Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) গোটা রাজ্য তোলপাড়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

    সরকারি চাকরি-আর্থিক সাহায্য

    রবিবার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই মঙ্গলবার সরাসরি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথম থেকেই বারুইপুরের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সবরকমের সাহায্য়ের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন, পীড়িত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাকে সরকারি কারা দফতরে নিয়োগের ঘোষণা। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হয়।

    কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পরিবারকে বলে এসেছি কাস্টডি ট্রায়াল এবং কনভিকশন এক্সিকিউশন মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে হবে। একটা দৃষ্টান্তমূলক নজির এই কেসে রাখা হবে। সরকারের পক্ষ দিয়ে কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে আমি বলব না। কিছু অ্যাসিস্ট্যান্সের বিষয় থাকে, যদি ফ্যামিলি রাজি থাকে। ফ্যামিলি রাজি ছিল। সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

    আইনি পদক্ষেপ ও এনকাউন্টার

    বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Case) কড়া অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction)-এর সময় এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে এক অভিযুক্ত।

    সুরক্ষায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, সিসিটিভি

    নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। পরিবারের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি এই হস্তক্ষেপে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। ভয় অনেকটাই কমেছে। এবার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বলছেন এলাকাবাসীরা।

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নিহতের বাবার

    মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মৃত ছাত্রীর বাবা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান এবং সরকারের সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন,”এই মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থা একদম ভাল নেই। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা থিতু হলে তবেই সরকারের দেওয়া কারা দফতরের কাজে যোগ দেবেন”। সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রশাসন বোঝাতে চেয়েছে যে, এই কঠিন সময়ে তারা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে পাশে রয়েছে। নিহতের বাবার জন্য কারা দফতরের চাকরিটি পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক অনটন দূর করতে সাহায্য করবে। তবে এই মুহূর্তে কন্যাসন্তানকে হারানোর শোক এতটাই গভীর যে, নিহতের পিতা এখনই কাজে যোগ দিতে পারছেন না। মানসিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, স্কুলের লাইব্রেরিটি নিহত নাবালিকার স্মৃতিকে চিরকাল এলাকায় বাঁচিয়ে রাখবে।

  • West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসে তৃণমূল। ২০২৬ পর্যন্ত একাধারে মসনদে রাজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের এই অপশাসনের রাজত্বে সামনে এসেছে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর্থিক দুর্নীতি থেকে, লটারি, শিক্ষা ও কয়লা- দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলেও রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট। এবার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ওঠা একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পাহাড় খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের (West Bengal Corruption Investigation)। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের সমস্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ (Special Commission) গঠন নবান্নের।

    নবান্নের বিজ্ঞপ্তি

    সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের (Special Commission) চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

    স্ক্যানারে কোন কোন দফতর?

    নবান্ন সূত্রের খবর, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত দেড় দশকে শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ওঠা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে এই কমিশন। কমিশনের তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পে ওঠা তছরুপের অভিযোগ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের আর্থিক গরমিল। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপব্যবহার, সরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বেনিয়মের অভিযোগ।

    শুধুই আর্থিক নয়, তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহারও

    কমিশনের তদন্তের এক্তিয়ার শুধু আর্থিক দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং এর পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বেআইনি গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগগুলোও এবার খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা বা মদত ছিল কি না? তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল? তার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা হবে।

    কারা থাকছেন কমিটিতে?

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই বিশেষ কমিশনের (Special Commission) প্রশাসনিক কাঠামোও অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই বিশেষ টিমে থাকছেন একজন প্রবীণ আইপিএস (IPS) আধিকারিক। থাকছেন একজন আইএএস (IAS) বা ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিক। প্রযুক্তিগত ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবা (WBRS)-র একজন আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিশন আরও সদস্য নিয়োগ করতে পারবে।

    সিভিল কোর্টের ক্ষমতা ও টাকা উদ্ধারের সুপারিশ

    কমিশনকে তদন্তের সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘সিভিল কোর্ট’ বা দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা। ফলে কমিশন প্রয়োজনে, যে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিককে তলব করে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় গোপন নথি তলব ও সাক্ষ্যও গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে বসে শুনানি ও অনুসন্ধান চালানোর অবাধ অধিকার থাকবে কমিশনের কাছে। এরইমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে, তা কীভাবে উদ্ধার (Recovery) করা সম্ভব? সেই বিষয়েও সরকারকে নির্দিষ্ট সুপারিশ করতে পারবে এই কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে বিগত দেড় দশকের একাধিক হেভিওয়েট দুর্নীতির তদন্তে এই বিশেষ কমিশনের ভূমিকা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কাটল দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন দশা। ‘দ্বিতীয় ঘরে’ ফিরছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানা- যে কলকাতার মাটি ছোঁয়ার অনুমতি মেলেনি বারবার, অবশেষে সেই প্রিয় শহরেই সশরীরে ফিরছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত তথা লড়াকু সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার (West Bengal Government) ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই তাঁর ফেরার এই পথ সুগম হলো। জীবিতাবস্থায় কলকাতায় ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন লেখিকা।

    কে তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)?

