Tag: Bengali news

Bengali news

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ তৃণমূল সরকার”, তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।” শনিবার এমনই আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশের প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে, যা শুধু রাজ্যের জন্য নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার পক্ষেই বড় ধরনের হুমকি (Amit Shah)। ব্যারাকপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ (BJP) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।”

    অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে (Amit Shah)

    শাহের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর দাবি, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যও তিনি খারিজ করে দেন যে, সীমান্তের দুর্বলতার জন্য কেন্দ্র দায়ী। শাহের মতে, প্রকৃত সমস্যা হল বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকারের অনিচ্ছা। তিনি বলেন, “হাইকোর্ট বিএসএফের পক্ষে রায় দেওয়ার পরেও জমি হস্তান্তর করা হয়নি। এই অবস্থায় বেড়া কীভাবে সম্পূর্ণ হবে?” শাহের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে। তাঁর দাবি, এর সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা অবাধে রাজ্যে ঢুকছে এবং রাজনৈতিক চাপে রাজ্য প্রশাসনের একাংশ ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করছে।

    কী বললেন শাহ?

    আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, “শাসক দল অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভোটব্যাঙ্কে’ পরিণত করেছে। এপ্রিলের শেষের মধ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সঙ্গে সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।” সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি (Amit Shah)। মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিয়েও কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বলেন, “বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর এবং কেন্দ্রীয় সরকার মতুয়াদের পাশে রয়েছে। তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।” মতুয়া সম্প্রদায়ের আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও সংবিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য টিএমসি বৈধ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

    শেকড়-সহ উৎখাত করার ডাক

    নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দলকে শানিত আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে (BJP)। এই সরকারকে শেকড়-সহ উৎখাত করতে হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কল্পিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শাহ বলেন, “দলটি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করবে।” তাঁর বক্তব্য, যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়, জনগণের রায়ে তারা টিকতে পারে না। শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখে শাহ বলেন, “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে টিএমসি সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছে।” তাঁর মতে, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ওপর একটি বড় আঘাত (Amit Shah)।

    এর আগে, কলকাতার আনন্দপুরে একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, বরং টিএমসি শাসনের দুর্নীতির ফল। বক্তব্যের শেষে সমর্থকদের হাত তুলে বিজেপি সরকারের সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনতার উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “তাঁরা কি (BJP) বর্তমান সরকারকে সরিয়ে একটি নিরাপদ ও পুনর্গঠিত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে প্রস্তুত?”

     

  • Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ নামে একটি নয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করল (Union Budget) কেন্দ্রীয় সরকার (Modi Govt)। রবিবার এই ঘোষণাটি করা হয়। কমিটির লক্ষ্য হল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভারতীয় কর্মশক্তিকে প্রস্তুত করা। সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই কমিটি মূলত পরিষেবা খাতের ওপর গুরুত্ব দেবে, যাকে তিনি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন।

    নতুন প্রযুক্তির প্রভাব (Union Budget)

    এই কমিটি কর্মসংস্থানের ফল উন্নত করা এবং এআই-সহ নতুন প্রযুক্তির প্রভাব ভারতের শ্রমবাজারে কীভাবে পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করবে। তরুণদের জন্য শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে একটি মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পরিষেবা খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালক। নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি পরিষেবা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করবে, যা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। সীতারামন জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পরিষেবা বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তাঁর মতে, কমিটি এমন ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করবে যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এবং রফতানি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে (Union Budget)।

    ডিজিটাল সরঞ্জাম

    কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে এআই-সহ নতুন প্রযুক্তি শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়ন করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সরঞ্জাম কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।” এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমিটি সুপারিশ করবে, কীভাবে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এআই-সহ উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব কর্মসংস্থান ও দক্ষতার চাহিদার ওপর কীভাবে পড়ছে, তা মূল্যায়ন করে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হবে।” তিনি আরও (Modi Govt) বলেন, “তরুণদের জন্য বহুমুখী ও দক্ষ পেশাগত সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেবে (Union Budget)।”

    সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা

    এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হবে অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনস বা সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা। অর্থমন্ত্রী জানান, এই খাতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এতে ১০টি নির্বাচিত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে অপটোমেট্রি, রেডিওলজি, অ্যানেস্থেশিয়া, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি ও বিহেভিয়ারাল হেলথ। অর্থমন্ত্রীর মতে, আগামী পাঁচ বছরে এর ফলে প্রায় এক লাখ নতুন সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনি দেশে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদাও মেটানো যাবে।

    পরিষেবা খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ ভারতের এমন এক (Modi Govt) কর্মশক্তি গড়ে তুলবে, যা আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে (Union Budget)।

     

  • Budget 2026: বাজেট পেশ নির্মলার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

    Budget 2026: বাজেট পেশ নির্মলার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশে’র সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও মজবুত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে।

    বাজেটে বিশেষ জোর (Budget 2026)

    এই বাজেটে পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাত সংস্কার, রাজস্ব সংহতি এবং বাজারের গভীরতার (market deepening) ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নীতিগত ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সীতারামনের বাজেট বক্তৃতার প্রধান দিকগুলি হল, পরিকাঠামোকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অর্থমন্ত্রী ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেন। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা। ক্রিসিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি, যা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবহণ খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে সাতটি নয়া হাই-স্পিড রেল করিডরের কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এগুলি হল, মুম্বই–পুণে, পুণে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, দিল্লি–বারাণসী এবং বারাণসী–শিলিগুড়ি। এই করিডরগুলির লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণে উৎসাহ দেওয়া এবং শহরগুলির মধ্যে সংযোগ আরও মজবুত করা।

