Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৭ রানে ৮ উইকেট নয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ভুটানের সোনম ইয়েশি। গত শুক্রবার ক্রিকেট দুনিয়ার নজর যখন ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অ্যাশেজ সিরিজের টেস্টে তখনই বাইশ গজে নয়া ইতিহাস রচনা করলেন ভুটানের তরুণ। নিঃশব্দে মায়ানমারের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়েন ২২ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজির ছিল মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুসের দখলে। ২০২৩ সালে চিনের বিরুদ্ধে তিনি ৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

    সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণি

    চলতি বছরের শুরুতে বাহরিনের আলি দাউদ ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ভুটানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে সকলকে ছাপিয়ে গেলেন সোনম। গোলফু আন্তর্জাতিক মাঠে টস জিতে ভুটানকে ব্যাট করতে পাঠায় মায়ানমার। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১২৭ রান তোলে। ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম চারটি বলের মধ্যে তিনটিতেই উইকেট তুলে নেন সোনম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে নেন চতুর্থ উইকেট। শেষ দুই ওভারে নেন আরও চারটি উইকেট। সোনমের ধাক্কায় মাত্র ৪৫ রানে শেষ হয়ে যায় মায়ানমারের লড়াই। ৮২ রানে জয়ী হয় ভুটান।

    অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন সোনম 

    ২০২২ সালের জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় সোনাম ইয়েশির। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে আসছেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রান খরচ করে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এখন পর্যন্ত খেলা ৩৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। ভুটান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) সহযোগী সদস্য। এই স্তরের বহু দেশের ক্রিকেটার এখনও অপেশাদার। তবে ভুটান ব্যতিক্রম। পুরুষ ও মহিলা জাতীয় দল মিলিয়ে ৩৬ জন ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় বেতন পান। বর্তমানে ভুটান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ নম্বরে, মায়ানমার রয়েছে ৯৫ নম্বরে।

     

     

     

     

     

     

  • India T20 World Cup Squad: টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা ভারতের, বাদ শুভমান, ফিরলেন রিঙ্কু-ইশান

    India T20 World Cup Squad: টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা ভারতের, বাদ শুভমান, ফিরলেন রিঙ্কু-ইশান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যটার সূর্যকুমারের ফর্ম নিয়ে চিন্তা থাকলেও, অধিনায়ক সূর্যকুমারের ওপরই ভরসা রাখল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আর তাই, আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বেই খেলবে ভারত।

    শনিবার, টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। তাতে সবচেয়ে বড় চমক, সহ-অধিনায়ক শুভমান গিলের বাদ পড়া। বেশ কিছু দিন ধরেই, ক্রিকেটের কনিষ্ঠ ফর্ম্যাটে রান পাচ্ছিলেন না শুভমান। সদ্যসমাপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজেও তেমনভাবে দাগ কাটতে পারেননি টেস্ট দলের অধিনায়ক। যে কারণে, তাঁর বাদ পড়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিলই। তাতে শিলমোহর দিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

    দলে জায়গা পেলেন যাঁরা…

    এদিনের মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দফতরে বৈঠকে বসে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচক কমিটি। ছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। বৈঠকের পর দল ঘোষণা বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, তাই দলে চার জন নিয়মিত স্পিনারকে রাখা হয়েছে। স্পিন বোলিং আক্রমণে রাখা হয়েছে দুই লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীকে। তাঁদের সঙ্গে অলরাউন্ডার কোঠায় আছেন অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ঘোষিত ১৫ জনের দলে ডাক পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইশান কিসান। সঞ্জু স্যামসনের বিকল্প ব্যাটার এবং বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। পেস বোলিং আক্রমণে অবধারিতভাবে আছেন জসপ্রীত বুমরা। তার সঙ্গে অর্শদীপ সিং ও হার্শিত রানাকে নেওয়া হয়েছে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবেকে।

    বিশ্বকাপের ঘোষিত ১৫…

    ভারতের দলটা এরকম: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), জশপ্রীত বুমরা, অর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), ওয়াশিংটন সুন্দর, ইশান কিসান (উইকেটকিপার), রিঙ্কু সিং।

    ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু বিশ্বকাপ

    ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ। যুগ্ম আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল ৮ মার্চ। গত বারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত প্রথম দিনই এই টুর্নামেন্টে তাদের অভিযান শুরু করছে। ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে প্রথম ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। বোর্ড জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই দলই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জানুয়ারিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে।

  • IPL Auction: রেকর্ড ২৫.২০ কোটি টাকায় ক্যামরেন গ্রিনকে কিনল কেকেআর, সঙ্গে একাধিক অনামীকেও

    IPL Auction: রেকর্ড ২৫.২০ কোটি টাকায় ক্যামরেন গ্রিনকে কিনল কেকেআর, সঙ্গে একাধিক অনামীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএলের (IPL) ইতিহাসে এখন সবথেকে দামি বিদেশি খেলোয়াড়। ২৫.২০ কোটি টাকায় ক্যামরেন গ্রিনকে কিনল কেকেআর। এর আগে ২৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় মিচেল স্টার্ককে কিনেছিল কেকেআর (KKR)। নিলামে এই টাকাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এবার স্টার্ককে ছাপিয়ে গেলেন গ্রিন। নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে দিয়েছে। আইপিএল-এ এই খবরে বিরাট শোরগোল পড়েছে।

    দুই দলের মধ্যেই বিরাট তোড়জোড় (IPL)

    গ্রিনকে কেনার বিষয় নিয়ে যে চড়া দাম উঠবে তাঁর অবশ্য আগে থেকেই একটা ইঙ্গিত ছিল। ছোট নিলামে যে অলরাউন্ডাররা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর তিনি। গ্রিনকে কিনতে কেকেআর (IPL) আর চেন্নাই সুপার কিংস দুই দলের মধ্যেই বিরাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। আন্দ্রে রাসেলকে আগেই ছেড়ে দিয়েছিল কলকাতা। চেন্নাই ছেড়ে দিয়েছিল স্যাম কারেনকে। তাই দুই দলের পেসার এবং অল রাউন্ডার দারুণ ভাবে প্রয়োজনীয় ছিল।

