Blog

  • Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অফিসের কাজ হোক কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইলেকট্রিক বিল থেকে বন্ধুর সঙ্গে গপ্প-আড্ডা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কয়েকটি ক্লিক আর টাইপের যাবতীয় কাজ চলছে। কিন্তু লাগাতার টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার, টাইপ করে যাওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য সঙ্কট বাড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত দিনের দীর্ঘ সময় টাচ স্ক্রিনে একনাগাড়ে কাজ করলে হাতের আঙুল এবং কবজির স্নায়ুতে একধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই হাতের কিছু অংশে অসাড়তার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

    কেন এই অসাড়তা হতে পারে?

    স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাতের কব্জি মধ্যে একটি স্নায়ু রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম মিডিয়ান নার্ভ। টাচ স্ক্রিনের লেখার সময় কবজি একটি নির্দিষ্ট ভাবে বাঁকানো থাকে। এর ফলে ওই স্নায়ু এবং কবজির কোষগুলো ফুলে যায়। এর জেরেই এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হয়। তাছাড়া হাতে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দীর্ঘসময় টাইপ চালিয়ে গেলে, এক কাজ করার জন্য হাতের আঙুলের স্নায়ু্র কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে অসাড় হয়ে যায়।

    কীভাবে বুঝবেন এই অসাড়তার সমস্যা প্রকট হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই স্নায়ু অসাড় হয়ে যাওয়া প্রাথমিক পর্বে বোঝা যায় না। অনেকেই সমস্যাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কয়েকটি উপসর্গে নজর দিলেই পরিস্থিতি আগাম সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় ঝিনঝিন ব্যথা করলে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ, এই তিনটে আঙ্গুল টাইপ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। লাগাতার টাচ স্ক্রিনে টাইপ করার জেরে এই তিন আঙুলেই প্রথম প্রভাব পড়ে।
    হাত অবশ হয়ে যাওয়ার জেরে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে স্নায়ুর অসাড়তার রোগ জটিল হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    পাশপাশি হাত থেকে জিনিস বারবার পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়ছে।

    কাদের এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অনেকক্ষণ মোবাইলে টাইপ করেন বা একই আঙুল দিয়ে বারবার স্ক্রল করেন তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    যাঁরা দিনের অধিকাংশ সময় ফোন শক্ত করে ধরে রাখেন, কিংবা কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো অবস্থায় রাখেন তাঁদের স্নায়ুর অসাড়তার সমস্যা হতে পারে। পাশপাশি, একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়তে পারে। তবে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস আছে তাঁদের এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

    • ১. চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা টাইপ করা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। মাঝেমধ্যে হাত-কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • ২. বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কব্জি সোজা রাখতে হবে। দীর্ঘসময় কবজি বাঁকিয়ে রাখার জন্য স্নায়ুর অসাড়তা সমস্যা আরও বাড়ছে। তাঁদের পরামর্শ, ফোন ব্যবহার করার সময় কবজি অতিরিক্ত সামনে বা পিছনে বাঁকিয়ে রাখা যাবে না।
    • ৩. স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একই বুড়ো আঙুল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ টাইপ না করে দুই হাতের আঙুল ব্যবহার করলে বা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
    • ৪. ব্যথা বা ঝিনঝিনি শুরু হলে জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একনাগাড়ে কাজ চালিয়ে গেলে স্নায়ুর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলেই নানান সমস্যা তৈরি হয়।
  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • BCCI Associate Partners: ম্যাচপিছু সর্বোচ্চ দর ১.৩১ কোটি! বিসিসিআইয়ের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ক্যাম্পা কোলা, সঙ্গে আর কারা?

