Blog

  • FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হল ১২০ মিনিট পর্যন্ত! দু’বার এগিয়ে গিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা (FIFA World Cup 2026)। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল জয় নিশ্চিত করে। ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই জয়ে মেসিদের খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রি-কোয়ার্টারে তারা খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে। এদিনই পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মিশর। শেষ দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশটি ১-০ ব্যবধানে হারাল ঘানাকে।

    ভারতের কাছেও প্রেরণা কাবো ভার্দে

    বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। তবে যে ভাবে তাদের জয় ‘অর্জন’ করে নিতে হল, তা কোনও ভাবেই খুশি করবে না সমর্থক থেকে ফুটবলারদের। এ বারের বিশ্বকাপে উজবেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল কাবো ভার্দের। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম বারেই কাবো ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কাবো ভার্দে। আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কাবো ভার্দের লড়াই। এমনকী ভারতের মতো ফুটবল পাগল দেশের কাছেও। সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশের কাছে বিশ্বকাপ খেলাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু বিপক্ষ আর্জেন্টিনা বলে আবেগে ভেসে যাননি কোনও ফুটবলার। বাড়তি কোনও সমীহ দেখাতে চাননি মেসিদের। মাঠেও সেটাই দেখা গেল।

    কাবো ভার্দের ‘টাফ’ ফুটবল

    বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ খেলেছে। তার মধ্যে ৯টি দেশ উঠেছিল নকআউটে। এখনও পর্যন্ত মরক্কো এবং মিশর বাদে ৬টি দেশ ছিটকে গিয়েছে। তার মধ্যে কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল গোল খেয়েছে একদম শেষের দিকে। কাবো ভার্দে সেখানে এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। শেষ দিকে যেখানে আফ্রিকার বেশির ভাগ দলের দম শেষ হয়ে আসছে, সেখানে কাবো ভার্দে আরও বেশি লড়াই করছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে দু’বার সমতা ফেরানো সাম্প্রতিক কালে কেউ করতে পারেনি। শারীরিক হোক বা মানসিক, আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ‘টাফ’ ফুটবল খেলেছে কাবো ভার্দেই। তাদের হাল না ছাড়া মনোভাব বাকিদের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    মেসি ম্যাজিক জাল বুনছে

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বেশ কয়েকটি নজির গড়লেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। এ বারের বিশ্বকাপে সাতটি গোল হয়ে গেল মেসির। তাতেই হয়েছে নজির। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দু’টি বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন। টপকে গেলেন পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপেকে। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ২৯ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝ মাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দেওয়া পাস ধরে গোল করেন। এই গোল এ বারের বিশ্বকাপে তাঁর সাত নম্বর গোল। বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের ফুটবলারের মোট গোলের সংখ্যা বেড়ে হল ২০। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাতটি গোল করেছিলেন মেসি। এ বারও সাত গোল হয়ে গেল তাঁর। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে সাতটি বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

    পেলে-মারাদানার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১২টি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। নিজে করেছেন ছ’টি গোল। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ছ’টি গোল। গত ৬০ বছরে বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এতগুলি গোলের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে মেসি টপকে গেলেন পেলে এবং এমবাপেকে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁদের দু’জনেরই অবদান রয়েছে ১১টি করে গোলে। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনার একটি নজিরও টপকে গিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে মারাদোনা সতীর্থদের দিয়ে মোট আটটি গোল করিয়েছিলেন। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর মেসি মোট ন’টি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। অর্থাৎ এক ম্যাচে পেলে এবং মারাদোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।

    গোল-মেশিন মেসি

    আরও একটি নজির গড়েছেন এলএম টেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টানা পাঁচটি ম্যাচে গোল করলেন মেসি। এ ক্ষেত্রেও তিনি হলেন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার। এমন কীর্তি আর কারও নেই। ৩৫ বছর বয়স হওয়ার পর বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা এখন ১৪। আর কোনও ফুটবলার ৩৫ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপে এত গোল করতে পারেননি। বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসাবেও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড রয়েছে মেসির দখলে। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা হল ১৯। বিশ্বকাপে ১৪টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করা হয়ে গেল মেসির। বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপে এতগুলি দেশের বিরুদ্ধে গদোল করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিন প্রাক্তন ফুটবলার। য়ুরগেন ক্লিন্সম্যান, রোনাল্ডো নাজ়ারিয়ো এবং মিরোস্লাভ ক্লোজ ১০টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করেছেন।

    ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ!

