Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Nirmala Sitharaman:“পশ্চিমবঙ্গকে কখনও অবহেলা করা হয়নি” খতিয়ান তুলে ধরে, দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

    Nirmala Sitharaman:“পশ্চিমবঙ্গকে কখনও অবহেলা করা হয়নি” খতিয়ান তুলে ধরে, দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:কেন্দ্রীয় আবগারি (সংশোধনী) বিল, ২০২৫–এর আলোচনার জবাবে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে কখনওই অবহেলা করেনি কেন্দ্র সরকার। বরং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতিই রাজ্যের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার , রাজ্যসভায় বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ খণ্ডন করে তৃণমূলকে প্রবল আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিস্তারিত তালিকা পেশ করে করে তিনি বোঝান যে, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাকে কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে। কিন্তু সেই টাকার যথাযথ ব্যয় না করে স্বচ্ছতা দেখায়নি রাজ্য সরকার। এমনকি তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য থেকে শিল্প সংস্থাগুলি যে পালাচ্ছে সেই তালিকা প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী।

    শিল্প ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শিল্প ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে,বলে দাবি করেন নির্মলা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৪৮টি তালিকাভুক্ত এবং ৬,৪৪৭টি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। নির্মলা বলেন, “প্রত্যেকটি তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। রাজ্যসভার কাছে জমা দিচ্ছি। সত্য-মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যাবে। তৃণমূল সাংসদরা জবাবদিহি চেয়েছেন যে, রাজ্যকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। আমি তার জবাব দিচ্ছি। এখন আবার আপনারা বলছেন, সেই জবাব শুনবেন না! তিনি বলেন, এক্সাইজ বাড়ানো হচ্ছে, তামাকজাত পণ্যের উপর। সেই টাকার ভাগ পাবে রাজ্য। সেই টাকা দিয়ে রাজ্য যেন উপকার করে তামাকশিল্পে জড়িত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। এক্সাইজ যেহেতু রাজ্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, তাই তামাকজাত দ্রব্যের উপর এক্সাইজ বাড়ানোর জেরে রাজ্যের আয় বৃদ্ধি পাবে কিছুটা।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে সরে আসে পশ্চিমবঙ্গ

    রাজ্যের উন্নয়ন তৃণমূল সরকারের কারণেই থমকে আছে বলে দাবি করেন নির্মলা। এদিনই রাজ্যসভায় নির্মলা সীতারামন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। সেন্ট্রাল এক্সাইজ (সংশোধন) বিল, ২০২৫ নিয়ে আলোচনার জবাবে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কোনওদিন পশ্চিমবঙ্গকে উপেক্ষা করেনি। টিএমসি সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে সীতারামন বলেন, “আসলে, টিএমসি সরকারই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উন্নতি ব্যাহত করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে সরে আসে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি বাংলার মানুষের জন্য ভালো?”

    রাজ্য থেকে চলে যাচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান

    অর্থমন্ত্রী রাজ্য থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির চলে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৪৮টি তালিকাভুক্ত এবং ৬,৪৪৭টি তালিকাভুক্ত-বহির্ভূত সংস্থা রাজ্য ছেড়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, এই প্রবণতা রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নয়। সীতারামন আরও পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ কর বাবদ ৫.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে, যা ২০০৪-১৪ সময়ের ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ৪.৪ গুণ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক, এমনটাই দাবি করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গকে যা যা দিয়েছে কেন্দ্র

    কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে কল্যাণী এইমস চালু হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার (CSS) অধীনে ১১টি মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন পেয়েছে। এনডিএ সরকারের আমলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রেকর্ড ১৩,৯৫৬ কোটি টাকার রেল বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে, যা ২০০৯-১৪ সময়ের গড় ৪,৩৮০ কোটি টাকার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি। এ ছাড়া, রাজ্যে ৩,৮৪৭.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০১টি অমৃত স্টেশন গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ১,৬৫০ কিলোমিটার রেললাইন বিদ্যুদায়িত হয়েছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গে মোট রেল বিদ্যুদায়নের হার ৯৮ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ২,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি জাতীয় সড়ক তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ ঠিক নয়

