Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে। এই ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য চোকাতে হবে। এর জবাবে ইরানি (Iran) ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান।” এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সিনিয়র কমান্ডার সারদার হোসেইন নেজাত। উল্লেখ্য, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সতর্কবার্তা।

    ইরান-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের মানচিত্র (Iran)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটিতে ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের একটি মানচিত্র সংযুক্ত ছিল। সেখানে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে দৃশ্যত চিহ্নিত করে সম্ভাব্য দুর্বল অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ইরান পাকিস্তানকে টার্গেট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানে প্রবেশের রুটও দেখানো হয়েছে এবং সীমান্ত বরাবর সম্ভাব্য দুর্বল স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে (Pakistan)। সারদার হোসেইন নেজাত বলেন, “আমাদের নির্ভুল তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের ওপর হামলায় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান খুব শিগগিরই এর মূল্য দেবে এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির মতো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না।”

    ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    প্রসঙ্গত, ১ মার্চ পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই-এর মৃত্যু হয়। তারপরেই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেয় এবং অন্তত ২৩ জন নিহত হন। করাচিতে একদল বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন (Iran)। পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সবচেয়ে গুরুতর হিংসার ঘটনা সেখানেই ঘটে। কিছু যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে (Pakistan)। পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাঈদ জানান, অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Iran)।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পাকিস্তান যে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেই ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের চাপের মুখে রয়েছে। যদি ইরান ইসলামাবাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে (Iran)।

     

  • Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল (Israel) বহু বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Khamenei) ও তাঁর নিরাপত্তা দলের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল, তাঁকে হত্যা করার অনেক আগে থেকেই। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। জানা গিয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরাই বছরের পর বছর হ্যাক করা হয়েছিল। সেগুলির ভিডিও ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আভিভ ও দক্ষিণ ইজরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হত।

    নজরদারির খুঁটিনাটি (Israel)

    সূত্রের খবর, একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরার কোণ বিশেষভাবে কার্যকর ছিল—এর মাধ্যমে দেহরক্ষীরা কোথায় তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করতেন, তা নির্ধারণ করা যেত এবং পাস্তুর স্ট্রিটের নিকটবর্তী কম্পাউন্ডের ভেতরের রুটিন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খামেনেইয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর বিস্তারিত ডসিয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এতে তাঁদের ঠিকানা, ডিউটির সময়সূচি, কর্মস্থলে যাওয়ার রুট এবং কোন কর্মকর্তাকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন—এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গোয়েন্দাদের ভাষায় এটি হল, “প্যাটার্ন অব লাইফ”। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিভিন্ন উপাদানও ইজরায়েল বিঘ্নিত করেছিল। ফলে ফোনে কল করলে সেটি ‘ব্যস্ত’ দেখাত এবং খামেনেইয়ের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সম্ভাব্য সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারতেন না (Israel)।

    ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, হামলার অনেক আগেই আমরা তেহরানকে ঠিক যেমনভাবে জেরুজালেমকে চিনি, তেমনভাবেই চিনতাম।” তিনি জানান, ইজরায়েলের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের নিয়োগ করা মানবসূত্র (Khamenei) এবং সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে একটি ঘন ও বিস্তৃত ইন্টেলিজেন্স মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। পত্রিকাটি আরও জানায়, ইজরায়েল ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালিসিস’ নামে পরিচিত একটি গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করেছিল, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র ও নয়া লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা যায়, অন্তত এমনই জানিয়েছেন এই পদ্ধতির ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি (Israel)।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’জন জানান, হামলার দিন সকালে খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকরা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যার মধ্যে হ্যাক করা ট্রাফিক ক্যামেরা ও অনুপ্রবেশ করা মোবাইল নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল (Khamenei)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পক্ষেরও একটি অতিরিক্ত মানবসূত্র ছিল, যা খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হানা হিন্দু মন্দিরে, ভাঙচুর করা হল প্রতিমা

    Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হানা হিন্দু মন্দিরে, ভাঙচুর করা হল প্রতিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ফের ভাঙচুর করা হল হিন্দুদের প্রতিমা (Kali Murti Vandalised)। দক্ষিণ বাংলাদেশের শতাব্দীপ্রাচীন একটি মন্দিরে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করা হয় মা কালীর প্রতিমা। পটুয়াখালি জেলার এই ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে হানা (Bangladesh)