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ৩০তম ম্যাচ খেললেন মেসি। আর কোনও ফুটবলারের বিশ্বকাপে এতগুলি ম্যাচ খেলার নজির নেই। আরও একটি নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিলেরমো স্ট্যাবিল আট গোল করেছিলেন। কোনও একটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এটিই। এ বারের বিশ্বকাপে মেসি আর একটি গোল করলে স্ট্যাবিলের ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করবেন।

     

     

     

     

  • Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি মুহাম্মদ রেজা দারকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরও চার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    কী অভিযোগ উঠেছে?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন লাহোরে নেদারল্যান্ডস এবং ভেনেজুয়েলার দুই তরুণীকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, তাঁদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তির জন্য ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে দুই নারীকে হত্যা করা হবে এবং তাঁদের শরীরের অঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

    কীভাবে উদ্ধার হলেন দুই বিদেশিনী?

    পুলিশের দাবি, বন্দিদশায় থাকা অবস্থায় এক নারী কোনওভাবে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস থেকে জরুরি ভিত্তিতে লাহোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই বিদেশিনীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর নির্যাতিতারা অভিযোগ করেন, লাহোরে পৌঁছানোর পরই রেজা দার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁদের ওপর গণধর্ষণ চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

    গ্রেফতার চার, পলাতক এক

    এই ঘটনায় লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— মহম্মদ রেজা দার, হাসান রেজা, সিকান্দার খান, ও সাজিদ আলি। অন্য এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আদালত ধৃত চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

    কীভাবে পরিচয় হয়েছিল?

    নির্যাতিতাদের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে তাঁদের সঙ্গে রেজা দারের পরিচয় হয়। তাঁরা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশীদার ছিলেন। পরে রেজা দার তাঁদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই তাঁরা লাহোরে যান বলে অভিযোগ।

    গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

    দুই বিদেশিনী আরও অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের গোপনে ভিডিও করা হয়। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। আদালত সূত্রের দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তদের হাজির করা হলে নির্যাতিতারা সরাসরি রেজা দারকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের বক্তব্য

    এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যেহেতু পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মামলায় অভিযুক্ত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

    নাটকীয় মোড়, থানার ওসি-সহ তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    এদিকে, ঘটনার একদিন পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ, এই মামলার তদন্ত ও প্রাথমিক এফআইআর নথিভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাহোরের ডিফেন্স সি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ফারিয়াদ আশরাফ-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে আরও দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই পদক্ষেপের নির্দেশ পাঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দফতর থেকে জারি করা হয় এবং এর পেছনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কার্যালয়ের নির্দেশও ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে এই পুলিশি পদক্ষেপের কারণ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরকন্যায় দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি যেমন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগে বিস্তৃত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    উত্তরকন্যা নিয়ে ক্ষোভ, কলকাতা নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ

    বৈঠকের শুরুতেই উত্তরকন্যার বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া কার্যত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জানতে চান, বর্তমানে কোন কোন দফতরের আধিকারিক উত্তরকন্যায় বসেন এবং সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পান। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের দ্রুত উত্তরকন্যায় নিয়োগ করতে হবে, যাতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে আর কলকাতা যেতে না হয়।

    উত্তরকন্যায় চালু হবে পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল

    উত্তরবঙ্গের মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরকন্যায় একটি পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল চালুরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, খুব শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের পাশাপাশি গ্রিভ্যান্স সেল চালুর কাজও শুরু হবে।

    প্রশাসনের গড়হাজিরা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

    প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং জিটিএ-র বহু জনপ্রতিনিধি নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। কোনও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া চলবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত বা কার্যত পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    দুর্নীতি এবং কাটমানি প্রসঙ্গেও এদিন কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তিনি আরও বলেন, যদি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এলাকায় ফিরতে না পারেন, তবে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করুন। কিন্তু দায়িত্বে থেকে জনগণের কাজ ফেলে রেখে আত্মগোপন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বরাদ্দ দ্বিগুণ

    বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান—

    • ● উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● জিটিএ-র বরাদ্দ ১৮০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● উত্তরবঙ্গে একটি এমস্, ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
    • ● হাসিমারা সেনা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি দেওয়া হচ্ছে।
    • ● মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করা এবং কোচবিহার বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার এই অঞ্চল থেকে ১০ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী রয়েছেন।

