Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। যেসব দেশ সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে অস্ত্র কিনেছে অথবা ভবিষ্যতে কেনার পরিকল্পনা করছে, তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টে পাকিস্তান থেকে রফতানি হওয়া গোলাবারুদের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আজারবাইজানের

    খবরে প্রকাশ, পাকিস্তান তার মিত্র দেশ আজারবাইজানকে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার বিভিন্ন অংশ সরবরাহ করেছে। তবে এর একটি বড় অংশ কয়েক দশক পুরনো মজুত থেকে নেওয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরঞ্জামে জং ধরা, প্রপেল্যান্ট লোড কম থাকা এবং পাল্লায় ত্রুটি থাকার মতো সমস্যা ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা চলছে আজারবাইজানের। ভারত তার মিত্র দেশ আর্মেনিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রের জন্য তুরস্ক ও পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করে থাকে আজারবাইজান। কিন্তু ককেশাস অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান থেকে পাঠানো অস্ত্রের মান প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল।

    লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে পাক গোলা!

    যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের সরবরাহ করা কামানের গোলাগুলোর কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। পাকিস্তান যে রেঞ্জের দাবি করেছে, বাস্তবে তা মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্তই অর্জিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গোলাগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। আজারবাইজানের পাশাপাশি ইউক্রেনেও পাকিস্তানি অস্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। রাশিয়ার হামলার শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এম৭৭৭ হাউইৎজার কামানের জন্য পাকিস্তানে তৈরি ১৫৫ মিলিমিটার গোলা কিনেছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, এসব গোলা সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হচ্ছিল, যার ফলে একাধিক কামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পিছিয়ে আসছে আরও এক মিত্র সৌদি আরবও!

    এদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। এক সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। রিয়াধ ভারত থেকে ৫.৫৬ মিলিমিটার, ৭.৬২ মিলিমিটার রাউন্ড এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষায় ভারতীয় গোলাবারুদ ধারাবাহিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল দেখিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি অস্ত্রের মান নিয়ে এই অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যেও আস্থা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • Pakistans Vaccine Bill: বন্ধ টিকা সরবরাহ, ‘রাম’ ধাক্কার মুখে পাক অর্থনীতি

    Pakistans Vaccine Bill: বন্ধ টিকা সরবরাহ, ‘রাম’ ধাক্কার মুখে পাক অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের সামরিক সংঘাতের পর (অপারেশন সিঁদুর) পাকিস্তানে স্বল্পমূল্যের টিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ভারত। তার জেরে পাকিস্তানের ইতিমধ্যেই চাপে থাকা অর্থনীতি নতুন এক ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে। অন্তত শুক্রবার এমনই সতর্কবার্তা দিলেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের টিকার ওপর নির্ভর করে এসেছে। এর একটি বড় অংশই ভারতে উৎপাদিত। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘর্ষের পর সেই সরবরাহ ব্যবস্থা

    স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের বড়সড় বৃদ্ধি (Pakistans Vaccine Bill)

    বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদকে এখন স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের বড়সড় বৃদ্ধির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, দেশীয় উৎপাদন সময় মতো শুরু না হলে পাকিস্তানের বার্ষিক টিকা আমদানি ব্যয়, যা বর্তমানে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০৩১ সালের মধ্যে বেড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তানের মোট টিকা আমদানির প্রায় ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি, যারা গ্যাভি (GAVI)-এর মাধ্যমে কাজ করে। বাকি ৫১ শতাংশ ব্যয় বহন করে সরকার। তবে এই আন্তর্জাতিক সহায়তা স্থায়ী নয়। কামাল সতর্ক করে জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে টিকার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে পুরো আর্থিক দায়ভার পড়বে জাতীয় কোষাগারের ওপর।

    কোভিড-১৯ অতিমারি

    বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, কোভিড-১৯ অতিমারি-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়েও পাকিস্তান গ্যাভি ব্যবস্থার আওতায় ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির তৈরি কম খরচের, উচ্চমানের টিকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের সংঘাতের পর থেকে সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে পাকিস্তান তার নাগরিকদের বিনামূল্যে ১৩ ধরনের টিকা সরবরাহ করে, অথচ তার একটিও সে দেশে উৎপন্ন হয় না। প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যা এবং বছরে আনুমানিক ৬২ লাখ নবজাতকের জন্ম হওয়ায় টিকাকরণের চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ফলে ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরতা ক্রমশই অসহনীয় হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার এখন সৌদি আরবের সঙ্গে অংশীদারিত্বে দেশীয় টিকা উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যাতে আত্মনির্ভরতা অর্জন করা যায়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রক্ষার জন্য এই উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।

