Blog

  • Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া এবং ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সাব-ডিসট্রিক্ট শহর কালীগঞ্জের ওয়ার্ড নম্বর ৭-এ ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ এবং সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর (Hindus in Bangladesh)। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুসারে, প্রায় দুই বছর আগে ওই মহিলা শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে কুড়ি লাখ টাকা দিয়ে একটি জমি ও একটি দুই তলা বাড়ি কিনেছিলেন। পরে শাহিন ওই মহিলাকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতে শুরু করে ও তাঁকে নানাভাবে হয়রান করতে থাকে (Gang Rape)।

    কাঠগড়ায় দুই মুসলিম যুবক (Hindus in Bangladesh)

    শনিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলা যখন তাঁর বাড়িতে ছিলেন, তখন শাহিন এবং তার সহযোগী হাসান ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা মহিলার কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা দাবি করে, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেন। তখন তারা ওই মহিলার আত্মীয়দের ওপরও হামলা চালায়। এরপর তারা ওই মহিলাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে, তাঁর চুল কেটে ফেলে ও ভিডিও রেকর্ড করে, এবং সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। হামলার সময় মহিলাকে মারধর করা হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর ওই মহিলা কালীগঞ্জ থানার পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে শাহিন ও হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ তদন্ত করছে (Hindus in Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার অভিযোগ

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হিংসার ঘটনা (Gang Rape) নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে কালীমহর ইউনিয়নে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহে ২৫ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে গাছে ঝুলিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শরিয়তপুরে আবার খোকন দাস নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে ও আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয় (Hindus in Bangladesh)।

  • India: ভেনেজুয়েলায় পালা বদলের সম্ভাবনায় কৌশলগত লাভের মুখে ভারত

    India: ভেনেজুয়েলায় পালা বদলের সম্ভাবনায় কৌশলগত লাভের মুখে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আমেরিকার উদ্যোগ ভারতের (India) পক্ষে শাপে বর হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে একটি বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন তেলসমৃদ্ধ লাতিন আমেরিকার দেশটিতে শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে পারে। এখানে এতদিন কার্যত ছিল চিনের একচেটিয়া প্রভাব।

    চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ (India)

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলা কার্যত চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ থাকায় ভারতের উপস্থিতি ছিল সীমিত। ভারতের মূল বিনিয়োগ ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসির মাধ্যমে। সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্টোবল তৈলক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পাওনা অর্থ এখনও আদায় করতে পারেনি ভারত। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শুধু সান ক্রিস্টোবল প্রকল্প থেকেই ভারতের বকেয়া প্রায় ৫৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার কাছে ভারতের পাওনা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। মাদুরো-উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত নয়া সরকার ক্ষমতায় এলে নয়াদিল্লি এই বকেয়া আদায়ে বাস্তবিকই কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে (Venezuela) পারবে বলে ধারণা কৌশলগত বিশ্লেষকদের (India)।

    চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য

    ক্ষমতার পরিবর্তন হলে ভেনেজুয়েলায় চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যও বড় ধাক্কা খেতে পারে। ভেনেজুয়েলায় অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক, সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। অথচ দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অদক্ষ শাসন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। অথচ মোট প্রমাণিত তৈলভাণ্ডারের প্রায় ১৮ শতাংশ ভেনেজুয়েলার দখলে রয়েছে। এই সীমিত উৎপাদনের মধ্যেও চিন একাই প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে, যা থেকে স্পষ্ট হয় দেশটির ওপর বেজিংয়ের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (India)।

    বিশেষজ্ঞদের অভিমত

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ফের শুরু হলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে (Venezuela) পারে। এতে শুধু চিনের প্রভাব কমবে না, ভারতের মতো দেশগুলির জন্যও নতুন বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি হবে। ভেনেজুয়েলার বাস্তবতা একটি নির্মম বৈপরীত্যে ভরা। বিপুল তেল সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হলে এই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। ভারতের জন্য এটি কেবল বকেয়া অর্থ আদায়ের প্রশ্ন নয়, বরং লাতিন আমেরিকায় শক্তিশালী জ্বালানি উপস্থিতি গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা (India)।

    ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন

    ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের শেয়ারবাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সোমবার বাজারে এই ইঙ্গিত আগেভাগেই মূল্যায়ন করেছেন লগ্নিকারীরা (Venezuela)। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ওএনজিসির শেয়ার ২ শতাংশ বেড়ে ২৪৬.৮০ টাকায় পৌঁছয়। নিফটি সূচকে এদিন সবচেয়ে বেশি লাভ করা শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে ছিল ওএনজিসি। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ₹১,৬১১.৮০-এ পৌঁছয়, যা সংস্থাটির ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর (India)।

    জেফেরিজের প্রতিবেদন

    বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাঙ্কিং সংস্থা জেফেরিজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রভাবের অধীনে ভেনেজুয়েলার তৈল শিল্পে পুনর্গঠন হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে এমন সংস্থার তালিকায় রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওএনজিসি-ও। ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈল সম্পদ ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে (Venezuela)। এদিকে, এই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির তরফে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-সহ একাধিক বাম দল ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পর্যন্তও ভারত সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার ডাক দিয়েছেন (India)।

    ভারতের অবস্থান

    তবে এই ইস্যুতে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে রয়েছে, কোনও বিদেশি দখলদারিত্বের পক্ষে নয় এবং একই সঙ্গে ব্যর্থ কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্রেরও সমর্থক নয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থানের মাধ্যমে নয়াদিল্লি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখেছে। এদিকে, চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়াশীল কমিউনিস্ট গোষ্ঠী এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ফের একবার আন্তর্জাতিক ইস্যুতে (Venezuela) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শগত আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে (India)।

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশকে করা মমতার চিঠির পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর, চাপে তৃণমূল!

    Suvendu Adhikari: এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশকে করা মমতার চিঠির পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর, চাপে তৃণমূল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতর চিঠির পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মমতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে নির্বাচন কমিশনকে সোমবার চিঠি লিখেছেন তিনি। শুভেন্দুর সাফ কথা, এসআইআর কোনও হঠকারী বা অপরিকল্পিত প্রক্রিয়া নয়। ভুয়ো এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম ছাঁটাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভোটার তালিকায় বেআইনি নাম ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছে তৃণমূল সরকার। এবার এই জাল ভোটারদের নাম বাদ দিতে তৃণমূল সরকার এতো আপত্তি করছে।

    স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে কাজ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যনির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি লিখে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মাধ্যমে কার্যত কমিশনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ নিজেরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেদের নথি যাচাই করাচ্ছেন। কমিশনের পদক্ষেপ সমর্থন করছেন। সারা দেশে একই নিয়মে সংশোধন করার কাজ করছে। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকেও স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নতি করা হচ্ছে। কোথাও কোনও রকম সংশোধন হলে পরিস্থিতির সাপেক্ষেই করা হচ্ছে।”

    রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ‘না’

    এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজ্যের অভিযোগ যে প্রশিক্ষণ, সময়সীমা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং বুথ স্তরের এজেন্টদের ভূমিকা সীমিত করার সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া যাতে কোনও রকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রভাবিত না হতে পারে, সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উল্লেখ্য সম্প্রতি রাজ্যে চলা এসআইআর নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে কাজের বিষয় এবং পদ্ধতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের পরই কার্যকর

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) নিজের চারপাতা চিঠিতে মমতার করা অভিযোগকে খণ্ডন করেছেন। মমতার ব্যাখ্যাকে মিথ্যা ব্যাখ্যা বলেছেন তিনি। মমতা বলেছিলে্‌ এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতির ব্যাপক অভাব রয়েছে। কর্মীদের সঠিক ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। শুভেন্দু মমতার দাবিকে নস্যাৎ করে বলেন, “অকারণ তাড়াহুড়ো এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোটা দেশে আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের পরই কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৫০ হাজার বিএলও এবং ইআরওকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।”

    বর্তমান যুগে প্রযুক্তি নির্ভর কাজ

    এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নাকি বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড রয়েছে। বিহারের ক্ষেত্রে যে বংশ তালিকাকে বৈধ পরিচয়ের মান্যতা দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে নাকি তা করা হচ্ছে না। মমতার পাল্টা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেছেন, রাজ্য ভিত্তিক স্তরে স্তরে নিয়মবিধি বদলানো স্বেচ্ছাচারিতা নয়। এই ভিন্নতাকেই যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো বলে মনে করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মমতা আরও অভিযোগ করে বলেছিলেন, কমিশন নাকি কোনও রকম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হোয়াট্‌সঅ্যাপের মতো মাধ্যমে নতুন নতুন নির্দেশিকা দিচ্ছে। অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বর্তমান যুগে প্রযুক্তি নির্ভর কাজে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমকে ব্যবহার করেই কাজ হবে এটাই তো স্বাভাবিক নিয়ম।”

