Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের (London) পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁকে ঘিরে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হ্যামারস্মিথ এলাকার ফুলহ্যাম প্যালেস রোডে অবস্থিত ‘রঙ্গরেজ’ নামে একটি রেস্তোরাঁর সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি রেস্তোরাঁর মালিক জানান যে সেখানে শুধুমাত্র ঝটকা পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা মাংস পরিবেশন করা হবে, হালাল নয়। প্রায় ১৬ বছর ধরে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটি শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে বলে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মালিক হরমান সিং কাপুর প্রকাশ্যে জানান যে তার রেস্তোরাঁয় শুধুমাত্র ঝটকা মাংসই পরিবেশন করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকে।

    হোটেলের সামনে বিক্ষোভ

    গত ১৪ মার্চ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু মানুষ রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং কিছু সময়ের জন্য প্রবেশপথও অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এর আগে একই দিনে হরমান সিং কাপুর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে সমর্থকদের বিকেল ২টায় রেস্তোরাঁয় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তিনি এটিকে “নন-হালাল মিটআপ” বলে উল্লেখ করেন এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা রেকর্ড করার জন্য ক্যামেরা বা ফোন সঙ্গে আনতে বলেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কাপুর নিজেই ভিডিও পোস্ট করে জানান যে তিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে শিখ ধর্মে বহন করা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ‘কিরপান’ সঙ্গে নিয়েছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। গ্রেফতারের পর ঘটনাটি আরও বিতর্কের জন্ম দেয়। কাপুরের সমর্থকদের দাবি, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য দাঁড়ানো সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, তার কিছু সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিম গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন না করার কথাও বলেছিলেন।

     বিতর্কের কেন্দ্রে কী

    এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে হালাল ও ঝটকা পদ্ধতির পার্থক্য। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হালাল মাংস প্রস্তুত করতে ‘জবিহা’ পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হয় এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়। মুসলিমদের জন্য এটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবিধি। অন্যদিকে ঝটকা পদ্ধতিতে এক আঘাতে পশুকে দ্রুত হত্যা করা হয়। শিখ ধর্মে অনেক অনুসারী ‘কুঠা’ বা ধর্মীয় আচার মেনে জবাই করা মাংস এড়িয়ে চলেন, যার মধ্যে হালালও অন্তর্ভুক্ত বলে অনেকে মনে করেন। ঘটনাটি ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রবাসী সম্প্রদায়ের সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত বড় বড় প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের অনেকেই উপমহাদেশের বিভাজনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

    লন্ডনে গোষ্ঠী সংঘর্ষ

    ২০২২ সালে লেস্টার শহরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময়েও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। রঙ্গরেজ রেস্তোরাঁকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাও একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষক নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করছেন। তদন্ত চলতে থাকায় পুরো ঘটনার সব দিক এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় একটি বিরোধও কীভাবে সামাজিক মাধ্যমের যুগে দ্রুত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

  • Strait of Hormuz: অবরুদ্ধ হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের

    Strait of Hormuz: অবরুদ্ধ হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Strait) নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, আমেরিকা ইরানযুদ্ধের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ একের পর এক দেশ প্রত্যাখ্যান করছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার ইউকে-ও এই বিষয়ে পিছিয়ে এসেছে।

    ট্রাম্পের অনুরোধ মিত্র দেশগুলিকে

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশকে অনুরোধ করেছিল যাতে তারা স্ট্রেইট অব হরমুজে ইরানের অবরোধ ভাঙতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। তবে সেই অনুরোধে সাড়া দিতে অনীহা দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Strait) মধ্য দিয়ে ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে পার করার কাজ শুরু করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রভাবিত হচ্ছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালী খোলা ও নিরাপদ থাকে।”

    কী বলল অস্ট্রেলিয়া-জাপান

    এর পরেই অস্ট্রেলিয়ার পরিবহণমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে আমাদের অবদান কী হবে। আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য বিমান পাঠানো হচ্ছে, বিশেষ করে সেখানে থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। কিন্তু আমরা স্ট্রেইট অব হরমুজে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাব না।” এদিকে জাপানের শাসক দল এলডিপির শীর্ষ নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স মোতায়েন করার সীমা “অত্যন্ত উচ্চ”। উল্লেখ্য, জাপানের প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি স্ট্রেইট অব হরমুজের উপর নির্ভরশীল।

