Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Malaria in Winter: একমাসে আক্রান্ত ১৫০! শীতেও রাজ্যে দাপট ম্যালেরিয়ার, প্রশাসনের গাফিলতিই দায়ী, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Malaria in Winter: একমাসে আক্রান্ত ১৫০! শীতেও রাজ্যে দাপট ম্যালেরিয়ার, প্রশাসনের গাফিলতিই দায়ী, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দরজায় শীত কড়া নাড়লেও মশার দাপট চলছেই। তাই ডিসেম্বরেও রাজ্যবাসীর মশাবাহিত রোগ থেকে রেহাই নেই। এমনটাই খবর রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্দরে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় বছরভর ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো উদ্বেগজনক। শীতের মরশুমে মশা বাহিত রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমবে বলেই আশা করেছিলেন চিকিৎসক মহল। কিন্তু ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    কী বলছে স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে নতুন করে প্রায় দেড়শো জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়ার মতো একাধিক জেলায় ম্যালেরিয়ার দাপট রয়েছে। তবে কলকাতার শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, টালিগঞ্জের মতো এলাকায় নভেম্বর মাস জুড়ে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিল। এই এলাকা থেকেই গত এক মাসে প্রায় ৬০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন।

    কেন ডিসেম্বরেও মশাবাহিত রোগের দাপট অব্যহত?

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগ মূলত বর্ষাকালেই হয়। সেই হিসাব মতো সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর এই দুই মাস মশাবাহিত রোগের দাপট রাজ্যে বেশি থাকে। বর্ষায় জমা জল মশার আতুর ঘর। তাই এই সময়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির মতো রোগের সংক্রমণ বেশি হয়। কিন্তু চলতি বছরে শীতের মরসুমেও মশাবাহিত রোগের দাপট চলছে। বিশেষজ্ঞ মহল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকেই এর জন্য দায়ী করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয় না। পার্ক, পুকুর সংলগ্ন এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। আগাছা পরিষ্কার হয় না। এর ফলে মশার বংশবিস্তার সহজ হচ্ছে। তাই শীত পড়লেও মশাবাহিত রোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাচ্ছে না।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে প্রশাসনের সক্রিয়তার পাশপাশি জনসচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, এলাকার পরিচ্ছন্নতার পাশপাশি বাড়ি ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রয়েছে কিনা সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে। ছাদে বা বাগানে জল জমতে দেওয়া যাবে না। অনেকেই ছাদে টবে গাছ রাখেন।‌ বাগান করেন। বিশেষত কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় ছাদে বাগান‌ তৈরির রেওয়াজ বাড়ছে। কিন্তু সেই বাগানে জল জমছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, এলাকায় পুকুর কিংবা পার্ক থাকলে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম মাফিক, তার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজরদারি জরুরি। আগাছা পরিষ্কার করা, পুকুরের জল যাতে পরিষ্কার থাকে, সেদিকে নজর রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কেও সচেতনতা প্রসার জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় আক্রান্তকে দ্রুত চিহ্নিত করা। বারবার জ্বর আসা, মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো দরকার। যাতে রোগ চিহ্নিত সহজ হয়। পরিবারের কেউ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হলে বাকিদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়া দরকার। রোগীকে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। অন্যদের ও কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে রোগ সংক্রমণ বেশি না ছড়ায়।

  • SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরকে নির্ভুল করতে বিএলও-দেরকে আরও কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর কাজে (SIR) সময়ের মধ্যে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ শুধরে নিতে বিএলও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সঙ্গে সতর্কবার্তা— যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুলকে ঠিক না করা হয়, তাহলে সেগুলিকে ইচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেক্ষেত্রে বিএলও-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নিয়ে কাজের অতিরিক্ত চাপের জন্য তৃণমূল সমর্থিত বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অপর দিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ, এক শ্রেণির বিএলওরা প্রত্যক্ষভাবে শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন। মৃত, অবৈধ ভোটার এবং স্থানান্তরিত হয়েছে এমন ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভুল কাজ করলে কমিশন (Election Commission) কড়া অবস্থান নেবে বলে এখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

    বিএলওরা ভুল প্রসঙ্গ কানে দেননি

    কাজের চাপ এবং স্বচ্ছতার কথা ভেবে (Election Commission) এনুমারেশন ফর্ম (SIR) দেওয়া এবং সংগ্রহের জন্য এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সময়ে কাজ করতে না পারার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিএলও অসুস্থ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তাই সকল বিষয়কে মাথায় রেখে ফর্ম জমা করার কাজকে ৪ ডিসেম্বর থেকে ৭ দিন বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসআইআর-এ যদি কোনও ভুল ধরা পরে, তাহলে এই ভুলকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ধরা হবে। সময়ের মধ্যে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগও পাবেন বিএলও-রা। কিন্তু, তার পরে হলে, তা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে ধরা হবে। কমিশন কোনও ভাবেই কাজের ভুলকে সাধারণ ভুল হিসেবে গ্রহণ করবে না। তবে আগেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল অবজার্ভাররা বহু বিএলও-কে নিজেদের ভুল ঠিক করে নিতে বলেছিলেন। প্রয়োজনে রিপোর্টও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএলওরা কোনও ভাবেও কানে দেননি। এই অবস্থায় কমিশনের তরফ থেকে সরাসরি বার্তা এসেছে। অপর দিকে বাংলার এসআইআর কাজকে আরও গতি দিতে পাঁচজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।