    সীতারামন আরও জানান, ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাগডোগরা বিমানবন্দর উন্নয়নের জন্য ১,৫৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। টিএমসি সাংসদ সাগরিকা ঘোষের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, সেন্ট্রাল রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (CRIF) স্থানান্তরিত হচ্ছে না, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত সিআরআইএফ-এর অধীনে ১৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে একই সময়ে রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস বাবদ ১২.৬২ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGS) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন যে, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র থেকে ১৪,৯৮৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “অন্যদিকে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত আমাদের সরকার ৫৪,৪১৬ কোটি টাকা প্রকাশ করেছে, যা মনরেগা-এর অধীনে কেন্দ্রীয় তহবিল বিতরণে ২৬১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।”

     

     

     

  • Vladimir Putin India Visit: ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত-রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে’’ বন্ধু পুতিনকে পাশে  নিয়ে পাকিস্তানকে বিঁধলেন মোদি

    Vladimir Putin India Visit: ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত-রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে’’ বন্ধু পুতিনকে পাশে নিয়ে পাকিস্তানকে বিঁধলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও রাশিয়া সন্ত্রাসের মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin India Visit) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘বন্ধু’ পুতিন। ঠিক এই সম্বোধন দিয়েই শুক্রবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ‘‘২৫ বছর আগে পুতিন আমাদের সঙ্গে স্ট্র‍্যাটেজিক পার্টনারশিপের সূত্রপাত করেছিল। ⁠ভারতের প্রতি পুতিনের দায়বদ্ধতা এবং বন্ধুত্বের জন‍্য আমি আমার বন্ধু পুতিনকে ধন‍্যবাদ জানাই৷’’ এদিন হায়দ্রাবাদ হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ‘ডিয়ার ফ্রেন্ড’ হিসেবে সম্বোধন করেন পুতিন৷

    ইকোনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রাম

    মোদির (Modi-Putin Meet) কথায়, ‘‘ভারত-রুশ বন্ধুত্ব সময়ের সব পরীক্ষায় পাশ করেছে৷ ⁠আজ আমরা এই বন্ধুত্বকে আরও পোক্ত করতে আলোচনা করেছি৷’’ এরপরেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ⁠২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারত এবং রাশিয়া একটি ইকোনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রামে সম্মতি হয়েছে ৷ মোদি জানান, ‘‘ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে ⁠এক্সপোর্ট এবং কোঅপারেশনের রাস্তা খুলবে দু’দেশের৷ ⁠কৃষি এবং ফার্টিলাইজারের ক্ষেত্রেও আমাদের দু’দেশের সম্পর্ক কৃষকদের জন‍্য অনেক লাভদায়ক হবে। ভারত এবং রাশিয়া একসঙ্গে তৈরি করবে ইউরিয়া৷’’ শিপ বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতকে নতুন সুযোগ দেবে বলে জানান তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়, এই সমন্বয় এবং বন্ধুত্ব, সবটাই নতুন মাত্রা পেয়েছে পুতিনের নেতৃত্বে। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ থেকে ১৫ বছর আগে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক বিশেষ অংশীদারিত্বের তকমা পেয়েছিল। এমনকি, গত ২৫ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন পুতিন। আমি তাঁর এই কৃতিত্বকে সম্মান জানাই।’’

    সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জোরালো সুর

    এদিন হায়দ্রাবাদ হাউসে মোদিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। সেটা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হোক বা ক্রোকাস সিটি হলে কাপুরুষোচিত হামলা, এই সমস্ত ঘটনার মূলে একই। ভারতের অটল বিশ্বাস যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার মূল্যবোধের উপর সরাসরি আক্রমণ। এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাষ্ট্রসংঘ, জি২০, ব্রিকস, এসসিও এবং অন্যান্য ফোরামে ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। আমরা এই সমস্ত ফোরামে আমাদের আলোচনা এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতেই বারংবার পাক প্রধানমন্ত্রী ও পাক সেনাপ্রধানকে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ইঙ্গিতে ‘ভারতবিরোধী’ হুঙ্কার তুলতে দেখা গিয়েছে। শুক্রবার যেন সেই সকল হুঙ্কারের জবাব দিয়ে দিলেন মোদি।

    ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এদিকে শুক্রবার বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “ভারত নিরপেক্ষ নয়। ভারত শান্তির পক্ষে। এটা শান্তির যুগ। সাম্প্রতিক অতীতে শান্তি ফেরাতে অনেক চেষ্টা হয়েছে। আমার বিশ্বাস গোটা বিশ্ব আবারও শান্তির পথে ফিরবে।” নেতা হিসেবেও পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোদি। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রকৃত বন্ধুর মতো ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করেছেন পুতিন। সমস্ত তথ্য জানিয়েছেন।” মোদির কথায়, আগামী দিনে বিশ্বে শান্তি ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি, কারণ শান্তির মাধ্যমেই বিকাশ ঘটবে।

