Blog

  • Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের মহম্মদবাজারে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। তার পরে রাতভর চলে ‘সিজ়ার লিস্ট’ তৈরির কাজ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মিনার মণ্ডল (Minar Mondal Arrest)। ইতিমধ্যেই গোটা বাড়ি সিল করা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যরা অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন। পেশায় একজন সরকারি বাসচালক ছিলেন। সেখান থেকে কীভাবে এত সম্পত্তি?

    বাসচালক থেকে ‘ধনকুবের’

    মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া অভিযান বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই মিনারের বাড়ি। বাইরে থেকে বাড়িটি একেবারেই সাধারণ। রং চটা দেওয়াল, নেই কোনও বিলাসিতার ছাপ। কিন্তু সেই বাড়ির আলমারিতেই লুকিয়ে ছিল কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা।

    বাজেয়াপ্ত ট্রাঙ্ক ও আলমারি

    বৃহস্পতিবার সকালে মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার (Minar Mondal Arrest) করে পুলিশ। এদিনই তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা সেগুলি ট্রেজারিতে নিয়ে যান। তদন্তকারী দল বাড়ি থেকে ছ’টি ট্রাঙ্ক এবং দুটি আলমারি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের দাবি, এই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল নগদ অর্থ এবং সোনা।  রাতভর চলে সেগুলির হিসাব ও বাজেয়াপ্ত তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরির কাজ। পুরো অভিযান চলাকালীন মিনারের বাড়ি ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    টাকার উৎস নিয়ে নীরব মিনার

    গ্রেফতারের (Minar Mondal Arrest) সময় সাংবাদিকরা বারবার জানতে চান, এত বিপুল টাকা ও সোনার উৎস কী? এই সম্পদের মালিক কে? তবে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি মিনার মণ্ডল। অন্যদিকে, মিনারের ছেলের দাবি, বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না। তবে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ডাকাতদের জেরায় খুলল গোপন ভাণ্ডার!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ডাকাতির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলেন অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার সিউড়ি আদালত তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সাত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর টানা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে পুলিশি অভিযান। তল্লাশির সময় বাড়ির বিভিন্ন আলমারি ও লুকোনো জায়গা থেকে একের পর এক নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়।

    টুলু-যোগ!

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় মিনার মণ্ডল সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দেন। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নিজামুদ্দিনের শ্যালক। এরপর টুলু মণ্ডলের সঙ্গে পাথর ব্যবসায় যুক্ত হন। তারপর থেকেই তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।

    মিনারের অনুব্রত (Anubrata Mondal)-যোগ!

    বীরভূমে বালি ও পাথর ব্যবসাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে তথাকথিত ‘ডিসিআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব লুঠ হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ। গরুপাচার মামলার তদন্তের সময় টুলু মণ্ডলকেও দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। মিনার মণ্ডল টুলু মণ্ডলের আত্মীয় (শ্যালক) হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তাই মিনারকেও অনুব্রত (Anubrata Mondal)-ঘনিষ্ঠ বলেই দাবি শাসক শিবিরের। যদিও এবিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) কাছে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সরকারের কড়া বার্তা

    এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি সম্পদ লুঠ, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের মতে, এই বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা কোথা থেকে এসেছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না? তা পুরোটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ পৌঁছল।  বুধবার শিবসাগর ও গোলাঘাট জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও পর্যন্ত বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত তিন লাখেরও বেশি মানুষ। সর্বশেষ সরকারি বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে (Rain Alert)। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন করে মৃতদের মধ্যে দু’জন শিবসাগরের এবং একজন গোলাঘাটের বাসিন্দা। এর ফলে চলতি বছরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর—এই সাত জেলায় মোট ৩,০০,০৩১ জন এখনও বন্যার কবলে রয়েছেন।

    বন্যার কবলে (Assam Floods)

