Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

  • West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। প্রায় তিন দশক পর ফের পশ্চিমবঙ্গে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাল জাপানের বিশ্বখ্যাত সংস্থা মিৎসুবিশি কেমিক্যাল। সংস্থাটি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) শিল্পের জন্য উৎপাদন ইউনিট গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে বুধবার নবান্নে রাজ্যের শিল্প ও অর্থ দফতরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা।

    নবান্নে বৈঠক, জমি চিহ্নিত করার প্রস্তুতি

    বুধবার নবান্নে মিৎসুবিশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তেরুয়ো ফুজিতা এবং তোমাফুমি কোয়ামা। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে মূলত রাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং জমি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাপানি প্রতিনিধিদল আবার কলকাতায় আসবে। সেই সফরে সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চল ও জমি সরেজমিনে দেখানো হবে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকছে মিৎসুবিশি?

    বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেখছে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশেষ করে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মিৎসুবিশি কেমিক্যালও। সংস্থাটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত আল্ট্রা-পিওর কেমিক্যাল এবং ইভি ব্যাটারির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে বিশ্বস্ত নাম। দেশে একের পর এক চিপ উৎপাদন প্রকল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে এই বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায় জাপানি সংস্থাটি। সেই কারণেই ভারতে একটি বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য গন্তব্যগুলির তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

    ১৯৯৭-এর পর ফের বাংলায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা

    মিৎসুবিশি কেমিক্যালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে হলদিয়ায় সংস্থাটি পিউরিফায়েড টেরেফথ্যালিক অ্যাসিড (PTA) প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কোনও বড় বিনিয়োগ হয়নি। প্রায় ৩০ বছর পর আবার বাংলায় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার আগ্রহকে শিল্পমহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

    বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অসম

    তবে এই প্রকল্পের দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গ একা নয়। সূত্রের খবর, কলকাতায় আসার আগে মিৎসুবিশির প্রতিনিধিরা অসম সরকারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যেই অসমে টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এগোচ্ছে, ফলে সেই রাজ্যও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবান্ধব নীতি, জমি, পরিকাঠামো, কর-সুবিধা এবং দ্রুত অনুমোদনের মতো বিষয়গুলিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন রাজ্যে মিৎসুবিশি তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

    জুলাইতেই বাংলায় একাধিক বড় বিনিয়োগের ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মিৎসুবিশি নয়, চলতি জুলাই মাসেই আরও কয়েকটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা হতে চলেছে।

    • লাক্স কোজি: আগামী ১১ জুলাই ডানকুনিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের ঘোষণা হতে পারে।
    • আমূল: ১৮ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে নতুন দই উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
    • শ্যাম স্টিল: ২৭ জুলাই বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার কথা।

    শিল্পমহলের একাংশের মতে, যদি এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং মিৎসুবিশির প্রকল্পও পশ্চিমবঙ্গে আসে, তাহলে রাজ্যের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তা একটি বড় মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হতে পারে।

  • Mamata Banerjee Slaps Man: মিছিলের উত্তেজনার আবহে বাড়ির সামনে এক ব্যক্তিকে সপাটে চড়, বিতর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    Mamata Banerjee Slaps Man: মিছিলের উত্তেজনার আবহে বাড়ির সামনে এক ব্যক্তিকে সপাটে চড়, বিতর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরকাণ্ডকে হাতিয়ার করে ঘোলা জলে মাছ ধরতে বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের (Mamata Banerjee Slaps Man) উদ্যোগে বের হয়েছিল প্রতিবাদ মিছিল। সেই মিছিলকে ঘিরে (Public Event) বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে কালীঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।

    চড় কষালেন মমতা (Mamata Banerjee Slaps Man)

