Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে। চারপাশের আনন্দের মাঝেও মায়ের মনের গভীরে ক্ষত তৈরি করছে। আর বেশিরভাগ সময়েই সেই রোগের টের পাওয়া যাচ্ছে না। অসচেতনতার জেরেই সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে। রোগ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং রোগের চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে মা, সন্তান ও পরিবারের জন্য বড় সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দেশজুড়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression) বা প্রসবোত্তর অবসাদ বা মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই রকম তথ্য উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসে ম্যাটারনাল মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস (Maternal Mental Health Awareness) মাস পালন করা হয়। আর চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মায়েদের এই সমস্যা নিঃশব্দে ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করছে‌।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য? কোন রাজ্যে সমস্যা বেশি?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম অবসাদের (Depression in New Mothers) শিকার হন।‌ তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে, কর্নাটকের মতো রাজ্যে এই অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে মাতৃত্বকালীন অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। উত্তর ভারতে ১৫ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার হন।‌ দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক শহুরে জীবন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছোটো পরিবার এবং কাজ-পরিবার ব্যালেন্সের চাপ এই ধরনের অবসাদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। অত্যাধিক সামাজিক প্রত্যাশা মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    কেন পোস্টপার্টাম অবসাদ হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মা হওয়ার পরবর্তী কালে এই অবসাদ খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। বহু নতুন মা এই ধরনের সমস্যায় ভোগেন। সন্তানের জন্ম দেওয়ায় পরে মায়ের শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও‌ গভীর প্রভাব পড়ে। তাছাড়া সামাজিক পরিবর্তন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। এই ধরনের অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পিছনে এই সামাজিক কারণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলা এখন কর্মজীবী। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তান জন্মের পরে মায়েদের পরিবারে অনেকটাই দায়িত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সেই দায়িত্ব পালনে নানান ত্রুটি হয়। যা তাকে সামাজিক হেনস্থার শিকার করে। ফলে নতুন মায়ের মধ্যে হতাশা জন্মায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোর্টপার্টাম অবসাদের নেপথ্যে থাকে ‘ভালো মা’ হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা।

    কেন‌ পোস্টপার্টাম অবসাদ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে পোস্টপার্টাম অবসাদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এই রোগ সম্পর্কে অবহেলা এবং অসচেতনতা। সন্তানের জন্মের পরে নবজাতকের মতো নতুন মায়ের যত্ন প্রয়োজন। শারীরিক যত্নের পাশপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি এই সম্পর্কে সচেতনতা খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন‌ মা অবসাদের শিকার হলে তাকে নানান কটুক্তির শিকার হতে হয়। যা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। পোস্টপার্টাম অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।‌ এর ফলে মায়ের স্নায়ু ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা কমতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়। এমনকি মাতৃত্ব পরবর্তীতে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ পোর্স্টপার্টোম অবসাদ‌ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের পাশপাশি আমেরিকা সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও সম্প্রতি এই অবসাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ গাইনোকোলজি (ACOG) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পোস্টপার্টাম অবসাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে নতুন মায়েদের ৬০ শতাংশ মৃত্যু হার কমানো‌ যাবে। তাই ২৩ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া গেলে তবেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। সন্তান জন্মের পরে সন্তানের দেখভালের সবটুকু মায়ের দায়িত্ব বলে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের দায়িত্ব মা ও বাবা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। পরিবারের অন্যান্যদের মায়ের যত্ন নেওয়া দরকার। নতুন মায়ের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে না পারলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। তাই নবজাতকের পাশপাশি মায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া নতুন মা ছোটো ছোটো কারণে অতিরিক্ত রেগে গেলে, বিরক্ত হলে, একা থাকতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ পোস্টপার্টাম অবসাদের রুখতে প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে সেই অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • 114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিষয়ে একধাপ এগলো ভারত। শুক্রবার এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ড বা ডিপিবি)। এখন প্রস্তাবটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) সামনে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এরপর খরচ সংক্রান্ত দরকষাকষি সম্পন্ন করা হবে এবং শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (সিসিএস) চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফাল যুদ্ধবিমানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৩৫টি রাফাল রয়েছে এবং নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতে মাক্রঁর সফরে চুক্তি স্বাক্ষর?

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরের সময় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফাল চুক্তিতে সই হতে পারে। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন মাক্রঁ। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। এই সময়কালেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তিটি যদি ২০২৭ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়, তবে ২০৩০ সাল থেকে প্রথম ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতকে সরবরাহ করবে ফ্রান্স। প্রস্তাবে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১২ থেকে ১৮টি প্রস্তুত রাফাল সরাসরি কেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি বিমানগুলি ভারতে নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ ভারতের

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় চুক্তির কথ মাথায় রেখে ভারত ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের জন্য বেশ কয়েকটি ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ বা আপসহীন শর্ত নির্ধারণ করেছে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে—১১৪টি যুদ্ধবিমানের প্রতিটিতে ভারতীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের সংযোজন; পাশাপাশি বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাকে এমন সুরক্ষিত ডেটা লিঙ্ক সরবরাহ করতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতীয় রেডার ও সেন্সরের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে সংযুক্ত করা যাবে এবং সেই তথ্য ও ছবি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলিতে পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে, রাফাল যুদ্ধবিমানের এভিওনিক্স ও রেডার এবং উইপন সিস্টেমে একাধিক বদল করতে হবে বিমান নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থাকে। তবে বিমানের সোর্স কোড ফরাসি পক্ষের কাছেই থাকবে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও দাসো এভিয়েশন এয়ারফ্রেম নির্মাণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য ইঞ্জিন নির্মাতা সাফরান এবং অ্যাভিওনিক্স সরবরাহকারী থ্যালেসের মতো সংস্থাগুলিও রাফাল-চুক্তিতে অংশ নেবে।

    ৯০টি রাফাল এফ-৪, ২৪টি এফ-৫ সংস্করণ!

