Blog

  • Vande Mataram: রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক, জারি নবান্নের নয়া নির্দেশিকা

    Vande Mataram: রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক, জারি নবান্নের নয়া নির্দেশিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাতেও ক্লাস শুরুর পূর্ববর্তী প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে জারি করা একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

    নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ সমস্ত মাদ্রাসা, এসএসকে (শিশু শিক্ষা কেন্দ্র) এবং এমএসকে (মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র)-তে প্রতিদিনের প্রার্থনা সভায় নিয়মিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশের অনুলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসক (DM), জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI), পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপযুক্ত উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরেই এই নির্দেশ জারি করা হল।

    স্কুলের পর এবার মাদ্রাসায় জাতীয়তাবোধের প্রসারে জোর (Vande Mataram)

    এর আগে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত সাধারণ স্কুলগুলিতে ক্লাস শুরুর পূর্বে এই ‘জাতীয় সংগীত’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই একই নিয়ম মাদ্রাসাগুলির (Madrasahs) ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিনের প্রার্থনা সভায় জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘বন্দে মাতরম’(Vande Mataram)-ও গাইতে হবে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এই নির্দেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, আগামী সোমবার (১৮ মে) থেকে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ চালু করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মনে জাতীয়তাবোধ ও গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি নবান্নে গিয়ে এই সমগ্র প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি নিজে তদারকি করব। আগামী সোমবার থেকেই সমস্ত বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু করতে হবে।”

    ১ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে নিয়ম

    উল্লেখ্য, গত ১৩ মে স্কুল শিক্ষা দফতরের ‘ডিরেক্টর অফ এডুকেশন’-এর পক্ষ থেকে সমস্ত স্কুলপ্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, সকালের প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে এই গানের মাধ্যমে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে। তবে বর্তমানে রাজ্যে তীব্র গরমের কারণে স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলায় এই সোমবার থেকে নির্দেশটি সম্পূর্ণ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আগামী ১ জুন স্কুল খুললেই এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ হবে।

    আর তুষ্টিকরণ নয়, বলল বিজেপি

    মাদ্রাসায় প্রার্থনার সময় বন্দে মাতরম গাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে বঙ্গ বিজেপির তরফে। একইসঙ্গে সরকারের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমে বিজেপি লিখছে, “এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ও অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছে। আর তুষ্টিকরণ নয় বরং সবার জন্য সমান নীতি প্রযোজ্য।”

    কী বলল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন

    ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সভাপতি ফিরোজউদ্দিন সাকি বললেন, ‘‘যে দেশে বাস করি, সেখানকার কানুন মেনে চলাই আমাদের কাছে ধর্মীয় নির্দেশ। সরকারের নির্দেশে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। যারা প্রগতিশীল মুসলিম, শিক্ষিত মুসলিম তাদের কোনও সমস্যা নেই। আমাদের সংগঠনের আওতায় ১১০০ মাদ্রাসা রয়েছে। গরমের ছুটির পর ১ জুন মাদ্রাসাগুলি খুলবে। প্রথমদিন থেকেই শুরু হবে বন্দে মাতরম সঙ্গীত। সারে জাঁহা সে আচ্ছা গাওয়া হত, এবার পাশাপাশি বন্দে মাতরম গানও গাওয়া হবে।’’

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রীতির পরিবর্তন

    এতদিন রাজ্যের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়ার রীতিই প্রচলিত ছিল। ইতিপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে ‘রাজ্য সঙ্গীত’ (State Song)-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে বা শেষে এই গানটি পরিবেশন করা হত।

    তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক রীতিতে বড়সড় বদল এসেছে। বর্তমান সরকারের নতুন নীতি ও নির্দেশিকা মেনে এখন থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানের সূচনাতেই ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া হচ্ছে, যা এবার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রার্থনা সভাতেও বাধ্যতামূলক করা হল।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর

    ১৮৭৫ সালে ৭ নভেম্বর বঙ্গ দর্শনের প্রকাশিত হয়েছিল বন্দে মাতরম গান। এই গানের স্রষ্টা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গানটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মূলমন্ত্র। বঙ্গে এই গানের সূচনা হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রিটিশ সরকার গানকে নিষিদ্ধ করলেও দমিয়ে রাখতে পারেনি বাংলার বিপ্লবীদের। ২০২৬ সালে এই গান সার্ধশতবর্ষ। তাই গানের মাহাত্ম্যকে সর্বত্র প্রচার করতে সরকারের পদক্ষেপ।

