Tag: Bangladesh

Bangladesh

  • T20 World Cup: ‘পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটার নয়, এশিয়া কাপ থেকেও নিষেধাজ্ঞা’— পিসিবিকে কড়া বার্তা আইসিসির

    T20 World Cup: ‘পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটার নয়, এশিয়া কাপ থেকেও নিষেধাজ্ঞা’— পিসিবিকে কড়া বার্তা আইসিসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) পাকিস্তান খেলবে কি না, তা নিয়ে আগামী শুক্রবার বা সোমবার পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এ কথা জানিয়েছেন। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। তাঁদের মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে। বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি পাক প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করেছেন নকভি। তারপরই আরও সময় চায় পাকিস্তান। যদিও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

    ‘বয়কট বয়কট’ নাটকই সার!

    দীর্ঘ টালবাহানা, বিতর্ক, অজুহাতের পর আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে লিটন দাসদের এবার আর দেখা যাবে না। তার পরিবর্ত হিসেবে খেলবে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশকে একাধিকবার নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাফ জানিয়ে দেয়, ভারতের মাটিতে তারা খেলতে নারাজ। ফলে আইসিসিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, ‘হয় খেলো, নাহলে এসো’। আর তারপরই ঘোষণা হয়ে যায় স্কটল্যান্ডের নাম। এদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ‘বয়কট বয়কট’ নাটকই সার! পিঠ বাঁচাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণাও করে দিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাক বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, দল ঘোষণার অর্থ এই নয় যে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রাজি পাকিস্তান। এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শাহবাজ শরিফের সরকার।

    প্রধানমন্ত্রীর নাম বিভ্রাট! কী লিখলেন নকভি

    সোমবারই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন নকভি। বৈঠক শেষে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আইসিসির অবস্থান এবং গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করব।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’’ সঙ্গে শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিয়েছেন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও। নকভির এক্স পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রথমে তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম সম্ভবত ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ নওয়াজ শরিফ’ লেখা হয়। পরে সংশোধন করে ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ’ লেখেন তিনি।

    আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ!

    বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নাম প্রত্যাহার করবে না পাকিস্তান। আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে পারে পিসিবি। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারে তারা। ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের বিরুদ্ধে খেলবে তারা। ভারতের বিরুদ্ধে নাকি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করতে পারেন শাহিনরা। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। কিন্তু সেই ম্যাচে না-ও নামতে পারে পাকিস্তান। যদিও তাতে আখেরে ক্ষতিই হবে তাদের। কারণ ভারতকে ওয়াকওভার দিলে বাবরদের সুপার ১২-তে ওঠা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ‘নাটকে’র এখানেই ইতি নয়। বাংলাদেশের প্রতি দরদ ঠিক কতখানি উথলে উঠছে, তা ম্যাচ জিতলেই বোঝাতে চায় পাকিস্তান। কীভাবে? টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রতিটি জয় বাদ পড়া বাংলাদেশকে উৎসর্গ করার পরিকল্পনা তাদের। এছাড়া কালো ব্যান্ড বেঁধে আইসিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করতে পারে তারা।

    পাকিস্তানের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আইসিসি

    পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ভাল ভাবে নেয়নি জয় শাহের আইসিসি। নকভিরা বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে আইসিসি। আইসিসির সব সদস্য দেশই পাকিস্তানের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ মূল সমস্যার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। প্রয়োজনে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন সাসপেন্ড করে রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে আইসিসি। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে আইসিসি একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে নিষিদ্ধ করা। সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল করা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার জন্য এনওসি না দেওয়া হতে পারে।

    পিসিবির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআই

    বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি ছাঁটাই করে দেওয়ার পর পাকিস্তানও জানিয়েছে, তারা খেলবে কি না ভেবে দেখবে। পিসিবির এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআইও। ভারতীয় বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান কোনও কারণ ছাড়াই হস্তক্ষেপ করছে। বাংলাদেশকে উস্কানি দিচ্ছে। সকলে জানে এক সময় বাংলাদেশের মানুষের উপর বর্বরতা চালিয়েছে পাকিস্তান। এখন আবার তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলাম। তা-ও ওরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের পুরো সূচি বদলে ফেলা অসম্ভব। সে কারণেই পরিবর্ত হিসাবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’’ উল্লেখ্য, আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশ ২-১৪ ব্যবধানে হেরে যায় বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর দাবি নিয়ে ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজেদের ভোট ছাড়া শুধু পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ের আগে থেকেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান।