    জানা যাচ্ছে, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ভারত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে ৯০টি নতুন রাফালের আপগ্রেডেড এফ-৪ সংস্করণ যুদ্ধবিমান পাবে। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে থাকা এফ-৩আর সংস্করণের ৩৫টি রাফালকে এফ-৪ সংস্করণের মানে উন্নীত করবে ফ্রান্স। এই আপগ্রেডের মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রেডার, যা আরও দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধশক্তি দেবে। এতে নতুন বিপদ শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য উন্নত আত্মসুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এই আপগ্রেড ফরাসি বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর রাফাল বিমানের আপগ্রেডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই সক্ষমতার আওতায় থাকবে আরও উন্নত দীর্ঘ-পাল্লার সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অনেক দূর থেকেই শত্রুকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাকে ধ্বংস করতে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমানে উন্নত স্যাটেলাইট লিঙ্ক যুক্ত করা হবে এবং পাইলটের সামনে আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যালগরিদমও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ২৪টি রাফাল (সর্বাধুনিক) এফ-৫ সংস্করণ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে দাসো অ্যাভিয়েশন তৈরি করবে ফ্রান্সেই।

    রাফাল ও সু-৫৭ ভিন্ন প্রকল্পের আওতায়!

    প্রতিবেদন বলছে, সাধারণত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এই হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হয়ে থাকে। কিন্তু, এই চুক্তিতে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভারতকে যথাক্রমে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব করলেও ভারত রাফাল চুক্তির দিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সু-৫৭ প্রস্তাবের সঙ্গে এই রাফাল চুক্তি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কারণ, দুটি ভিন্ন।একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
    তাঁদের মতে, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কর্মসূচির অধীনে ভারতীয় বায়ুসেনা চতুর্থ প্রজন্মের অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর অন্তত একটি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী ঘাটতি পূরণে সরকারকে দুই থেকে তিনটি স্কোয়াড্রন পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাবও দিয়েছে বায়ুসেনা। সেখানে বিবেচনার মধ্যে রয়েছে রুশ সু-৫৭।

    সিসিএস-এর ছাড়পত্র মিললেই সবুজ সঙ্কেত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, “ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার স্টেটমেন্ট অফ কেস (SoC) কয়েক মাস আগেই মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে।” রাফালের সাম্প্রতিক কার্যকারিতা এই প্রস্তাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে রাফাল যুদ্ধবিমান স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের মাধ্যমে চিনা পিএল-১৫ আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    এদিকে, ফরাসি পক্ষ হায়দরাবাদে রাফাল বিমানে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার ও ওভারহল (MRO) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। দাসো অ্যাভিয়েশন ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা গঠন করেছে। টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় এয়ারোস্পেস সংস্থাও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় বায়ুসেনা দ্রুত নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করছে। ভবিষ্যতে বায়ুসেনার ফাইটার ফোর্স স্ট্রাকচার মূলত সুখোই-৩০এমকেআই, রাফাল এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্পের উপর নির্ভর করবে। ভারত ইতিমধ্যেই ১৮০টি এলসিএ তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে এবং ২০৩৫ সালের পর বড় সংখ্যায় দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যামকাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

  • Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিপা সংক্রমণ (Nipah Virus) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।‌ রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।‌ তারমধ্যেই বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে ডেঙ্গি (Dengue)। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসে রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট অব্যহত ছিল। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও ডেঙ্গি তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ থেকে রাজ্যবাসীর রেহাই নেই। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    নতুন বছরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩১৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতাতে ১ হাজার ৭৩৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং হাওড়াতেও এক রকম ভাবে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিলো। নতুন বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গোটা রাজ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত (West Bengal Dengue Cases) হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ডেঙ্গি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম। জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শীতের ঝড়ো ব্যাটিং চললেও ডেঙ্গির দাপট কমেনি। কারণ রাজ্যের একাধিক জায়গায় ঠিকমতো মশানিধন প্রক্রিয়া হয়নি। তাই শীতের মরশুমেও রাজ্যবাসী মশাবাহিত রোগে কাবু হচ্ছেন।

    নিপা ভাইরাসের আবহে কেন ডেঙ্গি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রাজ্যে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের মৃত্যু হার অনেক বেশি। সুস্থ হলেও আক্রান্তের শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি বাড়তি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত নিপা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আবার ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রামিত হলে, ভাইরাসের প্রকৃতি পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মহল একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা কিংবা ডেঙ্গি, এই দুই সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ফলে চিকিৎসা খুবই জটিল। মৃত্যু আটকানোও কঠিন। তাই এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে যাতে সংক্রামক রোগ দাপট বাড়াতে না পারে‌ সেই নিয়ে সব মহলের তৎপরতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন স্বাস্থ্য কর্তারা?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় জানুয়ারি মাস থেকেই নানান পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা নজরদারি করবেন। এলাকায় জল জমছে কিনা, অপরিচ্ছন্ন আছে কিনা সেদিকে নজরদারি চালানো‌ হবে। আবার, নিপা নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়েছে, যাতে খেজুর রস না খাওয়া হয়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আবার ডেঙ্গি হচ্ছে কিনা সে নিয়েও খোঁজ রাখা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হচ্ছে।