    তসলিমা নাসরিন পেশায় চিকিৎসক হলেও মূলত একজন প্রখ্যাত ও আপসহীন সাহিত্যিক। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই লেখিকা তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারীবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও মানবাধিকারের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া নির্যাতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লজ্জা’। এই বইটির প্রকাশের পর থেকেই ধর্মীয় মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন তিনি, তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয় ফতোয়া।

    কেন রাজ্য (কলকাতা) ছাড়তে হয়েছিল?

    বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) কলকাতাকেই নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় তসলিমার উপস্থিতির বিরুদ্ধে এবং তাঁর ভিসা বাতিলের দাবিতে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন শহরে ব্যাপক হাঙ্গামা ও হিংসাত্মক আন্দোলন সৃষ্টি করে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে কার্যত তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীকালে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনেও সেই অচলাবস্থা কাটেনি। এমনকী বইমেলায় তাঁর বই প্রকাশ নিয়েও বারবার জট তৈরি হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের কারণেই কোনও সরকারই তাঁকে কলকাতায় ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

    বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ

    কলকাতায় ফেরার অনুমতি পেয়েই বর্তমান রাজ্য সরকারকে (West Bengal Government) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তসলিমা (Taslima Nasrin)। তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারগুলি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অথবা নিতে চায়নি, নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছে। একজন লেখককে তাঁর প্রিয় শহর থেকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপে নির্বাসিত করে রাখা কোনও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় নয়।’’ নিজের বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ কবিতার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,  একসময় ভেবেছিলেন মৃত্যুর পরই হয়ত কলকাতা তাঁকে গ্রহণ করবে, কিন্তু জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারার আনন্দই আলাদা। এই প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি কলকাতার সাধারণ মানুষ ও বিজেপি সরকারকে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেই রাজ্যসভায় এই বিষয়ে সওয়াল করেছিলেন সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। কেন তসলিমাকে কলকাতা থেকে বিতারণ? তা নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বামেদের বিরুদ্ধেও। তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই বাম ও তৃণমূল সরকার এতদিন লেখিকাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। তিনি বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন, হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে বই লিখেছিলেন৷ সেই বই আবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাজেয়াপ্ত করিয়েছিলেন৷ প্রকৃত সত্য যাতে সামনে না আসে৷’’ সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের এই ঘরে ফেরা শুধু এক ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার এক নতুন জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ আদালত থেকে ওবিসি মামলা (OBC Case) প্রত্যাহার করে নিল রাজ‍্য সরকার। একদিন আগেই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের তরফে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৫টি মুসলিম সম্প্রদায়-সহ মোট ৭৭টি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের মে মাসের হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কিন্তু, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা নিয়ে পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করবে তারা। সেইমতো এদিন মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্য কোনও পক্ষ চাইলে নিজেদের মামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

    শুভেন্দু-সরকারের ভাবনা

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দু’টি নতুন বিল পাশ করিয়ে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের পুরো কাঠামো ফিরিয়ে এনেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত শুধুমাত্র ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। ওবিসি স্বীকৃতি বাদ গিয়েছে ৭৭টি সম্প্রদায়ের। ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে— এই যুক্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষ পর্ব থেকে তৃণমূল জমানার গোড়া পর্যন্ত ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। গত দু’বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকার জন্য এই ওবিসি মামলার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার বুকে এখনও টিকে রয়েছে এমন এক পানীয়, স্বাদে ও ঐতিহ্যে যার জুড়ি মেলা ভার। শহরের বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের পাশে (Old Heritage Drink) একটি সাধারণ ভ্যানে গরমের মরশুমে বিক্রি হচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’ (Neera Prash)। প্রায় ৭০ বছরের পুরানো এই পানীয়টি বাজারে এসেছিল ১৯৫৫ সালে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রথিতযশা চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে। বিদেশি নরম পানীয়ের দেশীয় বিকল্প হিসেবেই বাজারে আনা হয়েছিল নীরা প্রাশ।

    নীরা প্রাশের রসায়ন (Neera Prash)

