Tag: Bengali news

Bengali news

  • AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। এআই ডিভাইস পরে ওই সামিটে উপস্থিত হওয়ায় বিশেষভাবে নজর কাড়েন তিনি। ‘সর্বম কাজে’ (Sarvam Kaze) নামে পরিচিত এই যন্ত্রটি দেশীয় স্টার্টআপ সর্বম এআই (Sarvam AI)–এর তৈরি একটি স্বদেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য। ডিভাইসটি সামিটে তাৎক্ষণিকভাবে  আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং দায়িত্বশীল এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য নীতিনির্ধারক, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি জগতের বিশ্বনেতাদের একত্র করেছে। সর্বম কাজে সম্পূর্ণরূপে ভারতে নকশা ও নির্মিত একটি এআই ওয়্যারেবল হিসেবে বাজারজাত করা হবে, যা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

    সর্বম কাজে এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস (AI Summit 2026)

    সর্বম কাজে হল চশমার মতো একটি এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস, যা তাৎক্ষণিকভাবে শোনে, বোঝে এবং সাড়া দেয়। ব্যবহারকারী কী দেখছেন, সেটিও এটি ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। প্রচলিত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার-নির্ভর এআই ব্যবস্থার তুলনায় এই ডিভাইস এআইকে সরাসরি বাস্তব জগতে নিয়ে আসে—যেখানে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করা যায় এবং ফল দেখা যায় স্ক্রিনে। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সংস্থাটি এতে একটি চ্যাট ফাংশন যুক্ত করবে। ডেভেলপাররাও এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন, যা বিভিন্ন শিল্পখাতে নির্দিষ্ট ব্যবহারিক ক্ষেত্র তৈরি করবে। মে মাসে পণ্যটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত মণ্ডপমে প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বম কাজে ডিভাইস পরা অবস্থায় দেখা যায়। সর্বম এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রত্যুষ কুমারের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ব্যবহার করে ডিভাইসটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা পরীক্ষা করছেন। এই উপস্থিতি স্টার্টআপ ও তাদের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ভারত নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে।

    সর্বম এআই

    সর্বম এআই নির্বাচিত সংস্থাগুলির মধ্যে একটি, যা ভারতীয়দের প্রয়োজন মেটাতে স্বদেশি ভিত্তিমূলক এআই মডেল তৈরি করছে। সংস্থাটি ভারতীয় ভাষাভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) ও স্পিচ মডেল তৈরি করছে। এই মডেলগুলি ভয়েস ইন্টারফেস, নথি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। সম্প্রতি স্টার্টআপটি ‘সর্বম অক্ষর’ চালু করেছে নথি ডিজিটাইজেশনের জন্য, ‘সর্বম স্টুডিও’ চালু করেছে বহুভাষিক কনটেন্ট তৈরির জন্য এবং ‘সারাস ভি৩’ নামে একটি স্পিচ রেকগনিশন মডেল উন্মোচন করেছে, যা ভারতীয় ভাষায় নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’

    ভারত সরকারের বৃহত্তর ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর অংশ হিসেবে সর্বম কাজে চালু করা হয় মার্চ, ২০২৬-এ, ১০,৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে। এই মিশনের আওতায় ৩৮,০০০-এরও বেশি জিপিইউ স্টার্টআপ ও গবেষকদের সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১২টি গোষ্ঠীকে স্বদেশি বৃহৎ ভাষা মডেল নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ১৬ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ এমন উদ্ভাবন প্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। দ্রুতগতিতে এআই রোডম্যাপ তৈরির পথে এগোতে গিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই সর্বম কাজের মতো বিশ্বমানের স্বদেশি এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

     

  • Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মেরঠের পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হয়েও তারা প্রায় তিন দশক ধরে ভারতে বসবাস করছে। সমাজকর্মী রুখসানার অভিযোগ, মা ও মেয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে, পাকিস্তানের নাগরিকত্বও হাতছাড়া করেনি।

    পুলিশ সুপারের বক্তব্য (Uttar Pradesh)

    সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সুপার অবিনাশ পাণ্ডে জানান, দিল্লি গেট এলাকায় বসবাসকারী ফারহাত মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পান। জানা যায়, সে পাকিস্তানে গিয়ে সাবা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে। ওই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছে। সাবা ও তার মেয়ে, উভয়েই পাকিস্তানের নাগরিক। এসএসপি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে অভিযুক্তরা বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন। সিটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলছে।

    প্রধান অভিযুক্ত

    এফআইআরে সাবা মাসুদ ওরফে নাজি ওরফে নাজিয়া এবং তার মেয়ে আইমান ফারহাতকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথির ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, সাবা পাকিস্তানে ফারহাত মাসুদকে বিয়ে করে। আইমানের জন্ম হয় ১৯৯৩ সালের ২৫ মে, পাকিস্তানে। তিনি আরও বলেন, “সাবা ভারতে ফিরে এলে আইমান সাবার পাকিস্তানি পাসপোর্টে ভারতে ঢুকে পড়ে, যেখানে তার নাম ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।” রুখসানার দাবি (Uttar Pradesh), পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মা ও মেয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করেই মেরঠে বসবাস করছে। আইমান এ দেশেই পড়াশোনা করে, যদিও কখনওই বৈধ নাগরিকত্বের আবেদন করেনি। ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড়ের উদ্দেশ্যে জাল ও মনগড়া নথি প্রস্তুত করা হয়। সাবা মাসুদ ও নাজিয়া মাসুদ – এই দুই ভিন্ন নামে দুটি পৃথক ভোটার কার্ড জোগাড় করে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড পরিচয় গোপন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা করার শামিল।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রুখসানার

    রুখসানা তাঁর অভিযোগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা জাল পাসপোর্ট ও নথির ভিত্তিতে একাধিকবার পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে ঘুরেছে। সাবার বাবা হানিফ আহমেদ পাকিস্তানের নাগরিক।” রুখসানার দাবি, সে নাকি আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট সংবেদনশীল। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে দিল্লির সেনা সদর দফতর ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াত করত। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও জানায়। তার জেরে কেউ তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখেননি। যদিও শেষ রক্ষা হল না। শেষমেশ ধরাই পড়ে গেলেন (Uttar Pradesh)।

  • Election Commission: ‘‘আপনার বাবা-মা ও ভাই কে, সেটা স্থির করি?’’ মামলাকারীকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    Election Commission: ‘‘আপনার বাবা-মা ও ভাই কে, সেটা স্থির করি?’’ মামলাকারীকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার (SIR) বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিরুদ্ধে একটি আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি, এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ আবেদনকারী জিমফারাহাদ নওয়াজের আবেদন বাতিল করে দেন। কোর্ট বলেছে, “আপনি কি চান যে আমরা ৩২ অনুচ্ছেদের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার বাবা, আপনার মা এবং আপনার ভাই কে, তা স্থির করি? নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) যান।”

    কেন আবেদন খারিজ (Election Commission)

    ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবেদনকারী নাওয়াজের অভিযোগ ছিল, এসআইআর-এ (SIR) তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনকে সংসদ, রাজ্য আইন সভা, রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে ভোটার তালিকা (Election Commission) তৈরি তদারকি, নির্দেশিকা এবং নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রদানকারী আইন পরিপন্থী।

    কোর্টের বক্তব্য

    আর এই জন্যই খারিজ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রত্যকে ব্লকে আলদা করে কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ নথি জমা করতে পারবে। এলাকা সংক্রান্ত আপত্তিও জানাতে পারবে। তবে কমিশনের তরফে জানা গিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষে। সেই তালিকা ধরে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে যা চলেছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Election Commission) প্রকাশিত হবে।

    তৃণমূলের বিরোধিতা

    খসড়া (Election Commission) ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিছু নামকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিভাগে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বানান বিভ্রাট, বয়স বা পিতামাতার তথ্যের অসঙ্গতি কিংবা তথ্যভিত্তিক অমিল। এধরনের কারণ দেখিয়ে সিস্টেম-জেনারেটেড অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে ওই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। যদিও এই নিয়ে এই রাজ্যের শাসকদল এসআইআর (SIR) ইস্যুতে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। বিজেপির অভিযোগ চূড়ান্ত পরিমাণে অসহযোগিতার কারণে কমিশনের কাজে অসুবিধার সৃষ্টি করছে তৃণমূল।

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

  • Amit Shah: বুধে রাজ্যে অমিত শাহ, তার আগে দিল্লিতে বৈঠক শুভেন্দুর সঙ্গে, কী নিয়ে হল কথা?