    যদিও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে বছরভর প্রচার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে নেই, তা জানান দিচ্ছে পরিসংখ্যান। তাই ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অধিকাংশ জেলায় বেড়েছে। নতুন বছরে জানুয়ারি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুধু সচেতনতা প্রসার নয়। সংক্রামক রোগ রুখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তাও সমানভাবে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের চোখরাঙানি বাড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। গত কয়েকদিন ধরে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদিয়ায় ও অপরজনের বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়ায়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। জানা যাচ্ছে, ওই নার্স কোমায় রয়েছেন। এর মধ্যেই, আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে আরও বর্ধমানের ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগে আক্রান্ত কাটোয়া নিবাসী নার্সকে যখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাঁর চিকিৎসায় থাকা এক হাউসস্টাফকে এবার নিপা সন্দেহে কলকাতার বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাই, নিপা ভাইরাস নিয়ে বাড়তি সতর্ক কেন্দ্রীয় সরকার।

    করোনা অতিমারির তুলনায় কতখানি বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মৃত্যু হারের নিরিখে করোনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যু হারের নিরিখে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুর হার ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষমতা কম। তাই করোনা ভাইরাসের মতো অতো দ্রুত এই ভাইরাস ছড়াবে না। এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। যদি এই ভাইরাস নিজের প্রকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি করোনা মহামারির তুলনায় আরও বেশি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।
    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা হাঁচি-কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তো। নিপা ভাইরাসের সেই ক্ষমতা তুলনামূলক কম। আক্রান্তের সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমেই এই রোগ একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হচ্ছে। বিশেষত মূত্র, রক্ত কিংবা লালার মাধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় মূল প্রতিবন্ধকতা হলো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনও নেই। তাই নানান রকম পদ্ধতিতে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তাই নিপা নিয়ে আতঙ্ক নয়। বরং সচেতনতা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন এই সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্রের বাড়তি উদ্বেগ?

    রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হতেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি তৎপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার পিছনে মূল কারণ নিপার মৃত্যু হার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপার মৃত্যু হার অন্যান্য ভাইরাসঘটিত রোগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত অক্ষম করে দেয়। ফলে শরীরের সমস্ত স্নায়ু কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। তাই এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিপা সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে। প্রথম থেকেই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তাছাড়া এই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল হাতিয়ার হলো প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয়। একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থায় সেই শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর আর সর্দি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ একেবারেই অবহেলা করা যাবে না।‌ দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। প্রশাসনিক মহলে আইসোলেশন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই কোনো নিপা ভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পরে সেই জন্য বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাদুরের পাশপাশি শুয়োরের দেহ থেকেও এই রোগ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আপাতত শুয়োরের মাংস খাওয়া উচিত হবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন ফল থেকেও নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাটা ফল বা অর্ধেক খাওয়া ফল অথবা ফলে কোনো আঁচড় আছে দেখলে এই সময়ে তা কোনো ভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি। যা পৌষ পার্বণ (Paush Parbon) নামেও বাংলায় বহুল প্রচলিত। বাংলার, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে এই দিন পিঠে-পুলির উৎসব (Pithe-Puli Utsav) হয়। অন্দরে অন্দরে দুধ, ক্ষির, গুড়, নারকেলের গন্ধে ম-ম করে। হাড় কাঁপানো শীতে লেপ-কম্বলের আরাম ছেড়ে জোরকদমে পিঠে-পুলি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ির মা-বউরা। পৌষ পার্বণ অথচ পিঠে হবে না তা আবার হয় নাকি? যুগ যুগ ধরে পৌষ সংক্রান্তির (Makar Sankranti) দিনে এই মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে ভোলেন না বাংলার মানুষ।

    কেন সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয় জানেন?

    মূলত নতুন ফসলের উৎসব (Makar Sankranti) বলেই এই দিনটিকে পৌষ-পার্বণ হিসেবে উদযাপন করেন বাঙালিরা। এই সময়ে ঘরে ঘরে নতুন ফসল থাকে। সেই নতুন ফসল দিয়েই তৈরি করা হয় এই বিশেষ মিষ্টান্ন। এই নতুন ফসলকে স্বাগত জানাতেই ঘরে ঘরে বানানো হয় এই অসাধারণ মিষ্টান্ন। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এ দিন চাল গুঁড়ো, নারকেল, গুড়, দুধ, ক্ষির দিয়ে তারি করা হয় রকমারি পিঠে। সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠে হল— ভাপা পিঠে। এ ছাড়াও রয়েছে চিতই পিঠে, দুধচিতই, ছিট পিঠে, দুধপুলি, ক্ষীরপুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠে, মালাই পিঠে, মোলপোয়া, পাকন পিঠে, ঝাল পিঠে ইত্যাদি। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘পৌষ পার্বণ’ নামের কবিতায় রয়েছে, ‘গড়িতেছে পিঠে পুলি অশেষ প্রকার, বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ কুটুম্বের মেলা, হায় হায় দেশাচার ধন্যি তোর খেলা।’ এই কবিতাতেই বাঙালির কাছে পিঠের আসল গুরুত্ব ধরা পড়ে।

    হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য!

