির্বাচনী অনুশীলন পুরস্কার দেন। এর মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস, উদ্ভাবনী ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি, আদর্শ আচরণবিধির বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার (President Murmu)।

    উল্লেখযোগ্য অবদান

    এই পুরস্কারগুলি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্ভিস সংগঠনগুলিকেও তাঁদের কাজের জন্য সম্মানিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে দুটি প্রকাশনার উদ্বোধন করা হবে- ‘২০২৫: উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের এক বছর’ এবং ‘চুনাও কা পর্ব, বিহার কা গর্ব’, যেখানে বিহারে সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার বিবরণ রয়েছে। এই উপলক্ষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে কমিশনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নানা দিক তুলে ধরা হবে। এই প্রদর্শনীতে ভোটারদের কল্যাণে সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার দিকগুলিও তুলে ধরা হবে (President Murmu)।

    জাতীয় ভোটার

    জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ যে কোনও গণতন্ত্রের সফল পরিচালনার মূল ভিত্তি। এটি সুস্থ ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত। ভারতে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করে যে, প্রতিটি যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি, তালিকাভুক্ত প্রত্যেককে স্বেচ্ছায় ভোটদানে উৎসাহিত করাও কমিশনের দায়িত্ব। জাতীয় ভোটার দিবস এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। এটি ভোটার রেজিস্ট্রি ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে ও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করে।

    ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ

    এই দিনটি দেশের সমস্ত ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। নয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তিকরণ এই উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সারা দেশে প্রায় ১১ লক্ষ ভোটকেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবস উদ্‌যাপন করা হয় (President Murmu)। জেলা স্তরে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও), রাজ্য স্তরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকায় বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ও নতুন ভোটারদের সংবর্ধনা জানান (National Voters Day)। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ২০১১ সাল থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা দিবস, অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারিকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে। সারা দেশে এটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। এর সঙ্গে থাকে সিম্পোজিয়াম, সাইকেল র‍্যালি, মানবশৃঙ্খল, লোকশিল্প অনুষ্ঠান, মিনি-ম্যারাথন, প্রতিযোগিতা ও সচেতনতা সেমিনারের মতো নানা কর্মসূচি। এর অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে, যাতে নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে (President Murmu)।

    পুরস্কার কর্মসূচি

    এছাড়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও ভোটার সচেতনতার ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা উদ্‌যাপনের জন্য একটি পুরস্কার কর্মসূচিও জাতীয় ভোটার দিবসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় ও রাজ্য- উভয় স্তরেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর সেরা নির্বাচনী জেলাগুলিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিতর্ক, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীরা অঙ্কন, নাটিকা, গান, চিত্রাঙ্কন ও প্রবন্ধ রচনায় অংশ নিতে পারে। এই উদ্যোগগুলি তরুণ মনকে দায়িত্বশীল ভোটার হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই সমস্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য হল সচেতন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (President Murmu)।

    ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি

    সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান হল নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মসূচি, যা ২০০৯ সালে শুরু হয়। এটি সারা দেশে ভোটার শিক্ষা, সচেতনতা ও সাক্ষরতার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ১৬তম জাতীয় ভোটার দিবসের প্রাক্কালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর উদ্যোগের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি করা, অর্থাৎ সব যোগ্য ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া (National Voters Day)। বিহারে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা চলছে। বিহারের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে একটি আপিলও দায়ের হয়নি, যা এর পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে (President Murmu)।”

    এসআইআর

    এসআইআর পরবর্তী বিহারের নির্বাচন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ১৯৫১ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে ৬৭.১৩ শতাংশ। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন ৭১.৭৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও উদ্ভাবনের বছর হিসেবে উদ্‌যাপন করেছে। প্রায় ৩০টি বড় উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ছিল সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি, যার আওতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৫,০০০-এরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার ও সুপারভাইজারকে দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ইসিআইনেট অ্যাপ চালু করা, যেখানে সব ভোটার পরিষেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল জমা দেওয়ার সুবিধা, এবং ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোটারের সংখ্যা ১,২০০-এ সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত।

    জ্ঞানেশ কুমার

    জ্ঞানেশ কুমার বৈশ্বিক স্তরে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডিইএর সভাপতিত্ব ভারতের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে ৭০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশ নেন (President Murmu)। নিজের বার্তায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, “ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।” তিনি ঘোষণা করেন, তরুণদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে তারা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্পষ্ট ধারণা পায় (National Voters Day)। তিনি বলেন, “দেশসেবার প্রথম ধাপ হল ভোটদান।” ১৮ বছর পূর্ণ করা প্রত্যেক নাগরিককে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় ভোটার দিবস

