Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে (PM Modi) ঝালমুড়ি বিক্রি করে বিপাকে দোকানদার বিক্রম সাও। তাঁর দাবি, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে তিনি (Jhalmuri vendor) প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন বিক্রম। তার পরেই শুরু হয়েছে ফোনে নিয়মিত হুমকি দেওয়া। বিক্রমের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অজ্ঞাত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকিমূলক ফোন এবং ভিডিও কল পাচ্ছেন।

    হুমকি ফোন বিক্রমকে (PM Modi)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বারবার ভিডিও কল এবং ফোন কলের মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছি। তারা আমায় বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। যারা ভিডিও কল করছে তারা ভয় দেখানোর জন্য ভীতিকর অঙ্গভঙ্গি করছে এবং অস্ত্রও দেখাচ্ছে। তারা আমায় সতর্ক করেছে যে আমায় ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” বিক্রম জানান, যারা ফোন করে, তারা প্রথমে ধর্মীয় শুভেচ্ছা জানায়, পরে দেয় খুনের হুমকি। তিনি বলেন, “তারা আমায় জিজ্ঞেস করে, তুমি বেঁচে আছ নাকি মারা গেছ। আমি হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ পেয়েছি। তাতে লেখা, বোমা বিস্ফোরণে তোমায় মেরে ফেলা হবে।”

    চর্চায় ঝালমুড়ি

    হাইভোল্টেজ নির্বাচনী প্রচারের সময় ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খান। এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী দোকানদারকে ঝালমুড়ি মাখাতে বলছেন। তিনি (PM Modi) দাম দিতে চাইলে বিক্রম প্রথমে নিতে অস্বীকার করেন, পরে প্রধানমন্ত্রীর জোরাজুরিতে টাকা নেন। ঝালমুড়ি হল মুড়ি, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ এবং সর্ষের তেল দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় খাবার।প্রধানমন্ত্রীর সেই সংক্ষিপ্ত সফরের পর থেকেই চর্চায় চলে আসেন বিক্রম। তিনি জানান, যারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফরের পর থেকেই এই ফোন আসা শুরু হয়েছে। বিক্রম (Jhalmuri vendor) ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও।

     

  • CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টে বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ শনিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ (CM Suvendu Adhikari)

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন (Ayushman Bharat)। পরে নবান্নে করেন সাংবাদিক বৈঠক। সেখানেই ঘোষণা করা হয় স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরির কথা। রাজ্যের ৬ কোটি মানুষ তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তাঁদের এবার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন করেও আবেদন করা যাবে।  নবান্নের এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তাঁদের পাশে বসিয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই আক্রমণ শানান পূর্বতন রাজ্য সরকারকে। তিনি জানান, যে সুবিধা (আয়ুষ্মান ভারত) অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ পায়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার ভারত সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্প রিভিউ করেছে। সেই মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের হেল্থ‌‌ সেক্টরে আমরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছি।”

    কবে মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড?

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চান এবং স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে এত দিন যুক্ত হননি, এমন নাগরিকও চাইলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের চুক্তি সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটা করব। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি মানুষ, যাঁরা ভিন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এই সুবিধা পাবেন।’’ সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রোধে ভ্যাকসিন দেওয়াও শুরু হবে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী এই সুবিধা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে সাত লাখেরও বেশি ডোজ় দিতে চায় ভারত সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘‘১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালিকাদের এই ডোজ় দিতে পারি আমরা। ৩০ মে থেকে দেওয়া হবে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে সেদিন আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্প শুরু করব। ওই দিন থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে টিবি-মুক্ত ভারতের ওয়ার্কশপও (CM Suvendu Adhikari)।’’

    শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ঠিকঠাক মনিটরিং করেনি। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এরাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদা জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’’ এমন আরও কয়েকটি রিপোর্টও দেন শুভেন্দু। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ (Ayushman Bharat) খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজ তার এক চতুর্থাংশ ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে আরও প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণাও করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে চারশোরও বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের অনেকটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৮০ শতাংশ ছাড় মিলবে। এমন ৪৬৯টি কেন্দ্র তৈরি হলে ১০ গুণ সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। প্রত্যেক জেলায় যাতে মেডিকেল কলেজ থাকে, সেই জন্যও পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে চারটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এর সুফল কিছু দিনের মধ্যেই পেতে শুরু করবেন রাজ্যবাসী। চারটি প্রশাসনিক জেলা— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিকেল কলেজ হয়নি। সেজন্য প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদির প্রস্তাবও পাঠানো হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্যও পদক্ষেপ করা হবে (CM Suvendu Adhikari)।’’

