Tag: Bengali news

Bengali news

  • BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি (CPIM) গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সহনশীলতা নিয়ে তাদের আদর্শগত প্রতিপক্ষদের প্রায়ই নীতিকথা শোনায়। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেরা যে কথা বলে, তা খুব কম ক্ষেত্রেই পালন করে। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় দেওয়া এক ভাষণে বিজেপি (BJP) সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বর্ণনা করেন, কীভাবে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার বুলি আওড়ানো সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)—সিপিআই(এম)—তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই তিন দশক আগে তাঁর দুই পা কেটে নিয়েছিল।

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা (BJP)

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা দেখিয়ে সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বলেন, “এই দুটোই আমার পা। একসময় আমার শক্ত দুটি স্বাভাবিক পা ছিল। কিন্তু এখন হাঁটুর নীচে আমি কৃত্রিম পা ব্যবহার করি। কেন? কারণ আমি বারবার এই সংসদে গণতন্ত্রের কথা শুনি—গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র। কিন্তু যারা সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই ৩১ বছর আগে আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “কেরালায় সিপিআই(এম)-এর নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের কর্মীরা আমার বোনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখনই আক্রমণ করে। বোনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে ফেরার পথে, একটি বাজারে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দুষ্কৃতীরা আমায় ধরে ফেলে। তারা পেছন থেকে ধরে আমায় রাস্তায় ফেলে দেয় এবং আমার দু’পা কেটে নেয়। তারা তখন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিল। তারা গণতন্ত্রের কথাই চিৎকার করছিল।”

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি তুলে ধরে রাজ্যসভার ওই সাংসদ বলেন, “আমি এখানে এগুলো (কৃত্রিম পা) দেখাচ্ছি কারণ আপনাদের অসহিষ্ণুতাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। আমি দেশবাসীকে দেখাতে চাই, সংসদ সদস্যদের দেখাতে চাই, গণতন্ত্র আসলে কী। আপনারা (সিপিআইএম) সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলেন, সহনশীলতার কথা বলেন, মানবতার কথা বলেন, অথচ আপনাদের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে রাজনৈতিক হিংসার ওপর। রাজনৈতিক হিংসা গণতন্ত্রের পক্ষে কখনওই ভালো নয়।” সদানন্দন মাস্টারের এই কৃত্রিম পা প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সংসদের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলেন। তবে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁকে জানান, তাঁর দলের সাংসদরা যখন সংসদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, তখনও একই ধরনের কড়াকড়ি প্রয়োগ করা উচিত (BJP)।

    জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা

    ১৯৯৪ সালে সি সদানন্দন মাস্টারের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি তখন কেরালার মাট্টানুর পুরসভার পেরিঞ্চেরিতে অবস্থিত সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত কুঝিক্কাল লোয়ার প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ‘মাশ’ নামে পরিচিত সদানন্দন কমিউনিস্ট পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা সিপিএমের  সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর দাদা জেলা স্তরে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। সদানন্দন নিজেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও স্কুলজীবন (CPIM) থেকেই তিনি সংঘ-সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকলেও, আরএসএসের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ধারণা তাঁর মধ্যে রয়ে গিয়েছে। মালয়ালম কবি আক্কিথামের লেখা ‘ভারত দর্শনঙ্গল’ প্রবন্ধই তাঁর জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালেই সদানন্দন মাস্টার আরএসএসে যোগ দেন। কমিউনিস্ট আদর্শ ছেড়ে সংঘের দিকে ঝোঁক নেওয়াটা বামপন্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। প্রথমে সিপিআই(এম) কর্মীরা তাঁকে সংঘ ছেড়ে কমিউনিস্ট দলে ফেরার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি অস্বীকার করলে তারা বেছে নেয় হিংসার পথ (BJP)।

    বোনের বিয়ের প্রস্তুতি

    ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, তাঁর বোনের বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কাকার বাড়ি থেকে ফেরার সময় বাস থেকে নামতেই কয়েকজন তাঁকে পেছন থেকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। তারা ছিল সিপিআই(এম)-এর দুষ্কৃতী। তারা শুধু মারধর করেই থামেনি, নৃশংসভাবে তাঁর দুই পা কেটে নেয়। এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল তাঁকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভয় দেখাতে, যাতে কেউ কমিউনিস্ট শিবির ছাড়ার সাহস না পায়। কিন্তু সদানন্দন মাস্টার ভেঙে পড়েননি। বরং আরএসএস ছাড়ার বা কমিউনিস্ট দলে ফেরার বদলে তিনি জাতীয় সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কুথুপারাম্বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান (CPIM)।