    কর্মসংস্থানে নতুন প্রকল্প

    উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হওয়া ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • ● অদক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৩০০ টাকা
    • ● আধা-দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৪৫০ টাকা
    • ● দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৬০০ টাকা

    এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল সক্রিয় করা এবং গ্রাম সংসদের মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হতে পারেন।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত

    মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়েছেন। যদিও পোর্টালে তথ্য আপলোডে ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভারতীয় ব্যক্তি, নির্দিষ্ট শর্তভঙ্গকারী আবেদনকারী এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

    বর্ষা মোকাবিলায় পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

    বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। ভূমিধস, বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার শিলিগুড়ি সফর করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

    প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি উত্তরকন্যায় ২১ জুন ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

    উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

    সামগ্রিকভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান এবং জনপরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিএ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর এবার রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পেনশনের এরিয়ার (Arrear) মেটাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরের বকেয়া অর্থের আনুমানিক হিসেব করে তার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নবান্নর ঘোষণা…

    শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ভাস্কর ঘোষের এই বক্তব্য সামনে আসতেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    পেনশনভোগীদের পাশাপাশি আরও বহু কর্মী উপকৃত হতে পারেন

    ভাস্কর ঘোষ জানান, শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই নন, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারী, কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশনপ্রাপক, ওয়ার্ক চার্জ কর্মী এবং হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আর্থিক দাবি ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানের দিকেও সরকার ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    কেন দেরি হচ্ছে বকেয়া মেটাতে?

    বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুরনো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, আইএসএমওএস (ISMOS) পোর্টালে যাঁদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, তাঁদের অনেকের এমপ্লয়ি আইডি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে বলে সরকারি দফতরের দাবি। এছাড়া ২০১৫ সালের আগে ব্যাঙ্কগুলিতে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো নথি সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য একত্রিত করার কাজ চলছে। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীদের মূল পরিচয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দ্রুত যাচাই শেষ করে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

    কবে মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার?

    এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। তবে বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এরিয়রের ৫০ শতাংশ টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি মাসেই সম্ভবত প্রথম ধাপে ২০০৮-২০১৫ সময়কালের আনুমানিক বকেয়ার ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থও পরিশোধ করা হবে।

    সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

    বৈঠকের পর ভাস্কর ঘোষ জানান, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন সরকারি কর্মীদের মতামত ও ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর কথায়, কোনও কর্মী যেমন প্রাপ্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ চান না, তেমনই আইনসঙ্গত ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকেও কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিই তাঁদের মূল দাবি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • Daily Horoscope 04 July 2026: কাজে মনোনিবেশ করুন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 04 July 2026: কাজে মনোনিবেশ করুন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) আজকের দিনটি সমস্যায় পরিপূর্ণ থাকবে।

    ২) কাজকর্মে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

    ৩) কড়া হাতে সমস্যার মোকাবিলা ও তার সমাধান বের করুন।

    বৃষ

    ১) আজকের দিনটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।

    ২) কাজকর্মে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    ৩) বিরোধীদের থেকে সতর্ক থাকুন।

    মিথুন

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো।

    ২) সারাদিনে প্রচুর সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্কট

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো কাটবে।

    ২) নতুন ও অভিনব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন।

    ৩) আনন্দ ও সন্তুষ্টির স্তর উচ্চপর্যায়ে থাকবে।

    সিংহ

    ১) আজকের দিনটি কঠিন হবে।

    ২) মনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা আসবে।

    ৩)  পারিবারিক বিষয়ে চিন্তিত থাকবে।

    কন্যা

    ১) আজকের দিনটি কঠিন।

    ২) কাজে মনোনিবেশ করুন।

    ৩) নানান সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।

    তুলা

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো কাটবে।

    ২) পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সমস্ত কাজ পূর্ণ করার সুযোগ পাবেন।

    ৩) বিরোধীদের থেকে সতর্ক থাকুন।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি ভালো কাটবে।

    ২) কাজকর্ম বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার কর্মশৈলী দেখে বরিষ্ঠরাও প্রভাবিত হবে।