    স্পেশাল কারেন্সি তৈরির পথে

    বর্তমানে ২৭ ঘণ্টার সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের মাটিতে পা রাখেন পুতিন৷ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মাঝে পুতিনের এই ভারত সফরের দিকে বিশেষ নজর রাখছে ওয়াশিংটনও৷ আজ, শুক্রবার সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূর সঙ্গে দেখা করেন পুতিন৷ তারপরে হয় মোদি-পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক৷ বৈঠক শেষে দুই রাষ্ট্রনেতাই যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন, মোদিকে ‘ডিয়ার ফ্রেন্ড’ বলে বক্তব্য শুরু করেন। পুতিন বলেন, ‘‘আমরা স্পেশাল কারেন্সি তৈরির দিকে এগোচ্ছি৷ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য লেনদেনে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এখন বাণিজ্য লেনদেনের ৯৬ শতাংশই জাতীয় মুদ্রায় হচ্ছে।” ⁠এনার্জি তৈরির ক্ষেত্রে সফল পার্টনারশিপ রয়েছে রাশিয়ার। ⁠ পুতিন বলেন, ‘‘ভারতে বৃহত্তম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, কুডানকুলাম তৈরিতে আমরা সহযোগিতা করছি৷ ⁠ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা চলছে—ছয়টির মধ্যে তিনটি রিঅ্যাক্টর ইতোমধ্যেই গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে।’’

    নতুন আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডোর

    পুতিন জানান, এই বৈঠকের পরে ভবিষ্যতে ⁠নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি সহ একাধিক ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও মজবুত হবে৷ তাঁর কথায়, ‘‘নতুন আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছি আমরা। যার মধ্যে অন্যতম হল উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর প্রকল্প। রাশিয়ার টিভি চ‍্যানেল আরটি আজ থেকে ভারতে নিজেদের ব্রডকাস্ট শুরু করছে৷ ⁠আগামিবছর ভারত ব্রিকসে চেয়ার গ্রহণ করবে। আমাদের তরফে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে ভারতকে৷ গত বছর ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমরা এই পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হব বলে মনে করি। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়া আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়াতে সাহায্য করবে। গত অর্ধশতাব্দী ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণে রাশিয়া সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। এই সফর দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’’

  • Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৬ ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ভিত্তি স্থাপনা ঘোষণা করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন  তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। একদিকে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, অপর দিকে সভার ময়দানে হাজির হয়ে জানতে পারলেন তিনি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ঘটনার দিন ঠিক সভার আগেই কলকাতার তৃণমূল ভবনে যিনি সাংবাদিক সম্মলেন করে এই কথা ঘোষণা করেছেন তিনি আর কেউ নন কলকাতা মেয়র ববি হাকিম। এই ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের নির্দেশেই উগ্র রাজনীত করছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর।” তবে হুমায়ূনের নিশানা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তিনি তোপ দেগে বলেন, “আগামীতে এই আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক আমি স্বাগত জানাব।”

    আলাদা দল হলে তৃণমূলের ভোট কাটবে (Murshidabad)

    ভরতপুরের (Murshidabad) সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা কিংবা তাঁর পিছনে রয়েছেন কিনা, সেটাও তো জানতে হবে। আমরা কারোর ভরসায় বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনতে চাই না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে জাতীয়তাবাদী, বিকাশবাদী, সুশাসন, সুরক্ষা, পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ, নারীর সম্মান, নারীর সুরক্ষা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একুশটি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে এবং বিহারেও দল বিপুল জয় পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা দরকার।” অপর দিকে মমতা নিজের সভায় নাম না করে হুমায়ূনকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ভোটের আগে কেউ কেউ টাকা খেয়ে বিজেপির তাবেদারি করছে।” তবে শুভেন্দু সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দেন, হুমায়ূন যদি আলাদা দল গড়েন তাহলে তৃণমূলের ভোট কাটলে বিজেপির কিছুটা সুবিধা হলেও হতে পারে।

    আইএসআই কী সাহায্য করছে?