    তবে, এখন শহুরে বাঙালিদের হেঁশেলে পিঠে-পুলি তৈরি করার রেওয়াজ ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। ফলে, রসিক বাঙালি পিঠে (Makar Sankranti) খেতে আস্তানা গেড়েছে মেলায় বা মিষ্টির দোকানে। তাই আজ আর আগের মতো হেঁশেলে ঢুকলেই হাঁড়ির ভেতরে যবুথবু হয়ে থাকে না ক্ষিরে ভরা পাটিসাপটা। আগে তাও যৌথ পরিবার থাকায় মা, দিদিমারা মিলে বা বাড়ির বড় কোনও সদস্যা পিঠে বানানোর উদ্যোগ নিতেন। কিন্তু, এখন কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে সেই মা, দিদিমারাও। পরিবার ভেঙেছে। যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত। তাই বাড়িতে বাড়িতে কমে এসেছে পিঠে বানানোর হিড়িকও। কর্মব্যস্ততার যুগে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য। ফলে, এখন পৌষ পার্বণে পিঠেপুলির স্বাদ নিতে হলে অগত্যা স্মরণ হতে হয় ময়রার দোকানে নতুবা মেলার প্রাঙ্গণে।

  • Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026)।এই পবিত্র দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories)। বলা হয়, যেমন জ্যোতিষশাস্ত্রে মকর সংক্রান্তি হল এক বিশেষ দিন যে দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন থেকেই সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণের দিকে ক্রমে ক্রমে সরে যায়। ফলে দিন বড় হতে শুরু করে এবং রাত ছোট হয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, এইদিনে স্নান করলে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। একই ভাবে স্নানের পর জল সূর্য দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করলে দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। এ দিনের মাহাত্ম্যকথা সম্পর্কে একাধিক গল্প পাওয়া যায়। এই দিনটি সূর্য উপাসনা, উপবাস, শ্রীকৃষ্ণ ও মাতা যশোদার সঙ্গে জড়িত। সৌর ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। এদিন বাঙলার ঘরে ঘরে পিঠে পুলি খাওয়ার রীতি রয়েছে। গ্রাম বাংলায় পৌষবুড়িও করে শিশুরা।

    যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পেতে উপবাস করেছিলেন

    মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026) এবং সূর্যদেবের উপাসনার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং যশোদার সঙ্গে জড়িত। পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories) অনুযায়ী, যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন উপবাস করেছিলেন। সাধারণত শ্রীরাম ত্রেতাযুগে বনবাস থেকে ফিরে আসার পর, কৈকেয়ী তাঁকে বলেছিলেন যে, পরবর্তী জীবনে আমার গর্ভে যেন জন্মগ্রহণ করেন। আমি যেন আপনার মা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। সেই সময়ে ভগবান মাতা কৈকেয়ীর সকল মনোবাসনা পূর্ণ করেন। রাণীমার আশীর্বাদে রামচন্দ্র জানিয়েছেন, মা তুমি কষ্ট পেয় না। কৈকেয়ীর অনুরোধে তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করবে। পুত্র হিসেবে তিনি ডাকতে পারবেন। এই কারণেই দ্বাপরে ভগবান রাম, মা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে দেবকির গর্ভে জন্ম নিলেও যশোদার কাছে মানুষ হন কৃষ্ণ। তাই শ্রীকৃষ্ণকে যশোদা নন্দনও বলা হয়।

    সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে

    এই মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) সঙ্গে সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য হল শক্তির প্রতীক। যাদের রাশিতে সূর্যের অবস্থান ঠিক থাকে না তাদের সূর্য নারায়ণকে নমস্কার করে জল তর্পণ করতে হয়। সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করে সকল নিয়ম কানুনকে মেনে চলতে হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সংক্রান্তি মানে সূর্যের রাশি পরিবর্তন। মকর সংক্রান্তিতে, সূর্য দেবতা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধনু রাশি থেকে বের হয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তিতে সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণে যায়। তাই এই দিনটিকে (Makar Sankranti 2026) উত্তরায়ণ বলা হয়। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে দক্ষিণায়ণ হল দেবতাদের রাত এবং উত্তরায়ণ হল দেবতাদের দিন। শাস্ত্রে উত্তরায়ণের দিনটিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়েছে। এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান ও পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। মনে করা হয় উত্তরায়ণে এদিন প্রাণ উৎসর্গ বা দেহ ত্যাগ করলে সরাসরি মোক্ষ লাভ পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

    অন্য পৌরাণিক মতে এদিন পুত্র শনির গৃহে প্রবেশ করেন সূর্য

    পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, শনিদেব কালো তিল দিয়ে সূর্য পুজো করেন। শনির পুজোয় প্রসন্ন সূর্য আশীর্বাদ করেন তাঁকে। আশীর্বাদে তিনি বলেন, শনির অপর ঘর মকরে যখন তিনি প্রবেশ করবেন সেদিন মর্ত্য লোক ধন-ধান্যে ভরে যাবে।

    এদিনই দেহত্যাগ করেন পিতামহ ভীষ্ম

    পুরাণ মতে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে নিজের প্রাণত্যাগ করার জন্য মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) তিথিকেই নির্বাচন করেছিলেন পিতামহ ভীষ্ম।

    কপিল মুনির আশ্রম হয়ে গঙ্গা এদিন সাগরে মিশেছিল

    পুরাণ মতে, এই তিথিতেই ভগীরথের পিছু চলতে চলতে কপিল মুনির আশ্রম হয়ে সাগরে মিশে যান গঙ্গা। তাই এই উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হয়। কপিল মুনির আশ্রমে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের ভিড় দেখা যায় এদিন। মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নান করেন ভক্তরা।