     

  • Pakistan: বালুচ লিবারেশন আর্মি ‘অপারেশন হেরোফ’ সমাপ্তি ঘোষণা করেছে, ঘরে-বাইরে চরম অস্বস্তিতে পাকিস্তান

    Pakistan: বালুচ লিবারেশন আর্মি ‘অপারেশন হেরোফ’ সমাপ্তি ঘোষণা করেছে, ঘরে-বাইরে চরম অস্বস্তিতে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) বালুচ ‘স্বাধীনতা-পন্থী’ সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) গত ৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) জানিয়েছে, তাদের ‘অপারেশন হেরোফ’ (Operation Herof)-এর দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্য বালুচিস্তান পোস্ট (TBP)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জানা গিয়েছে, “বালুচিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে টানা ছয় দিন ধরে চলা সমন্বিত নগর যুদ্ধের পর এই ঘোষণা করা হয়েছে।”

    নির্ধারিত লক্ষ্য সফল ভাবে অর্জিত হয়েছে (Pakistan)

    বিএলএর মুখপাত্র (Pakistan) জীয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “এই অভিযান ৩১ জানুয়ারি ভোর ৫টায় শুরু হয়েছিল এবং ৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেছেন, “আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলি সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।” বালুচদের উপর পাকসেনা বহুদিন ধরে অত্যাচার করে বলে বারবার অভিযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লুণ্ঠনেরও অভিযযোগে সোচ্চার হয়েছে বেলুচরা।

    অভিযানে বিরাট ধাক্কা

    জীয়ান্দ বালুচ জানান যে, এই অভিযান বালুচিস্তানের (Pakistan) ১৪টি শহরে বিস্তৃত ছিল এবং এটি ছিল সংগঠনের ইতিহাসের ‘বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সংগঠিত সামরিক অভিযান’ (Operation Herof)। পাকসেনার কাছে বালুচদের এই অভিযান বিরাট ধাক্কা।

    শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ

    বিএলএ সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বেশ কিছু নিরাপত্তা চৌকি, সামরিক ঘাঁটি এবং শহরাঞ্চলের (Pakistan) কিছু অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। কোনও কোনও শহরে তারা টানা ছয় দিন অবস্থান করে পাকিস্তানি সেনা বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

    ক্ষয়ক্ষতি

    বিএলএ দাবি করেছে, এই অভিযানে পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং পুলিশের ৩৬২ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, বিএলএর ৯৩ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়াও ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১০ জন বালুচ (Operation Herof) হওয়ায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    অস্ত্র ও স্থাপনা

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ডজনখানেক সামরিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পাকসেনার (Pakistan) পাল্টা অভিযানের আরও বড়সড় মোকাবিলা এবং প্রতিহত করতে সক্ষম।

    অভিযানের লক্ষ্য

    বিএলএ মুখপাত্র জীয়ান্দ বালুচ এই অভিযানের তিনটি প্রধান লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন: ১. আমাদের প্রমাণ করা যে বালুচ যোদ্ধারা যে কোনও সময় এবং যে কোনও স্থানে পাকিস্তানি শহরগুলিতে আঘাত হানা ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

    ২. সাধারণ বালুচ জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

    ৩. বালুচিস্তানে পাকিস্তানি (Pakistan) বাহিনীর একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো।

    আন্তর্জাতিক সংস্থা যেন সাহায্য না করে

    বিএলএ মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, বিদেশি কোম্পানি বা বিনিয়োগকারীরা যেন পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে মিলে বালুচিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে লিপ্ত না হয়; অন্যথায় তাদের উপস্থিতিকে সামরিক কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। বিবৃতিটি বালুচ জনগণকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করা হয় এবং বলা হয় যে এটি ‘কেবল শুরু’। আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছে বিএলএ।

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু-বিদ্বেষ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু-বিদ্বেষ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে (Roundup Week)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য, সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধরনের অপরাধগুলির একটি ছবি দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে। তাতে অন্তত বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হবেন।

    হিন্দুফোবিয়া (Hindus Under Attack)

    বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রবণতার প্রভাবকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার মাধ্যমে। বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চির প্রধান ও ইন্ডি (INDI) জোটের সাংসদ তিরুমাভালাভান সম্প্রতি এক জনসভায় চোল, পান্ড্য, চের ও পল্লব-সহ প্রাচীন তামিল রাজাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি তামিল সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অবক্ষয়ের জন্য এই রাজাদের দায়ী করেন এবং তাঁদের প্রতি প্রচলিত শ্রদ্ধা দেখাতে চাননি (Hindus Under Attack)। উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলার গজরৌলা এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সে নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন করে ইনস্টাগ্রামে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে এক তরুণী হিন্দু মহিলাকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন নির্যাতন করে, যার ফলস্বরূপ গর্ভধারণ ও পরে গর্ভপাত ঘটে। অভিযুক্তের নাম সাহিল (Roundup Week)।