  • NEET UG: ২১ জুন নিট ইউজি রি-টেস্ট, প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

    NEET UG: ২১ জুন নিট ইউজি রি-টেস্ট, প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নিট ইউজি (NEET UG) রি-এক্সামিনেশনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জাল টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন (Re Exam)। এই চ্যানেলগুলি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। মন্ত্রী জানান, সেফ, সিকিওর এবং ফেয়ার কনডাক্ট (safe, secure and fair conduct) নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা ও নিখুঁত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের মিথ্যে দাবি (NEET UG)

    জানা গিয়েছে, বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রকের প্রবীণ আধিকারিক এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ডিরেক্টর জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আগে থেকেই সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করে সময়মতো যাতে ঠিকঠাক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাই এই বৈঠক। মেটা, গুগল এবং টেলিগ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আর একটি বৈঠকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আধিকারিকরা জানান, পরীক্ষার আগে অনেক টেলিগ্রাম চ্যানেলস ও অনলাইন গ্রুপ অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মিথ্যে দাবি করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে ক্লিকবেট কনটেন্ট (clickbait content) এবং যাচাই না করেই বিভিন্ন ইনফর্মেশন ছড়িয়ে দেয়। এক আধিকারিক বলেন, “এমন অনেক লিঙ্ক ব্যবহারকারীদের অটোমেটেড বটস (automated bots) এবং ভুয়ো গ্রুপে নিয়ে যায়, যেগুলি পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে তথ্য ছড়ায় (NEET UG)।”

    সন্দেহজনক চ্যানেল নিয়ে ব্যবস্থা

    গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক সন্দেহজনক চ্যানেল সীমিত সংখ্যক ফোন নম্বরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা একটি সংগঠিত ও সমন্বিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরীক্ষার আগে ভুয়ো তথ্য ও প্রচার চালানো চ্যানেলগুলিকে চিহ্নিত করে ব্লক করতে হবে। মন্ত্রী জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে শিক্ষামন্ত্রক, এনটিএ এবং আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে দ্রুত ভুয়ো তথ্য রোধ করা যায় এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে রক্ষা করা এবং পরীক্ষার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখাই সরকারের সর্বোচ্চ (Re Exam) অগ্রাধিকার।” প্রসঙ্গত, ৩ মে হয়েছিল নিট ইউজি (NEET UG) ২০২৬ এর পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা বাতিল করে এনটিএ (NTA)। অভিযোগ তদন্ত করছে সিবিআই। বাতিল হওয়া ওই পরীক্ষাই ফের হওয়ার কথা ২১ জুন।

     

  • India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত। বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিনিধি সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাস প্রমাণ করে যে (India Slams Pakistan) তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশীয় ও সীমান্তের বাইরে হিংসার আশ্রয় নেয়। ‘সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক খোলা বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি (Harish Parvathaneni)। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধিও। জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ বলেন, “এটা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক যে পাকিস্তান, যার দীর্ঘদিনের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, তারা ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করছে।”

    বর্বর বিমান হামলা (India Slams Pakistan)

    চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্ব ভুলে যায়নি যে চলতি বছরের মার্চ মাসে, পবিত্র রমজান মাসে—যা শান্তি, আত্মবিশ্লেষণ ও করুণার সময়—পাকিস্তান কাবুলের ওমিড অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হসপিটালে (Omid Addiction Treatment Hospital) বর্বর বিমান হামলা চালায়।” রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (UNAMA) তথ্য উদ্ধৃত করে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “এই কাপুরুষোচিত ও নৃশংস হামলায় ২৬৯ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। জখম হন ১২২ জন। হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনওভাবেই সামরিক টার্গেট বলা যায় না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক (India Slams Pakistan) আইনের উচ্চ নীতির কথা বলা ভন্ডামি। কারণ তারা অন্ধকারে নিরীহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে।”

    রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমান হামলা তারাবির নামজের পরপরই হয়েছিল, যখন বহু রোগীও মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হরিশ বলেন, “রাষ্ট্রসসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী সীমান্তপারের সশস্ত্র হিংসার কারণে ৯৪,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাকিস্তানের এই ধরনের আগ্রাসন আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ এটি এমন একটি দেশ যারা নিজেদের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে, চালায় পরিকল্পিত গণহত্যাও।” তাঁর অভিযোগ, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) চালানোর সময় পাক সেনাবাহিনী ৪ লাখ মহিলার ওপর পরিকল্পিত গণধর্ষণ চালায়। এর পরেই ভারত সাফ (UNSC) জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলাটা ভারতের অভ্যন্তরীণ (India Slams Pakistan) বিষয়ে হস্তক্ষেপের নামান্তর। তাই এই গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • Dilip Ghosh at Eden: গেরুয়া উত্তরীয় সঙ্গে ফুলের স্তবক! ইডেনে দিলীপ ‘বরণ’ সৌরভের, খেলার মাঠেও বিজেপি নেতাদের হাতে ঝালমুড়ি

    Dilip Ghosh at Eden: গেরুয়া উত্তরীয় সঙ্গে ফুলের স্তবক! ইডেনে দিলীপ ‘বরণ’ সৌরভের, খেলার মাঠেও বিজেপি নেতাদের হাতে ঝালমুড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ক্রিকেট প্রেম নতুন নয়। এর আগেও তাঁকে বহুবার দেখা গিয়েছে ইডনের বক্সে। বুধবারও ইডেনে কেকেআর-মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের খেলা দেখতে হাজির ছিলেন দিলীপ (Dilip Ghosh at Eden)। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক তাপস রায়-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারাও। বর্তমানে সদ্য ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন, কাজের চাপও অনেক বেড়েছে আগের তুলনায়। তবু আইপিএল দেখতে ইডেনে হাজির দিলীপ। তাঁকে বরণ করে নেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ম্যাচ দেখতে এসে সিএবির তরফ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষকে। সিএবির অফিসে রাজ্যের নতুন মন্ত্রীকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলের স্তবক দিয়ে স্বাগত জানান সিএবি সভাপতি।

    দিলীপ-বরণ ইডেনে

    রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বাইশ গজেও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল আগে, এবার দিলীপ ঘোষের সঙ্গে খোশ মেজাজে গল্প করতে দেখা গেল মহারাজ-কে। দিলীপ ঘোষ ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে খানিক কথাও হয়। তবে দুজনের মধ্যে কোন বিষয়ে কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। দিলীপ ঘোষকে অভ্যর্থনা জানাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া অন্য সিএবি কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বুধবারই শিলিগুড়িতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তারপরও শহরে ফিরেই নিজের প্রিয় খেলা ও প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে ইডেনে হাজির হন তিনি। এদিন মুম্বইকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দেয় কলকাতা।

    ইডেনে ঝালমুড়ি সংস্কৃতি

    ভোটের প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে ছবি, ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ। এবার ইডেন গার্ডেন্সেও ঝালমুড়ি সংস্কৃতি! ঝালমুড়ি খেতে খেতে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (KKR vs MI) ম্যাচ দেখলেন রাজ্যের মন্ত্রী। ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ৮.১৫ । ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টিতে । প্রথমে ব্য়াট করে তখন মুম্বইয়ের স্কোর ৫৭/৪ । খেলা বন্ধ রইল এক ঘণ্টা। ঠিক সেই সময়ই ইডেনে এলেন দিলীপ। ক্লাব হাউসে বিধায়ক ও বিধানসভার স্পিকার তাপস রায়, বৈশালী ডালমিয়া, তমোঘ্ন ঘোষদের সঙ্গে বসে খেলা দেখলেন। হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা। বললেন, ‘উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলাম। খানিক আগেই সেখান থেকে ফিরেছি। ফিরেই খেলা দেখতে চলে এলাম। আমি কেকেআরের সমর্থক। ওরা এখনও প্লে অফে যেতে পারে। শেষ দুই ম্যাচ জিততে হবে। শুরুর দিকে কয়েকটা ম্যাচ ভালো যায়নি। শুরুটা ভালো হলে এতদিনে আমরা প্লে অফে পৌঁছে যেতাম।’

