Tag: Bengali news

Bengali news

  • Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইকোনমিক সার্ভে (অর্থনৈতিক সমীক্ষা) ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025-26) অনুযায়ী, ভারতের ইথানল (Ethanol) মিশ্রণ কর্মসূচি দেশকে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে। আবার সেইসঙ্গে প্রায় ২৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমিয়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস (Economic Survey 2025-26)

    সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচির ফলে বহুমুখী সুবিধা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে — অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন কমানো এবং ইথানল (Ethanol) উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহকারী কৃষকদের আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি (Economic Survey 2025-26)।

    কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য

    ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত যে সাফল্যগুলি অর্জিত হয়েছে, তা পরিবহন জ্বালানিতে ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রাকেই প্রতিফলিত করে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে যে, মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ই-২০ (E20)-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মসূচি এখন প্রথাগত চিনি-ভিত্তিক কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে ভুট্টা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই বৈচিত্র্যকরণের ফলে ইথানল (Ethanol) মিশ্রণের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের বিকল্প ব্যবহারের মাত্রা আরও বেড়েছে।

    ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে

    সমীক্ষায় আরও লক্ষ্য করা গিয়েছে, সরকার নির্ধারিত ইথানলের মূল্য এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভুট্টা-ভিত্তিক ইথানলের নির্ধারিত দাম বার্ষিক ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষক ও উৎপাদকদের উৎসাহিত করেছে।

    তবে একই সঙ্গে, সমীক্ষায় (Economic Survey 2025-26) সতর্ক করা হয়েছে, ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। ইথানলের কাঁচামালের চাহিদার কারণে চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ফসলের বৈচিত্র্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কর্মসূচিটি যত পরিপক্ক হচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যের সঙ্গে কৃষি খাতের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

  • Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Wings India 2026) ভারত–রাশিয়া মহাকাশ সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন (UAC) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২৮ জানুয়ারি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন-এর জেনারেল ডিরেক্টর ভাদিম বাদেখা এবং হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ড. ডি. কে. সুনীল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী গেন্নাদি আব্রামেনকভ, ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ, বাণিজ্য প্রতিনিধি আন্দ্রেই সোবোলেভ এবং রোসাভিয়াতসিয়ার এভিয়েশন ইকুইপমেন্ট সার্টিফিকেশনের প্রধান দিমিত্রি কোপিসভসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    নয়া চুক্তির কী কী শর্ত

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সুখোই সুপারজেট ১০০ বিমানের টাইপ সার্টিফিকেট ভারতে স্বীকৃতি ও বৈধকরণ (Certification and Validation) প্রক্রিয়ায় হ্যাল, ইউএসি-কে সহায়তা করবে। এর বিনিময়ে হ্যাল ভারতে এই বিমান তৈরি, বিক্রি এবং রক্ষণাবেক্ষণের লাইসেন্স পাবে। পাশাপাশি, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপাদান উৎপাদনের অধিকারও থাকবে হ্যাল-এর হাতে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থা রোস্তেকের অধীনস্থ ইউএসি, হ্যাল-কে প্রযুক্তিগত পরামর্শ, নকশা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরিষেবা দেবে, যাতে ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০-এর অ্যাসেম্বলি লাইনের জন্য উৎপাদন পরিকাঠামো পুনর্গঠন করা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মস্কোতে দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নতুন এই চুক্তি সেই আলোচনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কীভাবে কাজের বণ্টন হবে

    এই চুক্তিকে একটি বিস্তৃত ‘মাস্টার এগ্রিমেন্ট’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতের সময়সূচি, আর্থিক কাঠামো এবং দুই পক্ষের মধ্যে কাজের বণ্টন বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হবে। সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) হলো মূল সুখোই সুপারজেটের একটি আধুনিক ও পুনর্নকশাকৃত সংস্করণ, যা সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ায় তৈরি উপাদান ও সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত ফ্রাঙ্কো-রুশ ইঞ্জিনের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ায় নির্মিত পিডি৮ ইঞ্জিন। ফলে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ‘ইমপোর্ট-সাবস্টিটিউটেড’ রাশিয়ান আঞ্চলিক জেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দুটি সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) প্রোটোটাইপ ১০টি দেশের আকাশসীমা পেরিয়ে হায়দ্রাবাদে পৌঁছয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব সরকারের ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ (UDAN) কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির উন্নয়ন। ভারতে স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) -এর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রফতানির সুযোগও বাড়বে।

