Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল (IPL 2026) শেষ হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি ছেড়ে দেশের জার্সি পরতে দেখা যাবে কোহলি (Virat Kohli), গিলদের (Shubman Gill)। চলতি বছরে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল (India Vs New Zealand)। যেখানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বড় একটি সিরিজ খেলবে তারা। ৪০ দিনের সফরে মোট ১২ ম্যাচের এই সিরিজই হতে চলেছে কিউয়িদের মাটিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সফর। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামবেন তারকা ক্রিকেটাররা। সবার নজর বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। বুধবার পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।

    কবে থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজ

    নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর হতে চলেছে এই সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের প্রধান ৫ ভেন্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ৫ টি-টোয়েন্টি, ৫ ওয়ান ডে ও ২ টেস্ট ম্যাচ খেলবেন স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ্সরা। মোট ১২ ম্যাচের এই সফর আসলে কিউয়িদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বড় দ্বিপাক্ষিক সফর হতে চলেছে। অকল্যান্ডে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুটি টেস্ট খেলা হবে ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে। যেহেতু এই সিরিজের মধ্যে ওয়ান ডে ম্যাচও রয়েছে, তাই এই সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে সমর্থকদের কাছে। ওয়ান ডে ম্যাচগুলি শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। তারপর ওয়ানডে সিরিজ এবং শেষে টেস্ট।

    ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় আকর্ষণীয়

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য বাণিজ্যিক কর্তা গ্লেন ক্রিচলি এই সিরিজ নিয়ে বলেন, “ক্রিকেটের দুনিয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের মতো বড় আকর্ষণ খুব কমই আছে। আমরা চাই সমর্থকদের এমন অভিজ্ঞতা দিতে, যা তারা আগে পায়নি। শুধু খেলা নয়, ভারত-নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বন্ধনও উদ্‌যাপন করা হবে। বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহদের মতো তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ ব্যাপার।” অন্যদিকে, আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আয়োজকরা ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচে। মোট ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এই ১২ ম্যাচের সূচিটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সফর হতে চলেছে।’ উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ মরশুমের পর এই প্রথম নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে ভারত। যদিও কিউয়িরা সম্প্রতি দু’বার ভারত সফরে এসেছে। ২০২৪-২৫ মরশুমে ভারতকে হোয়াইটওয়াশও করেছে। নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়ই উপভোগ করি। ওরা অসাধারণ দল। তারকা ও প্রতিভায় ভরপুর। সিরিজটা খুব কঠিন হতে চলেছে।”

    ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

    টি-টোয়েন্টি

    ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৪ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৭ অক্টোবর, ওয়েলিংটন
    ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড
    ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন

    ওয়ানডে

    ৪ নভেম্বর, অকল্যান্ড
    ৭ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ১০ নভেম্বর, হ্যামিল্টন
    ১৩ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই
    ১৫ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই

    টেস্ট

    ১৯-২৩ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ২৭ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর, ক্রাইস্টচার্চ

  • Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে চেস ২০২৬-এর অষ্টম রাউন্ডে কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) হারিয়ে এক বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন ২০ বছরের এই ভারতীয়।

    একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দুবার মাত!

    এর আগে, ২৭ মে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে পরাজিত করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। বুধবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়েও একই কীর্তি গড়ে তিনি কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নরওয়ে চেসেও তিনি কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৯ বছরে ক্লাসিক্যাল দাবায় কোনও খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে কার্লসেনকে দু’বার হারাতে পারেননি। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ভারতেরই কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), যিনি ২০০৭ সালের লিনারেস আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নরওয়েজিয়ান মহাতারকাকে দু’বার পরাজিত করেছিলেন।

    ‘কার্লসেনকে হারানো নয়, ম্যাচ জেতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

    বিশ্ব দাবা মহলে এই জয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজে কিন্তু অত্যন্ত সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তাঁর কাছে কার্লসেনকে হারানোর চেয়ে টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ম্যাগনাসকে হারানোর চেয়ে এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচ জেতা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সামগ্রিক টুর্নামেন্ট ফলাফল নিয়েই বেশি ভাবছেন ভারতের এই তরুণ তারকা।

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন কার্লসেন

    জয়ের পরেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বলেন, “কার্লসেন অত্যন্ত ভালো খেলছিলেন এবং অসাধারণভাবে ডিফেন্ড করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় এই ধরনের চাপে ছোটখাটো পজিশনাল ভুল করে বসতেন। কিন্তু তিনি বারবার সঠিক চাল খুঁজে বের করছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ম্যাচটা ড্র হতে চলেছে। এত ভালোভাবে রক্ষণ করার পর শেষ পর্যন্ত ওর এমন ভুল করা কিছুটা বিস্ময়কর ছিল।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে ম্যাচের ফলাফল যতটা না একতরফা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল মানসিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের ফল।