    Amit Shah: বুধে রাজ্যে অমিত শাহ, তার আগে দিল্লিতে বৈঠক শুভেন্দুর সঙ্গে, কী নিয়ে হল কথা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার অমিত শাহের (Amit Shah) সফরের আগেই দিল্লিতে শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাড়িতে আধ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা ভোটের প্রধান প্রধান ইস্যু নিয়ে। মমতা সরকারকে অপসৃত করে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে সর্ব শক্তি নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ২ ঘণ্টা থাকার কথা রয়েছে (Amit Shah)

    ভোটের মুখে রাজ্যে ফের আসবেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মায়াপুরের ইসকনে যাবেন তিনি। বুধবার কলকাতা থেকে কপ্টারে মায়াপুর যাবেন। তবে এই সফরে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে না বলে জানা গিয়েছে। দুপুর দেড়টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন। এরপর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মায়াপুরে যাবেন। সেখানে ২ ঘণ্টা থাকার কথা রয়েছে। বিকেলে মায়াপুর থেকে কলকাতায় ফিরবেন। তবে দলীয় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও ভোটের আবহে রাজনীতির আঙ্গিনায় শোরগোল পড়েছে।

    নতুন বছরের শুরুতে এক মাসে দুই বার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি যে ভোটের দৌড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পিছিয়ে থাকতে চাইছে না তাও এখানে স্পষ্ট। প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah) বাংলার বিজেপি নেতৃত্বকে ২০০ সিটের টার্গেট দিয়ে দিয়েছেন। ২০২১ সালে বিজেপি দুই তৃতীয়াংশ আসনের কথা বলে ছিলেন। এইবার কলকাতা এবং কলকাতার আশেপাশের ২৮টি সিটের মধ্যে ২০টিতে জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন।

    আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) আসবেন। মায়াপুরে গৌড়ীয় মঠ সম্প্রদায়, অন্যান্য সম্প্রদায়ে সন্ন্যাসী সাধুগুরু বৈষ্ণব যাঁরা আছেন তাঁদের সঙ্গে বসবেন। মাননীয় অমিত শাহজির বহুদিনের ইচ্ছে ছিল আসার। এর আগেও একবার তাঁর আসার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু প্রোগ্রাম কোনও কারণে বাতিল হয় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার জন্য। মাননীয় গৃহমন্ত্রী আসবেন, এর ফলে আমাদের বাংলার যে বৈষ্ণব আন্দোলন, এবং অন্যান্য সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যারা তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে বলে আমার মনে হয়।”

  • India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। এর (India) ফলে রাভি (সংস্কৃত নাম ইরাবতী) নদীর অতিরিক্ত জল আর প্রবাহিত হবে না পাকিস্তানে (Pakistan)। এমনই জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে  জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল।

    কী বললেন জাভেদ আহমেদ রানা? (India)

    একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রানা বলেন, “হ্যাঁ, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি এও বলেন, “কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা খরাপ্রবণ এলাকা, কান্দি অঞ্চলের জন্য এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।” নদীর জল সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। শাহপুর কান্দি ব্যারাজ, যা একটি জাতীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চার দশক পর সংশোধিত হয়। গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং সেগুলি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (India)।