    উল্লেখ্য ২০২৪ সালের যখন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়, সেই সময় মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ূন। তিনি সাফ বলেছিলেন, “আমি হুমায়ূন, বাবরের ছেলে তাই আমাকে এই কাজ করতেই হবে। ৬ ডিসেম্বর, রেজিনগর (Murshidabad) থেকে বেলডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করব। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথ অবরুদ্ধ করবে। মসজিদ গড়বই।” সম্প্রতি ওয়াকফের নামে সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। চলেছে খুন-ধর্ষণ। ঘরা ছাড়া হয়েছেন শয়ে শয়ে পরিবার। ঠিক তার পরে পরেই হুমায়ূন ইউনূসের বাংলাদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বাংলাদেশের হিন্দুরা খুব ভালো আছেন বলে মন্তব্যও করেছিলেন। বাংলাদেশ এখন আইএসআই-এর খপ্পড়ে, একথা সবাই জানেন। আর তারপরেই বাবরি মসজিদ নিয়ে তোড়জোড়। রাজনৈতিক একাংশের মত হুমায়ূনকে পাকিস্তান মদত করছে।

    হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ায়ে দেবেন

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেবেন।” তখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ব্যবস্থা নেননি। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম প্রকাশ্যে ‘দাওয়াত-ইসলাম’-এর প্রচার করে বলেছিলেন “যাদের জন্ম মুসলমান ঘরে হয়নি তারা দুর্ভাগা”। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক মুসলিম ধর্মের সমাবেশে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “হিন্দু ধর্ম গান্ধা ধর্ম।” কোনও মন্তব্যের জন্য কেউ ক্ষমা চাননি, সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে কোনও রকম আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ হয়নি।

    বহিষ্কার আইওয়াশ?

    তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের অঙ্কে মুসলিম ভোট একটি বড় বিষয়। তাই মুসলমানকে খুশি করতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তোষণের রাজনীতি করেন। এমনটাই বিজেপি বার বার অভিযোগ করে সরব হয়েছে রাজ্যে। উল্লেখ্য রাজ্যে ৬ ডিসেম্বর রামমন্দিরের ৫০০ বছরের জন-গণ আন্দোলনকে ছোট করতে সংহতি দিবস পালন করে ভোটের অঙ্ককে ঠিক রাখবেন বলে দাবি করেছে বিজেপি। ২০২৪ সালে অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং উদ্বোধন নিয়ে খুব একটা খুশি ছিলেন না মমতা। নিমন্ত্রণ পর্যন্ত স্বীকারও করেননি। একই ভাবে হিন্দুধর্মের মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ফলে যে মুখ্যমন্ত্রী ধুলিয়ানে (Murshidabad) মৌলবাদীরা ওয়াকফের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কোনও অ্যাকশেন নেননি, তিনি হুমায়ূনকে বাবরি ইস্যুতে (Babri Masjid) বহিস্কার করে কি আইওয়াশ করলেন? রাজনীতির একাংশের মানুষ অবশ্য এমনটাই মনে করছেন।

  • SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) কাজে তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল হলে কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবে না। বিএলওদের কড়া বার্তা দিল মুখ্য নির্বাচনী দফতরের আধিকারিক সিইও। রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাতিল প্রসঙ্গে আর কোনও আপস নয়। তাই কমিশনের তরফে তোড়জোড় নির্দেশ। বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর থেকেই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের কাজ শুরু হয়েছে। ইআরওদের নতুন সফটঅয়্যার দিয়েছে কমিশন (Eelection Commission)। বিএলও উদ্দেশে চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল । রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহে কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দফতরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    মনোজ আগরওয়ালের চিঠি (SIR)  

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সমস্ত বিএলওদের (SIR) স্পষ্ট ভাবে  নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “এসআইআর-এর দায়িত্ব পুরোপুরি বিএলও-দের। ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা পড়লে কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি হল ভোটার তালিকা। এই তালিকার নিবিড় সংশোধন একান্ত প্রয়োজন। খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা নির্মাণে একচুল পরিমাণ ঢিলেমি মেনে নেওয়া চলবে না।”

    বিএলও-দের পাঠানো চিঠিতে কমিশনের (Eelection Commission) তরফে বক্তব্য ছিল— কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে। কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকায় না ঢুকে থাকে। আর যদি এ দু’টি কাজ করতে গিয়ে ফাঁক থাকে তার দায় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই। একইসঙ্গে কমিশনের তরফে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন যেসব বিএলওরা। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা কমিশনের যে কাজের প্রশংসা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অবহেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। দেশের সুরক্ষা এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