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কবে থেকে চালু হবে, কারাই বা এর সুবিধা পাবেন, কিংবা আদৌ চালু হবে কিনা, তা নিয়ে একটা দোলাচল ছিল বঙ্গবাসীর মনে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপভোক্তারা আদৌ কেন্দ্রের এই প্রকল্পটির সুবিধা পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় ছিল। এদিন সেই সংশয়ের অবসান ঘটল তখন, যখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। জুলাই থেকেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড মিলবে। পরে এই প্রকল্প আরও বড় আকারে চালু করা হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯৭৬ কোটি টাকা (CM Suvendu Adhikari)।

    স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে মমতার শাসনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কেন্দ্রের ওই প্রকল্প থেকে রাজ্যের বাসিন্দাদের বঞ্চিত করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে রাজ্যের সব পরিবারের মহিলাদের নামে এই কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডটি ব্যবহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পান উপভোক্তারা। যদিও সেই কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রাজ্যবাসীর (Ayushman Bharat)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল না। স্বাস্থ্যের মতো যৌথ ক্ষেত্রেও আমলা বা আধিকারিকদের মধ্যে কথাবার্তা, চিঠিপত্র চালাচালিও হয়নি। এবার সেসব অতীত (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ?  প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ? প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের জোরদার হল কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের পাশে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরিপুর জামে মসজিদ বা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ সরানোর উদ্যোগ। প্রায় তিন দশক ধরে বিতর্কে থাকা এই মসজিদকে ঘিরে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরদিন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে বৈঠকে বসেন প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা।

    বিমানবন্দর সূত্রে খবর, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, উড়ান পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্বার্থেই মসজিদ স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে মসজিদ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এবং জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের মতো সংগঠনের মতামতের উপর নির্ভর করতে চায়। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং বলেন, “বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি করছে। উড়ান পরিচালনায় একাধিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বুধবারও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।”

    রানওয়ের একেবারে কাছে মসজিদ

    ১৩৬ বছরের পুরনো এই মসজিদটি এখন বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার গভীরে অবস্থিত। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৬৫ মিটার। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, রানওয়ের কাছাকাছি স্থায়ী নির্মাণের ন্যূনতম দূরত্ব হওয়া উচিত ২৪০ মিটার। মসজিদটি বিমানবন্দরের বাউন্ডারি ওয়ালেরও প্রায় ১৫০ মিটার ভিতরে অবস্থিত।

    বিমানবন্দর আধিকারিকদের দাবি, মসজিদের কারণে সেকেন্ডারি রানওয়ের টাচডাউন পয়েন্ট ৮৮ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে দিতে হয়েছে। এর ফলে রানওয়ের কার্যকর দৈর্ঘ্য কমে গিয়ে বর্তমানে তা মূলত এয়ারবাস এ৩২০ বা বোয়িং ৭৩৭-এর মতো ন্যারো-বডি বিমান পরিচালনার উপযোগী থাকলেও বোয়িং ৭৮৭ বা এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো ওয়াইড-বডি বিমান ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, “জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রেও এটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।”

    শীতকালে বাড়ছে সমস্যা

    বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, কলকাতার ৩,৬৩৩ মিটার দীর্ঘ প্রধান রানওয়েতে অত্যাধুনিক ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) রয়েছে, যার ফলে ঘন কুয়াশাতেও বিমান ওঠানামা সম্ভব হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি রানওয়েতে সেই ব্যবস্থা বসানো যাচ্ছে না মূলত মসজিদের অবস্থানের কারণে। ফলে শীতকালে যখন মূল রানওয়ে ব্যবহারযোগ্য থাকে না, তখন বিমান পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

    আগে কেন হয়নি সমাধান?

    এই মসজিদ সরানোর চেষ্টা নতুন নয়। অতীতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রাজ্যের তৎকালীন সরকারগুলি— জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)— বিষয়টি এগোতে দেয়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রের দাবি। এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় প্রশাসনের একাংশ আশাবাদী যে এবার সমাধানের রাস্তা খুলতে পারে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার ভিতরে মসজিদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

    কী বলছে মসজিদ কমিটি?