    মন্দিরটি সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূবনসাহার কাছারিতে অবস্থিত। জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে রাত প্রায় সাড়ে ৯টা নাগাদ পটুয়াখালির বাউফল উপজেলার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় একদল ব্যক্তি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে থাকা একটি কালী মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শতাধিক বছরের পুরোনো এই মন্দিরটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙচুরের এই ঘটনায় হিন্দুদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন (Bangladesh)।

    পুলিশের বক্তব্য

    হামলার পর বাউফল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নথিভুক্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতির মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ এও জানিয়েছে, সিআইডির একটি বিশেষজ্ঞ দল মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবে। তারা নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালাবে। এটি অপরাধীদের শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে (Kali Murti Vandalised)। তদন্তের ফল ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Bangladesh)। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি কালী মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

     

  • Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে হিংসার ঘটনায় পাকিস্তানে (Pakistan) অন্তত ৪৪ জন নিহত এবং ১৩৭ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। তার পরেই রবিবার পাকিস্তানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিক ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গিয়েছে হতাহতের এই সংখ্যা। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় গিলগিট-বালটিস্তানের স্কার্দু ও গিলগিটে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটির কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    ১৪৪ ধারা জারি (Iran)

    পাঞ্জাব, সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ১ মার্চ থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মিছিল এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে (Iran)। রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীরা সরকারি দফতর ও বিদেশি মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে প্রশাসন ‘রেড জোন’ ও কূটনৈতিক এনক্লেভের সব প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কার্দু ও গিলগিটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন শিয়া বিক্ষোভকারী নিহত হন। ইসলামাবাদে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে নিহত হন আরও ১২ জন। পেশাওয়ারে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালালে মার্কিন মেরিন প্রহরীরা গুলি চালায়। এতে ১১ জন নিহত হন বলে খবর।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত

    শিয়া বিক্ষোভকারীরা করাচি ও লাহোরে আমেরিকার কূটনৈতিক দফতরগুলিকেও টার্গেট করে এবং গিলগিট-বালটিস্তানে রাষ্ট্রসংঘ মিশনের কাছাকাছি সমাবেশ করে। ইসলামাবাদ, স্কার্দু ও করাচির হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, অন্তত ১৮ জন গুরুতর জখম বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন (Iran)। খামেইনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভের জেরে এই অস্থিরতা শুরু হয়। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দ্রুত সংঘর্ষের আকার নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বাঁধে জনতার। দক্ষিণের করাচি থেকে উত্তরের গিলগিট-বালটিস্তান পর্যন্ত পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গিয়েছে (Pakistan)। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে তাদের কনস্যুলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ২ মার্চ ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটগুলিতে সব ভিসা সাক্ষাৎকার ও আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে (Iran)।

  • Afghan Taliban: ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর-এ, পাকিস্তানের সেই নূর খান এয়ারবেসে হামলা চালাল আফগানিস্তান

    Afghan Taliban: ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর-এ, পাকিস্তানের সেই নূর খান এয়ারবেসে হামলা চালাল আফগানিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পর আফগানিস্তান। পাকিস্তানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটি সোমবার হামলা চালাল আফগান তালিবান বাহিনী। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় সমন্বিত বিমান অভিযানের অংশ হিসেবেই রাওয়ালপিন্ডির এই বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

    নূর খান বিমানঘাঁটিটি রাজধানীইসলামাবাদ থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত এবং পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।  উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এই ঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই হামলার পর থেকেই ঘাঁটির পুনর্গঠন ও মেরামতির কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে সংস্কারের কাজ জোরদার করা হয়েছিল। তার মধ্যেই হামলা চালাল তালিবান।

    সোমবারের হামলার পর ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নূর খান এয়ারবেসের পাশাপাশি, পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দফতরকে টার্গেট করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার (Afghan Taliban)। আফগান তালিবানের দাবি, তাদের বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ও সামরিক দফতরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আফগান তালিবানের আধিকারিকরা জানান, বালুচিস্তানের কোয়েটায় ১২তম ডিভিশনের সদর দফতর এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ এজেন্সিতে খোয়াজাই সামরিক শিবিরের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। আফগানিস্তান জানিয়েছে, কাবুল, বাগরাম এবং অন্যান্য স্থানে পাকিস্তানের আগের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    আফগানিস্তানের বক্তব্য (Afghan Taliban)