    BCCI Associate Partners: ম্যাচপিছু সর্বোচ্চ দর ১.৩১ কোটি! বিসিসিআইয়ের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ক্যাম্পা কোলা, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) স্পনসরশিপ তালিকায় যুক্ত হল তিনটি বড় নাম—রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টসের পানীয় ব্র্যান্ড ক্যাম্পা কোলা (Campa Cola), এসবিআই লাইফ (SBI Life) এবং চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)। বিসিসিআই সূত্রে খবর, ভারতের মাটিতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলির জন্য এই তিন সংস্থা অ্যাসোসিয়েট পার্টনার (BCCI Associate Partners) হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৩৫টি ম্যাচের জন্য এই অংশীদারিত্ব কার্যকর হবে এবং চুক্তির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। গত আগস্টে আগের টাইটেল স্পনসরশিপ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখনও নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজছে বিসিসিআই।

    অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের দর কত

    অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি দর দিয়েছে ক্যাম্পা কোলা (Campa Cola)। তাদের প্রস্তাব ছিল ম্যাচপিছু ১.৩১ কোটি টাকা। এরপর এসবিআই লাইফ (SBI Life) এবং চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)—দুই সংস্থাই ম্যাচপিছু ১.২ কোটি টাকা করে দর দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের অধিকার পেতে ক্যাম্পা কোলা-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল বিসলরি (Bisleri) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, দুই সংস্থাই ম্যাচপিছু ১.২ কোটি টাকা করে দরপত্র দিয়েছিল। বিসিসিআইয়ের স্পনসরশিপ কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই চুক্তি হল। গত জুলাইয়ে বোর্ড টাইটেল স্পনসর এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের অধিকার নিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছিল। এর আওতায় ছিল ভারতের মাটিতে আয়োজিত টিম ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং রনজি ট্রফির মতো ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও।

    টাইটেল স্পনসর-এর খোঁজে বিসিসিআই

    টাইটেল স্পনসরশিপের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৩ আগস্ট। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের জন্য প্রথমে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর করা হয়। টাইটেল স্পনসর চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলতে থাকায় অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের অধিকারও একই সময়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনটি অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের নাম চূড়ান্ত হলেও বিসিসিআইয়ের জন্য এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টাইটেল স্পনসরশিপ খালি রয়েছে। ভারতের মাটিতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ এবং বিসিসিআইয়ের নির্দিষ্ট অন্যান্য ক্রিকেট কার্যক্রমের স্পনসরশিপ অধিকারকে ঘিরে এই চুক্তি হবে।

    স্পনসরদের কাছে গুরুত্ব

    ক্যাম্পা কোলা (BCCI with Campa Cola)-র এই চুক্তি রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অধিক প্রচারিত ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে বাজারে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি নতুন পদক্ষেপ। একইভাবে, এসবিআই লাইফ-ও ভারতীয় ক্রিকেটের বিপুল টেলিভিশন ও ডিজিটাল দর্শকসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ডের প্রচার বাড়ানোর সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে, ম্যাচপিছু ১.২ কোটি থেকে ১.৩১ কোটি টাকা পর্যন্ত দর ওঠা থেকেই স্পষ্ট, ভারতের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট ম্যাচের বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ অধিকার এখনও সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এবার নজর নতুন টাইটেল স্পনসরের দিকে—কোন সংস্থা শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সেই বড় স্পনসরশিপ অধিকার পায়, সেটাই দেখার।

  • West Bengal Conversion Row: বিনামূল্যে পড়াশোনা নাকি ধর্মীয় প্রচার! ‘হিলিং’ ও প্রার্থনা সভার আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    West Bengal Conversion Row: বিনামূল্যে পড়াশোনা নাকি ধর্মীয় প্রচার! ‘হিলিং’ ও প্রার্থনা সভার আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মান্তরণকে ‘অত্যন্ত গুরুতর বিষয়’ বলে আগেই চিহ্নিত করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে একাধিক বার আদালত জানায়, বেআইনি ভাবে কাউকে ধর্মান্তরিত করা অপরাধ।পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মান্তরণ (West Bengal Conversion Row) সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, বাঁকুড়ার সোনামুখী এবং জলপাইগুড়িতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠন বা ধর্মপ্রচারকদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। কোথাও বিদেশি নাগরিকের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কোথাও বিনামূল্যে পড়ানোর কেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিবাদ হয়েছে, আবার কোথাও প্রার্থনা ও ‘হিলিং’ কর্মসূচির আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখাও জরুরি।