    ভারতের বন্ড বাজার

    ভারতের বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে কর্পোরেট বন্ড সূচকের ওপর তহবিল ও ডেরিভেটিভ ব্যবহারের সুযোগ-সহ একটি মার্কেট-মেকিং কাঠামোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে এবং সংস্থাগুলির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Budget 2026)। ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যাঙ্কিং কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে আগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করবে (Nirmala Sitharaman)। বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের লক্ষ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত এনআরআই বিনিয়োগ সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগ সীমা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।

    বন্ড বাজার সংস্কার

    অর্থমন্ত্রী রাজস্ব শৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Budget 2026)। তুলনায়, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে সংশোধিত অনুমান ছিল ৪.৪ শতাংশ। এই ধাপে ধাপে ঘাটতি কমানোর রূপরেখা প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ইঙ্গিত দেয়। কর সংক্রান্ত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে অপশন ট্রেডিংয়ের ওপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব ডেরিভেটিভস ব্যবসায়ীদের ওপর পড়তে পারে, তবে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে (Nirmala Sitharaman)। বন্ড বাজার সংস্কার এবং এনআরআই বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলি ভারতীয় আর্থিক বাজারকে আরও গভীর, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ (Budget 2026)।

    মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

    সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ২০২৬ সালের বাজেটে বড় কোনও নীতিগত পরিবর্তনের বদলে ধারাবাহিকতা ও পরিমিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকার পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক সম্প্রসারণ, রাজস্ব সংহতি এবং আর্থিক খাত শক্তিশালী করার পথ বেছে নিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্মলা সীতারামনের নবম বাজেট উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সতর্কতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিকাঠামো, বাজার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে ভারতের মধ্যমেয়াদি (Nirmala Sitharaman) প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে (Budget 2026)।

     

  • Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রধান আকর্ষণ মাঘপূর্ণিমার (Magha Purnima) মহাপুণ্যস্নান। আজ যখন ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ মাঘী পূর্ণিমা—অর্থাৎ পবিত্র মাঘ মাসের সমাপ্তি সূচক পূর্ণিমা—উদযাপন করছেন, তখন দেশ এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সঙ্গমের সাক্ষী থাকছে। সনাতন সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা (Spiritual Winter) মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    স্নানের বিজ্ঞান (Magha Purnima)

    মাঘী পূর্ণিমার স্নান নিছক একটি স্নানই নয়, এটি শরীরের একটি ‘সিস্টেম রিবুট’। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল গঙ্গা বা যমুনার কাব্যিক গুণগান করেননি, তাঁরা ছিলেন আদি ‘হাইড্রো-জিওলজিস্ট’। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) একটি বিশাল জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিন্যাস ঘটে। এই সময়  সূর্য মকর রাশিতে এবং চাঁদ কর্কট রাশিতে অবস্থান করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট মহাকর্ষীয় এবং চন্দ্রের সংযোগ পৃথিবীর জলভাগকে একটি অনন্য তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electromagnetic) শক্তিতে পূর্ণ করে তোলে। এই স্নান বা ‘ডুব’ দেওয়া আসলে আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করে এবং শরীরের ‘বায়ো-রিদম’-কে পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। এটি আত্মার (Spiritual Winter) পক্ষে একটি হার্ডওয়্যার রিবুটের মতো।

    চৈতন্য ভূগোল

    সজীব মানচিত্র হিসেবে ভারত এই দিনটি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে ঘেরা একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি ‘চৈতন্য ভূগোল’। প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোনও ছোট মন্দিরের পুকুর—পুরো দেশ আজ জলের দিকে ধাবিত হয়। এই ‘আধ্যাত্মিক পরিযান’ (Spiritual Winter) আমাদের সভ্যতার অদৃশ্য আঠা। আমাদের কোনও কেন্দ্রীয় সদর দফতর বা নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই, আমাদের নদীগুলিই আমাদের শিরা, আর পূর্ণিমার স্পন্দনই আমাদের বলে দেয় কখন এগিয়ে যেতে হবে।

    দানের প্রোটোকল

    ‘আমি ও আমার’ অহং ত্যাগ করতে এই দিনে মানুষ তিল, কম্বল এবং খাবার অকাতরে দান করেন। এটি কোনও পশ্চিমি ‘দয়া’ বা ‘চ্যারিটি’ নয়, এটি হল ভারতের ‘নিষ্কাম কর্ম’। আমরা দান করি কারণ আমরা জানি আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বা শরীর—সবই ‘বিরাট পুরুষ’-এর কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য পাওয়া। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) দান করা হল আসক্তি ত্যাগের একটি আচার। এটি মনের ভেতর থেকে ‘অহং’-এর সফটওয়্যার মুছে ফেলার মতো।

