Tag: bangla news

bangla news

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বারবার ব্যথার ওষুধ নৈব নৈব চ! সর্দি-কাশি, পেটের কমপ্লেন পটাপট অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকুন। নইলে ক্ষতি হতে পারে কিডনির। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। সিডিএসসিও-এর জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ (NSAIDs) এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, বারবার বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার এড়ানোর পরামর্শ (Drug Regulator Warning) দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

    সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তাই সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেওয়া বা আগের প্রেসক্রিপশনের অব্যবহৃত ওষুধ পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।

    কিডনির রোগীদের বিশেষ সতর্কতা

    যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শরীরে জলশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতি থাকলে ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা

    অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট অসুখের ক্ষেত্রেই কাজ করে ভাইরাস বাহিত অসুখে নয়! অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ খেয়ে নেন অনেকে। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু তাই না বরং অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবনের ফলে শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত খেলে শরীরে একটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রয়োজনেও কাজ করা বন্ধ করে দেয় । অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে দেখা যায় ওষুধগুলি পাচক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলছে। বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিকমতো না নেওয়ার ফলে বা ভুল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ইনফেকশনের পরে পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা । বারবার মলত্যাগের বেগ পাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

    ব্যথার ওষুধে সমস্যা

    অসহ্য ব্যথায় ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু মাথাব্যথা একটু হল কি হল না, তাতে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকের। এ কাজ ঠিক নয়। তাতে উল্টে বিপদ ঘটতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল। খোলা বাজারে যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রধান হল এনসেড বা নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ৷ যেমন ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি৷ ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহও কমায় বলে এই সব ওষুধে চটজল্দি কাজ হয়৷ অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা কমালেও, প্রদাহ কমাতে পারে না। তা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও কার্যকারিতা এনসেড-এর চেয়ে কম৷ এ বার আসা যাক ক্ষতির কথায়৷ এনসেড গোত্রের ওষুধ পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে৷ বদহজম, পেটব্যথার মতো সমস্যা হয়৷ কারও কারও গ্যাসট্রাইটিস হয়৷ আলসার এবং পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ নিয়মিত ডাইক্লোফেনাক খেলে কারও কারও হার্ট ও রক্তনালির অসুখ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে৷ বয়স যাঁদের ৬৫-র বেশি, ব্যথার ওষুধ থেকে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের জন্যও নির্দেশিকা

    চিকিৎসকদের শুধুমাত্র চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন থাকলেই ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলতি ওষুধ এবং কিডনি-সহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য জীবাণু, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার, ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাওয়া এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে সতর্কতা

    ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদেরও প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে সিডিউল এইচ এবং এইচ ১-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের মাধ্যমে স্ব-চিকিৎসাকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং রোগীদের সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ওষুধগুলির নির্বিচার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট-সহ বিভিন্ন প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ পণ্যের প্যাকেজিংয়ে এবার থেকে পণ্যের উৎস নিরামিষ (ভেজ) নাকি আমিষ (নন-ভেজ), তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হল। নতুন নিয়মের ফলে পণ্য কেনার সময় গ্রাহকরা প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে সহজেই তা বুঝতে পারবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিরামিষ (Veg, Non-Veg Markings) উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে সবুজ রঙের ডট এবং অ-নিরামিষ উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি রঙের ডট ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের প্রধান প্রদর্শন অংশের (Principal Display Panel) উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে বলে নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোন নিয়ম পরিবর্তন?

    কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ (Legal Metrology Packaged Commodities Rules, 2011) সংশোধন করে এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ফলে এবার দোকানে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ কেনার সময় প্যাকেটের চিহ্ন দেখেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ না আমিষ উৎস থেকে তৈরি। আমিষ ও নিরামিষ বিতর্ক (Veg, Non-Veg Markings) এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই নির্দেশিকায় বিশেষভাবে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, প্রসাধনী সামগ্রী এবং টয়লেট সামগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    কীভাবে জানবেন আমিষ নাকি নিরামিষ?