    হিঙ্গলগঞ্জে বিদেশি নাগরিককে ঘিরে বিতর্ক

    সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। অভিযোগ, আর্জেন্টিনার এক নাগরিক বেশ কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি বাংলা ভাষা শিখেছিলেন এবং এলাকার কয়েকটি ‘হাউস চার্চ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেন, ওই বিদেশি নাগরিক স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর গ্রামবাসীরা ওই ব্যক্তিকে তাঁর ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং এলাকায় থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, ধর্মীয় কার্যকলাপের সঙ্গে তিনি যুক্ত কি না—তা নিয়েও স্থানীয়রা জানতে চান।

    পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, আর্থিকভাবে দুর্বলরাই নজরে

    হিঙ্গলগঞ্জের সান্দেলেরবিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কথিত ধর্মীয় সমাবেশের খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের মধ্যে দু’জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কয়েকজন একটি বাড়িতে জড়ো হয়ে আদিবাসী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কলকাতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, বাংলাদেশ এবং আর্জেন্টিনা থেকেও লোকজন নিয়মিত ওই বাড়িতে আসতেন। আর্থিকভাবে দুর্বল সুন্দরবন-সংলগ্ন পরিবারের মানুষকে টাকা বা অন্য কোনও সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ এখনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

    হাসনাবাদে বিনামূল্যে কোচিং কেন্দ্র ঘিরে প্রতিবাদ

    একই ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ এলাকাতেও। একটি খ্রিস্টান পরিচালিত বিনামূল্যের কোচিং সেন্টারে শিশুদের পড়াশোনা করানো হলেও সেখানে যিশু ও বাইবেল সংক্রান্ত (Christian Conversion Activities) বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ওই কেন্দ্রে গিয়ে কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানান। প্রতিবাদকারীদের একজন সুপর্ণা বেরার অভিযোগ, শিশুদের বিনামূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি সেখানে খ্রিস্টান ধর্মীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের জানানো হচ্ছিল। কেন্দ্রের দেওয়ালে যিশুর ছবি থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল। তবে এতদিন স্থানীয়রা সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করেননি। সম্প্রতি স্থানীয়দের একাংশ একত্রিত হয়ে এর বিরোধিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগই উদ্দেশ্য!

    অন্যদিকে, কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানানোর পর কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান। ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া হবে না বলেও ওই ব্যক্তি ইঙ্গিত দেন।

    সোনামুখীতেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা

    বাঁকুড়ার সোনামুখীতেও একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে আয়োজকদের বিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘হিলিং’ বা প্রার্থনা সভার আড়ালে স্থানীয় মানুষ এবং আদিবাসীদের ধর্মান্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে আয়োজকদের কাছে বিভিন্ন বই ও বিতরণ করা সামগ্রী সম্পর্কে জানতে চান। কথোপকথনের সময় তাঁরা প্রশ্ন করেন, ওই বইগুলির মধ্যে বাইবেল রয়েছে কি না এবং অনুষ্ঠানে আসলে কী ধরনের বিষয় শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিতরণ করা সামগ্রী প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

    জলপাইগুড়িতে ধর্ম নিয়ে তর্কে মুখোমুখি মহিলা ও ধর্মপ্রচারক

    জুলাই মাসে জলপাইগুড়িতেও ধর্মপ্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে এক বাঙালি মহিলা এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে ওই মহিলাকে সনাতন ধর্মের উৎপত্তি ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মের কোনও একক প্রতিষ্ঠাতা নেই এবং ‘সনাতন’ কোনও ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য। ঘটনাটি ধর্মীয় প্রচার, বিশ্বাস এবং ধর্মান্তরণ নিয়ে স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া উত্তেজনারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে।

