Tag: Bengali news

Bengali news

  • Himanta Biswa Sarma: “রাহুল গান্ধী পাগল হ্যায়”, বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

    Himanta Biswa Sarma: “রাহুল গান্ধী পাগল হ্যায়”, বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “রাহুল গান্ধী পাগল হ্যায়” অর্থাৎ রাহুল গান্ধী পাগল। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পাগল বলে ঘোষণা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। ইতিমধ্যেই অসম মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। উল্লেখ্য, রাহুল (Rahul Gandhi) দেশে এবং দেশের বাইরে একাধিকবার ভারত সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে সব মহলেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এক একবার তো মামলা গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত।

    সেনা বাহিনীতে সংরক্ষণ (Himanta Biswa Sarma)!

    বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) রাহুলের করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। দেশের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে রাহুল পরিণত নন। তাঁর বাস্তব জ্ঞানের অভাব বলে মন্তব্য করেন হিমন্ত। সেনাবাহিনীতে শক্তিশালী এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিদের কাজ করা উচিত। রাহুল কথিত শতাংশের হারে ব্যক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    হিমন্ত সাংবাদিকদের বলেন, “রাহুল (Rahul Gandhi) পাগল। তাঁর সম্পর্কে কথা বলাই উচিত নয়। তিনি মুখে যা আসে তা-ই বলেন। এখন যদি ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা হয় তাহলে কি সেনাবাহিনীতে ১০-২০ শতাংশ ডিভিশন করবেন। সেনাবাহিনীতে কে থাকা উচিত? যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী যে সেই তো পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করতে পারেবেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী আলাদা কথা বলছেন। সেনাবাহিনীতে যদি ১০-২০ শতাংশ বিভাজন হয় তাহলে তো সেনাবাহিনীকে দুর্বলই করা হবে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলকে পাগল ঘোষণা করা উচিত।”

    সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, বিচারবিভাগকে টার্গেট

    ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন রাহুল (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি ভারতীয় সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, বিচারবিভাগ এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে দলিত, মহাদলিত, অনগ্রসর, মুসলিম এবং নানা প্রকারের সংরক্ষণ রাখা উচিত। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নানা সমালোচনা করতে করতে বিভিন্ন সময়ে সাংবিধানিক নানা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন। আর তাতেই শাসকদলের নেতারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে পিছিয়ে থাকেননি। বিশেষ করে প্রতিরক্ষায় সংরক্ষণ করে পুনর্মূল্যায়ণ করা উচিত-এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তোপ দাগেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)।

  • Bihar Assembly Election 2025: বিহারে পড়ল ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে এনডিএ, প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী

    Bihar Assembly Election 2025: বিহারে পড়ল ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে এনডিএ, প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শেষ হল বিহার বিধানসভার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (Bihar Assembly Election 2025) পর্ব। ২৪৩টি আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভার ১২১টিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দুপুর ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল (First Phase) ৬০.১৩ শতাংশ।

    উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলা (Bihar Assembly Election 2025)

    এদিন মোটের ওপর শান্তিতেই নির্বাচন হলেও, তাল কাটল দুপুরের দিকে। বিহারের বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী তথা লখীসরাই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিজয়কুমার সিনহার কনভয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। তিনি যখন নিজের নির্বাচনী এলাকায় একটি বুথে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁর কনভয়ে থাকা গাড়িগুলি লক্ষ্য করে পাথর, গোবর এবং হাওয়াই চপ্পল ছোড়া হয়। যদিও নিরাপদ এবং সুস্থই রয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে আরজেডির দিকে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে লালু প্রসাদ যাদবের দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যায়, কয়েকজন উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে ঘিরে ধরে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরা সব আরজেডির গুন্ডা। ওরা জানে এনডিএ ক্ষমতায় আসছে। তাই গুন্ডামি করছে।”

    পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ কমিশনের

    কনভয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিজয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা না হলে ধর্নায় বসবেন বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রীকে নিরস্ত করে।উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলার খবর পেয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে নির্বাচন কমিশন। দেশের (Bihar Assembly Election 2025) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিহার পুলিশের ডিজিকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। কমিশন সাফ জানিয়ে দেয়, কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

    এদিকে প্রথম দফার নির্বাচনের পর যারপরনাই উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “বিহারে গণতন্ত্রের বৃহৎ উৎসবে মানুষের মধ্যে দারুণ উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা ইঙ্গিত করছে যে, বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে।” প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভার নির্বাচন হবে দু’দফায়। এদিন হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন (First Phase)। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে আগামী মঙ্গলবার। ফল গণনা হবে ১৪ নভেম্বর (Bihar Assembly Election 2025)।

  • Sukanta Majumdar: “হিন্দুর নাম বাদ গেলে আমরা সরকারেই থাকতে পারব না”, অভয় বার্তা সুকান্তর

    Sukanta Majumdar: “হিন্দুর নাম বাদ গেলে আমরা সরকারেই থাকতে পারব না”, অভয় বার্তা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে হিন্দু বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মমতাকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ নিয়ে চক্রান্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।” প্রসঙ্গত এই রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR) বিরোধিতা করতে গিয়ে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সিএএ-তে কেউ যেন আবেদন না করে। তৃণমূলের দাবি, যদি আবেদন করেন তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে বিজেপি। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন সিএএ। কোনও ভাবেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন নয়। তাই তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভাবে খারিজ করে দেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।

    শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব: সুকান্ত (Sukanta Majumdar)

    নদিয়ার তাহেরপুরে অনুষ্ঠিত সিএএ ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য যান কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তিনি বলেন, “এসআইআরকে (SIR) ইস্যু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বড় ধরনের চক্রান্ত করছেন। নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসনের মাধ্যমে এসআইআরকে বাস্তবায়নের কাজ করছে। কমিশন সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না করলেও রাজ্য সরকারের কর্মচারী, বিডিওরাই কাজ করছেন। কেউ কেউ আবার ইআরও হিসেবে কাজ করছেন।”

    একই ভাবে সুকান্ত সিএএ-এর বিভ্রান্তি নিয়ে বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বিজেপি আপনাদের সঙ্গে আছে। আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব। আপনাদের যাতে ভোটার লিস্টে নাম থাকে তার জন্য যা যা করার বিজেপি তা তা করবে। নরেন্দ্র মোদি সরকারও তাই তাই করবেন। অনেকে আপানাদের উল্টো পাল্টা বোঝাবে। বিজেপি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে বলে উসকাবে। বিজেপি কালিদাস নাকি? বিজেপিকে কারা ভোট দেয় সকলে জানে। যাদের গলায় কাঠের মালা, মাথায় সিঁদুর। যারা ভোট দেয় তাঁদের কি বিজেপি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে? যদি তাই হয় আমরাই তো সরকারে থাকতে পারব না। আমি তো বগুড়া থেকে এসেছি। আমাদের জমি ওপারে কম ছিল না। আমার ঠাকুদা এসছিলেন যাতে ঠাকুমা রাতের বেলায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালাতে পারেন। তাই ভয়ের কিছু নেই।”

    প্রতি বুথে ১০-১৫ জন হিন্দুর নাম কেটে বাদ

    এদিন তৃণমূলের আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “তৃণমূলের আই-প্যাক টিমের মাধ্যমে ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, যেখানে বেছে বেছে প্রতিটি বুথ থেকে প্রায় দশজন করে হিন্দু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাদের নাম এসআইআরে নেই, তারা যেন সিএএ-র আওতায় আবেদন করেন। আজকের অনুষ্ঠান ক্যাম্পে সকলে সিএএ-র আওতায় আবেদন করুণ। তাদের রীতিমতো টার্গেট দেওয়া হয়েছে প্রতিবুথে যেন ১০-১৫ জন হিন্দুর নাম কেটে বাদ দেওয়া হয়। এমনিই বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন যেহেতু এদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে তাই সুযোগকে ব্যবহার করবে। ফলে বিজেপির কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। একজন হিন্দুর যেন নাম বাদ না যায়। ভারতে যদি হিন্দুদের নাম বাদ যায় তাহলে কাদের নাম থাকবে। ভারতবর্ষ আর ভারতবর্ষ থাকবে না। হিন্দুদের মহাপুণ্যভূমি এই ভারতবর্ষ তাই হিন্দু রক্ষার নামই হল ভারতবর্ষ রক্ষা। তাই ভারতকে রক্ষা করতে হিন্দুদের এক থাকতে হবে।”

    নাগরিকত্ব তুলে দেন সুকান্ত

    এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি আগে সিএএ আবেদন করেছিলেন এমন ব্যক্তিদের হাতে সার্টিফিকেটও তুলে দেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। বিজেপি মণ্ডলস্তর পর্যন্ত সকল জায়গায় হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্যাম্প শুরু করেছে। আবেদনও পড়ছে ব্যাপক পরিমাণে। উল্লেখ্য নবদ্বীপ রাস পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গিয়ে গিয়ে একদল দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনার কথা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে গত কয়েকমাসের মধ্যে সাংসদ খগেন মুর্মু, বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, সাংসদ রাজ্য বিস্তা-সহ একাধিক নেতাদের উপর আক্রমণের ঘটনা রাজ্য রাজনীতির পারদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের যদি ভোটের আগেই এতো টার্গেট করা হয় ভোটের সময় কি হবে? তা নিয়েই চিন্তিত রাজনীতির একাংশ।

  • Kerala HC: প্রথম স্ত্রীর কথা না শুনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন না মুসলিম পুরুষ, রায় কেরল হাইকোর্টের

    Kerala HC: প্রথম স্ত্রীর কথা না শুনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন না মুসলিম পুরুষ, রায় কেরল হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম স্ত্রীকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিয়ে কোনও মুসলিম পুরুষের (Muslim Man) দ্বিতীয় বিয়ে কেরল রেজিস্ট্রেশন অফ ম্যারেজ (কমন) রুলস, ২০০৮ এর অধীনে রেজিস্ট্রি করা যাবে না। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের রায়ে বিচারপতি (Kerala HC) পিভি কুনহিকৃষ্ণন বলেন, “মুসলিম পুরুষের প্রথম স্ত্রী যদি তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের বিরোধিতা করেন, তবে রেজিস্ট্রারকে সেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব পক্ষকে আদালতে পাঠাতে হবে।” হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, “যদি কোনও মুসলিম পুরুষের প্রথম স্ত্রী তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং দাবি করেন যে দ্বিতীয় বিয়েটি অবৈধ, তাহলে রেজিস্ট্রার সেই দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করবেন না। সব পক্ষকে তাঁদের ধর্মীয় প্রথাগত আইনের আলোকে দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা প্রমাণ করার জন্য উপযুক্ত আদালতে পাঠাতে হবে।”