    সাড়া দিল না ব্রিটেনও

    অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার পাঠাতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত নয়। যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড বলেন, “আমরা অন্যভাবে সাহায্য করতে পারি, যেমন মাইন শনাক্ত করার ড্রোন ব্যবহার করে। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই সংকট আরও না বাড়ে।” বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল, আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Israel, US strikes on Iran) চালায়, নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei Death)। পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। উত্তেজনা বাড়তে থাকে আরব দুনিয়ায় (Middle East tension)। এরপরই মার্চের শুরুর দিকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। হরমুজ বিশ্বব্যাপী তেলের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পথ, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক এলএনজি লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই তাঁর প্রথম ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রণালী বন্ধ রাখতে হবে আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপর আক্রমণ হতে পারে।

     

     

     

     

     

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

  • UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর বা জাল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ জন ভারতীয়-সহ (Indians) মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর  শুরু (UAE) হয় এই যুদ্ধ। ইউএইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত বিচার করা হবে। এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দু’টি ধাপে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। এর আগে শনিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়।

    ইউএইর অভিযোগ (UAE)

    ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামস জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভুয়ো তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের (WAM) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলীর আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা, আই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা, এবং সামরিক আগ্রাসনে জড়িত একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করে প্রচার করা।

    প্রথম দলের ১০

    জানা গিয়েছে, প্রথম দলের ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয়। তাঁরা দেশের আকাশসীমায় মিসাইল চলাচল ও প্রতিরোধের আসল ভিডিও প্রচার করেছিল। এসব ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ভিডিও করে তাতে এমন মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং দেশ বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত (UAE)। দ্বিতীয় দলে ৭ জন ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি (Indians)।

    এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও

    তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও বা দেশের বাইরের ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে দাবি করেছিলেন যে এগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘটেছে। এসব ভিডিওয় বিস্ফোরণ ও মিসাইল হামলার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সেখানে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ যুক্ত করা হয়েছিল। আর তৃতীয় দলে ৬ জন ছিলেন। এঁর মধ্যে ৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি। অভিযোগ, তাঁরা ইরানের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ

    সরকারের বক্তব্য, এতে শত্রুপক্ষের প্রচারকে শক্তিশালী করা হয়েছে, ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি কৌঁসুলির দফতর তাঁদের আটক করে রাখার নির্দেশ দেয় (Indians)। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামস বলেন, “তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছিল, যেখানে ইউএইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বা বড় অগ্নিকাণ্ড দেখানো হয়েছিল (UAE)। ইউএই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হল, কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, “এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।”

    নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণা

    কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণাও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ভিডিওয় আবার দেশের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে ইউএইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সকালে উপসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে ইউএইও রয়েছে, নতুন করে হামলার খবর জানায়। এর একদিন আগে ইরান ইউএইয়ের তিনটি বড় বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিল (Indians)। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএইয়ের বন্দর, ডক ও ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপেই রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি ইরান (UAE)। এদিকে, যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন মিত্র দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ, অস্তিত্বের সঙ্কটে সনাতনীরা!

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ, অস্তিত্বের সঙ্কটে সনাতনীরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর অব্যাহত নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ। দেশ তো বটেই, বিদেশেও নিত্য ঘটে চলেছে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার (Hindus Under Attack)। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে চলতে থাকা এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক অংশ এই আক্রমণের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করেছে, যা মূলত হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও পক্ষপাতদুষ্টতার জের (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের মুখোমুখি হচ্ছেন। চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেগুলি। বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হয়, তাই।

    ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (Hindus Under Attack)

    ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্র সিরিজের দ্বিতীয় অংশের শুরুতেই একটি দৃশ্যে দেখা যায় এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে, তার মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে আনুজা নামের এক তরুণীর বাস্তব ঘটনাই এই দৃশ্যের নেপথ্যের কাহিনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কৌতুক অভিনেতা নাসির আখতারের একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো, যেটি ৮ মার্চ বেঙ্গালুরুর কোরামাঙ্গালায় ‘মিনিস্ট্রি অব কমেডি’তে হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়। হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, তিনি আগে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে অপমান করেছেন। দিল্লিতে তরুণ তরুণ কুমার বুটোলিয়াকে হত্যা করেছে কয়েকজন মুসলিম। অভিযোগ, ১১ বছরের এক নাবালিকার ছোড়া জলভরা রঙিন বেলুন দুর্ঘটনাবশত এক মুসলিম মহিলার গায়ে পড়ে যায় (Hindus Under Attack)। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে তরুণ হত্যার ঘটনা। যা বড়জোর একটি পাড়ার ঝগড়া হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আকার নেয় গণপিটুনির।

    ইসলামপন্থী যুবকদের অত্যাচার

    রাজস্থানের আলওয়ার জেলার আরাবল্লি বিহার এলাকায় একটি প্রাচীন শিব মন্দিরে শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করা হয়। মন্দির লাগোয়া এলাকায় মেলে মৃত বাছুর। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় (Roundup Week)। কর্নাটকের কপ্পাল জেলায় ভেঙ্কটেশ নামের এক ব্যক্তিকে ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল মারধর করে বলে অভিযোগ। তিনি তাঁর মুসলিম বন্ধু আজির এবং তাঁর স্ত্রী আফিয়ার পারিবারিক বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন (Hindus Under Attack)। এই রাজ্যেরই বাগালকোট জেলায় সাফিক নামে এক মুসলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে এক হিন্দু মহিলাকে নাম ভাঁড়িয়ে বিয়ে করে। তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। পরে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।

    লাভ জেহাদ

    পুনে জেলার নহাভি গ্রামের নিউ ইংলিশ স্কুলে অভিযোগ ওঠে যে কপালে তিলক লাগানো ছাত্রদের ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। মোনালিসা ভোঁসলে নামে ১৮ বছরের এক হিন্দু তরুণীর কেরালায় গিয়ে জনৈক ফারমান খানকে বিয়ে করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে প্রভাবিত করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরে ২২ বছরের এক হিন্দু তরুণী পরিবারের সদস্যদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে। পরিবারের অভিযোগ, এটি ‘লাভ জেহাদে’র ঘটনা (Roundup Week)।

    বাংলাদেশেও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    এ তো গেল সপ্তাহান্তে দেশের ছবিটা। বাংলাদেশেও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যেতে পারে। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কুমিল্লা শহরের কালীগাছতলা মন্দিরে একটি হাতবোমা হামলায় মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী-সহ অন্তত তিনজন জখম হন। শনি পুজো চলার সময় তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মন্দিরে ঢুকে বোমা ছোড়ে বলে জনান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    হিন্দু খুন

    নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করা হলেও, আদতে তা হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাতজন নিহত হয়েছে বলে খবর।ফেনীতে ১৬ বছর বয়সী হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত সাহা ডাকাতদের হাতে নিহত হয়েছে। কক্সবাজারে গণেশ পাল নামে এক হিন্দু ব্যক্তি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে বলে খবর। সাতক্ষীরা শহরের ‘মায়ের বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে চুরি হয়েছে। বিগ্রহের সোনার গয়না এবং দানবাক্সের টাকা চুরি হওয়ায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)।

    প্রি-স্কুলে হোলি উদযাপন নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রি-স্কুলে হোলি উদযাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক মার্কিন নাগরিক ওই অনুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনা করায় তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বস্তুত, অনেক ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করা হয়। কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে এই বিদ্বেষকে উৎসাহিত করা হয় বলে দাবি সমালোচকদের। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা দেখা গেলেও, ভারতের মতো তথাকথিত কিছু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্মভাবে হিন্দু-বিদ্বেষ দেখা যায় বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টির উল্লেখ করা হয়। যা আপাতভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ হলেও, সমালোচকদের মতে এতে রয়েছে দ্বৈত মানদণ্ড।

     

  • Pakistan: আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান, কারণ কী?