    খসড়া বের হলে কমিশনের পদক্ষেপ

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল পর্যবেক্ষকরা (SIR) একাধিক বিএলওকে সতর্ক করেছে। কিন্তু কোথাও কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভুল কাজের কোনও রকম সংশোধন করা হয়নি। এরপর অনিচ্ছাকৃত ভুল শুধরে নেওয়া হয়নি। আগামী ১১ ডিসেম্বর খসড়া লিস্ট প্রকাশ হলে কমিশন কী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাই এখন দেখার।

  • SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ১৬ ডিসেম্বর এসআইআর-এর (SIR In Bengal) খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৬ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। সোমবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে।

    ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায়

    নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৩২। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান।

    মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২ টিতে

    অন্যদিকে, রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই বলে জানা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটারের খোঁজ মেলেনি। তার ফলে পূরণ করা সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম ফেরত আসে। এই অবাক করা তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। রিপোর্ট চায় তারা। এরপর ২২০৮টি যে বুথ ছিল সেটা কমতে কমতে এসে দাঁড়াল ২টি বুথে। প্রথমে ২,২০৮, দ্বিতীয়বার ৪৮০, তৃতীয়বার ২৯, চতুর্থবার ৭ ৭-এর পর এবার মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২টিতে! শুধুমাত্র হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেই এই বুথ রয়েছে। যেখানে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত হওয়া, ডুপ্লিকেট ভোটার নেই। অর্থাৎ, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশন যে ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কথা বলছিল বারবার, সেই প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক প্রমাণিত

    ২২০৮টি বুথে কোনও ‘আন-কালেক্টবল’ ফর্ম নেই, এ বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যের শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, “আমি শুধু একটা কথাই বলব, যদি কেউ মরতে না চান, যদি সারাজীবন বেঁচে থাকতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসুন। নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকবেন। ২০০০-এর উপর বুথে কোনও মৃত্যু হয়নি, কেউ অন্য কোথাও যায়নি, এটাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। অদ্ভুত এক ভূতুড়ে জায়গা। আর জেলা প্রশাসন হচ্ছে গেছো ভূত।” বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা আমাদের পিসি সরকারের ম্যাজিক। আমাদের যে পিসির সরকার…অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওই সমস্ত এলাকায় কেউ মারা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে বলব ওই এলাকাতেই, সবাই নিজের নিজের জেলায় যে বুথে কেউ মারা যায়নি, সেই বুথে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। যাতে কেউ মারা না যান। ওখানে গেলে আপনারা অমরত্ব লাভ করবেন।” এনিয়ে পাল্টা দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দেখা গেল বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক হলো।

  • West Bengal SIR: সহজেই ধরা পড়বে ভুয়ো ভোটার! নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কমিশন, কী বিশেষত্ব?

    West Bengal SIR: সহজেই ধরা পড়বে ভুয়ো ভোটার! নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কমিশন, কী বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুয়ো ভোটারদের (Fake Voters) ধরতে নতুন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। ডুপ্লিকেট এন্ট্রি (Duplicate Entries) শনাক্ত করতে কমিশন ব্যবহার করছে একটি নতুন সফটওয়্যার, যার নাম ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’ (Demographic Similiar Entries)। জানা যাচ্ছে, প্রথমবার এই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কমিশন। নাম, ঠিকানা-সহ ব্যক্তিগত তথ্য মিলিয়ে দ্রুত সম্ভাব্য ডুপ্লিকেট ভোটারদের খুঁজে বের করে দেবে এই সফটওয়্যার। কমিশনের বিশ্বাস, ভুয়ো ভোটারদের খুব সহজেই চিহ্নিত করবে নয়া এই সফটওয়্যার।

    স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে নয়া সফটওয়্যার

    কমিশন সূত্রে খবর, ইআরও-দের সিস্টেমে ইতিমধ্যেই সফটওয়্যারটি যুক্ত করা হয়েছে। ইআরও-দের ড্যাশবোর্ডে ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এনট্রিজ। কয়েকদিনের মধ্যেই নয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন ডিইও। বাদ যাবে না রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (West Bengal CEO) দফতরও। কমিশনের দাবি, এ রাজ্যের ভোটার তালিকা (West Bengal SIR) স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ। কারণ, একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে কিনা বা তথ্যের ভুল ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা ধরা পড়বে সহজেই। প্রশাসনের এক কর্তার মন্তব্য, “ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এনট্রিজ চালু হয়ে যাওয়ায় ডুপ্লিকেট এন্ট্রি খুঁজে বের করা দ্রুত, নির্ভুল ও স্বয়ংক্রিয় হবে। এতে ভোটার লিস্ট আপডেট করার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।’’

    ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

    দেশের ভোটার তালিকাকে ত্রুটি মুক্ত করা হল স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর (West Bengal SIR) মূল উদ্দেশ্য। আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর কাজের শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে৷ নতুন তালিকাটি যাতে একশো শতাংশ স্বচ্ছ এবং ত্রুটিমুক্ত হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। এসআইআর সংক্রান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন কোনও প্রশ্ন না-ওঠে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে কমিশনের তরফে৷ কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৩২। এদিকে শেষ পর্যায়ের রাজ্যে এসআইআর-এর (West Bengal SIR) সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে কমিশন। ফর্ম জমা নেওয়া হবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা।

  • Suvendu Adhikari: “গীতার ক’টি অধ্যায় তা বলতে পারবেন না মমতা”, ‘বাবরি’ নামে আপত্তি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গীতার ক’টি অধ্যায় তা বলতে পারবেন না মমতা”, ‘বাবরি’ নামে আপত্তি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেক থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর না যাওয়া নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হিন্দু-বিরোধী। তিনি গীতার ক’টি অধ্যায় তা বলতে পারবেন না। আয়োজকরা কেন ওনাকে ডেকেছিলেন তা আমি জানি না।” একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মসজিদ নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। নামকরণে আমাদের আপত্তি আছে।”

    নামকরণে আমাদের আপত্তি

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) বলেন, “বাবর একজন লুটেরা, ধর্ষণকারী ছিলেন। ভারতের কেউ ছিলেন না। দেশ দখল করতে এসেছিলেন। তার নাম নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। মসজিদ আপনারা নিজেদের অর্থ জোগাড় করে করুন। কিন্তু এই যে আস্ফালন দেখানো হচ্ছে। সরকারি মদতে পুলিশ বাহিনী দিয়ে যে উল্লাস করানো হল। কোনও পারমিশন নেওয়ার দরকার হচ্ছে না। এগুলিতে আমার আপত্তি আছে।” শুভেন্দুর কথায়, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের পার্টির সকলে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আমিও বলেছি, নামকরণে আমাদের আপত্তি আছে। বাবর একজন ধর্ষণকারী ছিলেন, লুটেরা ছিলেন। তিনি ভারতের কেউ ছিলেন না। তিনি ভারত দখল করতে এসেছিলেন। ভারতের মন্দিরগুলো ভেঙে-গুঁড়িয়ে, আদিবাসীদের ধর্ম পরিবর্তন করতে এসেছিলেন। ভারত থেকে লুটে নিয়ে ভারতের সোনা-হীরে-মণি-মাণিক্য সব আরবে নিয়ে চলে যেতে এসেছিলেন। তাঁর নামকরণে আমাদের প্রত্যেকের আপত্তি রয়েছে। এটা একটি বাংলাদেশের মৌলবাদীদের যে আস্ফালন তার প্রভাব সীমান্তবর্তী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদে দেখানো হচ্ছে। এটি প্রতীকী কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কোনও উদ্যোগ নয়। আমরা আবারও বলি, মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদ্বার তৈরি করুন। বৈধভাবে করুন। নিজেদের জায়গায় করুন। নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকেরা অর্থ জোগাড় করে করুন।”

    মৌলবাদীদের আস্ফালন

    শুভেন্দুর সংযোজন, “বাবরের নামে করব, কিছু করতে পারবে না…আমরা করব, করে দেখাব। মাইক বাজাব, লক্ষ লোকের জমায়েত করব…অনুমতি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই…। হুমায়ুন কবীরের ভাষা ঠিক মহম্মদ আলি জিন্নাদের মতো। যেখানে সরস্বতী পুজো যোগমায়া দেবী কলেজে করতে গেলে হাইকোর্টে যেতে হয় ছাত্রীকে। আমাকে দোলের দাহন করতে গেলে ভবানীপুরে রাতে ৯টার পর গিয়ে গলির মধ্যে করতে হয় হাইকোর্টের অর্ডারে, কলকাতা পুলিশের আপত্তিতে। মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় একচোখ বন্ধ করে ওখানে এগুলোর অনুমতি দিলেন। এটা মৌলবাদীদের আস্ফালন।”

    ‘‘উত্তরবঙ্গে ৯-০ করব’’

    অন্যদিকে গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “গীতা পাঠের মঞ্চে বিজেপির কেউ ছিল না। ওখানে যে সাধুরা বক্তব্য রেখেছেন তাঁদের কি বিজেপি বলা যায়? আমরা যারা গিয়েছি, তাঁরা হিন্দু হিসেবে গিয়েছি। আমি মনে করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও হিন্দু অনুষ্ঠানেই ডাকা উচিত নয়। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের রীতি নীতি মানেন না।” এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে অন্য একাধিক প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য যে ৩৯ শতাংশ ভোট আমরা পেয়েছি, তা ৫১ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।” এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন কেন মুখ্যমন্ত্রী আজ বেলডাঙা গেলেন না? পাশাপাশি তিনি তোপ দেগে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গে গিয়ে কোনও লাভ হবে না। কোচবিহারে আমরাই জিতব। আমরা ৯-০ করব।”

  • SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR) কাজকে আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পাঁচ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই পর্যবেক্ষকরা রাজ্যের ৫ ডিভিশনে কাজ করবে। এগুলি হল— প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদা, এবং জলপাইগুড়ি। উল্লেখ্য, আগেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করেছিল। একই ভাবে রাজ্যে রয়েছে ১২ জন এসআইআর পর্যবেক্ষক। বিভিন্ন জেলায় তাঁদের নিযুক্ত করা হয়েছে। এবার আরও ৫ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন, কুমার রবিকান্ত সিংহ, নীরজ কুমার বানসোড়, আলোক তিওায়ারি, পঙ্কজ যাদব এবং কৃষ্ণকুমার নিরালা।

    মৃত ভোটার ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯ (SIR)

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে (SIR) শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটারের নাম রয়েছে ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি সংখ্যা খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ঠিকানা বদল করেছে বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে বাতিলের তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নামও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য এবং নিবিড় সংশোধনের তালিকা যাতে আরও নির্ভুল হয়, সেই কথা বলে কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে। এই কাজকে আরও ভালো ভাবে করার জন্য কমিশন ৫ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।

    কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি এমন বুথ কত?

    কমিশনের (Election Commission) তথ্যে আরও জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটার একজনকেও (SIR) পাওয়া যায়নি এমন বুথের সংখ্যা হল ৭। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে প্রথমে যে রিপোর্ট জমা পড়েছিল, সেই অনুসারে এই রকম বুথের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। তাতে বলা হয়েছিল ২২০৮টি বুথে গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি। এমনকি সেখান থেকে অন্যত্র হস্তান্তর হয়নি। এই বিষয় নিয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় ব্যাপাক চর্চা এবং পর্যালোচনা হয়েছিল, পরে অবশ্য সংশোধন করা হয়েছে।

    ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে

    এদিকে এসআইআর-এর (SIR) কাজের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার মুখে বিশেষ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কাজের গতিপ্রকৃতি দেখতে, ভোটার তালিকায় ঝাড়াই-বাছাই করে আরও নিখুঁত করতে করা হয়েছে বৈঠক। জাল ভোটারদের খোঁজ করতে তৎপর হয়েছে কমিশন। একই নামে একাধিক ভোটার, আলাদা আলদা ব্যক্তি কিনা এই নাম নিশ্চিত করতে বিএলওদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার থেকে পোর্টালে বিশেষ অপশন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ তারিখের মধ্যে ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে। তবে কাজকে আরও নিখুঁত করতে কমিশন প্রথম পর্যায়ের কাজে সমীক্ষা করতে বসেছে। ডিজিটাইজেশন পর্বে বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে। এবার বিস্তারিত তথ্য জানতে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়েছে। রাজ্যের এখনও জমা না পড়া এনুমারেশন ফর্মের সংখ্যা হল প্রায় ৫৬ লক্ষ। যার মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৬৫।

    কাজের পরিসর আরও ৭ দিন বাড়তে পারে

    গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর (SIR) কাজ শুরু হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এনুমারেশন ফর্ম নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। ৯ ডিসেম্বর ছিল খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়কাল। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে সময়কে ৭ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে ১১ ডিসেম্বর, ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। এরপর নাম সংশোধন, অভিযোগ, আপত্তি বিষয়ে কমিশনকে (Election Commission) জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে প্রয়োজন আনুযায়ী কমিশন আরও বেশকিছুদিন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    ভোটের আগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

    এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী প্রথম থেকেই আপত্তি তুলেছেন। ওপর দিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এবং ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ করে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। তবে তৃণমূল, মুখে কমিশনশনকে (Election Commission) বারবার হুমকি দিলেও তালিকা সংশোধনের কাজে সহযোগিতা এবং ক্যাম্পেরও আয়োজন করেছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের যেমন নাম ঢোকানোর কাজ করছে তৃণমূল। আবার একই ভাবে তৃণমূল বেঁছে বেঁছে হিন্দুদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক পারদ এখন চরম শিখরে।

  • Vijay Diwas 2025: ৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপন, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসছেন ৮ মুক্তিযোদ্ধা সহ ২০ জন

    Vijay Diwas 2025: ৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপন, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসছেন ৮ মুক্তিযোদ্ধা সহ ২০ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এক ঐতিহাসিক দিন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধজয় (1971 Indo-Pak War) ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের (Birth of Bangladesh) দিন। যে কারণে, ভারত এই দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ (Vijay Diwas 2025) হিসেবে পালন করে এসেছে। সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের (Army Eastern Command) কাছে এই দিন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার (Lieutenant General Jagjit Singh Arora) কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল প্রায় ৯৩ হাজার পূর্ব-পাক সেনা। যুদ্ধের ইতিহাসে যা অন্যতম বড় আত্মসমর্পণ ছিল। যার পরেই স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এবারেও বিজয় দিবস ধুমধাম করেই পালন করতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসছে ২০ জনের প্রতিনিধিদল (Bangladesh Delegation)।