    দাম ক্রমেই উর্ধমুখী

    নিলামে দেখা গিয়েছিল গ্রিনের নাম বলার পরেই সবার আগে হাত তুলেছিল মুম্বই ইন্ডিইয়ান্স। যদিও ২ কোটি ৬০ লক্ষ দাম ওঠার পর মুম্বই কেটে পড়ে। এরপর দাম হাঁকে কেকেআর (KKR)। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছিল। এরপর ক্রমেই বাড়ছিল গ্রিনের দাম। ১৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দাম ওঠার পর রাজস্থানও সরে যায়। এরপর আসরে নামে চেন্নাই। তবে ২০২৩ সালের নিলামে ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় গ্রিনকে কিনেছিল মুম্বই। এই টাকায় ২০২৪ সালে তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। এবারে সেই টাকার অঙ্কও ছাপিয়ে যায়। ২০ কোটি পার হওয়ার পরপর বোঝা যাচ্ছিল বিরাট অঙ্কে গিয়ে ঠেকবেন। অবশেষে কেকেআর ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা হাঁকলে চেন্নাই থেমে যায়। গ্রিনকে কিনে নেয় কেকেআর।

    একাধিক অনামীকে বাছল কেকেআর

    এখানেই অবশ্য থেমে থাকেনি শাহরুখ খানের দল। ১৮ কোটি টাকায় শ্রীলঙ্কার রহস্য পেসারকে নিয়ে নেয় কেকেআর। এর পর, ২ কোটি টাকায় কিউয়ি উইকেটকিপার ফিন অ্যালেনকেও কিনে নেয় কলকাতা। পাশাপাশি, রাজস্থানের সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ লড়াই করে তেজস্বী সিংকে ৩ কোটিতে কিনে নেয় কলকাতা। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারকে নিয়ে মুম্বই, রাজস্থান এবং কলকাতার লড়াই হয়। ৭৫ লাখে রাহুল ত্রিপাঠিকে কিনে নেয় কেকেআর। মহারাষ্ট্রের ক্রিকেটার প্রশান্ত সোলাঙ্কি এবং কার্তিক ত্যাগীকেও কিনেছে কেকেআর। দুজনের জন্যই ৩০ লক্ষ টাকা করে খরচ করল বেগুনি ব্রিগেড।

  • Messi in Kolkata: “জোঁকের মতো চিটে নেতা-মন্ত্রী!” মেসি-কাণ্ডে তৃণমূলকে তুলোধোনা শুভেন্দুর, গ্রেফতার মূল উদ্যোক্তা

    Messi in Kolkata: “জোঁকের মতো চিটে নেতা-মন্ত্রী!” মেসি-কাণ্ডে তৃণমূলকে তুলোধোনা শুভেন্দুর, গ্রেফতার মূল উদ্যোক্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে নষ্ট হল বাংলার ভাবমূর্তি। এই দাগ মুছে ফেলার নয়। ইঙ্গিতে যেন সেটা মেনেও নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এদিন তারকা ফুটবলার মেসি (Messi in Kolkata) এবং তাঁকে দেখতে মাঠে আগত ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালিমালিপ্ত হল কলকাতা ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। বিরোধীদের সমালোচনা ও ফুটবল পাগল দর্শকদের আবেগের চাপে অবশেষে গ্রেফতার হলেন মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল আয়োজকের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ এনেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। একই সঙ্গে ফুটবলের রাজপুত্রকে ঘিরে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের মনোভাবকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    মানুষের আবেগ নিয়ে ব্যবসা তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের

    সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খলা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা, মেসির গায়ে জোঁকের মতো চিটে রইলেন নেতা-মন্ত্রী-তারকারা, আর যাদের পিঠে কাঁঠাল ভেঙে মেসিকে দেখতে পাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটানো হল, সেই ফুটবলপ্রেমীদের ভাগ্যে জুটলো ৫-৭ মিনিটের জায়ান্ট স্ক্রিনের দর্শন !!!” তিনি আরও লিখেছেন, “ফুটবলের রাজপুত্র লিয়োনেল মেসি যুবভারতীতে ঢোকা মাত্র অন্তত ১০০ জন নেতা মন্ত্রী ও তাদের আত্মীয় পরিজন সাগরেদদের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখার কোনো উপায় ছিল না।” তাঁর কথায়, “মোটা টাকায় টিকিট কেটে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে পেলেন না দর্শকরা যাদের জলের বোতল পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি, আর বাধ্য করা হয় ২০ টাকার জল ২০০ টাকায় কিনতে। অথচ তৃণমূল নেতা মন্ত্রীরা ব্যবসা করে নিলেন এই সুযোগে। এদের থেকে শকুনও ভালো !” সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, “গ্যালারির সমস্ত দর্শকদের ১০০% টিকিটের দাম ফেরত দিতে হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সুজিত বসু এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে এই বিশৃঙ্খলা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে গ্রেফতার করতে হবে। গোটা বিশ্বের সামনে পশ্চিমবঙ্গের সম্মানহানির জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটের আগে লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তুলে ‘খেলা হবে’ করতে গেছিলেন ! উল্টে প্রতারিত দর্শক খেলা দেখিয়ে দিয়েছে…”

