Blog

  • Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে বছর সত্তরের এক ব্যবসায়ীকে (Bareilly Businessman Murder) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বছর উনিশের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে (Mohammad Arman)। ধৃতের দাবি, একটি “জিন” তাকে রক্ত ঝরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সামনে যাকে প্রথম সে পেয়েছিল, তাকেই হত্যা করে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত। যদিও পুলিশ স্পষ্ট করেছে, অভিযুক্তের এই দাবি এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাঁটতে বেরিয়ে খুন (Bareilly Businessman Murder)

    নিহত সিয়ারাম শ্রীবাস্তব গত ২৪ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। বেরেলির ভোজিপুরা এলাকার ধৌরাতান্ডা জাতীয় সড়কের কাছে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। পরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ডজনেরও বেশি বার কোপানো হয়েছিল। বেরেলির প্রবীণ পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্যের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে প্রতিবেশীদের দিকটি খতিয়ে দেখা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর বিশেষ অভিযানকারী দল, স্থানীয় পুলিশ এবং অপরাধ দমন শাখা এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহম্মদ আরমানকে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের সঙ্গে অভিযুক্তের গতিবিধি এবং তার গাড়ির মিল পাওয়া যায়। এরপর গ্রেফতার করা হয় তাকে।

    রক্ত চাইত জিন!

    জেরায় আরমান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সে একটি “জিনে”র কণ্ঠস্বর শুনতে পেত। তার দাবি, ওই অদৃশ্য সত্তা বারবার রক্ত চাইত এবং শেষ পর্যন্ত সামনে যাকে প্রথম দেখবে, তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি, সেই নির্দেশ মেনে আরমান প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে সিয়ারামকে ধাক্কা মারে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর আঘাত করে তাঁকে খুন করে। তবে এই বর্ণনা মূলত অভিযুক্তের জবানবন্দির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে তা মেলে কি না, তা ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে (Bareilly Businessman Murder)। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর আরমান একটি ধর্মীয় স্থানে গিয়ে ধূপ জ্বালায়। তার বিশ্বাস ছিল, সে “জিনে”র রক্তের চাহিদা পূরণ করেছে। পরে বাড়ি ফিরে বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। পুলিশের অভিযোগ, ছেলে খুন করার কথা স্বীকার করার পরেও তার বাবা ইমতিয়াজ আহমদ পুলিশকে খবর দেননি। বরং প্রমাণ নষ্ট করতে এবং অপরাধের তথ্য গোপন করতে ছেলেকে সাহায্য করেন। এই অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা (Mohammad Arman) ধারালো অস্ত্র এবং সেই গাড়িটিও উদ্ধার করেছে, যেটি দিয়ে প্রথমে সিয়ারামকে ধাক্কা মারা (Bareilly Businessman Murder) হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

     

  • Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।

    কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন

    সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত

    অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।

    জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে

    এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা

    ২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কা‌শ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (Derogatory Posts) আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীকে উদ্দেশ্য করে “অপমানজনক, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর” বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানাও (PM Modi)

    এই ঘটনার তদন্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সকে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি আপলোড করা অ্যাকাউন্টগুলির পরিচয় জানাতে এবং দ্রুত ছবি ও ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, যেসব এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলির পুরো নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি-সহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লগ-ইন ও লগ-আউট সংক্রান্ত তথ্য, তারিখ ও সময়ের বিবরণ এবং তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি শংসাপত্র জমা দিতে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পোস্ট এবং ভিডিওগুলির সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতেও এক্স-কে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সিজেপির বিক্ষোভ এবং চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত অশান্তির সময় প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ওই পোস্টগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

    দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ ও অশান্তির সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একাধিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বিষয়বস্তু নজরে এলেই সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তা সরিয়ে নিতে বলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা একাধিক অশালীন মন্তব্য ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাইবার শাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছে (PM Modi), যাতে কোনও উসকানিমূলক বা আইনভঙ্গকারী বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি (Derogatory Posts) সিজেপির বিক্ষোভকে সমর্থন করে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছিল (PM Modi)।

     

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সংসদ অধিবেশনেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত বিল আনা হতে পারে। এই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ‘ডিপফেক’-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে স্পষ্টভাবে জানায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে আইনে সংজ্ঞায়িত করতে হবে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা ‘ডিপফেক’ ও অন্যান্য নতুন ধরনের অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায়ও আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় আদালত।

    কী বলল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ?

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত যদি প্রাথমিকভাবে শক্ত প্রমাণ পায়, তাহলে তদন্ত চলাকালীন তাঁর সম্পত্তি বা আর্থিক সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা তদন্তকারী সংস্থার থাকা উচিত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ধরনের নতুন সাইবার অপরাধকে আইনের আওতায় আনতে এবং স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

    কেন্দ্র কী জানাল আদালতে?

    সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিল তৈরি করছে। সেই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং এ ধরনের অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিস্তৃত আইনি ব্যবস্থা রাখা হবে। আদালতে তিনি বলেন, “একটি খসড়া বিল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ডিপফেক-সহ এই ধরনের সমস্ত অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে

    অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি আদালতকে জানান, একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) বর্তমানে বিদ্যমান আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরি করছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন আইন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০টি বড় ডিজিটাল প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। অন্য মামলাগুলির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা।

    বুধবার নির্দেশ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবারের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, এই মামলায় বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হবে।

    কেন শুরু হয়েছিল এই মামলার শুনানি?

    গত বছর দেশজুড়ে বেড়ে চলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) প্রতারণার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই ধরনের প্রতারণায় জালিয়াতরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি বা আদালতের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদেরই বেশি টার্গেট করা হয়। এর আগের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিচারকদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়ো আদালতের নির্দেশ তৈরি করা শুধু প্রতারণা নয়, এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালতের মর্যাদা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

    কী হতে পারে নতুন আইনে?