    জাতীয় ভোটার দিবস ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। ২০১১ সালে সূচনার পর থেকে এই বার্ষিক উদ্‌যাপন দেশের অন্যতম বৃহত্তম নাগরিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের থিম আরও একবার এই বার্তাই জোরদার করে—প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ভোটার নিবন্ধনের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলেই জানানো (National Voters Day) হয়েছে কমিশনের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (President Murmu)।

     

  • Mirzapur Gym Conversion Racket: উত্তরপ্রদেশে ফর্দা ফাঁস জিমের আড়ালে চলা ধর্মান্তর চক্রের

    Mirzapur Gym Conversion Racket: উত্তরপ্রদেশে ফর্দা ফাঁস জিমের আড়ালে চলা ধর্মান্তর চক্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলায় পাঁচটি জিমকে কেন্দ্র করে চলা একটি ইসলাম ধর্মান্তর চক্রের (Mirzapur Gym Conversion Racket) পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। দুই হিন্দু নারী আলাদা আলাদা অভিযোগ (Police) দায়ের করে জানান, মুসলিম জিম প্রশিক্ষকেরা তাঁদের যৌন হয়রান করেছে, অর্থ আদায় করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভাদোহির এক পুলিশ কনস্টেবল ইরশাদ খানও এই ধর্মান্তর চক্রের সঙ্গে জড়িত।

    ফরিদ আহমেদ (Mirzapur Gym Conversion Racket)

     জিআরপি  তার সহযোগী ফরিদ আহমেদ ‘আয়রণ ফায়ার’ ও ‘কেজিএন ২.০’ নামের জিম চালানোর আড়ালে ৫০ জনেরও বেশি তরুণীকে ফাঁদে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। এর আগে মির্জাপুর কোতওয়ালি দেহাত পুলিশ মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। খারঞ্জা ফলসের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জিআরপি কনস্টেবল ইরশাদ খান এবং তার সহযোগী ফরিদ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের গুলি গিয়ে লাগে ফরিদের পায়ে। ফরিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে মির্জাপুর পুলিশ।

    লাকি আলি খান 

    এদিকে, চক্রটির মূল হোতা আশফাক ওরফে লাকি আলি খান এবং তার ভাই ইমরান খানের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। একই সঙ্গে পুলিশ দুই ভাইয়ের প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কনস্টেবল ইরশাদ খান অবৈধ তোলাবাজি থেকে অর্জিত অর্থে দামি গাড়ি চালাতেন এবং একাধিক জিমের একটি চেইন গড়ে তুলেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)। অভিযুক্ত মুসলিমদের পরিচালিত জিমে যেসব হিন্দু নারী যেতেন, তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘সান্নো’ নামের এক মুসলিম নারীকে (Police)।

    ‘কেরালা স্টোরি’

    একটি তথাকথিত ‘কেরালা স্টোরি’ ধাঁচের ঘটনায়, সান্নো নামের ওই মুসলিম মহিলা চক্রটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং হিন্দু মেয়েদের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ফাঁদে ফেলার কাজ করতেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মেয়েদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত। কোনও ‘শিকার’ যদি একটি জিমে ফাঁদে না পড়তেন, তাহলে তাঁকে ফাঁদে ফেলার দায়িত্ব ন্যস্ত হত অন্য জিমের হাতে। ইসলামে ধর্মান্তরের লক্ষ্যে হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি জিম— কেজিএন-১.০, কেজিএন-২.০, কেজিএন ৩.০, বি-ফিট এবং আয়রন ফায়ার সিল করে দিয়েছে, যাতে প্রমাণ লোপাট না করা যায় (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

    জেলাশাসকের বক্তব্য 

    জেলাশাসক পবন কুমার গঙ্গওয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব জিম পরিচালনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর জিমগুলি সিল করে দেওয়া হয় (Police)। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ শত শত ছবি, ভিডিও ও চ্যাট-সহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ এই জিম-কেন্দ্রিক ইসলামি ধর্মান্তর চক্রের আর্থিক লেনদেনের সূত্রও খতিয়ে দেখছে। কেজিএন ২.০ জিমের মালিক অমিত দুবে জানান, জিমটি এই ধরনের বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা তিনি জানতেন না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জিমের দামি যন্ত্রপাতি ধর্মান্তরের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত জিমে যাতায়াত ছিল মহিলাদের এবং সেখানে পার্টির আয়োজনও হত (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