    জবাব তলব রাজ্যপালের

    গোটা ঘটনায় কার্যত অবাক হয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। এই পরিস্থিতিতে নবান্নের কাছে রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যপাল। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, যারা অনেক দাম দিয়ে টিকিট কিনেছেন, সেই খুব কম সংখ্যক মানুষই তারকা ফুটবলার মেসিকে দেখতে পাবেন। পাশাপাশি মেসির এই সফরের মাধ্যমে যে বেসরকারি ব্যক্তি টাকা রোজগার করছেন, তাঁর বিষয়ে পুরো রিপোর্ট দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষ কেন মেসিকে দেখতে পারছেন না?’ এরই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের আবেগের সুযোগ নিয়ে কেন একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে অর্থ উপার্জনের অনুমতি দেওয়া হল। ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে ফোন এবং ইমেল আসছে, যেখানে তাঁরা অভিযোগ করছেন যে টিকিটের দাম তাঁদের নাগালের বাইরে। এমনটা কেন হল? কেন সাধারণ মানুষ বঞ্চিত রইলেন মেসিকে দেখার থেকে? জবাব দিতে হবে রাজ্যকে।’

    গ্রেফতারির নির্দেশ রাজ্যপালের

    এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে আয়োজকদের দ্রুত গ্রেফতার করার পক্ষে সওয়াল করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিন তিনি বলেন, ‘আয়োজককে এখনই গ্রেফতার করতে হবে। যারা কষ্টের উপার্জন দিয়ে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন তাঁদের টাকাও ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের যে ক্ষতি হল, সেটির ক্ষতিপূরণও দিতে হবে আয়োজক সংস্থাকে।’মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ‘অব্য়বস্থাকেই’ দায়ী করেছেন রাজ্যপাল বোস। তাঁর কথায়, ‘কোনও রকম পূর্বপরিকল্পনা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ছিল না। আয়োজকরা গোটা অনুষ্ঠানের উপর নজরদারি চালায়নি। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতে পারলেন না। এই ঘটনা পুলিশের দায়বদ্ধতাও রয়েছে।’

    তৃণমূল মানেই অসভ্যতা

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনার জন্য রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। সুকান্ত বলেন, “আরও একবার প্রমাণিত হল তৃণমূল মানেই অসভ্যতা। মেসির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলার পশ্চিমবঙ্গে আসা গর্বের বিষয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই এই কর্মসূচি তৃণমূল হাইজ্যাক করেছে। স্টেডিয়ামে যারা ঢিল, বোতল ছুড়েছে, তারাও তৃণমূলের লোক। টিকিট বিক্রি হয়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকায়, চূড়ান্ত কালোবাজারি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারই দায়ী।”

    ক্ষমা চাইলেন মমতা

    যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য কাদের দায়? জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মেসির সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনে গিয়ে দেখা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছতে পারেননি তিনি। ঘুরিয়ে নেন নিজের কনভয়ের অভিমুখ। তারপরেই এল তদন্তের নির্দেশ। নিজের এক্স হ্য়ান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য লিওনেল মেসি-সহ সকল ক্রীড়াপ্রেমী ও তাঁর অনুরাগীদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

    ‘কুম্ভীরাশ্রু’-র সঙ্গে তুলনা

    ইতিমধ্যেই মমতার ক্ষমা চাওয়ার এই বিষয়টিকে ‘কুম্ভীরাশ্রু’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমা চাইলেও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর বিরুদ্ধে এফআইআর-এর দাবি তুলেছে বিরোধীরা। বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য লেখেন, “কুমিরের কান্না বন্ধ করুন। এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি আপনার সরকারের প্রতিটি কাজের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে এবং প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীকে অপমান করেছে। দায়ীদের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার কথা বলেন।

  • Lionel Messi in Kolkata: কর্তা-মন্ত্রীদের ঘেরাটোপে মেসি! চড়া দামে টিকিট কেটেও বঞ্চিত দর্শকেরা, রণক্ষেত্র যুবভারতী

    Lionel Messi in Kolkata: কর্তা-মন্ত্রীদের ঘেরাটোপে মেসি! চড়া দামে টিকিট কেটেও বঞ্চিত দর্শকেরা, রণক্ষেত্র যুবভারতী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুধু একবার স্বপ্নের নায়ক মেসিকে সামনে থেকে এক ঝলক দেখবেন। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে এমনকী হুইল চেয়ারে করেও শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমিয়েছিল মেসি-ভক্তরা (Lionel Messi in Kolkata)। কিন্তু মাঠে নয় মেসিকে দেখতে হল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে থাকা ৩টি জায়ান্ট স্ক্রিনে। সাধারণ অনুরাগী নয় মাঠে ভিড় করে রইলেন রাজ্য সরকারের অনুরাগীরা। মেসি মাঠে প্রবেশের আগাগোড়া সময়ে তাঁকে ঘিরে রাখেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা। এর ফলে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা সরাসরি মাঠে মেসিকে দেখতে পাননি। মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও মেসিকে না দেখতে পাওয়ার আক্ষেপ রাগে পরিণত হল কয়েক মিনিটেই। কিন্তু মেসি যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, একটুকুও অরাজকতা দেখায়নি গ্যালারি। মেসির বিরক্তি প্রকাশ পেয়েছে তাঁকে ঘিরে মাঠে অহেতুক ভিড় দেখে। মেসি মাঠ ছাড়তেই উত্তাল হল গ্যালারি। শুরু হল ভাঙচুর।

    রণক্ষেত্র যুবভারতী

    শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসির গাড়ি স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসির সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন ফুটবল তারকা লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল। তাঁদের এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ, তাঁদের মেসিকে দেখতে হয়েছে শুধুমাত্র স্টেডিয়ামে বসানো তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিনে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন একাংশ দর্শক। গ্যালারিতে শুরু হয় ভাঙচুর। কিছুক্ষণের মধ্যেই বহু দর্শক গ্যালারি থেকে নেমে এসে মাঠের ফেন্সিং ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত নাজেহাল হতে হয় পুলিশ কর্মীদের। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অনুমান করা হচ্ছে, কয়েক হাজার দর্শক মাঠে নেমে পড়েছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দ্রুত মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলকে স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রশাসনিক গাফিলতি, বিরক্ত মেসি