    ধর্মান্তরণ নিয়ে বাড়ছে স্থানীয়দের প্রতিবাদ

    হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, সোনামুখী এবং জলপাইগুড়ির ঘটনাগুলিকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ধর্মীয় প্রচার ও ধর্মান্তরণের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় স্তরে প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। কোথাও বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কোথাও শিশুদের পড়াশোনার সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়বস্তু যুক্ত করার অভিযোগ উঠছে, আবার কোথাও প্রার্থনা বা ‘হিলিং’ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় বা শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সাহায্য কিংবা প্রার্থনার নামে ধর্মীয়ভাবে প্রভাবিত করা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, টাকা বা অন্য কোনও সুবিধার বিনিময়ে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    ধর্মীয় প্রচার-ধর্মীয় শিক্ষা বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণ!

    তবে ধর্মীয় প্রচার বা ধর্মীয় শিক্ষা এবং বেআইনি বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে জোর করে, প্রতারণার মাধ্যমে বা অবৈধ প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ প্রয়োজন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে স্থানীয়দের প্রতিবাদ যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনছে, তেমনই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

  • Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান ‘এই মেরি জিন্দেগি’। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গানটি রেকর্ড করেছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা। হরিশ ব্যাস পরিচালিত বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কাহিনি ‘ওম কা হরি’ ছবিতে গানটি (Final Film Song) ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে (Asha Bhosle) অভিনয় করেছেন রঘুবীর যাদব, অংশুমান ঝা এবং সোনি রাজদান। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর হলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ছবির নির্মাতারা ইউটিউবে গানটি প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত গানের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে স্টুডিয়োতে গান রেকর্ড করার সময় আশার বেশ কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছবির নির্মাতাদের এবং অভিনেতা অংশুমান ঝার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কিছু দৃশ্যও রয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র গান প্রকাশের ভিডিও নয়, বরং আশার শেষ ছবির গান তৈরির নেপথ্যের কিছু মুহূর্তও তুলে ধরেছে।

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ (Asha Bhosle)

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ গানটির সুর করেছেন রাজীব সারং। কথা লিখেছেন প্রদীপ শর্মা খুসরো। গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যেও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। ভিডিওতে আশা ভোঁসলেকে বলতে শোনা যায়, কীভাবে তিনি গানটি রেকর্ড করতে রাজি হয়েছিলেন।

    আশা ভোঁসলের কথায়, “ওঁরা যখন আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে গানটি পাঠাচ্ছেন, তখন আমি গানটি শুনেই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম। আর কিছু জানতে চাইনি। গানটি আমার এতটাই ভালো লেগেছিল।”

    গানটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আশার অনুরাগীরা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক অনুরাগী লিখেছেন, “স্বর্গ থেকে আরও একটি রত্ন! জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।” অন্য এক জন লিখেছেন, “সবসময়ই কানে মধু ঢালে। তাঁকে খুব মনে পড়ছে।” আরও অনেকে হার্টের চিহ্ন এবং প্রিয় গায়িকাকে স্মরণ করে নানা বার্তা দিয়েছেন (Asha Bhosle)।

    আশা ভোঁসলে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

    ‘ওম কা হরি’

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ এখন হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘ওম কা হরি’ ছবির অংশ হয়ে উঠেছে। ছবিতে নামভূমিকায় রয়েছেন অংশুমান ঝা এবং রঘুবীর যাদব। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোনি রাজদান, সমতা সুদীক্ষা এবং আয়েশা কাপুর। ফার্স্ট রে ফিল্মস প্রযোজিত ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে বাবা ও ছেলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

    আশার শেষ ছবির গান হিসেবে ‘এই মেরি জিন্দেগি’ প্রকাশ পাওয়ায় গানটি তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের একটি বিশেষ স্মারক হয়ে রইল (Final Film Song)। ১৮ সেপ্টেম্বর ছবিটি হলে মুক্তি পেলে বড় পর্দায় তাঁর কণ্ঠের এই শেষ উপহার শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা (Asha Bhosle)।

     