    তালিকা নির্ভুল করতেই কমিশন তৎপর

    নামের বানান এবং বয়সের বিভ্রান্তি (SIR) থাকলে ভোটারদের নাকি হেনস্থা করছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “নামের বানান বা বয়সের অমিল ধরা পড়লে যাচাই করে নেওয়ার নির্দেশ তো রয়েছেই। তালিকা নির্ভুল করতেই কমিশন তৎপর। এটাই এখন বড় উপায়। কোথায় কী কী কাগজ লাগবে, সবটাই শুনানিতে জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মমতার অভিযোগ সবটাই রং মেশানো ভেজাল।”

    দৌরাত্ম্যকে নিয়ন্ত্রণ জরুরি

    কাজের (SIR) পর্যবেক্ষক এবং শুনানিতে বুথ লেভেল এজেন্টদের নাকি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। অভিযোগকে অস্বীকার করে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত মাউক্রো অবজার্ভাররা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। ফলে তাঁরা নিরক্ষেপ। বিএলএরা (BLA) থাকলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হতো না। স্থানীয় শাসক দলের দৌরাত্ম্য শুনানির কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতো।”

  • Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Bengal SIR) চলছে। তাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যের সিইওর দফতর সূত্রে খবর, অন্তত ১৪ জন ব্যক্তি একই সঙ্গে ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র (Indian Epic Cards) এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। অনুমান, ওই ১৪ জনই আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। এই তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের সিইও দফতর কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে।

    বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট (Bengal SIR)

    সম্প্রতি এফআরআরও, কলকাতা সিইও দফতরকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের প্রত্যেকের কাছেই বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। তারা সকলেই বৈধ ভিসায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর বাংলাদেশে ফিরে যায়নি।পরবর্তীকালে তারা বেআইনিভাবে বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে, যার মধ্যে অন্যতম হল ভোটার পরিচয়পত্র। সিইও দফতরের এক সূত্রের খবর, এই ১৪ জনের নাম ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এই ১৪ জনকে রাজ্যের তিনটি জেলায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলি হল উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। যার জেরে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Bengal SIR)।

    জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কারবার

    গত এক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভুয়ো পাসপোর্ট ও জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্বের নকল নথি তৈরি করে দেওয়া (Indian Epic Cards)। তদন্তে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত চার ধাপের মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করা হচ্ছিল (Bengal SIR)। প্রথম ধাপে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার পর অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের গোপনে রাখা হত।

    কীভাবে চলত কারবার?

    দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র এবং রেশন কার্ড বানানো হত। তৃতীয় ধাপে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও রেশন কার্ডের ভিত্তিতে তৈরি করা হত আধার কার্ড ও প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্র (Bengal SIR)। চতুর্থ তথা শেষ ধাপে এই সব নকল নথির ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড় করে দেওয়া হত, যার মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে যাতায়াত করতে পারত বা বিদেশেও যাওয়ার চেষ্টা করত (Indian Epic Cards)। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের চক্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের চক্র সক্রিয় থাকাটা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (Bengal SIR)। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালাল ও নথি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও বড়সড় নাম সামনে আসতে পারে বলে ইডি ও রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর (Indian Epic Cards)।

  • ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে আসন্ন আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T-20 World Cup) থেকে সরানোর দাবি তুলল আইসল্যান্ড। ভারতে প্লেয়ারদের নিরাপত্তা নেই বলে এ দেশে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ। তারা আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়েছে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। আগামী আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর তথা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ট্রোল করল আইসল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তারা টুইট করে সরাসরি খোঁচা মারল বাংলাদেশকে। আইসল্যান্ড ক্রিকেট বরাবরই কোনও বিষয়ে ট্রোল করার জন্য জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও চর্চিত বিষয়, আইসল্যান্ড সবসময় খোঁজা মেরে পোস্ট করে থাকে। এবার তাদের নিশানায় বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশকে তোপ

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগল আইসল্যান্ড। তারা দাবি করল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে তাদের সুযোগ দেওয়ার জন্য। এক ট্যুইট বার্তায় আইসল্যান্ড ক্রিকেটের তরফে লেখা হয়, ‘আমাদের জিজ্ঞাসা করার আগেই আমরা বলছি, হ্যাঁ। আসন্ন টি-টোটেন্টি বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড বাংলাদেশের জায়গা নিতে পারে। এবং আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’ এই টুইটটা মজার ছলে হলেও বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বদলে আইসল্যান্ড ক্রিকেট যে খুশি নয় সেটার প্রমাণ তারা দিল।