     

     

     

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন, গ্যারেজ কর্মীকে পুড়িয়ে হত্যা

    Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন, গ্যারেজ কর্মীকে পুড়িয়ে হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে দেশে হওয়ার কথা সাধারণ নির্বাচন। এমন সময় বাংলাদেশে হিন্দু (Hindu Burnt Alive) সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার মধ্যেই আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে চলে এল (Bangladesh)। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নরসিংদী শহরে ঘুমন্ত অবস্থায় বছর তেইশের এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    হিন্দু খুন (Bangladesh)

    নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক। তিনি কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। চঞ্চল নরসিংদী পুলিশ লাইনের খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায় একটি গ্যারাজে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে কাজ শেষ করে ক্লান্ত অবস্থায় গ্যারাজের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চঞ্চল। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি গ্যারাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্যারাজের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল, ইঞ্জিন অয়েল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

    মারা হল জ্যান্ত পুড়িয়ে

    ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চঞ্চল ভৌমিক দমবন্ধ হয়ে ও দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলাকারীদের গ্যারাজে আগুন দিতে দেখা গেলেও এখনও তাদের পরিচয় জানা যায়নি (Bangladesh)। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।” ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার হিন্দু বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ।

    এর আগে ভারত বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেশী এই দেশে চরমপন্থা বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক সপ্তাহ আগেই গাজিপুর জেলায় এক হিন্দু মিষ্টি বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি এক কর্মচারীকে হামলার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। ওই সপ্তাহেই সিলেট জেলায় এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন (Hindu Burnt Alive) লাগানো হয় এবং ফেনি জেলায় এক হিন্দু অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় (Bangladesh)।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে (Bangladesh) দুই মেধাবি হিন্দু (Hindu Student) পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃতদেহ সাতদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর নদীতে উদ্ধার হয়েছে। দ্বিতীয় জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেস থেকে। দুই ক্ষেত্রে হত্যা করে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার শিকার বলে উল্লেখ করার চেষ্টা হয়েছে। তবে অভিযোগের তির কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের দিকেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন তাই নির্বাচনের আগে সংখ্যা লঘু হিন্দুদের টার্গেট করে ভয় ভীতির পরিবেশ গড়তে চাইছে।

    কালীতলা শ্মশানের কাছে উদ্ধার দেহ (Bangladesh)

    শনিবার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার একটি নদী থেকে নিখোঁজ এক কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন বিকেলে নওগাঁ শহরের কালীতলা শ্মশানের কাছে একটি নদীতে মৃতদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরে মৃতদেহটি অভির নামে শনাক্ত করা হয়। এই ছাত্র জেলার একটি সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের ছাত্র। অনার্স ডিগ্রির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে

    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারী ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। মৃতদেহটি পাওয়া যাওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অভির পরিবার খোঁজ করতে করতে নদীর তীরে ছুটে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পরা পোশাক দেখে মৃতদেহটি শনাক্ত করে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভি বগুড়া (Bangladesh) জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের ছেলে। নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

    মেসে উদ্ধার মৃত দেহ!

    অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবি হিন্দু ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে এই ঘটনার পেছনে কোনও সাম্প্রদায়িক কারণ নেই, কিন্তু হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh) থিয়েটার বিভাগের ছাত্র আকাশ সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি পুরাতন ঢাকার একটি মেস থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ (Hindu Student) উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানালেও, সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় স্তরে অভিযোগ উঠেছে যে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যা। কট্টর মৌলবাদীরা তার ওপর বর্বরতা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলোকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটা ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিসংখ্যান মানতে নারাজ।

    বাংলাদেশে লাগাতার হিংসা অভ্যাহত

    বাংলাদেশের (Bangladesh) বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং খুনের ঘটনা ঘটেই চলছে। ধারাবাহিক এই হিংসাত্মক হামলায় বাংলাদেশজুড়ে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং চারটি মামলায় এখনও কোনও গ্রেফতার হয়নি। বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে উন্মত্ত জনতার সম্মিলিত আক্রমণে। তার সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার মধ্যে রয়েছে দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা, যাঁকে ময়মনসিংহে পিটিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খোকন চন্দ্র দাসের ওপর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু হয় তাঁর।  যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে নরসিংদীতে শরৎ মণি চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যার ফলে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রণোদনা কর্মকার নামে একজন জুয়েলারিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফরিদপুরে মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে প্রলয় চাকিকেও নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।