    ঠিক যেভাবে কোনও খাবারের প্যাকেটে নিরামিষ ও আমিষ বোঝার ক্ষেত্রে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, এবার প্রসাধনী জাতীয় পণ্যেও তা দেখতে পাওয়া যাবে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নিরামিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের প্যাকেটে থাকবে গ্রিন বা সবুজ মার্ক (Non-Veg Labels)। অন্যদিকে, আমিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের ‘প্রিন্সিপাল ডিসপ্লে প্যানেল’-এর উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে, যাতে ক্রেতারা সহজেই তা দেখতে পান।

  • Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তব, হচ্ছে না ঘূর্ণিঝড়। কলকাতার আবহাওয়া ফের খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। জোরালো নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে পুরসভার নিকাশি দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জল জমা ও নিকাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পাম্পিং স্টেশনেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

    কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আর এই নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে বাংলায়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    বাংলায় নিম্নচাপের প্রভাব

    সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কোন জেলায় কত বৃষ্টি

    বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভিজবে কলকাতাও।

    বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়বে

    আগামী বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষত ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হাওড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও নিম্নচাপের দাপট

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।

    উত্তাল সমুদ্র, নিষেধাজ্ঞা

    সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে।

    সতর্ক কলকাতা পুরসভা

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতেও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পাম্প চালানো এবং জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তাগুলিতে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ বহু পুরনো এবং ভারী বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

     

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা ভারতের! মাঠেই নেই নকভি, শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে দুরমুশ করে জয় মহিলা ক্রিকেট দলের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা ভারতের! মাঠেই নেই নকভি, শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে দুরমুশ করে জয় মহিলা ক্রিকেট দলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেটের হাত ধরে এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) প্রথম সোনা এল ভারতে। মহিলাদের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে সোনা জিতল হরমনপ্রীত কৌররা। এই নিয়ে পরপর দুটো এশিয়ান গেমসে সোনা পেল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। এই পদকের ফলে ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়াল ৭। প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মা ও রিচা ঘোষের দাপটে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান করে ভারত। সেই রান তাড়া করা যে কঠিন হবে তা বোঝা গিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা এ ভাবে আত্মসমর্পণ করবে তা ভাবা যায়নি। ভারতের চার স্পিনারের সামনে খেই হারাল শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং আক্রমণ। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অল আউট হয়ে গেল গোটা দল। স্মৃতি মান্ধানা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ১১ হাজার রান করেন।

    অসম্মানের ভয়! মাঠেই এলেন না নকভি

    এদিন পুরো ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করে টিম ইন্ডিয়া। কোনও লড়াই দিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ক্রিকেট। যেখানে সোনা জিতল ভারত। রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতল যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এশিয়ান গেমসেও এশিয়া কাপের ছবি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ভারতের মহিলা দল এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভি পুরস্কার দিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। নকভি পুরস্কার দিতে এলে ভারত তা নেবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্ত আদতে সে সব কিছু হল না। নকভি এলেনই না। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের হারানোর পর দেখা যায় মাঠেই উল্লাস করছেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তোলেন হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, রিচা ঘোষেরা। নিজেদের অনুভূতির কথাও বলেন তাঁরা। কিছু ক্ষণ পরেই শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। পুরস্কার দেওয়ার জন্য নিশিন শহরের মেয়র, পুলিশ সুপার-সহ কয়েক জন আধিকারিক হাজির ছিলেন। তাঁরাই পদক পরিয়ে দেন। নকভি মাঠেই ছিলেন না।

    স্মৃতির সোনালি রেকর্ড

    ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন ভারতের মহিলা ক্রিকেট তারকা স্মৃতি মান্ধানা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ফাইনালে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করলেন মান্ধানা। বিশ্বের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে স্মৃতির রান এখন ১১,০৬৬। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলতে নামার আগে ১১ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র কয়েক রান দূরে ছিলেন মান্ধানা। ফাইনালে স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তাঁকে। মাত্র ৪৫ বলে ৭৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন ভারতীয় ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং সাতটি ছক্কা। মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই বড় রানের ভিত গড়ে নেয় ভারত। চলতি মাসেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজের নামে করেছিলেন মান্ধানা। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে মহিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ডের মুকুটে যোগ হল আরও একটি পালক। ১১ হাজার আন্তর্জাতিক রান। তিন ফরম্যাটেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা মান্ধানা। মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি শীর্ষে রয়েছেন।

  • Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতালির স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব (Burqa Niqab Ban) পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় (Giorgia Meloni) নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যারও একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর রোমে নিজের দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’-র যুব সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে।

