Tag: bangla news

bangla news

  • Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা প্রস্তুত। কিন্তু এখনই সহজলভ্য হবে না। তাই রোগের মোকাবিলায় চলতি বছরে এখনও ডেঙ্গি ভ্যাকসিনকে হাতিয়ার করতে পারছে না স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু রাজ্য জুড়ে বর্ষার দাপট রয়েছে। তাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। শহর থেকে জেলা, সর্বত্র ডেঙ্গি মোকাবিলা প্রয়োজন! তাই চলতি বছরেও আগাম সচেতনতা না থাকলে, ডেঙ্গি মোকাবিলা আগের মতোই কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ।

    ডেঙ্গি কি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় তৎপর স্বাস্থ্য দফতর। তবে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়েই বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মুম্বাই থেকে দিল্লি, দেশের একাধিক বড় শহরে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। কলকাতাতেও এই মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষত নদীয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়ার মতো একাধিক জেলায় চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাদ নেই কলকাতা। কলকাতার একাধিক জায়গায় বিশেষত শোভাবাজার, বেলগাছিয়া, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, কসবার মতো জনবহুল এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং, সতর্ক থাকা জরুরি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

    ডেঙ্গি রুখতে কোন পথে হাঁটতে চায় রাজ্য?

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গি ভ্যাকসিন তৈরি হলেও, সেই টিকাকরণ প্রক্রিয়া এখনি শুরু করা যাবে না। কারণ, এখনও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিয়ম মাফিক সেগুলো পার করলে তবেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা করণ শুরু হবে। তাই চলতি বছরে সাবেকি পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে বলে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কিনা, সেটার খবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমে রয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ দাপট বাড়াতে না পারে। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, বাকিদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া, ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, জমা জল ডেঙ্গি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্ষার মরশুমে দ্রুত সমস্ত নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, জনসচেতনতাও প্রয়োজন। বাড়ি ও এলাকার আশপাশে নোংরা ফেলা চলবে না। জল যাতে না জমে সেদিকে নজর দিতে হবে। গাছ লাগালে বাগান পরিষ্কার রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টব বা চৌবাচ্চায় যাতে জল জমে না থাকে, সেটা নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, পরিষ্কার বদ্ধ জমা জলে ডেঙ্গির মশার দাপট বাড়ে। তাই সেদিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি‌।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা জরুরি। মশার কামড় রুখতে হাত ও পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই মাঠে বা বাগানে খেলার সময়ে শিশুদের মশা কামড়ায়। এর থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খেলতে যাওয়ার সময় বিশেষত শরীর ভালোভাবে ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনো প্রয়োজন। তাতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, তিন দিন একটানা জ্বর থাকলে একেবারেই অবহেলা করা যাবে না। বরং, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়‌। এতে রোগীর শারীরিক জটিলতা কমে। আবার সংক্রমণ আটকানোও সহজ হয়। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, তাকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাহলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, নিজের বাড়ি এবং এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে কংগ্রেস (Congress)। সোমবার বিরোধী দলগুলির সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকে বিলটি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানির (FCRA Bill) এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাড়গে জানান, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙা করতেই তাঁর উত্তরাখণ্ড সফর। রাজ্য সফরের সময় তিনি এদিন রুদ্রপুরে নবনিযুক্ত রাজ্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

    বিলের বিরোধিতা করব! (Congress)

    সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলটি পেশ হতে পারে বলে খবর। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে বলেন, “আমরা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত এই উদ্যোগের বিরোধিতা করব। আগামীকাল সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকের পরে আমরা কৌশল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।” উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস কর্মীরা কাজ করছেন বলেও দাবি করেন খাড়গে। দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁর নিয়মিত রাজ্য সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি। প্রতিদিন এখানে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু আমাদের বাহিনী এখানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি কি প্রতিদিন এখানে আসেন? অমিত শাহ কি এখানে আসেন? নাড্ডা, যিনি এই অঞ্চল থেকেই এসেছেন, তিনিও কি এখানে আসেন? নতুন বিজেপি সভাপতিও কি এখানে আসেন?”