  • Weather Update: তীব্র তাপে পুড়ছে গোটা দেশ! বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছাল রেকর্ড ২৬৫ গিগাওয়াটে, আগামীতে আরও গরমের পূর্বাভাস

    Weather Update: তীব্র তাপে পুড়ছে গোটা দেশ! বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছাল রেকর্ড ২৬৫ গিগাওয়াটে, আগামীতে আরও গরমের পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে উত্তর ও মধ্য ভারতে জাঁকিয়ে বসা তীব্র দাবদাহ ও তাপপ্রবাহের (Weather Update) কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০ মে বুধবার দুপুর ৩:৪৫ মিনিটে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা (Peak Power Demand) রেকর্ড করা হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াট (GW)। এই নিয়ে টানা তিন দিন দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ (Rising Temperature) চাহিদা পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। তবে এত বিপুল পরিমাণ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোনওরকম বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছাড়াই গ্রিড সফলভাবে এই সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া দফতর (IMD) সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনগুলিতে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

    টানা তিন দিনের রেকর্ডের খতিয়ান (Weather Update)

    চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই তাপমাত্রার (Weather Update) পারদ চড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এসি (Air Conditioner), কুলার এবং রেফ্রিজারেটরের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই চাহিদাকে আকাশছোঁয়া করে তুলেছে:

    • ● সোমবার (১৮ মে): বিদ্যুতের চাহিদা ছুঁয়েছিল ২৫৭.৩৭ গিগাওয়াট।
    • ● মঙ্গলবার (১৯ মে): আগেরর রেকর্ড ভেঙে চাহিদা পৌঁছায় ২৬০.৪৫ গিগাওয়াটে।
    • ● বুধবার (২০ মে): সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে এক লাফে প্রায় ৫ গিগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা দাঁড়ায় ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াটে।

    এর আগে গত ২৫ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২৫৬.১১ গিগাওয়াট। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ (Rising Temperature) চাহিদার নতুন রেকর্ড তৈরি হল।

    গ্রিড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি

    বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াটের এই বিশাল চাহিদা সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে মেটানো সম্ভব হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই চাহিদার সিংহভাগ বা প্রায় ৬১.২% মেটানো হয়েছে তাপবিদ্যুৎ (Thermal Power) থেকে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ২১.৫%, বায়ুবিদ্যুৎ ৬.৫%, জলবিদ্যুৎ ৬.৩% এবং পারমাণবিক শক্তি থেকে ২.৬% সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    চলতি মরসুমে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ বিদ্যুতের (Rising Temperature) চাহিদা ২৭১ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র সর্বোচ্চ ২৮০ গিগাওয়াট পর্যন্ত চাহিদা সামলানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা

    আইএমডি (IMD) জানিয়েছে, দেশের একাধিক অংশে, বিশেষ করে রাজধানী দিল্লি এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ (Severe Heatwave) অব্যাহত থাকবে। দিল্লির জন্য ইতিমধ্যেই ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (Weather Update) ছাড়িয়ে গেছে। উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই রেকর্ড ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা (Rising Temperatur) কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে দুপুরের পাশাপাশি রাতের দিকেও বিদ্যুতের চাহিদা চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ও গ্রিড ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে পাকিস্তান! লাহোর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল জঙ্গি অপারেশন, চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি এনআইএ-র

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে পাকিস্তান! লাহোর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল জঙ্গি অপারেশন, চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (Pahalgam Terror Attack) ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতের প্রমাণ পেয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে (NIA Chargesheet) এনআইএ-র তরফে দাবি করা হয়েছে, গোটা হামলার পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ এবং জঙ্গিদের নির্দেশ দেওয়া—সবকিছুই পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং তার ছদ্ম সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর সক্রিয় ভূমিকার তথ্যও।