    জোরপূর্বক ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে হিন্দু নারী ও নাবালিকাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জেনেছে, স্থানীয় জিমের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। দুই মহিলার অভিযোগ, জিম প্রশিক্ষকরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছিল। মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার দামজিপুরা এলাকায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে গরুকে ধর্ষণের অভিযোগে দোকান মালিক আবু খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্নাটকের ইয়াদগিরি জেলার গুরমাটকাল তালুকের পুটপাক গ্রামে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও হিন্দুবিরোধী হিংসার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কেশরী ধ্বজের ছবি পোস্ট করায় এক যুবক ও তাঁর মাকে কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল আক্রমণ করে। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার ভগবান নগর কলোনিতে প্রায় ৪০টি হিন্দু পরিবার একযোগে বাড়িতে ‘বিক্রয়ের জন্য’ পোস্টার লাগিয়ে দেয়। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় মুসলিমদের দ্বারা ধারাবাহিক হয়রানি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জেরেই বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছেন তাঁরা। এই অভূতপূর্ব ঘটনার ফলে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে (Roundup Week)। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার ডোড্ডাবল্লাপুরার শান্তি নগরে একটি মন্দিরে সকালের সুপ্রভাত স্তোত্র বাজানো নিয়ে এক ইসলামপন্থী যুবকের আপত্তিকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    এ তো গেল দেশের কথা, এবার দেখে নেওয়া যাক বিদেশের ছবিটাও। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ নিরবচ্ছিন্ন এবং ধীরে ধীরে দেশটি থেকে এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, নারী নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য – এ সবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার কৌশল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী এক হিন্দু ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা গোটা বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বলে মনে করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসে একটি মন্দির উদ্বোধন করেন। প্রস্তাবিত মন্দির স্থলে শৌচাগার নির্মাণের প্রতিবাদে সারাদিনব্যাপী আন্দোলনের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে মধ্যরাতে সেনা অভিযান

    কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার ধানপুর ইউনিয়নের একটি হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে মধ্যরাতে সেনা অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ৩১ জানুয়ারি রাত প্রায় ১টায় সেনাবাহিনী বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর শারীরিক নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে (Roundup Week)। বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের মূলে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্তরে এক সূক্ষ্ম হিন্দুবিরোধী মনোভাব কাজ করে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে বাজি নিষেধাজ্ঞা তার একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবের ওপর একতরফা বিধিনিষেধ ও যুক্তির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পর এবার মালয়েশিয়ার (Malaysia) প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দু’দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সেখানেই দেখা গেল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে একটি কমিউনিটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান। যাত্রাপথের একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই মুহূর্তটি ভারত ও মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে দৃঢ় পারস্পরিক সম্পর্কের উদযাপন।”

    প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা (PM Modi)

    এর আগে, বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিশেষ সৌজন্য প্রদর্শন করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে স্বাগত জানান। এই আন্তরিক অভ্যর্থনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি এতে গভীরভাবে আপ্লুত এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো’ সেরি আর রামানন এবং উপ-বিদেশমন্ত্রী দাতো’ লুকানিসমান বিন আওয়াং সাউনি। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) বিবৃতি অনুযায়ী, আগমনের পর ভারত ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় (Malaysia)।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিদেশমন্ত্রক জানায়, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’, ‘ভিশন মাহাসাগর’ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘সেলামাত দাতাং মোদিজি’ শীর্ষক একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়রা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের নানা ধারার সমন্বয়ে একটি বৃহৎ দলগত নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তোলারও প্রচেষ্টা থাকবে (PM Modi)।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ৭–৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সফরের মূল লক্ষ্য ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত–মালয়েশিয়া ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ভারতীয় সম্প্রদায় ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করবেন (Malaysia)। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয়বার মালয়েশিয়া সফর, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠন (Bangladesh Election) হেফাজত-ই-ইসলাম সেই দেশটির প্রধান ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা (Jihad) করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, “মুসলমানদের জন্য জামায়াতে-ই-ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম (ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ)।”

    হেফাজতে-ই-ইসলামের বক্তব্য (Bangladesh Election)