    পূর্ণত্ব

    ‘পূর্ণ’ ‘পূর্ণিমা’ (Magha Purnima) শব্দটি এসেছে ‘পূর্ণত্ব’ থেকে। বৈদিক বিশ্বদর্শন অনুযায়ী মানুষ ‘পাপী’ বা ‘ভাঙাচোরা’ কিছু নয়; আপনি ইতিমধ্যেই পূর্ণ। শান্তি মন্ত্রে বলা হয়েছে—“ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদম্ পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে…” (সেই পরমাত্মাও পূর্ণ, এই জীবাত্মাও পূর্ণ; পূর্ণ থেকেই পূর্ণের উৎপত্তি)। পূর্ণিমার চাঁদ আসলে একটি বিশাল মহাজাগতিক আয়না, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার ভেতরের আলোও পূর্ণ। নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্য কোনও বাইরের ত্রাতা (Spiritual Winter) বা বিদেশী মতাদর্শের প্রয়োজন নেই।

    মূল কথা

    মাঘী পূর্ণিমা (Magha Purnima) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এই মাটি এবং জলের অংশ। ২০২৬ সালের পূর্ণিমা ব্যস্ততাময় আধ্যাত্মিক প্রবাহে নিজেকে যুক্ত করার দিন। যদি আপনি কোনও পবিত্র নদীতে যেতে না পারেন, তবে বাড়িতেই বালতির জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন: “গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেস্মিন সন্নিধিং কুরু।” ব্যস্ততা চলুক, কিন্তু আপনার হৃদয় (Spiritual Winter) যেন পূর্ণ থাকে।

  • Union Budget: ফেব্রুয়ারির পয়লা দিনেই বাজেট পেশ, জানুন কারণ

    Union Budget: ফেব্রুয়ারির পয়লা দিনেই বাজেট পেশ, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget) সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলির একটি। এই বাজেটেই সরকার জানায়, নয়া অর্থবর্ষে তারা কীভাবে আয় করবে এবং সেই অর্থ ব্যয়ই বা করা হবে কীভাবে (February)। প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করেন। তবে বিষয়টি সব সময় এমন ছিল না। আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাজেট পেশ করা হত। প্রশ্ন হল, বাজেট পেশের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারিতে কেন পরিবর্তন করা হল?

    ব্রিটিশ আমলের রীতি (Union Budget)

    ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতে ব্রিটিশ আমলের রীতি অনুসরণ করে ফেব্রুয়ারির শেষ কর্মদিবসে বাজেট পেশ করা হত। কিন্তু সমস্যা হল, ভারতের অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে। তাই বাজেটে ঘোষিত নতুন নীতি ও করব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং করদাতাদের হাতে খুব কম সময় থাকত। বাজেট অনুমোদিত হয়ে কার্যকর হতে হতে প্রায়ই নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়ে যেত। এর ফলে বহু সরকারি পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারিত সময়ে চালু করা সম্ভব হত না, সেগুলি রূপায়নে দেরি হত। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি প্রথমবারের মতো ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেন। এরপর থেকে এই তারিখেই বাজেট পেশ হয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, নতুন অর্থবর্ষ শুরুর আগে সবাইকে পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

    বাজেট পেশের সময়ও পরিবর্তন

    একইভাবে, বাজেট পেশের সময়ও পরিবর্তন করা হয় (Union Budget)। ঔপনিবেশিক আমল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিকেল ৫টায় বাজেট পেশ করা হত। কিন্তু ১৯৯৯ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা এই সময় পরিবর্তন করে সকাল ১১টা করেন, যাতে গণমাধ্যমে বাজেটের ব্যাপক প্রচার সম্ভব হয় এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়ে (February)। বাজেট পেশের তারিখ পরিবর্তনের ঘোষণা হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিটিশন) দায়ের করা হয়। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, আগাম বাজেট পেশ করলে রাজ্য নির্বাচনের আগে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরকার জনতুষ্টিমূলক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    তবে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় বাজেট পুরো দেশের বিষয়, কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের নয়। বেঞ্চের মন্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাজেটের সঙ্গে রাজ্যগুলির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই এবং রাজ্য নির্বাচনের ঘনত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রমে বাধা হতে পারে না (Union Budget)।”

     

  • Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া সংলগ্ন ত্রিবেণীতে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ইসলামি আগ্রাসনের কারণে ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এক প্রাচীন কুম্ভমেলা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। একে বলা হচ্ছে “বঙ্গ ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব।” বঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন উদ্যোক্তারা।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav)

    হুগলি জেলার ত্রিবেণীকে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহাসিকভাবে ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ (Daksina Prayag) বলা হয়। এলাহাবাদের (প্রয়াগরাজ) মতো এখানেও রয়েছে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল। তবে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘যুক্তবেণী’, আর বাংলার ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘মুক্তবেণী’। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। সমুদ্র মন্থনের ফলে এখানেও অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল। এখানে স্নান করলে এই স্নান অমৃত স্নানের সমান। সূর্য দেবতার দক্ষিণায়ণের ফলে যেমন সব কিছুর পরিবর্তন হয় ঠিক তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়।

    মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা হত

    বৈষ্ণব পণ্ডিত বৃন্দাবন দাস সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটকে সেই স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে সপ্তর্ষিরা তপস্যা করেছিলেন এবং যেখানে স্নানের মাধ্যমে মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা যায়। ত্রিবেণীর ভিক্ষু এবং ঋষিরা সপ্তর্ষি (মৈত্রেয়ী, অত্রি, পুলস্ত, পুলহ, ব্যাস, বশিষ্ঠ এবং বিশ্বামিত্র নামে ৭ জন ঋষি তপস্যা করেছিলেন। এখানেই প্রতিবছর সমবেত হন লাখ লাখ ভক্ত। সাধু-সন্তদের নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহায়তায়, মাঘী সংক্রান্তি ভৈমি-একাদশী উপলক্ষে কুম্ভমেলা এবং কুম্ভ স্নানের আয়োজন করা হয়।