    Pakistan: আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তান (Pakistan)- আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত বরাবর চলা সংঘাতের ঝাঁঝ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই সংঘাত। তা কমার কিংবা স্থায়ী সমাধানের কোনও লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না। গত বছর কাতার-সহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দু’দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। কারণ পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগানিস্তানে (Afghanistan) হামলা চালিয়েই যাচ্ছে।

    আফগান ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা (Pakistan)

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহেই আফগান ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। যার জেরে আফগানভূমে পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে নারী ও শিশু-সহ নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন। জানা গিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ২০০-টিরও বেশি রকেট ও আর্টিলারি শেল ছুড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের একাধিক অঞ্চল। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর জানিয়েছে, তীব্র হামলা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি।

    পাল্টা আঘাত আফগানিস্তানের

    পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র হতে শুরু করেছে। এখনও উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই। পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালানো শুরু করে এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকার সীমান্তের ওপারে পাক ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালায় (Pakistan)। কাবুল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন (Afghanistan)।

    ‘নৃশংস আগ্রাসন’

    পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলেও নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিযোগ, পাকিস্তান নির্বিচারে অসামরিক এলাকাকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মৃত্যু হয়েছে নারী ও শিশুর। তালিবান সরকারের অভিযোগ, কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে একটি বেসরকারি এয়ারলাইনের জ্বালানি ডিপোয়ও বোমা ছুড়েছে পাকিস্তান। তালিবান সরকার আরও জানিয়েছে, পূর্ব আফগানিস্তানের একটি প্রদেশে পাকিস্তানের আর্টিলারি হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে দু’জন আবার শিশু। কাবুল ইসলামাবাদের এই হামলাকে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ বলে নিন্দে করেছে। তারা জানিয়েছে, এর জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।

    কাবুলের অভিযোগ

    পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তার ফলে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান জঙ্গিদের আড়াল করতেই এমনতর অভিযোগ করছে (Pakistan)। কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগানিস্তানে (Afghanistan) হামলা চালিয়ে মিথ্যে খবর রটাতে চাইছে। এসব করে তারা অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাক-আফগান সংঘর্ষের এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাগুলিকে বাইরের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে (Pakistan)।

     

  • Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় শুক্রবার ইরানের খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) বড় ধরনের হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক টার্গেট ধ্বংস করে (Global Oil Crisis)। এই দ্বীপটিকে ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ বলা হয়। কারণ এটি দেশের তেল রফতানি নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কী বললেন ট্রাম্প? (Kharg Island)

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কেবল সামরিক পরিকাঠামোগুলিকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং দ্বীপের জ্বালানি পরিকাঠামো এড়িয়ে চলা হয়েছে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি তেহরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে দ্বীপে থাকা তেলের মজুত ভবিষ্যতে টার্গেট হতে পারে।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি যদি দিন দিন এভাবে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তা বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিতে পারে। কারণ তখন তারা আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করা আঞ্চলিক তেল কোম্পানিগুলির জ্বালানি পরিকাঠামোকেও টার্গেট করতে বাধ্য হবে।

    খার্গ দ্বীপ কোথায়?

    ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে এবং হরমুজ প্রণালীর প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। এটি পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি কৌশলগত তেল টার্মিনাল। এই দ্বীপকে বলা হয় ইরানের ‘তেলের জীবনরেখা’। ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে দ্বীপে তেল নিয়ে আসে এবং সেখান থেকে তা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)। এই দ্বীপে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেলে, তা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্থনীতিতে।

    কেন খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    ১৯৮৪ সালের একটি গোপন নথি থেকে প্রাপ্ত সিআইএ নোট অনুযায়ী, দ্বীপটির তেল পরিকাঠামোগুলি ইরানের পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির অর্থনীতি ও ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত পাইপলাইনগুলি সমুদ্রপথে ইরানের বড় বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত (Global Oil Crisis)। জানা গিয়েছে, সমুদ্রের তেলক্ষেত্র আবুজার (Aboozar), ফোরুজান (Forouzan) এবং দোরুদ (Dorood) থেকে অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনালে আসে। এরপর জলের নীচের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা স্থলভাগের পরিশোধনাগারে পৌঁছয়। সেখানে প্রক্রিয়াকরণ করার পর তেল সংরক্ষণ করা হয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)।