    এদিন মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করেন তখন দেখা মেলেনি পুলিশের। ভিড় সামলাতে দেখা যায়নি নিরাপত্তারক্ষীদেরও। তাঁরা ব্যাস্ত ছিলেন মন্ত্রী-আমলাদের গাইড করতে। হোটেল থেকে মাঠে পৌঁছনোর পথে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে। তবে মাঠে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে শুধু মেসিকে নয়, লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা যায়নি। এক সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মেসি যুবভারতীতে পৌঁছোতেই অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। মূলত মন্ত্রী, কর্তারাই ঘিরে ধরেন মেসিকে। অনেকে প্রায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের মতো এলএম টেনের শরীরে ঘেঁষে ছিলেন। মেসিকে ভালো করে হাঁটার জায়গাটুকুও দিচ্ছিলেন না কেউ কেউ! ক্যামেরা এবং মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মেসিকে ঘিরে রাখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তাঁরা আয়োজকদের ভিড় সরানোর অনুরোধ করেন। গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। তাঁকে ঘিরে সেলিব্রিটি ও প্রাক্তন ফুটবলারদের ভিড়ে বিরক্ত হন মেসিও। কষ্ট করে মুখে হাসি ধরে রেখে এর পর মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। ক্ষোভে ফেটে পড়ে মেসি অনুরাগীরা।

    শুধুই অরূপ-শুভশ্রী

    এদিন মেসিকে স্বাগত জানাতে মাঠে থাকার কথা ছিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের। কিন্তু মাঠ জুড়ে শুধু মেসির সঙ্গে ছবি তুললেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী। অনুষ্ঠানে গিয়ে মেসির সঙ্গে টলিপাড়ার নায়িকা শুভশ্রী ছবি তোলেন আর সেই ছবি পোস্ট করতেই ট্রোলের মুখে পড়েন রাজ-ঘরণী। ক্ষুব্ধ দর্শকদের অভিযোগ, মেসিকে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা ঘিরে ধরার জন্য তাঁরা তাঁকে দেখতে পারেননি। প্রসঙ্গত, মেসির গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করার কথা থাকলেও, সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। পেনাল্টি শট মারার কথা থাকলেও একবারও বলে পা দিতে দেখা যায়নি ফুটবলের রাজপুত্রকে। মোহনবাগান এবং ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে মেসি পরিচিত হওয়ার সময়ও ভিড় ঘিরে ছিল তাঁকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে মাইক্রোফোনে ঘোষণা করতে হয়। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

    লজ্জিত কলকাতা, দায় কার?

    মেসি যে ১৬-১৭ মিনিট মাঠে ছিলেন, সেই সময় গ্যালারি থেকে এক বারও দেখা যায়নি তাঁকে। ১১.৫২ মিনিটে মেসিকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। আর্জেন্টিনার তারকা মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় গ্যালারিতে লাগানো হোর্ডিং ভাঙচুর। পরে গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়তে শুরু করেন ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠে পড়তে শুরু করে বোতল। এই সময় গ্যালারিতে কোনও পুলিশকর্মীকে দেখা যায়নি। মেসিকে দেখতে না পাওয়ার হতাশায় ক্রমশ বাড়তে থাকে উত্তেজনা। এক সময় মাঠের ধারে ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে হু-হু করে মাঠে লোক ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে পুলিশ ছিল দিশাহারা। কিছুটা পর সম্বিত ফেরে পুলিশকর্মীদের। লাঠি উঁচিয়ে ক্ষুব্ধ জনতাকে তাড়া করে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীরা আবার মাঠে ফিরে আসেন। সব মিলিয়ে যুবভারতী রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। মাঠের দখল নিয়ে নেয় অন্তত হাজার দুয়েক লোক। মাঠে ঢুকে কেউ ডিগবাজি খেয়েছেন, কেউ নিজস্বী তুলেছেন, কেউ আবার লাফিয়েছেন। বলা ভাল, যুবভারতীর মাঠে যে যা খুশি করেছেন। শেষ পর্যন্ত র‌্যাফ নামাতে হয় গ্যালারিতে। ব্যবহার করতে হয় কাঁদানে গ্যাস। পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মেসি বিমানবন্দরের পথে রওনা হয়ে যাওয়ার পরও যুবভারতীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন।

  • Kohli And Rohit: আর এ প্লাস নয়, বেতন কমছে বিরাটদের! আইসিসি ব়্যাঙ্কিংয়ে প্রথম দুইয়ে রোহিত-কোহলি

    Kohli And Rohit: আর এ প্লাস নয়, বেতন কমছে বিরাটদের! আইসিসি ব়্যাঙ্কিংয়ে প্রথম দুইয়ে রোহিত-কোহলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিনের ক্রিকেটে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুসারে একধাক্কায় ২ কোটি টাকা বেতন কমতে চলেছে বিরাট-রোহিতের। এমনই গুঞ্জন ছড়াচ্ছে দেশের ক্রিকেটমহলে। টেস্ট-টি২০ বাদ দিয়ে এখন কেবল ওয়ানডে খেলেন দুই মহাতারকা। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রকাশ করেছিল বিসিসিআই। সেখানে সর্বোচ্চ ক্যাটেগরি অর্থাৎ ‘এ প্লাস’ পর্যায়ে ছিল বিরাট-রোহিতের নাম। যদিও এই ক্যাটেগরিতে সেসব ক্রিকেটারদেরই মূলত রাখা হয় যাঁরা তিন ফরম্যাটেই দেশের জার্সিতে খেলেন।