    সিন্ধু জলচুক্তি

    বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রুটিপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ছ’টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলি (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগা) পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল সীমিত ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল (Pakistan)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শাহপুর কান্দি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সেচ অংশের জন্য ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা মঞ্জুর করে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পাঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। পাঞ্জাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাধোপুর হেডওয়ার্কসের নিম্নপ্রবাহ দিয়ে পাকিস্তানে অপচয় হওয়া রাভি নদীর জল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (India)। এছাড়াও, পাঞ্জাবের ১.১৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য যে জল ছাড়া হয়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি রূপায়ন হলে পাঞ্জাব ২০৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল আগেই

    এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৭৯ সালে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে রণজিৎ সাগর বাঁধ (থেইন বাঁধ) ও শাহপুর কান্দি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাঞ্জাবের ওপর ন্যস্ত হয়। ২০০১ সালে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করে। তবে বিদ্যুৎ অংশের জন্য পাঞ্জাব সরকারের অর্থাভাব এবং পরে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমস্যার কারণে (India) কাজ বিশেষ এগোয়নি। একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ২০১৮ সালে দিল্লিতে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন (Pakistan)। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে। ব্যারাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বছর আগে নির্মিত প্রায় ৮০ কিমি রাভি খাল এবং জম্মু-কাশ্মীরে ৪৯২.৫ কিমি জলবণ্টন নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন অব্যবহার্য অবস্থায় ছিল।

     

  • Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মস্থলের ভৌগলিক অবস্থান সর্বদা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেখানেই তিনটি নদীর মিলন ঘটে—বিশেষ করে গঙ্গা তাদের মধ্যে একটি। হিন্দু ঐতিহ্যে অত্যন্ত পবিত্রস্থান বলে মনে করা হয় গঙ্গার প্রবাহকে। হুগলি জেলার ত্রিবেণী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই মানদণ্ড পূরণ করে। এখানে গঙ্গা (জাহ্নবী), যমুনা এবং সরস্বতী এক সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে প্রয়াগরাজের মতো, এখানেও সরস্বতীকে অন্তঃসলিলা হিসেবে ধরা হয়। এই ত্রিবেণী (Tribeni of Bengal) ‘মুক্তবেণী’ হিসেবে পরিচিত, নদীগুলো স্পষ্টভাবে প্রবহমান।

    উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য (Tribeni of Bengal)

    সঙ্গমস্থলকে আলাদা করে আবিষ্কার করতে হয়না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দুরা ত্রিবেণীতে (Tribeni of Bengal) স্নান করে আসছেন। ঠিক যেমন প্রয়াগ, ঋষিকেশ, নাসিক বা উজ্জয়িনীতে করেন, তেমনি ভাবে পালন করে আসছে হিন্দু সমাজ। ত্রিবেণীর এই স্নান কোনও পুনরুজ্জীবিত প্রথা নয়; এটি একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুণ্যার্থীরা এই বিশ্বাস নিয়ে এখানে এসেছেন যে, সঙ্গমে স্নান করলে পাপ ক্ষয় হয়, ধর্ম পুনরুজ্জীবিত (Bharats Kumbh) হয় এবং ব্যক্তি মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হয়। মকর এই সময় দক্ষিণে অবস্থান করে, গ্রহ, নক্ষত্র এবং জাগতিক জীবনে পরিবর্তন আসে। তাই শুধু স্নান স্নান নয়, প্রাকৃতিক পরিবর্তনও কাজ করে।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী

    হুগলির ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কোনও আধুনিক মত নয়। এটি ধ্রুপদী বাঙালি পণ্ডিতদের লেখায় স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ আছে। প্রখ্যাত স্মার্ত পণ্ডিত রঘুভট্ট তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্ত তত্ত্ব’-এ অদ্ব্যর্থহীনভাবে লিখেছেন— “দক্ষিণ প্রয়াগে তার মুক্তবেণী সাতটি গ্রামকে অলঙ্কৃত করে। দক্ষিণ দেশ এটিকে ত্রিবেণী হিসেবে স্বীকার করে।” এখানে ‘সাতটি গ্রাম’ বলতে সপ্তগ্রামকে বোঝানো হয়েছে, যা ত্রিবেণীর ধর্মীয় ভূখণ্ডের মূল কেন্দ্র। এই দক্ষিণ প্রয়াগ পরিচিতিই এখানে কুম্ভ (Bharats Kumbh) সংক্রান্তির মতো বিশেষ সময়ে স্নান এবং মেলার শাস্ত্রীয় ভিত্তি প্রদান করেছে।

