Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Weather Update: বৃষ্টিতে নাজেহাল রাজ্যবাসী! কবে থেকে কমবে দুর্যোগ?

    Weather Update: বৃষ্টিতে নাজেহাল রাজ্যবাসী! কবে থেকে কমবে দুর্যোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটানা বৃষ্টিতে নাজেহাল রাজ্যবাসী। রবিবারও দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Weather Update) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর বর্তমানে গভীর নিম্নচাপ (Deep Depression) অবস্থান করছে। তবে আজ সোমবার থেকেই শক্তি হারাবে এই গভীর নিম্নচাপ এবং তা পরিণত হবে শুধু নিম্নচাপে। হাওয়া অফিসে তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপটি। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় সেটি পশ্চিমমুখী হয়ে ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর ছত্তিশগড়ের দিকে এগোতে পারে।

    সোমবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি

    আজ সোমবার থেকে আবহাওয়ার (Weather Update) উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমবে উত্তরবঙ্গেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ইতিমধ্যে নিম্নচাপের (Deep Depression) জেরে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। আজ সোমবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্র যাত্রা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। 

    সোমবারও মেঘলা আকাশ

    হাওয়া অফিসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবারও আকাশ মেঘলা থাকবে। কলকাতা-সহ বাকি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এদিন, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা (Weather Update) করবে। অন্যদিকে, সোমবারই পুরুলিয়া ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হলুদ সর্তকতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

    গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২২.২ মিলিমিটার 

    রবিবার কলকাতা এবং পাশ্বর্বতী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.৬ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের (Weather Update) চেয়ে ১.৩ ডিগ্রি কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২২.২ মিলিমিটার, এমনটাই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

    আরও পড়ুন: বছরের প্রথম ছ’মাসে ১১ কোটি পর্যটক! বারাণসীকে পিছনে ফেলে শীর্ষে রাম জন্মভূমি

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: মঙ্গলবার সুপ্রিম-শুনানি, জুনিয়র ডাক্তাররা নিয়োগ করলেন আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংকে

    RG Kar: মঙ্গলবার সুপ্রিম-শুনানি, জুনিয়র ডাক্তাররা নিয়োগ করলেন আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) রয়েছে আরজি কর (RG Kar) মামলার শুনানি। তার আগেই বিরাট পদক্ষেপ জুনিয়র ডাক্তারদের। আন্দোলনকারী জিনিয়র ডাক্তারদের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার তাঁদের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করবেন বিশিষ্ট আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডে শীর্ষ আদালতে হওয়া আগের শুনানিতে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের’ হয়ে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী গীতা লুথরা। তাঁর পরিবর্তে এবার সওয়াল করবেন ইন্দিরা। জানা গিয়েছে, চিকিৎসকদের সংগঠন, ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর হয়ে সওয়াল করবেন করুণা নন্দী এবং সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, আরজি কর (RG Kar) কাণ্ডের প্রতিবাদে এই সংগঠনও ওই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রবিবারই জানা যায়, ইন্দিরা জয়সিংকে নিজেদের আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনিয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে অনিকেত মাহাতো বলেন, “আমরা আইনজীবী হিসাবে ইন্দিরা জয়সিংকে নিয়োগ করেছি। আগামী মঙ্গলবার তিনি আমাদের হয়ে সওয়াল করবেন।”

    সুপ্রিম কোর্টে ‘লাইভ স্ট্রিমিংয়ের’ আর্জি জানিয়েছিলেন 

    প্রসঙ্গত, ইন্দিরা জয়সিং সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি সওয়াল করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি যাতে ‘লাইভ স্ট্রিমিংয়ের’ মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে যায় তার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন ইন্দিরা। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চ ‘লাইভ স্ট্রিমিংয়ের’ আর্জিকে মান্যতা দেওয়ার কথা জানায়।

    জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’-এ কীসের আপত্তি মমতার?

    বর্তমানে ‘লাইভ স্ট্রিমিংয়ের’ মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মামলার শুনানি ঘরে বসেই দেখা যায়। আরজি করের (RG Kar) ঘটনা নিয়ে শীর্ষ আদালতের শুনানিও সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। এদিকে ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ বিতর্কেই বার বার ভেস্তে যাচ্ছে রাজ্যের সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠক। অনেকেই বলছেন, লোকসভা অধিবেশন, রাজ্যসভার অধিবেশন, সুপ্রিম শুনানি যদি ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ হয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে ‘লাইভ স্ট্রিমিং’-এ আলোচনা করছেন না? প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে (RG Kar) বসার আগে জুনিয়র ডাক্তারেরা ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ বা সরাসরি সম্প্রচারের দাবি তোলেন। কিন্তু তারপরেও মমতা সরকার চিকিৎসক পড়ুয়াদের দাবি না মানায় ভেস্তে যায় বৈঠক। বাড়ি ডেকে কার্যত তাঁদের ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তেলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja: বাংলাদেশের ছায়া পশ্চিমবঙ্গে! পুজোর আগেই দুর্গার মূর্তি ভাঙল দুষ্কৃতীরা!