    বন্যার জলে এখনও ২১টি রাজস্ব চক্র এবং ৫৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ চরাইদেও জেলায়—১,৩৭,৫৬১ জন। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৪,৬০০, এবং যোরহাটে ৪৯,৯১১ জন। মঙ্গলবার ছ’টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩.৩২ লাখ। ফলে বুধবার আরও একটি জেলা বন্যার কবলে এলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘরছাড়া ১৬,৫০০-রও বেশি মানুষ ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আরও ৭২,০০০-এরও বেশি মানুষকে ৩০টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসা ও পশুচিকিৎসা দল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যায় বাঁধ, রাস্তা, বাড়িঘর, স্কুল-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১১,০০০-এরও বেশি পশু বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে, আরও প্রায় ১৭,০০০ গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জল উপচে পড়ার পাশাপাশি কামরূপ মহানগর জেলায়ও বন্যা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, কামরূপ মহানগরের তিনটি রাজস্ব চক্র এবং ১০টি এলাকা বা ওয়ার্ড এখনও ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে রয়েছে পদুমবাড়ি, বোরাগাঁও, এক্সেলকেয়ার হাসপাতাল এলাকা, লাচিত নগর, চিড়িয়াখানা রোড, রুক্মিণীগাঁও, অনিল নগর, নবীন নগর, সাতগাঁও, বেহারবাড়ি, হাতিগাঁও, ওয়্যারলেস, জোরাবাট এবং জুবিন ক্ষেত্রের কাছে কামারকুচি। তবে সরকারি বুলেটিনে বলা হয়েছে, বন্যার কারণে শহরে কোনও জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, তার পরিসংখ্যান মেলেনি।

    হিমন্ত-অমিত কথা

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলে বন্যা (Assam Floods) পরিস্থিতি এবং ত্রাণকার্যের বিষয়ে আলোচনা করেন। সাত দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দু’জনের মধ্যে কথা হল। এর আগে ২৩ জুলাই শাহ অসমের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন। কথোপকথনের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন এবং ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের সব সংস্থা ও সম্পদ অসমের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজেপি কর্মীদের সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কর্মসূচির সূচনা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টি হয়নি এবং বন্যার জলও কমেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, “বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে বহু মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। কারও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার বাড়ি কাদা ও পলিতে ভরে গিয়েছে। নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদার কারণে কয়েকটি জায়গায় রাস্তা এখনও বন্ধ রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে বন্যাকবলিত পরিবারগুলির দুর্ভোগ কমানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়েই এই সঙ্কট মোকাবিলায় সক্ষম। সারা দেশ থেকে অসমের জন্য অনুদান আসছে বলেও জানান তিনি। অনুদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বন্যাকবলিতদের ঋণে বিশেষ সাহায্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অসমে কাজ করা (Rain Alert) সমস্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাকবলিত নাগরিকদের নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। ২৮ ও ২৯ জুলাই পূর্বাঞ্চলে দু’দিনের সফরের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠও অসমের বন্যায় ত্রাণকার্য পর্যালোচনা করেন (Assam Floods)। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, সেনাপ্রধান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে চলা কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেন। দাও ডিভিশন ও স্পিয়ারহেড ডিভিশন-সহ বিভিন্ন সেনা গঠনের প্রস্তুতি পর্যালোচনার সময় তাঁকে বন্যা ত্রাণকাজের বিষয়েও অবহিত করা হয়। সঙ্কটের সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনাদের প্রশংসাও করেন তিনি। ওই সফরে জেনারেল শেঠ অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন। তিনি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইম্ফলে ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

    ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    এদিকে, বন্যার জল কমতে শুরু করলেও, অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগাল্যান্ডের মন, মোককচুং এবং ওখা জেলায়ও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাব অসমের পার্শ্ববর্তী চরাইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলায় পড়তে পারে (Rain Alert)। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টি হলে জল জমে থাকা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি হড়পা বান, যান চলাচলে ধীরগতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে (Assam Floods)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সব জেলার প্রশাসন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা সতর্ক রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

     

  • Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। বেড়েছে বরাদ্দ। অন্যদিকে, যুবসাথী হয়েছে যুবশক্তি। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও দু’টি নাম। কন্যাশ্রী (Kanyashree) ও সবুজসাথী (Sabujsathi) প্রকল্প। তৃণমূল সরকারের আমলের এই দু’টি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্য দিকে, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বণ্টনের বহুল পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথি’।

    পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দু’টি জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনও প্রকার বদল আসবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে যে ভাবে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদ্‌যাপন করা হত, সেই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। তবে এ বার থেকে তা নতুন পরিচয় নিয়ে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”

    কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন

    ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য় হল ছাত্রীদের স্কুলছুট আটকানো, বাল্যবিবাহ রোধ ও ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা মূলত তিন ধাপে দেওয়া হত। প্রথমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া। এরপর পরের ধাপে অবিবাহি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

    সবুজ সাথী হল সারথি

    সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হত সাইকেল। বিনামূল্যেই সাইকেল বিতরণ করত বিগত সরকার। নতুন সরকারও একইভাবে সাইকেল বিতরণ করবে। শুধু নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘সারথি’। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ প্রতিশ্রুতি মতোই সব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। উল্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বদলে দেওয়া হচ্ছে বিগত সরকারের দেওয়া প্রকল্পের নাম।