    মূলত তালমিছরি দিয়ে তৈরি নীরা প্রাশে সামান্য সাইট্রিক অ্যাসিড মেশানো হয়, যা পানীয়টিকে হালকা টক স্বাদ দেয়। অল্প পরিমাণ খাদ্যোপযোগী সংরক্ষণকারী উপাদান থাকায় এটি প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকার উদ্যোগে তৈরি এই পানীয় আজও শহরের অন্যতম সস্তা ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে পরিচিত। ২৫০ মিলিলিটারের কাচের বোতলের দাম মাত্র ১০ টাকা, আর ৪০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিকের বোতলের দাম ২০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় সমিতির প্রবীণ আধিকারিক তথা ক্যাশিয়ার প্রসেনজিৎ ধাড়া বলেন, “এই মুহূর্তে বিবাদী বাগেই আমাদের একমাত্র ভ্যান চলছে। দেশপ্রিয় পার্কে আমাদের দফতর থেকে বোতল পাওয়া যায়। খুব শীঘ্রই নিউ মার্কেট এবং আলিপুর এলাকায়ও ভ্যান পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    নীরা প্রাশের কদর

    শুধু অফিসপাড়ার কর্মীরাই নন, বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও নীরা প্রাশের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দেশপ্রিয় পার্ক লাগোয়া এলাকায় অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই একসঙ্গে অনেক নীরা প্রাশের অর্ডার দেন (Neera Prash)। তবে সপ্তাহের কাজের দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় অফিসকর্মীদের। ভ্যানচালক তথা নীরা প্রাশ বিক্রেতা তন্ময় দাস জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি বোতল বিক্রি হয়। ব্যবহারের পর কাচের বোতলগুলি সংগ্রহ করে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর সেগুলিতে পানীয় ভরে পরদিন আবারও বিক্রি করা হয়।” সোম থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে নীরা প্রাশের এই ভ্যান। বিমা সংস্থার কর্মী দেবকুমার সমাজদার বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় কাজ করছি। প্রায় প্রতিদিনই নীরা প্রাশ খাই। কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। গরমে দারুণ সতেজ লাগে।” নীরা প্রাশের আর এক ফ্যান বিশ্বনাথ কল্যাণ। তাঁর কথায়, “কলকাতায় এই পানীয় অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এটাই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এটি পুষ্টিকর, ক্যাফেইনমুক্ত, এবং স্বাদও অসাধারণ।” প্রসঙ্গত, নীরা প্রাশের (Neera Prash) পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকা তালগুড় থেকে (Old Heritage Drink) তৈরি করে আচার, সস এবং জ্যামও।

     

  • Rath Yatra Weather Update: রথযাত্রায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি! দক্ষিণবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের

    Rath Yatra Weather Update: রথযাত্রায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি! দক্ষিণবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথের মেলায় এবার সঙ্গী হতে চলেছে ছাতা আর রেনকোট! আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস তো তেমনটাই বলছে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে রথযাত্রা। এবার রথযাত্রার দিনসহ বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে বাংলা (Rath Yatra Weather Update)। কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর?

    হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস (Rath Yatra Weather Update)

    পবিত্র রথযাত্রার দিনসহ আগামী কয়েক দিন রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। একই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফে। কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি নামবে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    রথের দিন বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Heavy Rain Forecast)। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। উৎসবের দিনেই দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা রথের আনন্দ কিছুটা মাটি করতে পারে বলেও আশঙ্কা। অন্যদিকে, সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির দাপট মূলত পশ্চিমের জেলাগুলোতে বেশি থাকবে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি!

    হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় সপ্তাহের মাঝে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে । বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও কোনও বিশেষ সতর্কতা বা অ্যালার্ট নেই। তবে শনিবার থেকে চিত্রটা বদলে যাবে। সপ্তাহান্তে ফের দুর্যোগ ফিরবে পাহাড়ে। আগামী রবিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিংয়ে অতি ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain Forecast) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

    মৎস্যজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা

    সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং ঘূর্ণাবর্তের জেরে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্র চরম উত্তাল থাকবে। এই সময়ে সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

    কেন এই অকাল দুর্যোগ?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি আরও দক্ষিণে সরে এসে উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত আরও একটি অক্ষরেখার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এই জোড়া ফলার প্রভাবেই রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে অঝোর ধারায় বৃষ্টির পরিস্থিতি।

    অন্যদিকে, আজ শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি এবং ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কারণে বৃষ্টি না হলে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও বজায় থাকবে।

  • CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রায় মোটা অঙ্কের অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra Committee)। তার আগে সোমবার নবান্নে জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। শ্রাবণ মাসে শিবের মন্দিরে যাওয়া জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন (CM Suvendu Adhikari) তিনি।

    রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুদান (CM Suvendu Adhikari)