    বেতন কমতে চলেছে বিরাট-রোহিতের

    বিরাট-রোহিত আগেই টি-২০ থেকে অবসর নেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সর্বোচ্চ ক্যাটেগরিতে স্থান দিয়েছিল বিসিসিসাই। এই দুই মহাতারকা ছাড়াও রবীন্দ্র জাদেজা এবং জশপ্রীত বুমরা ছিলেন এ প্লাস ক্যাটেগরিতে। তাঁদের বার্ষিক বেতন ৭ কোটি টাকা। কিন্তু সেই চুক্তি ঘোষণার মাসখানেকের মধ্যেই টেস্ট থেকে অবসর নেন রো-কো। ফলে জাতীয় দলের হয়ে কেবল একটি ফরম্যাটেই দেখা যায় তাঁদের। সেক্ষেত্রে কি তাঁদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চুক্তিতে রাখা উচিত? সেই নিয়ে চর্চা চলছে বোর্ডের অন্দরে। সূত্রের খবর, বিরাট এবং রোহিতকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে এ ক্যাটেগরিতে, যেখানে বার্ষিক বেতন ৫ কোটি টাকা। আগামী ২২ ডিসেম্বর বিসিসিআই-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে জাদেজা থাকবেন সর্বোচ্চ ক্যাটেগরিতে। প্রথা অনুযায়ী, এবার শুভমান গিল সম্ভবত উঠে আসবেন এ প্লাস ক্যাটেগরিতে।

    ওয়ান ডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটার হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয়

    তবে বেতন কমলেও দুরন্ত ফর্মে রয়েছে রো-কো জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) -এর তরফ থেকে প্রকাশিত নতুন ওয়ান ডে র‍্যাঙ্কিংয়ে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) দারুণ উন্নতি হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ৩০২ রান করা কোহলি এখন ওডিআই ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ওয়ান ডে-তে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার হিসাবে নিজের স্থান ধরে রেখেছেন। কে এল রাহুলও ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রোমোশন পেয়েছেন। বিরাট কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের ৩টি ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি অর্ধশতরান সহ মোট ৩০২ রান করেছেন। এই পারফর্ম্যান্সের জন্য তিনি প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ পুরস্কারও পেয়েছেন। এই পারফর্ম্যান্সের সুবাদে তিনি চতুর্থ স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৭৭৩। প্রথম স্থানে থাকা রোহিত শর্মার রেটিং পয়েন্ট ৭৮১। রোহিত শর্মা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে ১৪৬ রান করেছেন, যার ফলে তিনি তাঁর প্রথম স্থানটি ধরে রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে কুলদীপ যাদব ৯ উইকেট নিয়ে সিরিজের সফলতম বোলার ছিলেন। এই পারফর্ম্যান্সের দৌলতে তিনি ওয়ান ডে বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছেন। কুলদীপ ওয়ান ডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দশে একমাত্র ভারতীয়।

  • India vs South Africa: হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, বিশাল জয় ভারতের, রাবারাটিতে লজ্জার নজির প্রোটিয়াদের

    India vs South Africa: হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, বিশাল জয় ভারতের, রাবারাটিতে লজ্জার নজির প্রোটিয়াদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইশ গজে মধুর প্রত্যাবর্তন। ২৮ বলে ৫৯ রান, ৬টি চার ও ৪টি ছয়, ফের ঝড় তুললেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে ভারতীয় দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছিল। জবাবে ৭৪ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। এই ফরম্য়াাটে এটাই প্রোটিয়াদের ন্যূনতম স্কোর। ১৮ বলে শেষ ৫ উইকেট হারাল প্রোটিয়ারা। ১০১ রানে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সূর্যকুমারেরা।

    হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, হতাশ শুভমন

    শুভমন গিল এবং হার্দিক পান্ডিয়া। চোট সারিয়ে কটকে প্রত্যাবর্তন দুই ক্রিকেটারের। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের উৎসাহ ছিল শুভমনকে নিয়ে। টেস্ট এবং এক দিনের দলের অধিনায়ক শুভমন। হতাশ করলেন শুভমন টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক। তবে নেতৃত্বের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া হার্দিক ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে। তাঁর ২৮ বলে ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদেই এডেন মার্করামের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছোন সূর্যকুমার যাদবেরা। শুভমন কটকের ২২ গজে টিকলেন ২ বল। করলেন ৪ রান। চিন্তায় রাখল অধিনায়ক সূর্যের ফর্মও। তবে ভারতীয় বোলাররা সফল ১০০ শতাংশই।

    ভারতীয় বোলাররা ১০০ শতাংশ সফল

    বল হাতে রাতের বারবাটি শাসন করলেন ভারতীয় বোলারেরা। ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হন কুইন্টন ডি কক (০)। অর্শদীপের এই ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অর্শদীপ আউট করেন ট্রিস্টান স্টাবসকে (১৪)। অক্ষর নিজের প্রথম ওভার করতে এসে তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক এডেন মার্করামের (১৪) উইকেট। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যান সফরকারীরা। সেই চাপের মুখে পর পর ফিরে যান মিলার এবং ফেরেইরা (৫)। দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের ফলাফল এক রকম ঠিক হয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের দাপটে কেউই আর লড়াই করতে পারলেন না। ধস নামল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে। পর পর আউট হলেন জানসেন (১২), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২২), কেশব মহারাজ (০), অনরিখ নোখিয়া (১), লুথো সিমপালারা (২)। ১২.৩ ওভারেই শেষ হয়ে গেল তাঁদের ইনিংস। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম অক্ষর ৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। ১৪ রানে ২ উইকেট অর্শদীপের। এ দিন ১৭ রানে ২ উইকেট নিলেন বুমরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট পূর্ণ করলেন তিনি। ১৯ রানে ২ উইকেট বরুণ চক্রবর্তীর। ১৬ রানে ১ উইকেট নিলেন হার্দিক। ১ রানে ১ উইকেট শিবমের। ভারতের ছ’জন বোলারই উইকেট পেলেন। তিনবছর আগে ভারতেরই বিরুদ্ধে রাজকোটে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ৷ যা এতদিন ছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাঁদের সর্বনিম্ন স্কোর ৷ মঙ্গলবার তা ভেঙে গেল ৷