    আইপিএল বয়কট বাংলাদেশের

    মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না। এই মর্মে তারা চিঠি পাঠিয়েছে। রবিবার বিসিবির পরিচালন সমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফরে যাবে না। বিসিবির এক কর্তা স্পষ্ট করে বলেন যে, একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গোটা দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই অবস্থায় ভারতের মাটিতে খেলা সম্ভব নয়। যদিও বিসিসিআই বাংলদেশের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে তারা এ বার আইপিএল সম্প্রচার করবে না তাদের দেশে। যার অর্থ, ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশে সম্প্রচার করা হবে না।

     

     

     

     

     

  • Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    মাধ্যম নউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) শরিয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসের ওপর বর্বর হামলা এবং ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন, এই দু’টি ঘটনা কোনও হঠাৎ উত্তেজনা (Hindus Killed) বা দুর্ঘটনাজনিত জনরোষের পরিণতি নয়। উভয় ক্ষেত্রেই ঘটনার ধারাবাহিকতা ছিল ভয়াবহভাবে স্পষ্ট। প্রথমে ভিড় জমে, তারপর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত চালানো হয় চরম নৃশংসতা।

    গণপিটুনি দিয়ে হত্যা (Bangladesh)

    ময়মনসিংহে দীপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। আর শরিয়তপুরে খোকনকে প্রথমে মারধর করা হয়, পরে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়, পরে তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর মৃত্যু হয় তাঁর। খোকনের ওপর হামলা বা দীপুর হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্য করে একাধিক গণহিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডল নামে এক হিন্দু যুবককে গুজব ছড়িয়ে হত্যা করা হয়। ময়মনসিংহে দীপুকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মারে জনতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনাগুলি আলাদা নয়। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনায় হিন্দুদের হত্যা, গণপিটুনি, ছুরিকাঘাত, ভয় দেখানো এবং কোথাও কোথাও পুরো হিন্দু গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় এগুলিকে বিচ্ছিন্ন ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, নয়তো দাবি করেছে, এগুলি আসলে আওয়ামি লিগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ (Bangladesh)।

    অমানবিক অত্যাচার

    এই সব ঘটনার মধ্যে কোনও একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়, বরং একটি অভিন্ন হিংসার কাঠামো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দ্রুত ভিড় জমে, সামাজিক সংযম (Hindus Killed) ভেঙে পড়ে, এবং অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, পরিবারগুলি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়, এবং পুরো হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকে, ভিড় সরে যাওয়ার পরেও। এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই চেনা ছবি, কয়েকটি প্রতীকী গ্রেফতার, প্রশাসনের আশ্বাস, এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা (Bangladesh)। প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাবাহিক হিংসা কি আদৌ থামবে? নাকি প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন ঘটনার তকমা দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া হবে? বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় অসম প্রতিক্রিয়া মিলেছে। প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সরকার। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকাকে আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটেনও একাধিক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের (পড়ুন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের) সুরক্ষার ওপর জোর দেয়। এগুলি হল আনুষ্ঠানিক ও নথিভুক্ত প্রতিক্রিয়া, যেখানে অপরাধের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে (Hindus Killed)।

    বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী

    তবে সবচেয়ে সরব ভূমিকা নেয় বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, হিন্দু সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিষয়টি যেন জনচেতনার আড়ালে চলে না যায়, তাই তাঁরা বিক্ষোভ দেখান, পুলিশকে তথ্য দেন, নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং একের পর এক ঘটনা নথিভুক্তকরণ করেন (Bangladesh)। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে চোখে পড়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নীরবতা। বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। গাজা সংঘাতের মতো ঘটনায়ও যেখানে এই দুই সংস্থা দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল, বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, জরুরি আবেদন এবং ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিং করে চলেছিল, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় তেমন কোনও সক্রিয়তাই দেখা যায়নি।