    পুলিশ সুপারের বক্তব্য

    মির্জাপুরের পুলিশ সুপার সোমেন ভার্মা বলেন, “এটি কোতওয়ালি দেহাত এলাকার একটি মামলা। দুই মহিলা তাঁদের জিমের মালিক ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছেন। জিমের মালিক ও অন্যদের বিরুদ্ধে নারীদের শোষণ, তোলাবাজি এবং অবৈধভাবে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে এই মামলার সব অভিযোগ তদন্ত করছি।” এদিকে, সিটি এএসপি নীতিশ সিং জানান, পাঁচটি জিমের মধ্যে চারটি পরিচালনা করতেন তিন ভাই ও তাঁদের এক জামাই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বহু ভুক্তভোগীর মধ্যে দুজন অভিযোগ দায়ের করার পর। মির্জাপুর পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে তিনটি জিম সিল করে এবং মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে (Police)।

    পৃথক অভিযোগ

    কোতওয়ালি দেহাত থানায় পৃথক অভিযোগে দুই হিন্দু মহিলা জানান, মির্জাপুরে জিম ট্রেনার হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা প্রথমে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। এমনকি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও তৈরি করেও ব্ল্যাকমেল করা হয় এবং শেষে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয় (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ২০ জানুয়ারি নটওয়ান মিল্লত নগরের বাসিন্দা মহম্মদ শেখ আলি আলম এবং গোসাই তালাব এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জাহির ও শাদাব নামের আরও দু’জনকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ও আটক সকল অভিযুক্তই বিভিন্ন জিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি সংগঠিত ‘লাভ জেহাদ’ নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল।

    ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত

    অভিযুক্ত জাহির কেজিএন-১ জিমের মালিক। তবে তিনি যুক্ত ছিলেন কেজিএন-২, কেজিএন-৩ এবং আয়রন ফায়ার জিমের সঙ্গেও। যাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁরা আগে কেজিএন জিমে যেতেন, সেখানেই অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। বি-ফিট জিমে যাওয়া এক অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্ত শেখ আলি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ধীরে ধীরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। পরে তাকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি তার নামে ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত অভিযুক্তরা (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ভুক্তভোগীর দাবি, শেখ আলি আলম একাধিকবার তাকে বোরখা পরিয়ে ছবি তুলেছে এবং দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তে বাধ্য করেছে। তাকে দরগায় নিয়ে গিয়ে কালমা পড়তে বাধ্য করা হয় এবং জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয়। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে শেখ আলি আলম তাঁকে গালিগালাজ করে, অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিম ট্রেনার ফয়সাল ও তার সহযোগীরাও এই ধর্মান্তর চক্রে যুক্ত।

    ৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা

    পুলিশের দাবি, এখন পর্যন্ত সিল করা পাঁচটি জিমে প্রায় ৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলে শোষণ ও ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে এবং তাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের চেষ্টা চলছিল। এখন পুলিশ শুধু অভিযুক্তদের কল ডেটা রেকর্ডই নয়, জিমগুলির অর্থায়নের উৎসও তদন্ত করছে। যদিও জিম ট্রেনারদের বেতন ছিল মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, তবু তারা দামি ব্র্যান্ডের পোশাক ও জুতো এবং দামী মোবাইল ফোন ব্যবহার করত।  রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মির্জাপুরের কয়েকজন (Police) প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিও এসব জিমে বিনিয়োগ করেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

     

  • Arunachal Pradesh: অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করতে হবে, দাবি অরুণাচলবাসীর

    Arunachal Pradesh: অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করতে হবে, দাবি অরুণাচলবাসীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম ও ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা ইসলামপন্থী-সহ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবং অরুণাচল প্রদেশের স্থানীয় জনগণের তৈরি মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন এখন চরমে। রাজ্যের একাধিক আদিবাসী সংগঠন অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের (Arunachal Pradesh) বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টার অরুণাচল বনধের ডাক দিয়েছে।

    অরুণাচল এসটি বাঁচাও আন্দোলন (Arunachal Pradesh)