    ৩) আধিকারিকরা আপনার কাজের প্রশংসা করবে।

    ধনু

    ১) আজকের দিনটি কঠিন।

    ২) অনিশ্চয়তা ও সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

    ৩) ব্যবসায় মনোনিবেশ করুন।

    মকর

    ১) আজকের দিনটি ভালো কাটবে।

    ২) বড়সড় সাফল্য লাভ করবেন।

    ৩) অর্থ আগমন হবে।

    কুম্ভ

    ১) আজ চিন্তিত থাকবেন।

    ২) কাজকর্মে সমস্যা হতে পারে।

    ৩) লক্ষ্য লাভের চেষ্টা করা জরুরি।

    মীন

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো।

    ২) কাজে বড়সড় সাফল্য লাভ করবেন।

    ৩) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Username Feature: হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম, সিগন্যালকেও নোটিস কেন্দ্রের, ইউজারনেম ফিচার বন্ধ করবে জোহোর আরাট্টাই

    Username Feature: হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম, সিগন্যালকেও নোটিস কেন্দ্রের, ইউজারনেম ফিচার বন্ধ করবে জোহোর আরাট্টাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম (Username) ফিচার নিয়ে আপত্তি জানানোর পর এবার একই বিষয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) দুই সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছে, ফোন নম্বর গোপন রেখে ইউজারনেমের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা কীভাবে প্রতারণা, ফিশিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারি এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সেই উদ্বেগ মোকাবিলায় তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    ইউজারনেম ফিচার নিয়ে টেলিগ্রামকে নোটিস

    সরকারি সূত্রের খবর, টেলিগ্রামকে পাঠানো নোটিসে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিদ্যমান ইউজারনেম ফিচার চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির মতে, ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহার করলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশি নম্বর বা বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মেটা-র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপকে বিস্তারিত নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, ভারতে ইউজারনেম ফিচার চালুর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু করা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০২১ সালের আইটি বিধি অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সামাজিক মাধ্যম মধ্যস্থতাকারী (Significant Social Media Intermediary) হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের দায়িত্ব রয়েছে ভুয়ো পরিচয়, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। পাশাপাশি পরিচয় চুরি ও প্রতারণা সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলিও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, নতুন ফিচারে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরিচিত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি বা অচেনা ব্যবহারকারীর বার্তার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা-সহ বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংস্থার বক্তব্য।

    সরকারের কড়া নজরে হোয়াটসঅ্যাপ

    ভারত বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সেই তুলনায় টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সংস্থাটি সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। গত মাসে ভুয়ো ও ফাঁস হওয়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে টেলিগ্রাম ও তার ওয়েব পরিষেবা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। এদিকে দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থা জোহোর মেসেজিং অ্যাপ স্বেচ্ছায় তাদের ইউজারনেম-ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট ফিচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরাটাই-এর চিফ সায়েন্টিস্ট শ্রীধর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিবর্তিত নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থা ভবিষ্যতেও নিরাপদ ও গোপনীয় যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় সরকার

    টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর সরকারের এই বাড়তি নজরদারি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা রোধকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর তদন্তের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না।

  • Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

    এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

    জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

    এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

    ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

  • Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিধানসভার মর্যাদা এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহাসিক গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দেন, তেমনই নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনাও করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হত না। তাঁর কথায়, ‘‘একজন বিধায়ক বা সাংসদের ফোন পর্যন্ত অনেক সময় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ধরতেন না।’’ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিধানসভার ইতিহাস তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ

    ভাষণের শুরুতেই বাংলার বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘দেশভাগের কঠিন সময় অবিভক্ত বাংলার একাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে বিধানসভা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তাঁর দাবি, সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত না হলে আজকের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্ভব হত না।

    ‘৩৪ বছর পার্টি অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ হত

    অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনের বড় অংশ দলীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হত। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কোনও দলের নাম তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বহুবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘এখন সব বিধায়কই সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন’

    বর্তমান সরকারের দেড় মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’’ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনও রাজনৈতিক বিভাজন রাখা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বাংলার উন্নয়নের জন্য দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    বিধায়কদের দায়িত্ব নিয়ে কী বললেন ওম বিড়লা?

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।’’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সংসদীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের উন্নয়নের দায়িত্বও প্রতিটি বিধায়কের বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওম বিড়লা আরও জানান, এবারের বিধানসভায় ১২১ জন নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁদের সংসদীয় রীতি-নীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শুভেন্দুর প্রশংসায় হরিবংশ, ডিজিটাল বিধানসভার ঘোষণা রিজিজুর

    রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং বলেন, ‘‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তাঁর বিশ্বাস, নতুন সরকার বাংলার অতীত গৌরবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।’’ ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সমস্ত বিধানসভাকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    কারা ছিলেন অনুষ্ঠানে?