    মসজিদ কমিটির সদস্য আবুল কালাম জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র বাঁকড়ার স্থানীয় মানুষজন এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমরা সবসময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। তল্লাশি, পরিচয়পত্র দেখানো— সব নিয়ম মেনেই চলি। কিন্তু মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।” বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১০ থেকে ২৫ জন পর্যন্ত ভক্ত আসেন। শুক্রবার জুমার নামাজে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০ হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ যশোর রোডের গেট থেকে তাঁদের তল্লাশি করে বাসে করে মসজিদে নিয়ে যায় এবং পরে ফেরত পাঠায়।

    ধর্মীয় আবেগ বনাম বিমান নিরাপত্তা

    এই বিতর্কে একদিকে যেমন রয়েছে বহু পুরনো ধর্মীয় স্থাপনার আবেগ, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রশ্ন। প্রশাসন এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজতে চাইছে। তবে মুসলিম সংগঠনগুলির অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • CM Suvendu Adhikari: “নিয়োগ দুর্নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়েছে”, তৃণমূল সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: “নিয়োগ দুর্নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়েছে”, তৃণমূল সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নিয়োগ দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ রাজ্যের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। তাই আগামী দিনে এই ভাবমূর্তি থেকে রাজ্যকে বের করে আনতে হবে।” শনিবার শিয়ালদায় রোজগার মেলার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে তা এক এক করে পূরণ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পদ্ম-সরকার। এবার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়েও যে রাজ্যের বিজেপি-সরকার বড় ধরনের চিন্তাভাবনা শুরু (Rojgar Mela) করেছে, শনিবারের রোজগার মেলার মঞ্চে তাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) 

    দুর্নীতি নিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে অনেক বদনাম হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।” এরপরেই নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিতে সংস্কারের কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেল, আধাসামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকার যে উদ্যোগী হয়েছে, কেন্দ্রের দেখানো সেই পথেই পশ্চিমবঙ্গে হাঁটবে ডবল ইঞ্জিন সরকার। রাজ্যে যে লিখিত পরীক্ষা হয়, সেই পরীক্ষার ওএমআরের কার্বন কপি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে দেওয়া উচিত বলেই মনে করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

    কমছে ভাইবা পরীক্ষার নম্বর!

    তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য থাকবে ওএমআরের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়া।’’ শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। সেটা গত কয়েক বছরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের অনেক বদনাম হয়ে গিয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে পরীক্ষা ও নিয়োগ হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে (CM Suvendu Adhikari)।” ভাইবা পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, “ওরাল পরীক্ষায় দুর্নীতির সম্ভাবনা বেশি থাকে বলেই মনে করা হয়। তাই সেক্ষেত্রে নম্বর কমিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আর নিয়োগ হবে না (Rojgar Mela)।’ তাঁর অভিযোগ, এতদিন কেন্দ্রের পরীক্ষাও রাজ্যে করতে দেওয়া হত না। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকারের আদলেই রাজ্য সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে বলেও জানান রাজ্যের পালাবদলের সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

  • Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) শনিবার কলকাতায় পৌঁছলেন। ভারত সফরের প্রথম দিনেই তাঁর কলকাতায় আগমনকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগামী চারদিনের এই সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা এই সফরকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোয়াড (Quad) জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর।

    ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব

    কলকাতায় কোনও মার্কিন বিদেশ সচিবের সফর শেষবার হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন শহরে এসেছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর ফের কলকাতায় সেই পর্যায়ের সফর হওয়ায় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) সামাজিক মাধ্যমে জানান, কলকাতা সফরের পরই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রুবিও। তিনি লেখেন, “বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগামী কয়েকদিনে আলোচনা ও অগ্রগতি হবে।”

    মাদার হাউস সফরের সম্ভাবনা

    কলকাতা দিয়ে চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন রুবিয়ো। তবে, শহরে তিনি কয়েক ঘণ্টাই কাটাবেন। মার্কিন বিদেশ দফতর রুবিওর ভারত সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সোজা গিয়েছেন তালতলার মাদার হাউসে। এটি হল মাদার টেরেসা (Mother Teresa) প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর। মাদার হাউস পরিদর্শনের পর তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি পরিচালিত কলকাতার একটি চিলড্রেনস হোমে যাবেন। সেখান থেকে দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিয়ো। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর ভারত সফর চলবে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগরা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    দিল্লিতে মোদি-রুবিও বৈঠক

    দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই জোর দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী ভূমিকাকে মাথায় রেখে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে দুই দেশই।

    জ্বালানি সহযোগিতায় বড় বার্তা

    ভারত সফরে রওনা হওয়ার আগে মায়ামিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, “ভারত যতটা জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।” তিনি জানান, বর্তমানে আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে এবং ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। স্ট্রেট অফ হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে “দারুণ অংশীদার” বলে উল্লেখ করেন।

    কোয়াড বৈঠকে নজর

    ২৬ মে নির্ধারিত কোয়াড বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির। এই বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুবিওর ভারত সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে শুরু হয়েছে পদ্ম-শাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে দিয়েছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ (TMC)। উন্নয়নের রথ এগোচ্ছে অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার মতো। চালকের আসনে বিজেপির তুর্কি নেতা, ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-শমীকের (শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি)টি২০ ধাঁচের খেলায় আক্ষরিক অর্থেই ছক্কা (Municipal Poll) হাঁকানোয় ভোট-ময়দানে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। এক সময় যে দল ৩৪ বছরের বাম-শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল, পদ্ম-ঝড়ে সেই ঘাসফুলই হেরে ভূত।

    বিজেপির পাখির চোখ (TMC)

    রাজ্যের কুর্সি দখলের পর এবার বিজেপির পাখির চোখ কলকাতা পুরসভার মসনদ। যে চেয়ারে বর্তমানে বসে রয়েছেন সদ্য-মন্ত্রিত্ব খোয়ানো ফিরহাদ হাকিম, সেই কুর্সিই যে টলোমলো, তা বিলক্ষ্মণ বুঝতে পারছেন তৃণমূলের এই সংখ্যালঘু ‘মুখ’। তবে তিনি না বুঝলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে রাজ্যবাসীর মতো কলকাতার বাসিন্দারাও চান, চেয়ার ছেড়ে এবার মানে মানে কেটে পড়ুন হাকিম মশাই। যে হাকিমকে একই সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার চেয়ারে বসিয়ে বছরের পর বছর বিরোধীদের মাত দিয়ে যাচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল, সেখানে যে তলে তলে ঘোঘের বাসা হয়ে গিয়েছে, তা আদৌ টের পাননি হাকিম মশাই কিংবা তাঁর নেত্রী। যখন বুঝলেন, তখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে! ঘাসফুল উপড়ে ফেলে রাজ্যের বাগানে পদ্ম ফুটিয়ে ছেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। এঁদেরই একটা অংশ বাস করেন কলকাতায়। রাজ্যের রাজধানীর সেই বাসিন্দারাই চাইছেন, ‘অনেক হয়েছে আর নয়…’।

    দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতা পুরসভার দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তার পরেই খাতা-পেন্সিল নিয়ে আঁক কষতে বসে গিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। তাতেই রাজ্যের শাসক দল যেখানে ‘পৌষমাসে’র আগমনী-বার্তা শুনতে পাচ্ছেন, সেখানে বিরোধীরা দেখতে পাচ্ছেন ‘সর্বনাশে’র কালো ছায়া। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১০২টি আসনে, আর তৃণমূল মাত্র ৪২টিতে। যার নির্যাস, কলকাতার এই ছোট লালবাড়ির তখতে বিজেপির বসাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪টি। এগুলি রয়েছে রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। এই বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে ১০টিতে জিতেছে বিজেপি, ঘাসফুল আঁকা ঝুলিতে গিয়েছে ৭টি আসন।

    বেহাল দশা তৃণমূলের

    এবার যে রেজাল্ট বেরিয়েছে, তাতে (TMC) চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর-টালিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলা, বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা। উত্তর কলকাতার চৌরঙ্গী, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, এন্টালি-এই সাতটি বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৪০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল মাত্রই ২০টিতে। দক্ষিণ কলকাতার চারটি আসন-রাসবিহারী,বালিগঞ্জ,কলকাতা বন্দর এবং ভবানীপুরেও লেজেগোবরে দশা ‘বুয়া-ভাতিজা’র দলের। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল ১২টিতে। যাদবপুর-টলিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা- যাদবপুর, টালিগঞ্জ এবং কসবা এই তিন জায়গায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২২টি ওয়ার্ডে। করুণ দশা তৃণমূলের। তারা এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৩টি আসনে। বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র- বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং মেটিয়াবুরুজের ২০টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল মাত্র ৭টিতে।

    ভবানীপুরেও প্রত্যাখ্যাত মমতার দল!