    Durga Puja: বাংলাদেশের ছায়া পশ্চিমবঙ্গে! পুজোর আগেই দুর্গার মূর্তি ভাঙল দুষ্কৃতীরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গা পুজোর (Durga Puja) আগেই দেবী দুর্গা এবং অন্যান্য হিন্দু দেবতার মূর্তি ভাঙচুর (Broke idol) করেছে দুষ্কৃতীরা। মা দুর্গার মূর্তির সঙ্গে লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তিও ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও শেয়ার করে অমিত মালব্য বলেন, “মা দুর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তিগুলিকে অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয় দিয়ে পুজোর আগেই ভাঙচুর করা হয়েছে। বাংলায় হিন্দুরা সঙ্কটে রয়েছেন।” ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

    ঘটনা কোথায় ঘটেছে (Durga Puja)?

    বাংলায় সবথেকে বড় উৎসব হল দুর্গা পুজো (Durga Puja)। কিন্তু হিন্দুদের এই উৎসবের আগেই হুগলি জেলার ঝরিয়া গ্রামে নির্মীয়মাণ দুর্গা মূর্তিগুলিকে ভাঙচুর করা হয়েছে। মুসলমান রাষ্ট্র বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে এই ধরনের ঘটনা প্রায় প্রায় ঘটে থাকে। এবার পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের দেবদেবীর উপর আঘাত নেমে এল। শনিবার, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডলে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “হুগলির গোঘাট থানা এলাকায় মা দুর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার কথা জানার পরেও গোঘাট পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি। তবে পুলিশকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সামনে মিথ্যা আশ্বাস দিলেও অপরাধীদের ধরা এবং শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনও সদর্থক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। এই মামলাটিও অন্যান্য অগণিত মামলার মতো ধামাচাপা দেওয়া হবে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা সব সময় তোষণের রাজনীতি করেন। যদি আমাদের দেবদেবীরাও নিরাপদ না থাকেন, তবে বাংলার নারীরা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন।”

    আরও পড়ুনঃ দেহ উদ্ধারের সকালে সন্দীপ-অভিজিৎ ফোনে কথা, মোক্ষম অস্ত্র সিবিআইয়ের হাতে

    ধুপগুড়িতে আগেও হামলা হয়েছিল

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিমা ভাঙচুরের (Broke idol) ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এই বছরের মে মাসের শুরুতেই জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়িতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা তিনটি হিন্দু মন্দিরে ঢুকে ব্যাপক ভাবে মূর্তি ভাঙচুর করেছিল। ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দুরা বিরাট প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছিল। একই ভাবে গত বছর আবার বহরমপুরে সরস্বতী মূর্তি ভাঙা হয়। ২০২২ সালে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে রাধাকৃষ্ণ, কালী মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কাউকেই আটক করতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী, দুর্গা (Durga Puja) পুজোর ভাসান, শিব ভক্তদের শোভা যাত্রা-সহ নানা সময়ে দুষ্কৃতীদের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ বিজেপির।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Case: দেহ উদ্ধারের সকালে সন্দীপ-অভিজিৎ ফোনে কথা, মোক্ষম অস্ত্র সিবিআইয়ের হাতে

    RG Kar Case: দেহ উদ্ধারের সকালে সন্দীপ-অভিজিৎ ফোনে কথা, মোক্ষম অস্ত্র সিবিআইয়ের হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar Case) হত্যাকাণ্ডে বৃহৎ ষড়যন্ত্র হয়েছে। ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করেছে। রবিবার তাঁকে শিয়ালদা কোর্টে তোলা হয়। আদালতে প্রশ্ন-উত্তরের সময় সিবিআই দাবি করে, দেহ উদ্ধারের দিনেই প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং ওসির মধ্যে কথাবার্তা হয়েছিল। এই বার্তালাপের রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে। এটাই হতে পারে সিবিআইয়ের মোক্ষম অস্ত্র, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

    প্রয়োজনীয় তথ্য অনেক দেরিতে সংগ্রহ হয় (RG Kar Case)

    আদালত রবিবার সন্দীপ এবং অভিজিৎকে (Sandeep-Avijit) তিনদিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে অভিজিৎকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেনি সিবিআই। তাঁকে তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে দেরি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিআই-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী বলেন, “প্রথমে আত্মহত্যা (RG Kar Case) বলা হয়েছিল। কিন্তু বডি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, যৌন নির্যাতন হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য অনেক দেরিতে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই গ্রেফতারিকে সিবিআই-পুলিশে টানাটানি বলে অনেকে মনে করছেন, কিন্তু এমনটা নয়। আমরা সত্যটা সন্ধান করতে চাইছি। সত্য সামনে আসুক। এই ঘটনাকে প্রথমে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটা শারীরিক হেনস্থা হয়েছে। সন্দীপ ছিলেন হাসপাতালের কর্ণধার, ফলে প্রক্রিয়ার কাজ ঠিক ভাবে হয়নি। ওসি ঘটনার খবর পেয়েছিলেন সকাল ১০ টায়, গিয়েছেন ১১ টায়। ফলে সময়ের ব্যবধান রয়েছে।”

    আরও পড়ুনঃ সন্দীপ-অভিজিতের পর কি বিনীত গোয়েল? সিবিআই এবার এগচ্ছে মাথার দিকে

    ওসি একজন সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি!