    বিএলওরা বিএলএদের সঙ্গে এলাকায় বৈঠক করবেন

    নির্বাচন কমিশন (Eelection Commission) দফতরে খবর কোনও ভোটার একের বেশি এনুমারেশন ফর্ম (SIR) জমা দিলে এই প্রযুক্তিতে তথ্য ধরা পড়বে। এরপর শুরু হবে চিহ্নিত করণের কাজ। ইআরও-রা বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রযুক্তিতে কাজ করবেন। এর পরে জাল ভোটার পাকড়াও করতে ডিইও, সিইও এবং কমিশন এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। বিএলওরা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা এবং মতামত গ্রহণ করা হবে। তবে কমিশনের সাফ নির্দেশ এলাকা বা বুথের বাইরে কোনও বৈঠক করা যাবে না।

    খসড়ায় নেই ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জন

    কমিশন (Eelection Commission) সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR)  কারণে বাদ যেতে চলেছে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। শেষ পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জনের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না। তার মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে এমন, ঠিকানা বদল হয়েছে এমন নাম এবং জাল ভোটারদের নাম। তবে এখনও পর্যন্ত মৃত ভোটারের সংখ্যা হল ২৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫ জন, এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। বি এলওরা খুঁজে পাননি এমন সংখ্যাটাও ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬২ জন।

    জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে

    বিহারের পর বাংলা সহ দেশজুড়ে ১৩ টি রাজ্যে নিবিড় সংশোধনের (Eelection Commission) কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বিএলওদের মৃত্যু এবং আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যুর অজুহাত খাড়া করে বারবার কমিশনকে নিশানা করেছেন। অপর দিকে এসআইআর শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা নিউটাউন, মধ্যমগ্রামের, গুলশান কলোনীর বস্তিগুলিকে খালি করে সীমান্তের বর্ডারে ভিড় করছে। পাশাপাশি এসআইআর-এর কাজ ফাঁকি দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। আর তাই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তালিকার কাজ সরেজমিনে দেখার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে খোদ বাংলায় এসে কাজের সমীক্ষা করার দাবি করেছেন। এখন কমিশন কতটা পরিমাণে এসআইআর নির্ভুল করে তাই এখন দেখার।

  • Putin Praises Modi: “মোদিকে পেয়ে ভারত ধন্য”, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্দনা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের

    Putin Praises Modi: “মোদিকে পেয়ে ভারত ধন্য”, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্দনা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত ভাগ্যবান এবং ধন্য যে মোদির মতো একজন নেতা পেয়েছেন।’ কথাগুলি বলেছেন ভারত সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জানিয়ে দিলেন, তিনি বা মোদি— কেউই চাপে সিদ্ধান্ত নেন না। একইসঙ্গে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার ভারতকে শুল্ক-চাপ দেওয়ায় গর্জে উঠলেন ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের সাফ কথা, আমেরিকার যদি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার অধিকার থাকে, তাহলে ভারতেরও সেই অধিকার আছে।

    ‘‘আমেরিকার অধিকার থাকলে, ভারতের কেন থাকবে না’’

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পুতিনের দেশ থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার জন্য অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ (মোট ৫০ শতাংশ) শাস্তিমূলক শুল্কও আরোপ করেছেন তিনি। যে কারণে, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামতে চলেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা। অর্থাৎ, একদিকে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার হুমকি, অন্যদিকে তলে তলে নিজেরা পরমাণু জ্বালানি কিনে চলেছে। এই নিয়েই ট্রাম্পের দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দিলেন দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এদেশে পা রেখেই পুতিন বলেন, “আমেরিকা তাদের পরমাণুকেন্দ্রগুলির জন্য আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনা অব্যাহত রেখেছে। সেটা হল ইউরেনিয়াম, যেটা আমেরিকার পরমাণুকেন্দ্রগুলিকে সচল রাখতে ব্যবহৃত হয়।” তাঁর প্রশ্ন, রাশিয়া থেকে আমেরিকার জ্বালানি কেনার অধিকার থাকলে, ভারতের কেন থাকবে না?