    স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরখা ও নিকাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। বোরখা এমন একটি পোশাক, যাতে শরীর ও মুখ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকে, তবে চোখ দেখা যায়।

    মেলোনি বলেন, ইতালিতে কোনও ব্যক্তি “বাস্তব বা কথিত কোনও ঐতিহ্যের নামে” কোনও তরুণীকে নিজের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে, দেশের সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    তবে প্রস্তাবটি এখনও আইন নয়। সরকারের অনুমোদন মেলার পর ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে, তবেই তা আইনে পরিণত হবে।

    শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা

    মেলোনির প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা। তবে সেই সীমা কত হবে, তা এখনও জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া, যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালীয় স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেছেন মেলোনি।

    মেলোনির বক্তব্য, কোনও শ্রেণিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী যদি ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তাহলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে ভাষা শেখা এবং স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলে, তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ইতালীয় শিশুদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই যেন সংখ্যালঘু মনে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

    অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

    ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ইতালি ইউরোপে অভিবাসী আগমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতি ও সমাজে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে ইতালিতে বিতর্ক রয়েছে। ধর্মীয় প্রতীক, সাংস্কৃতিক একীকরণ, নাগরিকত্বের নিয়ম এবং অভিবাসন নীতি—এই বিষয়গুলি বিভিন্ন সময়ে মতভেদের কারণ হয়েছে (Giorgia Meloni)।

    ইতালির অভিবাসন ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ফোন্দাজিওনে ইসমুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালির স্কুলগুলিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৯ লক্ষ ৩০ হাজার। মোট স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের অংশ ১১.৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনের ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই।

    এখনও চূড়ান্ত নয় প্রস্তাব

    মেলোনির সরকার এখনও শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা বা অনুপাত নির্দিষ্ট করেনি। মুখ ঢাকা পোশাক (Burqa Niqab Ban) নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব—দু’টিই প্রথমে সরকারের অনুমোদন এবং পরে সংসদের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে প্রস্তাবগুলি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা আইন প্রণয়নের পরেই স্পষ্ট হবে (Giorgia Meloni)।

     

  • Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপাল, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও অসমকে ঘিরে জাল ভারতীয় নোটের একটি সন্দেহভাজন চক্র (Pakistan) সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যমের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। তদন্তে উঠে এসেছে, নেপালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার পর সন্দেহভাজন চক্রটির একটি অংশ গুয়াহাটিতে চলে আসে। তদন্তকারী দলের দাবি, গুয়াহাটি থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল নোট সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয় (UP Polls)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের পারসা জেলার ইনরওয়া থেকে তদন্তের সূত্রপাত হয়। সেখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে জাল নোটের লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মায়া পৌডেল নামে এক মহিলার কথা উঠে আসে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, নেপালে নজরদারি ও ধরপাকড় বাড়ার পর জাল নোটের সন্দেহভাজন কারবারের একটি অংশ গুয়াহাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর তদন্তকারীরা রাতুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। রাতুল নিজেকে গুয়াহাটি থেকে জাল নোটের একটি চক্র পরিচালনাকারী হিসেবে দাবি করেন। তদন্তকারী প্রতিবেদক সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকার জাল নোট সরবরাহ নিয়ে কথাবার্তা হয়।

    ১ কোটি টাকায় ৩ কোটি টাকার জাল নোট! (Pakistan)

    তদন্তে প্রকাশিত কথোপকথন অনুযায়ী, রাতুল দাবি করেন, ১ কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি টাকার জাল নোট দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতুলের দাবি ছিল, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জাল নোট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। বিভিন্ন জেলায় সমন্বয়কারী রাখা হবে এবং তাঁদের কাছে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রেতার লোকজন তা আরও বিতরণ করবে।

    রাতুল আরও দাবি করেন, আগের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর চক্র জাল নোট সরবরাহ করেছিল এবং প্রায় ৬৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছিল। তবে তদন্তে প্রকাশিত উপাদান দিয়ে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগসূত্রের দাবি

    তদন্তকারী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে রাতুল দাবি করেন, জাল নোটের উৎস চিন ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ হয়ে তা ভারতে ঢোকে। তাঁর দাবি, গুয়াহাটিতে একটি ‘জাল নোটের ভাণ্ডার’ রয়েছে, যেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নোট পাঠানো হয়।