  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

  • ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে মসজিদ (Saharanpur Mosque) ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি পুরনো কাঠামো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের (ASI Probe) প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেটি পুরনো কুয়োর মতো বলে মনে করা হচ্ছে। কাঠামোটিতে ব্যবহৃত হয়েছে লখৌরি ইট, চুন-সুরকি ও চুন। ফলে এর বয়স, নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং ওই এলাকার অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ কাঠামোটির সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনার সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেনি।

    ৬ সেপ্টেম্বর এই কাঠামোটির সন্ধান মেলে। তার এক দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশের পর সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ভাঙার পর ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের নজরে আসে মাটির নীচে থাকা একটি শক্ত পাটাতনের মতো অংশ। সেটি কেটে সরানোর পর নীচে একটি গভীর কাঠামো চোখে পড়ে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ (ASI Probe)

    বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। কাঠামোটির প্রকৃতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ৭ সেপ্টেম্বর লখনউ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক আধিকারিক মনোজ কুমার যাদব ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একটি মই ব্যবহার করে তিনি মাটির নীচে থাকা কাঠামোটির ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তিনি ভিতরের অংশ, নির্মাণপ্রণালী এবং কাঠামোটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখেন।

    প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কাঠামোটিকে পুরনো কুয়োর মতো মনে হয়েছে। তবে আধিকারিকেরা এখনও চূড়ান্তভাবে একে কুয়ো বলে ঘোষণা করেননি। কারণ কাঠামোটির ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষ সম্পূর্ণভাবে সরানোর পরই এর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো

    প্রাথমিক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, কাঠামোটির গভীরতা প্রায় ২০ ফুট এবং ব্যাস প্রায় ৩ ফুট। নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে লখৌরি ইট। উত্তর ভারতে মধ্যযুগের শেষভাগ এবং প্রারম্ভিক আধুনিক যুগের বহু স্থাপনায় এই ধরনের পাতলা ইট ব্যবহারের নজির রয়েছে। কাঠামোটির ভিতরে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি গাঁথুনি এবং চুনের প্রলেপের চিহ্নও দেখা গিয়েছে।

    নির্মাণের ধরন দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আপাতত এটিকে পরবর্তী মধ্যযুগীয় সময়ের সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিছু প্রাথমিক মূল্যায়নে কাঠামোটির বয়স ২০০ থেকে ২৫০ বছর হতে পারে বলে অনুমান। তবে এই বয়স এখনও নিশ্চিত নয়। ইটের মাপ, গাঁথুনির ধরন, চুনের প্রলেপ, মাটির স্তর এবং আশপাশের অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা করার পরেই কাঠামোটির প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হবে (ASI Probe)।

    এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ কাঠামোটি মসজিদের নীচে এতদিন সম্পূর্ণভাবে আড়ালে ছিল। মসজিদটি ভেঙে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পরই সেটি প্রকাশ্যে আসে। ফলে মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় কী ছিল, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

    হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা!

    ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা বা মন্দির থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগও এখনও কাঠামোটিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করেনি। ফলে মন্দির থাকার দাবি এবং মাটির নীচে পাওয়া কাঠামোর মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় (Saharanpur Mosque)।

    কাঠামোটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা প্রাক্তন বজরং দলের আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর দাবি, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় একটি মন্দির থাকতে পারে। নতুন কাঠামো আবিষ্কারের পর তাঁর সেই দাবি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে প্রশাসন বা প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখনও ওই দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কাঠামোটিকে ঘিরে থাকা মাটির বিভিন্ন স্তর। মাটির স্তর বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে, কাঠামোটি কখন নির্মিত হয়েছিল, কতদিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কখন সেটি পরিত্যক্ত হয়। পরে সেটি মাটির নীচে চাপা পড়েছিল কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তার উপর কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে (ASI Probe)।

    যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের

    প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও জানতে চাইছেন, কাঠামোটি আদৌ একটি স্বতন্ত্র জলাধার বা কুয়ো হিসেবে নির্মিত হয়েছিল কি না। এটি কোনও পুরনো বসতির অংশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। আশপাশের মাটিতে পুরনো নির্মাণের চিহ্ন, ইট, গাঁথুনি বা অন্য কোনও অবশেষ পাওয়া গেলে কাঠামোটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