    নিজের নয়, ভারতের প্রয়োজনই প্রাধান্য

    চোট সারিয়ে এশিয়া কাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ম্যাচের সেরার পুরস্কার জিতে নেন হার্দিক। জানান গত ছ’সাত মাস ধরে ফিটনেসের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন। যাতে দেশের জার্সি পরে নিজের সেরাটা দিতে পারেন। নিজের পারফরম্যান্সে খুশি হার্দিক। হার্দিক বলেছেন, ‘‘গত ছ’-সাত মাস আমার ফিটনেস ভাল জায়গাতেই ছিল। শেষ ৫০ দিন পরিবার ছেড়ে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে থেকে খুব উপকৃত হয়েছি। বেশ কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছি। শট মারার সময় একটু সতর্ক ছিলাম। নিশ্চিত করতে চেয়েছি শটগুলো যাতে ঠিকঠাক হয়। শেষ দিকে কয়েকটা সাহসী শটও খেলতে হয়েছে। টাইমিং ঠিক রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমার এদিনের ব্যাটিংয়ে আমি সন্তুষ্ট।’’ নিজের বোলিং নিয়েও খুশি হার্দিক। তিনি বলেছেন, ‘‘মাঠে আমার ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম না। নিজের দায়িত্ব জানি। আমি কী চাই সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের প্রয়োজন। ভারতের প্রয়োজন। এই মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামি। এটা আমাকে ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করে।’’ জয়ের নেপথ্যে হার্দিকের অবদান মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও।

  • FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত হয়ে গেল ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের সব গ্রুপ। শুক্রবার আমেরিকার ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপবিন্যাস। এই প্রথমবারের মত ৪৮টি দলের টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ফ্রান্সের মতো দেশ জেনে গেল তাদের প্রতিপক্ষের নাম। চারটি দলের ১২টি গ্রুপ রয়েছে। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স একটু কঠিন গ্রুপে। গ্রুপ পর্বেই দেখা যাবে কিলিয়ান এমবাপে বনাম আর্লিং হালান্ডের লড়াই। পর্তুগালেরও লড়াই তেমন কঠিন নয়। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ।

    গ্রুপ অফ ডেথ নেই বললেই চলে

    পরের বছরই প্রথম বার ৪৮টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ড্র সহজ হতে পারে, এমন অনুমান আগেই করা হয়েছিল। আদপে হলও তাই। ১২টি গ্রুপের কোনওটিকেই সে ভাবে ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ বা মারণগ্রুপ বলা যায় না। তিনটি শক্তিশালী দেশ রয়েছে, এমন গ্রুপ হয়ইনি। গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে তিনটি পট থেকে প্রথম তিনটি বল তোলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোস্ট মেক্সিকো ‘এ’ গ্রুপে, কানাডা ‘বি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপে থাকবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। এদিনই প্রকাশ্যে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং ‘ডিজায়ার’। সেই গান পরিবেশন করেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং নিকোল শারজিঙ্গার।

    কোন গ্রুপে কোন দল রয়েছে

    গ্রুপ এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ডি জয়ী দল

    গ্রুপ বি : কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ এ জয়ী দল

    গ্রুপ সি : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড

    গ্রুপ ডি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ সি জয়ী দল

    গ্রুপ ই : জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর

    গ্রুপ এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিশিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ বি জয়ী দল

    গ্রুপ জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

    গ্রুপ এইচ : স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে

    গ্রুপ আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ফিফা প্লে-অফ ২ জয়ী দল

    গ্রুপ জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

    গ্রুপ কে : পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, ফিফা প্লে-অফ ১ জয়ী দল

    গ্রুপ এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা।

  • Virat Rohit Relation With Gambhir: বিরাট-ব্যাটে মুগ্ধ সতীর্থরা, ‘রো-কো’র সঙ্গে দূরত্ব মেটাতে গম্ভীর-আগরকরদের বার্তা বোর্ডের?

    Virat Rohit Relation With Gambhir: বিরাট-ব্যাটে মুগ্ধ সতীর্থরা, ‘রো-কো’র সঙ্গে দূরত্ব মেটাতে গম্ভীর-আগরকরদের বার্তা বোর্ডের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও তাঁদের মধ্যে কতটা ক্রিকেট বাকি রাঁচিতে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মা। এখনও দলকে জেতাচ্ছেন রো-কো জুটিই। মাঠে দেখে মনে হচ্ছে, সবচেয়ে তরুণ তাঁরাই। রোহিত, কোহলির হাত ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জিতেছে ভারত। একই সঙ্গে টেস্টে ডাহা ফেলের পর একদিনের ক্রিকেটের পরীক্ষায় উতরে গিয়েছেন গুরু গম্ভীর। রবিবার রাঁচিতে বিরাট কোহলির শতরান ও রোহিত শর্মার অর্ধ শতরান শুধু সমর্থকদের নয়, মুগ্ধ করেছে তাঁর সতীর্থদেরও।