    ভারতীয় বিচার কেন্দ্রম

    তিনি কেরালায় ন্যাশনাল টিচার্স ইউনিয়নের রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘দেশীয় অধ্যাপক বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ চিন্তাচর্চা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। কেরালার ত্রিশূর থেকে রাজ্যসভা পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ সাহসের প্রতীক। তিনি আজও জীবন্ত উদাহরণ, কীভাবে বাম-কমিউনিস্ট অসহিষ্ণুতা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, গণতন্ত্রকেও পঙ্গু করে দেয়। কমিউনিস্টরা শুধু রাজনৈতিক হিংসায়ই লিপ্ত নয়, বরং সেই অপরাধীদের ‘নায়ক’ হিসেবেও তুলে ধরে। ২০২৫ সালের অগাস্টে সদানন্দন মাস্টারের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আটজন সিপিআই(এম) কর্মীর জন্য দলটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করে। থালাসেরি সেশন আদালতের বাইরে এবং পরে মাট্টানুরে দোষীদের মালা পরানো, স্লোগান তোলা ও উল্লাসের দৃশ্য ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই নৈতিক অধঃপতনের দৃশ্য ঘটেছিল মাট্টানুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার উপস্থিতিতে (BJP)। যদিও সদানন্দন মাস্টার কমিউনিস্ট হিংসার শিকার হয়ে বেঁচে আছেন, সিপিআই(এম)-এর ইতিহাস রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দলত্যাগীদের নৃশংসভাবে দমন করার। গত কয়েক দশকে কেরালায় কমিউনিস্ট ক্যাডারদের হাতে বহু বিজেপি-আরএসএস নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন (CPIM)।

     

  • Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সীমান্তের অখণ্ডতা কেবল প্রশাসনিক মানচিত্র নির্ধারণের বিষয় (Bharats Frontiers) নয়, এটি একটি অবিরাম হাইব্রিড যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা-রেখা। ২০১৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে (Mamata Banerjee) আমরা এক উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, আইএসআইএস এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি চাক্ষুষ ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করেছে।

    বিপজ্জনক হুমকি (Bharats Frontiers)

    তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি অনেক সময় বাইরে থেকে নয়, বরং ভেতর থেকেই আসে, বিশেষ করে যখন কোনও রাজ্য সরকার জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলমান সঙ্কট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বাধা দিয়ে এসেছে, তা সংবিধানগত দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার শামিল। সীমান্তে বেড়া না দিয়ে ফাঁকফোকর রেখে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য কার্যত অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সন্ত্রাসের প্রবেশদ্বার খুলে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোনও রাজ্য সরকারের পবিত্র দায়িত্ব হল দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বেড়ে চললেও, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ।

    সীমান্তে বেড়া

    সীমান্তে বেড়া, চৌকি ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরে এই পরিকল্পিত বিলম্ব কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এটি ভারতের সার্বভৌম প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অন্তরায়। বিএসএফকে সীমান্ত সিল করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে রাজ্য সরকার কার্যত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একগুঁয়ে অস্বীকৃতি রাজ্যটিকে এমন এক দুর্বল প্রবেশদ্বারে পরিণত করছে, যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে (Bharats Frontiers)। জাতীয় অখণ্ডতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপজ্জনক টালবাহানার অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে ভর্ৎসনা করে জানিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, কীভাবে ন’টি সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা জুড়ে অধিগৃহীত জমি হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছিল, যার ফলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা

    জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বড় জয়ে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি ব্যুরোক্রেটিক অবরোধ (Mamata Banerjee) ভেঙে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অধিগৃহীত সমস্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্রশাসনিক অজুহাত বা নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে জাতীয় নিরাপত্তাকে আটকে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করে আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত ঝুঁকির মুখে রেখে আর কোনও বিলম্ব কৌশল সহ্য করা হবে না। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটার পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সীমান্ত অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চক্র, গবাদি পশু পাচার ও জাল নোট চক্রের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে—যা ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন

    ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধারাবাহিকভাবে গড়িমসি করেছে। যার জেরে সীমান্তের প্রায় ২৬ শতাংশ এখনও বেড়াবিহীন। রাজ্যের ন’টি জেলায় ২৩৫ কিমি জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য মাত্র ৭১ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অবশিষ্ট জমি না দেওয়ায় বিএসএফ কার্যত ঠুঁটো হয়ে রয়ে গিয়েছে। যদিও ‘জমি’ রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রায় এক দশক আগের মন্ত্রিসভা অনুমোদন কার্যকর না করা স্পষ্ট সংবিধান অবমাননা। স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থকে ফেডারেল দায়িত্বের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেবল নিজের রাজ্যের নাগরিকদের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করেছে (Bharats Frontiers)। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত জমি বিএসএফকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন বা ভোটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অজুহাত চলবে না। বলা বাহুল্য, এই রায় প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য একটি বড় বিজয়, যারা বিশ্বাস করেন, মাতৃভূমির নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না (Mamata Banerjee)।