    চট্টগ্রাম শহরে বিএনপির এক প্রার্থীকে সমর্থন করে হেফাজতে-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “আমার কাছে এটি কোনও নির্বাচন নয়। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি জেহাদ।” তিনি জানান, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হেফাজতের মৌলিক আদর্শগত ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে এবং জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাবুনগরীর ভাষায়, “এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতেই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব মুসলমানের জন্য জামায়াতে ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম এবং কোনওভাবেই তা বৈধ নয়। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে। তারা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।” বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটি বর্তমানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, আগে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা জোটে আপত্তি না থাকলেও হেফাজত এখন জামায়াতের বিরোধিতা শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোটই নয়, একই সঙ্গে জনগণ ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও ভোট দেবেন। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত মহম্মদ ইউনূস সরকার দাবি করেছে, এই চার্টার ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মে’র সঙ্গে (Bangladesh Election) যুক্ত।

    কেন জেহাদ

    প্রশ্ন হল, কেন হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে? হেফাজতের আমির বাবুনগরীর এই বক্তব্য আসে কয়েক মাস আগে জামায়াতকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেওয়ার পর (Jihad)। ২০২৫ সালের অগাস্টে বাবুনগরী বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামি একটি ভণ্ড ইসলামি দল। এটি খাঁটি নয়। শুধু আমি নই, আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমরাও এ কথা বলেছেন। জামায়াত মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করে, আর আমরা মদিনার ইসলাম অনুসরণ করি। মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করলে ইমান (সম্মান) ঝুঁকির মুখে পড়ে।” জামায়াতে ইসলামি আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক-আদর্শিক ইসলামের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, যেখানে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয় এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে অবিচ্ছেদ্য ধরা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াত বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মদিনার ইসলাম’ নৈতিক সংস্কার, সামাজিক ঐকমত্য, বহুত্ববাদী সহাবস্থান এবং প্রফেটিক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা, যেখানে শাসনব্যবস্থা কোনও দলীয় মতবাদের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক চুক্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যেমন মদিনা সনদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশভিত্তিক একটি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামপন্থী সংগঠন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এবং চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এর সদর দফতর (Bangladesh Election)।

    অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও, ১৩ দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আইন ও সমাজব্যবস্থাকে ‘ইসলামিকরণে’র জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যেই ইউনূস হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। হাসিনা সরকারের শেষ দিকেও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা চলছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পড়েন হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহার (Jihad)। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাকে হেফাজত-সহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘অ-ইসলামিক’ বলে আখ্যা দেয় এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে পথে নামার হুমকিও দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হেফাজতের এক কর্মী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তাঁর শতাধিক অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসকনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে (Bangladesh Election)।

    দেশব্যাপী বনধ্

    ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজত দেশব্যাপী বনধ ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং সিএএ কার্যকরের পর হেফাজত ভারতকে ‘উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে একাধিক সমাবেশ করে (Jihad)। সব মিলিয়ে ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কার্যত ‘কে প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে’—এই প্রশ্নের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। হেফাজত-জামায়তে বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইসলামের গভীর আদর্শগত ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে (Bangladesh Election)।

     

  • Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল আমেরিকা। রাশিয়ার তেল (Russian Oil) কেনার কারণে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেন, যেখানে বলা হয়েছে, “ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।”

    অতিরিক্ত শুল্ক কমাল আমেরিকা (Donald Trump)

    এক্সিকিউটিভ অর্ডার অনুযায়ী, রাশিয়ান তেল কেনার কারণে আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্ক শনিবার ভোর ১২টা ০১ মিনিট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ওই অর্ডারে আরও বলা হয়েছে, ভারত মার্কিন জ্বালানি পণ্যের ক্রয় বাড়াতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে রাজি হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো চুক্তিতে অঙ্গীকারও করেছে (Donald Trump)। এই এক্সিকিউটিভ পদক্ষেপটি আসে কয়েক দিন পর, যখন ট্রাম্প ভারতীয় রফতানির ওপর শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। সেই সময় তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    হোয়াইট হাউসের তরফে যৌথ বিবৃতি

    এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এই কম শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা (Russian Oil)।শুক্রবার হোয়াইট হাউসের তরফে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে ভারত আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কিনতে চায় (Donald Trump)। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের শেষ দিকে এই শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ।

    শুল্ক শিথিল করার কারণ

    রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, তারই প্রেক্ষাপটে শুল্ক শিথিল করা হল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেল কেনা পরোক্ষভাবে এমন একটি সংঘাতকে সমর্থন করছে, যার অবসান চায় আমেরিকা (Donald Trump)। এই চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনেরও ইঙ্গিত দেয় বলেই দাবি আন্তার্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সম্পর্ককে একবার “আমার অন্যতম সেরা বন্ধুত্ব” বলে বর্ণনা করেছিলেন।এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলারের মতে, সংশোধিত ১৮ শতাংশ শুল্ক হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের সামান্য হলেও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। কারণ, একই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। প্রশ্ন হল, কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করলেন (Russian Oil)? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন কারণ ভারত রাশিয়ান তেল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির অংশ (Donald Trump)।

  • India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে নয়াদিল্লির যোগ নিয়ে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” ও “অর্থহীন” বলে খারিজ করল ভারত।

    কী বলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক?