    জানুয়ারিতেই লাগাতার হত্যাকাণ্ড

    রাজবাড়ীতে রিপন সাহা নামে এক হিন্দু পেট্রোল পাম্প কর্মীকে এসইউভি দিয়ে পিষে হত্যা করা। সিলেটে হিন্দু শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ। পাবনায় পুলিশ হেফাজতে হিন্দু সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকীর মৃত্যু। চট্টগ্রামে সমীর কুমার দাস নামে এক অটোচালকের ওপর গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাত। বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, গত ছয় সপ্তাহে অন্তত এক ডজন হিন্দু হত্যার শিকার হয়েছেন। ভারত সরকারও বাংলাদেশে হিন্দুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশীর বাগান থেকে চুরি গিয়েছে কলার কাঁদি। তার জেরে নিছক সন্দেহের বশে শনিবার এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে (Hindu Businessman) খুন করা হল। বাংলাদেশের (Bangladesh) গাজিপুর জেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। মৃতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ, বয়স ৫৫। কালীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে তাঁর ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’। সেখানে এসেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মারে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে। তারা হল স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের ছেলে মাসুম মিঞা।

    বচসা থেকে হাতাহাতি (Hindu Businessman)

    পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের একটি কলার বাগান রয়েছে। সেখান থেকে খোয়া যায় এক কাঁদি কলা। কলার খোঁজে করতে বেরিয়ে সে লিটনের হোটেলে পৌঁছে যায়। সেখানেও কলা ঝোলানো ছিল। সেই কলার কাঁদি তারই বাগানের বলে দাবি করতে থাকে মাসুম। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মাসুম ফিরে যায়। সকাল ১১টা নাগাদ মাসুম ফের হোটেলে এসে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে মাসুমের বাবা-মাও ওই হোটেলে এসে হাজির হয়। তার পরেই শুরু হয় হাতাহাতি (Hindu Businessman)।

    অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি মারে। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।এই ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক (Bangladesh) হিংসার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। লিটনের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদের (Hindu Businessman)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু-নিধন…

    • ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
    • ১১ জানুয়ারি ২০২৬: এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
    • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে পালানোর সময় চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পের কর্মী হিন্দু যুবক রিপন সাহাকে।
    • ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জে কলা নিয়ে বিবাদের জেরে হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র যোষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
  • T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশকে (Bangladesh) চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাংলাদেশকে শেষবার সতর্ক করল আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে আইসিসি বলেছে, হয় ভারতে খেলুন না হলে অন্য দলকে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত না নিলে অন্য কোনও দলকে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হবে।

    বাংলাদেশকে বার্তা

    গত শনিবার ঢাকায় বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি’র দুই শীর্ষ কর্তা। বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় (Srilanka) স্থানান্তর করা হোক। কেন তারা ভারতে (India) খেলতে আসতে চায় না, তা নিয়ে বাংলাদেশে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলদেশ সরকার। তা আইসিসি-র প্রতিনিধিদের জানিয়েছে বিসিবি। এই বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের কোনও প্রস্তাবে সায় নেই আইসিসি-র। ফলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বিকল্প দেশকে নেওয়া হতে পারে তাদের জায়গায়।

    বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড!

    ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্ট থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিসিসিআই (BCCI) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে তারা আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না। ব্যাপারটা নিয়ে ইতিমধ্যে আইসিসি-র সঙ্গে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T20I World Cup 2026)। আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা স্বল্প সময়ের নোটিসে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে আগ্রহী নয়। সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের কোনও কারণ দেখছে না। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও বিপদ নেই। আর সেকারণে ভেন্যু বদলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত সেই পুরনো কাসুন্দিই ঘেঁটে যাচ্ছে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তাদের বিদায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ব়্যাঙ্কিং অনুসারে, স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

  • Bangladesh: রাজবাড়িতে হিন্দু যুবককে গাড়ির চাকায় পিষে হত্যা, ইউনূস রাজত্বে অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন

    Bangladesh: রাজবাড়িতে হিন্দু যুবককে গাড়ির চাকায় পিষে হত্যা, ইউনূস রাজত্বে অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে এবার এক হিন্দু ব্যক্তিকে গাড়িতে পিষে হত্যা করা হয়েছে। পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে চলে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় হিন্দু যুবককে (Hindu Man Death)। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি, ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী জেলায়। এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হল বাংলাদেশে হিন্দুদের (Hindu Man Death) কীভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে হিন্দু নিধন ততই মারাত্মক হচ্ছে।