    সরকার বিল চাপিয়ে দিতে পারে না

    তিনি এও বলেন, “দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রয়োজন হলে আমরা তখনই এবং সেখানেই যাই। তার অর্থ এই নয় যে পর্যটকের মতো এসে শুধু চলে যাই।” বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল করেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল শুক্রবার জানিয়েছিলেন, দল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর কথায়, “সরকার এই ধরনের বিল জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না।” ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হচ্ছে। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোই এই সংশোধনের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

    বিল নিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এদিকে, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক সুপারিশ এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ তুলে ধরেন। পরে লালদুহোমা জানান, শাহের কাছে তিনি ছ’টি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তা হল এই আইন অতীত থেকে কার্যকর হবে না। আমাদের সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলিতে তিনি অনুচ্ছেদ ধরে মন্তব্য করবেন এবং চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সংসদে আলোচনা শুরু করবেন (Congress)।” বিলের কয়েকটি বিধানের বিরোধিতা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংসদে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ।

    বিল প্রত্যাহারের দাবি

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের সভাপতি এমকে স্টালিনও শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০১০ সালের ওই আইনের ১৫ নম্বর ধারা বাতিলের দাবিও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় স্টালিন জানান, সংখ্যালঘুদের যৌথ কর্মসূচি মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও ওই দলে ছিলেন। শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিও এই বিলের বিরোধিতা করেছে।

    আত্মবিশ্বাসী খাড়গে

    এদিকে, শনিবার হালদোয়ানির জনসভায় খাড়গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে (FCRA Bill)। দিল্লিতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমন-পীড়ন নিয়েও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে মন্দিরের অনুদান, বেকারত্ব, নিয়োগ পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন খাড়গে (Congress)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সনাতন ঐতিহ্যে কাঁওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra 2026) শুধুমাত্র ভগবান শিবের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি ধর্মীয় আচার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৃঙ্খলা, আত্মসংযম, সেবা, সমষ্টিগত চেতনা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মতো (Environmental Responsibility) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধও। আধুনিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই তীর্থযাত্রাকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। তাই শ্রাবণ মাসের কয়েক দিনের মধ্যে এই মূল্যবোধ সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই সময়ের দাবি।

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক (Kanwar Yatra 2026)

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা। শত শত কিলোমিটার হাঁটার ফলে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, পেশি এবং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানও মনে করে, নিয়মিত হাঁটা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই কাঁওয়ার যাত্রার বার্তা শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও এই যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সমবেত প্রার্থনা, ভক্তিগীতি, “বোল বম”-এর ধ্বনি এবং একই উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার মধ্যে দিয়ে ইতিবাচক আবেগ ও সামাজিক সংযোগের অনুভূতি শক্তিশালী হয়। মনোবিজ্ঞানের মতে, সামাজিক অংশগ্রহণ, ধ্যান, প্রার্থনা এবং যোগাভ্যাস মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও আবেগগত সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, অবসাদ ও একাকিত্ব যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন দৈনন্দিন জীবনে এই ইতিবাচক অনুশীলনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

    সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    কাঁওয়ার যাত্রা একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তীর্থযাত্রীরা নির্দিষ্ট দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলেন, সাধারণ নিরামিষ খাবার গ্রহণ করেন, আত্মসংযম অনুশীলন করেন এবং আধ্যাত্মিক লক্ষ্যের প্রতি নিবেদিত থাকেন। এই শৃঙ্খলা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত জীবনযাপন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ যদি স্থায়ীভাবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা—দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে। এই তীর্থযাত্রার রয়েছে গভীর সামাজিক তাৎপর্যও। বিভিন্ন জাতি, ভাষা, বয়স ও আর্থিক অবস্থার মানুষ একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে পাশাপাশি হাঁটেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন সেবাশিবিরে কোনও বৈষম্য ছাড়াই সকলের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঐতিহ্য ভারতীয় নিঃস্বার্থ সেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির ভাবনাকে তুলে ধরে। একই সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা যদি সারা বছর হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বৃদ্ধাশ্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগে বজায় থাকে, তাহলে সমাজ আরও সহানুভূতিশীল ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবে (Kanwar Yatra 2026)।

    জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা

    গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র নদীর জল বহন করার ঐতিহ্যের মধ্যেও জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধার সাংস্কৃতিক বার্তা রয়েছে। জলসংকট যখন গোটা বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এই ঐতিহ্য মানুষকে জলের অপচয় বন্ধ করা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং নদী ও অন্যান্য জলাশয় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করতে পারে। বিশ্বাস ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই সমন্বয় বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তীর্থযাত্রার সময়ে সীমিত সম্পদের মধ্যে জীবনযাপন, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো এবং অনেক তীর্থযাত্রীর তুলনামূলকভাবে কম বৈদ্যুতিন যন্ত্র ব্যবহারও আধুনিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে “ডিজিটাল ডিটক্স” (প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে সাময়িক বিরতি)-র ধারণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবারগুলি যদি প্রতি সপ্তাহে সচেতনভাবে কিছু সময় মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে আলোচনা, বই পড়া, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সময় কাটায়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক উভয়ই আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kanwar Yatra 2026)।

    জীবনের ভারসাম্যের প্রতীক

    দুই কাঁধে সমানভাবে ভারসাম্য রেখে কাঁওয়ার বহন করাও শুধু শারীরিক ভারসাম্যের বিষয় নয়, এটি জীবনের ভারসাম্যের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। কাঁওয়ারের ভার যেমন দুই দিকে সমানভাবে বণ্টিত হওয়া প্রয়োজন, তেমনই জীবনে কাজ ও বিশ্রাম, অধিকার ও দায়িত্ব, বস্তুগত অগ্রগতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। সব মিলিয়ে কাঁওয়ার যাত্রাকে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে বছরে একবারের জীবন-পরিচালনার প্রশিক্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তীর্থযাত্রার সময়ে যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি অনুসরণ করা হয়—নিয়মিত হাঁটা, যোগ ও ধ্যান, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিঃস্বার্থ সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ—সেগুলি যদি প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে এই ঐতিহ্যের প্রভাব আরও ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ হবে।

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা হল, ধর্ম শুধু উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সহনাগরিক, সমাজ এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল জীবনযাপনের অনুপ্রেরণাও দেয়। যখন শৃঙ্খলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে, সেবা হয়ে উঠবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, পরিবেশ রক্ষা হবে দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্য পাবে অগ্রাধিকার—তখনই কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণতা পাবে। তখন এটি আর শুধু শ্রাবণ মাসের একটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রা হয়ে (Environmental Responsibility) থাকবে না, বরং আরও সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল ভারত গড়ার ধারাবাহিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে (Kanwar Yatra 2026)।

     

  • SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকের বেলথাঙ্গাডির একটি আদালত ২০১৫ সালের একটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা মামলায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (SDPI Riyaz) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ ফারাঙ্গিপেটেকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের (Cow Slaughter Beef Case) পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। মামলাটি ২০১৫ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায় দায়ের হয়েছিল। ওই ধারায় বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার মতো কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। রায়ের পর ম্যাজিস্ট্রেট রামালিঙ্গাপ্পা রিয়াজকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর বক্তৃতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

    ২০১৫ সালের বিক্ষোভ থেকে মামলার সূত্রপাত (SDPI Riyaz)

    পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার এক বিক্ষোভ সভায় রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। গোরক্ষার নামে মুসলিমদের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে প্রকাশ্যে গরু জবাই করে গরুর মাংস বিক্রির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থার নথি অনুযায়ী, বকরি ইদ উপলক্ষে বেলথাঙ্গাডি বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রকাশ্যে গরুর মাংস বিতরণ করা হবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সেই কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০১৫ সালের ওই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ২৯৫এ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। বিচারের সময় পুলিশ নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করে। তদন্তকারী আধিকারিক রবি বিএস মামলার তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। আদালতে সরকারি আইনজীবী আশিথার সওয়াল, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে ওই বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এবং তা সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ।দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, রিয়াজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন বা সরকারি পক্ষ সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এরপরই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পিএফআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার রাজনৈতিক নেতা রিয়াজ বর্তমানে এসডিপিআইয়ের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। এসডিপিআই নিজেকে একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে এবং দলটি নিষিদ্ধ নয়। তবে বিভিন্ন তদন্তে এসডিপিআইয়ের মাধ্যমে পিএফআইয়ের প্রাক্তন সদস্যদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।পিএফআইকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ করে। সরকারি নথিতেও বেলথাঙ্গাডির ২০১৫ সালের মামলায় পিএফআইয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের উল্লেখ রয়েছে।