  • Bhargavastra: মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪ মাইক্রো-মিসাইল! ভারতের ‘ভার্গবাস্ত্র’ বদলে দিতে পারে ড্রোন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

    Bhargavastra: মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪ মাইক্রো-মিসাইল! ভারতের ‘ভার্গবাস্ত্র’ বদলে দিতে পারে ড্রোন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

    সুশান্ত দাস

    ইজরায়েলের আয়রন ডোম (Iron Dome) যেমন বিশ্বের অন্যতম কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত, তেমনই ভারতও এবার নিজস্ব বহুতল এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথে দ্রুত এগোচ্ছে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হতে চলেছে স্বদেশি ‘ভার্গবাস্ত্র’ (Bhargavastra) অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা। নির্মাতা সংস্থার দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সিস্টেম শুধু ড্রোন ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকির মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (SDAL)-এর চেয়ারম্যান সত্যনারায়ণ নুওয়াল জানিয়েছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ভার্গবাস্ত্রকে ধাপে ধাপে উন্নত করা হবে। তাঁর দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২.৫ কিলোমিটার, ৬ কিলোমিটার এবং ২৫ কিলোমিটার— এই তিনটি ভিন্ন দূরত্বে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি প্রতিহত করতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কল্পিত ‘সুদর্শন চক্র’ বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নে এই প্রযুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভার্গবাস্ত্র?

    বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর শুধু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং কম খরচের বিপুল সংখ্যক ড্রোন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ— সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়েছে, ছোট আকারের ড্রোনও বড় সামরিক ঘাঁটি বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা কার্যকর বা অর্থনৈতিক নয়। সেই জায়গাতেই ভার্গবাস্ত্রকে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, তুলনামূলক কম খরচে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

    মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা

    নির্মাতা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ভার্গবাস্ত্র বিশ্বের প্রথম স্বদেশি অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, যা মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল উৎক্ষেপণ করতে পারে। এর মূল লক্ষ্য হল একযোগে আক্রমণকারী ড্রোন-স্বার্মকে আকাশেই ধ্বংস করা। বিশ্বের বহু অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম যেখানে সীমিত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে, সেখানে ভার্গবাস্ত্র একসঙ্গে বহু ড্রোনকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে গড়ে উঠবে তিন-স্তরের নিরাপত্তা বলয়

    সোলার  জানিয়েছে, ভার্গবাস্ত্রকে ধাপে ধাপে উন্নত করে তিনটি আলাদা প্রতিরক্ষা স্তরে পরিণত করা হবে।

    প্রথম স্তর: ২.৫ কিলোমিটার

    বর্তমান ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি এই সংস্করণটি কাছাকাছি চলে আসা ড্রোনকে দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম।

    দ্বিতীয় স্তর: ৬ কিলোমিটার

    ভার্গবাস্ত্রের ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (EOTS) ইতিমধ্যেই ৬ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। এখন একই পাল্লায় আঘাত হানতে সক্ষম নতুন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, এর রেডার আরও বেশি দূরত্ব থেকে ছোট আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করতে পারবে।

    তৃতীয় স্তর: ২৫ কিলোমিটার

    এটিই হবে ভার্গবাস্ত্রের সবচেয়ে বড় আপগ্রেড। ২৫ কিলোমিটার পাল্লা অর্জনের পর এটি শুধু ড্রোন নয়, বড় ইউএভি (UAV), দীর্ঘ-পাল্লার আকাশপথের প্ল্যাটফর্ম এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য হুমকির বিরুদ্ধেও প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ‘সুদর্শন চক্র’ এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    ভারতের ভবিষ্যৎ বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভার্গবাস্ত্রকে দেখা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন পাল্লার একাধিক স্বদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারত শুধু ড্রোন যুদ্ধ প্রযুক্তিতেই নয়, স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম অগ্রগণ্য শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং শহরগুলির জন্য আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের বিজয়রথ এগিয়ে চলেছে। বুধবার, চলতি গেমসের তৃতীয় সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজির গড়ে সোনা জিতলেন দিলীপ মহাদু গাভিত। মহম্মদ বাসিল রুপোর পদক জিতলেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে মুরলি শ্রীশঙ্কর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছেন। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সারেরা বুধবার পাঁচটি পদক নিশ্চিত করলেন। সব মিলিয়ে বক্সিংয়ে ভারতের ন’টি পদক নিশ্চিত হল। বুধবার বক্সিংয়ের পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনালেই জয় পেলেন ভারতীয়েরা। পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গাভিত ও বাসিলের ঐতিহাসিক সাফল্য