    ঘটনা ঘটেছে ভোর ৪:৩০ নাগাদ (Hindu Man Death)

    পুলিশ কর্তাদের বক্তব্যের সূত্রে শনিবার দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম রিপন সাহা। তিনি ছিলেন পেট্রোল পাম্পের কর্মী। ঘটনার সময় তিনি গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমানকে উদ্ধৃত করে নিউজ পোর্টাল বিডি নিউজ ২৪.কম-কে বলেছে, “আমরা খুনের মামলা (Hindu Man Death) দায়ের করব। পেট্রোলের জন্য টাকা দিতে অস্বীকার করে প্রথমে। এরপর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আটকাতে যায় রিপন সাহা। তখনই তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।” প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার ভোর ৪:৩০ নাগাদ একটি কালো এসইউভি ফিলিং স্টেশনে আসে এবং প্রায় ৫,০০০ টাকা মূল্যের জ্বালানি নিয়ে যায়। চালক যখন টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন রিপন গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। চাকায় পিষে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু রিপনের (Hindu Man Death)। পরে অবশ্য পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং মালিক আবুল হাসেম ওরফে সুজন (৫৫) এবং তার চালক কামাল হোসেন (৪৩)-কে গ্রেফতার করেছে।

    ৭.৯৫% হিন্দু বাংলাদেশে

    ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু (Hindu Man Death) জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫%। জানুয়ারি মাসের শুরুতে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (BHBCUC) এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছিল যে সাধারণ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা ততইতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

    পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পরিকল্পিত আতঙ্ক

    ফোরামের অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোটারদের তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার জন্যই হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কাউন্সিল জানিয়েছে যে তারা শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই ৫১টি সাম্প্রদায়িক হিংসার (Hindu Man Death)  ঘটনা রেকর্ড করেছে।

    ১> ২ ডিসেম্বর নরসিংদীর একটি স্কুল মাঠে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান বছর বিয়াল্লিশের এক জুয়েলারি, যার নাম প্রান্তোষ সরকার (Hindu Man Death)।

    ২> ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে জনতা। এরপর তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    ৩> ২৪শে ডিসেম্বর রাজবাড়ী শহরের পাংশা উপজেলায় তোলাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

    ৪> ৩১ ডিসেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ৫০ বছর বয়সী খোকন চন্দ্র দাসকে দুর্বৃত্তরা নৃশংসভাবে আক্রমণ করে, কুপিয়ে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তিন দিন পর ৩ জানুয়ারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

    ৫> ৫ জানুয়ারি রাতে পলাশ উপজেলার চরসিন্ধুর বাজারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ৪০ বছর বয়সী মুদি দোকানের মালিক মনি চক্রবর্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

    ৬> ৩৮ বছর বয়সী বরফ তৈরির কারখানার মালিক রানা প্রতাপ বৈরাগী, যিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত “দৈনিক বিডি খবর” নামে একটি সংবাদপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন, ৫ জানুয়ারি খুন হন। যশোর জেলায় দুর্বৃত্তরা তাঁর মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    ৭> ৬ জানুয়ারি নওগাঁ জেলায় চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক যুবক।

    ৮> ৭ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় (৭০) এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে (Hindu Man Death) হত্যা করা হয়। তাদের বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে তাঁদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।

  • British MP: “অত্যন্ত উদ্বেগের”! বাংলাদেশে হিন্দু-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ব্রিটিশ সংসদে, তার মধ্যেই নতুন হিংসা

    British MP: “অত্যন্ত উদ্বেগের”! বাংলাদেশে হিন্দু-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ব্রিটিশ সংসদে, তার মধ্যেই নতুন হিংসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সংসদে সরব হলেন দেশের সাংসদ (British MP) বব ব্ল্যাকম্যান। কনজারভেটিভ দলের এই সাংসদ, ব্রিটিশ সরকারের কাছে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভাবে খুন করা হচ্ছে, সেখানে মন্দির ভাঙা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের।” উল্লেখ্য বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বিষয়টিও অত্যন্ত উদ্বেগের। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ অবাদ নির্বাচন কতটা সম্ভব তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক বার্তা দেন ব্রিটেনের স্টার্মার সরকারকে।