    অখণ্ডতার ওপর আঘাত

    এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত অবহেলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সুব্রত সাহা, যিনি দেশরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত ও পরিশ্রমের মূল্য ভালোই বোঝেন।
    তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায়  তিনি যুক্তি দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি ভারতের প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত। আবেদনে একটি উদ্বেগজনক ও দেশদ্রোহিতামূলক প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়, ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমির কেবলমাত্র একটি অংশই হস্তান্তর করেছে। সংসদীয় নথি উদ্ধৃত করে জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট ফাঁকগুলোকেই কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারি ও অনুপ্রবেশকারীরা, যে ফাঁক কেবলমাত্র রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই রয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট আর অপেক্ষা করতে রাজি হয়নি। এর আগে, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চায়, যে জমির পুরো অধিগ্রহণমূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা কেন এখনও হস্তান্তর করা (Mamata Banerjee) হয়নি? প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চূড়ান্ত রায় রাজ্যের বাধাদানমূলক রাজনীতির ওপর বড় আঘাত হানে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, অধিগৃহীত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া সমস্ত জমি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে।

    অজুহাত খারিজ

    ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ বা ‘আসন্ন নির্বাচন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা আদালত খারিজ করে দেয়। জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য কেন্দ্র অর্থ জোগালে, কোনও প্রক্রিয়াগত অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না, এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় বেঞ্চ (Bharats Frontiers)। এই রায় প্রতিটি ভারতবাসীর জয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে মাতৃভূমির নিরাপত্তা কোনও রাজ্যস্তরের রাজনীতির দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না। আইনের শক্তিতে অবশেষে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পাতা ‘লাল কার্পেট’ গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ফেডারেল সহযোগিতার প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ্যে আসে। কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যাখ্যা দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রের যুক্তি, ভারতের সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন, তখন কোনও রাজ্য নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৪০-এর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দেয়, সন্ত্রাসবাদী, অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারিদের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষা করা একটি স্থায়ী জরুরি অবস্থা, যা রাজ্যের ধীর আমলাতান্ত্রিক গতির ঊর্ধ্বে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবীরা বিএসএফের জরুরি প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে তাদের ‘ডাইরেক্ট পারচেজ পলিসি (DPP)’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা ‘স্ট্যান্ডার্ড রুল’ ও ‘মামলামুক্ত প্রক্রিয়া’র কথা বলেন, যেন রাষ্ট্রবিরোধী অনুপ্রবেশ রাজ্যের সুবিধামতো অপেক্ষা করতে পারে। জাতীয় প্রতিরক্ষাকে শুধুমাত্র একটি ‘পরিকাঠামো প্রকল্প’ হিসেবে দেখিয়ে জরুরি ক্ষমতাকে ব্যতিক্রম বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

    বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা

    এই ফাঁপা যুক্তির ফল ছিল স্পষ্ট, অবৈধ সীমান্ত কার্যকলাপের দরজা খোলা রেখে বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা। হাইকোর্ট রাজ্যের এই গড়িমসি কৌশলে বিভ্রান্ত হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের মতো গুরুতর বিষয়ে কীভাবে ‘অচল সেতু’র জন্য তৈরি নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে?
    আদালত সরাসরি জানতে চায়, এত বছর আগেই কেন ধারা ৪০ প্রয়োগ করা হয়নি, যা কার্যত সীমান্ত রক্ষায় রাজ্যের সদিচ্ছার অভাবকেই তুলে ধরে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর কোনও বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই। ‘ভোটার তালিকা সংশোধনে’র অজুহাত পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে বন্দি করা  যাবে না (Mamata Banerjee)। রাজ্যের দীর্ঘদিনের অন্তর্ঘাত ঠেকাতে আদালত তিনটি স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। এগুলি হল, যেসব জমির মূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা। ডিপিপি প্রক্রিয়ায় থাকা জমির ক্ষেত্রে একই সময়সীমার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়া। যেখানে কোনও কাজই হয়নি, সেখানে ধারা ৪০ অনুযায়ী জরুরি অধিগ্রহণের পথ খোলা।