    প্রশ্ন একাধিক

    এই বৈপরীত্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেই নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত বহু মানবাধিকারকর্মী ও প্রভাবশালী কণ্ঠের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হিংসা কি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলের কাছে (Bangladesh) যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে? পরিবেশ আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ইস্যু, ভারতের কৃষক আন্দোলন কিংবা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যিনি বরাবরই সরব, সেই গ্রেটা থুনবার্গের মতো কোনও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক (Hindus Killed) অ্যাক্টিভিস্টও এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে একটি শব্দও খরচ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই একটি টুইট পর্যন্তও।

    আন্তর্জাতিক সংগঠনের মুখে কুলুপ

    শুধু গ্রেটা নন, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সঙ্কটে নিয়মিত মন্তব্য করা আরও বহু আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং সংগঠনও একই ধরনের নীরবতা পালন করছে। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার ঘটনায় আলাদা করে কোনও আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়নি, হয়নি জরুরি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান বা ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক ব্রিফিংও। কোথাও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠলেও তা এসেছে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে, স্বতন্ত্র মানবাধিকার সঙ্কট হিসেবে নয় (Bangladesh)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বৈপরীত্য উপেক্ষা করা কঠিন। একদিকে স্থানীয় সরকার ও দেশীয় নাগরিক সমাজ যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির সংযত বা প্রায় নীরব প্রতিক্রিয়া এক অস্বস্তিকর যদিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে, কারা অগ্রাধিকার পায়? কোন ভুক্তভোগীর জন্য আন্তর্জাতিক আন্দোলন হয়, আর কারাই বা থেকে যায় উপেক্ষিত (Hindus Killed)?

    প্রকাশ্যে দ্বিচারিতা

    প্রসঙ্গত, নীরবতার প্রকৃত রূপ কী? এখানে নীরবতা মানে একেবারে কিছু না বলা নয়। এটি আরও সূক্ষ্ম, কিন্তু অনেক বেশি প্রভাবশালী। এই নীরবতা প্রকাশ পায় লক্ষ্যভিত্তিক মনোযোগের অনুপস্থিতিতে। বাংলাদেশে হিন্দু ভুক্তভোগীদের দুর্দশা নিয়ে কোনও আলাদা তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সমর্থকদের সক্রিয় করে তুলতে জরুরি ‘অ্যাকশন অ্যালার্ট’ও জারি করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলির তরফে এমন কোনও ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিংও হয়নি, যা বিষয়টিকে চর্চার বিষয় করে তোলে (Bangladesh)। অন্য দেশে গোষ্ঠীগত হিংসা বা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলি যেভাবে দ্রুত প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশ করে, মুখপাত্র নিয়োগ করে, ধারাবাহিক আপডেট দেয় এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কোনওটিই দেখা যায়নি।

    ফলে যা হয়েছে, তা হল, ঘটনাগুলি কিছুদিন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রচার না থাকলে কূটনৈতিক চাপ দুর্বল হয়, জনস্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায় (Hindus Killed), আর একটি মানুষের মৃত্যু ন্যায়ের দাবির প্রতীক না হয়ে, পরিণত হয় ইতিহাসের পাদটীকায় (Bangladesh)।

  • Weather Update: জেলায় জেলায় শৈত্য প্রবাহ! তাপমাত্রা আরও কমবে, দৃশ্যমানতা কমবে আরও, পূর্বাভাস

    Weather Update: জেলায় জেলায় শৈত্য প্রবাহ! তাপমাত্রা আরও কমবে, দৃশ্যমানতা কমবে আরও, পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও তাপমাত্রা কমতে চলেছে বঙ্গে। ঠান্ডায় কাঁপতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাতের তাপমাত্রা এখন আরও নামবে। দিনের তাপমাত্রা এখন রাতের তাপমাত্রার তুলনায় অনেক কমবে। দিনের তাপমাত্রা বা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (Winter) স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নিচে থাকবে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের (Weather Update) সম্ভাবনাও রয়েছে।

    দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসবে (Weather Update)

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে জাঁকিয়ে শীত (Weather Update) পড়বে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাপক শীত পড়বে। দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা থাকবে। দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসবে। অপর দিকে দক্ষিণবঙ্গেও বেশকিছু জেলায় ঘন কুয়াশার ইঙ্গিত রয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা পাকিস্তান ও জম্মু কাশ্মীর সহ উত্তর-পশ্চিম পার্বত্য এলাকায় অবস্থান। পূর্বে বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কলকাতার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

    কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যে ফের পারদ পতনের (Winter) ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা (Weather Update) কমতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে দুই থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত পারদ নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে কয়েকদিন প্রবল শীত অনুভূত হবে। অপর দিকে দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতেও। দার্জিলিং এর পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং জেলায় আজকাল ঘন কুয়াশা থাকার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৭ ডিগ্রি কম। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি সপ্তাহে কলকাতায় শীতের রেকর্ড তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত (Delhi Riots Case) মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই একই মামলায় গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সলিম খান এবং শাদাব আহমেদ – এই পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হয়।পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের ভূমিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন স্তরের। অর্থাৎ, প্রসিকিউশনের অভিযোগ ও উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের নিরিখে এই দুই অভিযুক্তের অবস্থান আলাদা।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় (Delhi Riots Case)

    আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। যেসব অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেই অপরাধগুলিতে অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়, এমনই পর্যবেক্ষণ করে ইউএপিএ। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন ধরে কারাবাস চললেও তা সংবিধানের কোনও নির্দেশ লঙ্ঘন করে না এবং প্রযোজ্য আইনের অধীনে থাকা আইনগত নিষেধাজ্ঞাকেও অতিক্রম করে না। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ গালফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদের দাখিল করা জামিনের আবেদনের ওপর এই রায় দেয় (Supreme Court)।

    বিস্তারিত সওয়াল-জবাব

    গত ১০ ডিসেম্বর সব পক্ষের বিস্তারিত সওয়াল-জবাব শোনার পর শীর্ষ আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। জামিনের আবেদনের শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীরা মূলত বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং অদূর ভবিষ্যতে মামলার বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম, এই যুক্তিগুলি তুলে ধরেন। আদালতে এও জানানো হয়, অভিযুক্তরা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএর অধীনে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে (Delhi Riots Case)। দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যা দেখায় যে তারা দাঙ্গায় হিংসা উসকে দিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Supreme Court)।

    রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা

    তবে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের ফল নয়, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা (Delhi Riots Case)। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই ঘটনাগুলি কোনও সাধারণ বিক্ষোভ ছিল না, বরং একটি সুসংগঠিত, সুপরিকল্পিত ‘প্যান-ইন্ডিয়া ষড়যন্ত্র’, যার লক্ষ্য ছিল ‘রেজিম চেঞ্জ’ অর্থাৎ সরকার পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়া। পুলিশের মতে, এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, এই ষড়যন্ত্রের নকশা এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে তা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সঙ্গে এক সঙ্গে সংঘটিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-কে বিশ্ব দরবারে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা (Supreme Court)।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে সচেতনভাবে একটি ‘র‍্যাডিকালাইজিং ক্যাটালিস্ট’ বা উগ্রপন্থায় ইন্ধন জোগানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে’র মোড়কে আড়াল করা হয় (Delhi Riots Case)। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তদের দ্বারা রচিত এই ‘গভীরভাবে প্রোথিত, পূর্বপরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে’র ফলেই দিল্লি দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, ব্যাপকভাবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধুমাত্র দিল্লিতেই দায়ের হয় ৭৫৩টি এফআইআর। দিল্লি পুলিশ আদালতে জানায়, নথিভুক্ত প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে এই ষড়যন্ত্র শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গোটা দেশজুড়ে একই ধরনের অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম-সহ মোট ন’জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরই অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় (Delhi Riots Case)।

    জামিন খারিজ

    জামিন খারিজ করার সময় দিল্লি হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল, প্রাথমিকভাবে গোটা ষড়যন্ত্রে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা ছিল গুরুতর (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তারা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভিত্তিতে উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বৃহৎ আকারে সংঘবদ্ধ করে আন্দোলনে নামানো। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে উমর খালিদ, শরজিল ইমাম ও অন্যদের ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারির সূত্রপাত হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দিল্লি হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে (Delhi Riots Case)। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-র বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হিংসায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-এরও বেশি মানুষ জখম হন (Supreme Court)।

  • National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে আসতে চলেছে জাতীয় সন্ত্রাস বিরোধী নীতি। নয়া এই নীতিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে। তবে তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাবেই ‘সংগঠিত অপরাধের উপর ৩৬০ ডিগ্রি’ আক্রমণ করা সম্ভব হবে। এই নীতির ফলে সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে

    ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নেতৃত্বে দেশের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি (National Anti-Terror Policy) চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য—অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার এবং বিদেশি অর্থে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মতো আধুনিক সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। ডিজিটাল মাধ্যমে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নিয়োগ কৌশল, বিদেশ থেকে পরিচালিত জটিল নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই এই নীতির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

