Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মীর অভাব! তাই থমকে পঞ্চায়েতের কাজ? এবার হবে সব সমস্যার সমাধান। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাজ্যবাসীর পরিষেবা ত্বরান্বিত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজার কর্মচারী নিয়োগ (WB Panchayat Recruitment) করা হবে। বড় ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সোমবার বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরুর দিন বিধানসভায় নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীর অভাবে পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

    নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন

    এত দিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত আইনের অধীনে জেলা স্তর থেকে পৃথকভাবে পঞ্চায়েতের কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হত। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার বদলে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়োগের (WB Panchayat Recruitment) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার পিএসসির মাধ্যমে পঞ্চায়েতে নিয়োগের কথাও ঘোষণা করলেন তিনি। তবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হাতে নিয়োগের দায়িত্ব তুলে দিতে হলে রাজ্যকে পঞ্চায়েত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। রাজ্য সরকার দ্রুত আইন সংশোধন করে এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পিএসসি-র হাতে সঁপে দিতে প্রস্তুত।

    কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

    এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ও অন্যতম বড় ধাপ হিসেবেই পঞ্চায়েতের এই ১১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।”

    মন্ত্রীর কড়া বার্তা

    উল্লেখ্য, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধান ও নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রে সই মিলছে না এবং উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ফল ভালো হবে না। এবার সেই অচলাবস্থা কাটাতে একদিকে যেমন উধাও হওয়া প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামো সচল করতে দ্রুত ১১ হাজার পদে নতুন রক্ত আনার পথ প্রশস্ত করলেন মন্ত্রী।

  • Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নয়, এবার সরকারি কাজে বাংলা ভাষা (Bengali Language)! মাতৃভাষার মর্যাদা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক কাজে তার প্রয়োগ বাড়াতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি দফতরে প্রশাসনিক কাজের প্রধান ভাষা হবে বাংলা (BengaliLanguage)। সরকারি ফাইল, নোটিস, আদেশ, দফতরের চিঠিপত্র থেকে শুরু করে পুলিশের কাছে FIR দায়ের- সব ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্র বাংলায় পাঠানো হবে, তবে প্রয়োজনে হিন্দিতেও যোগাযোগ করা যাবে।

    রবিবারের ঘোষণার পর সোমবার বড় সিদ্ধান্ত

    রবিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘শব্দলোক’ (Museum of Words)-এর উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রশাসনিক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় সেই চিঠি পড়ে শোনাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন অধিবেশনের শুরুতে চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা (Bengali Language) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

    কোন কোন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক?

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে-

    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ফাইল পরিচালনা, নোটিস, সরকারি আদেশ ও অফিসিয়াল চিঠিপত্র বাংলায় করা হবে।
    • ● আবেদনপত্র, শংসাপত্র, নাগরিক পরিষেবা, ডিজিটাল প্রশাসন, সরকারি পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
    • ● পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিষেবায় FIR, অভিযোগ নথিভুক্তকরণ, নাগরিক তথ্য এবং জনসচেতনতামূলক বার্তাও বাংলায় দেওয়া যাবে।
    • ● ভারত সরকারের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও ইংরেজির পরিবর্তে বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রয়োজনে হিন্দিতেও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করা যাবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘গতকাল অমিত শাহ আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে সরকারি কাজকর্মে বাংলা ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হবে। আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক কার্যকর করলাম। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়কালে অনুবাদক রাখব। ভারত সরকার ও অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে যে চিঠিপত্র করা হবে, তা বাংলা ভাষাতেই (Bengali Language) করব। উত্তরও দেব। রাজ্যে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাতৃভাষাকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী যে উপদেশ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করলাম।’’

    চিঠিতে কী লিখেছিলেন শাহ?

    মুখ্যমন্ত্রীর পড়ে শোনানো চিঠিতে অমিত শাহ উল্লেখ করেন, প্রশাসন, শিক্ষা এবং জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলির যথাযথ স্থান নিশ্চিত করা উচিত। মানুষের নিজের ভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জনমুখী হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আরও বেশি করে প্রয়োগ এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বাংলা ভাষার ভূয়সী প্রশংসা শাহের

