Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্থাবর সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরনিগমের (KMC) আইনগত নজরদারির আওতায় এসেছে। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির (21 Properties Plans) অনুমোদিত নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। মূল নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ থাকলে নিজেথেকেই ভাঙতে হবে, নয়তো প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসমক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির একটি খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। তার পরপরই কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

    ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি দেওয়ার নির্দেশ (Abhishek Banerjee)

    লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর সম্পত্তি ও পুরনিগমের আইনি ধারা অনুযায়ী বৈধ কিনা সেই মর্মে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সম্পত্তিগুলির বৈধতা যাচাই করাই পুরনিগমের মূল লক্ষ্য। কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবকটি ঠিকানায় (21 Properties Plans) নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা পুরসংস্থার বিল্ডিং আইনের ৪০১ ধারা (Section 401) মোতাবেক এই নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পত্তিগুলির বৈধ কাগজপত্র ও নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত নথি জোগাড় করতে না পারলে, নিয়মানুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হতে পারে।

    তথ্য আগেই এসে গিয়েছিল শুভেন্দুর হাতে

    গত রবিবার ফলতার এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরনিগম থেকে আমি নির্দিষ্ট তালিকা আনিয়েছি। কলকাতায় এবং আমতলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি বিলাসবহুল (21 Properties Plans) সম্পত্তি ও প্রাসাদোপম কার্যালয় রয়েছে।’’ পুরনিগমের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, যেসব সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি ভবন এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল আবাসন রয়েছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার পুর প্রশাসন

    প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে উল্লেখ্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Abhishek Banerjee) সংস্থাটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির (CBI ও ED) নজরদারিতে রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি এর সিইও (CEO) হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী এই সংস্থার ডিরেক্টর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

    রাজ্যের বিগত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন এই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার স্বয়ং কলকাতা পুরনিগম এই সম্পত্তিগুলির নির্মাণগত বৈধতা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    নিজেস্ব নিয়মে নোটিশ জারি করেছে

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি এবং পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর কার্যালয়গুলিতে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) নোটিস পাঠানো নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার এই আকস্মিক আইনি পদক্ষেপের দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই নোটিস জারির বিষয়ে পৌর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবগত ছিল না। কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ আইন ও নিয়মের নিজস্ব পরিধির মধ্যে থেকে এই নোটিস জারি করেছে। এটি কোনও রাজনৈতিক নির্দেশ বা মেয়রের দফতর থেকে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়।” ফিরহাদ আরও জানান, পুরসভার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে পাঠানো এই নোটিসের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনও ভবনের নকশা বা নির্মাণে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যে রুটিন নোটিস পাঠায়, এটিও তেমনই একটি পদক্ষেপ।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভেতরের সমীকরণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Abhishek Banerjee) প্রকাশ্য বিবৃতির পরদিনই কলকাতা পুরনিগমের মতো একটি তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড যেভাবে সক্রিয় হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির নকশা তলব করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের “কিছুই না জানার” এই বয়ান অত্যন্ত সুকৌশলী। একদিকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পুর প্রশাসন সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে দলের অন্দরে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে (21 Properties Plans) কেন্দ্র করে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়, সেই কারণেই তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে এই আইনি নোটিসকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন পুরসভার অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং মেধার মূল্যায়নে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কৃতী শিক্ষার্থীদের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “রাজ্যে বিদ্যমান সমস্ত ধরনের ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত মন্ত্রিসভা। এই খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। রাজ্যের কোনও মেধা যেন বাইরে না যায়।”

    ফি পদ্ধতিতে লাগাম টানার আহ্বান (CM Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির (Private School) লাগামহীন ফি বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি বেশ কিছু কড়া কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দেন। শুভেন্দু বলেন, “বর্ণ, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে পুনরায় চালু করা হচ্ছে স্থগিত হয়ে থাকা বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা। আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে কোনও শিক্ষার্থীই যেন কেবল আর্থিক অনটনের কারণে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    বেতন কাঠামোয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সেমিস্টার ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের ঊর্ধ্বগতির প্রতি ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “অর্থনৈতিক দিক থেকে আপনারা যেভাবে শিক্ষার্থীদের থেকে ফি নিচ্ছেন, সেখানে সরকারের একটি সুস্থ নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে (Private School) এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানাই। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে বিপাকে না পড়ে এবং সরকারকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সেই দিক মাথায় রেখে বিবেচনা করবেন।”

    মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সহজ প্রবণতার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “দয়া করে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান ও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করুন। যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন সর্বভারতীয় বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এক অস্বাস্থ্যকর অসমতার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার (Private School) মানোন্নয়নে দুই মাধ্যমের মধ্যেই একটি সুস্থ ও গৌরবময় প্রতিযোগিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।”

    সরকারি ও সামাজিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি উৎসাহ প্রদান

    মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) তাঁর ভাষণে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু বলেন, “আজকের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে জনকল্যাণে শিক্ষাদান করে চলেছে।” আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের (Private School) উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, বৃত্তিসংক্রান্ত যেকোনও সহায়তার জন্য তারা যেন সরাসরি শিক্ষা দফতর বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) সঙ্গে যোগাযোগ করে।

  • Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা (Post Poll Violence) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত রাজনৈতিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের (BJP Bengal) উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত পাঁচ বছরের পুরোনো হিংসার মামলাগুলিকে নতুন করে আইনি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশোরও বেশি পুরনো মামলার (BJP Bengal) নতুন করে ওপেন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের জমানায় যে সমস্ত মামলার ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ জমা পড়ে ফাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেইসব ক্লোজড ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে। বিগত দিনগুলিতে যেসব ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল কিংবা চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের মাধ্যমে আইনি নথিপত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও আইনগত সক্রিয়তা (Post Poll Violence)

    রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (ADG, Law and Order) পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) শিকার হওয়া নাগরিকদের অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন (Review) নিশ্চিত করা। প্রশাসনের (BJP Bengal) এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ববর্তী বহু মামলার নথিপত্র আরেকবার নতুন করে খোলা হয়েছে।

    কঠোর আইনি পদেক্ষেপ

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইতিমধ্যে ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

    তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) পুনর্বিবেচনা

    বিগত সময়ে যেসব মামলায় (Post Poll Violence) পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, তেমন অন্তত ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনও রকম খামতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নতুন অনুসন্ধান ও এফআইআর (FIR) দায়ের

    পূর্ববর্তী অভিযোগ এবং নতুন করে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে ৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক অনুসন্ধান (Enquiry) শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের করে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

    নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার

    এই নতুন আইনি সক্রিয়তার অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, বিশেষত দুর্গাপুর, বর্ধমান, মাথাভাঙ্গা এবং হুগলি অঞ্চল থেকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি, নারী নির্যাতন এবং তোলাবাজির (Extortion) মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

    তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা

    এবারের তদন্ত প্রক্রিয়াগুলিকে (Post Poll Violence) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) ব্যক্তিগতভাবে এই মামলাগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পেশ করার পর বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য নিয়মিত আইনি সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরাধমূলক সিন্ডিকেট বা চক্রগুলির গতিবিধি ও তাদের আর্থিক উৎসের সন্ধান করতে বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২রা মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (Post Poll Violence) প্রকাশের পরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে। শাসকদল বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের হতাহত করে এক তরফা আক্রমণ করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তৎকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কয়েক ধাপে ৫৭ জনের বেশি খুন করা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি বিগত দিনে স্থানীয় পুলিশের এক্তিয়ারে থাকা সাধারণ ও মাঝারি স্তরের অপরাধের মামলাগুলির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় (Post Poll Violence)

    গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় (BJP Bengal) যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ২০২১ সালের নির্বাচন-উত্তর সহিংসতার মামলাগুলি পুনরায় খোলার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন এটিই স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অপরাধের তীব্রতা বা সময়কাল যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুদীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি সক্রিয়তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে, তেমনই এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরগামী ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের প্রায় সব সভায় বিজেপির ‘সঙ্কল্প-বার্তা’ ছিল, ক্ষমতায় এলে রুখে দেওয়া হবে বাংলাদেশিদের বঙ্গে অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গবাসী হাত উপুড় করে ভোট দেওয়ায় এ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পদ্ম-রাজ। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই শুরু করে দিয়েছেন ‘অ্যাকশন’। সেই শুভেন্দুই এবার আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামিকে (Jamaat)।

    ‘বাংলাদেশে যাও’ (Suvendu Adhikari) 

    তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস তো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। দেখুন ভাই, আমি ভয় পাই না। তাই ওই সব চেষ্টা করেও লাভ নেই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ডারকে সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও… যাও যেখান থেকে এসেছিলে, সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও।”

    পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে শুরু হওয়া পুরোহিত-ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা (Suvendu Adhikari)। শুধু অনুপ্রবেশকারী নয়, পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু। রবিবার পার্ক সার্কাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রীনগরেও পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। কলকাতায়ও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন, আগের সরকার আছে, আগের মতো পুলিশ ফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তাহলে ভুল করছেন। গুন্ডামি, অসামাজিক কাজকর্মে অনুমতি দেব না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম, পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এজন্য যতদূর যেতে হয়, যাব (Jamaat)। শুধু গ্রেফতারি নয়, শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করবে সরকার (Suvendu Adhikari)।”

  • BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, সামরিক লজিস্টিকস এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেক করিডর এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-কে ১২০ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস্ নেক?

    বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মাঝে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে। চিকেনস্ নেক বা সিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য এক ধরনের লাইফলাইন। এই সরু ভূখণ্ডটি বিচ্ছিন্ন হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় পদক্ষেপ

    তাই বহুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিরক্ষা মহল এই অঞ্চলকে বিশেষ নজরে রাখছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জমি হস্তান্তরের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে এবার গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন রাজ্য সরকার।

    জাতীয় সড়কও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে

    শুধু জমি হস্তান্তরই নয়, রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়কের অংশ রাজ্যের গণপূর্ত দফতর থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই রাস্তা হস্তান্তর করা হবে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এবং জাতীয় মহাসড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর কাছে। এই সাতটি রাস্তার মধ্যে পাঁচটিই চিকেনস নেক করিডরের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● সেবক – কালিম্পং – সিকিম সীমান্ত (১০ নম্বর জাতীয় সড়ক)
    • ● শিলিগুড়ি – কার্শিয়াং – দার্জিলিং
    • ● হাসিমারা – জয়গাঁও (ভুটান সীমান্ত)
    • ● চ্যাংরাবাঁধ (বাংলাদেশ সীমান্ত)

    বিশেষ করে ১০ নম্বর এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই ধস, অতিবৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এর ফলে সিকিম এবং দার্জিলিঙের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যা সরবরাহ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহণে বড় প্রভাব ফেলে।

    উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন

    মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা সরকারি প্রেস নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি রাস্তা উন্নয়নের ফলে উত্তরবঙ্গ, ডুয়ার্স, দার্জিলিং পাহাড়, সিকিম, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। এছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে জাতীয় সড়ক সংযোগ উন্নত হবে। বিশেষ করে ঘোজাডাঙা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও সীমান্ত লজিস্টিকসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

    দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পে গতি

    সরকারি মহলের দাবি, আগের সরকারের আমলে এই জমি হস্তান্তর এবং রাস্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকেনস নেক করিডরে অবকাঠামো শক্তিশালী হলে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়াও অনেক সহজ হবে।

  • RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা সেখানকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি ইডিকে (ED) দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানালেন। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নিদের্শের প্রতিলিপিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের ‘ন্যায় বিচার’-এর লক্ষ্যে এটি একটি ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’ বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ‘বোন অভয়া’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যবাসী ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ধীরগতির করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এবং কোনওভাবেই সত্য চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

    কেন রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন

    যেহেতু সন্দীপ সরকারি কর্মচারী, তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ইডি সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি। এত দিন তা আটকে ছিল। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি সরকারের তরফ থেকে দিয়ে দেওয়া হল। সন্দীপকে দোষী সাব‍্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে কার্যত ইডির সামনে এখন আর কোনও বাধা রইল না। শুভেন্দু আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

    আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি

    আরজি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ‘অভয়া’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত চলাকালীন আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই সন্দীপ ঘোষের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এবার সেই ‘স্যানকশন অফ প্রসিকিউশন’ মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত সন্দীপ

    প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা আছে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার পর, প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্তব্যে গাফিলতি, যা ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২০বি ধারার সঙ্গে পঠিত ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (২০১৮ সালের সংশোধিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন)-এর ৭ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি আর্থিক দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ২(১)(য়)-এর অধীনে নির্ধারিত অপরাধের আওতাভুক্ত। এর ফলেই সন্দীপ-সহ মা তারা ট্রেডার্স, ইশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আরও কারা কারা জড়িত

    পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে, এমন অভিযোগ এবং তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়া সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি

    শাসকদলের দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আরজি কর মামলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতিলিপিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, সহকারী অধিকর্তা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিজিও কমপ্লেক্স, এমএসও এবং ডিএফকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যবাসীর একাংশ এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় দ্রুত বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি উঠছিল।

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বহুল চর্চিত ব্যবসায়ী (প্রকারম্তরে সমাজবিরোধী) তথা ‘কসবার ত্রাস’ বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু অবশেষে গ্রেফতার হলেন। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর্থিক প্রতারণা, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং হাওয়ালা লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বহুদিন ধরেই।