    লাহোরে বসে হামলাকারীদের নির্দেশ দিচ্ছিল জঙ্গি-নেতা সইফুল্লাহ্

    এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের লাহোর থেকে হামলার নেপথ্য মূলচক্রী হিসেবে কাজ করছিল সইফুল্লাহ্ ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’। সে লস্কর-ই-তৈবা এবং টিআরএফ-এর শীর্ষ জঙ্গি-নেতা। চার্জশিট অনুযায়ী, পহেলগাঁওয়ে হামলা চালানো জঙ্গিদের সঙ্গে সে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং রিয়েল-টাইমে অবস্থান, চলাচলের পথ, লুকিয়ে থাকার জায়গা ও পালানোর রুট সংক্রান্ত তথ্য পাঠাত। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলার আগে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল পাকিস্তান থেকে তিন জঙ্গি— ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানিকে— বৈসরণ উপত্যকা ও আশপাশের এলাকায় রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা পর্যটকদের আনাগোনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হামলার সম্ভাব্য রুট খতিয়ে দেখে। এরপর হামলার দিন লাহৌর থেকেই সইফুল্লাহ্ জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে হামলা পরিচালনা করে।

    পাকিস্তানের “ফলস ফ্ল্যাগ” তত্ত্বও ভেস্তে দিল এনআইএ

    এনআইএ-র তদন্তে পাকিস্তানের তথাকথিত “ফলস ফ্ল্যাগ” তত্ত্বও ভেস্তে গিয়েছে। হামলার পরপরই ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে টিআরএফ হামলার দায় স্বীকার করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র নিন্দা শুরু হলে এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হামলার নিন্দা জানালে সংগঠনটি নিজেদের অবস্থান বদলায়। পরে দাবি করা হয়, টেলিগ্রাম চ্যানেলটি নাকি “হ্যাক” হয়েছিল এবং হামলার সঙ্গে টিআরএফ-এর কোনও যোগ নেই। তবে এনআইএ-র প্রযুক্তিগত তদন্তে উঠে এসেছে, ‘কাশ্মীর ফাইট’ টেলিগ্রাম চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বাট্টাগ্রাম এলাকা থেকে পরিচালিত হত। এছাড়া ‘TheResistanceFront_OfFcial’ নামে আরেকটি চ্যানেল রাওয়ালপিন্ডি থেকে চালানো হত বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এবং হামলার দায় এড়াতে লস্কর ও টিআরএফ যৌথভাবে এই ভুয়ো প্রচার চালায়।

    নিহত জঙ্গিদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অন্তত দুটি মোবাইল ফোন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এনআইএ জানিয়েছে, একটি ফোন অনলাইনে কেনা হয়েছিল এবং সেটি লাহোরের কায়েদ-ই-আজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের একটি ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল। অন্য ফোনটি কেনা হয়েছিল করাচির শাহরা এলাকা থেকে। এই তথ্য পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় দুই বাসিন্দা— পারভেজ এবং বশির আহমেদ— পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলা চালাতে সাহায্য করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে আশ্রয় দেওয়া, রসদ সরবরাহ এবং পালানোর পথ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রত্যাঘাত ভারতের

    পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানের ভিতরে থাকা লস্করের একাধিক জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালায়। গ্লাইড বোমা, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে বহু জঙ্গি অবকাঠামো ধ্বংস করা হয় বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এনআইএ-র দাবি, এই চার্জশিটে থাকা তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ, যোগাযোগের নথি এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ফরেন্সিক বিশ্লেষণ পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতে নাশকতা চালানোর পুরনো কৌশলই আবারও সামনে এল পহেলগাঁও হামলার ঘটনায়।

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এ সংশোধন এনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের নিজের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণা করা (CAA) বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি (CAA)

    সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে (Passport), আবেদনকারীদের এখন ঘোষণা করতে হবে যে তাঁদের কাছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারের জারি করা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনও পাসপোর্ট নেই। যদি কোনও আবেদনকারীর কাছে বর্তমানে সচল পাসপোর্ট থাকেও, তবে তাঁকে পাসপোর্ট নম্বর, কোথায়, কবে ইস্যু হয়েছে, এবং মেয়াদ শেষের তারিখ-সহ সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে।

    আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র

    সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে এই মর্মে যে, নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা তাঁদের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট বা সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্টের কাছে জমা দেবেন। নয়া এই বিধানটি নাগরিকত্ব বিধির সিডিউল আইসি (Schedule IC)-এর পরে সংযোজন করা হয়েছে। এটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন (CAA)। এই পদক্ষেপটি সিএএ (Citizenship Amendment Act, 2019)-এ কার্যকর করতে করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আগত নথিবিহীন অ-মুসলিম অভিবাসীরা, যাঁরা (CAA) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ (Passport) পাবেন।