    স্পষ্ট সংকেত

    এতে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মদতে সীমান্ত দুর্বল করার যুগের আইনি সমাপ্তি ঘটছে। এই হস্তক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষার পক্ষে বড় জয় এবং টিএমসির ‘নরম সীমান্ত’ নীতির বিরুদ্ধে কড়া পরাজয়। বছরের পর বছর বেঙ্গলের অরক্ষিত সীমান্ত চোরাকারবারি, মাদকচক্র ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রাণরক্ষার পথ ছিল। আদালতের নির্দেশে এবার সেই ফাঁক বন্ধ হতে চলেছে (Bharats Frontiers)। এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হবে, রাজ্য অবশেষে দেশপ্রেম দেখাবে, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা চালিয়ে যাবে। এই সময়সীমাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শেষ পরীক্ষা। বিচারব্যবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির বলিতে মাতৃভূমির নিরাপত্তা আর দেওয়া হবে না। বস্তুত, আইনের শাসন অবশেষে প্রহরীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্তর্ঘাতকারীকে নয়।

     

  • Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর

    শ্রীরামকৃষ্ণ—Sir Humphrey Davy ও অবতারবাদ

    ঠাকুর (Ramakrishna) মাস্টারের সহিত ডাক্তার সরকারের কথা কহিতেছেন। পূর্বদিনে ঠাকুরের সংবাদ লইয়া মাস্টার ডাক্তারের কাছে গিয়াছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তোমার সঙ্গে কি কি কথা হল?

    মাস্টার—ডাক্তারের ঘরে অনেক বই আছে। আমি একখানা বই সেখানে বসে বসে পড়ছিলাম। সেই সব পড়ে আবার ডাক্তারকে শোনাতে লাগলাম। Sir Humphrey Davy-র বই। তাতে অবতারের প্রয়োজন এ-কথা আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বটে? তুমি কি কথা বলেছিলে (Kathamrita)?

    মাস্টার — একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না। (Divine Truth must be made human Truth to be appreciated by us)। তাই অবতারাদির প্রয়োজন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বাঃ, এ-সব তো বেশ কথা!

    মাস্টার — সাহেব উপমা দিয়েছে, যেমন সূর্যের দিকে চাওয়া যায় না, কিন্তু সূর্যের আলো যেখানে পড়ে, (Reflected rays) সেদিকে চাওয়া যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বেশ কথা, আর কিছু আছে?

    মাস্টার — আর এক যায়গায় ছিল, যথার্থ জ্ঞান হচ্ছে বিশ্বাস।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এ তো খুব ভাল কথা। বিশ্বাস হল তো সবই হয়ে গেল (Kathamrita)।

    মাস্টার — সাহেব আবার স্বপ্ন দেখেছিলেন রোমানদের দেবদেবী।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এমন সব বই হয়েছে? তিনিই (ঈশ্বর) সেখানে কাজ করছেন। আর কিছু কথা হল?

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও ‘জগতের উপকার’ বা কর্মযোগ

    মাস্টার — ওরা বলে জগতের উপকার করব। তাই আমি আপনার কথা বললাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — কি কথা?

    মাস্টার — শম্ভু মল্লিকের কথা। সে আপনাকে বলেছিল, ‘আমার ইচ্ছা যে টাকা দিয়ে কতকগুলি হাসপাতল, ডিস্পেন্সারি, স্কুল, এইসব করে দিই; হলে অনেকের উপকার হবে।’ আপনি তাকে যা বলেছিলেন, তাই বললুম, ‘যদি ঈশ্বর সম্মুখে আসেন, তবে তুমি কি বলবে, আমাকে কতকগুলি হাসপাতাল, ডিস্পেনসারি, স্কুল করে দাও!’ আর-একটি কথা বললাম।

  • Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) ডিমাপুরে হয়ে গেল বিশাল হিন্দু সম্মেলন (Hindu Sammelan)। ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ডিমাপুর হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে ডিডিএসসি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ওই সম্মেলনের। এই সম্মেলনে যোগ দেন নাগাল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা হাজার পাঁচেক মানুষ। এই সম্মেলন রাষ্ট্রীয় স্বার্থ (রাষ্ট্রীয়ত)-কে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় দায়িত্ব নিয়ে ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব (Hindu Sammelan)

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আরএসএসের অখিল ভারতীয় কার্যকরিণী সদস্য মনমোহন বৈদ্য, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির অখিল ভারতীয় সহ-সারকার্যবাহিকা সুনীতা হালদেকর, রমেশ কুমার মুনি এবং প্রখ্যাত সমাজচিন্তক থুনবাই। তাঁদের উপস্থিতি সম্মেলনকে বৌদ্ধিক গভীরতা ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা সাংস্কৃতিক আত্মসচেতনতা, সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে। বক্তৃতায় বলা হয়, সনাতন মূল্যবোধ ভারতের সভ্যতাগত চেতনাকে শক্তিশালী করতে এবং বহুবিধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Hindu Sammelan)।