    এদিনের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল রথযাত্রা কমিটিগুলি। এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। অনেক দূর যাবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে তা মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের অর্থ পুরানো, বিশেষ করে কাঠের তৈরি রথ সংস্কারের কাজে ব্যবহার করারও অনুরোধ জানান।রথযাত্রা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “এত দিন রথযাত্রা উৎসবে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে স্লোগান— উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। তাই এ বারের রথযাত্রায় সরকারিভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    পুষ্পবৃষ্টি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়া হবে। এই কাজে পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হবে।শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি।” তিনি জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি তীর্থস্থানকে বেছে নেওয়া হয়েছে— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে পরিষেবা শিবির গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা। এই প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অন্য রাজ্যে দেখেছি, সরকারিভাবে এই পরম্পরাকে বাঁচাতে সহযোগিতা করা হয়। এত দিন এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এই সরকার সহায়তা করবে (CM Suvendu Adhikari)।” তিনি আরও জানান, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জলযাত্রীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, ১৪ জুলাই তারকেশ্বরে উপস্থিত থেকে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন।

    তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মঠ, মন্দির, কিরীটেশ্বরী-সহ অনেক প্রাচীন মন্দির, যাদের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সংস্কার এবং হেরিটেজের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছি। ধর্মীয় স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।” তিনি আরও জানান, ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা (Rath Yatra Committee) হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠিত অপরাধ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাকে কঠোর হাতে দমন করতে (Arrest Punishment) সোমবার থেকে কার্যকর হয়ে গেল রাজ্যের নয়া ‘গুন্ডাদমন আইন’। একই সঙ্গে কার্যকর হয়েছে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশোধিত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। নতুন (New Anti Social Activities Bill) এই দুই আইনের পোশাকি নাম ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’।

    ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান (Arrest Punishment)

    নবান্নের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের মনে আইনের শাসনের ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, আইনের কিছু ধারা প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। যদিও, সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন অপরিহার্য। নয়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান। এই আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের কাছে যদি বিশ্বাসযোগ্য কোনও তথ্য থাকে যে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাঁকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক করে রাখা যাবে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা কার্যকর করা সম্ভব।

    সমাজবিরোধীর সংজ্ঞা

    আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার, জেলাশাসক অথবা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন মনে করলে নিবর্তনমূলক আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। রাজ্য সরকারের মতে, বড় ধরনের অপরাধ বা হিংসার ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইনে ‘এলাকাছাড়া’ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তাহলে তাঁকে অনধিক এক বছরের জন্য ওই এলাকা বা একেবারে জেলা থেকেই বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে (Arrest Punishment)। আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞার পরিসরও অনেক প্রসারিত করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধে নিয়মিত যুক্ত ব্যক্তি, অপরাধে অর্থ জোগানদাতা বা মদতদাতা, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে চার্জশিটে নাম থাকা ব্যক্তি, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলে পরিচিত ব্যক্তিদের এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

    পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নিদান

    এ ছাড়াও সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করা, জীবন বা সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি, বেআইনিভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, অবৈধ বালি উত্তোলন, বেআইনি খনি কারবার, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ, বড় ধরনের সাইবার অপরাধ এবং আর্থিক জালিয়াতিকেও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা (Arrest Punishment) হয়েছে। এই আইনের আওতায় থাকা সমস্ত অপরাধই জামিন-অযোগ্য। তাই পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে। পাশাপাশি বাড়ি, গাড়ি বা (New Anti Social Activities Bill) অন্য কোনও জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, নথি, সম্পত্তি বা অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

    সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায়ও অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে (Arrest Punishment)। আটক বা এলাকাছাড়ার নির্দেশ অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়া বা সাহায্য করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’ গঠন করা হবে। কোনও দাঙ্গা, হিংসাত্মক আন্দোলন বা বিক্ষোভের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে চিহ্নিত অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করবে এই কমিশন।

    নয়া আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা সরকারের

    বিধানসভায় আইনটি পাস হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সিএএ-কে এনআরসি হিসেবে প্রচার করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাতে মুর্শিদাবাদে থানায় আক্রমণ করা হয়। ট্রেনে হামলা হয়েছিল, ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশন। সরকারি সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমি সেই সময়ে পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম। সেই সময়ে ২০টি সরকারি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করতেই এই কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নিবর্তনমূলক আটক, এলাকাছাড়া (New Anti Social Activities Bill) এবং জামিন-অযোগ্য ধারার মতো বিধান ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে (Arrest Punishment)। ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তা চলে এসেছে রাজ্যের চায়ে পে চর্চায়।

     

LinkedIn
Share