    ত্রিবেণীর (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং কুম্ভ ঐতিহ্যের গর্ব পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর এখানে কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ৭ শতাব্দী পর, তিন দিনের কুম্ভ মহাস্নান এবং মেলা এই অঞ্চলে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। ৩ দিন ধরে চলা গঙ্গা আরতি, রুদ্রাভিষেক এবং যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলেন লাখ লাখ ভক্ত। এবার ৭০৩ বছর পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কুম্ভমেলাকে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হল।

    কেন বন্ধ হয়েছিল এই মেলা?

    ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১২৯২-১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলমান আক্রমণকারী জাফর খান গাজির নেতৃত্বে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়। সেখানে থাকা পাল যুগের বিষ্ণু মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং হিন্দুদের ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বছর আগে এই মেলা ও স্নানযাত্রা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে থাকা বহু মন্দির ও বিহার ধ্বংস করে তার উপরেই তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মসজিদের ইমারত গড়ে তোলা হয়েছিল। মুসলিম শাসকরা যেভাবে যেদিকে এগিয়ে গিয়েছে সেখানকার পুরাতন সংস্কৃতিকে বরাবর ধ্বংস করেছে। ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, সপ্তগ্রাম এবং ত্রিবেণী (Daksina Prayag) দৃঢ়ভাবে ইসলামি আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির এবং মঠগুলি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী ধর্মীয় কাঠামোর ওপরেই মসজিদ এবং দরগা নির্মাণ করা হয়েছিল। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস ব্যানার্জি এবং প্রণব রায় জাফর খান গাজি দরগার স্তম্ভ, ভাস্কর্যের স্থাপত্যের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন যা হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ চিত্রের বিকৃত রূপ ধারণ করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই অঞ্চলে শেষ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দে।

    পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা

    দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর, স্থানীয় কিছু সাধু, সন্ন্যাসী এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথমবার এই কুম্ভমেলা (Daksina Prayag) পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলেন কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবাসী গবেষক এবং স্থানীয় ‘ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি’। তাঁদের গবেষণায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু রেফারেন্সও ব্যবহার করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে কুম্ভ মেলা হত। ফলে হুগলীর ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) করার ঘটনা কোনও বিছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সনাতনী সাংস্কৃতিক প্রবাহ।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও বর্তমান চিত্র

    ২০২৩ সালের ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মেলার পুনরুজ্জীবনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর যা হওয়া উচিত ছিল, তা হতে অনেক দেরি হয়ে গেল। ২০২৬ সালেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হতে চলেছে, যেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ লাখ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য

    বর্তমানে এই মেলায় কেবল পবিত্র স্নানই হয় না, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতি যেমন—কীর্তন, বাউল গান, গৌড়ীয় নৃত্য, শ্রীখোল এবং গঙ্গাপুজোর মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি এখন বাংলার হিন্দুদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরেই ত্রিবেণী কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু, সন্ন্যাসী, নাগারা আসেন। একই ভাবে প্রচুর পর্যটক এবং ভক্ত সমাগমও হয়।

    প্রতি ৬ বছর অন্তর হরিদ্বার এবং প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভ অনুষ্ঠিত হলেও, প্রতি ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতি, সূর্য এবং চন্দ্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে, পূর্ণকুম্ভ চারটি নির্ধারিত স্থানের একটিতে অনুষ্ঠিত হয়-প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক। প্রতি ১৪৪ বছরে একবার মহাকুম্ভ মেলা (Daksina Prayag) অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে, প্রয়াগরাজে।

    কবে কোন উৎসব?

    বঙ্গো ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসবের (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) যাত্রাপথ নিম্নরূপ:

    ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র ও শান্তি বচন

    নগর সংকীর্তন

    যোগ আসন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    রুদ্রাভিষেক ও রুদ্র মহাযজ্ঞ, শিব সহস্র নাম পাঠ (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    শিশুদের বসে আঁক প্রতিযোগিতা

    ধর্মসভা

    গঙ্গা আরতি


    ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    শান্তি কুম্ভ শোভাযাত্রা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের ভাষণ

    গীতা পাঠ

    সাধু ভান্ডারা

    কালী কীর্তন

    গৌড়িয় নৃত্য

    গঙ্গা আরতি

    ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অমৃতা স্নানযাত্রা

    ধর্মসভা

    সাধু ভোজন

    ধর্মীয় অনুষ্ঠান / কীর্তন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    গঙ্গা আরতি (সপ্তর্ষি ঘাট)

  • Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঘী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে ভারত ও বিশ্বের অগণিত মানুষ সন্ত গুরু রবিদাসের (Guru Ravidas) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) পালন করছেন। তিনি মধ্য যুগের ভারতে ভক্তি আন্দোলনের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, কবি এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। বঙ্গে যেমন শ্রী চৈতন্য ভক্তিবাদের জোয়ার এনেছিলেন, তেমনি উত্তর ভারতে ভক্তিবাদের প্রবক্তাদের মধ্যে সন্ত রবিদাস অন্যতম। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও আমাদের সাম্য, মানবতা এবং ভক্তি ও কর্মের মেলবন্ধনের পথ দেখায়।