    ইসলামি কট্টরপন্থীরা গণভোটের ডাক দিয়েছে (British MP)

    ব্রিটিশ সংসদে (British MP) বব ব্ল্যাকম্যান বক্তব্য রাখার সময় বলেন, “বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমি আজ বাংলাদেশের বিষয়টি উত্থাপন করতে চাই এখানে। বিদেশ সচিবকে আমার দলের নেতা এর আগেও লিখেছেন বাংলাদেশের দুর্দশা নিয়ে। রাস্তায় ফেলে হিন্দুদের খুন করা হচ্ছে সেখানে। তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্দির ধ্বংস করা হচ্ছে। অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও এই একই ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হচ্ছে সেখানে। পরের মাসে নাকি বাংলাদেশে তথাকথিত স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল, আওয়ামি লিগকে সেখানকার নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এরই সঙ্গে ইসলামি কট্টরপন্থীরা একটি গণভোটের ডাক দিয়েছে। সেই গণভোট বাংলাদেশের সংবিধানকে চিরতরের মতো বদলে ফেলার জন্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিদেশ সচিব যেন পরের সপ্তাহে সরকারের অবস্থান ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। আমাদের সরকার এই বিষয়ে কী করছে, তা যেন আমাদের জানানো হয়।”

    তবে ব্রিটেন সরকার বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সব রকম ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছে এই বিষয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশ করে। বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল-সহ বিভিন্ন দলের ব্রিটিশ আইনসভার সদস্যরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচন লড়াই করার ক্ষেত্রে জোরপূর্বক প্রতিবন্ধকতা কোনও ভাবেই কাম্য নয়।

    সিলেটে হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন!

    এসবের মধ্যেই বাংলাদেশে ফের হিন্দুদের ওপর আরও একটা হামলার খবর প্রকাশ্যে  এসেছে। সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে এল। ভয়াবহ ওই আগুন থেকে কোনও ভাবে প্রাণে বেঁচে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে এই ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামে। যাঁর বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, তাঁর নাম বীরেন্দ্র কুমার দে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। এলাকায় তিনি ‘ঝানু স্যর’ নামেই পরিচিত। প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করতেন তিনি। কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

    ডিসেম্বর মাসেই ১০ জন হিন্দুকে হত্যা

    বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫১টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। যার সবটাই ওই দেশের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যায় নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের দীপু চন্দ্র দাস, অমৃতা মণ্ডল। ১০টি বড় রকমের হিন্দু পরিবারের চুরি, ডাকতি লাগানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। হিন্দু পরিবারের জমিজমা দখল, বাড়ি দখল, আগুন লাগিয়ে দেওয়া, মন্দির ভাঙচুরের মতো ২৩ টি ঘটনা ঘটেছে। একই ভাবে মিথ্যা ধর্মীয় অবমাননা, র-এর গুপ্তচড়ের অভিযোগে মারধর, আটকের মতো ৪টি ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে ৪টি। শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তিনটি।

    লাগাতার হিন্দু হত্যা অব্যাহত!

    গত ১২ জানুয়ারিতে ফেনির (Bangladesh) সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটো চালককে হত্যা করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে জয় মহাপাত্রকে খুন করা হয়। মিঠুন সরকারকে কট্টরপন্থীরা আক্রমণ করে, গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পুকুরে নেমে ঝাপ দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আবার ৫ জানুয়ারিতে ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল। ঢাকার কাছেই নরসিংদিতে ৪০ বছরের এক ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তীকে খুন করা হয়। যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রাতপ বৈরাগিকে। ২ জানুয়ারি খুন করা হয়েছিল সত্য রঞ্জন দাসকে। ৩ জানুয়ারি হত্যা করা হয় মিলন দাস এবং সনু দাসকে। ৩১ ডিসেম্বর নির্মম ভাবে আক্রমণ করা হয় খোকন চন্দ্র দাসকে। পরে তিনি মারা যান ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি হত্যা করা হয় শুভ পোদ্দারকে। বাংলাদেশে প্রতিদিন হিন্দু নির্যাতন, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট এখন একটি অতি সাধারণ ঘটনা ঘটেছে।

  • US Immigrants Visa: বাংলাদেশি-পাকিস্তানিদের ঢোকা বন্ধ আমেরিকায়! ভারতীয়দের নিয়ে আপত্তি নেই ট্রাম্প প্রশাসনের