    সিবিআই-এর আইনজীবী বলেন, “ওসি (Sandeep-Avijit) একজন সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, সত্যটা ঠিক কী হয়েছিল তা জানা। পুলিশ হিসেবে নিজের কাজ করেননি তিনি। পদ্ধতি ভালো করে জানতেন, কিন্তু কাজ করেননি। ধর্ষণ এবং খুনের (RG Kar Case) মামলায় যতটা সতর্ক থাকা দরকার ছিল, তিনি তা পালন করেননি। প্রমাণ লোপাট হয়েছে। অটোপসি, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ফুট প্রিন্ট উধাও বা নষ্ট করা হয়েছে।” অপর দিকে ওসির আইনজীবী মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “গ্রেফতারের মেমো পরিবারকে দেওয়া হয়নি। মামলা তো জামিন যোগ্য। অভিজিতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হতে পারে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kumartuli: “সারা জীবনে এমন নিস্তব্ধতা কোনও দিন দেখিনি”, বলছেন কুমোরটুলির প্রবীণ শিল্পীরা

    Kumartuli: “সারা জীবনে এমন নিস্তব্ধতা কোনও দিন দেখিনি”, বলছেন কুমোরটুলির প্রবীণ শিল্পীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চিকিৎসক তরুণীকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গোটা দেশ উত্তাল। সর্বত্র দাবি উঠেছে, ‘তিলোত্তমার বিচার চাই’। কিন্তু এই আন্দোলন, ধর্না, মিছিলের আবহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘উৎসবে ফিরুন’। আর এই কথাই আপমার বাঙালি সমাজের ক্ষোভে যেন ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। ঘরের একজন ডাক্তার মেয়েকে মাত্র ৩১ বছরেই খুনের শিকার হতে হল! পুলিশের ভূমিকা আগাগোড়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাই বিচারের দাবিতে গর্জে উঠেছে সমাজের মানুষ। নিজেদের মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষায় সেই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে কুমোরটুলির (Kumartuli) পাড়ায়ও। মাত্র আর কয়েকদিন পর দেবী দুর্গার (Maa Durga) আরাধনা। এই সময় যখন ভিড়ে ঠাসা থাকে এই পাড়ার অলি-গলি, ঠিক তখনই যেন পুজোর প্রস্তুতির রং অনেকটাই ফিকে। 

    বায়না এবং খদ্দেরের ভাটা (Kumartuli)!

    সাধারণত সেপ্টেম্বরে জল-কাদা-বৃষ্টির মধ্যেও ব্যাপক ঢল নামে এই কুমোরটুলিতে (Kumartuli)। কেউ আসেন ঠাকুরের বায়না দিতে, কেউ আসেন বায়নার ঠাকুর (Maa Durga) কতটা সেজে উঠল দেখতে, আবার কেউ আসেন ঠাকুরের গায়ে কোন শাড়ি বা গয়না দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে। একদিকে থিম, অপরদিকে ঐতিহ্যের পুজোর কাজে চলে চরম ব্যস্ততা। এবারে যেন সেসবে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। ঘরের মধ্যে আলো জ্বালিয়ে কেবলমাত্র শিল্পীরা প্রতিমার রূপদানে ব্যস্ত। খদ্দের কোথায়? তবে মৃৎশিল্পীরা এই ভাটার কারণ মনে করছেন উত্তাল শহর কলকাতা।মানুষের মন তো আরজি কর হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারের দিকেই রয়েছে। মিছিল, মিটিং, ধর্না, মানববন্ধন সহ একাধিক প্রতিবাদের মধ্যে মানুষের ভিড়ে মন আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে। বিচারের দাবিতে মানুষ ‘উৎসবে ফিরতে’ পারছে না।

    নিস্তব্ধ কুমোরটুলি দেখিনি

    কুমোরটুলির (Kumartuli) শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল বলেন, “আমি আমার সারা জীবনে কোনও সময় এইরকম নিস্তব্ধ কুমোরটুলি দেখিনি। ঠাকুরকে কী কাপড় পরানো হবে, কী গয়না এসেছে, তাই দেখতেই ভিড় করত ক্রেতারা। কিন্তু এবছর সেসব কিছুই নেই।” আবার শিল্পী মিন্টু পাল বলেন, “এই বছরের পুজো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক দোটানা রয়েছে। অনান্য বার এই সময় কুমোরটুলিতে অনেক মানুষের ভিড় থাকে। এবার সেই সংখ্যাটা অনেক কম।” মহিলা মৃৎশিল্পী মালা পাল বলেন, “আরজিকর কাণ্ড হওয়ার আগে ভালোই অর্ডার আসছিল। এখন সকলে আন্দোলনে ব্যস্ত, তাই আমাদের খদ্দের কম।” 

    আরও পড়ুনঃ খুন-ধর্ষণ মামলাতেও সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার সন্দীপ ঘোষ, ধৃত টালা থানার তৎকালীন ওসি’ও

    মন ভেঙে গিয়েছে

    আরজি করের ঘটনার কথা মনে করিয়ে শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল বলেন, “মন ভেঙে গিয়েছে, আগে যে আনন্দে আমরা ঠাকুর বানাতাম এখন আর সেই উৎসাহ নেই। সব সময় অভয়ার কথা মনে পড়ছে। একজন ডাক্তার হলেন ভগবানের সমতুল্য। তাঁরাই যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” একই সঙ্গে শিল্পী মিন্টু বলেন, “আমাদের দুর্গা (Maa Durga) হলেন নির্যাতিতা ডাক্তার, তাই দুর্গার বিচার কামনা করি। আমরাও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলাম।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Case: সন্দীপ-অভিজিতের পর কি বিনীত গোয়েল? সিবিআই এবার এগচ্ছে মাথার দিকে

    RG Kar Case: সন্দীপ-অভিজিতের পর কি বিনীত গোয়েল? সিবিআই এবার এগচ্ছে মাথার দিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর-হত্যাকাণ্ডে (RG Kar Case) এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারের সংখ্যা ৩। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করেছে ওঁই হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। তাঁদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে আগেই সরব হয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। অপরাধের মূল মাথাকে সন্ধান করতে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলা হয়েছিল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী মমতাকে গ্রেফতার করার কথাও বলেছিলেন। অপর দিকে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সিপি বিনীত গোয়েল (Vineet Goyal) এবং মমতাকে নিশানা করে তথ্য লোপাটের অভিযোগ তুলেছেন। অবিলম্বে তাঁদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন তিনি। আবার সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর সিপি বিনীত গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্তকারী অফিসাররা তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।

    পুলিশ কমিশনার ধামাচাপা দিয়েছেন (RG Kar Case)?