    আরও কয়েকটি মামলায় নাম জড়িয়েছিল রিয়াজের

    ২০১৯ সালে মেঙ্গালুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভের সময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে লোকজনকে সংগঠিত করার অভিযোগও রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠে। সেই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিহারে একটি জনসভা বানচাল করার কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা রিয়াজের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে রিয়াজ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন (SDPI Riyaz)।

    গরু জবাইয়ের হুমকি নিয়ে বিতর্ক

    প্রকাশ্যে গরু জবাই ও গরুর মাংস বিক্রির হুমকির অভিযোগ ঘিরে রিয়াজের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এসডিপিআই সদস্যদের পক্ষ নেওয়ার কারণেও তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দলটির দাবি ছিল, ওই ঘটনায় উপস্থাপিত প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও রিয়াজের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করেছেন। তবে ২০১৫ সালের বক্তৃতা মামলায় আদালতের রায়টি নির্দিষ্ট অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সেই সময়কার ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঘটনায় বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা প্রয়োগের প্রশ্ন (Cow Slaughter Beef Case) ওঠে না, মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায়ই হয়েছিল। পরবর্তীকালে কার্যকর হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (SDPI Riyaz)।

     

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন শনিবার পড়ল ১৫ দিনে। দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পর আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে রবিবার ফের আলোচনায় বসার (Reforms Protest) সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেন সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

    অচলাবস্থা কাটেনি (Jharkhand)

    শনিবার সরকার চার দফায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় অংশ নেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চ এবং আদিবাসী ছাত্র সংঘ। এর আগে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিল সরকার। পাঁচ দফা আলোচনার পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। এরপর রবিবার দুপুর ১২টায় ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ষষ্ঠ দফায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    সরকারের নতুন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং মূল দাবিগুলি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। সংস্কার মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “এটি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল। সরকার ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে আন্দোলনের দিক থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু সরকারের জানা উচিত, সমস্ত ছাত্র একজোট।” শনিবার জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠকে পাসওয়ান আরও দাবি করেন, শুক্রবার রাতে পাঁচ সদস্যের সরকারি কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সংস্কার মঞ্চ তাদের সমস্ত দাবি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, চলমান আন্দোলনে কোনও ভূমিকা না থাকা সংগঠনগুলির সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করে সরকার আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

    বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক

    শনিবার সরকারি কমিটি প্রথমে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে মাহাতোর অনশন এদিন সপ্তম দিনে পড়ে (Reforms Protest)। এর পর জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, আদিবাসী ছাত্র সংঘ এবং ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে সরকারি কমিটি। বৈঠকে প্রত্যেক সংগঠনের কাছ থেকে তাদের দাবিপত্র চাওয়া হয়। সরকারের দাবি, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা যে সমস্ত উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেছেন, সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানান, আলোচনায় ছাত্র প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবি ও উদ্বেগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে রবিবার দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত দফার আলোচনা হবে।” মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদব জানান, ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি

    ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিলের দাবি (Jharkhand)। জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ছ’দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের অন্যতম দাবি, সন্দেহের আওতায় থাকা ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের সমস্ত পরীক্ষা ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধ তদন্ত দফতরের মাধ্যমে তদন্ত করা। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার আদলে ঝাড়খণ্ডে একটি পৃথক পরীক্ষা সংস্থা গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। আদিবাসী ছাত্র সংঘের নেতা কার্তিক ওরাঁও নিয়োগ পরীক্ষায় আদিবাসী ও আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে যোগ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যেসব পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেগুলি বাতিল করার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। সংস্কারের বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মতামত জানতে একটি বৈদ্যুতিন ডাকের ঠিকানাও চালু করেছে সরকার। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে (Reforms Protest)।