    সাংবিধানিক অধিকার সর্বোচ্চ (Muslim Man)

    হাইকোর্ট বলেছে, “মুসলিম পার্সোনাল ল-এর অধীনে একজন মুসলিম পুরুষের অধিকার সংবিধানের সমতা ও ন্যায্য শুনানির নীতিগুলির ওপরে যেতে পারে না। তবে, যদি প্রথম আবেদনকারী (স্বামী) দ্বিতীয় আবেদনকারীর (দ্বিতীয় স্ত্রী) সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চান, তাহলে দেশের আইনই প্রাধান্য পাবে, এবং সে ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীকে শুনানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে ধর্ম দ্বিতীয় অবস্থানে, আর সাংবিধানিক অধিকার সর্বোচ্চ। অন্যভাবে বলতে গেলে, এটি প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি।” স্বামীর প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন, এ তথ্য উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছে, এ ধরনের পরকীয়ার সম্পর্ক পবিত্র কোরানে বৈধতা পায় না। আদালত বলেছে, “আমি মনে করি না যে পবিত্র কোরান বা মুসলিম আইন কোনও মুসলিম পুরুষকে তাঁর প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এবং তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনও নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অনুমতি দেয়, তাও আবার প্রথম স্ত্রীর অগোচরে। পবিত্র কোরান ও হাদিস থেকে প্রাপ্ত নীতিগুলি সম্মিলিতভাবে বিবাহ-সম্পর্কিত সব আচরণে ন্যায়, ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতার নির্দেশ দেয়।”

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোরানে (Muslim Man) দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রির আগে তাঁর সম্মতি নেওয়া, অথবা অন্তত তাঁকে অবহিত করা, এগুলি ন্যায়, সুবিচার এবং স্বচ্ছতার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সংবিধান ও ধর্মীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দু। আদালত আরও জানিয়েছে, “মুসলিম পার্সোনাল ল’ বিশেষ পরিস্থিতিতে পুরুষকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিলেও, প্রথম স্ত্রী তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের রেজিস্ট্রির সময় স্রেফ দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না (Kerala HC)।”

    প্রথম স্ত্রীর শুনানি বাধ্যতামূলক

    তবে আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রথম স্ত্রীর এই শুনানি বাধ্যতামূলক নয়, যদি প্রথম বৈবাহিক সম্পর্ক তালাকের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়। আদালত জানিয়েছে, “যখন প্রথম বিয়ে কার্যকর রয়েছে, তখন ২০০৮ সালের আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীকে অবহিত না করে একজন মুসলিম পুরুষ তাঁর প্রথম স্ত্রীর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন না। কিন্তু যদি দ্বিতীয় বিয়েটি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ঘটে, তখন প্রথম স্ত্রীকে নোটিশ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

    লিঙ্গ সমতা

    হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লিঙ্গ সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এটি শুধু নারীদের বিষয় নয়, সমগ্র মানবজাতির বিষয়। আদালতের ভাষায়, “লিঙ্গসমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। লিঙ্গ সমতা কোনও নারীর সমস্যা নয়, এটি মানুষের সমস্যা (Muslim Man)। তাই আমি মনে করি, একজন মুসলিম পুরুষ যদি ২০০৮ সালের আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চান, যখন তাঁর প্রথম স্ত্রী রয়েছেন, তাহলে প্রথম স্ত্রীকে অবশ্যই শুনানির সুযোগ দিতে হবে (Kerala HC)।”

    দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি!

    হাইকোর্ট রিট পিটিশনটি খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দেয়, প্রথম স্ত্রীকে আদৌ এই মামলায় পক্ষ করা হয়নি। আদালত আবেদনকারীদের ফের রেজিস্ট্রির জন্য আবেদন করার অনুমতি দেয় এবং নির্দেশ দেয় যে প্রথম স্ত্রীকে নোটিশ দিতে হবে। কেরল হাইকোর্টের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, মুসলিম পার্সোনাল ল হয়তো মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়। কিন্তু সেটা অবশ্যই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত ৯৯.৯৯ শতাংশ স্ত্রী তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি দেবেন না (Kerala HC)।”

  • SIR: আসলে এসআইআর সমর্থনই করছেন রাহুল গান্ধী! কী বলল নির্বাচন কমিশন?

    SIR: আসলে এসআইআর সমর্থনই করছেন রাহুল গান্ধী! কী বলল নির্বাচন কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) নিয়ে ঘুম ছুটেছে বিরোধীদের। প্রকাশ্যে চলে এসেছে তাঁদের দ্বিচারিতার রাজনীতিও। এক সময় এসআইআরের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই তিনিই এখন এসআইআরের বিরোধিতায় নেমে পড়েছেন পথে। এই দ্বিচারিতার রাজনীতি করে চলেছে কংগ্রেসও (Rahul Gandhi)। নির্বাচন কমিশনের দাবি, একদিকে রাহুল গান্ধী এসআইআরের বিরোধিতা করছেন। অথচ এটি ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে তিনিই অতীতের ভোটার তালিকার অশুদ্ধির কথা তুলে ধরে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। কমিশনের সাফ কথা, “এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, শুরুতে তিনি বিরোধিতা করলেও, এখন তিনি এসআইআরকে সমর্থনই করছেন।”

    ভোট চুরির অভিযোগ রাহুলের (SIR)

    ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। এদিন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের দাবি করেন, দেশে ব্যাপকভাবে ভোট চুরি হচ্ছে। এদিন তিনি তাক করেছিলেন হরিয়ানাকে, যেখান ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। দুপুরে হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এক্স হ্যান্ডেলে বলেন, “প্রিয় ভোটারবৃন্দ, বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধীর প্রেস কনফারেন্সের বিস্তারিত জবাব শীঘ্রই জানানো হবে।” হরিয়ানা সিইওর এক্স হ্যান্ডেলে ‘হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়েছে। তাতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ, মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, পোলিং এজেন্ট, প্রাপ্ত অভিযোগ এসবেরই বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে (Rahul Gandhi)।

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

    সংবাদ সংস্থা এএনআই নির্বাচন কমিশনের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচনী তালিকা নিয়ে কোনও আপিল দাখিল হয়নি। রাজ্যের ৯০টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য হাইকোর্টে মাত্র ২২টি পিটিশন বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে (SIR)। সূত্রের প্রশ্ন, কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টরা যদি সত্যিই মনে করে থাকেন যে ডুপ্লিকেট ভোট হয়েছে, তবে তাঁরা ভোটকেন্দ্রেই আপত্তি জানালেন না কেন? গান্ধী কি এসআইআর প্রক্রিয়া সমর্থন করেন নাকি বিরোধিতা করেন? এই প্রক্রিয়াটি তৈরি হয়েছে ডুপ্লিকেট, মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য। এর পাশাপাশি যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে নাগরিকত্বও। সূত্রের আরও প্রশ্ন, কংগ্রেসের বুথ লেভেল এজেন্টরা কেন তালিকা সংশোধনের সময় কোনও দাবি বা আপিল দায়ের করেননি? নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন, রাহুল গান্ধীর ওই দাবিতে, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে নকল বা দ্বৈত ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে। আর বিজেপির দাবি ছিল, সেই ভোট পড়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ‘হাউস নম্বর জিরো’ সেই সব এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যেখানে পুরসভা বা পঞ্চায়েত এখনও বাড়ির নম্বর বরাদ্দ করেনি (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের বিস্ফোরক দাবি

    রাহুল গান্ধীর দাবি, হরিয়ানার প্রতি আটজন ভোটারের একজন নকল। তিনি বুথে পড়া ভোট ও পোস্টাল ব্যালটে পড়া ভোটের মধ্যে অকারণ ফারাক সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন। প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে হরিয়ানায় ২৫ লাখ ভোটার নকল, এরা হয় নেই, অথবা এদের নাম দ্বৈতভাবে রয়েছে, অথবা এমনভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাতে যে কেউ তাদের নামে ভোট দিতে পারে। হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনের ১ জন ভোটার নকল, শতাংশের বিচারে তারা ১২.৫ (SIR)।” তিনি বলেন, “আমাদের কাছে ‘এইচ’ ফাইলস নামে একটি নথি আছে এবং এটি দেখায় কীভাবে পুরো একটি রাজ্যকে চুরি করে নেওয়া হয়েছে। আমরা সন্দেহ করছিলাম যে এটি কেবল আলাদা আলাদা আসনে হচ্ছে না, বরং রাজ্য এবং জাতীয় স্তরেও ঘটছে। হরিয়ানা থেকে আমাদের প্রার্থীদের কাছ থেকে বহু অভিযোগ পেয়েছিলাম যে কিছু একটা ঠিকমতো কাজ করছে না। তাদের সমস্ত পূর্বাভাস উল্টে গিয়েছিল। আমরা এ ধরনের অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রেও পেয়েছি, কিন্তু আমরা হরিয়ানায় জুম করে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল সেটা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” তাঁর অভিযোগ, হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে ২৫ লাখ ভোট চুরি হয়েছে।

    হরিয়ানা বিধানসভার নির্বাচন

    প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে নির্বাচন হয় ৯০ আসন বিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভার। সেই নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয় ৪৭টি আসনে।  কংগ্রেস পায় ৩৭টি আসন। সেই নির্বাচনের এক বছর পর এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগে সরব হলেন রাহুল। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বিহার বিধানসভার নির্বাচন। তার ঠিক আগের দিনই দিল্লিতে রাহুল অভিযোগ করেন, গত বছর হরিয়ানায় ৫.২১ শতাংশ ডুপ্লিকেট ভোটার ভোট দিয়েছিলেন (Rahul Gandhi)।  ৯৩ হাজার ১৭৪ জন অবৈধ ভোটার ভোট দেন। আর ১৯ লাখ ২৬ হাজার বাল্ক ভোটার ভোট দেন। সব মিলিয়ে চুরি হয়েছে ২৫ লাখ ভোট (SIR)।

  • Bihar Assembly Election 2025: বিহারে চলছে প্রথম দফার নির্বাচন, ভোটারদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Bihar Assembly Election 2025: বিহারে চলছে প্রথম দফার নির্বাচন, ভোটারদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’টি দফায় হবে বিহার বিধানসভার নির্বাচন (Bihar Assembly Election 2025)। প্রথম দফার (First Phase) ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে। এদিন ভোটগ্রহণ চলছে রাজ্যের ১৮টি জেলার ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে। চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। কোনও কোনও জায়গায় অবশ্য বিকেল ৫টায়ই শেষ হয়ে যাবে ভোটগ্রহণ। এদিন যে জেলাগুলিতে ভোটগ্রহণ চলছে, সেগুলি হল পাটনা, দ্বারভাঙা, মধেপুরা, সহরসা, মুজফফরপুর, গোপালগঞ্জ, সিওয়ান, সারণ, বৈশালী, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, লখীসরাই, মুঙ্গের, শেখপুরা, নালন্দা, বক্সার এবং ভোজপুর। বিহার বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৪৩টি। এদিন ভোট চলছে ১২১টি আসনে। ইভিএমে ভাগ্য বন্দি হবে ১ হাজার ৩১৪ জন প্রার্থীর। মূল লড়াই এনডিএ এবং বিজেপি বিরোধী মহাগঠবন্ধনের মধ্যে।