    দেবতা-অসুর যুদ্ধের সমাপ্তি

    দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তিও হয়েছিল মকর সংক্রান্তির দিনে। এই দিনেই অসুরদেরকে বধ করে শুভ শক্তির বিস্তার ঘটেছিল। তাই যেকোনও শুভ কাজ এই দিনে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে।

  • India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে দেশের নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা-শিল্প চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে ভারত। জার্মান সাবমেরিন নির্মাতা থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS)-এর সঙ্গে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর অংশীদারিত্বে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত (ডিজেল-চালিত) সাবমেরিন নির্মাণের পথে এগোচ্ছে এই চুক্তি। এই মুহূর্তে ভারত সফরে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সোমবার তিনি গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন। এর পরই, দুই রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে একাধিক বিষয়ে মউ স্বাক্ষিরত করে তা বিনিময় উভয় পক্ষের শীর্ষ আধিকারিকরা।

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) সাবমেরিন কেনার বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তবে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শীর্ষ কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, বর্তমানে চুক্তির প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং একটি গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আশাবাদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে, বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি বলেন, “এই ধরনের চুক্তিতে প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা থাকে। এসব আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই চলছে এবং আমরা একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।”

    ৭২০০০০০০০০০০ টাকার চুক্তি!

    কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, জার্মানির সঙ্গে এই সাবমেরিন নির্মাণের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২,০০০ কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে বহু প্রতিক্ষিত ‘প্রজেক্ট–৭৫আই’ টেন্ডারের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে. চা হবে দেশের সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ অঙ্কের চুক্তি। নীতিগত পরিবর্তন, কঠোর প্রযুক্তিগত শর্ত এবং পরীক্ষিত ও টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন প্রযুক্তির ওপর ভারতের জোরের কারণেই এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।

    এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জার্মান ‘টাইপ–২১৪ নেক্সট জেনারেশন’ (Type-214NG) সাবমেরিন নির্বাচন। প্রায় ২,৫০০ টন ওজনের এই ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনে রয়েছে এয়ার–ইনডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন বা এআইপি (AIP) ব্যবস্থা। স্পেনের নাভান্তিয়া প্রস্তাবিত এস–৮০ প্লাস সাবমেরিনকে পিছনে ফেলে টাইপ–২১৪এনজি বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত এই সাবমেরিনের পরীক্ষিত এআইপি প্রযুক্তি, উন্নত শব্দ-নীরবতা (অ্যাকোস্টিক স্টেলথ) এবং কম জীবনচক্র ঝুঁকির কারণে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমুদ্র অঞ্চলে দীর্ঘ সময় গোপনে কাজ করাই যেখানে প্রধান লক্ষ্য, সেখানে জার্মান প্ল্যাটফর্মের পরিণত ও পরীক্ষিত প্রযুক্তিই সিদ্ধান্তে নির্ণায়ক হয়েছে।

    কেন এআইপি ও স্টেলথ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের ক্ষেত্রে এআইপি এখন প্রায় অপরিহার্য। সাধারণ ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জের জন্য মাঝেমধ্যে ভেসে উঠতে বা স্নরকেল ব্যবহার করতে হয়, যা শত্রুপক্ষের নজরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এআইপি-যুক্ত সাবমেরিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ জলের নিচে থাকতে পারে, অত্যন্ত কম শব্দ ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনেচার বজায় রেখে টহল, নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করে।

    টাইপ–২১৪এনজি সাবমেরিনে ব্যবহৃত ফুয়েল–সেল নির্ভর এআইপি ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও কার্যত পরীক্ষিত প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। বিপরীতে, স্পেনের বায়ো-ইথানল ভিত্তিক এআইপি প্রযুক্তি এখনও সমপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি। জলতলের যুদ্ধে যেখানে ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই, সেখানে পরীক্ষিত প্রযুক্তিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

    ১৯৭১: করাচি আক্রমণ ও নৌশক্তির পাঠ

    স্টেলথ ও সহনশীলতার ওপর ভারতের জোরের পেছনে রয়েছে কঠোর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে অপারেশন ট্রাইডেন্ট ও অপারেশন পাইথনের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের প্রধান সমুদ্রবন্দর করাচিতে বিধ্বংসী হামলা চালায়। এই আঘাতে পাকিস্তানের নৌ লজিস্টিক্স ও জ্বালানি পরিকাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের সমুদ্রভিত্তিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদে অচল হয়ে যায়।

    এই হামলা ছিল কেবল কৌশলগত নয়, গভীরভাবে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। এটি যুদ্ধের পরিণতি ত্বরান্বিত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথমবারের মতো ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে যে, সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ স্থলযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবুও পরবর্তী দশকগুলিতে ভারতের সাবমেরিন আধুনিকীকরণ ধীরগতিতে এগোয়। বিলম্বিত কেনাকাটা, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং নীতিগত জড়তার ফলে নৌবাহিনীর জলতল বহর পুরনো হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রজেক্ট–৭৫আই কেবল একটি সামরিক ক্রয় নয়, ১৯৭১-এর শিক্ষা থেকে উদ্ভূত বহু প্রতীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

    অপারেশন ‘সিঁদুর’ ও করাচির পুনরাবির্ভাব

    গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সামনে আসে। বড়সড় সন্ত্রাসী উসকানির পর ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়লে ৮ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনী ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’তে ছিল। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পাকিস্তানের আর্থিক ও লজিস্টিক প্রাণকেন্দ্র করাচি বন্দরে আঘাত হানার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল।