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, আফগান বিমান বাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দফতরগুলি লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। যদিও পাকিস্তানের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা ৪১৫ জন আফগান তালিবান সদস্যকে হত্যা করেছে। জখম হয়েছে ৫৮০ জনেরও বেশি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারার রবিবার বলেন, এই পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর প্রতিক্রিয়ার অংশ (Pakistan)। পাকিস্তান বৃহস্পতিবার রাতে ‘গজব লিল হক’ নামের অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান সদস্যরা ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে ৫৩টি জায়গায় হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় দেশের ভেতরের সামরিক দফতরগুলিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল (Afghan Taliban)।

    পাকিস্তানের দাবি

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তারার জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ১৮২টি আফগান চৌকি ধ্বংস করেছে এবং আরও ৩১টি চৌকি দখল করেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় ১৮৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের ৪৬টি জায়গায় সফল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, আফগান তালিবানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে। সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার ছড়িয়ে পড়া এমন খবর নস্যাৎ করে দেন তিনি। এদিকে, আফগান পক্ষের দাবি, তারা একটি পাকিস্তানি (Pakistan) যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে পাক কর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন (Afghan Taliban)।

     

  • Israel: মধ্যপ্রাচ্য আরও ছড়াল সংঘাত, ইজরায়েলে রকেট-হানার জবাবে বেইরুটে বিমান হামলা তেল আভিভের

    Israel: মধ্যপ্রাচ্য আরও ছড়াল সংঘাত, ইজরায়েলে রকেট-হানার জবাবে বেইরুটে বিমান হামলা তেল আভিভের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ল সোমবার। এদিন ইজরায়েল (Israel) বেইরুট এবং লেবাননের (Lebanese Territory) অন্যান্য অংশে হিজবুল্লা-সংশ্লিষ্ট টার্গেটে বিমান হামলা চালায়। লেবাননের ভূখণ্ড থেকে উত্তর ইজরায়েলের দিকে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরেই এই হামলা চালানো হয়।

    প্রসারিত হচ্ছে রণভূমি (Israel)

    এই হামলা এবং পাল্টা হানার জেরে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে রণভূমের এলাকা।  সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলিবিনিময় দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন যৌথ সামরিক অভিযানের আকার নিয়েছে। ইজরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও বিস্তৃত সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। ইজরায়েলি বিমানবাহিনী (IAF)-এর দাবি, বেইরুট এলাকায় হিজবুল্লার সদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলের একাধিক পোস্টে ইজরায়েলি বায়ুসেনা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননেও হিজবুল্লার এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। আইএএফ জানিয়েছে, “বৈইরুট এলাকায় হিজবুল্লা জঙ্গি সংগঠনের বর্ষীয়ান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার এক জঙ্গি চাঁইকেও আঘাত করেছে আইডিএফ। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

    প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে একাধিক প্রোজেক্টাইল ইজরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এরই কয়েকটি পড়েছিল খোলা জায়গায়। অনেক ক্ষেত্রেই সাইরেন বাজানো হয়নি বলে অভিযোগ। আইএএফ এক পোস্টে জানিয়েছে, “দেশের উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কবার্তা জারি হওয়ার পর বিমানবাহিনী লেবানন থেকে ছোড়া একটি প্রোজেক্টাইলকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। খোলা এলাকায় পড়ে কয়েকটি। যদিও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি।” এর আগে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছিল যে লেবাননের মাটি থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এটি শনাক্ত হওয়ার পর উত্তর ইজরায়েলের (Israel) বিভিন্ন অংশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে (Lebanese Territory)।

    হিজবুল্লার টার্গেটে জোরালো জবাব

    এদিকে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লার টার্গেটে জোরালো জবাব দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লা ইজরায়েলি অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “ইরানি জঙ্গি শাসনের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লা ইজরায়েল ও তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়েছে। আইডিএফ এই অভিযানে হিজবুল্লার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং সংগঠনটিকে ইজরায়েলের পক্ষে হুমকি হয়ে উঠতে বা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষতি করতে দেবে না।” পৃথক এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে (Israel), সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হিজবুল্লা দায়ী এবং বৃহত্তর সংঘাতের জন্য তারা প্রস্তুত। “রোরিং লায়ন” অভিযানের অংশ হিসেবে বাহিনী এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।

    আইডিএফের বক্তব্য

    আইডিএফ জানিয়েছে, “উত্তর ইজরায়েলের দিকে প্রোজেক্টাইল নিক্ষেপের জবাবে আইডিএফ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লার টার্গেটে আঘাত হানছে। হিজবুল্লা ইরানি শাসনের হয়ে কাজ করছে, ইজরায়েলি অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং লেবাননকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে (Lebanese Territory)। ‘রোরিং লায়ন’ অভিযানের অংশ হিসেবে আইডিএফ সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, এই ঘটনাবলী এমন একটা সময় ঘটছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি এবং তাঁর পরিবারের (Israel) সদস্যরা নিহত হয়েছেন। ওই হামলার পর ইরান পাল্টা হিসেবে একাধিক আরব দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে খবর।