    প্রস্তাবিত বিলে সম্ভাব্যভাবে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হতে পারে- ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি। ‘ডিপফেক’ (Deepfake) তৈরি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি শাস্তি। নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার স্পষ্ট সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান। গুরুতর মামলায় তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা। সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিচার আরও দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম দিনের মতো সোনালি সাফল্য না এলেও কমনওয়েলথ গেমসের ষষ্ঠ দিনটা মন্দ গেল না ভারতের। মঙ্গলবার, গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ গুলবীর সিং পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে দেশের হয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। হরজিন্দর কৌর ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন। এর পাশাপাশি, তিনজন ভারতীয় বক্সার সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য অন্তত আরও তিনটি পদক নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং এবং হরজিন্দর কৌরকে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ রুপোর পদক জেতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন (Commonwealth Games 2026)।

    গুলবীর সিং-এর ঐতিহাসিক রুপো

    কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের দীর্ঘদূরত্বের দৌড়বিদ গুলভীর সিং। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রুপোর পদক জিতে নজির গড়লেন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী এই অ্যাথলিট। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতলেন। বৃষ্টিভেজা ট্র্যাক, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে গুলভীরের এই সাফল্য ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। স্কটল্যান্ডের স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে টানা বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি। ভেজা ট্র্যাকে দৌড়ানো সহজ ছিল না। তবুও শুরু থেকেই গুলভীর নিজেকে শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে ধরে রাখেন। শেষ কয়েকটি ল্যাপে অসাধারণ গতি বাড়িয়ে তিনি রুপোর পদক নিশ্চিত করেন। ২৭ মিনিট ৪৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ভারতীয় অ্যাথলিট। সোনা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন। তাঁর সময় ছিল ২৭ মিনিট ৪৮.৯৩ সেকেন্ড। মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে সোনার হাতছাড়া হলেও গুলভীরের লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আইল অব ম্যানের ডেভিড মুলার্কি ২৭ মিনিট ৫০.২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।

    হরজিন্দর কৌরের রুপোর পদক

    ষষ্ঠ দিনে ভারতের হয়ে প্রথম পদকটি আনেন হরজিন্দর কৌর। তিনি মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জেতেন। পাঞ্জাবের এই লিফটার মোট ২২৭ কেজি ওজন তোলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সেরা। তার মধ্যে স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি। তিনি কানাডার শার্লট সিমোনোর পিছনে থেকে দ্বিতীয় হন। হরজিন্দর এই প্রতিযোগিতায় দু’বার কমনওয়েলথ গেমসের স্ন্যাচ রেকর্ডও ভাঙেন। বার্মিংহাম ২০২২ গেমসে জেতা ব্রোঞ্জ পদকের পর এবার তিনি রুপো জিতে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করলেন। বক্সিং রিংয়ে এদিন মহিলাদের ৫৪ কেজি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রীতি পাওয়ার সেমিফাইনাল উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিকোল ক্লাইডকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেন প্রীতি। যার ফলে প্রীতির ব্রোঞ্জজয় নিশ্চিত। সেমিতে জিতলে বদলাবে পদকের রং। একইভাবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলেছেন ভারতের বক্সার প্রিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের নিমাহ মিচেলকে হারান তিনি। ফলে প্রিয়াও সেমিতে উঠে পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী-মুক্ত ভারত! কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা (Misir Besra Arrested)। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী। মিসির ছিলেন একমাত্র জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য।

    কীভাবে ধরা পড়লেন মিসির

    পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ থানার পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে। রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু এবং সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ। অভিযানে দুই গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক, পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মিসিরের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টির বেশি মামলা রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এমন তিনটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রায় দু’ দশক ধরে অধরা

    ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে. প্রায় দু’ দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে মিসির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে মিসির পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁকে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে পুরোনো একটি মামলায় হাজির করানোর জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে মিসির বেসরাকে ছাড়াতে আচমকা হামলা চালায়। তাতেই পালিয়ে যান মিসির। মিসিরের গ্রেফতার নিয়ে তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থর দাবি, পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর তরফ থেকে তাঁর বাবার গ্রেফতার নিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে খবর দেওয়া হয়নি। তিনি সূত্র মারফত জেনেছেন তাঁর বাবার গ্রেফতার হওয়ার খবর। সিদ্ধার্থর দাবি, ১৫ দিন আগেও পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে বলেছিল, বাবাকে চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে অনুরোধ করতে। একই সঙ্গে মিসিরের ছেলে জানিয়েছেন, ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। বাবা জীবিত রয়েছেন জেনে তিনি খুশি।

    মিসির বেসরা কে?

    মিসিরের আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের কাছে তিনি ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিসিরের। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সারান্ডা, পোরাহাট ও কোলহানের জঙ্গল এলাকায় সংগঠনের ঘাঁটি শক্তিশালী করা, সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মাওবাদী ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে।

    পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু, বিভীষণ বা কুম্বা মুর্মু ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা। সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল মোচ্ছু। তার গ্রেফতারির জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, মিসির বেসরার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সারান্ডা-পোডাহাট অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ, তোলাবাজি, ক্যাডার পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোচ্ছুর। আর এক ধৃত গৌরব ওরফে সৌরভও সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকেও সংগঠনের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোয় শেষ পেরেক!

     ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংগঠনের দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য ও দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মিসির বেসরার গ্রেফতরি রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। পুলিশের দাবি, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি বর্তমানে পলাতক।

LinkedIn
Share