    আজও করাচি পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড—দেশটির অধিকাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি ও আর্থিক প্রবাহ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১-এর পুনরাবৃত্তির বিশ্বাসযোগ্য হুমকি—এবার আরও উন্নত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও জলতল সক্ষমতা নিয়ে— প্রমাণ করে যে, নৌ শক্তি শট না ছুড়েও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অপারেশন ‘সিঁদুর’ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সমুদ্রে, আর তা কাজে লাগাতে ভারতের দরকার শক্তিশালী জলতল আধিপত্য।

    এই প্রেক্ষাপটে ভারত–জার্মানি সাবমেরিন চুক্তির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি নিছক শান্তিকালীন আধুনিকীকরণ নয়, বরং সাম্প্রতিক বাস্তব সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা সক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন যুক্ত হলে করাচির ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষমতা আরও বাড়বে, যা নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও স্থায়ী জলতল আঘাতের মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করবে।

    প্রজেক্ট—৭৫আই-এ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’

    এই চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—ছয়টি সাবমেরিনই ভারতে নির্মিত হবে। প্রধান নির্মাণ সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পাবে এমডিএল। টিকেএমএস নকশা কর্তৃত্ব, প্রকৌশল সহায়তা, পরামর্শ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে ভারত কেবল সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মই নয়, গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করবে—যা ভবিষ্যতের নৌ শক্তি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Nipah Virus: নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রাজ্যের দুই নার্স, খেজুর রসেই কি লুকিয়ে বিপদ?

    Nipah Virus: নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রাজ্যের দুই নার্স, খেজুর রসেই কি লুকিয়ে বিপদ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বছরের শুরুতেই সংক্রামক রোগের চোখরাঙানি। করোনা অতিমারির স্মৃতি এখনও তাজা। আর তার মধ্যেই আরও এক ভাইরাস সংক্রমণ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি দুই নার্স। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের দুই নার্সকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, নিপা ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    নিপা সংক্রমণ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস থেকেই হয় নিপা সংক্রমণ। প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তারপরে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই নিপা ভাইরাস প্রভাব ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নিপা ভাইরাস আক্রান্ত দুই নার্সের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

    কেন খেজুর রসেই বিপদ বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    শীতের মরশুমে নিপা ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে নিপা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাই খেজুর রস থেকেই বিপদ তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস বাদুর থেকে মানুষের শরীরে পৌঁছয়। প্রাকৃতিক উপায়ে খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়। এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলাকালীন খেজুর রসের মধ্যে বাদুরের লালা বা মূত্র মিশে যেতে পারে। সেই রস খেলে, সেখান থেকেই নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই এই মরশুমে নিপা ভাইরাসের দাপট খেজুর রসের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কীভাবে বুঝবেন এই রোগের লক্ষণ? কেন এই রোগ উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়লে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। তবে প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয় করতে পারলে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসের উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটলে শরীরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি‌ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ হলে জ্বর হয়। তার সঙ্গে খিঁচুনি, পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, বমি, গলা ব্যথার মতো নানান উপসর্গও দেখা দেয়। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ এই ভাইরাসের রোগ সংক্রমণের ক্ষমতা প্রচুর।

    নিপা ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ রুখতে পারে সচেতনতা। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট রুখতেও তাই সচেতনতাকেই তাঁরা হাতিয়ার করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খেজুর রস এই সময়ে একেবারেই খাওয়া চলবে না। খেজুর রস থেকে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেশি। তাই এই খাবার আপাতত বাদ দিতে হবে। অর্ধেক খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না। অনেক সময়েই ফলে নানান রকমের দাগ থাকে। বাদুরের আঁচড় কাটা ফল খেলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। ফল সবসময় খুব ভালো ভাবে ধুয়ে তারপরে খেতে হবে। শুকনো খেজুর খাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাত ও পা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে। পরিবারের কেউ জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাঁকে আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায় সেদিকে নজর দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • National Youth Day 2026: যুব সমাজের প্রতি স্বামীজির বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক, তাঁর জন্মদিনেই পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস

    National Youth Day 2026: যুব সমাজের প্রতি স্বামীজির বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক, তাঁর জন্মদিনেই পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরাধীন ভারতের বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ (National Youth Day 2026) উন্নত স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতেন। পরাধীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত গোটা জাতির বিবেক চেতনা জাগ্রত হবে, এই আকাঙ্খা ছিল স্বামী বিবেকানন্দের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশবাসীর মধ্যে জাত্যাভিমান বাড়ানো, দেশপ্রেম জাগানো। নিদ্রিত দেশের চেতনার উদয় না হলে দেশের উন্নতি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন স্বামীজি। দেশের যুবশক্তির প্রতি স্বামীজির অমর বাণী, “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত।” অর্থাৎ “ওঠো! জাগো! এবং লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত থেমো না।” তাঁর বাণী এখনও দেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক। তাই সারা দেশে প্রতি বছর স্বামীজির জন্মদিন ১২ জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস (Swami Vivekananda Birth Anniversary) পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৮৪ সালে ‘আন্তর্জাতিক যুব বর্ষ’ ঘোষণা করে। তারপর থেকেই ভারত সরকার প্রতি বছর স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীকে জাতীয় যুব দিবস হিসাবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    যুব দিবসের ইতিহাস

    বিখ্যাত দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক নেতা স্বামী বিবেকানন্দের (National Youth Day 2026) জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত হয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন যে, তরুণরা হল জাতির মেরুদণ্ড। দেশের যুব সম্প্রদায় সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সমাজ সংস্কারক, আধ্যাত্মিক নেতা, দার্শনিক এবং প্রেরণাদায়ক বক্তা স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা আজও তরুণদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই দিন সারা দেশে যুবকদের উদ্দেশে বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda Birth Anniversary) জীবন, কাজ এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির স্মৃতিচারণ করা হয়।