    বিধানসভা অভিযানের হুঁশিয়ারি

    সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রবিবারের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১০ অগস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। শনিবার আন্দোলনস্থলে আলাদা মঞ্চ তৈরি করে সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি। তবে সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, একে পৃথক কোনও আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। শুক্রবার বিরসা চকে বিধানসভা অভিযানের সময় কালি ছোড়ার ঘটনায় আক্রান্ত হওয়া সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও শনিবার কিছু সময়ের জন্য আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি চতুর্দশ লোকসেবা কমিশন পরীক্ষা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। সংগঠনের রাঁচি শাখার প্রধান বিজয় কুমার বলেন, “বৃহত্তর আন্দোলনের যে দাবিগুলি রয়েছে, আমাদেরও একই দাবি। ১০ অগাস্টের মিছিলে আমাদের সদস্যরা অংশ নেবেন, তবে সংগঠনের পতাকা নিয়ে নয়।”

    বিধানসভা অভিযানের ডাক এবিভিপির

    এদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে তাদের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ কর্তা অজয় আর্যন জানান, ওই মিছিল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় (Jharkhand)। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে  ১১ অগাস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই শহিদ নির্মল মাহাতোর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা আন্দোলনস্থল থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মিছিল করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিও ফের তুলে ধরেন। এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাক্তন কমিটি-প্রধান এল (Reforms Protest) খিয়াংতেকে ২৮ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত চার দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে (Jharkhand)।

     

  • PM Modi: “প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে”, জেন জি-র উদ্দেশে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে”, জেন জি-র উদ্দেশে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জীবনে কৌতূহলকে কখনও মরে যেতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে শেখার প্রবণতাকেও সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে।” আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর পরামর্শ, প্রচলিত বা বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া বিষয়গুলিকেও নতুন করে যাচাই করতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস রাখতে হবে (Gen Z)। শনিবার অনুষ্ঠিত আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক উপস্থিত ছিলেন। দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ স্থাপনের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের মধ্যেই এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে নিজেদের জ্ঞান, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।

    কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখুন (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জীবনে কৌতূহলকে বাঁচিয়ে রাখুন। শেখার প্রবণতাকে সব সময় জাগ্রত রাখুন।” তাঁর মতে, আগামী কয়েক দশকে প্রযুক্তি, শিল্প, পেশা এমনকি বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যও দ্রুত বদলে যাবে। ফলে আজ দাঁড়িয়ে আগামী ২০ বা ৩০ বছর পৃথিবী ঠিক কোন পথে যাবে, তা নির্দিষ্টভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবর্তনের মধ্যেও একটি দক্ষতার গুরুত্ব কখনও কমবে না, আর তা হল শেখার ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা ক্রমাগত শিখতে থাকবে, তারাই সফল হবে।’’ যে কৌতূহল শিক্ষার্থীদের আইআইটি দিল্লিতে নিয়ে এসেছে, কর্মজীবনে প্রবেশের পরেও সেই কৌতূহল যেন হারিয়ে না যায়, সেই বিষয়ে তিনি বিশেষ জোর দেন তিনি।

    প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রশ্ন করার পাশাপাশি উত্তর অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করা। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিষয়কে শুধু প্রচলিত বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়। বরং সেটিকে পরীক্ষা করে দেখা, প্রশ্ন তোলা এবং প্রয়োজনে নতুন ব্যাখ্যা বা নতুন সমাধান খুঁজে বের করাই প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। তিনি বলেন, ‘‘কোনও বিষয়কে না ভেবে মেনে নেবেন না। প্রশ্ন করুন এবং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস রাখুন।’’ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, তাঁদের প্রত্যেকের মনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ভাবনা, স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের মনের কোনও এক কোণে হয়তো অন্য কিছু চলতে পারে। আমি বাবা বাগেশ্বর নই, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মনে নানা চিন্তা চলছে। আপনাদের প্রত্যেকের কাছেই ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি করে স্বপ্ন রয়েছে।’’