    নাগরিকত্ব বিধির প্রথম বিজ্ঞপ্তি

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব বিধি (CAA) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রথমে জারি হয়েছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে। সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছে ১১ মার্চ, ২০২৪ সালে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদে পাস হয়েছিল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA)। আইনটি নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে পড়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের স্বস্তি দেওয়াই এই আইনের উদ্দেশ্য। তিনি এও জানিয়েছিলেন, এই আইন ভারতের কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় (Passport)। ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে। নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    অমিত শাহের দাবি

    শাহ বলেছিলেন, এই আইনে যে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, তা ভারতে প্রবেশের তারিখ ও বছর থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে যেসব আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, এই সব অভিবাসীদের পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করা হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে (Passport) সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। তাই বহু মানুষ ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন (CAA)।

     

  • PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রাষ্ট্রসংঘের অধীনস্থ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সংক্ষেপে ‘ফাও’ (FAO)-এর সর্বোচ্চ সম্মান ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’ দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi)। ‘ফাও’ প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। এটি ভারতের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সম্মান (Indian Farmers)। আমি এই পদক ভারতের কৃষকদের উৎসর্গ করছি।” তিনি বলেন, “ভারতে কৃষিই মূলধারা। আমরা আমাদের ভূমিকে পুজো করি।”

    মানুষের কল্যাণে মোদির অবদান (PM Modi)

    রোমে ‘ফাও’-র সদর দফতরের ঐতিহাসিক প্লেনারি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থার মহাসচিব কিউ দংয়ু (Qu Dongyu) এই পদক তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হাতে। তিনি বলেন, “মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ও অঙ্গীকার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষকদের কল্যাণে যুগান্তকারী প্রকল্প চালুর জন্য এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, সর্বজনীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রসংঘের কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) পূরণ এবং ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের সময় আন্তর্জাতিক স্তরে কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা

    তিনি ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেন। কৃষক-কেন্দ্রিক, উদ্ভাবনী ও যুগান্তকারী উদ্যোগগুলিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ‘ফাও’-র মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের খাদ্য ও কৃষি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলির ব্যাপকতা ও প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি, করোনা অতিমারির পর থেকে ৮০ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, ১১ কোটিরও বেশি কৃষককে সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া, প্রাকৃতিক ও পুনর্জাগরণমূলক কৃষির উন্নয়নে জাতীয় উদ্যোগ এবং ফাও-র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ উদযাপনের প্রশংসা করেন (PM Modi)।

    মোদির ক্রেডিট

    তিনি এও বলেন, “ভারতের জি২০ সম্মেলনে সভাপতিত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোকে বিশ্বজনীন সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে (Indian Farmers)।” তাঁর মতে, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ভারতে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে (PM Modi)।

  • Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ, বৃহস্পতিবার ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আগামী ২৪ মে ভোটগণনা হবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৯ এপ্রিলের ভোটে একাধিক অনিয়ম ও ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের জেরে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভোটে অনিয়মের অভিযোগ

    গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। সেই দিন ফলতা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। কোথাও বুথ দখল, কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ভুয়ো ভোটারের মাধ্যমে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও বেশ কিছু বুথে সিসিটিভি বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কোথাও দীর্ঘ সময় নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অযাচিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত

    ফলতা থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশনের উচিত পুনরায় ভোট করানো। পরে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন সকালে কয়েকটি বুথে ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং পরে “টেপ রিমুভড” বলে তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যায় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতায় “স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া” বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এবার প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। গত ২৯ এপ্রিল বুথপিছু মাত্র ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ওয়েবকাস্টিং ও ড্রোন নজরদারি

    প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে, যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির

    পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। নিজেকে “ফলতার ভূমিপুত্র” উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, তিনি চান ফলতায় শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সমীকরণে বদল

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এলাকায় তৃণমূল বিরোধী সুর জোরালো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, প্রচারের পুরো পর্বে জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই তাঁর ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।

LinkedIn
Share