    জাতীয় যুব দিবসের গুরুত্ব

    ১২ জানুয়ারি সারা দেশে জাতীয় যুব দিবস (National Youth Day 2026) পালিত হয়। এ উপলক্ষে তরুণদের কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য হল ভারতের যুব সমাজকে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও মহান চিন্তা সম্পর্কে সচেতন করা। প্রতি বছর একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য নিয়ে যুব দিবস পালিত হয়।

    স্বামীজির বার্তা

    যুব সমাজের প্রতি স্বামীজির বার্তা (Swami Vivekananda Birth Anniversary) ছিল “ওঠো , জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” কাজ সম্পর্কে বিবেকানন্দের বার্তা, “সারাদিন চলার পথে যদি কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হও, তাহলে বুঝবে তুমি ভুল পথে চলেছ।” শিকাগোর বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বিবেকানন্দ শুরু করেছিলেন, ‘ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করে। তাঁরই বক্তব্য, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” চরিত্র গঠন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ছিল, “নিজের উপর বিশ্বাস না এলে, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস আসে না।’ তাঁর কথায়, “যে রকম বীজ আমরা বুনি, সে রকমই ফসল আমরা পাই। আমরাই আমাদের ভাগ্য তৈরি করি, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই, কাউকে প্রশংসা করারও কিছু নেই।” সঙ্গে ভয়ডরহীন হয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “ভয়ই মৃত্যু, ভয়ই পাপ, ভয়ই নরক, ভয়ই অসাধুতা, ভয়ই ভুল জীবন। এই বিশ্বের সমস্ত নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ও ধারণা এই ভয়ের অসৎ শক্তি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।” স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিটি বাণী এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ দেশের যুব সমাজকে তৈরি করতে পারে। তাঁর আদর্শে চলে উন্নত-আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলাই যুব-দিবস ২০২৬ (National Youth Day 2026) এর লক্ষ্য।

    কীভাবে পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস

    এই দিনে (Swami Vivekananda Birth Anniversary) দেশজুড়ে স্কুল ও কলেজগুলিতে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ লেখা, কুইজ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনেক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যুবকদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এর পাশাপাশি, জাতীয় যুব উৎসবেরও আয়োজন করা হয়, যা সাধারণত ১২ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এতে নাচ, গান, খেলাধুলা, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং যুব সংলাপের মতো অনুষ্ঠান থাকে, যার উদ্দেশ্য হলো যুবকদের প্রতিভাকে একটি মঞ্চ দেওয়া। দেশজুড়ে রামকৃষ্ণ মিশন দ্বারা ভাষণ, যোগাসন सत्र এবং পরিষেবা কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। অনেক জায়গায় পরিবেশ সুরক্ষা অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও চালানো হয়। জাতীয় যুব দিবসের মূল থিম থাকে ‘যুব ক্ষমতায়ন’, যার লক্ষ্য যুবকদের আত্মনির্ভর করে তোলা এবং তাদের সমাজ ও দেশের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা।

  • Swami Vivekananda Birth Anniversary: আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী, ফিরে দেখা স্বামীজির অমর বাণী

    Swami Vivekananda Birth Anniversary: আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী, ফিরে দেখা স্বামীজির অমর বাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda Birth Anniversary) জন্মজয়ন্তীতে (National Youth Day 2026) পালিত হয় ‘জাতীয় যুব দিবস’। ভারতবর্ষে সমগ্র যুব সমাজের কাছে আদর্শের প্রাণ কেন্দ্র হলেন স্বামীজি। তিনি হলেন ‘আইকন’। তাঁর উজ্জ্বলদীপ্ত দৃষ্টিকোণ, অগ্নিপ্রজ্বলিত লেখা এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কর্মনিষ্ঠা, এক কথায় ভারতবর্ষের পুনঃজাগরণের অনুপ্রেরণস্থল হলেন তিনি। তিনি ভারতীয় সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরে ভাষণ দিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে হিন্দু ধর্মের জয়জয় করেছেন। ভারত পৃথিবীকে যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়েছেন তা সভ্যতা ধ্বংসের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত চির শাশ্বত, অক্ষয় ও অমর-অজয় হয়ে থাকবে। আজ বিবেকানন্দের ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী। দেশজুড়ে পালিত হবে বিবেক উৎসব, মেলা, আলোচনা চক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা-সহ নানা কর্মকাণ্ড।

    আধ্যাত্মিক জাগরণেরই স্বাধীনতার ‘স্ব’ (National Youth Day 2026)

    বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda Birth Anniversary) উনিশতকের একজন আধ্যাত্মিক এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁর গুরু ছিলেন ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ। শাক্ত মায়ের সাধনা এবং মূর্তিপুজোর অন্যতম পুরধা ছিলেন তিনি। নিজের জীবনের জ্ঞান-বিদ্যাবুদ্ধি দিয়ে নরেন্দ্রনাথকে বিবেকানন্দ গড়তে বিশেষ ভাবে সচেষ্ট হয়েছিলেন। একই ভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং ঔপনিবেশিকবাদের বিরুদ্ধে প্রবল ভাবে সরব হয়েছিলেন বিবেকানন্দ। দেশের বৃহত্তর মানুষের জাগরণের জন্য কাজ করেছেন। কীভাবে পাঠান-মুঘল-ইংরেজরা দেশের সম্পদ লুট করে দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছিল সেই কথাই সমাজের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাই পরাধীন ভারতকে পুনরায় স্বমহিমায় নিয়ে যেতে ব্রাহ্মণ, চর্মকার, চণ্ডাল এবং শূদ্রের একসঙ্গে জাগরণের কথা বলেছিলেন। সকলকে একত্রিত হতে হবে। ভারতের আধ্যাত্মিক জাগরণের মধ্যেই স্বাধীনতার ‘স্ব’-কে দেখেছিলেন বিবেকানন্দ (National Youth Day 2026)।