    লোয়ার সুবনসিরি জেলার প্রশাসন ২০ জানুয়ারি, অরুণাচল এসটি বাঁচাও আন্দোলনের ডাকা ২৪ ঘণ্টার বনধ চলাকালীন পারিয়ামি মসজিদ খালি করে দেয়। এর ফলে জিরোতে কথিত দুটি অবৈধ মসজিদকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন চলছে, তা আরও তীব্র হয়। এই বনধের মূল লক্ষ্য ছিল সুলুয়া ও পারিয়ামিতে নির্মিত অনুমোদনহীন পরিকাঠামো। সংগঠনটি ওই কাঠামোগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছে।  পাশাপাশি পারিয়ামি মসজিদের ভেতরে থাকা একটি ইসলামি স্তম্ভ অপসারণের দাবিও তোলেন স্থানীয়রা। এ জন্য ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    এসটি বাঁচাও আন্দোলন

    এর প্রেক্ষিতে অরুণাচল প্রদেশ সরকার সুলুয়া মসজিদ, যেটি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে এসটি বাঁচাও আন্দোলনের অভিযোগের পর সিল করা হয়েছিল, তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে জমির মালিক রুবু তাপা নিজের খরচে সেটি ভেঙে ফেলতে পারেন। এই নির্দেশ আসে ১৯ জানুয়ারি ওল্ড জিরো মার্কেট ওয়েলফেয়ার কমিটির এক আবেদনের পর। ইনচার্জ ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী (Illegal Mosques) এসডিও হাগে তারুং অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সার্কেল অফিসার মিস মিডে বাগেকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের অনুলিপি পুলিশ সুপার, টাউন ম্যাজিস্ট্রেট, জিরো পুলিশ স্টেশন, এসটি বাঁচাও আন্দোলন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়।

    নিরাপত্তা ইস্যু

    এদিকে, অরুণাচল প্রদেশে নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার আর একটি পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যপাল কেটি পার্নাইক শুক্রবার সদ্যনিযুক্ত ডিজিপি শিব দর্শন সিং জামওয়ালকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পার্নাইক বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশ সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক হুমকি, যা লোয়ার সুবনসিরির মতো জেলাগুলিতে অননুমোদিত ধর্মীয় কাঠামো ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় উদ্বেগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Arunachal Pradesh)।” এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে জেলাটিতে অবৈধ ধর্মীয় কাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

    এর আগে, ২৭ ডিসেম্বর রাজ্যের রাজধানী ইটানগরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে একাধিক সংগঠন রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি ‘মিঞা-মুসলিম’ বসতিস্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং তাদের ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) বাতিলের দাবি তোলে। অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ ফোর্স (IYFA) এবং অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (APIYO) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দেন (Illegal Mosques)। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অভিবাসীদের রাজ্যে কোনও জায়গা নেই এবং অরুণাচল প্রদেশ ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত কখনওই বাংলাদেশের অংশ হতে পারে না (Arunachal Pradesh)।”

     

  • Hind Di Chadar: ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ, নান্দেদে মহা আয়োজন

    Hind Di Chadar: ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ, নান্দেদে মহা আয়োজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিখ ধর্মের নবম গুরু, ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম উপলক্ষে নান্দেদে বহু ভক্তের সমাগম হয়েছে। এই উপলক্ষে আজ, শনিবার ২৪ ও রবিবার, ২৫ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে শিখ, শিকলিগর, বঞ্জারা, লবানা, সিন্ধি, মোহিয়াল, বাল্মীকি, ভগত নামদেব এবং উদাসী—এই নয়টি সমাজ ও সম্প্রদায়ের মানুষ নান্দেদে একত্রিত হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির ত্যাগ, বলিদান এবং মানবতার জন্য শহিদ হওয়ার ইতিহাস দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া।

    ভারতের রক্ষক শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজি

    ধর্ম, রাষ্ট্র ও মানবতার জন্য যাঁরা নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেন শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জি তঁদেরই একজন। অমর গাথার এক অনুপ্রেরণার কাহিনি হল ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জির জীবনকথা। সমগ্র বিশ্ব তাঁকে ভারতের রক্ষক হিসেবে স্মরণ করে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায় ও সহিষ্ণুতার রক্ষার্থে তাঁর বলিদান ভারতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আদেশে তাঁকে আগ্রায় বন্দি করে দিল্লিতে আনা হয়, সেখানে তাঁকে ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের আদর্শের সঙ্গে কোনও আপস করেননি। অবশেষে ১৬৭৫ সালে দিল্লির চাঁদনি চকের শীশগঞ্জে তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়।