    অন্যদিকে, রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা (Bengali Language) ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, ভাষাই মানুষকে তৈরি করেছে। কোনও দেশের সংস্কৃতি ভাষা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ভাষাই একটি জাতির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বাহক। বাংলা পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’’ বাংলা সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ বাংলা আবার সোনার বাংলা হয়েছে। ভাষার মাধ্যমেই একটি দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা যায়। শব্দ ও ভাষা ছাড়া সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ চলছে, এই শব্দ জাদুঘর সেই প্রচেষ্টাকেই আরও শক্তিশালী করবে।’’

    বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও মাধুর্য

    মায়ের মুখে শোনা প্রথম সুর, হৃদয়ে গাঁথা আজীবনের অনুভূতি। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ, আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সবচেয়ে মধুর ঠিকানা। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, জীবনানন্দের প্রকৃতিপ্রেম- বাংলার প্রতিটি শব্দে মিশে আছে ইতিহাস, সাহিত্য আর অনুভূতির গভীরতা। প্রায় এক হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করা বাংলা ভাষার (Bengali Language) প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। তবে এই ভাষার ইতিহাস শুধু সাহিত্যচর্চার নয়, আত্মত্যাগেরও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন ভাষাসৈনিকরা। সেই ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। আজ ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও বহুল ব্যবহৃত ভাষা। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বাঙালির গর্ব, ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় এবং ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক।

    ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদার পর আরও এক পদক্ষেপ

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা (Classical Language)-র মর্যাদা দিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পর এবার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সরকারের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ হবে এবং মাতৃভাষার মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার ব্যবহার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখো ভক্তের ঢল ও ৩৭ কিমি হাঁটা পথ- শ্রাবণী মেলায় (Shrabani Mela 2026) বাবা তারকনাথের পুজোয় সেজে উঠছে তারকেশ্বর (Tarakeswar)। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগ। শ্রাবণ মাসে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে প্রতি বছর লাখো লাখো ভক্তের সমাগম হয়। এ বছর প্রায় এক কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হতে পারে- এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি হরিপাল বিডিও অফিসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং এবং পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব। বৈঠক শেষে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশিকা মেনে মেলা প্রাঙ্গণ ও যাত্রাপথের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

    বিশেষ দিনের সূচি

    জুলাই ও অগাস্ট মাসজুড়ে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) ছ’টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ১৪-২০ জুলাই, ২৪-২৭ জুলাই, ৩১ জুলাই-৩ অগাস্ট, ৭-১০ অগাস্ট, ১৪-১৭ অগাস্ট এবং ২২-২৩ অগাস্ট। শনি, রবি ও সোমবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তাই এই দিনগুলিতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছোট গলির আনাজ বিক্রেতাদের সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি করা হবে জলসত্র। এখানে ঠান্ডা গরম দু’রকম জলেরই ব্যবস্থা থাকবে।

    যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রুট

    মেলা উপলক্ষে উক্ত দিনগুলিতে শ্বেতপুর মোড়, দিল্লি রোড, দীর্ঘাঙ্গী মোড় থেকে ১২ নম্বর রুট, বিঘাটি মোড়, পিয়ারাপুর, চাঁপসরা, বৈদ্যবাটি- তারকেশ্বর রোড, চন্দননগর হাসপাতাল মোড় থেকে বৈদ্যবাটি চৌমাথায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি ডালহৌসি জুটমিল, মঞ্জুশ্রী, রিষড়া মৈত্রীপথ ও বাঘখাল পর্যন্ত নো-এন্ট্রি থাকবে। চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, শ্রীরামপুর, রিষড়া এবং উত্তরপাড়া থানা সীমানার প্রধান সড়কগুলিতে অটো, টোটো, ই-রিকশা ও ইঞ্জিন ভ্যান সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    বিকল্প রাস্তার নির্দেশিকা

    • চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর এলাকা: পালপাড়া রোড, বিঘাটি মোড় এবং দিল্লি রোড হয়ে দর্জি মোড় দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
    • শ্রীরামপুর ও রিষড়া এলাকা: অমূল্যকানন, প্রভাসনগর, বটতলা মোড়, জিতেন লাহিড়ী রোড ও ৪ নম্বর রেলগেটের রাস্তা ব্যবহার করা যাবে।
    • উত্তরপাড়া এলাকা: বিশালাক্ষ্মী মোড়, রেললাইনের ধার, সুধীর ঘাট ও ধারসা মোড় দিয়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো

    নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল তুলে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে যান ভক্তরা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথকে সুগম করতে প্রশাসন একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    • স্বাস্থ্যসেবা- ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর (Tarakeswar) পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ মজুত থাকবে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য মণিকমল হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গঙ্গায় স্নান ও জল তোলার নিরাপত্তার জন্য ১৪টি ঘাটে নজরদারি চলবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছে ‘ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স’।
    • পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা: পঞ্চায়েতগুলির উদ্যোগে সমগ্র যাত্রাপথে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফ থেকে ঠান্ডা ও গরম পানীয় জলের সুব্যবস্থা (জলসত্র) থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৫০ মিটার অন্তর প্রায় শতাধিক অস্থায়ী ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে।
    • সহায়তা ও নজরদারি: প্রতিটি মোড়ে কড়া পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি উঁচুতে ওয়াশ টাওয়ার থেকে নজর রাখবে পুলিশ ও কমিশনারেট। পথচলতি পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিতরণ করা হবে বিশেষ ‘গাইড ম্যাপ’, যাতে পানীয় জল, শৌচালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট চিহ্নিত থাকবে। রেলগেটে দুর্ঘটনা এড়াতে জিআরপি ও অতিরিক্ত পুলিশকর্মী রাখা হচ্ছে। সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে পূর্ব রেলও।

    ঐতিহ্যের তারকেশ্বর

    কলিকাতা থেকে মাত্র ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শৈবতীর্থ। হাওড়া থেকে দেড় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় পৌঁছানো যায় তারকেশ্বর (Tarakeswar) স্টেশনে। আটচালা স্থাপত্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই মন্দিরে গর্ভগৃহে বিরাজ করছেন স্বয়ং বাবা তারকনাথ। মন্দিরের পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘দুধ পুকুর’ বা শিবগঙ্গা। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল এনে শ্রাবণে বাবা তারকনাথকে স্নান করালে সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। প্রশাসনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) এবার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।”

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত সীমান্ত এলাকা ‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন থেকে কলকাতার প্রশাসনিক বৈঠক, দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘শব্দলোকে’র উদ্বোধন থেকে নতুন শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর—তিন দিনের বঙ্গ সফরে (Amit Shah At WB) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিল্প বিনিয়োগ—এই চারটি বিষয়ই তাঁর সফরের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।

    কলকাতায় হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক

    কলকাতায় পৌঁছনোর পর আলিপুরের ‘সৌজন্য’য় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সিবিআই, এনআইএ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, সংগঠিত অপরাধ দমন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলে তবেই শিল্প ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে উঠবে- এই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    উদ্বোধন ‘শব্দলোকে’র

    বৈঠক শেষে শাহ (Amit Shah) পৌঁছন কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির বেলভেডিয়ার হাউসে। সেখানেই উদ্বোধন হয় দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ বা ‘শব্দলোকে’র প্রথম পর্যায়। এই জাদুঘরে ভারতের ২২টি ভাষার বিবর্তন ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। ন’টি গ্যালারিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তাম্রলিপি, মৌখিক ঐতিহ্য, মুদ্রিত বই এবং আধুনিক ডিজিটাল ভাষা প্রযুক্তির ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

    নিউটাউনে আমুল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর

    কলকাতার কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আমূলের নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই প্রকল্প চালু হলে দুগ্ধ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, কৃষক ও পশুপালকদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোল্ড-চেন পরিকাঠামো ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে শিল্পমহল। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ অগারওয়াল-সহ অন্যান্যরা।

    উল্লেখ্য, কলকাতার কর্মসূচির আগে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও কোর কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে সংগঠন মজবুত করতেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

    সফরের তাৎপর্য

    শাহের (Amit Shah) এই বঙ্গ সফরে নিরাপত্তা, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও শিল্প- সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থেকে শুরু করে ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা- সব মিলিয়ে এই সফরকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বিত রূপরেখা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

  • Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়ির জুমাগছে সরেজমিন পরিদর্শন

    শুক্রবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার সকালে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর গ্রাম জুমাগছ পরিদর্শন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুটগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

    রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে নজরদারি

    উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আউটপোস্ট উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হবে। প্রশাসনের মতে, নতুন এই পরিকাঠামো চালু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

    স্মার্ট ফেন্সিং ও থার্মাল নজরদারিতে জোর

    বৈঠকে সীমান্তে আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর যেসব অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন এবং উন্মুক্ত রয়েছে, সেখানে ভার্চুয়াল স্মার্ট ফেন্সিং, উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জলপথ ব্যবহার করে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ রাখা হবে না।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জুমাগছ?