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান ও হরিয়ানায়ও এই সন্দেহভাজন চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

    তবে চিন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে জাল নোট আসার দাবি শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এই বক্তব্য থেকেই জাল নোটের প্রকৃত উৎস বা পরিবহণের পথ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয় না (Pakistan)।

    গুয়াহাটিতে তদন্তকারী প্রতিবেদক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তদন্তকারী প্রতিবেদক গুয়াহাটিতে যান। রাতুল তাঁকে রাজীব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। রাজীব লখরা উড়ালপুলের কাছে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি কথিত মজুতকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যান।

    রাজীবের দাবি ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বড় চালান থেকে প্রতিবেদকের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট একটি চালান তৈরি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিবেদককে একটি পাহাড়ি এলাকার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি পুরনো দোতলা ভবনের বাইরে থামানো হয়।

    রাজীব দাবি করেন, ভবনের ভিতরে বাইরের লোকজন রয়েছে, তাই প্রতিবেদককে ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে তিনি জাল নোট প্যাকেটজাত করার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও দেখান (UP Polls)।

    ভিডিওতে নোটের বান্ডিল দেখানোর দাবি

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কয়েকজনকে প্লাস্টিকের মোড়কে নোটের বান্ডিল ভরতে দেখা যায়। সেখানে ৫০০ টাকার নোটের মতো দেখতে বান্ডিলও ছিল।

    তদন্তকারী দলের দাবি, একটি বাক্সে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। তবে ভিডিওতে দেখা সামগ্রীর সত্যতা এবং প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    রাজীবের দাবি ছিল, ওই নোট বিহারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং নির্বাচন না থাকলেও সেখানে জাল নোটের চাহিদা রয়েছে (Pakistan)।

    দুই ধরনের জাল নোট দেখানোর দাবি

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদককে দু’ধরনের সন্দেহভাজন জাল নোট দেখানো হয়। একটি ছিল কালো আবরণে ঢাকা এবং অন্যটি আসল নোটের মতো দেখতে।

    রাজীবের দাবি, কালো আবরণে ঢাকা নোট চিন ও পাকিস্তান থেকে আসে এবং নোট পরীক্ষার যন্ত্রের পরীক্ষায়ও বিষয়টি ধরা পড়েনি। তাঁর আরও দাবি, নতুন ধরনের নোটে উন্নত মানের কাগজ ও ছাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলি আগের চালানের তুলনায় দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।

    ৮০ কোটি টাকার তথাকথিত নির্বাচনী চুক্তি

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে প্রতিবেদক রাতুলের সঙ্গে ৮০ কোটি টাকার একটি তথাকথিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। রাতুল দাবি করেন, আগে তাঁদের কার্যকলাপ নেপালকেন্দ্রিক ছিল। সেখানে কড়াকড়ি বাড়ার পর জাল নোটের ভাণ্ডার গুয়াহাটিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    গুয়াহাটির অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা দেয় বলেও রাতুল দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, এই অবস্থান থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালান পাঠানো সহজ।

    তদন্তে আরও বলা হয়েছে, গুয়াহাটি থেকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জাল নোট কীভাবে পৌঁছতে পারে (UP Polls), কারা সেগুলি গ্রহণ করে এবং কোন পথ ব্যবহার করা (Pakistan) হয়—এখন সেগুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

     

  • UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের (India) দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল নতুন কূটনৈতিক সমর্থন। মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র—ভারতের দাবির প্রতি সমর্থন (UNSC Seat) জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে প্রথম ভারত ও ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সমর্থন সামনে আসে।

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠী (ভি-৪)-র সদস্য চার দেশই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানার বলেন, “আমরা ভি-৪-এর চার দেশই একমত যে, গ্লোবাল সাউথের অংশ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের উচিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সেই টেবিলে থাকা।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বৈঠককে “একটি নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ” বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার নয়, ভারত ও ভি-৪ দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চায় ভারত (India)

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হওয়ার সময় বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বর্তমানে পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। বাকি ১০টি সদস্য দেশ সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হয় এবং তাদের মেয়াদ দু’বছর।

    ভারতের যুক্তি, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিফলিত হয় না। ভারত বহুবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হয়েছে; সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দুই বছরের মেয়াদে পরিষদে ছিল।

    জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অবদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা—স্থায়ী সদস্যপদের দাবির অন্যতম ভিত্তি।