    বিজেপি নেতা অমিত মালব্য বলেন, “টালা থানার ওসিকে গ্রেফতারের পর আরও স্পষ্ট হল, ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার ক্রাইম সিনকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত তথ্য লোপাট করে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বাঁচাতে প্রত্যক্ষ মদত করছে পুলিশ।” একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “অভিজিৎ মণ্ডল সেই ব্যক্তি যাকে বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গ্রেফতারকে উপেক্ষা করতে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চিত্রনাট্যের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের এক প্রমোটারকে ফোন করে ধমক দিয়েছিলেন মমতা। আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, নৃশংস অপরাধটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফল। কার্যত পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্যকে ধ্বংস করেছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারও (Vineet Goyal) মৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে এবং অপরাধ ধামাচাপা দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।”

    আরও পড়ুনঃ সিজিও থেকে বের করতেই টালা থানার সেই ‘করিতকর্মা’ ওসিকে জুতো দেখিয়ে বিক্ষোভ

    ওসিকে প্রশ্ন, কার নির্দেশ ছিল?

    সূত্রের খবর, ধৃত ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে (RG Kar Case) জেরা করে বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি রয়েছে। গোটা তদন্তকে ভুল পথে পরিচালনা করেছেন ওসি। কিন্তু অভিজিৎ কেন করলেন? কার নির্দেশ? ইতিমধ্যে ডিসি ডিডি স্পেশাল, ডিসি নর্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান হিসেবে বিনীত গোয়েলের ভূমিকা তাই প্রশ্নের মুখে।

    জুনিয়র ডাক্তাররা গত ৯ অগাস্ট থেকে ন্যায় বিচারের (RG Kar Case) জন্য টানা রাজপথে আন্দোলন করছেন। সন্দীপ-অভিজিৎ গ্রেফতারের পর তাঁরা বলেন, “আমাদের বোন অভয়ার মৃত্যু একটি সংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ। সন্দীপ ঘোষ অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কুর্নিশ জানাই। কান ধরা পড়েছে এবার মাথাও সমানে আসবে। যতক্ষুণ ন্যায় বিচার না পাব, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Case: সিজিও থেকে বের করতেই টালা থানার সেই ‘করিতকর্মা’ ওসিকে জুতো দেখিয়ে বিক্ষোভ

    RG Kar Case: সিজিও থেকে বের করতেই টালা থানার সেই ‘করিতকর্মা’ ওসিকে জুতো দেখিয়ে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যা মামলায় শনিবার রাতে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার পুর্বতন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টে এই টালা থানার ওসির (Tala police) প্রসঙ্গ উঠেছিল। রবিবার সিজিও থেকে তাঁকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিয়ে জুতো দেখিয়েছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ওসিকে দেখা মাত্রই নিজেদের রাগ প্রকাশ করে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সেই সঙ্গে স্লোগান ওঠে ‘তিলোত্তমার বিচার চাই’। নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি গাড়িতে তোলে ওসিকে। উত্তেজিত জনতা গাড়ির পিছনে পিছনেও ছুটতে শুরু করে। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত অভয়ার হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩। 

    ক্রাইম সিন সম্পূর্ণ পাল্টে দেওয়া হয়েছে (RG Kar Case)!

    নির্যাতিতা চিকিৎসক তরুণীর মামলা (RG Kar Case) সুপ্রিম কোর্টে উঠলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের রিপোর্টে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডে টালা থানায় এফএইআরের সময়, ময়নাতদন্তের সময় এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই ভাবে ঘটনাস্থলের পরিবেশকে বিকৃত করা হয়েছে বলে আদালতে প্রশ্ন তুলেছে সিবিআই। তাদের অভিযোগ, ক্রাইম সিনকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে গত টানা ৩৬ দিন ধরে জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলি ধর্না, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। ন্যায়বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে অনড় আপামর জনসাধারণ। তাই টালা থানার ওসি (Tala police) গ্রেফতার হতেই তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতা জুতো দেখিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে।

    আরও পড়ুনঃ “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরানো হয়েছে”, অভিযোগ জুনিয়র ডাক্তারদের

    আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা

    ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে চিকিৎসক হত্যা মামলায় (RG Kar Case) শিয়ালদা আদালতে হাজির করার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বি আর সিং হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁকে সেখান থেকে সোজা আদালতে তোলা হবে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে আগে আদালতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা চড় মেরেছিল। সেই সঙ্গে আদালত চত্বরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাই এবার কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, পুলিশ সেই দিকে কড়া নজর রেখেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরানো হয়েছে”, অভিযোগ জুনিয়র ডাক্তারদের