    শাস্ত্রের ও স্মৃতি মিলিত হয়

    ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) সপ্তগ্রাম থেকে আলাদা করে বোঝা সম্ভব নয়, যা মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। বৈষ্ণব সাহিত্যে এই অঞ্চলের পবিত্রতা স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত। বৃন্দাবন দাস তাঁর ‘চৈতন্য ভাগবত’-এ বর্ণনা করেছেন, সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটে সপ্তর্ষি তপস্যা করেছিলেন এবং এখানেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী মিলিত হয়েছেন।

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৃন্দাবন দাস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু নিজে এই ঘাটে আনন্দভরে স্নান করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলার ভক্তি আন্দোলনের সময়েও ত্রিবেণী একটি জীবন্ত তীর্থস্থান ছিল। কবি মাধবাচার্য তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ নিজেকে ত্রিবেণীর নিবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এই অঞ্চলকে পরাশর মুনি ও যজ্ঞের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    কুম্ভের জ্যোতির্বিজ্ঞানিক গুরুত্ব

    কুম্ভ (Bharats Kumbh) মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞানিক ঘটনা। উনিশ শতকে ‘কুম্ভ মেলা’ শব্দটি জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই পবিত্র সঙ্গমগুলোতে বড় ধরনের স্নান উৎসব পালিত হতো। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিচারে কুম্ভ (Tribeni of Bengal) পালন কয়েক প্রকার। যেমন- ১> মহাকুম্ভ ও অর্ধকুম্ভ: যা গ্রহের বিশেষ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ২> অনু কুম্ভ: যা প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি বা কুম্ভ সংক্রান্তিতে পালিত হয়। প্রয়াগরাজে প্রতি বছর মাঘ মাসে যেমন মেলা হয়, একই যুক্তিতে দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণীতেও ঐতিহাসিকভাবে কুম্ভ স্নান ও মেলা হয়ে আসছে। তবে মাঝের কিছু সময় বহিরাগত মুসলমান আক্রমণের জন্য এখানে মেলা বন্ধ হয়ে যায়।

    অবিরাম ঐতিহ্য

    বাংলার মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা মন্দির ধ্বংসের ইতিহাসের মধ্যেও ত্রিবেণীর (Bharats Kumbh) ধর্মীয় গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। নৃবিজ্ঞানী অ্যালান মরিনিস বলেন, গঙ্গাসাগর ছাড়া বাংলার একমাত্র ত্রিবেণীই প্রাচীনত্বের শক্তিশালী দাবিদার এবং এটি প্রয়াগের দক্ষিণ প্রতিরূপ। প্রয়াগ যদি হয় ‘যুক্তবেণী’ (যেখানে সরস্বতী অদৃশ্য), ত্রিবেণী তবে ‘মুক্তবেণী’ (Tribeni of Bengal) (যেখানে সরস্বতী দৃশ্যমান)।

    ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনও একক স্থানের নয়

    কেরলের মামাঙ্কম থেকে প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা এবং বাংলার ত্রিবেণীর কুম্ভ স্নান (Tribeni of Bengal)—সবই প্রমাণ করে ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনো একক স্থানের নয়। এটি একটি বিস্তৃত সংস্কৃতি। যার সবটাই স্থানীয় নদী, পঞ্জিকা এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির দ্বারা একটি সুশৃঙ্খলিত সাংস্কৃতিক প্রবাহ মাত্র। ত্রিবেণী কোনো ধার করা ঐতিহ্য বা আধুনিক উদ্ভাবন নয়; এটি ভূগোল, শাস্ত্র, কাব্য এবং নিরবচ্ছিন্ন আচারের দ্বারা সমৃদ্ধ ভারতের সনাতন সভ্যতার (Bharats Kumbh) এক জীবন্ত অংশ।

