Tag: bangla

bangla

  • Noida Violence: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপানো সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভের মূল চক্রী গ্রেফতার

    Noida Violence: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপানো সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভের মূল চক্রী গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপিয়ে দেওয়া সহিংস শ্রমিক (Noida Violence) বিক্ষোভের মূল ষড়যন্ত্রী আদিত্য আনন্দ গ্রেফতার। গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করে তাকে। শনিবার তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি রেলওয়ে স্টেশনে তাকে আটক করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার (Mastermind Arrested)। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ১৩-১৪ এপ্রিল বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর থেকেই আনন্দ পলাতক ছিল।

    মাথার দাম ছিল লাখ টাকা (Noida Violence)

    তার বিরুদ্ধে ফেজ-২ থানায় একটি জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়। তার খোঁজ দিতে পারলে ১ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়। জানা গিয়েছে, পালানোর আগে সে চুল-দাড়ি কেটে নিজের লুক বদলে নেয়। এনআইটি জামশেদপুর থেকে বি-টেক পাশ আদিত্য আনন্দকে তদন্তকারীরা মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। শ্রমিক সংগঠন ‘বিগুল মজদুর দস্তা’র সঙ্গে যুক্ত আনন্দ উসকানিমূলক কার্যকলাপ সংগঠিত করা, কিউআর কোড ব্যবহার করে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে হাজার হাজার শ্রমিককে সংগঠিত করা এবং নয়ডার ফেজ-২ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ধর্না ও বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা দিয়ে হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত (Noida Violence)। পুলিশের দাবি, এই অস্থিরতা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যেখানে আনন্দ ও তার সহযোগীরা ৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে জেলায় ঢোকে।

    তিনদিনের মধ্যে ৮০টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি!

    কমিশনার লক্ষ্মী সিংয়ের মতে, ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল নয়ডার অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য সমন্বয় সাধন করা হয়েছিল। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোড পাঠিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শৈব্যা গয়াল জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের আগের তিনদিনের মধ্যে ৮০টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। গয়ালের মতে, এই গ্রুপগুলিতে শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি—যেমন মজুরি বৃদ্ধি ও কাজের পরিবেশ উন্নতি—নিয়ে আলোচনা হয়নি। বরং শ্রমিকদের উসকে দেওয়া, ভিড় সংগঠিত করা এবং কারখানায় ভাঙচুর করার বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল (Mastermind Arrested)। এই বিক্ষোভে ফেজ-২, সেক্টর ৬০, ৬২ এবং ৮৪-সহ ৮০টিরও বেশি শিল্পাঞ্চল থেকে প্রায় ৪০,০০০–৪৫,০০০ শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের কম মজুরি ও শোষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। শ্রমিকরা প্রতিবেশী হরিয়ানার সঙ্গে মজুরির সমতা দাবি করেন, যেখানে এপ্রিলের শুরুতে ৩৫ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল (Noida Violence)।

    উচ্চস্তরের কমিটি

    এর প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ শ্রমদফতর একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করে, যা গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদের ৭৪টি নির্ধারিত কর্মসংস্থানে ২১ শতাংশ মজুরি সংশোধনের সুপারিশ করে এবং তা কার্যকর করা হয়। এই বৃদ্ধি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পূর্বপ্রযোজ্য হিসেবে কার্যকর এবং ৭ থেকে ১০ মে-এর মধ্যে তা দেওয়া হবে (Noida Violence)। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১৩,৯৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,৬৬৮ টাকা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে দ্বিগুণ হারে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম, অননুমোদিত কাটছাঁট নিষিদ্ধ করা (Mastermind Arrested), সাপ্তাহিক ছুটি ও বোনাস কঠোরভাবে নিশ্চিত করা এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া (Noida Violence)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে বারবার হিংসার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে বারবার হিংসার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তার উপেক্ষা করেছে। অথচ এটি উদ্বেগজনক হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতিত্ব দ্বারা (Roundup Week) পরিচালিত। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack), মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছে, শিকার হচ্ছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষের। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ছবিটা।

    কর্নাটকে লাভ জেহাদ (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। কর্নাটকের কোপ্পাল থেকে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা হুব্বলির অনুরূপ ঘটনার পর তথাকথিত “লাভ জেহাদ” সংক্রান্ত আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন হিন্দু নারী পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। ভিএইচপি নেতা সঙ্গমেশ হিরেমঠ প্রথমে কোপ্পালের মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, মুস্তাফা নামের এক মুসলমান যুবক হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করছিল, অশ্লীল আচরণে জড়িত ছিল এবং তার মোবাইলে আপত্তিকর কনটেন্ট সংরক্ষণ করত। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা দুটি মোবাইলে প্রায় ৭,০০০টি ছবি এবং ৯,৭০০টি ভিডিও রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক তরুণীকে নিয়ে অশ্লীল উপাদানও আছে।