    ভারতে আসছে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল

    প্রথমাফিক এবছরও ভারতীয় সেনা বিজয় দিবস (Vijay Diwas 2025) পালন করতে চলেছে। রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর বিজয় দুর্গে (Vijay Durg) এই কথা ঘোষণা করেন মেজর জেনারেল বাঙ্গুরু রঘু (MGGS Major General Vanguru Raghu)। তিনি জানান, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছে এক প্রতিনিধিদল। এদিনই বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয় কলকাতায়। এই আবহে বিজয় দুর্গে (পূর্বতন ফোর্ট উইলিয়াম) বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, মোট ২০ জনের প্রতিনিধিদল (Bangladesh Delegation) আসছেন কলকাতায়। সেনার তরফে আরও জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতের তরফ থেকে ফোর্ট উইলিয়ামে আসার জন্য বাংলাদেশ সেনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয় সেই দেশের সেনা। ওই প্রতিনিধিদলে থাকবেন বাংলাদেশ সেনার দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ৮ মুক্তিযোদ্ধা (Muktijoddhas) এবং তাঁদের পরিবার। বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন এক ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার সামরিক অফিসার।

    বিজয় দিবসে থাকবে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল

    সেনার তরফে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ২০ জন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল (Bangladesh Delegation) এসে পৌঁছচ্ছেন কলকাতায়। ১৫ ডিসেম্বর তাঁরা বারাকপুরের মঙ্গল পান্ডে মিলিটারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেনাদের ‘মিলিটারি টাট্টু’ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ওইদিন রাজভবনে গিয়ে রাজ‌্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তাঁরা। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ও সন্ধ‌্যায় বিজয় দিবস উপলক্ষে‌ বিজয় স্মারকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন-সহ একাধিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। পাশাপাশি, ১৬ তারিখের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও।

    সেনার বিজয় বাইক র‌্যালির সমাপ্তি

    এদিকে, বিজয় দিবসকে (Vijay Diwas 2025) সামনে রেখেই গত ১ ডিসেম্বর গুয়াহাটি থেকে শুরু হয়েছিল বিজয় বাইক র‌্যালি (Vijay Bike Rally)। ডিমাপুর, তেজপুর, শিলং, গুয়াহাটি, বিনাগুড়ি, সুকনা, হিলি, শিলিগুড়ি, মালদা, পানাগড় হয়ে এদিন শেষ হয় কলকাতার বিজয় দুর্গে। শেষ পর্বে বাইক চালিয়ে অংশ নেন ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ তথা সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দ্র তেওয়ারি (GOC-in-C Lieutenant General RC Tiwari)। মোট ১৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল এই র‌্যালি। র‍্যালির সময় রাইডাররা আগরতলার অ্যালবার্ট এক্কা ওয়ার মেমোরিয়াল, করিমগঞ্জ মনোলিথস, কিলাপাড়া ওয়ার মেমোরিয়াল, বগরা ওয়ার মেমোরিয়াল, হিলি ওয়ার মেমোরিয়াল সহ বিভিন্ন যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • Geeta Path Program: পাঁচ নয়, ব্রিগেডে গীতা পাঠ করলেন সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ

    Geeta Path Program: পাঁচ নয়, ব্রিগেডে গীতা পাঠ করলেন সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বিঘ্নেই শেষ হল ব্রিগেডে (Brigade) পাঁচ লক্ষ কণ্ঠের গীতা পাঠের অনুষ্ঠান (Geeta Path Program)। মাঠময় গেরুয়া। দুর্ঘটনা এড়াতে মাঝপথেই ভাষণ শেষ করে দিতে বাধ্য হন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর। রবিবারের এই কর্মসূচির আয়োজক ছিল সনাতন সংস্কৃতি সংসদ।

    ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে অনুপস্থিত মমতা? (Geeta Path Program)

    উদ্যোক্তাদের তরফে প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল এই কর্মসূচিটি অরাজনৈতিক। সেই কারণেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকেও। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে গা বাঁচাতে প্রত্যাশিতভাবেই অনুপস্থিত রইলেন তিনি। অথচ এই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দীঘায় ঘটা করে উদ্বোধন করেছিলেন জগন্নাথ ধামের। যে জগন্নাথ আদতে শ্রীকৃষ্ণই। তাঁরই মুখনিঃসৃত বাণী পাঠের দিনই স্রেফ ভোটের রাজনীতি করতে গিয়ে, বলা ভালো, নবান্নের চোদ্দতলার ঠান্ডা ঘরের চেয়ারটা যাতে হাতছাড়া না হয়, তাই এদিন আমন্ত্রণ পেয়েও ব্রিগেডে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। অন্তত, বিরোধীদের দাবি তেমনই।