    কাঁকুলিয়ার বোমাবাজি ঘটনায় উঠে আসে নাম

    ভোটের আগেই নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল কসবার এই ব্যবসায়ীর। বিশেষ করে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবর থানা সংলগ্ন এলাকায় বোমাবাজি, গুলি চালানো, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। যদিও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তিনি ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যেই দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি পলাতক নন এবং কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত থেমে থাকেনি।

    হঠাৎ ইডি দফতরে হাজিরা, সঙ্গে স্ত্রী

    সোমবার সকালে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের ইডি অফিসে পৌঁছে যান সোনা পাপ্পু। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিনি কোনও নতুন নোটিস ছাড়াই নিজে থেকে হাজিরা দেন বলে জানা গিয়েছে। অতীতে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ইডি সূত্রের দাবি, হাজিরা দেওয়ার পর তদন্তকারীরা তাঁকে জমি দখল, আর্থিক লেনদেন, নগদ টাকার উৎস, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তদন্তে অসহযোগিতা, অসংলগ্ন উত্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    বাড়িতে তল্লাশি: নগদ, অস্ত্র, গয়না উদ্ধার

    এর আগেই সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না, সম্পত্তির নথি এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অস্ত্রটি ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। পরে অস্ত্রটি গড়িয়াহাট থানায় জমা করা হয়। শুধু নগদ বা অস্ত্র নয়, উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থা ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত।

    জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যোগ

    এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশন-এক মালিক জয় কামদার। প্রোমোটার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তদন্তে উঠে আসে, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, জমি দখল এবং আর্থিক লেনদেনে এই চক্র সক্রিয় ছিল। গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। যদিও সিজিও-তে হাজিরা দিয়ে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে চেনেন না এবং কোনওদিন দেখেননি। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণে তাঁদের যোগসূত্র মিলেছে।

    তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও

    ইডি সূত্রে খবর, মামলার তদন্তে হাওয়ালা চক্রের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পুর আর্থিক নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, নির্মাণ সংস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী মহলের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একজন ব্যবসায়ীর গ্রেফতার নয়—কলকাতার রিয়েল এস্টেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একটি বড় নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁসের সূচনা হতে পারে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য

    ভোটপর্ব শেষ হতেই সোনা পাপ্পুর গ্রেফতার রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর তাঁর আচমকা হাজিরা এবং তারপর গ্রেফতার—এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সোনা পাপ্পুর জেরা থেকে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় নতুন গ্রেফতার বা আরও তল্লাশির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন আদালতে পেশ করে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার পূর্ণ ছবি সামনে আনা।

  • CM Suvendu Adhikari: বিগত তৃণমূল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন শুভেন্দু অধিকারীর

    CM Suvendu Adhikari: বিগত তৃণমূল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কার্যকালে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি (BJP West Bengal)। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নিরপেক্ষতা ও আইনি উৎকর্ষ বজায় রাখতে এই দুটি কমিটির নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ওপর।

    দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ (CM Suvendu Adhikari)

    নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত শাসনামলে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। সাধারণ মানুষের করের অর্থের অপচয় রোধ করতে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটি দুটির মধ্যে একটি কমিটি বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি দফতরে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং দ্বিতীয় কমিটিটি বিভিন্ন সরকারি (BJP West Bengal) প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অসঙ্গতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।”

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই তদন্ত

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, “আমাদের সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নয়, বরং আইনের শাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় দায়বদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তদন্তের অগ্রগতি এবং কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

    নারী এবং শিশুকন্যাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনে তাঁর সঙ্গে সদস্যসচিব রূপে কাজ করবেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।

    যথাযথ ধারা অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনও নেব (CM Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “আমি আশা করব, এই কমিশন তার ফাংশনিং শুরু করার ৩০ দিনের মধ্যেই সুপারিশগুলি দিতে শুরু করবে। তার ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর রুজু করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যথাযথ ধারা অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনও নেব। মিশন পুরো অফিস চালু করে দিলে, ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। পুরনো যে অভিযোগ বা এফআইআর যেগুলো পড়ে আছে, সেগুলো কালেক্ট করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি), এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের যত সুপারিশ এখনও পর্যন্ত পড়ে রয়েছে, সেগুলো কমিশন প্রাথমিক ভাবে নিয়ে নেবে।”

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম লগ্ন থেকেই নতুন বিজেপি সরকার (BJP West Bengal) যেভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে, এই কমিটি গঠন তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে তদন্ত করানোর এই সিদ্ধান্ত যেমন একদিকে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share