    হিন্দু তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট

    নাসিকের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য কর্পোরেট পরিবেশে যৌন শোষণ, জবরদস্তি এবং বিশ্বাসভঙ্গের একটি গভীর উদ্বেগজনক ধারা প্রকাশ করেছে। যেখানে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে এবং কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছে। নাসিকের টিসিএসের ধর্মান্তর-যৌন শোষণ চক্রে প্রথম শিকার ছিলেন এক দলিত নারী। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ‘জাতি রক্ষার’ দাবি করা অনেকেই অভিযুক্ত মুসলিম হলে তাদের তথাকথিত দলিতপ্রীতি থেকে সরে দাঁড়ায়।  হিন্দু তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলা ও যৌন শোষণ করা হচ্ছে এই (Hindus Under Attack) অভিযোগে পুলিশ মহারাষ্ট্রের আমরাবতী জেলায় মোহাম্মদ আয়াজ তানভীরকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সে একটি যৌন শোষণ ও ব্ল্যাকমেল চক্র পরিচালনা করছিল। তাকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে (Roundup Week)।

    লাভ জেহাদ ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

    কর্নাটকের বাগালকোট জেলায় ১৯ বছর বয়সী ভূমিকা তিপ্পান্নভার আত্মহত্যা করেন। এক ইসলামপন্থী যুবক ডংরিসাব নাদাফের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর এই কাণ্ড ঘটান ওই তরুণী। এই ঘটনা তথাকথিত “লাভ জেহাদ” ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তার পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল। জুহাইব নামে এক ব্যক্তি এক হিন্দু মডেলকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে। কারণ তিনি তার বিয়ে ও ধর্মান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর ফ্রেজার টাউন এলাকার। এটি রাজ্যে জবরদস্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির অভিযোগের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রথমে কাজের সূত্রে জুহাইবের সঙ্গে পরিচিত হন, যা পরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের রূপ নেয়। তবে ২০২৪ সাল থেকে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের ছবি

    এদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তিনটি রাজ্য থেকে চারজন উগ্রপন্থায় প্রভাবিত যুবককে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মহারাষ্ট্র থেকে দুজন, ওড়িশা ও বিহার থেকে একজন করে। অভিযোগ, তারা ইসলামপন্থী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গি কার্যকলাপের ষড়যন্ত্র করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তারা খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বানে প্রভাবিত হয়েছিল এবং “লস্কর-ই-খোরাসান” ধারণায় বিশ্বাস করত। তারা “গাজওয়া-ই-হিন্দ”-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল বলেও খবর (Hindus Under Attack)। বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা আলাদা নয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মনিন্দার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুর

    রংপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কামাল কাচনা দাসপাড়া এলাকায় ৩০–৫০ জন দুষ্কৃতীর একটি দল স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলির বাড়িঘরে হামলা চালায়। অন্তত ৬টি বাড়ি ও ১টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। বস্তুত, অধিকাংশ ঘৃণামূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে বলে দাবি করা হয়। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও একটি সূক্ষ্ম হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায়, যা “হিন্দুফোবিয়া” ও ঘৃণাজনিত অপরাধকে উৎসাহ দেয়। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না আইন ও সামাজিক ধারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তির অসামঞ্জস্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়েও পালিত হল পয়লা বৈশাখ, মেনুতে কি ছিল জানেন?

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়েও পালিত হল পয়লা বৈশাখ, মেনুতে কি ছিল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যথাযোগ্য মর্যাদায় পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh) পালিত হল ছত্তিশগড়েও (Chhattisgarh)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের সরকারি বাসভবনে পালিত হয় পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। ছত্তিশগড়ে বসবাসকারী বাঙালিদের উদ্যোগেই পালিত হয় দিনটি। এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রচুর বাঙালি। ১৭ অগাস্ট, রায়পুরে অবস্থিত ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সর্বত্রই ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা এবং ছত্তিশগড় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক কিরণ দেবও।

    পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কৃতি বাঙালিরা (Chhattisgarh)