    ১০ লক্ষ ভক্তের সমাগম

    শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জি-র শহীদ দিবসকে স্মরণ করে নান্দেদে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে প্রায় ১০ লক্ষ ভক্ত সমাগম হবে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও ওয়াকফ প্রতিমন্ত্রী মাধুরী মিসাল তাঁর বার্তায় শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজ্য, দেশ-বিদেশ থেকে শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির লক্ষ লক্ষ ভক্ত নান্দেদে সমবেত হয়েছেন। এই উপলক্ষে শিখ, শিকলিগর, বঞ্জারা, লবানা, সিন্ধি, মোহিয়াল, বাল্মীকি, ভগত নামদেব ও উদাসী—এই নয়টি সমাজ ও সম্প্রদায় একত্রে মিলিত হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে ২৬টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, থাকার জায়গা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ সমস্ত সুবিধার ব্যাপক আয়োজন করা হচ্ছে।পাশাপাশি যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্তরে রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ভক্তদের সুবিধার্থে “https://gurutegbahadurshahidi.com” এই ওয়েবসাইটে সড়ক, রেল, বাস, যান চলাচল ব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

  • Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ইউনূসের (Muhammad Yunus)। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে ‘বাঙলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সভায় অডিও বার্তায় এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সদস্য সহ বহু বিশিষ্টজন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে।

    দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত

    ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হবার পর এই প্রথম অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারকে (Muhammad Yunus) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন হাসিনা। অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র নির্বাসনে। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিরাপত্তা নেই।” প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় আগাগোড়া তিনি নিশানা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে কখনও ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও ‘টাকা পাচারকারী’, আবার কখনও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ শানান হাসিনা।

    বিদেশিদের হাতের পুতুল ইউনুস

    শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। দীর্ঘ বক্তৃতায় ইউনূসের সরকারকে ‘অবৈধ’ এবং ‘হিংসাত্মক’ বলেও আক্রমণ শানান তিনি। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, অরাজকতা এবং গণতন্ত্রহীন এক যুগ ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। পড়শি দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধানের জন্য এক অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। এবং ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল হয়ে যাওয়া’ এই সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন হাসিনা। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘এক বিশাল জেলখানা, এক বধ্যভূমি এবং এক মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হাসিনা।

    স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ

    তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন! যে সময়ে তিনি দেশ থেকে উৎখাত হয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেটাই তাঁর শেষ ‘টার্ম’ ছিল। ২৪ ঘণ্টা আগে শেখ হাসিনার ছেলে জয় এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে এবার আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী? এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর একটা অডিয়ো বার্তা! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ নিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট ইউনূস প্রশাসনকে উৎখাতের ডাক দিলেন। গোটা এই পরিস্থিতির জন্য কেবল ইউনূস প্রশাসনকেই দায়ী করেননি তিনি। এর পিছনে বাংলাদেশের সম্পত্তি লুঠের জন্য বিদেশি শক্তির মদতকেও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ এখন একটি অনির্বাচিত ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত, যেখানে সন্ত্রাস চলছে। বাংলাদেশের ভূমি-সম্পদ লুঠের জন্য বিদেশি শক্তি সক্রিয়।” এই ‘অন্ধকার যুগ’ থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশবাসীকে আরও একবার মুক্তিযুদ্ধের শপথ নেওয়ার ডাক দিলেন হাসিনা।

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনূস ও সহযোগীরা, এদিন তা-ও জানান হাসিনা। বললেন, “২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে।” এ প্রসঙ্গেই ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূসের বিরুদ্ধে বলব, নিজের দেশের লোককেই উপেক্ষা করা বন্ধ করুন।” পাশাপাশি তিনি বলেন দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা, ইউনূস প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেদিন থেকে দেশ সন্ত্রাসের কবলে।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ধূলোয় মিশে গিয়েছে। দেশের মেয়ে-নারীরা নির্যাতিত। বিচারব্যবস্থা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

    হতাশ না হবার বার্তা

    এদিন শেখ হাসিনার মুখে শোনা গেছে হতাশ না হবার বার্তা। তিনি বলেছেন, “আশা ছাড়বেন না। যারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাঁদের হাত থেকে আমাদের দেশকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করুন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আওয়ামি লিগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, অবর্ণনীয়ভাবে দেশের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের সঙ্গে মিশে আছে। এই দল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের গর্বিত ঐতিহ্যের রক্ষক। এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে উৎখাতের ডাক দেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির উচিত একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় শপথ নেওয়া।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

LinkedIn
Share