    কী বললেন রাজ্যপাল

    তবে মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হলেও, গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে মহাভারত এবং গীতার নানা অংশের উদ্ধৃতি। গীতার ‘পরিত্রাণায় সাধুনাং’ শ্লোকটি উদ্ধৃত করে তিনি দুষ্টের দমনের ডাক দেন। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের অর্জুনকে কর্মে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কর্ম করার জন্য প্রস্তুত’। পরে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গও ধর্মীয় ঔদ্ধত্যকে শেষ করার জন্য প্রস্তুত।” তিনি বলেন, “গীতা আধ্যাত্মিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক – সব ক্ষেত্রেই গভীর গুরুত্ব বহন করে।” গীতাকে তিনি ভগবানের সঙ্গীত বলেও উল্লেখ করেন। রাজ্যপাল বলেন, “এই ধর্মগ্রন্থ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাহিত, নিঃস্বার্থ কর্ম ও উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য পথনির্দেশ করে। গীতা আজও নাগরিকদের সমাজ ও জাতির প্রতি কর্তব্য পালন করতে প্রাণিত করে।”

    কারা ছিলেন অনুষ্ঠানে

    গীতাপাঠের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিধানসভার (Geeta Path Program) বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির দুই প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষও। গীতা পাঠের জন্য এদিন ব্রিগেডে তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল (Brigade)। মূল মঞ্চের দুপাশে অপেক্ষাকৃত ছোট দুটি মঞ্চ ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন সাধুসন্তরা। এসেছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মতুয়াদের একাংশও।

    সাধ্বী ঋতম্ভরা

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধ্বী ঋতম্ভরা। গীতা পাঠের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে প্রথম ভাষণটি দেন তিনিই। বক্তা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায় মাঠে। মাঠের শেষের দিকে থাকা লোকজন মঞ্চের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এই হুড়োহুড়ি দেখে ভাষণ দীর্ঘায়িত করেননি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই নেত্রী। হিন্দুরাষ্ট্রের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। এও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মাটি জেগে ওঠো, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জেগে ওঠো। দুষ্টের দমন করো।” পরে (Geeta Path Program) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস প্রসঙ্গে ঋতম্ভরা বলেন,  “এ দেশে বাবর বা বাবরির কোনও ভিত্তি নেই। ইট দিয়ে একটি কাঠামো তৈরি করা যায়, কিন্তু বাবরকে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই দেওয়া যায় না। এই দেশ রামের, চিরকাল রামেরই থাকবে। এখানে শুধু ভগওয়া রাজ করবে। এটাই চিরন্তন সত্য (Brigade)।”

    “ঐতিহাসিক দৃশ্য”

    ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, যা প্রায়ই বড় রাজনৈতিক সমাবেশের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এদিন সেটিই রূপান্তরিত হয়ে উঠেছিল সন্ন্যাসী ও হিন্দুদের একস্বর শ্লোকপাঠের মধ্যে গেরুয়া সমুদ্রে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এই সমাবেশকে “ঐতিহাসিক দৃশ্য” বলে বর্ণনা করেছেন এবং জনতার উপস্থিতিকে “অসাধারণ” ও “খাঁটি ভক্তিতে পূর্ণ” বলে আখ্যা দেন (Geeta Path Program)। মালব্যের বক্তব্য যে নিছক কথার কথা নয়, তার প্রমাণ মিলল পুলিশেরই একটি সূত্রে। এদিনের অনুষ্ঠানের নাম ছিল পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ। যদিও সূত্রের খবর, লোক হয়েছিল সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি। রবিবারের অনুষ্ঠান যে অরাজনৈতিক, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন সনাতন সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের কোনও সম্পর্কই নেই। ভোট তো সারা বছরই চলছে। সারা ভারতে চলছে। শ্রীমদ্ভাগবদ গীতার সৃষ্টি হয়েছিল মোক্ষদা একাদশীতে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীই মোক্ষদা একাদশী। এই তিথিটা তো এই সময় আসবেই। তাই এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। এই অনুষ্ঠানের কথা আমরা বিভিন্ন (Brigade) মসজিদেও জানিয়েছি। এটা আমাদের ধর্মের কাজ। কোনও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়। কোনও সাধু-সন্ন্যাসীদের শক্তির প্রদর্শনও নয়। এটি একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান (Geeta Path Program)।”

  • Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখ লাখ কণ্ঠে গীত হচ্ছে গীতা (Geetapath)। ব্রিগেডজুড়ে (Brigade) ভাবগম্ভীর পরিবেশ। ধূপের গন্ধে ম ম করছে গোটা চত্বর। সাধু-সন্তদের পাশাপাশি গীতা পাঠ করছে আমজনতাও। এই জনতার ভিড়ে যেমন ছিলেন হিন্দুরা, তেমনি সংখ্যায় কম হলেও, ছিলেন ভিন ধর্মের কিছু মানুষও। সবার সঙ্গেই গলা মেলালেন তাঁরাও। বস্তুত, রবিবার ভোর থেকেই জনতা ছিল ব্রিগেডমুখী। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দলে দলে লোক যোগ দিতে যান গীতা পাঠের আসরে। ঘোড়ার গাড়িতে করে মঞ্চে এসেছেন বেশ কয়েকজন সাধু-সন্তও। ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক ন’টা বাজে, তখনই এক সঙ্গে বেজে উঠল কয়েক হাজার শাঁখ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়ও।

    সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ (Geetapath)

    ব্রিগেডে এদিন পাঁচ লাখ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ। এদিন প্রথমে হয়েছে সমবেত কণ্ঠে বেদপাঠ। পরে হয় গীতা আরতি। এই আরতির সময় ঢাক, খোল এবং করতাল নিয়ে ভাবাবিষ্ট হয়ে নৃত্য করতে দেখা যায় জনতার একাংশকে। এই সময় উলুধ্বনিও দিতে থাকেন মহিলারা। অনুষ্ঠানে সভাপতি পদে বরণ করে নেওয়া হয় জ্ঞানানন্দজি মহারাজকে। ব্রিগেডের এই ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল রেল। শিয়ালদহের পাশাপাশি হাওড়া শাখায়ও চলছে বিশেষ ট্রেন। ট্রেন এসেছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং থেকেও। ট্রেনগুলিতে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পরে এমন জনসমাবেশ দেখল ব্রিগেড। এদিনের ভিড় ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড।

    আয়োজনের পুরোধা

    এদিন এই আয়োজনের পুরোধা ছিলেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যাঁকে কার্তিক মহারাজ বলেই চেনেন সবাই। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নির্গুনানন্দ ব্রহ্মচারী, বন্ধুগৌরব দাস মহারাজেরাও (Geetapath)। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সাধু-সন্তরা ছিলেন মূল মঞ্চে। বাকি দুটি মঞ্চে ছিলেন এরাজ্যের সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্টজনেরা। গীতা পাঠের (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। মাঠজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫টি গেট। সব মিলিয়ে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে তিনটি। মূল মঞ্চের পাশেই রয়েছে আরও দুটি মঞ্চ। মঞ্চের নীচে সোফায় বসার ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যদের। ভিআইপিদের বসার জন্যও ছিল লাল রংয়ের চেয়ার। ব্রিগেডের শেষ প্রান্তের মানুষজনও যাতে অনুষ্ঠান চাক্ষুষ করতে পারেন, সেজন্য টাঙানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিন। ভিড়ের কারণে সেই স্ক্রিনেই মূল অনুষ্ঠান দেখতে বাধ্য হয়েছেন বহু মানুষ (Geetapath)।

    গীতা আরতি

    এদিন গীতা পাঠ করতে ব্রিগেডে আসা মানুষকে সাহায্য করতে দুটি শিবির করা হয়েছিল হাওড়া স্টেশনের বাইরে। এই শিবির তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের তরফে। ভিড়ে চোটে যাঁরা বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন দিকে যাবেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, তাঁরা নানা প্রশ্ন নিয়ে চলে গিয়েছেন ক্যাম্পে। তারপর কেউ ফেরি চড়ে, কেউবা বাসে চড়ে রওনা দেন গন্তব্যের দিকে। পায়ে হেঁটেও অনেকেই দেখা গেল ব্রিগেডের দিকে যেতে। এদিনের অনুষ্ঠানে অবশ্য গোটা গীতা পাঠ করা হয়নি। পাঠ করা হয়েছে কেবল প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায়। এর আগে মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা হয় গীতাকে। পরে হয় আরতি। তারও পরে শুরু হয় গীতা পাঠ। সব শেষে হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবচন (Geetapath)। এদিনের এই (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেমন মানুষ এসেছেন তামাম ভারত থেকে, তেমনি লোকজন এসেছেন নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও।

    এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ

    উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে হাজির হননি মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে যাতে টোল না লাগে, তা-ই এদিনের অনুষ্ঠান সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের দাবি, কলকাতা বা কেবল বাংলা নয়, ভারতের ইতিহাসেও এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ এই প্রথমবার (Geetapath)। গত বছরই প্রথমবারের জন্য লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল এই ব্রিগেডেই। তবে সেবার মাঠ ভরেনি বলেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার লক্ষ কণ্ঠ নয়, গীতা পাঠ করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। এই প্রথম ব্রিগেড (Brigade) প্রত্যক্ষ করল ভারতে রয়েছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ছবি।

  • Gita Path: গীতা পাঠের আসরে ভক্তের ভিড় সামলাতে ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত রেলের

    Gita Path: গীতা পাঠের আসরে ভক্তের ভিড় সামলাতে ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই রবিবার, ৭ ডিসেম্বর। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের (Gita Path) আসর। আয়োজক সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। বছর দুয়েক আগেও লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন হয়েছিল অতিকায় এই মাঠেই (Railways)। এই কর্মসূচি উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হতে পারে ব্রিগেডে। এই অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। কলকাতার ময়দানে গীতা পাঠের এই আসরে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, বিহার এবং ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বহু মানুষ যোগ দেবেন। নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও বেশ কিছু বিশিষ্ট মানুষ এবং গীতাপ্রেমীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    আয়োজকদের দাবি (Gita Path)