    “না আমি, না মোদি, কেউ কারও চাপে সিদ্ধান্ত নিই না”

    পুতিন জানান, পশ্চিমী চাপের কারণে ভারতের তেল আমদানি চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কিছুটা কমেছে। তবে সেটা খুবই সামান্য। মোট বাণিজ্য আগের মতোই প্রায় একই পর্যায়ে আছে। পুতিন জানান যে, ভারতের সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে যে চুক্তি রয়েছে, তা পশ্চিমি দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরও অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা ইউক্রেনের যুদ্ধ তা পরিবর্তন করতে পারেনি। তিনি বলেন, “পেট্রোলিয়াম পণ্য ও অপরিশোধিত তেল, ভারতের সঙ্গে রুশ তেলের বাণিজ্য মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই চলছে।” পুতিন বলেন, “না আমি, না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেউ কারও চাপে সিদ্ধান্ত নিই না। আমরা কোনও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করি না।”

    “মোদির নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতবর্ষের নাম”

    পুতিনের কথায়, “বিশ্ব আজ ভারতকে এক শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখছে। ভারত তার নেতৃত্ব নিয়ে গর্ব করতে পারে।” একইসঙ্গে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করে রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভারত ভাগ্যবান এবং ধন্য যে মোদির মতো একজন নেতা পেয়েছেন। পুতিন বলেন, “মোদিকে পেয়ে ভারত ধন্য। মোদির নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতবর্ষের নাম।” এছাড়া, তাঁদের মধ্যে বিশ্বস্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পুতিনের মতে, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক আর শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মোদি। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে দিকেই মুখিয়ে রয়েছেন তিনি।

  • OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিতে বলেছে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (NCBC)। এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার লোকসভায় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে। মঙ্গলবার তাঁর প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছে সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একাধিক মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকা শুনানির মধ্যেই এনসিবিসি কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায়—যাদের বেশিরভাগই মুসলিম—অপসারণের সুপারিশ করেছে।

    জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন-এর বক্তব্য

    কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান হানরাজ গঙ্গারাম আহির জানান, পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি তালিকায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি পর্যালোচনা করেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৫টি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই মুসলিম, এক-দুটি হয়তো অমুসলিম হতে পারে।” কয়েক মাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে সুপারিশটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে যে, এনসিবিসি ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায় বাদ দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে। তবে কোন কোন সম্প্রদায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি আহির। তাঁর বক্তব্য—এই সিদ্ধান্ত সরকারের ঘোষণা করার বিষয়।

    রানাঘাটের সাংসদের প্রশ্ন

    সংসদে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানতে চান, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল কি না। তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি শংসাপত্র মামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জানতে চান, হাইকোর্টের নির্দেশের পরে কতগুলি জনগোষ্ঠী ওই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এনসিবিসি কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, কোনও জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে কি না, সেই তথ্যও জানতে চান সাংসদ।

    কী বলল সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক

    জগন্নাথের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ২০১১ সালে এনসিবিসি থেকে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল। সেই মতো ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিবিসি পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যোগ হওয়া ৩৭টি সম্প্রদায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে এনসিবিসি। এর মধ্যে ৩৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়।

    ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত

    সংবিধানের ১০২তম সংশোধনী অনুসারে, এনসিবিসি-র মতামত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিবর্তিত ওবিসি তালিকা সংসদে পেশ করতে হয়, এরপর রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করলে নতুন তালিকা গেজেট করে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে নয়টি রাজ্যের ওবিসি তালিকা সংশোধনের সুপারিশ তাদের কাছে রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর আহির পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ওবিসি তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে পরিদর্শনের পরই তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মে ওবিসি নিয়ে প্রথম রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বলা হয়েছিল, ২০১০ সালের পর রাজ্যের তালিকায় যত ওবিসি সম্প্রদায় যুক্ত হয়েছে, তা বাতিল। ২০১০ সালের পর থেকে জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রও বাতিল করে দেওয়া হয়। তার আগে রাজ্যে ওবিসি হিসাবে ৬৬টি সম্প্রদায় স্বীকৃত ছিল। বলা হয়, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। সেই অনুযায়ী রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে মামলা হয়। গত ১৭ জুন এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। রাজ্য উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