    কুলদীপের কোহলি-বন্দনা

    বোর্ডের পোস্ট করা ভিডিয়োয় কুলদীপ বলেন, “বিরাট ভাই যখন অধিনায়ক তখন আমার ক্রিকেটজীবন শুরু হয়। যে ভাবে ও ব্যাট করল, দেখে মনে হল আট-ন’বছর আগের দিনে ফিরে গিয়েছে। ঠিক যে ভাবে ২০১৭, ২০১৮ বা ২০১৯-এ ব্যাট করত। অসাধারণ একটা ইনিংস খেলল। ওকে দেখে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। অসাধারণ সব শট বেরোল ওর ব্যাট থেকে।” কুলদীপ জানিয়েছেন, কোহলি পাশে থাকলে তিনি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। কারণ, বোলিংয়ের সময় অনেক পরামর্শ দেন কোহলি। কুলদীপের কথায়, “কোহলি দলে থাকলে খুব ভালো লাগে। সব সময় কোনও না কোনও পরামর্শ পাওয়া যায়। বোলিংয়ের সময়ও ও এসে বলে যায় কী করতে হবে। ওর মতো সিনিয়রেরা পাশে থাকলে সব সময়েই ভালো। দলের মধ্যেও আলাদা শক্তি এবং স্ফূর্তি আসে। সেদিন মাঠেই সেটা দেখেছেন। ওকে পেয়ে আমরা ভাগ্যবান।”

    সামনে থেকে ওর খেলা দেখা ভাগ্যের ব্যাপার

    প্রথমবার কোহলির শতরান চোখের সামনে দেখেছেন তিলক। তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছে না এই ইনিংস। বলেছেন, “আমরা কোহলির অন্যতম সেরা ইনিংস দেখতে পেলাম। প্রথম বার সামনে থেকে বিরাট ভাইয়ের শতরান দেখতে পেয়ে খুব খুশি। গত ১৭ বছর ধরে দুর্দান্ত খেলে যাচ্ছে ও। ব্যাটিং, ফিল্ডিং, সবেতে সেরা। সব সময়ে নিজেকে সকলের আগে রাখতে ভালবাসে। অনেক কিছু শিখেছি ওর থেকে। সামনে থেকে ওর খেলা দেখা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি চেষ্টা করি যতটা সম্ভব ওর সঙ্গে কথা বলে কিছু না কিছু শিখতে।”

    রোহিত-বিরাটে মুগ্ধ রাহুল

    ম্যাচের আগে রাহুল বলেছিলেন, “রোহিত ও কোহলির গুরুত্ব আমাদের দলে খুব বেশি। ওদের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার সাজঘরে থাকলে সকলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে যায়। ওদের অভিজ্ঞতা দলের সকলকে অনেক সাহায্য করে। তাই ওদের পেয়ে আমি খুব খুশি।” রবিবার ম্যাচ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, “রোহিত আর কোহলিকে এ ভাবে খেলতে দেখলে খুব মজা লাগে। ওরা যে স্বাধীনতা নিয়ে খেলে সেটা গোটা কেরিয়ার জুড়েই করেছে। নতুন কিছু নয় ওদের কাছে। অনেক দিন ধরে ওদের চোখের সামনে দেখছি। সাজঘরে ওদের দেখতে পাওয়া আমার কাছে সব সময়েই খুব মজার।”

    গম্ভীর-আগরকে তলব

    এদিকে, গম্ভীর এবং আগরকরকে জরুরি তলব করা হয় বিসিসিআই-এর তরফে। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোহলি-রোহিতের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি হয়েছে কিনা। কারণ শোনা যাচ্ছে, গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় থেকে কোচের সঙ্গে বিশেষ কথা বলছেন না কোহলি। আবার এক দিনের দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আগরকরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেছেন রোহিত। মাঠে এবং সাজঘরের তাঁদের বিভিন্ন আচরণ দেখে সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলে মনে করছেন না বিসিসিআই কর্তারা। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে এই ধরনের দূরত্ব ভালো ভাবে নিচ্ছেন না বোর্ড কর্তারা। গম্ভীর এবং আগরকরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন কর্তারা।

    রোহিত-কোহলিকে নিয়ে বৈঠক

    ওডিআই ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ২ ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা চলছে সমাজ মাধ্যমে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার পর ওডিআই সিরিজ থেকেও অধিনায়কত্ব হারান রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। তাঁর বদলে দলের অধিনায়ক বানানো হয় শুভমন গিলকে (Shubman Gill)। ভাইস ক্যাপ্টেনের পদ দেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে (Shreyas Iyer)। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে রোহিত ও কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছে। হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সম্পর্ক নাকি তলানিতে ঠেকেছে দুই তারকা ক্রিকেটারের। বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, “গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার সম্পর্ক যে জায়গায় থাকা উচিত ছিল সে জায়গাতে নেই খুব শীঘ্রই দুই তারকার সঙ্গে তাদের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে চলেছে বিসিসিআই। সম্ভাবত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ওডিআই ম্যাচের মাঝেই মিটিংটি অনুষ্ঠিত হবে।”

    রোহিত-কোহলির গুরুত্ব

    বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হল যখন টিম ইন্ডিয়ার তারকা খেলোয়াড় বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে উভয় খেলোয়াড়ই নিজেদের স্কিল ফের একবার চিনিয়ে দিয়েছেন৷ বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, যুগ্ম সচিব প্রভাতেজ সিং ভাটিয়া, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং জাতীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। এই বৈঠকের আগে দলের ভিতরে রোহিত-কোহলির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় মেতেছেন ক্রিকেটাররা। বিরাট-ব্যাটে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে রাহুল-কুলদীপ-তিলকদের মধ্যে।

  • India vs South Africa: ভাঙলেন শচিনের রেকর্ড, স্ব-মহিমায় কিং কোহলি! রোহিত-বিরাটের হাত ধরেই জয়ে ফিরল ভারত