    কলকাতার মধ্যে শ্যামপুকুর,বেহালা পশ্চিম, মানিকতলা এবং যাদবপুরের মতো বিধানসভাও রয়েছে (TMC)। এগুলির অধীনে থাকা কোনও ওয়ার্ডেই তৃণমূল এগিয়ে নেই। বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-মমতা দ্বৈরথের ফল জানতে অধীর আগ্রহে বসেছিলেন তামাম ভারতবাসী। কারণ, এই কেন্দ্রে মূল লড়াইটা ছিল বিজেপি বনাম তৃণমূলের নয়, বরং ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো এবং তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২ হাজার ভোটের লিড পেলেও, বাকি ৭টি ওয়ার্ড মমতাকে প্রত্যাখ্যান করে এগিয়ে দিয়েছে শুভেন্দুকে (Municipal Poll)। মমতা যে যে এলাকায় আবাসনে গিয়ে জনসংযোগ করেছেন, সেই সবক’টি ওয়ার্ডেই ৪-৫ হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। খোদ হাকিম মশাইও বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিলেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার, এবং বেলগাছিয়ার মতো এলাকার সিংহভাগ ভোটার তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্পের কথা ভাবেননি। তাই ওই ওয়ার্ডগুলিতে লিড পেয়েছে মমতার দল।

    তৃণমূলের কাঁদুনি!

    পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার যেসব ওয়ার্ডে হাজার হাজার ভোটে তৃণমূল লিড পেত, এবার সেই সব ওয়ার্ডেই ৩ থেকে ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন মেয়র পারিষদ এবং বরো চেয়ারম্যানরা। কলকাতা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, “মানুষ পরিষেবা নিয়েছেন, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় মাথায় রেখেছেন অন্য সমীকরণ। সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভির প্রচারের ঝড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে এলাকার উন্নয়ন।’ কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর তথা বরাহনগর কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির সজল ঘোষ বলেন, “পুর পরিষেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এরপর ভোট হলে মানুষ আমাদেরই সমর্থন করবেন (TMC)।”

    কী বলছেন হাকিম মশাই?

    পরিসংখ্যানের হিসেব-নিকেশ শুনে দৃশ্যতই হতাশ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যদিও পাঁচ বছরের কাজের ভিত্তিতে ফের পুরসভায় আসতে পারবেন কি না, প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এটা নিয়ে এখনও বিশ্লেষণ করিনি। পরে জানাব।” বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “আগামী যে সময় আসছে গোটা বাংলা গেরুয়াময় হবে। ভারত আগেই হয়ে গিয়েছে। বাংলাও হবে (Municipal Poll)।”

    ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনেও বিপুল জনাদেশ পেয়ে বোর্ড গড়বে পদ্ম-শিবির। অন্তত এমনই আশা বিজেপির। দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “এই ফল আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে আমাদের অবশ্যই বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষ আস্থা রেখেছেন পদ্ম প্রতীকে (TMC)।’

     

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের (West Bardhaman Industrial Growth) বিরাট রোড ম্যাপ করতে চলেছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের এই দলগত অনুপস্থিতিকে ‘গণতান্ত্রিক সৌজন্যের অবমাননা’ এবং ‘উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা’ বলে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না (Suvendu Adhikari)

    এদিন শিল্পাঞ্চল নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “দুর্গাপুরের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পরে যে কোনও সময় নির্বাচন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বা রাজ্য সরকার সাহায্য করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পঞ্চায়েত, পুরসভা বন্ধ থাকার জন্য সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিস অধিকার করে রাখার অধিকার কোনও ব্যক্তি বা কোনও দলের নেই। তাই আমরা বলে দিয়েছি পঞ্চায়েতের সচিব গোটা বিষয়টা দেখবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে কীভাবে এখানে শিল্পে জোয়ার আনতে পারি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারি, এটাও আছে। তবে, আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না, বলবও না।”

    প্রশাসনিক বৈঠক বয়কট ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ (Suvendu Adhikari)

    শিল্পাঞ্চলের (West Bardhaman Industrial Growth) সামগ্রিক পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলার পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দুর্গাপুরের এই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রোটোকল বা প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এলাকার সমস্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা সজ্ঞানে এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন।

    এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠক কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কর্মসূচি নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে জনগণের স্বার্থে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করার মঞ্চ। সেখানে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা বজায় রেখে বৈঠক বয়কট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ সরকারের দরবারে তুলে ধরার জন্য; কিন্তু দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা করার মানসিকতা বর্তমান বিরোধী শিবিরের নেই।”

    জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “কোনও পক্ষের অসহযোগিতার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন থমকে থাকবে না। জনপ্রতিনিধিরা না এলেও জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আইন অমান্যকারী বা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে, সেই বার্তাও এই বৈঠক থেকে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের এই প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জেলা স্তরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল।”

    তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি ও অভিযোগ

    অন্য দিকে, বৈঠক বয়কটের বিষয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কদের তরফ থেকেও পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের যথোপযুক্ত সম্মান দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসনিক বৈঠকগুলিকে আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ধরণের প্রশাসনিক বৈঠকের নামে আসলে বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোণঠাসা করার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার একটি অলিখিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই সদ্বিচ্ছার অভাব দেখে এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই তাঁরা এই বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এলাকার মানুষের পাশে তাঁরা সর্বদা আছেন, তবে সরকারি অনুষ্ঠানের মোড়কে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে তাঁরা মান্যতা দেবেন না।

    শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুরের মতো (West Bardhaman Industrial Growth) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে এই ধরনের রাজনৈতিক রেষারেষি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। এই বৈঠকে এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, কলকারখানার আধুনিকীকরণ, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অনুপস্থিতির কারণে স্থানভিত্তিক অনেক সমস্যা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সামনে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

  • Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার (BJP Government)। এই পরিষেবাকে মসৃণ করতে এবং কলকাতার পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়াতে তৎপর হয়েছে পরিবহন দফতর। তবে বিগত সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানাবিধ কারণে বহু সরকারি বাস বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাস কীভাবে দ্রুত রাস্তায় নামানো যায়, তা নিয়ে পরিবহন দফতরের ময়দান তাঁবুতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) এবং দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিখরচায় এই যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্তাবলি ও নির্দেশিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে এই বৈঠকে।

    বিনামূল্যে সফরের প্রাথমিক শর্তাবলি (Free Bus Service)

    বৈঠক সূত্রে খবর, এই সুবিধার মূল শর্ত (Free Bus Service) হল— সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ভিড়ের মধ্যে কন্ডাক্টররা কীভাবে তা যাচাই করবেন, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:

    • ● কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত (BJP Government) যে কোনও একটি বৈধ পরিচয়পত্র (মোট ১১টি বিকল্পের মধ্যে) যাত্রীদের সঙ্গে রাখতে হবে।
    • ● বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন।
    • ● যাচাইকরণের পর, কন্ডাক্টর তাঁর টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য একটি ‘শূন্য মূল্যের’ কুপন বা টিকিট ইস্যু করবেন।
    • ● প্রতি মাসে ইস্যু করা এই টিকিটের সমপরিমাণ অর্থ রাজ্য সরকার গড় হিসেব অনুযায়ী পরিবহন নিগমকে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।

    ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড

    পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাসে যে জটিলতা বা জাল নথির সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা (BJP Government)। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিবহন দফতর আগামীদিনে রাজ্যবাসী মহিলাদের জন্য কিউআর (QR) কোড সমৃদ্ধ বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড চালু (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসডিও (SDO) বা বিডিও (BDO) অফিসের মাধ্যমে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। বাসে এই বিশেষ কার্ড দেখালেই সরাসরি কুপন মিলবে, অন্য কোনো নথি দেখানোর প্রয়োজন হবে না।

    স্মার্ট কার্ডের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি:

    আবেদনকারীকে সাম্প্রতিক রঙিন ছবির সঙ্গে নিচের যেকোনও একটি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে:

    • ● ভোটার আইডি (EPIC)
    • ● আধার কার্ড
    • ● ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড
    • ● আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
    • ● ড্রাইভিং লাইসেন্স
    • ● প্যান কার্ড
    • ● পাসপোর্ট
    • ● ছবিসহ পেনশনের নথি
    • ● স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পরিচয়পত্র
    • ● রাজ্য সরকার অনুমোদিত অন্য যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র

    পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

    বিজেপি সরকারের পরিবহন দফতর (BJP Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, কোটি কোটি মহিলার জন্য স্মার্ট কার্ড (Free Bus Service) তৈরি ও তা বণ্টন করা সময়সাপেক্ষ। তাই কার্ড বিলি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক নিয়ম (পরিচয়পত্র দেখানো) অনুসারেই যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে থাকা অচল বাসগুলির দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করে ধাপে ধাপে রাস্তায় নামানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নতুন সরকারি বাস কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করছে পরিবহন দফতর।

  • High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের আগে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র , তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান-সহ একাধিক আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের আবশ্যিক ধর্মীয় প্রথা নয়।” সেই সঙ্গে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি

    গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষ জবাই করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া “অযোগ্যতার শংসাপত্র” প্রয়োজন হবে এবং শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে। বলা হয়েছে, যে বা যিনি ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুপত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাবাস বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, অথবা উভয় সাজাই দেওয়া হতে পারে।

    কারা কারা আদালতের দ্বারস্থ হন

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ‘রামকৃষ্ণ পাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও একাধিক আবেদন। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রতিনিধিরা, গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং অন্যান্যরা। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। তাঁদের বক্তব্য, ইদ-উল-আজহায় কোরবানির জন্য বড় পশু জবাই বহু মুসলিম পরিবারের কাছে অর্থনৈতিকভাবে জরুরি, কারণ উৎসবের আগে ছাগল ও ভেড়ার দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী শাদান ফারাসত আদালতে যুক্তি দেন, ইসলামে কোরবানির জন্য সুস্থ পশু বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে, অসুস্থ বা অক্ষম পশু নয়। তাই ইদ-উল-আজহার ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

    রিভিউ না চেয়ে কেন বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ?

    পাল্টা রাজ্যের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজ্য সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশ্ন, ‘কেউ হাইকোর্টের সেই মূল নির্দেশের রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা চায়নি, সবাই শুধু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি রাজ্যের একটি ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা জনস্বার্থ মামলায় এ ভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।’ কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিজ্ঞপ্তি হুট করে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছরই নিয়ম মেনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। তারা আরও জানিয়েছে, আইন ভাঙার দায়ে ইতিমধ্যেই ৬১০টি ঘটনায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিকাঠামোর অভাবের কথাও মানতে চায়নি কলকাতা পুরসভা। তারা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব চিহ্নিত কসাইখানা, পরিকাঠামো এবং কর্মী-চিকিৎসক রয়েছে।

    “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়

    আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে যে ইদ-উল-আজহায় গরু কোরবানি “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়। সেই কারণে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করার কোনও ভিত্তি নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৮ সালের একটি মামলায় হাইকোর্টের সমন্বয় বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, বর্তমান বিজ্ঞপ্তি মূলত তারই বাস্তবায়ন। হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার যেন বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত দুটি নতুন শর্ত যোগ করে—
    ১) খোলা বা জনসমক্ষে কোনও পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
    ২) ইদ-উল-আজহার সঙ্গে গরু কোরবানি ধর্মীয়ভাবে আবশ্যিক নয়— এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    পশু হত্যার অনুমতি মিলবে কী করে?

    পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাঁদের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন। যদি তাঁরা উভয়েই নিশ্চিত হন ও লিখিতভাবে মত প্রকাশ করেন যে পশুটি ১৪ বছরের বেশি বয়স্ক ও কাজ বা প্রজননের পক্ষে অনুপযুক্ত তখন তাঁরা শংসাপত্র দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে যদি এই শংসাপত্র দিতে কেউ অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত শংসাপত্র না পাওয়ার ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।

    ছাড় দেওয়া যায় কিনা, বিবেচনা করুক সরকার

    বকরি ইদে ‘ধর্মীয় কারণে’ গো বলিতে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বকরি ইদকে সামনে রেখে কসাইখানা চালানো ও গো বলি নিয়ে দায়ের ১১ মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিই বজায় রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খারিজ করেছে মামলাকারীদের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, যেহেতু ১৯৫০ সালের এই সংক্রান্ত আইনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কারণে পশু বলিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে ধর্মাীয় কারণে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করুক সরকার। অর্থাৎ, এই বিষয়ে বল এখন রাজ্যের কোর্টেই। রাজ্যকে শংসাপত্র ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা চলবে, কিন্তু আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, বিহার রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা। শীর্ষ আদালত বলেছিল, গরু জবাই ইদ-উজ-জোহার অংশ নয়, ইসলামে তা ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তাও নয়।

LinkedIn
Share