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেমিট্যান্স (India Remittances) বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে ১৩৫.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের বৈদেশিক হিসেবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা সমীক্ষায় জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলি থেকে রেমিট্যান্সের (India Remittances) অংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। রফতানিতে ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

    উৎপাদনভিত্তিক রফতানি (India)

    সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদনভিত্তিক রফতানি ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উৎপাদনশীলতাভিত্তিক শিল্পনীতি, ভ্যালু চেইনজুড়ে কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যয়ের সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ-মূল্য সংযোজিত পরিষেবা খাতের সমান্তরাল বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কড়াকড়ি হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট বিনিয়োগ প্রবাহ জিডিপির হার পৌঁছেছে ১৮.৫ শতাংশে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গ্রহণে ভারত শীর্ষস্থানে (India Remittances) রয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বড় এশীয় অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে (India)।

    গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ

    ২০২৪ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল। ওই বছরে এক হাজারের বেশি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ২০২০–২৪ সময়কালে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মোট ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর – এই পর্বে মোট এফডিআই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “ভারতে বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) বারবার প্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এই ওঠানামা অনেক সময় বৈশ্বিক আর্থিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চলতি অর্থবর্ষে ছ’মাস নিট বহিঃপ্রবাহ এবং তিন মাস নিট প্রবাহ দেখা গেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নিট অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।”

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

    এছাড়া, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (India Forex) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত), যা মার্চের শেষে ছিল ৬৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের পর্যাপ্ততার দিক থেকে বলা হয়েছে, এই সঞ্চয় প্রায় ১১ মাসের পণ্য আমদানি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে থাকা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। ফলে এটি একটি স্বস্তিদায়ক বাফার হিসেবে কাজ করছে (India)। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দেশের মুদ্রার কার্যকারিতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় সৃষ্টি, বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থিতিশীল এফডিআই আকর্ষণ এবং উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রফতানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতার ওপর (India Remittances)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা মার্চ ২০২৫ শেষে ছিল ৭৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯.২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অংশ ৫ শতাংশেরও কম। এর ফলে বৈদেশিক খাতজনিত ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত রয়েছে ।

     

  • Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রিমিয়াম দূরপাল্লার রেল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল (Indian Railways) এখন ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশের প্রথম স্লিপার ভেরিয়েন্ট চালুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদা টাউন হয়ে হাওড়া ও কামাখ্যার মধ্যে চলাচলকারী ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই রেল কর্তৃপক্ষ এখন অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেন তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে।

    ব্যাপক যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি (Vande Bharat Sleeper)

    চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে এই নতুন ২৪ কোচের ট্রেনসেটটি বর্তমানে ডিজাইনের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানের ৮২৩টি বার্থের পরিবর্তে নতুন এই ট্রেনে ১,২২৪টি বার্থ থাকবে (৪০১টি বেশি)। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এর প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রেক তৈরি করা হবে। এতে ১৭টি এসি ৩-টায়ার, ৫টি এসি ২-টায়ার, ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ এসি প্যান্ট্রিকার (Indian Railways) থাকবে।

    আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

    যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের (Vande Bharat Sleeper) জন্য এই ভেরিয়েন্টে থাকছে—

    • আর্গোনমিক বার্থ, রিডিং লাইট, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট।
    • ওয়াই-ফাই, প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং ইনফোটেইনমেন্ট।
    • ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড টয়লেট এবং আধুনিক ইন্টিরিয়র।
    • দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সুবিধা: বিশেষ টয়লেট (Indian Railways) এবং র‍্যাম্পের ব্যবস্থা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    ট্রেন সংঘর্ষ এড়ানোর অত্যাধুনিক কবচ (Kavach) প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। সিসিটিভি ও আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ঘণ্টায় ১৬০ কিমি সর্বোচ্চ গতিবেগ এবং শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা।

    পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

    পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’, এলইডি লাইটিং এবং ভ্যাকুয়াম বায়ো-টয়লেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের (Indian Rail) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘রিমোট কন্ডিশন মনিটরিং’ সিস্টেমও যুক্ত করা হবে।

    ২৪ কোচের এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) ভারতীয় রেলের (Indian Railways) আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের এক বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য যে, বিএইচইএল (BHEL) ইতিমধ্যেই এই ট্রেনের প্রপালশন সরঞ্জামের সরবরাহ শুরু করেছে।

  • Ramakrishna 569: “গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন”

    Ramakrishna 569: “গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২০শে ও ২৪শে সেপ্টেম্বর

                                                              অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য

    শ্রীরামকৃষ্ণের রোগ কেন?