  • Maha Shivaratri: ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’

    Maha Shivaratri: ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই দেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, অথচ সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ২০২৬ সালের এই বসন্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক শিবরাত্রির (Maha Shivaratri)।

    ‘শিব গৃহ নৃত্য’ (Indonesia)

    ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) জাভাতে অবস্থিত নবম শতাব্দীর বিস্ময় প্রাম্বানান মন্দিরে এই প্রথমবার আয়োজিত হলো মাসব্যাপী ‘প্রাম্বানান শিব উৎসব’। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১৫০ জন শিল্পীর মোহনীয় ‘শিব গৃহ নৃত্য’ বা তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির (Maha Shivaratri) পুণ্য তিথিতে ১,০০৮টি প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে প্রাচীন এই মন্দির প্রাঙ্গণ।

    মন্দিরের উচ্চতা ৪৭ মিটার

    প্রাম্বানান মন্দির কেবলমাত্র একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) প্রাচীন আত্মিক সম্পর্কের জীবন্ত দলিল। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শিব মন্দির। মূল মন্দিরের উচ্চতা ৪৭ মিটার। মন্দিরটি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে উৎসর্গ করা। আজও এখানে নিয়মিত মঞ্চস্থ হয় রামায়ণ ব্যালে, যা প্রমাণ করে রামায়ণ-মহাভারত কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ নয়।

    বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা

    প্রাম্বানান মন্দির নির্মাণ শুরু হয় প্রায় ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে, সম্ভবত সঞ্জয় রাজবংশের আমলে। প্রায় ২৪০টি মন্দির নিয়ে গঠিত এই মন্দিরচত্বরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ৪৭ মিটার উচ্চতার শিব মন্দির, যা স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্যে অনন্য। মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে রামায়ণের কাহিনি। ১৯৯১ সালে প্রাম্বানানকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক (Maha Shivaratri) এখানে ভিড় জমান।

    বিশ্ববাসীর কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত

    ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ কিন্তু প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। ২০২৬-এর এই শিবরাত্রি উদযাপন প্রমাণ করল, প্রাম্বানান মন্দির এখন আর কেবল পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি হিন্দুদের এক সজীব আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এ দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি, যার মধ্যে ৮৭.০৬ শতাংশই মুসলিম। কিন্তু এত কিছুর পরেও ইন্দোনেশিয়া কোনও ইসলামিক রাষ্ট্র নয়; সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ভারতীয় পরম্পরার শিকড়ের সন্ধান এখনও এখানে উপলব্ধ।

    ১৯১৮ সালে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে মন্দিরটি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯১৮ সালে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মন্দিরের মহিমা, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে বলা যায়, প্রম্বানন মন্দির কেবল হিন্দুধর্মের এক অনন্য নিদর্শনই নয়, ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

    এই রাষ্ট্রে হিন্দু সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া তার পুরনো সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেনি। ১৩ শতকের শেষ দিকে পূর্ব জাভায় ‘মাজাপাহিত সাম্রাজ্য’ নামের হিন্দু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে ইন্দোনেশিয়ার স্বর্ণযুগ বলা হয়। আজও ইন্দোনেশিয়ার ইসলামি সংস্কৃতিতেও হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষের নাম, স্থানের নাম ও সংস্কৃতিতে আরবি ও সংস্কৃত উভয় উৎসের প্রভাব রয়েছে। মহাভারত ও রামায়ণের কাহিনিও সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে। সেখানে পুতুলনাচ ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে রামায়ণ–মহাভারত মঞ্চস্থ করা হয়। আর এবার সেই দেশেই মহাসমারোহে পালিত হলো শিবরাত্রি (Maha Shivaratri)।

  • Pakistan: “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে”, দাবি বিএলও-র

    Pakistan: “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে”, দাবি বিএলও-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) বালুচ লিবারেশন আর্মি (Balochistan Liberation Army) দাবি করেছে যে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্যকে আটক করেছে। সেইসঙ্গে ইসলামাবাদকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে সাফ জানিয়েছে, “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।”