    টাইম স্ক্র্যাম্বলই এখন প্রধান চিন্তা

    বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট প্রজ্ঞানন্দ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় ব্যবস্থাপনা এখনও তাঁর দুর্বলতার জায়গা। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমি ভালো খেলছি। কিন্তু টাইম স্ক্র্যাম্বল পরিস্থিতিগুলো আমার পক্ষে যাচ্ছে না। তাই ঘড়িতে আরও সময় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব এবং গত কয়েক রাউন্ডে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই।” টুর্নামেন্টের বাকি অংশের আগে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শেষ দুই রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্রাম দিবসের পর টুর্নামেন্টের শেষ দুই রাউন্ডে নামবেন প্রজ্ঞানন্দ। নবম রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ (D Gukesh)। যদিও চলতি সপ্তাহে গুকেশ নিজের সেরা ছন্দে নেই, তবুও দুই ভারতীয় তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্তিম রাউন্ডে প্রজ্ঞানন্দের প্রতিপক্ষ জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমার (Vincent Keymer)।

    শিরোপার দৌড়ে এখনও জোরালোভাবে রয়েছেন

    অষ্টম রাউন্ডের শেষে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সামনে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো (Wesley So), যার সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলিরেজা ফিরুজা (Alireza Firouzja), যার ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট। শেষ দুই রাউন্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে এখনও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় তারকার সামনে। অন্তত পডিয়াম ফিনিশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

    ভারতীয় দাবার নতুন সোনালি অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে বিশ্ব দাবায় ভারতের উত্থান অভূতপূর্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি, অরবিন্দ চিদম্বরমদের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। তারই মধ্যে নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ যে নজির গড়লেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দাবার ক্রমবর্ধমান শক্তিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯ বছর আগে বিশ্বনাথন আনন্দ যে কীর্তি গড়েছিলেন, আজ সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নামও লিখিয়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই বিস্ময়বালক।

  • FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করল জি এন্টারটেইনমেন্ট (Zee Entertainment)। সোমবার সংস্থার তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিন্ত হলেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরের ম্যাচগুলি তাঁরা দেশের মাটিতে বসেই দেখতে পারবেন।

    বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় যৌথভাবে শুরু হবে ফুটবলের মহারণ। অথচ এতদিন পর্যন্ত ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার, যেখানে এখনও কোনও সরকারি সম্প্রচারকারী চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা এবং সম্ভাব্য সম্প্রচার সংস্থাগুলির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    ২০৩৪ সাল পর্যন্ত একাধিক ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্ব

    শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপই নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮টি ফিফা ইভেন্ট সম্প্রচারের অধিকারও পেয়েছে জি। ফলে আগামী আট বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা ভারতীয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। কারণ, ফিফার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ, মহিলা বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্প্রচারও এখন জি-র হাতে চলে গেল।

    কত টাকায় হল চুক্তি?

    চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভারতীয় বাজারের জন্য ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ প্রথমে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা) দাবি করেছিল ফিফা। পরে সেই দাবি কমিয়ে প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনা হয়। সূত্রের খবর, ভারতের বৃহত্তম ক্রীড়া সম্প্রচার সংস্থা জিওস্টার (JioStar) এই স্বত্বের জন্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিফা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী সনি (Sony)-ও আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিড জমা দেয়নি।

    প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ

    ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে চলেছে। এবার প্রথমবারের মতো ৩২ দলের বদলে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাটকীয়তা এবং ফুটবল উৎসব। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম তিন দেশের যৌথ আয়োজিত সংস্করণ।

    নতুন ক্রীড়া চ্যানেল চালু করল জি

    ফিফার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি নিজেদের ক্রীড়া সম্প্রচার ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি নতুন স্পোর্টস চ্যানেল চালুর ঘোষণা করেছে জি এন্টারটেইনমেন্ট।

    নতুন চ্যানেলগুলি হল—

    • ● Unite8 Sports 1
    • ● Unite8 Sports 1 HD
    • ● Unite8 Sports 2
    • ● Unite8 Sports 2 HD

    সংস্থার দাবি, এই নতুন চ্যানেলগুলির মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকদের আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ক্রীড়া দেখার অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে ফুটবলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সম্প্রচারে এই চ্যানেলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    জি-র জন্য বড় কৌশলগত সাফল্য

    বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া জি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য একটি বড় ব্যবসায়িক এবং কৌশলগত সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে জিওস্টার ও সনির মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে এই চুক্তি জি-র অবস্থানকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি সুখবর। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত সম্প্রচার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর হল। ফলে ১১ জুন থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই উপভোগ করতে আর কোনও বাধা থাকল না।

  • RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঠারো বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা, হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত আর ট্রোলের পাহাড় পেরিয়ে ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। আর সেই সাফল্য যে কেবল একবারের বিস্ময় ছিল না, তা প্রমাণ করে দিল তারা ২০২৬ সালেও। টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেলল বিরাট কোহলি-রজত পাটিদারদের দল। এর আগে কেবল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসই আইপিএলে টানা দু’বার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরসিবির নাম। শুধু শিরোপা জয় নয়, গোটা মরশুমে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষদের কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরু।

    শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে আরসিবি

    লিগ পর্বে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থানে শেষ করেছিল আরসিবি। এরপর কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানে বিধ্বস্ত করে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। ফাইনালেও সেই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অবসর নিয়েছেন, দলে এসেছে একাধিক পরিবর্তন। কিন্তু মাঠে তার কোনও প্রভাবই দেখা যায়নি। যেন গত বছরের সফল অভিযানের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে তারা।

    আহমেদাবাদে গুজরাতের মাঠেও ছিল আরসিবির রাজত্ব

    নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ছিল গুজরাট টাইটান্সের ‘হোম গ্রাউন্ড’। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচের আগের দিন থেকেই হাজার হাজার আরসিবি সমর্থক লাল জার্সি পরে আহমেদাবাদে ভিড় জমাতে শুরু করেন। ফাইনালের দিন প্রায় এক লক্ষ দর্শকের মধ্যে সিংহভাগই ছিল আরসিবির সমর্থক। স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে ধ্বনিত হচ্ছিল “আরসিবি, আরসিবি” স্লোগান। কার্যত নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছিল রজত পাটিদারের দল। আরসিবি ফাইনালের কয়েকদিন আগেই আহমেদাবাদে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তীব্র গরমে অনুশীলন, উইকেট পর্যবেক্ষণ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ তারা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে।

    বল হাতে গুজরাটকে শ্বাসরুদ্ধ করল বেঙ্গালুরু

    টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আরসিবি। রোদে পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়া উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না। সেই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগান বেঙ্গালুরুর বোলাররা। মরশুমে ৭০০-র বেশি রান করা গুজরাটের দুই ওপেনারকে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় তারা। চলতি মরশুমে তৃতীয়বারের মতো শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনকে দ্রুত আউট করতে সক্ষম হয় আরসিবি। জশ হ্যাজেলউড বড় ম্যাচে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। ভুবনেশ্বর কুমার নিখুঁত পরিকল্পনায় সাই সুদর্শনকে বাউন্সারে ফাঁদে ফেলেন। অন্যদিকে রাসিখ সালাম দার, যাঁকে অনেকেই গুরুত্ব দেননি, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মাত্র ৩.৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। জস বাটলারও পাল্টা আক্রমণের সাহস দেখাতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর একবার জীবনদান পেলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে অরশাদ খানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রানেই থেমে যায়।

    রান তাড়ায় কোহলির রাজকীয় ইনিংস

    ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় আরসিবিকে। ফিল সল্টের অনুপস্থিতিতে ওপেন করতে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচকে একতরফা করে দেন। মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই দলীয় স্কোর ৬০ পেরিয়ে যায়। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান। ভেঙ্কটেশ আইয়ার দ্রুত আউট হলেও কোহলি থামেননি। কাগিসো রাবাদার এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন তিনি। রশিদ খান নবম ওভারে রজত পাটিদার এবং ক্রুনাল পাণ্ডিয়াকে ফিরিয়ে সামান্য উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটুকুই। কোহলির সঙ্গে টিম ডেভিডের ৪১ রানের জুটি গুজরাটের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। ২৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কোহলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের ফাইনালের পর এবারই প্রথম আইপিএল প্লে-অফে অর্ধশতরান পেলেন তিনি।

    শেষ বলেও কোহলির ছক্কা

    ম্যাচের একমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে ১৬তম ওভারে। কোহলির একটি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন শুভমান গিল। তৃতীয় আম্পায়ারের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় ‘নট আউট’। এরপর আর কোনও বাধা ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কোহলি। আরসিবির ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তিও হয় তাঁর ব্যাট থেকেই। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান আসে একটি বিশাল ছক্কায়।

    নতুন যুগের সূচনা

    ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটি হয়ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া একবারের সাফল্য। কিন্তু ২০২৬ সালের অভিযান স্পষ্ট করে দিল, আরসিবি এখন কেবল জনপ্রিয় দল নয়, তারা এক শক্তিশালী ক্রিকেট সাম্রাজ্য। ১৮ বছর অপেক্ষা করে প্রথম ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু। এরপর মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় শিরোপা। টানা দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে রজত পাটিদার, বিরাট কোহলি, জশ হ্যাজেলউড, ভুবনেশ্বর কুমারদের এই দল জানিয়ে দিল— ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক শক্তির উত্থান হয়েছে। আর সেই সাম্রাজ্যের রং নিঃসন্দেহে লাল।

  • Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়স মাত্র ১৫ বছর। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম এই কিশোর। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে আইপিএল ২০২৬-কে নিজের মঞ্চে পরিণত করেছিল বৈভব সূর্যবংশী। তবে ক্রিকেট যে শুধুই পরিসংখ্যানের খেলা নয়, তা আরও একবার প্রমাণ হল শুক্রবার রাতে। ব্যক্তিগতভাবে দুরন্ত ইনিংস খেলেও দলের পরাজয় মেনে নিতে পারল না রাজস্থান রয়্যালসের এই কিশোর তারকা। গুজরাট টাইটান্সের কাছে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর ডাগআউটে বসেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেল তাকে।

    পঞ্জাবের মুল্লানপুরে অবস্থিত মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন সেই দৃশ্য। রাজস্থানের ডাগআউটে চুপচাপ বসে বৈভব। মুখে হতাশার ছাপ, চোখে জল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার পাশে এসে দাঁড়ান সতীর্থরা। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজাকেও দেখা যায় কিশোর ক্রিকেটারকে সান্ত্বনা দিতে। দলের সাপোর্ট স্টাফ ও ম্যানেজার রোমি ভিন্দরও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একসময় ক্যামেরার নজর এড়াতে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢাকতেও দেখা যায় বৈভবকে।

    আবারও ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ

    ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৪৭ বলে ৯৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সে। শুরুতে মহম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাডার বিরুদ্ধে কিছুটা সতর্ক থাকলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়। একসময় মনে হচ্ছিল আরও একটি শতরান অপেক্ষা করছে তার ব্যাটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৯৬ রানেই থামতে হয়। ফলে শেষ চার ইনিংসের মধ্যে তৃতীয়বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ার হতাশা সঙ্গী হয় তার। তবে বৈভবের এই ইনিংসের সুবাদেই রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১৫ রানের বিশাল স্কোর তোলে। সেই মুহূর্তে অনেকেই মনে করেছিলেন, ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে রয়েছে রাজস্থান।

    গিল-সুধর্শনের ঝড়ে উড়ে গেল রাজস্থান

    কিন্তু রান তাড়ায় নেমে গুজরাট টাইটান্সের দুই ওপেনার শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দু’জনে মিলে মাত্র ৭৭ বলে ১৬৭ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি গড়েন। সাই সুধর্শন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও গিল অত্যন্ত পরিণত ইনিংস খেলেন। মাত্র ৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করে গুজরাটকে জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হাতে রেখেই ২১৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে গুজরাট টাইটান্স। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজস্থান রয়্যালসের।

    হারলেও ইতিহাস গড়ল বৈভব

    রাজস্থান ফাইনালে উঠতে না পারলেও বৈভব সূর্যবংশীর আইপিএল ২০২৬ মরশুম ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেবে। ১৬ ম্যাচে সে করেছে ৭৭৬ রান। গড় ৪৮.৫০ এবং অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেট। মরশুম শেষে তার মাথাতেই ওঠে অরেঞ্জ ক্যাপ। কিন্তু শুধু রান নয়, গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই একের পর এক রেকর্ড গড়েছে এই কিশোর বিস্ময়।

    আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব সূর্যবংশীর উল্লেখযোগ্য কীর্তি—

    • ● বলের হিসেবে সবচেয়ে দ্রুত ১,০০০ আইপিএল রান (৪৪০ বল)
    • ● ইনিংসের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম ১,০০০ আইপিএল রান (২৩ ইনিংস)
    • ● টি-২০ ইতিহাসে এক মরশুমে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৫০০ পাওয়ারপ্লে রান
    • ● এক টি-২০ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক পাওয়ারপ্লে রানের রেকর্ড
    • ● ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কিশোর ক্রিকেটার হিসেবে অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ
    • ● ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩৭-এরও বেশি
    • ● এক আইপিএল মরশুমে সর্বাধিক ৬৫টি ছক্কা