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার অধ্যক্ষরা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ডের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অমরনাথ যাত্রার প্রথম দিনেই তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Amarnath Yatra)। এই যাত্রাকে তিনি এক ‘মহা সৌভাগ্যের বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে ভক্তি, শৃঙ্খলা এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য পুণ্যার্থীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। একইসঙ্গে যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত ভারতীয় সেনা, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।

    অমরনাথ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে মোদির চিঠি

    শিবভক্তদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়াটা একটা বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। প্রতি বছর বাবা বরফানির সরাসরি দর্শন পাওয়ার এই সুযোগ লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের জন্য এক অত্যন্ত শুভ ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই বছরের যাত্রার শুরুতে আমি আপনাদের, সকল শিবভক্তদের, আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৫৭ দিনব্যাপী বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা। প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রী পবিত্র অমরনাথ গুহার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

    ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায়

    এই তীর্থযাত্রাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায় বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “বাবা অমরনাথের আশীর্বাদ পাওয়ার এই যাত্রা ভারতের আধ্যাত্মিক যাত্রার ঐতিহ্যে এক চিরন্তন অধ্যায়। প্রতি বছর সনাতন সংস্কৃতি মেনে চলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নিতে জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছন। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা, ভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা মানুষ মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার একই সংকল্প নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করেন।” যাত্রা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, আইটিবিপি, বিএসএফ, এনডিআরএফ-এর জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, সাফাইকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “এই দু’মাস ধরে বাবা বরফানির পবিত্র ধামে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর এক অসাধারণ ছবি দেখা যায়।”

    ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান

    অমরনাথ যাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গোটা তীর্থপথ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ, ট্রাফিক বিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন। বর্ষাকালে পিচ্ছিল রাস্তা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়ত, ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাত্রার মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি। এতে স্থানীয় পরিবার ও যুবকদের জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর মত। চতুর্থত, অমরনাথ যাত্রার সমাপনী দিন, যা এ বছর রাখিবন্ধন উৎসবের সঙ্গে মিলেছে, সেই উপলক্ষে ভাই বা বোনকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়ার এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চমত, ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন এবং উন্নত ভারত বা ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অমরনাথ যাত্রায় কড়া নিরাপত্তা

    অমরনাথ যাত্রার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রে খবর, উত্তর কাশ্মীরে গুরেজ, কেরান, উরি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, জম্মুতে কাঠুয়া, পুঞ্চ-রাজৌরি বেল্ট সহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাহিনীর এক অফিসার বলেন, ‘তীর্থযাত্রার রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মজুত রয়েছে।’ জম্মুর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী। বাসিন্দাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িতে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহ হলেই পরিচয়পত্র সহ যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে বাহিনী। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়েতেও নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চলছে।

    নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা

    বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নো-ফ্লাই জোন (বিমান চলাচলে নিষিদ্ধ এলাকা), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং যানবাহনের চলাচলের ওপর রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ। জম্মু ও কাশ্মীরে প্রতি বছর যেসব ব্যাপক কার্যক্রম বা আয়োজন করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে অমরনাথ যাত্রা সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্যতম। অমরনাথ যাত্রার সময় উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ‘পহেচান’ (Pehchaan) নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে তীর্থযাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীরা স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের পরিচয় ও নথিপত্র সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করতে পারবেন। এই অমরনাথ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছোট ঘোড়ার মালিক, কুলি, পরিবহন অপারেটর, গাইড এবং বিক্রেতাদের রেজিস্টার ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করেছে। যার ফলে পুলিশ তীর্থযাত্রার পথে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে পারবে। একইভাবে যাচাই-বাছাইহীন যেসব মানুষ থাকবেন তাঁদের শনাক্ত করতে এবং প্রতারণা রোধ করতে সক্ষম হবে। অমরনাথ যাত্রার সময় যাতে জঙ্গিরা ছোট ঘোড়ার মালিক, পালকি বাহক বা অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত সকল অনুমোদিত কর্মীর জন্য কিউআর কোড-ভিত্তিক ও টেম্পার-প্রুফ (যা সহজে বিকৃত বা পরিবর্তন করা যায় না) পরিচয়পত্র চালু করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

LinkedIn
Share