    ভাগ্য পরীক্ষায় যাঁরা (Bihar Assembly Election 2025)

    এদিন যেসব উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদের ছোট ছেলে তথা বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তিনি লড়ছেন রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। ময়দানে রয়েছেন লালুপ্রসাদের ‘বিদ্রোহী’ জ্যেষ্ঠপুত্র তথা জনশক্তি জনতা দল সুপ্রিমো তেজপ্রতাপ যাদবও। তাঁর কেন্দ্র মহুয়া। বিহারের দুই বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেপির সম্রাট চৌধুরী লড়ছেন তারাপুরে, আর বিজয়কুমার সিনহা প্রার্থী হয়েছেন লখীসরাইয়ে। ভোজপুরী গায়িকা মৈথিলী ঠাকুরের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে আজ। পদ্ম চিহ্নে তিনি প্রার্থী হয়েছেন আলিনগর কেন্দ্রে। ভোজপুরী গায়ক তথা অভিনেতা আরজেডির প্রার্থী খেসারিলাল যাদব লড়ছেন ছাপরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এদিন ভাগ্যপরীক্ষা হবে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের নয়া দল জন সুরাজ পার্টির কয়েকজন প্রার্থীরও (Bihar Assembly Election 2025)।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরেই ভোটারদের পূর্ণ উদ্যোমে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দিতে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, “গণতন্ত্রের উৎসব আজ বিহারে প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই পর্বে সকল ভোটারের কাছে আমার আবেদন, আপনারা পূর্ণ উদ্যমে ভোট দিন।” ওই পোস্টেই বিহারের নয়া ভোটারদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, “মনে রাখবেন, আগে ভোট, পরে আহার-বিশ্রাম।” মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদবও ভোটদানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আপনার ভোট বিহারের উন্নতির পথ প্রশস্ত করবে। আগে ভোট। অন্য কোনও কাজ কিছু সময় পরেও করা যেতে পারে।”

    প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে বিহারে ভোটার তালিকার এসআইআর হয়েছে এবার। প্রথম দফায় ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন হবে ১১ নভেম্বর (First Phase)। সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১২২টি আসনে। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর (Bihar Assembly Election 2025)।

  • Ramakrishna 500: “তিনি যোগীদিগের অগম্য—‘যোগিভিরগম্যম্‌’—আপনার ন্যায় যোগীদের অগম্য; কিন্তু গোপীদিগের গম্য”

    Ramakrishna 500: “তিনি যোগীদিগের অগম্য—‘যোগিভিরগম্যম্‌’—আপনার ন্যায় যোগীদের অগম্য; কিন্তু গোপীদিগের গম্য”

    ৪৮ শ্রীরামকৃষ্ণ কাপ্তেন, নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৩ই জুন

    কাপ্তেন ছেলেদের সঙ্গে করিয়া আসিয়াছেন

    ঠাকুর কিশোরীকে বলিলেন, “এদের সব দেখিয়ে এস তো,—ঠাকুরবাড়ি!”

    ঠাকুর কাপ্তেনের সহিত কথা কহিতেছেন।

    মাস্টার, দ্বিজ ইত্যাদি ভক্তেরা মেঝেতে বসিয়া আছেন। দমদমার মাস্টারও আসিয়াছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ছোট খাটটিতে উত্তরাস্য হইয়া বসিয়া আছেন। তিনি কাপ্তেনকে ছোট খাটটির এক পার্শ্বে তাঁহার সম্মুখে বসিতে বলিলেন।

    পাকা-আমি বা দাস-আমি 

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তোমার কথা এদের বলছিলাম,—কত ভক্ত, কত পূজা, কত রকম আরতি!

    কাপ্তেন (সলজ্জভাবে)—আমি কি পূজা আরতি করব? আমি কি?

    শ্রীরামকৃষ্ণ—যে ‘আমি’ কামিনী-কাঞ্চনে আসক্ত, সেই আমিতেই দোষ। আমি ঈশ্বরের দাস, এ আমিতে দোষ নাই। আর বালকের আমি,—বালক কোনও গুণের বশ নয়। এই ঝগড়া করছে, আবার ভাব! এই খেলাঘর করলে কত যত্ন করে, আবার তৎক্ষণাৎ ভেঙে ফেললে! দাস আমি —বালকের আমি, এতে কোনও দোষ নাই। এ আমি আমির মধ্যে নয়, যেমন মিছরি মিষ্টের মধ্যে নয়। অন্য মিষ্টতে অসুখ করে, কিন্তু মিছরিতে বরং অমলনাশ হয়। আর যেমন ওঁকার শব্দের মধ্যে নয়।

    “এই অহং দিয়ে সচ্চিদানন্দকে ভালবাসা যায়। অহং তো যাবে না — তাই ‘দাস আমি’, ‘ভক্তের আমি’। তা না হলে মানুষ কি লয়ে থাকে। গোপীদের কি ভালবাসা! (কাপ্তেনের প্রতি) তুমি গোপীদের কথা কিছু বল। তুমি অত ভাগবত পড়।”