    সংখ্যার বাইরে এক মানবিক ছবি

    বৈভব সূর্যবংশী নিঃসন্দেহে আইপিএল ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক ব্যাটিং, ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এবং রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। তবে মরশুমের শেষ রাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রইল না তার ৭৭৬ রান, ৬৫ ছক্কা কিংবা অরেঞ্জ ক্যাপ। বরং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে ডাগআউটে বসে থাকা এক কিশোরের চোখের জল— যে নিজের সেরাটা দেওয়ার পরও দলকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। সম্ভবত এটাই খেলাধুলার সবচেয়ে নির্মম এবং একইসঙ্গে সবচেয়ে সুন্দর দিক। ব্যক্তিগত সাফল্য যত বড়ই হোক, দলের স্বপ্ন ভেঙে গেলে একজন প্রকৃত প্রতিযোগীর কাছে তার মূল্য অনেক কম। আর সেই কারণেই পরাজয়ের রাতে চোখের জলে ভেঙে পড়া বৈভব সূর্যবংশী আরও একবার প্রমাণ করল, সে শুধু এক অসাধারণ প্রতিভাই নয়, দলের জন্য নিবেদিত এক প্রকৃত যোদ্ধাও।

    কাপ হয়ত অধরা থেকে গেল, কিন্তু কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মন জিতে নিয়েছে ১৫ বছরের কিশোর।

  • R Praggnanandhaa:  এই নিয়ে দুবার! বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে ফের কিস্তিমাত ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার প্রজ্ঞানন্দের

    R Praggnanandhaa: এই নিয়ে দুবার! বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে ফের কিস্তিমাত ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) প্রমাণ করে দিলেন, বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু  ম্যাগনাস কার্লসেনের সঙ্গেও পাঙ্গা নিতে পারেন। বুধবার নরওয়ে চেস টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে কার্লসেনকে পরাজিত করে তিনি (Norway Chess 2026) পান পুরো ৩ পয়েন্ট।

    গুকেশের কঠিন সময় (R Praggnanandhaa) 

    এদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশের কঠিন সময় যেন আর কাটছেই না! ক্লাসিক্যাল খেলায় দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের পর ড্র হলেও, তিনি আলিরেজা ফিরুজজার বিরুদ্ধে আর্মাগেডন খেলায় পরাজিত হন এবং আরও একবার ধাক্কা খান। প্রজ্ঞানন্দর এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসলোয় অনুষ্ঠিত নরওয়ে দাবা প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সুপারবেট চেস ক্লাসিক রোমানিয়া (বুখারেস্ট)-এ ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পর তিনি গিয়েছেন নরওয়ে। এদিকে, গুকেশ বর্তমানে ৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে ছ’জন খেলোয়াড়ের ওপেন বিভাগে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। নরওয়েতেও তাঁর খারাপ ফর্মের কোনও উন্নতির লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের নরওয়ে দাবা প্রতিযোগিতায়ও প্রজ্ঞানন্দ প্রথমবারের মতো ক্লাসিক্যাল ফরম্যাটে কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। এটি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বড় মঞ্চে তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রমাণ।

    বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট রক্ষার দায়

    প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ক্লাসিক্যাল লড়াই ড্র হওয়ার পর আর্মাগেডনে ফিরুজজার কাছে হারের পরে গুকেশ স্বীকার করেন, তাঁর প্রতিপক্ষ পুরো খেলাজুড়েই জয়ের জায়গায় ছিলেন (R Praggnanandhaa)। ভারতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জন্য এই পরাজয় বিশেষভাবে হতাশাজনক। কারণ এ বছরই তাঁকে তাঁর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট রক্ষা করতে হবে (Norway Chess 2026) চ্যালেঞ্জার জাভোখির সিনদারভের বিরুদ্ধে খেলে। বিশ্বখেতাব জয়ের পর থেকে তাঁর সাম্প্রতিক একাধিক পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি (R Praggnanandhaa)। অন্যদিকে, প্রজ্ঞানন্দ কার্লসেনের বিরুদ্ধে এই জয়কে তাঁর পক্ষে খুব বড় একটি জয় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ুকে হারাতে তাঁর ভাগ্যও সহায় ছিল।

     

  • IPL 2026: দুর্গাপুজোর সময় আইপিএল! তীব্র গরম থেকে ক্রিকেটারদের স্বস্তি দিতে ভাবনা বিসিসিআই-এর

    IPL 2026: দুর্গাপুজোর সময় আইপিএল! তীব্র গরম থেকে ক্রিকেটারদের স্বস্তি দিতে ভাবনা বিসিসিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর থেকে দুর্গাপুজোর সময় হতে পারে আইপিএল (IPL 2026)। বদলে যেতে পারে আইপিএলের সময়। দীর্ঘ দিন ধরেই মার্চে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। তা ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। দু’টি কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বোর্ড। এমনটাই জানিয়েছেন আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল। আপাতত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। বরাবরই মার্চ থেকে মে – দেড়মাস হয় আইপিএল। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিডকালে সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হয়েছিল আইপিএল। খুব সম্ভবত ওই সময়েই এবার থেকে আয়োজন করা হতে পারে আইপিএল। প্রবল গরম ও ক্রিকেটারদের অত্যধিক ক্লান্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।