    প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দামে

    এই দ্বীপে ইরানের তেল মন্ত্রক পরিচালিত তিনটি বড় জ্বালানি পরিকাঠামোও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম বড় হল ফালাত ইরান অয়েল কোম্পানি (Falat Iran Oil Company)। এই কোম্পানি প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দ্বীপটিতে খার্গ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি-সহ একটি বড় পরিকাঠামো রয়েছে, যা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ ও রফতানির জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বীপের ওপর কোনও সামরিক হামলা, যেখানে সাধারণ নাগরিকরাও বসবাস করেন (Global Oil Crisis), বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Kharg Island)।

     

  • Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran)। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই মিলেছে এই খবর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পেতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার  পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য। এই সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রদূতকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ভারত কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তখনই তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভবিষ্যতেই আপনি তা দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই বা তিন ঘণ্টার মধ্যেই।” ফাথালি বলেন, “ভারত ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই অঞ্চলে দুই দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারতের এই অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” ইরানি রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। এই সম্পর্ককে তিনি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারত বন্ধু। আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, রয়েছে অভিন্ন বিশ্বাসও।” কঠিন সময়ে ইরানকে যে ভারত সাহায্য করেছিল, তাও এদিন মনে করিয়ে দেন ফাথালি। তিনি বলেন, “ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।”

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয় (Iran)। এই পথে চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ দেশটি তার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এই অঞ্চল থেকেই আমদানি করে (Hormuz Strait)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সরকার ও শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিত দেন ফাথালি।

    ভারতে আসছে একের পর এক জাহাজ

    যে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান, সেগুলি হল— শিবালিক ও নন্দাদেবী। এরমধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালী পার করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় জাহাজ নন্দাদেবী আজ, শনিবার ভোরের দিকে ওই প্রণালী অতিক্রম করবে বলেই খবর। মেরিনট্র্যাফিকের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ শিবালিকের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূল থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের মধ্যেই ছিল। অন্যদিকে, নন্দাদেবীকে শুক্রবার ইরানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে দেখা গিয়েছে বলে মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাস লাফান নোঙরস্থলে অবস্থান করেছিল এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমার দিকে যাত্রা করে। এছাড়াও, আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের শনিবার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজে আসছে সৌদি আরবের তেল। লাইবেরিয়া পতাকাবাহী স্মিরনি সুয়েজম্যাক্স ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল), অচিরেই ভারতের একটি বন্দরে পৌঁছবে বলেও আশা করা হচ্ছে (Hormuz Strait)। এই তেল নেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Iran)।

  • Bangladesh: হাসিনা-পরবর্তী জমানায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটেছে প্রায় ৩১০০টি হিংসার ঘটনা!

    Bangladesh: হাসিনা-পরবর্তী জমানায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটেছে প্রায় ৩১০০টি হিংসার ঘটনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর প্রায় ৩,১০০টি হিংসার (Violence) ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছ থেকেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    কী বললেন ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী (Bangladesh)

    বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা  জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলি, যার মধ্যে তাদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ে হামলাও রয়েছে, ভারত সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। তিনি বলেন, “মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩,১০০টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে।” তিনি জানান, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি ভারত সরকার সবসময়ই বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, এমনকি সর্বোচ্চ স্তরেও উত্থাপন করেছে।

    জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু

    এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সে দেশের কূটনৈতিক মহলের সঙ্গেও। মন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকারের আশা যে, বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং সংখ্যালঘুদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও হিংসায় জড়িত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবে।” তিনি এও বলেন, “সংখ্যালঘু-সহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারেরই। বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত সাহায্য করা যায়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করে বাংলাদেশে ভারতের মিশন ও বিভিন্ন পোস্ট।” মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু একটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও রয়েছে (Bangladesh)।

    ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনে ভারতীয় নাগরিকদের অভিযোগ (Violence) ও উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য একজন বিশেষ কনস্যুলার আধিকারিক রয়েছেন। এই মিশনটি নিয়মিত বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্যই এই মিশন। মন্ত্রী জানান, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ‘ওপেন হাউস’ কর্মসূচির আয়োজনও করা হয় (Bangladesh)।

     

LinkedIn
Share