    কাপ্তেন—যখন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে আছেন, কোন ঐশ্বর্য নাই, তখনও গোপীরা তাঁকে প্রাণাপেক্ষা ভালবেসেছিলেন। তাই কৃষ্ণ বলেছিলেন, আমি তাদের ঋণ কেমন করে শুধবো? যে গোপীরা আমার প্রতি সব সমর্পণ করেছে,—দেহ,—মন,—চিত্ত।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)  ভাবে বিভোর হইতেছেন। ‘গোবিন্দ!’ ‘গোবিন্দ!’ ‘গোবিন্দ!’ এই কথা বলিতে বলিতে আবিষ্ট হইতেছেন! প্রায় বাহ্যশূন্য। কাপ্তেন সবিসময়ে বলিতেছেন, ‘ধন্য!’ ‘ধন্য!’

    কাপ্তেন ও সমবেত ভক্তগণ ঠাকুরের এই অদ্ভুত প্রেমাবস্থা দেখিতেছেন। যতক্ষণ না তিনি প্রকৃতিস্থ হন, ততক্ষণ তাঁহারা চুপ করিয়া একদৃষ্টে দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তারপর?

    কাপ্তেন—তিনি যোগীদিগের অগম্য—‘যোগিভিরগম্যম্‌’—আপনার ন্যায় যোগীদের অগম্য; কিন্তু গোপীদিগের গম্য। যোগীরা কত বৎসর যোগ করে যাঁকে পায় নাই; কিন্তু গোপীরা অনায়াসে তাঁকে পেয়েছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—গোপীদের কাছে খাওয়া, খেলা, কাঁদা, আব্দার করা, এ-সব হয়েছে।

  • FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা করল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স, সংক্ষেপে এফএটিএফ (FATF)। বৈশ্বিক জঙ্গি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী এই সংস্থা একটি মডেল সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইডিকে (ED Model)। নয়া প্রকাশিত রিপোর্ট “অ্যাসেট রিকভারি গাইডেন্স অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিসেসে” এফএটিএফ উল্লেখ করেছে যে, অপরাধ ও মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী আইনি ও কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা বাস্তবায়নকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারত দণ্ডাদেশ-ভিত্তিক এবং অদণ্ডাদেশ-ভিত্তিক উভয় ধরনের সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করার আইন সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করছে। পরস্পর আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পরিচালিত মামলাগুলিতে বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছে ইডিকে।

    এফএটিএফের বক্তব্য (FATF)

    সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষণ এই সংস্থা জানিয়েছে, ইডির সম্পদ পুনরুদ্ধার কৌশল একটি পরিণত, সুসম্পদসমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির প্রতিফলন। এটি আর্থিক তদন্তে সংশোধিত এফএটিএফ মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,যেখানে সম্পদ পুনরুদ্ধারকে জাতীয় নীতি-অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (PMLA) আওতায় ভারতের আইনগত কাঠামোরও প্রশংসা করেছে ওই সংস্থা। এটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে অপরাধ থেকে অর্জিত সম্পদের দ্রুত বাজেয়াপ্ত, আটক এবং বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দেয়। রিপোর্টে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর আন্তঃ-সংস্থা সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সিবিআই এবং ইডি এবং এটিকে এমন একটি মডেল হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা আর্থিক কেলেঙ্কারির মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে একত্রিত করতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে (FATF)।

    অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ

    এফএটিএফ ভারতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার রেকর্ড, বিশেষত বিদেশি বিচারব্যবস্থা থেকে সফলভাবে সম্পদ প্রত্যর্পণের ঘটনাগুলিকে ভারতের ক্রমবিকশিত অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে (ED Model)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভারতের কর্মদক্ষতা, বিশেষত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED)-এর মাধ্যমে, দেখায় যে কীভাবে ধারাবাহিক নীতি, আইনি ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে প্রকৃত ফল এনে দিতে পারে।”

    উপসংহার

    এ সব উদাহরণের সাহায্যে এফএটিএফ বলেছে যে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার কাঠামো একটি উচ্চমানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিফলিত করে, যা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে ইডি আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যকে তদন্ত, আইন প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করেছে। তার ফলেই অপরাধীদের সম্পদ দ্রুত বাজেয়াপ্ত করা যাচ্ছে। নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে বিভিন্ন বিবাদের (FATF)। এফএটিএফের ওই প্রতিবেদনের উপসংহার হল (ED Model), ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের নতুন ২০২৩–২৪ সম্পদ পুনরুদ্ধার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক তদন্ত, সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পুনরুদ্ধার করা সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি অন্য সদস্য দেশগুলিকে ভারতের ভিক্টিম ফোকাসড রিকভারি মডেল অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা

    রিপোর্টে আরও বেশ কয়েকটি ভারতীয় কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে ইডি বিরাট পরিসরে সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছে, যা হাজার হাজার ভুক্তভোগীর উপকারে এসেছে। উদাহরণে এফএটিএফ এমন এক বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা বর্ণনা করেছে, যেখানে একটি ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জমির প্লট বা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সংগৃহীত অর্থ বিদ্যুৎ ও খনি-সহ অন্যান্য খাতে সরিয়ে নেয়। তদন্ত চলাকালীন ইডি ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত করে। ওই একই সময়ে সিআইডিও সমান্তরালভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল (FATF)।