    আয়োজকদের দাবি, এটি নিছকই একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ২৫টি প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে। পুরো মঞ্চ সাজানো হয়েছে অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পবিত্র গীতা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেশ কয়েক লাখ মানুষ ব্রিগেডে ভিড় জমাবেন বলে আশা উদ্যোক্তাদের। স্বাভাবিকভাবেই রবিবার ছুটির দিনে ভিড় সামলাতে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। জানা গিয়েছে, শিয়ালদা এবং হাওড়া শাখায় এদিন সব মিলিয়ে মোট ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। শিয়ালদা শাখার মধ্যে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং থেকে চলবে বিশেষ ইএমইউ ট্রেন।

    বিশেষ ইএমইউ ট্রেন

    কৃষ্ণনগর–শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে (Gita Path) শিয়ালদায় পৌঁছবে ৮টা ১০ মিনিটে। শিয়ালদা–কৃষ্ণনগর ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে ছাড়বে বিকেল ৪টেয়, কৃষ্ণনগর পৌঁছবে ৬টা ২৭ মিনিটে।শান্তিপুর–শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ৫টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে শিয়ালদায় পৌঁছবে ৭টা ২৫ মিনিটে। শিয়ালদা–শান্তিপুর ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে বিকেল ৩টে ২০ মিনিটে ছেড়ে শান্তিপুরে পৌঁছবে ৫টা ৫০ মিনিটে। বনগাঁ–শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি বনগাঁ থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে শিয়ালদায় পৌঁছবে ৮টায়। শিয়ালদা–বনগাঁ ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি ফিরতি পথে শিয়ালদা ছাড়বে (Railways) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে। বনগাঁ পৌঁছবে ৭ টায়। হাসনাবাদ-শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি হাসনাবাদ থেকে সকাল ৬ টায় ছেড়ে শিয়ালদা পৌঁছবে ৮টা ২৫ মিনিটে। শিয়ালদা-হাসনাবাদ ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে ছেড়ে হাসনাবাদ পৌঁছবে ৭টা ৪০ মিনিটে।

    স্পেশাল ট্রেন

    শিয়ালদা-লক্ষ্মীকান্তপুর ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে বিকেল ৪টে ৫ মিনিটে ছেড়ে লক্ষ্মীকান্তপুরে পৌঁছবে ৫টা ৪০ মিনিটে। লক্ষ্মীকান্তপুর-বালিগঞ্জ ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বালিগঞ্জে পৌঁছবে ৭টা ১৫ মিনিটে।  ডায়মন্ড হারবার-শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি ডায়মন্ড হারবার ছাড়বে (Gita Path) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে, শিয়ালদায় পৌঁছবে ৮টা ৪৫ মিনিটে। শিয়ালদা-ডায়মন্ড হারবার ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে বিকেল ৪টে ১০ মিনিটে ছেড়ে ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছবে ৫টা ৫৫ মিনিটে। ক্যানিং–শিয়ালদা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি ক্যানিং থেকে ৭টা ৫ মিনিটে ছেড়ে শিয়ালদায় পৌঁছবে ৮টা ২২ মিনিটে। শিয়ালদা–ক্যানিং ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি শিয়ালদা থেকে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে ক্যানিং পৌঁছবে ৬টা ৪৫ মিনিটে টায়।

    মেমু স্পেশাল

    রামপুরহাট–হাওড়া মেমু স্পেশাল ট্রেন ভায়া আহমেদপুর-কাটোয়া ট্রেনটি রামপুরহাট থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে হাওড়ায় পৌঁছবে ৯টা ৫০ মিনিটে। হাওড়া – রামপুরহাট মেমু স্পেশাল ভায়া আহমেদপুর-কাটোয়া হাওড়া থেকে বিকেল ৪টে ৪০ মিনিটে ছেড়ে রামপুরহাটে পৌঁছবে ১০টা ২০ মিনিটে। বর্ধমান–হাওড়া ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন ভায়া ডানকুনি বর্ধমান থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে হাওড়ায় ৮টা ৪০ মিনিটে পৌঁছবে। হাওড়া–বর্ধমান ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন ভায়া ডানকুনি হাওড়া থেকে সকাল ৬ টায় ছেড়ে (Gita Path) ৮টা ১০ মিনিটে বর্ধমানে পৌঁছবে।
    আরামবাগ-হাওড়া ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি ভায়া শেওড়াফুলি আরামবাগ থেকে সকাল ৬টা ২৭ মিনিটে ছেড়ে হাওড়ায় পৌঁছবে ৮টা ৫০ মিনিটে (Railways)। হাওড়া-আরামবাগ ইএমইউ স্পেশাল ভায়া শেওড়াফুলি হাওড়া থেকে বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে ছেড়ে আরামবাগে পৌঁছবে ৬টা ৩৫ মিনিটে।

LinkedIn
Share