    মাস্টারের প্রতি আত্মজ্ঞানের উপদেশ—‘দেহটা খোলমাত্র’

    বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর পূর্ণিমার দিন রাত্রে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁহার ঘরের ছোট খাটটির উপর বসিয়া আছেন। গলার অসুখের জন্য কাতর হইয়াছেন। মাস্টার প্রভৃতি ভক্তেরা মেঝেতে বসিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারের প্রতি)—এক-একবার ভাবি দেহটা খোল মাত্র; সেই অখণ্ড (সচ্চিদানন্দ) বই আর কিছু নাই।

    “ভাবাবেশ হলে গলার অসুখটা একপাশে পড়ে থাকে। এখন ওই ভাবটা একটু একটু হচ্ছে, আর হাসি পাচ্ছে।”

    দ্বিজর ভগিনী ও ছোট দিদিমা ঠাকুরের অসুখ শুনিয়া দেখিতে আসিয়াছেন; তাঁহারা প্রণাম করিয়া ঘরের একপাশে বসিলেন। দ্বিজর দিদিমাকে দেখিয়া ঠাকুর বলিতেছেন, “ইনি কে?— যিনি দ্বিজকে মানুষ করেছেন? আচ্ছা দ্বিজ এমন এমন (একতারা) কিনেছে (Kathamrita) কেন?”

    মাস্টার—আজ্ঞা, তাতে দুইতার আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—একে ওর বাবা বিরুদ্ধ; সব্বাই কি বলবে? ওর পক্ষে গোপনে (ঈশ্বরকে) ডাকাই ভাল।

    শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে দেয়ালে টাঙ্গানো গৌর নিতাইয়ের ছবি একখানা বেশি ছিল; গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন এই ছবি।

    রামলাল (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি)—তাহলে, ছবিখানা এঁকেই (মাস্টারকে) দিলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আচ্ছা; তা বেশ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও হরিশের সেবা

    ঠাকুর কয়েকদিন প্রতাপের ঔষধ খাইতেছেন। গভীর রাত্রে উঠিয়া পড়িয়াছেন, প্রাণ আই-ঢাই করিতেছে। হরিশ সেবা করেন, ওই ঘরেই ছিলেন; রাখালও আছেন; শ্রীযুক্ত রামলাল বাহিরে বারান্দায় শুইয়া আছেন। ঠাকুর পরে বলিলেন (Kathamrita), “প্রাণ আই-ঢাই করাতে হরিশকে জড়াতে ইচ্ছা হল; মধ্যম নারায়ণ তেল দেওয়াতে ভাল হলাম, তখন আবার নাচতে লাগলাম।”

  • Suvendu Adhikari: “দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে”, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে”, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধ কারখানায় আগুন লেগে আনন্দপুরে (Anandapur Fire) এখনও পর্যন্ত ২৪ টি পোড়া দেহ উদ্ধার হয়েছে। দুটো বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। এখনও নিখোঁজ অন্তত পক্ষে ২৭ জন। ২৭ জন পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। ১৬টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে নাজিরাবাদে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এখান থেকে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হয়ে যাচ্ছে।”

    ৩৫-৪০টি মৃত দেহ উদ্ধারের কথা (Suvendu Adhikari)!

    রাজ্য সরকারের দমকল বাহিনীর চূড়ান্ত অবহেলা এবং ব্যর্থতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের ধারণা ৩৫-৪০ জনের মতো মানুষের মৃত দেহ উদ্ধার হওয়ার কথা। ঘটনার চার দিন হয়ে গেল, মুখ্যমন্ত্রী কোথায়? শুধু ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে চিন্তিত। অধিকাংশ মেদিনীপুরের লোক, আমরা যতটা পেরেছি, পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ক্রেডিট নিতে চাই না, দুর্ভাগ্য একটাই, এটা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট ব্যাঙ্ক নয় বলে রাজ ধর্ম পালন করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে অবস্থিত (Anandapur Fire)। ওনার তো আসা উচিত ছিল।” উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সভা থেকে মৃতদের ১০ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে শুভেন্দু তোপ দেগে কটাক্ষ করেছেন যে রাজ্যে দমকল বিভাগ এবং অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ অকেজো, এই টাকা সত্যই প্রহসনের চেয়ে কম কিছু নয়।

    জতুগৃহ কলকাতা!

    রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগে শুভেন্দু আরও বলেন, “এই যে জতুগৃহ কলকাতা বা বৃহত্তর কলকাতায় তৈরি হয়েছে এর জন্য স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও স্থানীয় থানাগুলি দায়ী। এই যে গোডাউনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে দেড় লক্ষ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে। তার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা স্থানীয় বিধায়কের হাতে দিতে হয়। না আছে লাইসেন্স, না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এরপরও কেন সরকার চুপচাপ? কেন ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন না? চাকরি দেবেন না? জলাভূমিতে (Anandapur Fire) কেন নির্মাণ হবে?”

    প্রশাসনের মত ডিএনএ পরীক্ষা করাও বেশ কঠিন

    প্রশাসনিক সূত্রে আবার জানা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া দেহের অংশ বিশেষ ব্যাগে ভরে কাটাপুকুর মর্গে (Anandapur Fire) পাঠানো হয়েছে। যাদের দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁদের দেহ আপাতত শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে যা উদ্ধার হয়েছে তা সবটাই কয়লার মতো ছাই। এই উপানদানগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করাও বেশ কঠিন। রক্তের নমুনা দেখে দেহ শনাক্ত করণের কাজ চলছে। গত রবিবার রাত ১ টার কিছু পর আনন্দপুরে জোড়া গুদামে আগুন লেগে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দেড় দিনের বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলে ঘটনাস্থলে। গুদামগুলিতে আগুনের তাপ এখনও দগদগে।

  • Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফর করতে চলেছেন। তাঁর তৃতীয় মেয়াদে এটিই হবে প্রথম ইসরায়েল সফর এবং ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের প্রায় নয় বছর পর তিনি দেশটিতে যাচ্ছেন।

    ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি (Israel) রাষ্ট্রদূত রুবেন আজার নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এখন চলছে।” দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রাকে আরও উন্নত এবং সুরক্ষিত করতে বিশেষ ভাবে উভয়দেশ দায়িত্বশীল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সফরের মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্রসমূহ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে:

    • প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: সামরিক সরঞ্জাম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা।
    • প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা: উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান।
    • কৃষি ও বাণিজ্য: কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করা।

    ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য

    পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন কথোপকথনে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ নিজেদের মত নিয়ে এক এবং অবিচল।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত কয়েক মাসে ইজরায়েল (Israel) সফর করেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের পর্যটন, অর্থনীতি, কৃষি ও অর্থমন্ত্রীরাও গত বছর ভারত সফর করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোই মূলত মোদির আসন্ন সফরের ভিত্তি তৈরি করেছে।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস

    ২০১৭ সালের সফর: প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ইজরায়েল সফর করেছিলেন।

    প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব: বর্তমানে ভারত ইজরায়েলি (Israel) সামরিক সরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতা। এছাড়াও যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

    সাম্প্রতিক চুক্তি: সম্প্রতি উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

    এই সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইজরায়েলের গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Bangladesh: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এবার বাংলাদেশে মুসলমান প্রতিবেশীর হাতে খুন প্রবীণ হিন্দু

    Bangladesh: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এবার বাংলাদেশে মুসলমান প্রতিবেশীর হাতে খুন প্রবীণ হিন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি, সোমবার বাংলাদেশের (Bangladesh) উত্তরাঞ্চলে জমি সংক্রান্ত বিবাদ নিয়ে হিংসাত্মক রূপ নেয়। কুড়িগ্রাম জেলায় মুসলিমদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন বৃদ্ধ হিন্দু ব্যক্তির (Hindu Man Madhu Shil) খুন হয়েছেন। মূল অভিযোগ হিন্দুর জমিকে স্থানীয় মুসলমান কর্তৃক জবর দখলের মতো একটি বিবাদ। এই হত্যাকাণ্ড আবারও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং প্রশাসন কর্তৃক সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধকে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    নিজের জায়গায় অধিকার নেই হিন্দুদের (Bangladesh)!