    শেল কোম্পানিতে পাচার

    অন্য একটি ঘটনায় এফএটিএফ একটি প্রতারণাকারী কোম্পানির কথা জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিকিওরড ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ তুলেছিল এবং সেই টাকা একাধিক শেল কোম্পানিতে পাচার করেছিল। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ওই সম্পদ প্রাথমিকভাবে অ্যাটাচ করে ইডি। এরপর হাইকোর্ট ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (ADC) গঠন করে। ইডির অনুরোধে আদালত ৫৩৮ কোটি টাকার অ্যাটাচড অ্যাসেটস মুক্তির অনুমতি দেয়, যাতে ৭৫ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী ক্ষতিপূরণ পান। তাঁরা কোনও আইনি খরচ ছাড়াই অনলাইনে দাবি জানিয়েছিলেন (ED Model)।

    হিসেব–নিকেশে কারচুপি

    আর একটি উদাহরণে এফএটিএফ একটি সমবায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনার কথা তুলে ধরে। এখানে আধিকারিক ও অডিটররা আঁতাত করে হিসেব–নিকেশে কারচুপি করেছিলেন। বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে আত্মসাৎ করেন বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। জানা গিয়েছে, ইডি ২৯০ কোটি টাকার বেনামি সম্পদ অ্যাটাচ করে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সেগুলি মহারাষ্ট্র ডিপোজিটরদের স্বার্থরক্ষা সংস্থাকে হস্তান্তর করে (FATF)। এফএটিএফ জানিয়েছে, এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা জমিটি পরবর্তীকালে একটি নয়া বিমানবন্দর গড়তে ব্যবহার করা হয়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্পদ সরাসরি সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • S Jaishankar: “ভারত-ইজরায়েলের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারত-ইজরায়েলের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উচ্চ মাত্রার বিশ্বাস এবং নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর-এর সঙ্গে বৈঠকে গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

    কী বললেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar)

    এই প্রথম সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন সা’আর। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আপনাকে এবং আপনার প্রতিনিধিদলকে ভারতে স্বাগত জানাই। বিশেষ করে আপনাকে – কারণ আমি এখনই জানলাম এটি আপনার প্রথম ভারত সফর। তাই আন্তরিক ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।” দু’জনের আগের সাক্ষাতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি এও বলেন, “আমাদের এর আগে মিউনিখে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং আমরা টেলিফোনে যোগাযোগ রেখেছি। তবে আজ মুখোমুখি আলোচনার জন্য আমি সত্যিই আগ্রহী।” দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং আমাদের ক্ষেত্রে এই শব্দটির প্রকৃত অর্থ আছে। কঠিন সময়ে আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছি যা উচ্চ মাত্রার বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ

    বিশ্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিন্ন উদ্বেগের ওপর জোর দিয়ে তিনি (S Jaishankar) বলেন, “সন্ত্রাসবাদ আমাদের দুই দেশের জন্যই একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসবাদের সকল রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পর্যায়ে জিরো-টলারেন্স (zero tolerance) নীতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত আপনাদের অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “আমরা বন্দিদের প্রত্যাবর্তন এবং যাঁরা দুর্ভাগ্যবশত প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের দেহাবশেষ ফেরত আসাকে স্বাগত জানাই। ভারত গাজা শান্তি–পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং আশা করে যে এটি একটি স্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করার সুযোগ

    তিনি বলেন, “আপনার এই সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। একে আরও গভীর করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা যাবে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হওয়া এই দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “এটিও লক্ষণীয় যে কৃষি, অর্থনীতি, পর্যটন ও অর্থ–বিষয়ক দায়িত্বে থাকা আপনার মন্ত্রিসভার সহকর্মীরা সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন।” ভারতের উন্নয়ন–অগ্রগতির ফিরিস্তি দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বহু নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে, বিশেষ করে রেল, সড়ক ও বন্দর–পরিকাঠামো, পুনর্নবীকরণ জ্বালানি এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। আমাদের ব্যবসায়ী–সমাজ ইজরায়েলে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে অত্যন্ত আগ্রহী, এবং আমরা অবশ্যই এই বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চাই (S Jaishankar)।”

    আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা

    জয়শঙ্কর বর্তমানে চলা সহযোগিতার সাফল্যের দিকটির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “কৃষি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড তৈরি করেছি। এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দুই দেশেরই স্বার্থেই।” তিনি বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর ও সাইবার ক্ষেত্রেও আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। আজ এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আমরা আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের আয়োজন করছি। সেখানে ইজরায়েলের উপস্থিতির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

    ইজরায়েলে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে

    ইজরায়েলে ভারতীয় শ্রমিকদের উপস্থিতি সম্পর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বোঝাপড়ার ফলে আজ ইজরায়েলে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তাঁদের কিছু সমস্যা আছে, যেগুলির প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি, আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই দিকটিকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব (S Jaishankar)।” বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনা প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের কৌশলগত সহযোগিতার কথা বিবেচনা করলেও, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিষয়গুলিতে মতবিনিময় অত্যন্ত মূল্যবান। এমন কিছু বহুপাক্ষিক উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলিতে আমাদের উভয় দেশেরই গভীর আগ্রহ রয়েছে। আমাদের আলোচনার সেই অংশটির দিকেও আমি অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছি।”