    ভারতের প্রকৃত শক্তি

    বক্তব্যে বৈদ্য বলেন, “ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও সমষ্টিগত চেতনায়।” তিনি সমাজ বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, “জাতি গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং আদিবাসী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।” সম্মেলনে সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জাতীয় দায়িত্ব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানের শেষে সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং একটি শক্তিশালী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভারত গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখার যৌথ সংকল্প গ্রহণ করা হয় (Nagaland)।

    ডিমাপুরে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলন জাতীয় সংহতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের আদর্শকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে। এটি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতে’র বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Hindu Sammelan)।

     

  • Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহু ধিন ধরে রাজনীতি করছি, এরকম ঔদ্ধত্য আমি আগে দেখিনি (Election Commission)।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানাতে সদলে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর বৈঠক হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের সঙ্গে। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম! (Election Commission)

    জানা গিয়েছে, বেঁচে থাকতেও নির্বাচন কমিশনের নথিতে মৃত বলে চিহ্নিত এমন ৫০জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন মমতারা। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০জনকেও দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের (Mamata Banerjee)। সেখানেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল। যদিও খানিক পরে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগও করেন মমতা।

    হিন্দু-মুসলমান

    তাঁর দাবি, “যাঁরা হিন্দু-মুসলমান করেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন (Election Commission)। ক’জন হিন্দু?” তাঁর আরও প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত অসমে কেন এই প্রক্রিয়া করা হল না?” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের নামে রাজ্যে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব করা হয়েছে। তার নেপথ্যে রয়েছেন সীমা খন্না। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার পরেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যাখ্যা চাইছে না।”

    প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা

    এদিন আরও একবার প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন। ওঁর বাবা-মায়ের জন্ম-কুন্ডলী বের করতে বলুন।” তিনি বলেন, “লালকৃষ্ণ আডবাণীর নাগরিকত্ব এবং জন্মস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নও এক সময় উঠেছিল।” এদিনের বৈঠকের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, “বৈঠকের সময় কমিশনের নিজস্ব ক্যামেরাম্যানরা উপস্থিত ছিলেন, অথচ বাইরের ক্যামেরাম্যানদের সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যা ইচ্ছে, তাই করবেন, তা তো হয় না! বহুদিন ধরে রাজনীতি করছি, মন্ত্রীও ছিলাম (Election Commission)। এরকম অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি (Mamata Banerjee)।”

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

  • Jammu-kashmir: শীতের ভোরে জম্মু-কাশ্মীরে ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কিত জনজীবন!

    Jammu-kashmir: শীতের ভোরে জম্মু-কাশ্মীরে ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কিত জনজীবন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu-kashmir) বারামুল্লা জেলায় ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের জাতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। দফতরের কর্মকর্তারা জানান, ভোর ৫.৩৫ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয় এবং পাত্তন এলাকা ছিল এর কেন্দ্রস্থল। তবে এদিন ভোররাতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও ভূমিকম্প (Earthquakes) হয়েছে। এনসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে সেখানকার কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬।

    যার কেন্দ্রস্থল হানজিওয়েরা বালা (Jammu-kashmir)

    এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পের ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অ্যান্ড্রয়েড ভূমিকম্প (Earthquakes) সতর্কতা ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় ভোর ৫:৩৫ মিনিটে ঘটেছিল, যার কেন্দ্রস্থল হানজিওয়েরা বালা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ছিল। ভূমিকম্পের এলাকা শ্রীনগর, বারামুল্লা, সোপোর, গান্ডারবাল, পুলওয়ামা এবং আশেপাশের এলাকা সহ বিস্তৃত অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, এবং প্রভাব অঞ্চলটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কিছু অংশেও বিস্তৃত ছিল।

    একমুহূর্তের মধ্যেই সকলে আতঙ্কিত

    পাশাপাশি স্থানীয়রা (Jammu-kashmir) জানিয়েছেন, হঠাৎ ভূমিকম্পে (Earthquakes) আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলাম। অনেকেই ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বেশ কয়েকটি পাড়ায় জানালা, দরজা এবং গৃহস্থালীর জিনিসপত্র ঝাঁকুনি দিয়ে উঠেছিল। ফলে একমুহূর্তের মধ্যেই সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সময়টা এমন ছিল যখন শীতের ভোরে সকলে ঘুমিয়ে ছিলেন।

    কোনও ধরনের গুজবে কান দেবেন না

    এসডিএমএ-র এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “এই ভূমিকম্পের (Earthquakes) কারণে কোনও ধরনের জীবনহানির খবর নেই। প্রশাসন (Jammu-kashmir) পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রশাসন সাধারণ নাগরিককে অযথা আতঙ্ক না করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্যেও বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, তবে জনগণকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হবে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”

    ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড্‌স একটি জাতীয় ভূকম্পন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে কাশ্মীর-সহ হিমালয় অঞ্চলকে ছ’নম্বর সিস্‌মিক জ়োনে রাখা হয়েছে। অপর দিকে আন্দামানের এই মানচিত্রে রয়েছে পাঁচ নম্বর তালিকায়।

  • Baloch liberation Army: পাকিস্তানে হামলার পিছনে দুই বালুচ তরুণী! আত্মঘাতী বোমায় উড়িয়েছেন শেহবাজের বহু সেনা  

    Baloch liberation Army: পাকিস্তানে হামলার পিছনে দুই বালুচ তরুণী! আত্মঘাতী বোমায় উড়িয়েছেন শেহবাজের বহু সেনা  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক জেলায় হামলার ঘটনায় সরাসরি নিজেদের ভূমিকার কথা জানালো বালুচ লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army)। ইতিধ্যে দুই আত্মঘাতী বোমারুর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বিএলএ-র তরফে। শনিবার হামলার পরেই বালুচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছিল, তাঁদের সশস্ত্র সংগ্রামে একাধিক তরুণী যোদ্ধারা যোগদান করেছেন। এইবারে তাঁদের ছবি প্রকাশ করেছে বিলএ। দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তানের কট্টর মৌলবাদী সরকার বালুচিস্তানের মানুষদের দাবি-দাওয়া, আন্দোলনকে স্বীকৃতি দেয়নি। পাল্টা বালুচ সম্প্রদায়ের মেয়ে, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গত কয়েক দশক ধরে খুন, অপহরণ করছে পাক সেনা। নিজেদের ভূমির জল, জঙ্গল, সম্পত্তির উপর জোর পূর্বক পাকিস্তান কব্জা করে রেখেছে। তাই পাক সরকার এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বালুচ লিবারেশন আর্মি নিজদের অস্তিত্বের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

    ২৪ বছরের তরুণী (Baloch liberation Army)

    শনিবার ৩১ জানুয়ারি পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পাকিস্তানের (Pakistan) বালুচিস্তান (Baloch liberation Army) প্রদেশ। বিস্ফোরণের মধ্যে কোনওটা ছিল আত্মঘাতী আবার কোনওটা সাধারণ বিস্ফোরণ। তবে এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে দুই নারী। রবিবার বালুচ লিবারেশন আর্মি নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছে। একজনের নাম আসিফা মেঙ্গাল, বয়স ২৪ বছর। দ্বিতীয় জনের ছবি প্রকাশিত হলেও নাম জানা যায়নি। তবে হামলার নেতৃত্বে ছিলেন দুই নারী, এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও।

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবৃতি

    একটি বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা জানিয়েছে, “বালুচিস্তানের (Baloch liberation Army) নুশিক এলাকার বাসিন্দা আসিফা। ২০০২ সালের ২ অক্টোবর তাঁর জন্ম। মাত্র ২১ বছর বয়সে আসিফা বালুচ লিবারেশন আর্মির মজিদ ব্রিগেডে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি আত্মঘাতী হামলায় যোগদানদের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার নুশকিতে পাকিস্তানের (Pakistan) গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর দফতরে হামলা চালিয়েছিলেন আসিফাই।”

    বালুচ জাতিকে জাগ্রত করতে হবে

    হামলাকারী নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় নারীর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিএলএ। তাতে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে পাক সরকারের আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। অপর আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হাতে বন্দুক নিয়ে অন্য এক তরুণীকে তিনি বলছেন, “পাক সরকার (Pakistan) আমাদের জোর করে দমিয়ে রাখতে বল প্রয়োগ করে। সরাসরি আমাদের মুখোমুখি হতে পারে না। সেই ক্ষমতাও নেই। বালুচ (Baloch liberation Army) জাতিকে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের অবশ্যই বালুচ সরমাচারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে। শত্রুর দিন শেষ; তাদের খুব বেশি শক্তি নেই। বালুচ জাতিকে বুঝতে হবে যে এই শত্রুর সাথে কোনও আপস করা যাবে না।”

    গত কয়েক মাসে বালুচিস্তানে (Baloch liberation Army) পাক সেনার সঙ্গে সংঘর্ষ চরমে উঠেছে। নিজেদের অধিকার অর্জন না করা পর্যন্ত কখনও বিএলএ থেমে থাকবে না। রবিবার এই এলাকার কোয়েটা, নুশকি, মাসটাং, ডালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, গদর এবং পাসনিতে একযোগে হামলা চালায় বালোচ লিবারেশন আর্মি।

  • JAMPK: পর্যটকের ভিড় উদমপুরের লাধা ধরায়, কেন জানেন?