    RG Kar: “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরানো হয়েছে”, অভিযোগ জুনিয়র ডাক্তারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘হয় আপনারা বেরিয়ে যান, নয়ত বাস ডেকে বের করে দেওয়া হবে’’, একথা বলতে গিয়ে একপ্রকার গলা ভিজে আসে জুনিয়র ডাক্তার দেবাশিস হালদারের। শেষ মুহূর্তে জুনিয়র চিকিৎসকরা নিজেদের বেশ কিছু শর্ত ত্যাগ করেন। তাঁরা রাজি হন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে (RG Kar)। তবে বেঁকে বসে প্রশাসন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জুনিয়র চিকিৎসকদের কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কোনও কোনও মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে এমন অপমানের ঘটনা প্রমাণ করে, দুপুরে মাননীয়ার ধর্নাস্থলে যাওয়া নেহাত ছলনা ছাড়া কিছু নয়। মমতার বাড়ি থেকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরানো হয়েছে তাঁদের, এমন অভিযোগ ডাক্তারদের। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে এতটুকু দমে যাননি জুনিয়র ডাক্তাররা। ধর্নামঞ্চে ফিরে এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। মমতা সরকার কতটা আন্তরিক আরজি কর (RG Kar) কাণ্ডের বিচার দিতে, সে প্রশ্নও তেলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকার বলছে তারা দুঘণ্টা অপেক্ষা করেছে, আর তাঁরা ৩৫ দিন অপেক্ষা করছেন। বৃষ্টিতে ভিজছেন।

    কী বলছেন ডাক্তার নেতা দেবাশিস? (Junior Doctor)

    শনিবারই জুনিয়র ডাক্তার (Junior Doctor) দেবাশিস হালদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেল করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, বৈঠকে যেন স্বচ্ছতা থাকে। আমরা এলাম। আসার পর বললাম লাইভ স্ট্রিমিং যেন করা যায়। কিন্তু ওঁরা বললেন, সম্ভব নয়। আমরা বললাম, অন্তত দু’পক্ষকে স্বচ্ছভাবে ভিডিয়ো করতে দেওয়া হোক। তাতেও বললেন, নাহ দুপক্ষকে ভিডিও করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই ভিডিয়ো-র কপি। ওঁরা বললেন সুপ্রিম কোর্ট অনুমতি দিলে তবে কপি দেওয়া হবে। আমরা এও বললাম যে, ভিডিওটা তো প্রমাণ হিসেবে আমাদের লাগবে (RG Kar)। আমরা তারপর আবার আলোচনা করলাম। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে এসে বললেন, তোমরা চা খেয়ে যাও। তবে ভিডিও কিন্তু দেওয়া যাবে না। এটা বিচারাধীন বিষয়, ভিডিও পরে দেব। এই ঘটনার পর আবার আমরা আলোচনা করলাম। আমরা তাতেই রাজি হলাম। বললাম এইটুকুতেই রাজি। আমাদের ভিডিও দরকার নেই। আমরা বিশ্বাস রাখলাম।’’

    ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হল আমাদের

    দেবাশিস আরও বলেন, ‘‘এরপর আমরা যখন রাজি হলাম যে ওই মিনিটসটুকু দেওয়া হোক, তখন হঠাৎ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভটাচার্য বললেন, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, আর সম্ভব নয়। আমরা দু-তিন ঘণ্টা ওয়েট করেছি। আমরা আর আলোচনায় বসতে রাজি নই। কিন্তু আমাদের বলা হল, হয় আপনারা বেরিয়ে যান। নয়ত বাস ডেকে বের করে দেওয়া হবে। তারপর নিজেরা গাড়়ি করে বেরিয়ে গেলেন। ওরা বলছে দুঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আর আমরা ৩৫ দিন অপেক্ষা করছি। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বৃষ্টিতে ভিজছি। আমরা আমাদের সমস্ত রকম শর্ত ছেড়ে দিলাম। তখন ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হল। আমরা প্রথম থেকে স্বচ্ছতার (RG Kar) দাবি রেখেছিলাম।’’

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: খুন-ধর্ষণ মামলাতেও সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার সন্দীপ ঘোষ, ধৃত টালা থানার তৎকালীন ওসি’ও

    RG Kar: খুন-ধর্ষণ মামলাতেও সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার সন্দীপ ঘোষ, ধৃত টালা থানার তৎকালীন ওসি’ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar) মেডিক্যাল কলেজের একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এবার ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হল। একই সঙ্গে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এবং চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেরিতে এফআইআর রুজু করার অভিযোগ উঠেছে টালা থানার সেই সময়ের ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয় শনিবার। সিবিআই (CBI) সূত্রে জানা গিয়েছে, টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে আজ রবিবার সকালে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তকারীদের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ফের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। তাই তাঁকেও রবিবার আদালতে হাজির করানো হবে।

    খুন-ধর্ষণ মামলায় মোট গ্রেফতার ৩ (RG Kar)

    প্রসঙ্গত, আরজি করকাণ্ডে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ছিল একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। শনিবার আরজি করের খুন-ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার করা হল আরও দুজনকে। অর্থাৎ মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়াল তিন। এই তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। শনিবার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের গ্রেফতারির খবর জুনিয়র ডাক্তারদের কাছে পৌঁছতেও তাঁরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিচারের দাবিতে ধর্নায় বসেছেন তাঁরা। সেখানে নানা রকম স্লোগানও উঠতে দেখা যায়। আরজি করকাণ্ডের ৩৬ দিনের মাথায় প্রাক্তন অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করার ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের একজন বলেন, ‘‘বিচারের দিকে এক পা এগনো গেল। তবে ঘটনার পর ৩৫ দিন কেন সময় লাগল, সেটাও আমাদের প্রশ্ন।’’

    আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জেলে রয়েছেন সন্দীপ

    প্রসঙ্গত, আরজি কর (RG Kar) কাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তাঁর জমানাতে মর্গে মৃতদেহ লোপাট থেকে সেখানে পর্নোগ্রাফি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করেই ২০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে আরজি করে, এমনই দাবি সিবিআইয়ের। অন্যদিকে, ইডিও তেড়েফুঁড়ে নেমেছে এই মামলায়। তারা সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ওষুধ ব্যবসায়ীদের অফিসে-বাড়িতে হানা দিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সন্দীপ ঘোষের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত হয়েছে, বর্তমানে তিনি রয়েছেন প্রেসিডেন্সির সংশোধনাগারে।

    প্রশ্ন ওঠে টালা থানার সেই সময়ের ওসির বিরুদ্ধে

    গত ৯ আগস্ট আরজি কর (RG Kar) মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে তা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই আবহে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর তৎকালীন অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অন্যদিকে, টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ অসুস্থ বলে নিজেকে দাবি করে গোটা কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ঘুরতে থাকেন। কোনও রোগ তাঁর খুঁজে পাওয়া যায় না। শেষমেশ ৫ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শনিবার দুপুরে সিবিআইয়ের তলব পেয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে যান অভিজিৎ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। টালা থানার এই প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর অভিযোগ দায়ের থেকে ময়নাতদন্ত, একাধিক ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে। এবার তাঁকে গ্রেফতার করল সিবিআই (CBI)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Gopinath Temple: ফি বছর ভক্তের শ্রাদ্ধের কাজ করতে মর্ত্যে নেমে আসেন ভগবান!

    Gopinath Temple: ফি বছর ভক্তের শ্রাদ্ধের কাজ করতে মর্ত্যে নেমে আসেন ভগবান!

    হরিহর ঘোষাল

    ফি বছর ভগবান স্বয়ং ভক্তের শ্রাদ্ধ করতে মর্ত্যে নেমে আসেন! গল্প বলে মনে হলেও এটাই সত্যি। পূর্ব বর্ধমানের অগ্রদ্বীপের (Agradwip) বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষদের এটাই বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস থেকেই প্রায় ৫০০ বছর ধরে প্রতি বছরই নির্দিষ্ট তিথি মেনে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দিরে (Gopinath Temple) দিনটি পালন করা হয়। আর পবিত্র সেই দিন ভগবান দর্শনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করেন অগ্রদ্বীপে।

    শ্রীচৈতন্যের আদেশে তৈরি গোপীনাথ মন্দির (Gopinath Mandir)

    পূর্ব বর্ধমানের অগ্রদ্বীপ গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের একটি তীর্থস্থান। অগ্রদ্বীপে ষোষঠাকুর নামে শ্রীচৈতন্যের একজন কায়স্থ শিষ্য বাস করতেন। কথিত আছে, সন্ন্যাস গ্রহণের পাঁচ বছর পর বৃন্দাবন যাচ্ছিলেন শ্রীচৈতন্য। পথে হরিতকি সঞ্চয় করে রাখার জন্য সঙ্গী গোবিন্দকে ত্যাগ করলেন মহাপ্রভু (বৈষ্ণবদের কিছু সঞ্চয় করতে নেই বলে)। ফলে, গোবিন্দ ঘোষ বৃন্দাবনে যেতে না পেরে অগ্রদ্বীপে থেকে যান। এই গোবিন্দ ঘোষই ঘোষঠাকুর নামে পরিচিত লাভ করেন। গঙ্গাস্নানের সময় গোবিন্দ ঘোষ একখণ্ড কালো পাথর পেয়েছিলেন। চৈতন্যদেব বৃন্দাবন থেকে ফিরে এলে তাঁরই আদেশে ওই কালো পাথর থেকে গোপীনাথের (Gopinath Temple) মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল এবং গোপীনাথকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আরও আশ্চর্য ব্যাপার হল, গোপীনাথ নাকি ঘোষঠাকুরকে পিতৃবৎ ভক্তি-শ্রদ্ধা করতেন। অনেকে মনে করেন, গঙ্গায় ভেসে আসা একটি পাথর দিয়ে গোপীনাথের বিগ্রহ তৈরি করেন এক ভাস্কর। অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দিরে (Gopinath Temple) সেই বিগ্রহ স্থাপন করেন স্বয়ং মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব। এরপর তাঁর পার্ষদ গোবিন্দ ঘোষকে সেই গোপীনাথের ভজন-পূজনের দায়িত্ব দেন তিনি।

    ভক্তের শ্রাদ্ধের কাজ ভগবান কীভাবে করেন?