    বুধবার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত সোনা জিতে নিয়েছেন। আবার তাঁরই সতীর্থ মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ রুপোর পদক জিতে ভারতের ঐতিহাসিক ১-২ ফিনিশ নিশ্চিত করেন। গাভিত ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল তাঁর মরসুমের সেরা পারফরম্যান্স। অন্যদিকে বাসিল ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের মরসুমের সেরা টাইমিং করে রুপো জেতেন। এই সোনার পদকের মাধ্যমে গ্লাসগো গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা এল। এর আগে মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং মহিলাদের এফ৫৭ শট পুটে শর্মিলা ধানকর সোনা জিতেছিলেন।

    গুরু পূর্মিমায় কোচকে পদক উৎসর্গ গাভিতের

    গুরু পূর্ণিমার দিন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচকে উৎসর্গ করলেন ভারতের প্যারা স্প্রিন্টার দিলীপ মাহাদু গাভিত। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের টি৪৭ বিভাগের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর তিনি এই পদক তাঁর কোচ বৈজনাথ কালের হাতে উৎসর্গ করেন। গ্রামের খামারে কাজ করার সময় তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই গুরুকেই কৃতজ্ঞতা জানালেন গাভিত। সোনা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন, “শুরুরটা একটু ধীর ছিল। পরে গতি বাড়াতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই, সেটাই আমার মূল ইভেন্ট। কিন্তু এখানে শুধু ১০০ মিটার দৌড়ানোর সুযোগ ছিল এবং আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি নাসিকের তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের ছেলে। আগে গ্রামের খামারে কাজ করতাম। তখনই আমার স্যার বৈজনাথ কালে আমাকে দৌড়তে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা, তাই এই পদক আমার গুরুকে উৎসর্গ করলাম।”

    গুরু-শিষ্যের প্রেরণার সম্পর্ক

    মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম দিলীপের। পাঁচ সদস্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে বড় হওয়া এই অ্যাথলিটের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে পৌঁছনোর স্বপ্ন একসময় ছিল অনেক দূরের। কিন্তু কোচ বৈজনাথ কালের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কালে। ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ হারিয়েও নিজের লড়াই থামাননি দিলীপ। সুরগানা তহসিলের শহিদ ভগৎ সিং স্কুলে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণভাবে অ্যাথলেটিক্সে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তায় ভারতের অন্যতম সফল প্যারা স্প্রিন্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দিলীপের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ বৈজনাথ কালে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল রেকর্ড গড়া। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা পরিকল্পনামতো হয়নি। কিন্তু ঠিক কৌশল মেনে প্রথম ৫০ মিটারের পর দিলীপ দুর্দান্তভাবে গতি বাড়ায়। আসলে ওর মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার। দুর্ভাগ্যবশত, কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটার ছিল না। তাই আমরা ১০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ইভেন্টেই যোগ্যতা অর্জন করে শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিল।” গুরু পূর্ণিমার দিনে শিষ্যের এই সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকায় আর একটি সোনা যোগ করেনি, বরং একজন কোচ ও তাঁর ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

    ভারতীয় বক্সারদের দাপট

    পুরুষ এবং মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪ জন বক্সারের দল পাঠিয়েছে ভারত। চার জন হেরে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই। নিজেদের বিভাগের শেষ চারে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধরী, অরুন্ধতী চৌধরী, সচিন সিওয়াচ এবং নরেন্দ্র বেরওয়াল। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সেশেলসের জেড মিকককে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জোসুয়া ওফোরি। সচিন ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন বতসোয়ানার ট্রেসর মোরেমিকে। সচিনের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফল ৫-০। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়েলসের হ্যারিস অ্যালান। নরেন্দ্র ৯০+ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন সামোয়ার মাইকেল সেকোকে। সেমিফাইনালে তাঁকে লড়াই করতে হবে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর নিগেল পলের বিরুদ্ধে।

    নারীশক্তির প্রভাব

    মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠেছেন সাক্ষী। তিনি ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জেন ওয়াল। অরুন্ধতী জয় পেয়েছেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে। তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মরগ্যান হেন্ডারসনকে। সেমিফাইনালে তাঁর লড়াই ওয়েলসের রোজি একসেলের সঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠে আগেই পদক নিশ্চিত করেছেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন লভলীনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি) এবং যদুমণি সিং (৫৫ কেজি)।

    ভারতের ঝুলিতে পদকের সম্ভাবনা!

    এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে অনিমেষ কুজুর ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর শট পুটে তাজিন্দরপাল সিং তুর ও সমরদীপ সিং গিল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। লন বোলসেও ভারত দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নবনীত সিং ও দিনেশ কুমারের জুটি নামিবিয়াকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার ফলে ভারতের মেডেলের ঝুলি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের ৪০০ মিটার হার্ডলসেও এগিয়ে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রে যশস পালক্ষা ও সন্তোষ কে তামিলারাসান ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। হিট-২-এ সন্তোষ ৪৯.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। হিট-১-এ যশস ৪৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।

    আজ নামছেন নীরজ

    কমনওয়েলথ গেমসে আজ অভিযান শুরু নীরজ চোপড়ার। জ্যাভলিনের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে নামছেন ২০২০ সালের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন নীরজ। দু’বছর আগের অলিম্পিক্সে অবশ্য রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন নীরজ এ বার কি পারবেন? যোগ্যতা অর্জন পর্ব দুপুর ২:৫৫ থেকে। সম্প্রচারিত হবে সোনি স্পোর্টস চ্যানেল ও সোনি লিভ অ্যাপে।

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনটিপিসি আগামী ১১ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা  ঘোষণা করেছে। সংস্থার ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় মূলধনী বিনিয়োগ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংস্থায় রূপান্তরই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

    বড় লগ্নির পরিকল্পনা (NTPC)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৭ সালের মধ্যে এনটিপিসি তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ২৫০ গিগাওয়াটে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু-সহ ১০টি রাজ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এনটিপিসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যদি ২০৩৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসাব করি, তাহলে আগামী প্রায় ১০ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের পরিমাণ এই স্তরেই পৌঁছবে।” তিনি জানান, ২০৩২ অর্থবর্ষের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ হবে সংস্থার সম্প্রসারণের পরবর্তী বড় ধাপ। প্রচলিত চাপযুক্ত ভারী জলচালিত পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি আধুনিক চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে এনটিপিসি।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

    তিন ধাপে এই বিপুল বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.০৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫.৯৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার বড় অংশ যাবে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও ৯.৬৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এনটিপিসি বছরে গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে। গুরদীপ বলেন, “নবীকরণযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যতে এনটিপিসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।” তাঁর মতে, বর্তমানে সংস্থার নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২ গিগাওয়াট। সেটিকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৩৬ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

    এই সম্প্রসারণে সহায়তা করবে ৩৮.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৮০ গিগাওয়াটেরও বেশি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প। পাশাপাশি, বিশাখাপত্তনমের কাছে পুদিমাদকায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সবুজ হাইড্রোজেন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এনটিপিসি। সেখানে সবুজ হাইড্রোজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। নবীকরণযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমলেও, এনটিপিসির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বছরে ২৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে গুরদীপ বলেন, “আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই।” এদিকে, এনটিপিসি এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ ‘অনুশক্তি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (অশ্বিনী)’ রাজস্থানের মাহি বানসওয়ারায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে।

     

  • Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা আলোচনা, সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধ এবং একাধিক বিতর্কের পর বুধবার লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হল সরকারি পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল (Public Examination Amendment Bill 2026), ২০২৬। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিল নিয়ে আলোচনা চলে। বুধবার ফের আলোচনা শুরু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) পাশ হয়।

    আরও কঠোর শাস্তি

    নতুন সংশোধনী (Public Examination Amendment Bill 2026) অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে জড়িতদের ন্যূনতম কারাদণ্ড তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে দশ বছর পর্যন্ত। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

    সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাজা দশ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জরিমানা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

    পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্যও কড়া নিয়ম

    যে সব সংস্থা পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ জরিমানা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    বিশেষ তদন্তকারী দল ও দ্রুত বিচার

    বিলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ক্ষমতা কেন্দ্রকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক

    বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন কোনও হিংসা নয়, বরং দেশের তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি প্রতীক; দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ঠুর এবং তরুণদের স্বাধীনভাবে ভাবার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সময় শাসক দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তব্যের একটি শব্দের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা রাহুলকে ভাষা ও অভিযোগের ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দেন।

    সরকারের পাল্টা জবাব

    জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধীরা রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। দেশের যুব সমাজকে অপমান করে সংসদীয় ভাষার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর অভিযোগও খারিজ করেন তিনি। জিতেন্দ্র সিং বলেন, কোথাও গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোনও মন্ত্রীর নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক আধিকারিক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?

    গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি চাকরি ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হওয়ার পর এবার বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) রাজ্যসভায় তোলা হবে।

LinkedIn
Share