     

  • US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার আবহে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলাকে তারা “সাপের মাথা কেটে ফেলা” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    “সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি”

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কিন নৌজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর একটি শহুরে কম্পাউন্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, “গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ১০০০-এরও বেশি মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে৷ গতকাল, একটা বড় বিমান অভিযানে সেই সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি।” সেন্টকম আরও দাবি করেছে, “আমেরিকার সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং এখন আইআরজিসি-এর আর কোনও সদর দফতর নেই।” বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থ—

    • ● ইরানের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আঘাত
    • ● মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল
    • ● অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমান হামলা ও বিমান অভিযানের সাইরেনের খবর মিলছে। প্রতিশোধমূলক অভিযানে তেহরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইযের মৃত্যু তিনটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে—

    • ● ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
    • ● আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আরও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া
    • ● সংঘাতকে “রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র” যুদ্ধের স্তরে নিয়ে যাওয়া

    এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে অভিযান, বললেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মজুত আছে।” আরও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি শুরু থেকেই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার বদলে কৌশলগত চাপে রাখতে চাইছে। এর আগে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। তবে কবে ও কার সঙ্গে এই আলোচনা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    ইরান সরকার জানিয়েছে, আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ড “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান।” ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের নেপথ্যের কারিগরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।” এদিকে আইআরজিসি-ও “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, “আজ আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।” বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

  • Ayatollah Alireza Arafi: ইরানের রাশ এবার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির হাতে, কে তিনি জানেন?

    Ayatollah Alireza Arafi: ইরানের রাশ এবার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির হাতে, কে তিনি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ করেছে (Ayatollah Alireza Arafi)। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেইনি নিহত হওয়ার একদিন পর (Interim Supreme Leader)। উল্লেখ্য, ইরান তাদের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে জরুরি নেতৃত্বের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি (Ayatollah Alireza Arafi)

    আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই-এর সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের নেতৃত্ব দেবেন। ৬৭ বছর বয়সী আরাফি ইরানের একজন প্রবীণ ধর্মীয় নেতা। তিনি পূর্বে ইরানের ইসলামিক সেমিনারি নেটওয়ার্কের প্রধান ছিলেন এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (Ayatollah Alireza Arafi)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি। তেহরান এই তথ্য নিশ্চিত করার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ছিল ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানালেও, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষমতা দখলের আশায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে (Interim Supreme Leader)।

    নয়া ইরান

    এদিকে, নয়া ইরান গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিরোধী নেত্রী মরিয়ম রাজাভি এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি পৃথক বার্তায় ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যদিও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট করে দেন। নয়া নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ইসলামি আইনজ্ঞকে (Interim Supreme Leader) নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে। সেই মতো ওই পদে (Ayatollah Alireza Arafi) আপাতত বসানো হল আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।

     

  • Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। ওই দুই দেশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। চিন (China) থেকে সম্প্রতি সংগ্রহ করা এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করেছিল, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এর আগে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময়ও এইচকিউ-৯বি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানে এর দুর্বল প্রদর্শনের পর এখন সামরিক বিশ্লেষকরা এইচকিউ-৯বি-এর সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

    আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা (Iran)

    যদিও এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এর নকশাগত ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবুও এটাও সম্ভব যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্মিলিত বিমানশক্তি এইচকিউ-৯বি সমর্থিত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে চাপে ফেলে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে যে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা হয়তো এই আক্রমণের তীব্রতা সামাল দিতে পারেনি। চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (CASIC) দ্বারা উন্নয়নকৃত এইচকিউ-৯বি মূলত রাশিয়ার এস-৩০০পিএমইউ এবং আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হলেও পরে এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। এটি প্রথম ২০০৬ সালে পরীক্ষা করা হয় এবং গত এক দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে (Iran)।

    লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার এবং এটি ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা (China) পর্যন্ত উঠে উচ্চ-উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। সক্রিয় রাডার হোমিং এবং প্যাসিভ ইনফ্রারেড সিকার প্রযুক্তির কারণে এটি স্টেলথ বিমান শনাক্ত ও আঘাত করতে কার্যকর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি একই সঙ্গে ৬-৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। বেইজিং, তিব্বত এবং দক্ষিণ চিন সাগর অঞ্চলে এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছে। এই এলাকাগুলি চিনের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অর্থাৎ, এই ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি প্রধান স্তম্ভ (Iran)।

    ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তি

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে ইরান তার সামরিক ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়। জানা গিয়েছে, চিনের সঙ্গে ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এইচকিউ-৯বি জোগাড় করে। ২০২৫ সালের সংঘাতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এস৩০০পিএমইউ-২ দুর্বল পারফরম্যান্স দেখানোর পর এটি ছিল ইরানের বড় আপগ্রেড (China)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি ছিল দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা স্তর। এর সঙ্গে সহায়ক হিসেবে ছিল এস-৩০০পিএমইউ এবং ব্যাভার-৩৭৩, খোড়দাদ -১৫ ও রাড, এবং স্বল্প-পাল্লার টর-এম২, প্যান্টসার-এস১, জলফাকার এবং কৌশলগত এমএএনপিএডিএস ক্ষেপণাস্ত্র। সম্ভবত এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে, যেমন নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স, ফোরদো সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং তেহরান ও ইসফাহানের নিকটবর্তী বিমানঘাঁটি।

    যৌথভাবে হামলা

    সপ্তাহ ও মাসব্যাপী উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথভাবে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি, রাজধানী তেহরান-সহ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Iran)।পাল্টা হামলা ও প্রতি-হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে (China)। ইরান সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন মিত্র কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকেও টার্গেট করেছে—এমন বার্তা দিতে যে শত্রুপক্ষের পাশে দাঁড়ালে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, এবং তেহরান তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেইনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্ট ব্যক্তিদের একজন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে (Iran)।

     

  • Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তথা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ইরান জুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে চলা কট্টর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটার আশায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। বিশেষ করে ইরানের মহিলারা এই পরিবর্তনকে তাঁদের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    দেশজুড়ে উদযাপন (Ayatollah Khameneis)

    শিয়া ধর্মগুরু খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুকে ঘিরে তেহরান-সহ ইরানের প্রধান শহরগুলিতে মানুষ আতশবাজি ফাটিয়ে, মিষ্টি বিলি করে আনন্দ প্রকাশ করছেন। গত শনিবার মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় খামেইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এই উল্লাস শুরু হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে তাঁদের বাড়ির ছাদ থেকে “স্বৈরাচারী শাসকের পতন হোক” বলে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যে খামেইনির ছবি, মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    নারীদের প্রতিবাদ ও জয়

    ইরানের কারাজ, বেসাত, ফুলাদ, বোরাজ্জন, মামাসানিটে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক হামলা হলেও নারীরা পতাকা নিয়ে মেতে উঠেছেন আনন্দে। এই উল্লাস উদযাপনের অগ্রভাগে রয়েছেন ইরানের সাধারণ নারীরা। অনেক নারী জনসমক্ষে তাঁদের হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে দীর্ঘদিনের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ (Woman, Life, Freedom) স্লোগানটি আবারও তেহরানের রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁদের মতে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু মানে কয়েক দশকের লিঙ্গবৈষম্য ও নিপীড়নের সমাপ্তি।

    আর্ন্তজাতিক প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসে থাকা ইরানিরাও লন্ডন, প্যারিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় নেমে নেচে-গেয়ে আনন্দ করছেন। তাঁরা একে “ইরানের দ্বিতীয় জন্ম” হিসেবে অভিহিত করছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান

    আমেরিকা এবং ইজরায়েল অপারেশন রোইয়ারিং লায়ন এবং অপারেশন এপিক ফিউড়ি নামে যৌথ অভিযান চালায়।  যদিও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়ের সামনে তারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু কিছু সামরিক সদস্য সাধারণ মানুষের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন বলেও সূত্রের খবর।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেইনির এই আকস্মিক বিদায় ইরানে এক বিশাল ক্ষমতাশূন্যতা তৈরি করেছে। একদিকে যেমন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই জোয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পথে পা বাড়াতে পারে। আয়াতুল্লাহ খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক নেতার প্রস্থান নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী ধর্মতান্ত্রিক শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রাজপথ এখন পরিবর্তনের গানে মুখরিত, যেখানে সাধারণ মানুষ একটি নতুন ও মুক্ত ইরানের স্বপ্ন দেখছেন।

LinkedIn
Share