    কাঠামোটির নির্মাণপ্রণালীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লখৌরি ইট, চুন-সুরকি এবং চুনের প্রলেপ কোন সময়ের নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইটের আকার ও বিন্যাসের সঙ্গে ওই অঞ্চলের পুরনো স্থাপত্যের তুলনাও করা হতে পারে। এই ধরনের তথ্য কাঠামোটির আনুমানিক বয়স নির্ধারণে সাহায্য করবে।

    সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অননুমোদিত কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শহরের ম্যাজিস্ট্রেট। মসজিদ পরিচালন কমিটি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। পরে জেলা আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে (ASI Probe)।

    ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে নয়া মাত্রা

    এই জমি দখল এবং সরকারি জমি ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শহরের ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এখন মাটির নীচে পাওয়া নতুন কাঠামো ওই জায়গার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Saharanpur Mosque)।

    মসজিদ ভেঙে ফেলার পর যে জায়গাটি প্রথমে শুধুমাত্র একটি ধ্বংসস্থল বলে মনে হচ্ছিল, নতুন আবিষ্কারের ফলে সেটিই এখন সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কাঠামোটি শেষ পর্যন্ত শুধুই একটি পুরনো কুয়ো হিসেবে চিহ্নিত হয়, নাকি কোনও বৃহত্তর ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা পুরনো বসতির অংশ হিসেবে সামনে আসে, তা জানা যাবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই (ASI Probe)।

     

  • Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাল্যবিবাহ এবং ১৮ বছর বয়সের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে এই দুই সমস্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহে জড়িত ব্যক্তি, অভিভাবক এবং বিয়ে সম্পাদনে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে।

    ‘১ নম্বরে রান করছি’ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছ’মাসের হিসাবেই রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের সন্তান প্রসবের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। তাঁর কথায়, “আমরা দু’টো বিষয়ে ভারতবর্ষে এখন প্রথম। বিগত সরকারের কুফল। একটা হচ্ছে ১৮ বছরের নীচে বিবাহ। আর ১৮ বছরের নীচে সন্তান (Child Marriage) প্রসব। এটাতে আমরা এখন ১ নম্বরে রান করছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু কেস তো করবই, গ্রেফতার তো করবই। থামাতে হবে তো, থামাতে হবে এবং পচা খাবারে যেমন অভিযান হচ্ছে, এটায় আরও বড় অভিযানে নামব, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনব।”

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ কিংবা ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সরকারি ভাতা বন্ধ করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “সব বন্ধ করব। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও ভাতা পাবে না। পকসো আইনে জেলে চলে যাবে।”

    তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে দেখা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মূল শাস্তির বিধান রয়েছে বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন, ২০০৬-এ। অন্যদিকে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন, ২০১২ প্রযোজ্য হতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতাও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে।

    বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কী শাস্তি?

    আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ কোনও শিশুকে বিয়ে করলে তাঁর সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দু’টোই হতে পারে।

    শুধু বিয়ে করলেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পরিচালনা, নির্দেশ দেওয়া কিংবা তাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। পুরোহিত, কাজি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতে সাহায্য করলে তাঁরও সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

    শিশুর অভিভাবক বা দায়িত্বে থাকা কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে, অনুমতি দিলে অথবা তা আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে পকসো

    ১৮ বছরের কম বয়সি প্রত্যেকেই শিশু হিসেবে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়ে। ফলে কোনও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে, বিয়ে হয়েছে কি না—সেটি একমাত্র বিষয় নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী পকসো আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

    অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ন্যূনতম ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। আর ‘গুরুতর অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনে’র ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে ন্যূনতম ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড থেকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন, এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    বিশেষত ১২ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন, একাধিকবার যৌন নির্যাতন, নিকট আত্মীয় বা অভিভাবকসুলভ অবস্থানে থাকা ব্যক্তির দ্বারা নির্যাতন এবং শিশুকে জেনে যে সে গর্ভবতী, তার উপর যৌন নির্যাতন—আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসব হলে?