    US Immigrants Visa: বাংলাদেশি-পাকিস্তানিদের ঢোকা বন্ধ আমেরিকায়! ভারতীয়দের নিয়ে আপত্তি নেই ট্রাম্প প্রশাসনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবেশ নিষিদ্ধ আমেরিকায়। ৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (immigrant visa) প্রক্রিয়া বন্ধ করল আমেরিকা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে এই ঘোষণা করা হয়। ৭৫টি দেশের তালিকায় নাম আছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের। যদিও ভারতের নাম নেই এই তালিকায়। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়ায় আপত্তি নেই আমেরিকার। যেসব দেশের অভিবাসী (US Immigrants Visa) “আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য হারে কল্যাণ গ্রহণ করছে”, সেইসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হবে, বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছে, ‘নতুন অভিবাসীরা আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে সম্পদ বের করে নিচ্ছে না, এই বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যে সব দেশ থেকে নাগরিকরা আমেরিকায় এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারে, সেই সমস্ত দেশের নামই তালিকায় রাখা হয়েছে। আমেরিকায় নিজেদের জীবন-যাপনে সক্ষম নন, সরকারি সাহায্যের ভরসায় যারা থাকবেন, এমন ব্যক্তিদের আমেরিকায় ঢোকা আটকাতেই ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা (US Immigrants Visa) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকানদের পকেট থেকে টাকা নিয়ে সে দেশে বসবাস করছে অন্য দেশের নাগরিকরা। এই প্রক্রিয়া আটকাতেই ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত।

    স্থগিতাদেশ শুরু কবে থেকে

    আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ শুরু হতে চলেছে। কতদিন এই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সমস্ত কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নির্দেশ চালু হবে। তবে যারা নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা বা বিজনেস ভিসায় আমেরিকা যেতে চাইবেন, তাদের কোনও সমস্যা হবে না।

    ৭৫টি দেশের তালিকায় কারা

    এই মর্মে ৭৫টি দেশের তালিকা আমেরিকার সরকার এখনও জনসমক্ষে নিয়ে না এলেও, ফক্স নিউজের একটি রিপোর্ট সম্ভাব্য দেশগুলির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় রয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা, বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুস, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্য়ামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ডমিনিকা, মিশর, ইরিট্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনিয়া, হাইতি, ইরান, ইরাক, আইভরি কোস্ট, জামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরঘিস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মন্টেনেগ্রো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজিরিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রোয়ান্ডা, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, তাইল্যান্ড, টোগো, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট।

  • Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু খুনের ঘটনা। রবিবার রাতে এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। এ নিয়ে দেশে (Hindu Rickshaw Puller Killed) সাম্প্রতিক হিংসায় বলি হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। উল্লেখ্য, ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। জানা গিয়েছে, সমীর ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

    ফের হিন্দু খুন (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি উপজেলা হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি ডাকাতি ও খুনের। তদন্ত চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিন কয়েক আগেই নরসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানির দোকানে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার জেরে আরও দুই হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি বিষ খান। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, কিস্তি বাবদ ৫০০ টাকা না (Hindu Rickshaw Puller Killed) দেওয়ায় দোকানদার আমিরুল ইসলাম তাঁকে মারধর, অপমান ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন (Bangladesh)।

    আরও হিন্দু খুন

    এদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক হিন্দু যুবক একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এক হিন্দু স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু ডেপুটি কমিশনারকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভয় দেখানো হয়েছে (Bangladesh)। তবে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনার নিন্দা করলেও, বারবার দাবি করেছে যে এই ঘটনাগুলি সাম্প্রদায়িক নয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ব্যতিক্রমী মাত্র (Hindu Rickshaw Puller Killed)। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh)।

    ইউনূসের বাংলাদেশে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ

    • ১) ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২) ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩ ও ৪) ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ৫) ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ৬) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ৭) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ৮) ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৯) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ১০) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ১১) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
  • Pakistan: পাক সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ কবুল শীর্ষ লস্কর নেতার

    Pakistan: পাক সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ কবুল শীর্ষ লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রকাশ্যে পাক সেনা এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ (India)। এই আঁতাতের বেলুনটি ফাটিয়েছেন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা সইফুল্লাহ কাসুরি। হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ কাসুরি স্বীকার করেন, পাকিস্তান (Pakistan) সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে তাঁকে নিজেদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনাদের শেষকৃত্যে নমাজে জানাজা পড়ানোর দায়িত্বও দেয়। পাকিস্তানের একটি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এই স্বীকারোক্তি দেন কাসুরি। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি তারিখহীন ভিডিওতে এই বক্তব্য ধরা পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসারান উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী এই কাসুরিই। ওই হামলায় ২৬ জন নিরীহ হিন্দু নাগরিক নিহত হন।