    বাঙালি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিরাও যোগ দিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি, প্রবীণ আইনজীবী কিশোর ভাদুড়ি, বেঙ্গলি ব্যাঙ্কার্স ক্লাবের  সংস্থাপক প্রবীর সেন শর্মা এবং সেভ বেঙ্গল মিশনের সংস্থাপক গোপাল সামন্তও। কেবল পুরুষরাই নন, অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গ-নারীরাও। এঁদের মধ্যে ছিলেন (Chhattisgarh) শিল্পী সোনার, সোনালি চক্রবর্তী, শিপ্রা ব্যানার্জি, অনিন্দিতা সামন্ত, শিখা মিত্র, অনু চ্যাটার্জি এবং অন্যান্য অনেক বাঙালি প্রতিভা।

    নৈশভোজের মেনু

    উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল নৈশভোজেরও। মেনুও ছিল পুরোপুরি বাঙালি ঘরানার। ভাতের সঙ্গে ছিল বেগুন ভাজা, পাঁচ মেশালি তরকারি এবং অবশ্যই মাছের ঝোল। ছত্তিশগড়ের এই অনুষ্ঠানটি সে রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালি সম্প্রদায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি জমানায় একদিকে যেমন ফিরেছে রাজ্যের অর্থনীতির হাল, তেমনি পালিত হয়েছে ভিন (Poila Baisakh) রাজ্যের উৎসবও। বস্তুত, ছত্তিশগড়ের এই অনুষ্ঠান ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Chhattisgarh)।

     

  • PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি (Womens Bill) ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” ১৮ এপ্রিল, শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় এদিন বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বিরোধীরা সংবিধান এবং মহিলাদের আকাঙ্ক্ষা—উভয়ের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।

    বিরোধীদের তোপ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এই আইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিলটি একবিংশ শতাব্দীর মহিলাদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।” প্রধানমন্ত্রী একে ‘সময়ের দাবি’ বলেও বর্ণনা করেন। তিনি এও বলেন, “ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় নারীদের সমান অংশীদার করার জন্য এটি (বিলটি) একটি পরিষ্কার ও সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল।” লোকসভায় বিলটি পাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ দেখছে কীভাবে নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” সংসদে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া জানানোরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তাঁরা যা করেছেন, তা শুধু ডেস্কে আঘাত করা নয়, বরং মহিলাদের আত্মসম্মানের ওপর আক্রমণ।”

    বিরোধীদের আসল চেহারা প্রকাশ

    কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সংবিধান ও নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, তারা (বিরোধীরা) ঐতিহাসিকভাবে নারীদের সংরক্ষণ আনার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “কংগ্রেস মহিলাদের সংরক্ষণের ধারণাকে ঘৃণা করে এবং সবসময় বাধা সৃষ্টি করেছে (Womens Bill)। বিরোধীরা দেশের সামনে তাদের আসল চেহারাও প্রকাশ করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি আশা করেছিলাম কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের ভুল সংশোধন করবে, মহিলাদের সমর্থনে দাঁড়াবে, কিন্তু তারা ইতিহাস গড়ার সুযোগ হারিয়েছে।” বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তাদের কাজ আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার জাতীয় স্বার্থের ওপরে (PM Modi)।

     

  • I-PAC: তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়ল আইপ্যাক, ভোটের মুখে দিশেহারা মমতার সাধের দল!

    I-PAC: তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়ল আইপ্যাক, ভোটের মুখে দিশেহারা মমতার সাধের দল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে কার্যত গাড্ডায় পড়ে গেল তৃণমূল! ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) বিজেপির হাতে বধ হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের দল তৃণমূল। সেই কলঙ্কের কালি যাতে গায়ে না লাগে, তাই তৃণমূল-বধ নিশ্চিত জেনেই পগার পার হল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে আইপ্যাক।

    আইপ্যাকের বক্তব্য (I-PAC)

    নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মচারীদের ইমেলে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইমেলে ওই সংস্থার কর্মীদের বলা হয়েছে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ আইপ্যাক কর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। আইপ্যাকের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে বিপাকে ফেলল বলেই ধারণা ভোট-বিশেষজ্ঞদের (I-PAC)।

    আইপ্যাক কর্তা গ্রেফতার

    এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায় – ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। আইপ্যাক ২০ দিনের বিরতির কথা বলেছে। ভোটকুশলী এই সংস্থার এই বিরতি-পর্বেই রাজ্যে চুকে যাবে নির্বাচন-পর্ব। গড়া হয়ে যাবে নয়া সরকারও (Assembly Election 2026)। প্রসঙ্গত, কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্রে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে আইপ্যাকের অন্যতম পরিচালক তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তিনি এখন রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতেই। এর আগে আইপ্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীনই বেশ কিছু নথি তিনি ফাইলে করে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

    চোরের মায়ের বড় গলা!

    তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার অভিযোগ, প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত (I-PAC)। মামলাটি আপাতত দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। এহেন আবহেই পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আইপ্যাক। এদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার এক আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থার ডিরেক্টরকে সোমবার রাতের দিকে আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের (পিএমএলএ) আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে (Assembly Election 2026)। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আইপ্যাকের এহেন সিদ্ধান্তে ঘোর বিপাকে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। এখন দেখার, তৃণমূল এবার কীভাবে পার হয় আসন্ন বিধানসভার ভোট-বৈতরণী (I-PAC)!

     

  • ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন হওয়ার কথা ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। তার আগে রবিবার সাতসকালে ইডির (ED) হানা কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Kolkata Police DC) শান্তনু সিং বিশ্বাসের বাড়িতে। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে এই পুলিশ কর্তার বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। তার পরেই শুরু হয় তল্লাশি। সূত্রের খবর, বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর মামলার জেরে ইডির এই অভিযান। এই শান্তনু একসময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। রবিবার সকালে বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।

    খোদ ডিসির বাড়িতেই অভিযান (ED) 

    বালিগঞ্জে অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে এবং ‘লাইভ’ করতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় এর আগেও এক আইপিএস আধিকারিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। আর এবার খোদ ডিসির বাড়িতেই চালানো হল তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে এদিন হানা দিয়েছে ইডি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মূলত প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্রেই জয়ের নাম উঠে এসেছিল। বেশ কিছু নগদ অর্থ বেহালার এই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ব্যবসায়ীকে দু’বার তলবও করেছিল ইডি। কিন্তু দু’বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তার পর ফের রবিবার তাঁর বাড়িতে অভিযান তদন্তকারীদের (ED)।

    বেহালায় ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তদন্ত ইডির আধিকারিকদের

    এদিন ভোরেই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দেয় ইডির একাধিক দল। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বেহালায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। অভিযোগ, বার বার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও বাড়ির দরজা খুলছিলেন না কেউ (Kolkata Police DC)। অনেকক্ষণ পরে দরজা খোলা হয়, এবং ইডি ঘরে ঢোকে। বালিগঞ্জেও ভোরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার আধিকারিকরা। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দু’দফায় ভোট হবে। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার আগেই জোরকদমে প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় খাস কলকাতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি।

    প্রসঙ্গত, বেআইনি নির্মাণ মামলায় শুক্রবার শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। দিন কয়েক আগে নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল তারা (Kolkata Police DC)। রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর (ED)।

     

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • Dattatreya Hosabale: “প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যখন শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে একটি সভ্যতার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখনই জন্ম হয় কুসংস্কারের (Superstitions)।” কথাগুলি বললেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। সান ফ্রান্সিসকোয় গ্লোবাল সায়েন্স ইনোভেশন ফোরাম আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নিয়ে হোসাবলে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে পুনরুজ্জীবিত করে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তা প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং আধ্যাত্মিকতা আলাদা নয় (Dattatreya Hosabale)

    তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং আধ্যাত্মিকতা আলাদা নয়, বরং তারা গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।” হোসাবলে এও বলেন, “বিশ্বে এমন একটি সময় ছিল যখন ধর্ম এবং বিজ্ঞানকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখা হত। কিন্তু ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্যে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রায়ই বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধ্যাত্মিক চর্চা—দুটিতেই যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “এই বৌদ্ধিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সভ্যতার জ্ঞানের অংশ। তাই শাসনব্যবস্থায়ও এই ভিত্তির প্রতিফলন থাকা উচিত।”

    শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়লে বিপদ!

    হোসাবলে মনে করিয়ে দেন, প্রাচীন ব্যবস্থা ছিল নৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক উভয়ই, যা নিরাপত্তা, জীবিকা এবং দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব দিকগুলির সমাধান করত। তিনি বলেন, “যদি আমরা মানবজাতি ও নাগরিকদের জন্য সুযোগ এবং ক্ষমতায়ন বাড়াতে চাই, তাহলে এই উপাদানগুলিকে শিক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও যদি শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, তবে সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে। সমাজের কিছু অংশ শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়লে বৈষম্য আরও গভীর হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা এবং জীবনমান—সবই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।” আরএসএসের এই কর্তা বলেন, “এই কারণেই সরকারগুলিকে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একদিকে আমাদের সমাজের বৈষম্য, পক্ষপাত এবং কুসংস্কার দূর করতে হবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও অব্যাহত রাখতে হবে। যদি শিক্ষা এই বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তবে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলিকে কুসংস্কার হিসেবে ভুল বোঝা হতে পারে (Dattatreya Hosabale)।”

    কী বললেন হোসাবলে?