    শুধু কোনও নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে বা সন্তান প্রসব করেছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির প্রশ্ন ওঠে না। আইনের মূল লক্ষ্য শিশুটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার সঙ্গে যৌন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হতে পারে।

    বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া অভিযান

    রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বাল্যবিবাহ শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। বাল্যবিবাহে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি বিয়ে সম্পাদনকারী বা সহযোগীদের বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা বলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক—দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। বাল্যবিবাহের জন্য মূলত বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন প্রযোজ্য হলেও, ১৮ বছরের কম (Child Marriage) বয়সি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে কার্যকর হতে পারে পকসো আইনের কঠোর বিধান।

     

  • Nandigram By Election: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজো! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

    Nandigram By Election: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজো! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজোর (Nandigram By-election) আয়োজন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর সহ একাধিক আসনে ভোটের দিন ঘোষণা করার পরেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের দিন ঘোষণা হতেই বিজেপি শিবিরের প্রস্তুতি ও জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধাননগরের পার্টি অফিসের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাধারণ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সবরকম চেষ্টা করছেন এবং আগামী উপনির্বাচনে অত্যন্ত ভাল ফলাফল করবে দল। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের ফলে এবং রেজিনগর কেন্দ্র থেকে হুমায়ুন কবীরের ইস্তফার কারণে এই দুই আসন খালি ছিল।

    ৯ অক্টোবর ভোটগণনা

    নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু ব্যাখ্যা করেন, সেখানে বিজেপির ভোট ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, রেজিনগরে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন হলেও সেখানেও সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে জয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের তিনটি রাজ্যের মোট পাঁচটি বিধানসভা এবং একটি লোকসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা ও চূড়ান্ত ফলপ্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ মহালয়ার আগেই সম্পন্ন হবে ভোট-উৎসব।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট-আয়োজন

    নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। প্রার্থীরা ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজেদের মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। এর পর ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট পুরোপুরি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করেছে। প্রতিটি বুথেই ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT)-এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটারদের শনাক্তকরণের জন্য সচিত্র ভোটার কার্ডকে প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে রাখা হলেও, পাশাপাশি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো মোট বারোটি বিকল্প নথি দেখিয়েও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে।

  • Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair 2027) দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের আয়োজন (50th Kolkata Book Fair)। বই ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    কলকাতা বইমেলার দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা পা রাখছে ৫০তম বর্ষে। তাই সুবর্ণজয়ন্তীর এই বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

    সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে বইমেলা পরিচালনার জন্য গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ জনের ওই কমিটিতে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, এবারের বইমেলার আয়োজন যৌথভাবে করবে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পুস্তক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    স্টল বণ্টনে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার বই প্রকাশকদের স্টল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার স্টল বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় প্রদর্শনী ও মেলায় যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়, এবার কলকাতা বইমেলাতেও (Kolkata Book Fair 2027) সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে প্রকাশকেরা স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    থিমের কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েল, বিকল্প ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ

    সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলার থিমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইজরায়েলকে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকেই এবারের বইমেলার মূল থিম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

    এদিকে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এবারের কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair 2027) কি ফের দেখা যাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন? গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন বা স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

    বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজক কমিটি ও প্রকাশকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    আয়োজকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। দুই মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে।

    ভারতীয়ত্বের’ ছাপ রাখার দাবি

    কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সমস্ত প্রকাশক, মুদ্রাকর এবং বই বিক্রেতার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সাহিত্য মহলে।

    কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতা বইমেলা নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, বইমেলায় স্পষ্টভাবে ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সব মত ও পথের মানুষের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা বইমেলাকে গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি গত দু’বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় (50th Kolkata Book Fair) অংশ নিতে পারছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও প্রশাসনিক কমিটি ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের নির্দেশ এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Book Fair 2027)।

     

LinkedIn
Share