    প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতির পটভূমি

    দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা মূলত বিচ্ছিন্ন আইন, নির্দিষ্ট সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল ছিল। এর মধ্যে ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র মতো সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, একটি সর্বভারতীয় দিকনির্দেশমূলক নীতির অভাব ছিল। এর ফলে রাজ্যভেদে প্রস্তুতির তারতম্য, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে অসামঞ্জস্য এবং নতুন হুমকির ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। নতুন জাতীয় নীতি এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তৈরি করা হচ্ছে—যাতে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একটি অভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী মতাদর্শের অধীনে কাজ করতে পারে।

    অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ

    এই পরিকল্পনা সারা দেশে বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি স্তরে অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে। সারা দেশে একটি সাধারণ এটিএস কাঠামো তৈরি হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রাজ্যের পুলিশপ্রধানের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা। সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত আলাদা আলাদা না-হয়ে, এক ছাদের নীচে হলে তা বেশি কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্য-পুলিশ প্রযুক্তির ভাল ব্যবহার করছে। অভিন্ন এটিএস কাঠামো তৈরি হলে সন্ত্রাসীদের বিচারের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যাবে। যদি সমস্ত তথ্য একে অপরের সঙ্গে সহজে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তদন্তে অনেক সুবিধা হবে। কোনও রাজ্যে যদি সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটে তবে তার মোকাবিলা করবে রাজ্য পুলিশ। তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি

    ১. অনলাইন উগ্রপন্থা ও ডিজিটাল নিয়োগ: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলি সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুব সমাজকে প্রভাবিত করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত নিজেদের মতাদর্শ প্রচার করছে। নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বোমা হামলার মতো ঘটনায় তদন্তকারীরা অনলাইন উগ্রপন্থার যোগসূত্র খুঁজে পান। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সাইবার-কেন্দ্রিক সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

    ২. খোলা সীমান্তের অপব্যবহার: ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত, বিশেষ করে নেপালের সঙ্গে খোলা সীমান্ত, নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে জঙ্গিরা এই পথ ব্যবহার করে ভারতে ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিদেশি পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে স্থানীয় জনতার মধ্যে মিশে যায়। নতুন নীতিতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, আন্তঃদেশীয় গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

    ৩. বিদেশি অর্থ থেকে সাহায্য: বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে কিছু নেটওয়ার্ক , নানা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রপন্থা ছড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিদেশের কিছু ধর্মীয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি। এই নীতির লক্ষ্য হবে ওই ধরনের আর্থিক ও বার্তা প্রেরণের চ্যানেল শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, যাতে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়।

    প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা

    এই জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি তৈরি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, যেখানে এনআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, হুমকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতে এনআইএ সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এই নীতিতে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনআইএ-এর ডিরেক্টর জেনারেল ও এনএসজি-র প্রধানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য একটাই—সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই যেন শুধু দিল্লিকেন্দ্রিক না হয়, বরং স্থানীয় স্তরেও কার্যকর হয়।

    ন্যাটগ্রিড সমন্বিত গোয়েন্দা ব্যবস্থা

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ন্যাটগ্রিড (ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড)। এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন সংস্থার ডেটাবেসকে সংযুক্ত করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়। এর ফলে রাজ্য পুলিশ, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর মধ্যে তথ্যের ফাঁক কমবে এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে—যেখানে সীমান্ত সন্ত্রাস, সাইবার হুমকি এবং চরমপন্থী মতাদর্শ বাড়ছে—এই নীতি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, গোয়েন্দা-কেন্দ্রিক এবং সমন্বিত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি এখন অনেক সহজেই বোঝা যায়। সেই সব তথ্য যদি একই ছাদের তলায় থাকে তবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি ফলদায়ক হবে। সন্ত্রাসীদের বয়স আগের চেয়ে কমেছে। এর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের তরুণ অফিসারদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমরা আগামী দিনে এটিকে প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলব।

    কেন্দ্রের শক্তিশালী পদক্ষেপ

    সময় পাল্টাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে সন্ত্রাসের চেহারা। তাই সন্ত্রাসের নতুন পরিভাষার মোকাবিলা করতে জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা নীতি শক্তিশালী পদক্ষেপ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এই নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর ধাপে ধাপে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP), প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা হবে। সব মিলিয়ে, ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

LinkedIn
Share