    মাত্র ছয় দিন বাকি (Pakistan)

    মিডিয়া শাখা হাক্কালের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বার্তার মধ্যে একটি ভিডিও বার্তাও রয়েছে। সেখানে বিএলএ (Balochistan Liberation Army) জানিয়েছে, “সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে, ঘড়ির কাঁটা ইতিমধ্যেই টিক টিক করছে।” ‘অপারেশন হেরোফ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে বন্দীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন ফ্রন্টে ১৭ জন পাকসেনাকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে দশজনকে স্থানীয় (Pakistan) পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত এবং জাতিগত বালুচ হিসেবে চিহ্নিত করার পর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

    বালুচ জাতীয় আদালতে বিচার

    বিএলএ দাবি করেছে, বাকি সাতজন নিয়মিত পাকিস্তানি (Pakistan) সেনাবাহিনীর সদস্য এবং এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছে। আটক করা পাক সেনাদের বালুচ জাতীয় আদালতে বিচার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে জড়িত থাকা থেকে শুরু করে জোরপূর্বক অপহরণ এবং বালুচ জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। মামলার সময় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, অভিযুক্তদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

    আটক পাকসেনাদের দোষী সাব্যস্তকরণ এবং মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা সত্ত্বেও, বিএলএ (Balochistan Liberation Army) জানিয়েছে, সাত দিনের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যদি পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময়ের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। তবে ইসলামাবাদ এখনও কোনও ইতিবাচক ভাবে সাড়া দেয়নি।

  • Bangladesh: তারেককে ভারতে আমন্ত্রণ মোদির, সম্পর্কের মাত্রা পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    Bangladesh: তারেককে ভারতে আমন্ত্রণ মোদির, সম্পর্কের মাত্রা পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করবেন তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত না থাকতে পারলেও বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি মোদির চিঠি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। চিঠিতে মোদি তারেককে (Tarique Rahman) ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারত চাইছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছু সময়ের পরেই যেন ভারত সফরে আসেন এই বিএনপি নেতা।

    সম্পর্কের বিরাট অবনতি হয়েছিল (Bangladesh)

    ঢাকার (Bangladesh) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি। অবশ্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তিনি দিল্লি এবং মুম্বইতে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ ভাবে ব্যস্ত থাকবেন। তবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর গত দেড় বছরের বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিরাট অবনতি ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস নিজেও কট্টর ভারত বিরোধিতা করে পাকিস্তান এবং আইএসআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক সুগম্য করেছেন। তাই বিএনপি সরকার গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি চায়। তারেক রহমানকে সেই জন্য নির্বাচনের পরে মোদি স্বয়ং অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছিলেন। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। ভারত সব সময়েই বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠনের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে

    শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তারেক রহমান বলেছেন, “কোন একটি দেশের (Bangladesh) সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের পথে পা বাড়াবো না। আমাদের বিদেশনীতি হবে স্বাধীন এবং সাবলক। সরকারের বিদেশনীতির মূলমন্ত্র হবে সবার আগে দেশ (Tarique Rahman)।”

    তবে ভারতের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশে শান্তি এবং সুরক্ষা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। ইউনূসের শাসনের কালা অধ্যায়কে দ্রুত কাটাতে চায় ভারত। এই জন্য দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিশেষ বৈঠক করা একান্ত প্রয়োজন। তবে তারেক রহমান ভারত সফরে আসলে দুই দেশের মধ্যে একাধিক বিষয়ে চুক্তিকে বাস্তবায়ন করা ভীষণ ভাবে প্রয়োজন। তারমধ্যে হল গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তি। গত ৩০ বছর আগে এই চুক্তি হয়েছিল এবং এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালে ফের আরেকবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিমধ্যে দুই দেশের অফিসার এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ইতিমধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহল অবশ্য মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে সম্পর্কের মাত্রা ভালো হবে।

LinkedIn
Share