    একা নয় ভারত, পাশে একাধিক দেশ

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবির সমর্থন করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। ব্রিটেনও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে। আমেরিকা নীতিগতভাবে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে। রাশিয়াও ভারতের দাবিকে সমর্থন করেছে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ গোষ্ঠীর সদস্য। এই চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে পরস্পরের প্রার্থিতাকে সমর্থন করে এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় রাখে (UNSC Seat)।

    জি-৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বর্তমান ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ অথবা ২৬ করা যেতে পারে। এর মধ্যে ছ’টি নতুন স্থায়ী সদস্যপদ এবং চার অথবা পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্যপদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। জি-৪-এর নথিতে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ক্ষেত্রে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে (India)।

    স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ঘিরেই বড় জটিলতা

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে সংস্কারের কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য। কতগুলি দেশকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কোন কোন অঞ্চল নতুন সদস্যপদ পাবে এবং নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নগুলিতে এখনও ঐকমত্য নেই।

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তত ন’টি সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কেউ ভেটো প্রয়োগ না করলে তবেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

    ভারতের দাবির ক্ষেত্রে চিনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বেজিং ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে বৃহত্তর ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন বলে আসছে।

    ফলে কোনও দেশ ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করলেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রতিটি বিষয়, বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে তার সঙ্গে ভারতের মত এক হবে—এমন নয়।

    ভেটো ক্ষমতা নিয়েও ভারতের অবস্থান

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আলোচনায় ভেটো ক্ষমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে (India)। নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যদের এই ক্ষমতা নেই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নতুন স্থায়ী সদস্য তৈরি হলে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরনো স্থায়ী সদস্যদের থেকে আলাদা শ্রেণি তৈরি করা উচিত নয়। জি-৪-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও নতুন স্থায়ী সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের সমতুল্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে (UNSC Seat)।

    ভারত-ভি-৪ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

    নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভারত ও ভি-৪ দেশগুলি নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক যেমন গভীর হচ্ছে, তেমনই ভি-৪ দেশগুলির সঙ্গেও আমরা কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেব। একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে এবং বিদেশমন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসবেন। এই বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।”

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেন মন্ত্রীরা (UNSC Seat)।

    কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সমর্থন?

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর চার দেশের সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনের পাশাপাশি সব স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদন প্রয়োজন।

    তবে ভারতের জন্য এই সমর্থনের গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের মধ্যাঞ্চলের চারটি দেশ একই সঙ্গে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে (UNSC Seat) ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আরও একটি সম্মিলিত সমর্থন যুক্ত হল (India)।

     

  • Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের (Rajya Sabha Election) দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোটগ্রহণ হবে। অর্থাৎ কয়েক মাস আগে খালি হওয়া আসনে নতুন সাংসদ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নজর থাকবে কোন দল কাকে প্রার্থী করে, সেদিকে। বাংলার এই আসনের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ১০টি এবং উত্তরাখণ্ডের একটি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। সেখানকার বর্তমান সাংসদদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে।

    কোন কোন আসনে ভোটগ্রহণ

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই। প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা কমিশনের। উত্তরপ্রদেশের ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ নভেম্বর। এই ১০টি আসনের মধ্যে বর্তমানে বিজেপির দখলে রয়েছে আটটি। সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির হাতে রয়েছে একটি করে আসন। মেয়াদ শেষ হতে চলা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির ব্রিজ লাল, সীমা দ্বিবেদী, নীরজ শেখর, গীতা শাক্য, হরদীপ সিং পুরী, অরুণ সিং, বিএল বর্মা এবং দীনেশ শর্মা। সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টির রামজি গৌতমের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড থেকে একটি রাজ্যসভা আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ওই আসনের বর্তমান সাংসদ বিজেপির নরেশ বনসল। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন হবে।

    কোয়েলের আসনে কে

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল। সেই তালিকায় বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে নাম ছিল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। এর আগে প্রকাশ্যে রাজনীতির আশপাশে দেখা যায়নি কোয়েলকে। শপথের পর কোয়েল জানিয়েছিলেন, দেশের ও মানুষের সেবা করার সুযোগ হিসেবে তিনি দায়িত্বটিকে দেখছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ হয়নি তাঁর। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হয়। তারপরই কোয়েলের ইস্তফা সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যা সত্যি হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে। ছাব্বিশের ভোটে বিধানসভার বিন্যাস বদলেছে। সেই অঙ্কের হিসেব অনুযায়ী, কোয়েলের ছাড়া আসন এবার বিজেপিরই হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এবার বিজেপির হয়ে ফের রাজ্যসভায় যেতে পারেন কোয়েল মল্লিকই।