    হোসাবলে বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ (Superstitions) হল মানুষকে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং কুসংস্কারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে সক্ষম করা। আমাদের সমাজ দীর্ঘদিন ধরে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে একই সঙ্গে এমন প্রচেষ্টাও চলেছে যা দেখায় যে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিক্ষায় এবং পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন সেই জ্ঞানব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যেখানে ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থা থাকবে অগ্রভাগে।”

    স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিএসআইএফ থ্রাইভ-২০২৬ সম্মেলন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, যেখানে একটি উন্নত বিশ্বের লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং প্রাচীন জ্ঞানের মিলন ঘটে। সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিনোদ খোসলার অংশগ্রহণে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। এতে (Superstitions) প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার-সহ একাধিক চিন্তাবিদ  অংশ নেন (Dattatreya Hosabale)।

     

  • Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি উড়িয়ে দিলেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Iran Speaker)। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি মিথ্যে প্রচার করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “ওয়াশিংটনের এই বয়ান দিয়ে না জেতা যাবে যুদ্ধ, না সফল হবে আলোচনা।” গালিবাফ এই মর্মে সতর্ক করে দেন যে বিশ্বের অন্যতম (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে না, যদি আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলিতে তাদের নৌ-অবরোধ চালিয়ে যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রণালীর মাধ্যমে যে কোনও চলাচল এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমতি ও নির্ধারিত রুটের ওপর নির্ভর করবে। এ থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট, তা হল চাপ অব্যাহত থাকলে তেহরান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে প্রস্তুত।

    ইরানের বক্তব্য (Iran Speaker)

    ইরানের তরফে এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন একটি সময়ে, যখন তেহরান নিজেই কিছুটা পরস্পরবিরোধী সংকেত দিচ্ছে। গালিবাফের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান ঘোষণা করেছিল, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেই সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা। যদিও সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘিচি বিশ্ববাজারকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “ইরানের পূর্ব-অনুমোদিত রুট ধরে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” এদিকে, ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ- অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে (Iran Speaker)। ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের বোমা ফেলা শুরু করতে পারে।”

    ভিত্তিহীন দাবি, বলল ইরান

    অন্যদিকে, তেহরান (ইরানের রাজধানী) ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের কোনও প্রস্তাব কখনও আলোচনার অংশই ছিল না। প্রসঙ্গত, এহেন অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—একটি সরু কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। যদিও ইরান এটি ফের খোলার কথা ঘোষণা করেছে, তা সত্ত্বেও রয়ে গিয়েছে অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মেলায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করছে সতর্কতা অবলম্বন করে (Hormuz Strait)।

    বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি বাণিজ্য পথ নয়, এটি কার্যত একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার, প্রায় প্রতিরোধমূলক অস্ত্রের মতো, যার মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াই ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত ভঙ্গুর। যদিও বাস্তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামরিক চাপ এবং তীব্রভাবে ভিন্ন বয়ানের দ্বারা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত (Iran Speaker)।

  • Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ২ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্র (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর (Central Govt Employees)।

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত (Cabinet Approves DA)

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বছরে দু’বার—সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে—সংশোধন করা হয়। এটি শিল্প শ্রমিকদের জন্য ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই-আইডব্লিউ) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা শ্রমমন্ত্রকের অধীন লেবার ব্যুরো প্রতি মাসে প্রকাশ করে। তবে এবার ঘোষণায় খানিক দেরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকদের কনফেডারেশন (সিসিজিইডব্লিউ) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং অক্টোবরের শুরুতে বকেয়া অর্থ দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন না করায় বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিলটির পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধীরা বড় ভুল করেছে। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে।”

    দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে

    প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিরোধীদের এই অবস্থান মহিলাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন এবং এই বার্তা দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছনো উচিত।” তিনি বলেন, “বিলের বিরোধিতা করার পর এখন বিরোধী দলগুলি নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করার চেষ্টা করছে এবং কার্যত তারা দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে (Cabinet Approves DA)।” এছাড়াও, মন্ত্রিসভা ১৩,০০০ কোটি টাকার একটি সার্বভৌম সামুদ্রিক তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই তহবিলের লক্ষ্য ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ভারতগামী ও ভারত থেকে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বীমার সুবিধা দেওয়া (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই)-এর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত (Central Govt Employees) বাড়ানোর অনুমোদনও দিয়েছে, বরাদ্দ করেছে অতিরিক্ত ৩,০০০ কোটি টাকা।

LinkedIn
Share