Abhishek Banerjee Properties: অভিষেকের ২৪, সোনা পাপ্পুর ২৪, জাভেদ খানের ছেলের ৯০টা সম্পত্তি! ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’ বললেন শুভেন্দু

suvendu-adhikari-targets-abhishek-banerjee-over-properties-bengal-administration-launches-probe-tmc-leaders-properties-and-assets-corruption

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতি ও সম্পত্তি কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলে আসা বিজেপি সরকার এবার সরাসরি নিশানায় আনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে। সম্প্রতি বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজনের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান সরকারের হাতে এসেছে এবং সেই সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সক্রিয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পত্তির নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি জনসমক্ষে একাধিক নাম ও সম্পত্তির সংখ্যা প্রকাশ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বাংলাকে যারা লুট করেছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে যারা প্রাসাদ গড়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

কার কত সম্পত্তি?

মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম। শুভেন্দুর দাবি, তাঁর নামে ১৮টি সম্পত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় নাম কসবার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যার নামে ২৪টি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে দাবি সরকারের। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণের কেন্দ্রে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, “ভাইপো”-অভিষেকের নামে ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্-এর নামে মিলিয়ে মোট ২৪টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও অভিষেকের বাবার নামেও একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ করেন তিনি। তালিকার চতুর্থ নাম হিসেবে উঠে আসে কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলের নাম, যার নামে একাই ৯০টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভিষেকের ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা বিজেপির হাতে!

সূত্রের দাবি, ২৪ নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত মোট ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা নাকি হাতে এসেছে বিজেপি সরকারের। যদিও সেই তালিকার সব সম্পত্তিই তাঁর একক মালিকানাধীন নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তিনি যুগ্ম মালিক বা পারিবারিক অংশীদার হিসেবে রয়েছেন। তবুও এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হেম দে লেন, ধর্মতলা রোড, গিরিন্দ্র শেখর বোস রোড, পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য সরণী, দেবেন্দ্র ঘোষ রোড, রাজকৃষ্ণ ঘোষাল রোড, বৈষ্ণবঘাটা বাই লেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড, পূর্বাচল রোড, বরাখোলা, ব্রহ্মপুর এবং কালিয়াপাড়া মুখার্জি রোডের একাধিক ঠিকানা। কয়েকটি সম্পত্তি ফ্ল্যাট, আবার কয়েকটি আবাসন ও বাণিজ্যিক ইউনিট হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বলে দাবি।

‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’

এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কলকাতা পুরসভার ফাইল খোলা হচ্ছে। কীভাবে বাংলাকে লুট করা হয়েছে, মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। আমরা ক্যাবিনেটে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই।” শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোস এবং পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বড় রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযান চলবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ইডির জালে সোনা পাপ্পু, পুলিশের হাতে রাজু নস্কর…

এরইমধ্যে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি গ্রেফতার করেছে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে। জমি দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, হাওয়ালা লেনদেন এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বেলেঘাটার রাজু নস্করও ইতিমধ্যেই অপহরণ ও মারধরের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টে অভিষেক!

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে সোমবারই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জাান গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হয়নি, দলের অন্দরে এই ইস্যু ঘিরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।

“দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হওয়ার লক্ষ্যে…

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর বিজেপি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে দুর্নীতি ও সম্পত্তি তদন্ত। একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে এই অভিযানকে সামনে রেখে নিজেদের “দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী দিনে এই তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং সত্যিই কোনও বড় আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share