    এই উত্তেজনার আবহেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে নিজের বাড়ির সামনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইঙ্গিতে একাধিকবার তিনি সরে যেতে বলেন উপস্থিত জনতাকে। কিন্তু দলনেত্রীর কথায় কান না দিয়ে জনতা এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করতে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে তৃণমূল নেত্রী বারবার “বেরো, বেরো” এবং “ডোন্ট ডিস্টার্ব মি” বলতে থাকেন। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা! এর পর আচমকাই মমতা তাঁর সামনে থাকা এক ব্যক্তির গালে সপাটে চড় কষিয়ে দেন। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তৃণমূলেরই একটি অংশের দাবি, যাঁকে দলনেত্রী রামথাপ্পড়টি দিয়েছেন, তিনি কালীঘাট তৃণমূলেরই এক কর্মী।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (Mamata Banerjee Slaps Man)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছেন মমতা। এই সমস্ত আচরণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও, তিনি এখন ঠিকই করছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না, বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রীকে। বলেন, “উনি রাজনৈতিক নেত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক দেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সরকার। সরকার কিছু বন্ধ করছে না, চাপিয়ে দিচ্ছে না, পুলিশের ব্যারিকেড নেই রাস্তায়। হাঁটছেন হাঁটুন। আর উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন! বসে যাবেন কেন? হাঁটুন। শরীরের জন্য, মনের জন্য হাঁটা ভালো। তৃণমূল নির্মূল হয়ে গিয়েছে। এখন তৃণমূলের দরজায় (Public Event) তালা লাগাচ্ছে, মানুষ ওদের মস্তিষ্কেই তালা লাগিয়ে দিয়েছে।” যদিও, তৃণমূলের অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে (Mamata Banerjee Slaps Man)।

     

  • TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক লেনদেন তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাওয়ার দাবি করেছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খোঁজ মিলেছে। ইডির দাবি, এই বিপুল অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।

    কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে ঘিরে কী দাবি ইডির?

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা দিত। ইডির অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেই সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই উড়ানযানগুলিই আবার তৃণমূলের নেতাদের কাছে ভাড়ায় ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং পরিষেবার বিনিময়ে অর্থপ্রদানের পদ্ধতি নিয়েই এখন বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি

    মঙ্গলবার কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন, সল্টলেক-সহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডির বিভিন্ন দল। তদন্তের অংশ হিসেবে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের মালিকের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি, সংস্থার আর্থিক নথি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। সল্টলেকের একটি সংস্থার অফিস এবং তাদের পরিচালকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, ওই সংস্থারও চার্টার্ড বিমান পরিষেবার সঙ্গে যোগ রয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জেরা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

    চার্টার্ড বিমানের খরচের উৎস খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা

    ইডির তদন্তে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচ কীভাবে মেটানো হতো এবং সেই অর্থের উৎস কী ছিল। বিমান ভাড়ার বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কতদিন পরিষেবা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে অর্থ জমা পড়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গিয়েছে।

    শিক্ষা ও রেশন মামলার অর্থের যোগ খতিয়ে দেখছে ইডি

    ইডি সূত্রে দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও অর্থ দলীয় তহবিলে এসেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হিসাব পরীক্ষা করছেন।

    পুরনো অভিযোগও তদন্তের আওতায়

    তদন্তে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের অভিযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তিনি দাবি করেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের খরচের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ছিল কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অন্যদিকে, ইডির বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং উদ্ধার হওয়া নথি বিশদে পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Baruipur Police Encounter: পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসের

    Baruipur Police Encounter: পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। সেই সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় সে। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    পুনর্নির্মাণের সময় কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে, প্রায় পৌনে ১টা নাগাদ তদন্তকারী দল প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে যায়। উদ্দেশ্য ছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে অপরাধের ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর প্রভাস এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে আটকাতে গেলে পুলিশের দিকে এক রাউন্ড গুলিও চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস আহত হয়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    তদন্তে সহযোগিতা করছিল না অভিযুক্ত

    তদন্তকারী সূত্রের দাবি, গ্রেফতারের পর থেকেই প্রভাস জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছিল। বিভিন্ন প্রশ্নের বিভ্রান্তিকর ও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই কারণেই ঘটনার প্রকৃত ক্রম এবং অভিযুক্তের ভূমিকা স্পষ্ট করতে পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    কীভাবে প্রথম সন্দেহের তালিকায় আসে প্রভাস?