    প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফুলবাড়ি থেকে নারায়ণজোত পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। জুমাগছ থেকে রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত অংশ, যেখানে বর্ষাকালে নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

    বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চিনা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

    নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে চলা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও। সীমান্তের ওপারে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ছয় জেলার প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়। বিএসএফ উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজির উপস্থিতিতে সীমান্তে জমি-সংক্রান্ত জট দ্রুত মিটিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন ভারতের ‘লাইফলাইন’?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের প্রশ্নই নেই। নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং, ভার্চুয়াল নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্তের ওপারে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পরিকাঠামোগত ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার অফিসে চলল বুলডোজার। ৫ তলা অফিস বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ, ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ওই সাংসদ কার্যালয় চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পাঁচতলা এই কার্যালয়টি ভাঙতে আনা হয়েছে ৩টি বুলডোজার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জোড়া শুনানির নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় শনিবার বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হল বিল্ডিং ভাঙার জন্য।

    বুলডোজার অ্যাকশন

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি অভিষেক। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর শুরু হয় বুলডোজারের অ্যাকশন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। শনিবার সকালে প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ভেঙে ফেলা হয় দোতলার সামনের দেওয়াল। সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাঁদের ভবনের ভিতর থেকে বার করে দেয় পুলিশ।

    বিপত্তারিণীর দিনে বিপদ দূর!

    এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে ১৫ জুলাই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠায় প্রশাসন। বহু বিজেপি কর্মীকে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)আমতলার অফিসের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। সেখান থেকে এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেন, ‘‘এখান থেকে বিগত দিনে আমাদের এত অত্যাচার করা হয়েছে, আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। এই সেই জায়গা, যেখান থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খনিটাকেই উপড়ে দেওয়া হবে।’’

    বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    অপর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এখান থেকে তৈরি হয়েছে শাহজাহান, জাহাঙ্গির। অবৈধ সন্তান তৈরি হয়েছে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য। বাবর থেকে ঔরঙ্গজেবের জন্ম এই অফিস থেকে। যার জন্য় এই সমাজের অবস্থা। আজ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রসাতলে চলে গিয়েছে। সবার আগে দরকার এখান থেকে এটা তুলে ফেলা। এটা অবৈধ। এখান থেকে বসে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা জানি।’’ বিজেপি কর্মীরা অভিষেকের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারই মাঝে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘এই সেই ঘাঁটি যেখান থেকে অভিষেক পাপী তৈরি করেছিল।’’ প্রসঙ্গত, আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।

    কেন কড়া পদক্ষেপ

    ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলের তরফে কোনও সভা হলে তা এই কার্যালয়ে আয়োজন করা হত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার কার্যালয়ে। সেই নোটিসে কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পরপর দুটি নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের দফতরেও হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে মিলে এই বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জমির ওপর এই কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে দাবি। এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর দু’বার নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    মাঠপুকুর-এর পর আমতলা!

    গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। এবার স্থানীয় লোকেদের অভিযোগে ভেঙা ফেলা হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার কার্যালয়।

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্বোধনে শুক্রবার বাঁকুড়ায় গিয়ে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ফের রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। তারা কিছুই করে যায়নি শিল্পের জন্য। এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে

    বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার জমি সব বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। সেখানেই মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আগেই হয়েছে। এখন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন। কোম্পানি সূত্রে খবর, কোম্পানির ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি। প্রচুর মানুষের কাজ হবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে, এখানকার উন্নয়ন হবে না। অনুসারী শিল্পের প্রসারও ঘটবে না। এখানকার প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন কাজের জন্য। তারাও ফিরে আসবেন না। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা বাংলার পক্ষে ভালো উদ্যোগ।’

    মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।” এদিন তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে অবহেলা করেছে। বর্তমান সরকার শিল্প আনতে চায়। এই সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নয়। বাংলার যে শিল্পায়নের কথা বলছি আমরা, তার তো পার্টনার শিল্পপতিরা। এত দিন যে বিজ়নেস সামিট হয়েছে, সে সব বোগাস। ও সব ঢক্কানিনাদ। আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

    কারাখানা বন্ধ করলেই কড়া পদক্ষেপ

    কারখানায় তালা বন্ধ করলেই হাজতবাস। কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব।”

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না। এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।”

LinkedIn
Share