    ভারতকে হুমকি কাসুরির (Pakistan)

    ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে কাসুরি প্রকাশ্যে ভারতকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, তাঁর উপস্থিতিতেই ভারত ভীত। ভারতবিরোধী বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আমার খ্যাতি আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, “ভারত আমার নাম শুনেই ভয় পায়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসুরির (Pakistan) এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সেই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বলে আসছে যে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে (India)। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া, বিশেষ করে নিহত সেনাদের ধর্মীয় আচার সম্পাদনের ক্ষেত্রে, স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে লস্কর-ই-তৈবার মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক মদত রয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকরা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ তুলে আসছেন (Pakistan)।”

    লস্কর-ই-তৈবার ছদ্ম সংগঠন

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছদ্ম সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টে’র সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের হামলায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছয়। এই হামলার পাল্টা জবাবে ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। মোট ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়, যেগুলি লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। চার দিন ধরে সীমান্তের দু’পাশে তীব্র সংঘর্ষের পর ২০২৫ সালের ১০ মে উভয় দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় (India)। উল্লেখ্য, যিনি সাজিদ সাইফুল্লাহ জাট বা খালিদ নামেও পরিচিত, এর আগেও একাধিকবার লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি কার্যকলাপের সাফাই গেয়েছেন। তিনি কবুল করেন, অপারেশন সিঁদুরে জঙ্গি ঘাঁটির বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, ভারত কেবল পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভুল করেছে এবং আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল না (Pakistan)।

    কাশ্মীর মিশন

    কাসুরি আবারও ‘কাশ্মীর মিশনে’র প্রতি লস্কর-ই-তৈবার অটল প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এই সংগঠন কখনও তাদের লক্ষ্য থেকে সরে আসবে না। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুন করে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে পাকিস্তানের দ্বিচারী অবস্থান, জঙ্গিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, কাসুরির প্রকাশ্য উপস্থিতি ও তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য প্রমাণ করে যে পাকিস্তানে ঘোষিত জঙ্গিরা কার্যত কোনও বাধা ছাড়াই কাজ করার স্বাধীনতা ভোগ করছে (Pakistan)। এদিকে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে স্বাগত জানিয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সংগঠনটির উপপ্রধান সইফুল্লাহ কাসুরি ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অভিনন্দন জানিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন (India)।

    মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক

    রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত জঙ্গি এবং পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার মূলচক্রী কাসুরি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়াকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য শুরু হওয়াকে প্রশংসনীয় এবং অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসুরির এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে (Pakistan)। সূত্রের খবর, কাসুরি পাকিস্তান–বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগকে ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পুনর্বিন্যাস’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এটি ভারতের বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তৈবার দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    কাসুরির বক্তব্যে ইঙ্গিত

    সূত্রের খবর, কাসুরির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি এই নতুন আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে তাদের জন্য সম্ভাব্য ‘অপারেশনাল সুযোগ’ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ায় জেহাদি প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মূল্যায়ন করা হচ্ছে (Pakistan)। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে লস্কর-ই-তৈবার বিস্তৃত লজিস্টিক, নিয়োগ এবং আদর্শগত নেটওয়ার্ক রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসে অর্থ জোগান ও যাতায়াতের তদন্তে বাংলাদেশের নাম উঠে আসায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে (India)। সূত্রের দাবি, লস্কর-ই-তৈবার এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে অ-রাষ্ট্রীয় জেহাদি সংগঠনগুলি আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কখনও কখনও তা নিয়ন্ত্রণ করার পর্যায়েও পৌঁছচ্ছে।

    সন্ত্রাস দমন সংস্থাগুলির মতে, কাসুরির এই বক্তব্য কাশ্মীরকেন্দ্রিক সন্ত্রাসের পরিসর বিস্তৃত করে একই মতাদর্শে বিশ্বাসী আঞ্চলিক নেটওয়ার্কগুলিকে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। ফলে এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ ভারত ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে (India) অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে (Pakistan)।

LinkedIn
Share