    জন্ম ও পরিচয় (Guru Ravidas)

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রায়দাস বা রোহিদাস নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১৫শ শতাব্দীতে বারাণসীর নিকটবর্তী সীর গোবর্ধনপুর গ্রামে একটি দরিদ্র চর্মকার (মুচি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে প্রচলিত কঠোর জাতিভেদ প্রথা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন।

    কর্মই ধর্ম

    সন্ত রবিদাসের (Guru Ravidas) জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর পেশা ও সাধনার সমন্বয়। তিনি চটি বা জুতো তৈরির কাজকে কখনও হীন মনে করেননি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “মন চাঙ্গা তো কঠোতি মে গঙ্গা” অর্থাৎ, যদি মন পবিত্র থাকে, তবে কাঠের তৈরি ছোট পাত্রের জলেই গঙ্গার পবিত্রতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি শিখিয়েছেন, ভগবানকে পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই; সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজ করাই হল প্রকৃত উপাসনা। তাঁর লেখা দোহার মধ্যে হল-

    “রবিদাস জীবাত্মা প্রভু কি, হয় না দুজা কয়ে

    জিঁও জল মে জল মিল গয়া, তিওঁ হরি মে মিলনা হয়।”

    সামাজিক সংস্কার ও সাম্য

    গুরু রবিদাস (Guru Ravidas) জাতিভেদ প্রথা এবং অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘বেগম্পুরা’ (Begampura) নামক এক আদর্শ সমাজের স্বপ্ন দেখতেন—যেখানে কোনও দুঃখ, ভয় বা বৈষম্য থাকবে না। তিনি প্রচার করেছিলেন যে, মানুষ তাঁর জন্মের পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর কর্মের মাধ্যমে মহান হন। তাঁর এই দর্শন কেবল নিচুতলার মানুষের মধ্যে নয়, বরং তৎকালীন সমাজের উঁচুতলার রাজকীয় ব্যক্তিদেরও আকৃষ্ট করেছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণভক্ত মীরাবাঈ তাঁকে নিজের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জন্মদিনে (Birth Anniversary) রবিদাসের একটি দোহাকে স্মরণ করে বলা যায়-

    “তোহি মোহি, মোহি তোহি, অন্তর কায়সা, কনক কাটিক, জল লহর যাইসা।”

    আধ্যাত্মিক অবদান ও শিখ ধর্মে স্থান

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রচিত ভজন ও পদাবলী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গুরু রবিদাসের ৪১টি পবিত্র বাণী বা স্তোত্র শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহেবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রমাণ দেয়। হরি ভজনের ওপর রবিদাস লিখেছেন-

    “হরি সা হীরা ছদ ক্যা, করহি আঁ কি আস,

    তে নর যমাপুর জাহিঙ্গে, সাত ভাখাই রবিদাস।”

    বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

    বর্তমান সময়েও তাঁর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ঘৃণা ত্যাগ করে একে অপরকে ভালোবাসতে হয়। তাঁর জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বারাণসীতে, তাঁর জন্মস্থানে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) কেবল একজন ধার্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি জাতপাত বর্ণ বৈষম্য মানতেন না। সামাজিক ন্যায়, ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু প্রভেদগুলিকে ভুলে সমাজ জাগরণের কাজ করে গিয়েছেন। যিনি বিশ্বাস করতেন—সব মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই মানবসেবাই হল পরম ধর্ম।

  • Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার

    Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা (Sunetra Pawar) পাওয়ার আজ, শনিবার মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী (Woman Deputy CM) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী অজিত পাওয়ার-সহ আরও চারজনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই দায়িত্ব নিতে প্রশ্ন হচ্ছিলেন। সুনেত্রাকে আবগারি শুল্ক, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা অর্থ ও পরিকল্পনা দফতরের দায়িত্ব এখন সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।

    এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা (Sunetra Pawar)

    বছর বাষট্টির সুনেত্রাকে এদিন সর্বসম্মতিক্রমে এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। দলের নেতা ছগন ভুজবল তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং দিলীপ পাতিল-সহ একাধিক বিধায়ক তা সমর্থন করেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেটি তিনি পরে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে পাঠান। শপথ গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুনেত্রাকে শুভেচ্ছা জানান। কারজাত-জামখেদ কেন্দ্রের বিধায়ক এবং সুনেত্রার আত্মীয় রোহিত পাওয়ার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অজিত দাদার জায়গা কেউ নিতে পারবে না, তবে অন্তত সুনেত্রাবাইয়ের রূপে কোথাও যেন আমরা অজিত দাদাকেই দেখতে পাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাথার ওপর গভীর শোকের পাহাড়, সবাই যখন শোকস্তব্ধ, তখন কীভাবে অভিনন্দন জানাব, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না।”

    সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত

    এনসিপি পুনর্মিলনের আলোচনা কোন দিকে যাবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর (Sunetra Pawar)। অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার জানান, বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে সুনেত্রা পাওয়ারের নির্বাচন এবং তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এরপর অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন (Woman Deputy CM)। পরে শরদ পাওয়ার স্পষ্ট করেন, এনসিপি পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা চলছে ঠিকই, তবে তিনি সরাসরি সেই আলোচনায় যুক্ত নন। তাঁর কথায়, এই আলোচনা হচ্ছে অজিত পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিলের মধ্যে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সুনেত্রা পাওয়ার রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে নীরব ছিলেন। ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বারামতি কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রয়াত স্বামীর দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিনি তাঁর ননদ এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হন (Sunetra Pawar)।

    সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রী

    এরপর সুনেত্রা রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। সূত্রের খবর, বুধবার অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত তাঁকে জানানো হয়। অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপির শীর্ষ নেতারা প্রস্তাবিত দলীয় একীভূতকরণ নিয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন না। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এতে এনসিপির মধ্যে শরদ পাওয়ারের প্রভাব আবার বাড়বে। বরং তাঁদের ইচ্ছা ছিল, সুনেত্রাকে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা (Woman Deputy CM)। অজিত পাওয়ার শিবিরের ধারণা ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী এনসিপির নেতৃত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে দল একীভূত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে (Sunetra Pawar)। সূত্রের খবর, এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে জানানো হয় যে তাঁকে সামনে এসে নেতৃত্ব দিতে হবে। রাজ্যের শীর্ষ নেতারা যখন বারামতিতে এসে এনসিপি নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছিলেন, তখনই উদ্ভূত রাজনৈতিক বাস্তবতা অজিত পাওয়ারের নিকটাত্মীয়দের জানানো হয়। পরিবার যখন গভীর শোকে নিমগ্ন, তখনও স্পষ্ট (Woman Deputy CM) হয়ে যায় যে সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে (Sunetra Pawar)।

     

  • Wikipedia: এবার প্রশ্ন উঠল উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই, কেন জানেন?

    Wikipedia: এবার প্রশ্ন উঠল উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু বছর ধরে উইকিপিডিয়া (Wikipedia) নিজেকে একটি নিরপেক্ষ, জনসাধারণের অংশগ্রহণে গঠিত বিশ্বকোষ হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম, যা যাচাইযোগ্য তথ্য, নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐকমত্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয় (Anti Hindu)। কিন্তু ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একের পর এক বিতর্কের জেরে উঠছে প্রশ্ন, এই নিরপেক্ষতা বাস্তবে কতটা বাস্তব?

    হিন্দু-বিরোধী ফ্রেমিং প্রমাণের জীবন্ত দলিল (Wikipedia)

    লন্ডনে গোপন পিআর ম্যানিপুলেশন থেকে শুরু করে ভারতে হিন্দু-সম্পর্কিত ঘটনাবলির উপস্থাপন—বিভিন্ন ঘটনা একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই ইঙ্গিতটি হল কীভাবে ক্ষমতা ও মতাদর্শ বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রতিবেদনে এমন কিছু ঘটনার কথা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে উইকিপিডিয়ার ইকোসিস্টেমে পক্ষপাত,  বৈষম্যমূলক উপস্থাপনা এবং ধারাবাহিক হিন্দু-বিরোধী পরিবেশনার জীবন্ত দলিল। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি দ্য ব্যুরো ইনভেস্টিগেটস জানায় যে, বিলিয়নেয়ার, সরকার ও প্রভাবশালী ক্লায়েন্টদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে লন্ডনভিত্তিক জনসংযোগ সংস্থা পোর্টল্যান্ড কমিউনিকেশনস গোপনে সম্পাদনা করেছিল উইকিপিডিয়ার বিভিন্ন এন্ট্রি। তদন্তে জানা গিয়েছে, এসব সম্পাদনায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে করা হয়েছিল, উইকিপিডিয়ার পরিভাষায় যা ‘সকপাপেট্রি’ নামে পরিচিত। অন্তত ২৬টি অ্যাকাউন্ট পরে নিষিদ্ধ করা হয়।

    এই সম্পাদনার বড় সুবিধাভোগী ছিল কাতার

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার এই সম্পাদনার বড় সুবিধাভোগী ছিল। প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে উপস্থাপন করা হয়েছিল (Anti Hindu)। বিতর্ক আরও তীব্র হয় পোর্টল্যান্ড কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা টিম অ্যালানের রাজনৈতিক যোগাযোগ সামনে আসায়। তিনি একসময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কমিউনিকেশন প্রধান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ভারতের এক সংবাদ সংস্থা দিল্লি হাইকোর্টে উইকিপিডিয়া ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করে। ওই সংস্থা তাদের উইকিপিডিয়া এন্ট্রিকে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে সংস্থাটিকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচারযন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ওই সংবাদ সংস্থা উইকিপিডিয়ার বক্তব্যকে মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক এবং সুনামহানিকর বলে দাবি করেছিল।