    মর্মান্তিক বিস্ফোরণে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করলেও, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) পাকিস্তানের “ঘরে তৈরি সমস্যাগুলি” নিয়ে সমালোচনা করে। প্রকাশিত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “আজ ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া বোমা হামলা নিন্দনীয় এবং এতে যে প্রাণহানি হয়েছে, ভারত তার জন্য শোক প্রকাশ করছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুঃখজনক যে, নিজেদের ঘরে বিদ্যমান সমস্যাগুলির গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার বদলে পাকিস্তান অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে।” পাকিস্তানের এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “ভারত এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে, যা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনই অর্থহীন।”

    ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে পাকিস্তানের দাবি

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বক্তব্যের পর, যিনি কোনও প্রমাণ না দিয়েই দাবি করেন যে এই হামলার সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের যোগ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে আসিফ বলেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছে—এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে আঁতাত প্রকাশ পাচ্ছে।” সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইসলামাবাদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজা আল-কুবরা মসজিদ তথা ইমামবারগাহে (ইমামবাড়া) ঘটে।

    আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া

    ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগ থাকার পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুলও। তারা এই অভিযোগকে আগাম সিদ্ধান্তমূলক এবং প্রমাণবিহীন বলে উল্লেখ করেছে বলে আফগান সংবাদসংস্থা খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে। তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খোয়ারাজমি বলেন, “পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অতীতেও বালোচিস্তানে হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন।”

    খোয়ারাজমি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর এত দ্রুত কীভাবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বাহ্যিক যোগসূত্রের কথা বলতে পারে, অথচ আগেভাগে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে জানান, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে না এবং নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ইসলামিক ও মানবিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করে। আফগান মুখপাত্র পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দোষ চাপানোর রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এর পরিবর্তে গঠনমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

  • Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার তারলাই ইমামবাড়ায় শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জুম্মার নামাজের জন্য স্থানীয় মুসলিমরা ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন। সেই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে।

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণ…

    ইমামবাড়া হল শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় শোকানুষ্ঠানের স্থান, যেখানে কারবালার ঘটনার স্মরণে তারা সমবেত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেলের সময় উপাসনালয়ের প্রধান ফটকে এক আত্মঘাতী জঙ্গী বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবেশপথে দায়িত্বরত প্রহরীরা হামলাকারীকে আটকাতে সক্ষম হন এবং তাকে মূল হলের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেন, যেখানে উপাসকেরা সমবেত ছিলেন। তা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফটকের কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং রাস্তার ওপর চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এবং উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা…

    বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ঘটনার পর ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এক পুলিশ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে কতজন নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পিআইএমএস ও পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আহত রোগী সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী…

    এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বোমা হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বালুচিস্তান প্রদেশে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযান শেষ করেছে। ওই অভিযানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (BLA) সঙ্গে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ নিহত হয় বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীটি একযোগে একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলা চালায়, সাময়িকভাবে কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায়।

    ছয় মাসে দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণ…

    গত ছয় মাসের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদ জেলা আদালত চত্বরে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনাকেও আত্মঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত বছরের ওই বিস্ফোরণটি জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে একটি পার্ক করা গাড়িতে ঘটে, যখন সেখানে কর্মব্যস্ত সময় চলছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর প্রভাব ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়। এতে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    আগেরবার আফগানিস্তানকে দায়ী করেছিল পাকিস্তান

    সে সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে বলেন, দেশটি কার্যত “যুদ্ধাবস্থায়” রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছি। যারা মনে করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত বা বেলুচিস্তানে লড়াই করছে, তাদের জন্য ইসলামাবাদ জেলা আদালতের আত্মঘাতী হামলাই সতর্কবার্তা। এটি পুরো পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনী প্রতিদিন জনগণের নিরাপত্তার জন্য আত্মত্যাগ করছে।” উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক মাস পরই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

LinkedIn
Share