     

  • Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে শিশুদের যৌন নিগ্রহের ‘কনটেন্ট’-এর বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু করেছে কেন্দ্র। এবার শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি অনলাইন সামগ্রী (CSAM) শনাক্ত হলে তা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে গুগলও (Google)। এতদিন এই ধরনের রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিশিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেশন অফ চিল্ড্রেন (NCMEC)-এর সাইবার টিপলাইন (CyberTipline)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছত। তবে কেন্দ্রে মোদি সরকারের সক্রিয়তায় এখন থেকে ভারত-সম্পর্কিত ঘটনাগুলির তথ্য সরাসরি ভারতীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে গুগল। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে তারা (Google)। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে তথ্য পৌঁছনোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনও শিশুর তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তথ্য পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট 

    মার্কিন সংস্থার (NCMEC) সাইবার টিপলাইন ১৯৯৮ সাল থেকে অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে আসছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি তাদের প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক শিশু-শোষণ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড শনাক্ত করলে সেই তথ্য সাইবার টিপলাইন-এ রিপোর্ট করতে পারে। এরপর মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি (NCMEC) প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। ২০২৫ সালে সাইবার টিপলাইন-এ মোট ২ কোটি ১৩ লক্ষ রিপোর্ট জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত। প্রায় ১৪ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ বা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার ঘটনা (online enticement) নিয়ে ছিল। ৭৭ শতাংশেরও বেশি এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল যার উৎস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করে।

    কেন ভারত সরাসরি রিপোর্ট চাইছে

    ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত রিপোর্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সরকারের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় হল—বিদেশি কোনও সংস্থার মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি ধাপ থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় তদন্তকারীদের কাছে তথ্য পৌঁছতে সময় লাগতে পারে। গুগল (Google)-এর নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হল ভারত-সম্পর্কিত শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত তথ্যকে আরও সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার (Indian Cyber Crime Coordination Centre)-এর সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো হিসেবে কাজ করে। গুগল জানিয়েছে, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সামগ্রী শনাক্ত করা, প্রতিরোধ করা, সরিয়ে দেওয়া এবং রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখছে।

    মেটা-র পর গুগল-এর পদক্ষেপ

    গুগল-এর এই সিদ্ধান্তের আগে মেটা-ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। ফলে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে ভারতের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকারের আলোচনায় সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব-এর মতো বৃহৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানোর একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।

    পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে মেটা

    ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে মেটা কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ওই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ পুলিশকে জানানোর বিষয়ে রাজি হল মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, যে সব সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে যে কোনও আপস করা হবে না, তা-ও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রকের ওই সূত্র। এ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইফোরসি) পরিচালিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত পোর্টালে অভিযোগ জানাবেন। বস্তুত, এই পোর্টালটি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাও ব্যবহার করে। মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    অনলাইন শিশু-নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসর

    মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি-এর ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে অনলাইনে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ওই বছরে সাইবারটিপলাইন-এ পাওয়া রিপোর্টে মোট ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লক্ষ ছবি এবং ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ভিডিও ছিল। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সামগ্রী তৈরি বা বিকৃত করার ঘটনাও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি রিপোর্টে জেনারেটিভ এআই-এর সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতনের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল।

    ভারতীয় আইনে কঠোর শাস্তির বিধান

    ভারতে শিশুদের যৌনভাবে স্পষ্ট বা আপত্তিকর সামগ্রী তৈরি, প্রকাশ, প্রেরণ, প্রচার বা এ ধরনের কাজে শিশুদের ব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭বি ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের অধীনে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গুগুল-এর সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী রিপোর্টিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, প্রমাণের নির্ভুলতা, ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি এবং তদন্তের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। গুগল-এর এই উদ্যোগ ভারতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে কোনও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর তথ্য থেকে তদন্ত—এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত ও সরাসরি করা।

     

LinkedIn
Share