    উইকিপিডিয়ার যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন

    মামলায় প্রক্রিয়াগত সমস্যার কথাও তোলা হয়। পেজটি সুরক্ষিত থাকায় ওই সংস্থা সরাসরি সংশোধন করতে পারেনি, অথচ অজ্ঞাতনামা সম্পাদকরা বিষয়বস্তুকে নিরন্তর প্রভাবিত করে গিয়েছেন। বিচারপতি সুব্রহ্মনিয়ম প্রসাদ উইকিপিডিয়ার সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ডিসক্লেইমার থাকায় তারা দায়মুক্ত। তিনি বলেন, “নিজেকে মুক্ত বিশ্বকোষ বলা মানেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকা নয় (Anti Hindu)।” ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারত সরকার উইকিপিডিয়াকে (Wikipedia) আনুষ্ঠানিক নোটিশ  পাঠিয়ে প্রশ্ন তোলে, কেন একে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং প্রকাশক হিসেবে গণ্য করা হবে না? এটি ভারতের ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। রাম মন্দির ভূমি পূজনের আগে উইকিপিডিয়ায় জয় শ্রী রাম স্লোগান সংক্রান্ত এন্ট্রি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেখানে এই পবিত্র ধ্বনিকে যুদ্ধঘোষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ও প্রধানত বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় আহ্বানকে বিকৃত করে একটি রাজনৈতিক লেবেলে রূপান্তর করেছে।

    বৈশ্বিক ধারণা

    একইভাবে, গুজরাট হাইকোর্টে একাধিক দণ্ডাদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও গোধরা ট্রেন অগ্নিসংযোগ নিয়ে উইকিপিডিয়ায় লেখা থাকে যে আগুনের কারণ “বিতর্কিত”। ৩১ জন অগ্নিসংযোগের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও আদালতের রায়, ফরেনসিক রিপোর্ট ও পুলিশি তথ্যকে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়। বরং কিছু অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাকাউন্ট ও নির্বাচিত গবেষণাধর্মী মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, আর সরকারি নথি উদ্ধৃত করা সম্পাদকরা প্রান্তিক হয়ে পড়েন। এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। প্রশ্নটি হল (Wikipedia), যখন আদালত রায় দিয়েছে, তখন ঐতিহাসিক সত্য নির্ধারণ করবে কে – বিচারব্যবস্থা, না কি উইকিপিডিয়ার সম্পাদকরা? মণিপুরে হিংসার ঘটনা নিয়ে উইকিপিডিয়ার কভারেজ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যখন ‘কৌটিল্য ৩’ নামের এক সম্পাদক জানিয়েছিলেন, তিনি ঘটনাটিকে বারবার মেইতেই হিন্দুদের দ্বারা খ্রিস্টান কুকিদের ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন (Anti Hindu)। সমালোচকদের মতে, জটিল জাতিগত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে একটি সরল ধর্মীয় বয়ানে রূপান্তর করা হয়েছে। একবার এমন বয়ান প্রতিষ্ঠিত হলে, তা এআই সিস্টেম, সার্চ ইঞ্জিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে। এর থেকেই বোঝা যায় যে অল্প কয়েকজন সম্পাদক কীভাবে বৈশ্বিক ধারণা গঠন করতে পারেন।

    হিংসা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া

    উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া নিবন্ধটি সিনিয়র সম্পাদক ডিবিগ এক্সরে (DBigXray) তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। শুরু থেকেই সেখানে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রকে উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরা হয়, অথচ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য মুছে ফেলা হয়। এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১৯৪৬ সালের নোয়াখালি দাঙ্গা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া পেজে ভাঙচুর করা হয়। সেখানে ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলমান’ শব্দ অদলবদল করে ভুক্তভোগী ও অপরাধীদের ভূমিকা উল্টে দেওয়া হয়েছিল (Anti Hindu)। পেজের শিরোনাম বদলে দেওয়া হয় এবং ছবির ক্যাপশন এমনভাবে লেখা হয় যাতে হিন্দু সংগঠনগুলিকে নেতিবাচকভাবে দেখানো যায়। এই ঘটনা দেখায়, কীভাবে খুব দ্রুত ঐতিহাসিক বয়ান বিকৃত করা সম্ভব। নোয়াখালির এই সম্পাদনার সূত্র মেলে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের একটি আইপি ঠিকানায়। সমালোচকদের প্রশ্ন, যে প্ল্যাটফর্ম কঠোর নজরদারি দাবি করে, সেখানে এমন বিকৃতি কীভাবে, এমনকী সাময়িকভাবে হলেও, প্রকাশ পেতে পারে?

    তাবলিগি জামাতের ভূমিকা

    ভারতে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় তাবলিগি জামাতের ভূমিকা নিয়ে একটি উইকিপিডিয়া পেজ মুছে ফেলা হয়েছিল। পর্নহাব সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া কভারেজও সমালোচিত হয়। ‘ট্র্যাফিকিংহাব’ পিটিশন ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য ‘উল্লেখযোগ্যতার অভাব’ দেখিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। সংশ্লিষ্ট সম্পাদক নাকি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত পেজ ‘পরিষ্কার’ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই ঘটনা আরও বড় একটি প্রশ্ন তোলে। সেটি হল, আর্থিক, মতাদর্শগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ কীভাবে কনটেন্টকে প্রভাবিত করে এবং গুরুতর অভিযোগও জনস্মৃতি থেকে মুছে যেতে পারে।

    এইসব ঘটনাগুলি উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতার দাবিকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে, তা আরও স্পষ্ট করে। যদিও প্ল্যাটফর্মটি নিজেকে ঐকমত্য ও যাচাইযোগ্য উৎসভিত্তিক জনসম্পাদিত বিশ্বকোষ হিসেবে তুলে ধরে, সমালোচকদের মতে ক্ষমতার কাঠামো, মতাদর্শগত পক্ষপাত ও সম্পাদকীয় গেটকিপিং বৈশ্বিক বোঝাপড়াকে প্রভাবিত করে—বিশেষত হিন্দু ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজের ক্ষেত্রে। এই ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, উন্মুক্ত সম্পাদনার মডেল যতই আদর্শবাদী হোক, তা সব সময় বিকৃত বয়ান বা নির্বাচিত তথ্য উপস্থাপন ঠেকাতে পারে না (Wikipedia)।