    কেন পিছোচ্ছে সময়

    আইপিএলের গোড়া থেকেই মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আইপিএল আয়োজন করা হয়। মাঝে ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার কারণে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হয়েছিল আইপিএল। তবে সব ঠিক থাকলে পাকাপাকি ভাবে ওই সময়েই আইপিএল আয়োজন করা হতে পারে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রবল গরম এবং ক্রিকেটারদের ক্লান্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ধুমলের মতে, প্রতিযোগিতার সময় পিছোনোর জন্য কোনও চাপ রয়েছে এমন নয়। তা ছাড়া অনুমতি পেতে হবে সম্প্রচারকারী চ্যানেল এবং আইসিসি-রও। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল আয়োজন করা হলে সেই সময় উৎসবের মেজাজে থাকা সমর্থকদের বেশি সংখ্যায় মাঠে টেনে আনা যাবে বলে মত বোর্ডকর্তাদের। ওই সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দুর্গাপুজো, দশেরা, দীপাবলি হয়। ধুমল বলেছেন, “প্রতিযোগিতা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে ওদের মতামত জানতে হবে। একটা পরামর্শ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল হতে পারে। বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সময়টা খুবই ভাল। কারণ দীপাবলির ঠিক আগে আইপিএল হবে। এর পরের দ্বিপাক্ষিক সূচি দেখতে হবে আমাদের। সেই সময় আইপিএল করা যায় কি না তা বুঝতে হবে।”

    আইসিসি-কেও সূচি বদলাতে হবে

    ধুমল আরও জানান, আইপিএল শুধুমাত্র বিসিসিআই-এর ওপর নির্ভর করে না। যেহেতু এই প্রতিযোগিতায় অনেক বিদেশী প্লেয়াররা খেলে, তাই আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও কথা বলা দরকার। আইপিএলের সময়ে কোনও ক্রিকেট ম্যাচ রাখে না আইসিসি, যাতে সব দেশের ক্রিকেটারেরা অংশ নিতে পারেন। আইপিএলের সময় বদলালে আইসিসি-কেও সূচি বদলাতে হবে। এই মুহূর্তে আইপিএল খেলে মোট ১০ দল। ২০২২ সালে যোগ হয়েছে দুই নতুন দল, গুজরাট টাইটান্স ও লখনৌ সুপার জায়েন্টস। মোট ম্যাচ সংখ্যা ৭৪। এই ৭৪ ম্যাচ খেলা হয় দুই মাস জুড়ে। তবে যদি আইপিএল পিছিয়ে দুর্গাপুজোর সময় অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটেও এর প্রভাব পড়বে। তবে যেহেতু বর্তমান সময়ে প্রচন্ড গরমের কারণে প্লেয়ারদের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে, তাই এই বিষয়ে ভেবে দেখতে পারে আইসিসিও।

  • Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগের সূচনা। ২০২৬ ন্যাশনাল ফেডারেশন সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইতিহাস গড়লেন গুরিন্দেভির সিং (Gurindervir Singh)। তিনিই প্রথম ভারতীয় স্প্রিন্টার যিনি ১০.১০ সেকেন্ডের বাধা ভেঙে ‘১০.০’ সেকেন্ডের ঘরে প্রবেশ করলেন। এই নজির গড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা, অনেকেই তুলনা টানছেন কিংবদন্তী উসেইন বোল্ট-এর (Usain Bolt) সঙ্গে। রাঁচির বীরসা মুন্ডা অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে (Birsa Munda Athletics Stadium) যেন গত ২৪ ঘণ্টায় বদলে গেল ভারতীয় স্প্রিন্টের ইতিহাস। সেমিফাইনালেই প্রথমে ১০.১৭ সেকেন্ড সময় করে জাতীয় রেকর্ড ভাঙেন গুরিন্দেভির।

    গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন ক্রীড়ামন্ত্রীর

    গুরিন্দেভির-এর সেমিফাইনালের রেকর্ড মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ১০.১৫ সেকেন্ড দৌড়ে সেই নিজের নামে তুলে নেন অনিমেষ কুজর। ফাইনালে নামার আগে থেকেই তাই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। একদিকে অনিমেষের দীর্ঘ স্ট্রাইড ও দুরন্ত গতি, অন্যদিকে গুরিন্দেভিরের বিস্ফোরক স্টার্ট— দুই ভিন্ন ধাঁচের স্প্রিন্টারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেন পাঞ্জাবের এই তরুণ। শেষ ২০ মিটারে গতি আরও বাড়িয়ে ১০.০৯ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন তিনি। অনিমেষও ১০.২০ সেকেন্ড সময় করেন, যা কয়েক মাস আগেও জাতীয় রেকর্ড হিসেবে গণ্য হত। তবে লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি, বলে জানান গুরিন্দেভির। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দৌড়ের ভিডিওও শেয়ার করেছেন।