    India vs South Africa: ভাঙলেন শচিনের রেকর্ড, স্ব-মহিমায় কিং কোহলি! রোহিত-বিরাটের হাত ধরেই জয়ে ফিরল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফের তার প্রমাণ মিলল বাইশ গজে। লাল বল থেকে সাদা বলে প্রত্যাবর্তন। সেই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটেও ফিরল হাসি। রাঁচিতে এক দিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭ রানে হারিয়ে দিল ভারত (India vs South Africa)। দর্শকেরা যা দেখতে মাঠে এসেছিলেন, সেটা পেয়ে গেলেন। বিরাট কোহলির শতরান, রোহিত শর্মার অর্ধশতরান! আর কী চাই। কোহলি-রোহিতের হাত ধরেই জয়ে ফিরল ভারত। হাসি ফিরল গুরু গম্ভীরের মুখেও। প্রথমে ব্যাট করে ৩৪৯/৮ তুলেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা আটকে গেল ৩৩২ রানে। একই সঙ্গে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়লেন কিং কোহলি। ছয়ের পর ছয় এল ‘রো-কো’র ব্যাট থেকে।

    শচিনকে ছাপিয়ে গেলেন

    রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) বিরুদ্ধে ১৩৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। যার সুবাদে টিম ইন্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করে ৩৪৯ রানের বিশাল স্কোর করতে সক্ষম হয়। এই ইনিংসে কোহলি ৫টি বড় রেকর্ড গড়েছেন। ছাপিয়ে গিয়েছেন মাস্টার-ব্লাস্টার শচিন তেন্ডুলকরকে। বিরাট কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনও একটি ফর্ম্যাটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন। তিনি সচিন তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। সচিন টেস্ট ক্রিকেটে ৫১টি সেঞ্চুরি করেছেন। কোনও ফর্ম্যাট (টি-২০, টেস্ট এবং ওয়ান ডে) -এ এর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি কারও ছিল না, কিন্তু এখন বিরাট কোহলি এগিয়ে গিয়েছেন। তিনি ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫২টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। বিরাট কোহলি ১৩৫ রানের এই ইনিংসে সচিন তেন্ডুলকরের আরও একটি বড় রেকর্ড ভেঙেছেন। তিনি ভারতে ওয়ানডে ফর্ম্যাটে সবচেয়ে বেশি ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন। আগে এই রেকর্ড সচিন তেন্ডুলকরের নামে ছিল, যিনি ৫৮ বার এই কীর্তি গড়েছিলেন। কোহলি ৫৯ বার দেশের মাটিতে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫০ বা তার বেশি রান করেছেন।

    রেকর্ডের পর রেকর্ড

    বিরাট কোহলি ভারতের কোনও একটি মাঠে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন। রাঁচির ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বিরাট ৫ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরি করেছেন। বিরাট বিশাখাপত্তনম এবং পুনেতেও ৩টি করে সেঞ্চুরি করেছেন। তবে ওই দুই মাঠে যথাক্রমে সাত ও আটটি ইনিংস লেগেছে কোহলির। বিরাট কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন। রাঁচিতে কোহলির দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ ওয়ান ডে সেঞ্চুরি ছিল। বিরাট কোহলি ৩ নম্বর পজিশনে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ছক্কা মারা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন। তিনি রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ড ভেঙেছেন, যিনি ৫৪০ ইনিংসে ২১৭টি ছক্কা মেরেছিলেন। বিরাট কোহলি তিন নম্বরে খেলে ৩২৭ ইনিংসে ২১৮টি ছক্কা মেরেছেন।

    রোহিতের পরিচিত মেজাজ

    দু’বছর আগের এক দিনের ক্রিকেট থেকে একটা ঘরানা শুরু করেছেন রোহিত শর্মা। ওপেন করতে নেমে এতটাই আগ্রাসী খেলছেন যে বাকিদের উপর চাপ কমে যাচ্ছে। তাঁকে সেই স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে। রোহিতের লক্ষ্য থাকে পাওয়ার প্লে-তে যতটা সম্ভব রান তুলে নেওয়া। এর একটা উল্টো দিকও রয়েছে। চালিয়ে খেলতে গেলে আউট হওয়ার সম্ভাবনাও বহু গুণে বাড়ে। রোহিত অবশ্য কোনও দিনই সে সবের পরোয়া করেন না। সে কারণেই সাফল্য পাচ্ছেন। সিডনিতে শেষ যে ম্যাচটি খেলেছিলেন, সেখানে শতরান করে দলকে জিতিয়েছিলেন। রাঁচিতে তাঁর ব্যাট থেকে আগ্রাসী অর্ধশতরান দেখা গেল। এক রানের মাথায় ক্যাচ পড়েছে। তবু আগ্রাসনের রাস্তা থেকে সরেননি রোহিত। করবিন বশকে টানা দু’টি চার মেরেছেন। প্রেনেলান সুব্রায়েনকে পর পর দু’টি ছয় মেরেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর জুটি। দু’জনের বোঝাপড়া কতটা ভাল তা এই ম্যাচেও বোঝা গিয়েছে। সিডনির পর রাঁচিতেও দু’জনের জুটি ভারতকে শক্তিশালী করেছে। ২০তম ওভারে মার্কো জানসেনকে ছয় মেরে শাহিদ আফ্রিদির নজির ভেঙে দিয়েছেন।

    ৬৮১ রানের পাহাড়

    ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) মধ্যে আয়োজিত প্রথম একদিনের ম্যাচে দুটো দল মোট ৬৮১ রান করে। এছাড়া দুই দলের হয়ে উড়ে যায় ২৮ গগনচুম্বী ছক্কা। ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে এটাই সর্বাধিক রান। পাশাপাশি সর্বাধিক ছক্কা হাঁকিয়েছেন দুই দলের ব্যাটাররা। ইতিপূর্বে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ২০১৫ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৩৮ রান করেছিল। এরপর ভারত ব্যাট করতে নেমে ২২৪ রান করে। এই ম্যাচে দুটো দল মিলিয়ে মোট ৬৬২ রান করেছিল। আর হাঁকিয়েছিল ২৫ ছক্কা। এবার দশ বছরের পুরনো সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।

LinkedIn
Share