     

  • Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারই প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) বিচার বিভাগের জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিপত্রের (Epstein Files) একটি অংশ। তার জেরেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন মুলুকে। ওই নথিগুলোতে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে বলে খবর।

    যৌন অপরাধে দণ্ডিত (Epstein Files)

    এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি, ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করেছে। এই উপকরণগুলির মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকারদের সাক্ষাৎকার এবং বিপুল সংখ্যক ই-মেইল যোগাযোগও রয়েছে। প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘জর্জ বুশ ১’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে নামটি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকেই নির্দেশ করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এপস্টাইনের ব্যক্তিগত লগবুকে বুশের নাম পাওয়া যায়নি। তবে এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ডিটেকটিভ ব্যুরোয় দায়ের করা অভিযোগে এই নামটি উল্লেখ করেছিলেন। বিল গেটসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি এপস্টাইনের ১৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখের খসড়া বার্তায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই বার্তাগুলির কিছু অংশে গেটসের তৎকালীন উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা ছিল।

    এপস্টাইনের দাবি

    একটি খসড়া বার্তায় এপস্টাইন দাবি করেন, গেটস ‘রুশ মেয়েদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং এতে তিনি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। এপস্টাইনের অভিযোগ, গেটস নাকি অনুরোধ করেছিলেন যাতে গোপনে তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এপস্টাইন আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলগুলি মুছে ফেলতে গেটস তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। একই খসড়া বার্তায় এপস্টাইন গেটসের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় তিনি অকল্পনীয়ভাবে হতাশ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। বার্তায় এপস্টাইন (Epstein Files) লিখেছিলেন, “কাটা ঘায়ে নুন ছেটানোর মতো তুমি এরপর আমায় অনুরোধ করো তোমার যৌনরোগ সংক্রান্ত ই-মেইলগুলি, মেলিন্ডাকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়ার বিষয়টি এবং তোমার যৌনাঙ্গের বর্ণনা সংক্রান্ত লেখাগুলি মুছে ফেলতে।” এর আগে বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টাইন-সংক্রান্ত একাধিক ছবিতে বিভিন্ন স্থানে এপস্টাইনের সঙ্গে বিল গেটসকে দেখা গিয়েছিল। তবে এপস্টাইনের আনা সব অভিযোগই বিল গেটস সরাসরি অস্বীকার করেন।

    মুখপাত্রের বক্তব্য

    সংবাদ মাধ্যমে গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। এই নথিগুলি কেবল এটুকুই প্রমাণ করে যে গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক চালু না থাকায় এপস্টাইন কতটা হতাশ ছিলেন এবং কীভাবে তিনি ফাঁদ পেতে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করতেন।” এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগীর বিবরণ সংবলিত একটি ই-মেইলে লেখা রয়েছে, “ধন্যবাদ এম, আমি বুঝতে পারিনি বুশও তাকে ধর্ষণ করেছিল। ঠিক আছে।” ওই নথিতে ভুক্তভোগী সম্পর্কে আরও বলা হয়, “এই ইয়টে থাকার সময় সে দেখতে পেয়েছিল আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষরা শ্বেতাঙ্গ স্বর্ণকেশী নারীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত ছিল, এবং যৌনক্রিয়ার সময় সবাই রক্তাক্ত হচ্ছিল (US)।” নথিতে আরও বলা হয়, “সে এক ধরনের আচারভিত্তিক বলিদানের শিকার হয়েছিল, যেখানে তার পা তরবারি দিয়ে কাটা হয়, যদিও কোনো স্থায়ী দাগ ছিল না। ইয়টে সে শিশুদের খণ্ডবিখণ্ড করা, তাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা এবং সেই নাড়িভুঁড়ির মল খাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে।”

    ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ

    নথিতে আরও দাবি করা হয় যে ‘জর্জ বুশ ১’ ওই ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেছিলেন। “সে জর্জ বুশ ১-এর দ্বারাও ধর্ষিত হয়েছিল,” নথিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বলা হয়, “ভুক্তভোগী জানান, ট্রু পণ্ডিতের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল মুর তাঁকে এফবিআই ভবনে নিয়ে যান। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে ট্রু পণ্ডিতকে একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্বনির্ভর সংবাদমাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা এফবিআইকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে (Epstein Files)।” আর এক পুরুষ ভুক্তভোগীর বয়ানে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে একটি বড় ইয়টে তাঁকে এপস্টাইন এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। ভুক্তভোগী জানান, ওই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়াও ইয়টে উপস্থিত ছিলেন (US)। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং দীর্ঘদিন থেরাপি নেওয়ার পর ২০১৬ সালে এসব স্মৃতি তাঁর মনে ফিরে আসে। ২০১৯ সালের অগাস্টে এফবিআই পরিচালিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য দেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ডিসেম্বরে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া নতুন আইনের নির্ধারিত আইনি সময়সীমার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশ করে (Epstein Files)।

     

LinkedIn
Share