    শিকাগোতে বিশ্বজয়

    ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে স্বামীজি (National Youth Day 2026) ভারতের হয়ে বিশ্ববাসীকে হিন্দুধর্মের গূঢ়অর্থকে তুলে ধরেছিলেন। ধর্মসভায় তাঁকে সকলের শেষে মাত্র সামান্য কয়েক মিনিটের জন্য বলতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সেই সময়ের বক্তৃতায় প্রিয় ‘ভাই ও বোনেরা’ সম্বোধনে গোটা আমেরিকাবাসী চমকে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি সেই দেশ থেকে এসেছি যে দেশে হাজার হাজার বছরের পুরাতন সন্ন্যাসীরা বসবাস করছেন। তাঁদের আবহমান কালের ধর্ম পরম্পরার পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীকে আমি শ্রদ্ধা এবং অভিনন্দন জানাই। ভারতীয় ব্রাহ্মণের মহাজ্ঞান, পাণ্ডিত্য এবং বুদ্ধের বিনয় বিশ্বকে শান্তির বাণী উপহার দিয়েছে। পাশ্চাত্য এবং মধ্য-প্রাচ্য থেকে কেবল হিংসা এবং ধ্বংসের কথাই বার বার বার এসেছে। এরপর গোটা ইউরোপ, আমেরিকা সহ একাধিক দেশে ভারতীয় ধর্ম কথাকে প্রচার করে বিশ্বকে জয় করেছেন স্বামীজি। তাঁর দ্বারা আরও প্রভাবিত হয়েছিল আইরিশ বিদেশী নারী ভগ্নী নিবেদিতা। তিনি বিবেকানন্দর (Swami Vivekananda Birth Anniversary) শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনিও অনুপ্রাণিত হয়ে ভারত মুক্তির লড়াইতে বিপ্লবীদের সঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী কাজে যোগদান করেছিলেন।

    স্বামীজির বাণী

    তাঁর লেখা উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে হল, ‘সঙ্গীতকল্পতরু’ ১৮৮৭, ‘কর্মযোগ’ ১৮৯৬, ‘রাজযোগ’ ১৮৯৬, ‘বেদনান্ত ফিলোজফি’ ১৮৯৬, ‘বর্তমান ভারত’ ১৮৯৯, ‘মাই মাস্টার’ ১৯০১, ‘পরিব্রাজক’। ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন। তাঁর বাণী রামকৃষ্ণ মিশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। স্বামীজি (National Youth Day 2026) বলতেন—

    ১> “জেগে ওঠো, সর্বদা সচেতন থাকো, যতক্ষণ না লক্ষ্যে পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত থেমে যেও না।”

    ২> “যাঁরা তোমাকে সাহায্য করেন, তাঁদের কখনও ভুলেও যেও না। যাঁরা তোমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের কখনও ঘৃণা করো না। আর যাঁরা তোমাকে সব সময় বিশ্বাস করেন, তাঁদের কখনও ঠকিও না।”

    ৩> “প্রতিদিন একবার হলেও নিজের সঙ্গে কথা বলো। নাহলে পৃথিবীতে বুদ্ধিমান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হবে না তোমার।”

    ৪> “যতক্ষণ না আপনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারবেন, ততক্ষণ আপনি ভগবানকেও বিশ্বাস করতে পারবেন না।”

    ৫> “নিত্যদিনের চলার পথে যদি আপনি কোনও সমস্যায় না পড়েন, তাহলে বুঝবেন আপনি ভুল পথে যাচ্ছেন।”

    ৬> “সবচেয়ে পাপ হল নিজেকে দুর্বল ভাবা’। তাই নিজেকে দুর্বল ভাববেন না।… নিজের দোষ থাকা সত্ত্বেও যদি আমরা নিজেকে ভালোবাসি। তবে অন্যদের দোষের কারণে কীভাবে তাঁদের ঘৃণা করব, কি করে?”

    ৭> “প্রতিটি মানুষের ধর্ম হল, নিজেকে সৎ রাখা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন’। তাহলে জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন। মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তি সকলের মধ্যে রয়েছে। আমরাই চোখের সামনে হাত রেখে কেঁদেছি, যে কি অন্ধকার! যে কাজের জন্য আপনি প্রতিশ্রুতি দেন, তা সঠিক সময়ে করা উচিত, অন্যথায় মানুষ তাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজের মনের মতো কাজ পেলে অতি মূর্খও করতে পারে। যে সকল কাজকেই মনের মতো করে নিতে পারে, সেই বুদ্ধিমান। কোনও কাজকেই আপনি ছোট মনে করবেন না।”

    ৮> “ধ্যান মূর্খদের ঋষিতে পরিণত করতে পারে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বোকারা কখনই ধ্যান করে না।”

    ৯> “অন্যদের কাছ থেকে যা ভালো তা শিখুন, ভুল জিনিস জীবন থেকে সরিয়ে ফেলুন। তবেই জীবনে এগোতে পারবেন।”

LinkedIn
Share