    গত রবিবার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকাকে প্রভাসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তদন্তে এলাকার কিছু সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে আসে। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম। পুলিশের দাবি, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রভাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় প্রথম গ্রেফতার হয়েছিল প্রভাসকেই।

    আরও এক অভিযুক্ত গ্রেফতার, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে চার

    এদিকে, এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে কবীরকে পাকড়াও করে। ঘটনার পর থেকেই কবীর পলাতক ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বারুইপুরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনায় তার ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেফতারের পর ধর্ষণ-খুন মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। এর আগে প্রভাস, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’; বিক্ষোভ-হিংসাতেও কড়া পদক্ষেপ

    মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পর বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগেও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং কাউকেই ছাড়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে বুধবার বারুইপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর।

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে সিলেবাসেও শ্যামাপ্রসাদ! শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)।

    স্কুল স্তরের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন ‘ভারত কেশরী’ তথা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।

    সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus) কোন কোন অধ্যায়?

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার বর্তমান প্রজন্মকে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে মূলত যে বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হবে-

    • পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও ইতিহাস: ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর প্রেক্ষাপট।
    • দেশপ্রেম ও অখণ্ড ভারত: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রপ্রেম এবং অখণ্ড ভারতের যে রাজনৈতিক ভাবনা, তা শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে।
    • শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রসারে উপাচার্য হিসেবে তাঁর যে অসামান্য অবদান ও কর্মজীবন, এবার থেকে তাও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে চর্চিত হবে।

    আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসীম রাষ্ট্রপ্রেম এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মূল স্রোতে ধরে রাখার যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জানা জরুরি। এবার থেকে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই তাঁর এই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ানো হবে।”

    মিত্র ইনস্টিটিউশনের জন্য অনুদান

    এদিন নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) স্মৃতিবিজড়িত স্কুল ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’-এর দুর্দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন “অতীতে এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের দিকে কেউ নজর দেয়নি”। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদানেরও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    জিরাটে তৈরি হবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

    পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) আদি পৈতৃক ভিটে হুগলির জিরাটে একটি আধুনিক ও বৃহৎ লাইব্রেরি (গ্রন্থাগার) তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে গবেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আরও বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন, বলেই মনে করছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণার পর এটা স্পষ্ট যে, নতুন সরকার বাংলার জন্ম-ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।

  • Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উদযাপিত হলো ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী (Shyama Prasad Jayanti celebration)। এই প্রথমবার রাজ্যে মহাসমারোহে সরকারি উদ্যোগে পালিত হলো ‘ভারত কেশরী’-র জন্মজয়ন্তী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

    মহাকরণে ঐতিহাসিক সূচনা

    রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রশাসনিক ভবন মহাকরণে (রাইটার্স বিল্ডিংস) সরকারি উদ্যোগে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস (Shyama Prasad Jayanti celebration) পালন করা হলো। এদিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মচারী মহাকরণে এসে তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

    ইকো পার্কে বিশাল মূর্তির শিলান্যাস

    বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদানকে এতদিন আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে দাবি বর্তমান রাজ্য সরকারের। তাই এই বিশেষ দিনটিতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে নিউটাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এদিন কলকাতায় এসে এই মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

    পৈতৃক ভিটে দর্শন ও স্মরণ সভা

    ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) পৈতৃক বাসভবন।  মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচনের পর সেখানেও যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য় দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অমিত শাহ। এরপর সায়েন্স সিটির সংলগ্ন বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভাতেও যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে গোটা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরেন শাহ।

    নতুন সরকারি ঘোষণা

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মদিনে প্রতিবছরই ৬ জুলাই সরকারি ছুটি থাকবে। হুগলির জিরাটে তাঁর আদি পৈতৃক ভিটেতে মিউজিয়াম তৈরি করা হবে এবং সেখানেও একটি নতুন মূর্তিও বসানো হবে”। ইতিমধ্যেই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই বাংলার এই মনিষীকে নিয়ে আবেগ ও চর্চা দুই-ই বেড়েছে। শুধু মুখের কথায় আটকে না থেকে, সরকার যেভাবে দ্রুততার সাথে ১২৫ ফুটের মূর্তির শিলান্যাস করলো, তা প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রমাণ দেয়।

LinkedIn
Share