    সমাবর্তন শুধু শেষ নয়, নতুন অধ্যায়ের শুরু

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইআইটি দিল্লিতে প্রবেশের সময় থেকে সমাবর্তনের দিন পর্যন্ত তাঁদের যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ ও স্মরণীয় করে রাখতে হবে। কারণ সমাবর্তনের সঙ্গে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তার পরেই শুরু হবে জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী জীবনে দায়িত্ব যত বাড়বে, এই স্মৃতিগুলি ততই আপনাদের কাছে মূল্যবান হয়ে উঠবে। এই স্মৃতিগুলি আপনাদের যাত্রার একটি প্রিয় স্মারক হয়ে অতীতের দিনগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।’’ তাই শিক্ষার্থীদের তিনি বর্তমান সময়কে পূর্ণমাত্রায় বাঁচার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাটানো সময়ের বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং নানা চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে প্রত্যেকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকবে।

    শিক্ষায় আরও বেশি মেয়ের অংশগ্রহণের আহ্বান

    সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহিলা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং (PM Modi) প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক তরুণী যাতে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। মোদির বক্তব্য, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তালিকায় আরও বেশি মহিলা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা উচিত। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের প্রতিভার বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে মহিলাদের প্রতিভার পূর্ণ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও ইঙ্গিত দেন (Gen Z) তিনি।

    ভারতের নতুন উদ্যোগে তরুণদের ভূমিকা

    ভারতের নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে দেশের নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ-ভিত্তিক অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি আইআইটি দিল্লির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের মতো এই প্রজন্মের তরুণরাই ভারতের নতুন উদ্যোগের বিপ্লবকে গড়ে তুলেছেন এবং তাকে শক্তিশালী করেছেন।’’ আইআইটি দিল্লি থেকে একাধিক উদ্যোগপতি উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এত বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে, তাহলে গোটা দেশে যে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তার পরিমাণ কতটা হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘একটি প্রতিষ্ঠান যদি এত কিছু অর্জন করতে পারে, তাহলে কল্পনা করুন, গোটা দেশে কী বিপুল শক্তি তৈরি হচ্ছে।’’

    গবেষণাই হতে পারে পরবর্তী বড় সুযোগ

    সমাবর্তনে গবেষণার ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর গবেষণার জগতে প্রবেশ করা তরুণদের সামনে একটি বড় সুযোগ। নতুন ধারণা, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন সমাধান তৈরির মাধ্যমে ভারতকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণাকে উৎসাহ দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গবেষণা ফেলোশিপ, গবেষণা-উন্নয়ন ও উদ্ভাবন প্রকল্প এবং জাতীয় গবেষণা তহবিলের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে গবেষণার পরিকাঠামো ও সুযোগ বাড়ানোর কথা জানান। তিনি বলেন, গবেষণা খাতের জন্য এক লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘এক দেশ, এক গ্রাহকত্ব’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বের নামী গবেষণা পত্রিকাগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    চিপ থেকে জাহাজ—দেশেই উৎপাদনের স্বপ্ন

    ভারতের অর্ধপরিবাহী শিল্পের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কঠিন কোনও সমস্যাকে অসম্ভব মনে না করে তার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে (Gen Z)। একসময় ভারতে অর্ধপরিবাহী চিপ তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রথম অর্ধপরিবাহী উৎপাদন ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। মোদির বক্তব্য, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চিপ থেকে জাহাজ—সব কিছুই একদিন আপনাদের হাত ধরে এখানেই তৈরি হবে।’’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর সরকারের আস্থার কথাই তুলে ধরেন।