    JAMPK: পর্যটকের ভিড় উদমপুরের লাধা ধরায়, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তুষারধবল বরফে ঢাকল জম্মু-কাশ্মীরের উদমপুর জেলার (JAMPK) চেনানি এলাকার লাধা ধর। এক সময় এই অঞ্চলটি ছিল দুর্গম। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তা নির্মাণ হওয়ায়, জায়গাটি (Ladha Dhar) বর্তমানে সুগম হয়েছে। তাই এলাকাটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছে নয়া ডেস্টিনেশন। ভিড়ে ঠাসা পর্যটনকেন্দ্র থেকে দূরে, ‘খাঁটি সাদা সোনা’ খুঁজতে আসা পর্যটকদের কাছে এই অজানা গন্তব্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পর্যটকের চাপ কম থাকায় এখানকার তুষার এখনও একেবারে নির্মল, দূষণমুক্ত ও স্বচ্ছ। এটি বিখ্যাত পাহাড়ি স্টেশনগুলির বাণিজ্যিক ঢাল থেকে একেবারেই ভিন্ন।

    লাধা ধরের অতুলনীয় সৌন্দর্য (JAMPK)

    যাঁরা সাধারণত শ্রীনগর বা পাটনিটপে বেড়াতে যান, তাঁরাও এখন অন্যদের লাধা ধরের অতুলনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এখানকার দৃশ্য এক কথায় শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক শিল্পকর্ম। পর্যটকদের একজন, শ্রেয়া শর্মা সংবাদ মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি উদমপুর জেলারই বাসিন্দা। আজ আমি উদমপুরের লাধা ধর এলাকায় এসেছি। আমার মতে এটি খুবই সুন্দর জায়গা এবং আমি এখানে এসে খুব উপভোগ করছি। এখানে আসার জন্য আমি ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম, কারণ এখন পর্যটকরাও আসছেন। আমি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় এই রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেই জন্যই আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি। আগে এখানে কোনও রাস্তা ছিল না, আসা খুব কঠিন ছিল। এখন আমরা পুরো তুষার আর বরফের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছি। এখানে এসে আমি সত্যিই খুব খুশি। যারা আমাদের দেখভাল করছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাই। সবাইকে বলতে চাই, এখানে এসে এই সুন্দর তুষারাবৃত পাহাড়গুলির শোভা উপভোগ করুন। এখানকার সৌন্দর্য অসাধারণ। আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে খুব আনন্দ পেয়েছি (Ladha Dhar)। এখানে প্রচুর বরফ ছিল এবং তা একেবারেই পরিষ্কার—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি অন্য পর্যটকদেরও এখানে আসার অনুরোধ করছি (JAMPK)।”

    পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া

    রিয়া শর্মা নামে আর এক পর্যটক বলেন, “আমি উদমপুর জেলার বাসিন্দা। আজ আমরা লাধা ধর এসেছি এর সৌন্দর্য দেখতে। পর্যটকরা এখানে আসেন, আমরাও আজ রবিবার সময় পেয়ে এসেছি। আজ ছুটি ছিল বলে ভাবলাম ঘুরে আসি। এটা আমাদের ছোট কাশ্মীর। সবাই পাটনিটপ, সানাসা আর নাথা টপে যায়, কিন্তু এখানে এলে আপনি অনেক মানুষ দেখতে পাবেন। এখানকার বরফ একেবারে সাদা আর টাটকা। চারদিকে তুষারঢাকা পাহাড় দেখা যায়। আমি সব পর্যটককে এখানে আসতে উৎসাহ দিতে চাই। এখানে এলে আরও বেশি আনন্দ ও সতেজ অনুভূতি পাওয়া যাবে।”

    এই পর্যটন প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)। সম্প্রতি এই প্রকল্পের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায়, আগে যেখানে দুর্গম পথে হেঁটে পৌঁছতে হত, এখন সেখানে সহজেই গাড়িতে যাতায়াত করা যাচ্ছে। ফলে পরিবার ও পর্যটকেরা আরামে লাধা ধরের উচ্চভূমিতে পৌঁছে জম্মু বিভাগের অন্তরে থাকা (Ladha Dhar) এই অক্ষত, নির্মল তুষারপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন (JAMPK)।

     

  • Baloch liberation Army: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলায় বালুচ বিদ্রোহীরা ২০০ পাকিস্তানি সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে

    Baloch liberation Army: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলায় বালুচ বিদ্রোহীরা ২০০ পাকিস্তানি সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলা, বালুচ বিদ্রোহীরা (Baloch liberation Army) ২০০ পাকিস্তানি (Pakistan) সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে। বিএলএ তাদের নিজস্ব বাহিনীর ক্ষতি স্বীকার করে বলেছে, অভিযানের সময় তাদের ১৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে মাজিদ ব্রিগেডের ১১ জন ‘ফিদায়েন’ বা আত্মঘাতী বোমারু, ফতেহ স্কোয়াডের চারজন যোদ্ধা এবং এসটিওএস ইউনিটের তিনজন যোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    ৪০ ঘণ্টা ধরে অভিযান (Baloch liberation Army)

    বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army) অপারেশন হেরোফ ফেজ আই নামে অভিযান চালায়। বালুচিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলায় ৪০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে এই অভিযান। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক হতাহতের অভিযোগ করেছে এবং একাধিক শহর ও গ্রামীণ স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

    বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের যোদ্ধারা খারান, মাস্তুং, টুম্প এবং পাসনি সহ এলাকায় অভিযান সম্পন্ন করেছে। অন্যান্য স্থানে লড়াই এখনও সক্রিয় রয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা কোয়েটা এবং নোশকির কিছু অংশে উপস্থিত ছিল, ইসলামাবাদের (Pakistan) সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে অনেকটাই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    ২০০ জনের বেশি পাক সেনা নিহত

    বিএলএ-এর (Baloch liberation Army) দাবি অনুসারে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ২০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিসংখ্যানগুলির ভিত্তিতে প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, হামলায় ১৭ জন আইন প্রয়োগকারী কর্মী এবং ৩১ জন বেসামরিক লোক এখনও পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।

    আরেকটি পৃথক ঘটনায় বিএলএ জানিয়েছে, নশকির ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ হুসেন হাজারা এবং সহকারী কমিশনার মারিয়া শামুকে আটক করে পরে মুক্তি দিয়েছে। বিএলএ এই মুক্তিকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না যদি না তারা আমাদের যোদ্ধাদের সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করে। বালুচদের তরফে সতর্ক করে দিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তা এবং পুলিশ কর্মীদের। দখলদারিতে পাক সেনাবাহিনীকে সহায়তা করলে কেবল মাত্র শত্রু রূপেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

    বিএলএ যোদ্ধা নিহত

    এদিকে, পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ৯২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে, শুক্রবার হয়েছিল ৪১ জন। বিএলএ (Baloch liberation Army) তাদের নিজস্ব বাহিনীর ক্ষতি স্বীকার করে বলেছে, অভিযানের সময় তাদের ১৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে মাজিদ ব্রিগেডের ১১ জন ‘ফিদায়েন’ আত্মঘাতী বোমারু, ফতেহ স্কোয়াডের চারজন যোদ্ধা এবং এসটিওএস ইউনিটের তিনজন যোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    একটি পৃথক বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, হামলায় মহিলা অপরাধীরা জড়িত ছিল। ফিদায়েনের মধ্যে ছিলেন আসিফা মেঙ্গাল, যিনি নোশকিতে আইএসআই ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স সদর দফতর লক্ষ্য করে ভিবিআইইডি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। আসিফা মেঙ্গল ২০২৩ সালের ২রা অক্টোবর বালুচ লিবারেশন আর্মির মাজিদ ব্রিগেডে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ফিদাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। গত শুক্রবার হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গোয়াদর ফ্রন্টে তাদের মিশন, ফিদায়ি হাওয়া বালুচ, তার সহযোগী ফিদায়িনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন। তারা তার নিহত হওয়ার বারো ঘন্টা আগে পাঠানো শেষ বার্তার ভিডিওটিও পোস্ট করেছে।

    পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, অন্তত দুটি হামলায় নারী অপরাধীরা জড়িত ছিল। নিহতদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকা, নিরাপত্তা বাহিনীর সান্নিধ্য এড়িয়ে চলা এবং যেসব অঞ্চলে অভিযান চলছে সেখানে বিএলএ যোদ্ধাদের সমর্থন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি

    পাকিস্তানের (Pakistan) বৃহত্তম কিন্তু কম জনবহুল প্রদেশ বালুচিস্তানে রাজনৈতিক প্রান্তিককরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ (Baloch liberation Army) চালাচ্ছে। তাঁরা বিএলএ এই গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং পাকিস্তান এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করেছে।

    যদিও পাকিস্তান প্রায়শই বিএলএ-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তবুও বেলুচ বিদ্রোহীদের প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত, বিএলএ কর্তৃক বর্ণিত সংঘর্ষের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যার ফলে পরিস্থিতি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। বালুচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনীর নীরবতাকে ব্যাখ্যা করে।

LinkedIn
Share