    নিহত ব্যক্তির নাম মধু চন্দ্র শীল, যার বয়স ৬২ বছর (Hindu Man Madhu Shil)। তিনি বাংলাদেশের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের জয়দেব মালসাবাড়ি গ্রামে থাকতেন। সংবাদ মাধ্যম আনুসারে জানা গিয়েছে, যৌথ জমির সীমানা নিয়ে তাঁর মুসলিম প্রতিবেশী আবেদ আলির সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছিল। গাছ লাগাতে গিয়ে বিবাদ হিংসাত্মক রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধু শীল তাঁর বাড়ির সামনে চারা রোপণ করতে গেলে প্রতিবেশী মুসলমানরা উত্তেজনা ছড়ায়। আবেদ আলির ছেলে আশরাফ আলি গাছ লাগানোতে আপত্তি জানান এবং শীলকে কাজ বন্ধ করতে বলেন।

    শীলের ছেলের স্ত্রী সৃষ্টি রানী বলেন, “আবেদ আলি যখন নতুন রোপিত চারাগুলো উপড়ে ফেলেন, তখন পরিস্থিতি দ্রুত আরও খারাপ হয়ে যায়। এর পরপরই তর্ক শুরু হয়। আশরাফ আলি, তাঁর স্ত্রী লাকি বেগম এবং আরও কয়েকজন তর্কের সময় আমার শ্বশুরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং একটি নলকূপের কাছে একটি সিমেন্টের কাঠামোর উপর পড়ে যান। স্থানীয়রা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মৃতদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়, যা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে শোকমগ্ন হয়ে পড়েন।”

    পুলিশি পদক্ষেপ এবং গ্রেফতার

    পুলিশ (Bangladesh) কর্মকর্তারা একই দিনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাজারহাট থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে আশরাফ আলিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এটিকে একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা হিসেবে বিবেচনা করছি। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া নেব।” আবার মধু শীলের ছেলে পলাশ শীল বলেছেন, “বাবার মৃত্যুতে আমাদের পরিবার শোকাহত। আমার বাবা একজন সরল, নির্দোষ মানুষ (Hindu Man Madhu Shil) ছিলেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই যাতে অন্য কারও সাথে এমন কিছু না ঘটে।”

    সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলি উদ্বেগ

    এই মৃত্যুর ঘটনা সংখ্যালঘু অধিকার গোষ্ঠীগুলিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যারা দাবি করে যে এই ধরণের ঘটনাগুলি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সাধারণ, নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ।

    বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেছেন, “এই মৃত্যুকে (Hindu Man Madhu Shil) একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই মৃত্যু আবারও প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কতটা অনিরাপদ। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধটি সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রশাসনকে এটাও খতিয়ে দেখতে হবে কেন আগে কোনও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

  • Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা ওই সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতির একটি আশাব্যঞ্জক ছবি । সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল (India Growth Rate) প্রধান অর্থনীতির দেশ। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে যেখানে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪ শতাংশ হবে, সেখানে  বলে অনুমান করা হয়েছে, জিভিএ বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা 

    ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সমীক্ষায় (Economic Survey) বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, স্থিতিশীল কর্মসংস্থান এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কেড়েছে। কম মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ব্যয় দৃঢ় রয়েছে এবং গ্রামীণ ও শহুরে – উভয় ক্ষেত্রেই ভোগব্যয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমীক্ষায় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পুঁজি গঠন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারি ব্যয় পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খাতে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে (Economic Survey) । পরিষেবা খাত এখনও প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি, যা ভারতের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখছে। ভারতের রাজস্ব অবস্থানেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত কর ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে করদাতার পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ কমেছে, যদিও সরকারি বিনিয়োগ উচ্চ পর্যায়ে বজায় রয়েছে (India Growth Rate)।

    বড় ধরনের পরিবর্তন

    সমীক্ষা (Economic Survey) অনুযায়ী, ব্যাঙ্কিং খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে ২.২ শতাংশে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মহিলা। বৈদেশিক ক্ষেত্রে ভারতের রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক পরিষেবা খাত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে, যা বৈশ্বিক ধাক্কার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে (India Growth Rate)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ, যা ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন (Global Headwinds)। ভালো বর্ষার ফলে কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    সমীক্ষায় (Economic Survey) পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছে। ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেশটি বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে (Indias Growth Rate)।সারসংক্ষেপে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জোরে ভারত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থার ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে এগোতে ভারত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

LinkedIn
Share