    বড় সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে সমাধান

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল—কোনও সমস্যা যত বড়ই মনে হোক, তাতে ভয় পাওয়া যাবে না। সমস্যাটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে একে একে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘যখনই কোনও চ্যালেঞ্জকে বড় মনে হবে, ভয় পাবেন না। সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন।’’ আইআইটির শিক্ষার্থীরা কীভাবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিন বিভিন্ন অনুকরণভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেন, তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তব জীবনেও একই ধরনের মানসিকতার প্রয়োজন। জীবনে নানা সমস্যা আসবে, কিন্তু সতর্ক এবং নতুন সমাধান খুঁজতে আগ্রহী মানুষের কাছে সেই সমস্যাই আবার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    বিকশিত ভারতে’র যাত্রায় তরুণদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, তাঁদের আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছরের কর্মজীবন ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের যাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। তাই ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু ব্যক্তিগত লাভ বা সাফল্যের কথা ভাবলে চলবে না। সেই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কী সুফল বয়ে আনবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন— ‘‘এতে দেশের কী উপকার হবে? এটি দেশের কোন প্রয়োজন পূরণ করবে?’’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাফল্যকে যুক্ত করতে পারলেই তরুণ প্রজন্মের শক্তি বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যে কাজে লাগানো সম্ভব হবে (PM Modi)। সমাবর্তনের শেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মূলত শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, শিক্ষা কোনও নির্দিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শেখার আগ্রহ, প্রশ্ন করার সাহস, নতুন কিছু খুঁজে বের করার মানসিকতা এবং কঠিন সমস্যাকে সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখার ক্ষমতাই ভবিষ্যতের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আইআইটি দিল্লিতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বপ্ন পূরণে (Gen Z) তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

     

  • Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পথে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Independence Day)। তাঁর সঙ্গী কলকাতার প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া। আগামী সোমবার ১০ অগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি (Har Ghar Tiranga Campaign) উপলক্ষে বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাস্তায় নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া উপস্থিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে গোটা পরিকল্পনা হলেও কার্যত সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কলেজ থেকেও পড়ুয়াদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, কলকাতার প্রায় ২০টি স্কুলের পড়ুয়ারা ওই পদযাত্রায় যোগ দেবে।

    তালিকায় রয়েছে ৭৬ টি কলেজ

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আপাতত ৭৬ টি কলেজকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবেন। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ হাজার পড়ুয়াকে জড়ো করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কলকাতার বাইরের কলেজের ক্ষেত্রে বাসের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। ওই দিন সকাল ১০ টার মধ্যে আকাশবাণীর কাছে জমায়েত হবে। বেলা ১ টার পরে মিছিল শুরু হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত। যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে সব আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের আকাশবাণী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কলেজ থেকে একজন নোডাল অফিসার থাকবেন। তাঁর দায়িত্বে থাকবেন সব ছাত্রছাত্রীরা। তিনি যোগাযোগ রাখবেন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

    অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে শহরের প্রায় ২০টি স্কুল

    স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শহরের প্রায় ২০টি স্কুল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ২ অগাস্ট থেকে ১২ অগাস্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শেষ করার কথা। সে ক্ষেত্রে যোগদানকারী কোনও স্কুলে যদি ১০ অগাস্ট পরীক্ষার সূচি থাকে, তা পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ‘‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তিরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট তিরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।”

  • India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ৫ অগাস্টের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (India)। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে করা কোনও মন্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। এতে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই মঞ্চে যা বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা মন্তব্যগুলিকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।” ৫ আগস্ট হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার নয়, একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছিল।

    কী বললেন হাসিনা (India)

    বুধবারের ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জানান, জেলবন্দি হওয়া কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা। শুধু অডিওর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর বক্তব্য শুনতে পান। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে পাঠাতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। কিন্তু আমি আমার মানুষের সঙ্গে থাকতে দেশে ফিরব।”

    পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ

    তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ পুনরুদ্ধার করাই তাঁর লক্ষ্য (India)। হাসিনার কথায়, “আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।” বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও গোপন আলোচনা বা পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    ভারত মহান বন্ধু

    ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ওই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল।বাংলাদেশে জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষত নিরাময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, যারা অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড

    ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে তাঁর সরকারের দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য (Sheikh Hasina) রাখেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারতের (India) পূর্ব সীমান্তে দেশটি আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের অভিযোগ, ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। ঢাকার দাবি, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও, নয়াদিল্লির (India) কাছ থেকে এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করেছে বাংলাদেশ।

LinkedIn
Share