    ‘গ্লোবাল সুপারপাওয়ার’

    এদিকে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সব চেয়ে মজবুত জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করলেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি ভারতকে ‘গ্লোবাল সুপারপাওয়ার’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। ভারতের বন্ধুত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” সা’আর বলেন, “দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াতে শীঘ্রই একটি মউ সই হবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা ভালো অগ্রগতি করছি। তবে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আমাদের আগ্রহ আগের মতোই অটুট (S Jaishankar)।”

  • Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টিস স্লিওয়া এবং নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাস্ত করেন। মামদানি হলেন নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র (Anti Hindu)। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া বছর চৌত্রিশের এই ব্যক্তি কুইন্স স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া মোট ভোটের মাত্র ৭ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি পেয়েছেন। আর ৪০ শতাংশের একটু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন কুয়োমো। চলতি বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কুয়োমোকে পরাজিত করেছিলেন মামদানি।

    মামদানির ঐতিহাসিক জয় (Anti Hindu)

    মামদানির এই ঐতিহাসিক জয়ের খবর এল এমন একটা সময়, যখন দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভার্জিনিয়ার প্রথম নারী গভর্নরের নির্বাচনও। ডেমোক্র্যাটরা আরও পাঁচটি কংগ্রেশনাল আসনও দখল করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রায় ২০ লাখ নিউ ইয়র্কবাসী ভোট দেন। ১৯৬৯ সালের পর থেকে এটি শহরের মেয়র নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটারের অংশগ্রহণ। মামদানি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র (Zohran Mamdani)। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর ও আর্থিক কেন্দ্রের প্রথম আফ্রিকায় জন্ম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মেয়রও।

    হাউজিং কাউন্সিলর

    সংবাদ মাধ্যমে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। ১ জানুয়ারি শপথ নেবেন তিনি (Anti Hindu)। উগান্ডার কাম্পালায় অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন মামদানি। বেড়ে ওঠা ম্যানহাটনে। সেখানকার একটি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। স্নাতক হন নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি হাউজিং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। ভাড়াটিয়া অধিকার এবং আবাসন ব্যয়সাধ্যতার সমস্যাগুলির ওপর কাজ করেন তিনি। মামদানি মীরা নায়ারের ছেলে। এই মীরা নায়ারই নির্মাণ করেছিলেন ‘মনসুন ওয়েডিং’ এবং ‘সালাম বম্বে’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র। মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানি উগান্ডার শিক্ষাবিদ। তিনি উপনিবেশবাদ এবং আফ্রিকান গবেষণা সম্পর্কিত পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

    মামদানির পোস্ট

    জয়ের খবর পাওয়ার পর মামদানি এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেট্রো রেলের দরজা খুলছে, আর দেওয়ালে লেখা, ‘জোহরান ফর নিউ ইয়র্ক সিটি’। মুহূর্তে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। মামদানি বলেন, “এই শহর সবার। আমরা এক সঙ্গে ন্যায় ও সহানুভূতির পথে এগিয়ে যাব। নিউ ইয়র্ক এখন নতুন দিগন্তের দিকে হাঁটছে।”

    হিন্দু বিদ্বেষ

    রাজনীতির জগতে পা রাখার আগে মামদানি ছিলেন নিতান্তই এক অচেনা মুখ। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জেরে দ্রুতই তিনি চলে আসেন খবরের শিরোনামে। ২০২২ সালের (Zohran Mamdani) অগাস্টের একটি ভিডিওয় দেখা যায়, তিনি একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মিছিলে থাকা লোকজন লাগাতার হিন্দুদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর স্লোগান দিচ্ছিল। ঘটনাটি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনকে তিনি একটি ‘মসজিদ ধ্বংসের উদযাপন’ এবং ‘নির্যাতনের অস্ত্র’ আখ্যা দেন (Anti Hindu)।

    মামদানির বিতর্কিত মন্তব্য

    মামদানি গত বছর নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে ‘হিন্দুত্বের চরমপন্থা’ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, “গুজরাট দাঙ্গার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুসলমানদের হত্যায় সাহায্য করেছিলেন।” মোদির সমর্থক হিন্দুদের তিনি ‘ফ্যাসিবাদী’ও আখ্যা দেন। মে মাসে নিউ ইয়র্ক ফোকাস আয়োজিত এক জনসভায় মামদানি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তুলনাও করেন (Anti Hindu)। তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদার’ মতো ইহুদি-বিরোধী গণহত্যামূলক স্লোগানকেও সমর্থন করেন।

    ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

    হিন্দু-বিরোধী সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)’ এবং অন্যান্য ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কালিও লেগেছে তাঁর গায়ে। ফোবর্সের তথ্য অনুযায়ী, মামদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অনুমান। এর বেশিরভাগই সম্পত্তি উগান্ডায় পারিবারিক মালিকানাধীন জমি থেকে। এর মূল্য দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের মধ্যে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে তাঁর বার্ষিক বেতন ১.৪২ লাখ ডলার (Zohran Mamdani)।

    ট্রাম্পের হুমকি

    মামদানির জয়ের পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। রিপালিকান শিবির থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘চরমপন্থী ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির প্রতীক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। নির্বাচনের দিন সকালেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যদি মামদানি জেতেন, তবে আমি নিউইয়র্ক শহরকে ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেব (Anti Hindu)।”

    এখন ট্রাম্প কী ব্যবস্থা নেন, সেটাই দেখার।

LinkedIn
Share