    ভক্তের শ্রাদ্ধের কাজ ভগবান কীভাবে করেন? এই প্রশ্ন সকলের মনেই জাগে। সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ৫০০ বছরেরও বেশি সময় আগে। অগ্রদ্বীপ তখন গণ্ডগ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভাগীরথী বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ স্রোতস্বিনী। অনেকে মনে করেন, ১৫৮৮ সালে চৈত্রের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে মারা গিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্যের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং তাঁর অষ্ট পার্ষদের অন্যতম গোবিন্দ ঘোষ। তিনি ছিলেন গোপীনাথের (Gopinath Temple) সেবক। সেই তিথিকে স্মরণে রাখতে ফি-বছরই এই তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় গোবিন্দ ঘোষের পারলৌকিক বা চিড়ে মহোৎসব। স্বয়ং গোপীনাথ এক মাস ধরে হবিষ্যান্ন গ্রহণ করেন এবং শ্রাদ্ধকালীন কাছা ধারণ করেন। গোবিন্দ ঘোষের পারলৌকিক ক্রিয়ায় পিণ্ডদানের জন্যই এই আয়োজন। কেন এমন প্রথা? জনশ্রুতি আছে, শিশুপুত্রের মৃত্যুর পরে শোকে পাগলের মতো অবস্থা হয়েছিল গোবিন্দ ঘোষের। সেই সময় গোপীনাথ তাঁকে স্বপ্নে দেখা দেন। তিনিই পুত্র হিসেবে গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ করবেন বলে তাঁকে আশ্বাস দেন। সেই কথা মেনে গোবিন্দ ঘোষের মৃত্যুর পরে তাঁর শ্রাদ্ধ করেন গোপীনাথ। অনেকে বলেন, একমাত্র এখানেই ভক্তের শ্রাদ্ধ করেন ভগবান। সেই প্রথা এখনও চলছে।

    গোপীনাথ কী করে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জমিদারিভুক্ত হল?

    গোপীনাথ (Gopinath Temple) কী করে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সম্পত্তি হল, সে এক ইতিহাস। আগে অগ্রদ্বীপ পাটুলির জমিদারদের সম্পত্তি ছিল। একবার অগ্রদ্বীপের বিশাল বারুণী মেলায় কিছু লোকের প্রাণহানি হয়। মুর্শিদাবাদের নবাব এই ঘটনায় ক্রুদ্ধ হয়ে সেখানকার জমিদারকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নবাব ডেকে পাঠালেন অগ্রদ্বীপ এলাকার আশপাশের সব জমিদারদের। দরবারে সব জমিদারদের মোক্তাররা হাজির হলেন। তাঁরা বললেন, “অগ্রদ্বীপ আমাদের প্রভুর নহে”। কৃষ্ণনগরের মোক্তার সুযোগ বুঝে বললেন, “ধর্মাবতার, ওই সম্পত্তি আমার প্রভুর। মেলায় যে প্রকার লোক সমাগম হয়, তাহাতে আরও অনিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আমার প্রভুর বিশেষ সতর্কতার জন্য তা হয়নি।” নবাব এই কথা শুনে দোষ ক্ষমা করলেন। তখন থেকে অগ্রদ্বীপ নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সম্পত্তি হল। অন্য কথাও শোনা যায়, নবাব দরবারে কৃষ্ণচন্দ্রের পিতা নদীয়ারাজ রঘুরামের সুযোগ্য প্রতিনিধি ভবিষ্যতে মেলার সুব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রদ্বীপকে আপন জমিদারিভুক্ত করেন। রাজা রঘুরাম লাভ করলেন গোপীনাথকে।

    গোপীনাথ মন্দির নির্মাণ করেন কৃষ্ণচন্দ্র

    অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দির (Gopinath Temple) নির্মাণ করেন কৃষ্ণচন্দ্র। ভূমিকম্পের পর থেকে এই মন্দিরের অবস্থা ভগ্নপ্রায়। মূল মন্দিরের দুই পাশে যে ভোগমন্দির ও নাটমন্দির ছিল, তা ধ্বংসপ্রায়। গোপীনাথ মন্দির হল দালান মন্দির। ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের দিক থেকে এই মন্দির তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য নয়। দীনবন্ধু মিত্র লিখেছেন: “সুগঠিত সুশোভিত মন্দির সুন্দর।” গোপীনাথ মন্দির সম্ভবত পলাশি যুদ্ধের পূর্বেই কৃষ্ণচন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তিনি গোপীনাথের পুজোর জন্য কিছু দেবোত্তর জমি দান করেছিলেন। অগ্রদ্বীপের জমিদার মল্লিকরাও গোপীনাথের নামে দেবোত্তর জমি দান করেছিলেন। এখন যে জমির ওপরে গোপীনাথের মন্দির রয়েছে, সেখানে ছিল একটি আধুনিক কাপড়ের কল। ১৮২৮ সালে বিধ্বংসী বন্যায় ও ভাগীরথী বারবার বাঁক পরিবর্তনের ফলে কৃষ্ণচন্দ্র রায় নির্মিত অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দিরটি গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখনকার মন্দিরটি থেকে প্রায় এক মাইল উত্তর-পশ্চিমে ছিল কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের তৈরি মন্দিরটি। ‘সম্বাদ ভাস্কর’ পত্রিকা থেকে জানা যায়, বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল যশোরের বগচরের বাসিন্দা গোপীনাথ পোদ্দারের অর্থানুকূল্যে। তিনি ১৮২৩ সালে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা দান করেছিলেন।