    সাফল্যের পথ সহজ ছিল না

    এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একসময় গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন গুরিন্দেভির। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং পেশিশক্তি হারানোর মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর কেরিয়ার প্রায় থমকে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। পরে বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও আধুনিক রিকভারি ব্যবস্থার সাহায্যে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পাঞ্জাবের জালন্ধরের কাছের গ্রাম থেকে উঠে আসা গুরিন্দেভিরের পাশে শুরু থেকেই ছিলেন তাঁর বাবা, যিনি পাঞ্জাব পুলিশের কনস্টেবল। ২০১৭ সালে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে প্রথমবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর দীর্ঘ সংগ্রাম, চোট ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই পেরিয়ে আজ তিনি ভারতের দ্রুততম মানব।

    ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে

    ভারতের ‘ফ্লাইং শিখ’ মিলখা সিং (Milkha Singh)-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্বরেকর্ডধারী উসেইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ড এখনও অনেক দূরের পথ, তবু ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরিন্দেভির ও অনিমেষ— দু’জনেই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনের পথে। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, তাঁরা বদলে দিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্ট নিয়ে ধারণা। এতদিন যেখানে ১০.৩০-১০.৪০ সেকেন্ডকেই বড় সাফল্য মনে করা হত, সেখানে এখন লক্ষ্য ১০ সেকেন্ডের নিচে নামা। দৌড় শেষে গুরিন্দেভিরের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “খুব শিগগিরই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে।” ক্রীড়া মহলে গুঞ্জন, রাঁচির ট্র্যাক শুধু একটি রেকর্ডের সাক্ষী থাকল না, বরং ভারতীয় স্প্রিন্টের নতুন স্বপ্নেরও সূচনা করল।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভার বিকাশ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে এক অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ফলে দেশের ক্রীড়াজগতে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিন ধরেই জাতি গঠনের শক্তি হিসেবে খেলাধুলার বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি ঐক্য প্রচারে, যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ভারতকে একটি আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলাধুলার ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (TOPS)-এর মতো প্রধান কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের ক্রীড়া জগৎকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং ভারতকে খেলার দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ক্রীড়া পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়াই এর প্রমাণ। এই আর্থিক সহায়তার ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের উত্থান মূলত তরুণ প্রতিভা শনাক্তকরণ ও লালন-পালনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। অকৃত্রিম প্রতিভাকে সম্ভাব্য পদকজয়ী খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    লক্ষ্য অলিম্পিক্স

    অলিম্পিক্সের মঞ্চে এখন ভারতীয়দের দাপট বেড়েছে। প্রতিটা অলিম্পিক্সেই সোনা জিতছে ভারতের অ্যাথলিটরা। ভারত সরকারও অলিম্পিক্স ও অলিম্পিক্সের খেলা অ্য়াথলিটদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, অনুশীলনের ব্য়বস্থায় জোর দিয়েছে। আগামী ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আয়োজক হিসেবে নিজেদের নাম দেখতে চায় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব পেলে ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। এখানে অ্য়াথলিটদের জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল পরিকাঠামো দেওয়ার। অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ পেলে, সেই বিষয়ে আরও জোর দেওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, দেশের উন্নতিতে স্পোর্টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁর কাজের ষোল আনা রিটার্ন তিনি পেয়েছেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থেকেও। উঠে এসেছে গুরিন্দেভিরের মতো প্রতিভা। যাদের লক্ষ্য জাতীয় গেমস নয়, অলিম্পিকের পোডিয়াম।

     

     

     

     

     

  • Yuva Bharati Krirangan: ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরল যুবভারতীর সামনের সেই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি

    Yuva Bharati Krirangan: ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরল যুবভারতীর সামনের সেই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুবভারতী স্টেডিয়ামের (Yuva Bharati Krirangan ) সামনে থেকে সরিয়ে ফেলা হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা এবং নকশায় তৈরি মূর্তি। ২০১৭ সালে যুব বিশ্বকাপের সময় ‘বিদঘুটে’ এই বিতর্কিত মূর্তিটি বসানো হয়। আইএসএলের ডার্বি দেখতে গিয়ে মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। কাজ শুরু হতে বেশি দেরি হল না। শনিবার সকালে নির্দেশমতো সেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই মূর্তিতে কোমর থেকে পা পর্যন্ত শরীরের উপর পৃথিবী এবং তার উপর বিশ্ববাংলার লোগো ছিল। দু’পায়ে ছিল দু’টি ফুটবল। প্রথম থেকেই এই মূর্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। পায়ের বলে লেখা ‘জয়ী’।

    শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ওই মূর্তি

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন। ‘অনর্থক’ এই মূর্তি তৈরির পর থেকেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। ওই মূর্তিটির যে কী অর্থ, তা বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর ১৭ মে যুবভারতীতে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি দেখতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ বলেছিলেন, “এরকম অদ্ভূত বিদঘুটে একটা মূর্তি, একটা কাটা পা তার ওপর ফুটবল । আমার তো মনে হয় এই মূর্তি লাগানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ দিন আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর মেসি কাণ্ড হল, সরকার চলে গেল।” তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে মূর্তিটা ভেঙে দেওয়া হবে।

    বসানো হবে কোনও ফুটবলারের মূর্তি

    মন্ত্রীর ইঙ্গিত মতোই শুক্রবার মধ্যরাতে সরিয়ে ফেলে হয়েছে মূর্তিটি। তবে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা হয়নি। মূর্তির দু’পায়ের মোজার উপরের অংশ কেটে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও এক জোড়া মোজা এবং জুতোর সঙ্গে দু’টি বল থেকে গিয়েছে। বাকি অংশটিও সম্ভবত সরিয়ে দেওয়া হবে। সেই স্থানে কোনও ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে বলে চর্চা চলছে। ডার্বির রাতেই নিশীথ বলেছিলেন, “আমরা এমন একটা মূর্তি যার কোনও অর্থ নেই, আমরা সেটা পরিবর্তন করব। এর বদলে বিখ্যাত কোনও ফুটবলারের মূর্তি বসানো হবে।”

     

  • ISL Champion East Bengal: ঐতিহাসিক জয়! প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    ISL Champion East Bengal: ঐতিহাসিক জয়! প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুটবল মানেই বাংলা, আর বাংলা মানেই ফুটবল। প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল (ISL Champion East Bengal) ক্লাবকে শুভেচ্ছা বার্তায় লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ বছর পর ফের ভারতসেরা হয়েছে লাল হলুদ শিবির। শুধু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবই নয়। খেতাব জিততে না পারলেও রানার্স আপ হয়েছে গঙ্গা পাড়ের কলকাতার আরও একটি ঐতিহ্যশালী ক্লাব মোহনবাগান সুপারজায়ান্টস। বাংলার দুটো সেরা ক্লাবকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগ্য দল হিসেবে ভারতসেরা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল লাল-হলুদ শিবিরের।

    মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘‘ঐতিহাসিক জয়! ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে ভারতীয় সুপার লিগ (ISL) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই গৌরবময় মুহূর্ত শুধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ তথা বিশ্বের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী বাঙালির জন্য গর্বের। বাংলার সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। টিমের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ক্লাব কতৃপক্ষের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও লড়াইয়ের মানসিকতাই এই দুরন্ত সাফল্যের চাবিকাঠি। একইসঙ্গে মোহনবাগানকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেও গোল পার্থক্যের কারণে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে তারা। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডও বাংলার ফুটবল গৌরবকে সমানভাবে উজ্জ্বল করেছে। ফুটবল মানেই বাংলা, আর বাংলা মানেই ফুটবল। দুই প্রধান দলই আজ বাংলার সম্মান আরও বাড়িয়ে দিল।’’

    চ্যাম্পিয়নের দৌড়

    অবশেষে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ১৪ মিনিটে ইন্টার কাশীকে এগিয়ে দেন আলফ্রেড। প্রথমার্ধে পিছিয়েই ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো ফিরে আসে অস্কার বাহিনী। ৪৯ মিনিটে সমতা ফেরান ইউসেফ। ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মহম্মদ রশিদ। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি মোহনবাগানেরও সুযোগ ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট নষ্ট করতে হত। পাশাপাশি জিততে হত বাগানকে। যুবভারতীতে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতল মোহনবাগান। গোল করলেন মনবীর সিংহ ও জেমি ম্যাকলারেন। ইস্টবেঙ্গলের মতোই ২-১ গোলে জিতল বাগান। দু’দলই ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে শেষ করল। কিন্তু গোলপার্থক্যে এগিয়ে থাকায় জিতল ইস্টবেঙ্গল। মহমেডানের বিরুদ্ধে ৭-০ গোলে জেতার সুবিধা পেল তারা। সমান পয়েন্ট পেয়েও দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল গত দু’বারের চ্যাম্পিয়নেরা। পঞ্জাব এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন নম্বরে শেষ করল মুম্বই সিটি এফসি। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে সোনার বুট জিতলেন ইস্টবেঙ্গলেরই ইউসেফ এজ্জেজারি।

LinkedIn
Share