    গোপীনাথকে নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের বিরোধ

    জানা যায়, অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ বিগ্রহ নিয়ে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজারের মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের মাতৃশ্রাদ্ধের সময় এক ঐতিহাসিক বিরোধ হয়েছিল। মাতৃশ্রাদ্ধের সময় নবকৃষ্ণের ইচ্ছা হয়, বাংলাদেশের লোকপ্রিয় বিগ্রহগুলি কয়েকদিনের জন্যে কলকাতায় শোভাবাজার রাজবাড়িতে তাঁর মায়ের শ্রাদ্ধবাসরে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করে পূজার্চনা করবেন তিনি। এই ইচ্ছা কার্যকর করতে তিনি লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন। শ্রাদ্ধ শেষ হবার পর অন্যান্য বিগ্রহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে দেওয়া হয়নি। কারণ, নবকৃষ্ণ স্বপ্ন দেখেছিলেন, গোপীনাথ (Gopinath Temple) তাঁর কাছে থাকতে চান। কৃষ্ণচন্দ্র তখন জমিদারির ব্যাপারে হেস্টিংসের নতুন বন্দোবস্তের জন্য নানা দিক থেকে বিপন্ন ও বিপর্যস্ত। মধ্যে মধ্যে নবকৃষ্ণের কাছে টাকার জন্যে তাঁকে হাত পাততে হত, নানা বিষয়ে উপদেশ-পরামর্শও নিতে হত। তিন লক্ষ টাকা নবকৃষ্ণের কাছ থেকে তিনি ঋণ করেছিলেন। গোপীনাথ বিগ্রহের বিনিময়ে এই ঋণ নবকৃষ্ণ মকুব করতেও রাজি ছিলেন। কিন্তু, ঋণ তো দূরের কথা, প্রাণের চেয়েও অধিকতর মূল্য হল আভিজাত্য-সামাজিক মর্যাদা। বিগ্রহ নিয়ে কলকাতা ও কৃষ্ণনগরের দুই মহারাজার মধ্যে মর্যাদার লড়াই বাধল। কৃষ্ণচন্দ্র প্রাচীন রাজবংশের বংশধর, নবকৃষ্ণ এক পুরুষের অর্বাচীন মহারাজা। বিগ্রহ নিয়ে অবশেষে মামলা হল আদালতে। কয়েক হাজার টাকা জলের মতো খরচ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা করলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। জয় হল কৃষ্ণচন্দ্রের। কিন্তু, নবকৃষ্ণের নয়া আভিজাত্যের গর্বোদ্ধত মাথা সহজে হেঁট হবার নয়। আরও কয়েক হাজার টাকা খরচ করে তিনি গোপীনাথের অবিকল একটি মূর্তি ওস্তাদ শিল্পীদের দিয়ে তৈরি করালেন। কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্র যাঁদের মূর্তিটি আনতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরা সঠিক মূর্তিটি নিয়েই ফিরে আসেন। কৃষ্ণচন্দ্রের দূতরা “আনন্দ সাগরে মগ্ন হয়ে হরিহরি ধ্বনি দিয়ে স্বস্থানে প্রস্থান করলেন। রাজা নবকৃষ্ণ যে সকল বহুমূল্য আভরণ ঠাকুরকে দিয়েছিলেন তা এখনও ঠাকুরের অঙ্গে আছে। “

    বারুণীর স্নান উৎসব

    আগে অগ্রদ্বীপের খ্যাতি ছিল ছিল বারুণীর স্নান উৎসবের জন্যই। এই বারুণী স্নান উৎসব হয়, চৈত্রের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে। জনশ্রুতি আছে, এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাবের অনেক আগেই। বহু দিন থেকেই বাংলা, বিহার, বাংলাদেশ এবং ওড়িশার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ অগ্রদ্বীপে বারুণীর স্নান উৎসবে শামিল হতে আসতেন। রেভারেন্ড ফাদার জেমস লঙের ‘দ্য ব্যাঙ্কস অব ভাগীরথী’ থেকে জানা যায়, ১৮২৩ সালে অগ্রদ্বীপের এই গোপীনাথ (Gopinath Temple)-বারুণী মেলার আগত ভক্তের সংখ্যা ছিল এক লক্ষের বেশি। বিক্রি হয়েছিল আনুমানিক বারো লক্ষ টাকারও বেশি। সেই সময়, গঙ্গাসাগর মেলার থেকেও অগ্রদ্বীপের বারুণীর স্নানের খ্যাতি ছিল বেশি। এই স্নানে কেউ কেউ গঙ্গাবক্ষে সন্তান বিসর্জন দিতেন। জেমস লঙ লিখেছেন, ১৮১৩ সালে চৈত্রে অগ্রদ্বীপে ও কাটোয়ায় দু’টি নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল। যশোর ও ঢাকা থেকে এসে দু’জন তাঁদের সন্তান গঙ্গাবক্ষে বিসর্জন দিয়েছিলেন।

    বারোদোলে গোপীনাথ

    কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে যে বারদোল মেলা প্রবর্তন করেন, সেই মেলায় এই গোপীনাথ বিগ্রহকে (Gopinath Temple) নিয়ে যাওয়া হত। দীনবন্ধু মিত্র লিখেছেন, “দ্বাদশ গোপাল মধ্যে গোপীনাথে গণে, বারদোলে দোলে তাই রাজার সদনে।” সম্প্রতি, অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দিরের প্রণামী ও মেলা বাবদ যে মোটা টাকা রাজপরিবারের হাতে চলে যায়, তা নিয়ে অগ্রদ্বীপবাসী বনাম রাজপরিবারের বিরোধ শুরু হয়েছে। অগ্রদ্বীপবাসীরা গোপীনাথকে আর কৃষ্ণনগরে পাঠাবেন না বলে স্থির করেছেন। ফি বছর গোপীনাথ মন্দিরে মেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share