    তোষণের রাজনীতি তৃণমূলের

    এই তদন্ত ও সুপারিশকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে—বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে বেপরোয়া ভাবে ওবিসি তালিকায় যুক্ত করেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা সবক’টি সম্প্রদায়ই মুসলিম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “দশক ধরে চলা তোষণ-নীতির বিকৃতি সংশোধন করছে মোদি সরকার।” তাঁর অভিযোগ—রাজ্য সরকারের ‘প্রগতিহীন ও তোষণ-চালিত’ নীতি সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী, এবং কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য প্রকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  • RBI Cuts Repo Rate: বড়দিনের আগে বড় ঘোষণা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের! কমল রেপো রেট, সস্তা হবে ঋণের বোঝা

    RBI Cuts Repo Rate: বড়দিনের আগে বড় ঘোষণা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের! কমল রেপো রেট, সস্তা হবে ঋণের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়দিনের আগেই বছর শেষের বড় খবর! সাধারণ দেশবাসীর জন্য সুখবর শোনাল দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। আমজনতাকে সুরাহা দিয়ে রেপো রেট কমানোর ঘোষণা করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মানিটরি পলিসি বা আর্থিক নীতি রূপায়ণ কমিটির দু’দিনের বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে এই ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ থেকে নেমে ৫.২৫ হল।

    কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

    এই নিয়ে চলতি বছরে চতুর্থ বারের জন্য কমল রেপো রেট বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের হার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি, এপ্রিলে ২৫ করে এবং জুনে ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। নতুন হারে সুদ কমার পর ২০২৫ সালে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমল রেপো রেট। বিশ্লেষকদরে মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের উপর। এখন গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের ইএমআই আরও কমবে, অর্থাৎ ঋণ নেওয়া সস্তা হবে। অথবা, কেউ মাসিক কিস্তি কমাতে না চাইলে কমবে তাঁর ঋণ পরিশোধের সময়কাল। রেপো রেট কমার ফলে ভাসমান সুদে গৃহঋণ বা গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি এক লক্ষ টাকায় আপনার ইএমআই কমতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদের লোন নিয়েছেন, তাঁরা অনেকটা স্বস্তি পাবেন। ফলে, গ্রাহকদের হাতে আসবে বাড়তি টাকা। আর বাজারে বাড়বে নগদের জোগান। তৈরি হবে চাহিদা।

    রেপো রেট কী?

    রেপো রেট হল সুদের হার। যে সুদের হারে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ককে আরবিআই ঋণ দিয়ে থাকে তাকেই বলে রেপো রেট। আরবিআই যদি রেপো রেট বাড়ায়, তাহলে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে এবং তারা গ্রাহকদের উচ্চ হারে ঋণও দেয় উল্টোদিকে, এই হার কমার অর্থ ব্যাঙ্ক কম সুদে টাকা ধার নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে। ব্যাঙ্ক যদি কম সুদের হারে টাকা ধার পায়, তাহলে গ্রাহকদের ঋণেও সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ঋণে সুদের হার কমতে পারে। সুদের হার কমলে লগ্নির জন্য টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এর জেরে ব্যবসা বৃদ্ধি, বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ বৃদ্ধি সহজ হয়। অর্থনীতি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে তাই এই পদক্ষেপ কার্যকরী হিসাবে বিবেচিত হয়।

    কী বললেন আরবিআই গভর্নর?

    সঞ্জয় জানিয়েছেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রেপো রেট কমানো হবে। কারণ টাকার দাম পড়লেও কমেছে মুদ্রাস্ফীতির হার। সে কথা মাথায় রেখেই রেপো রেট কমিয়েছে আরবিআই। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের শেষ মাসে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অবস্থাকে ব্যাখ্যা করা যায় একটাই শব্দে, ‘গোল্ডিলক্স পিরিয়ড।’ অর্থাৎ, একটি আদর্শ অর্থনৈতিক অবস্থা। যেখানে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল, বৃদ্ধি ভাল, বেকারত্ব কম ও মুদ্রাস্ফীতি কম বা মাঝারি থাকে। চলতি অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড লো হিট করেছে। অক্টোবরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ০.২৫ শতাংশ। এ ছাড়াও প্রথম ৬ মাসে দারুণ জিডিপি বৃদ্ধি দেখেছে দেশ। এমনকি চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বেড়েছে ৮.২ শতাংশ। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বৃদ্ধিকে আরও স্থিতিশীল ও চাঙ্গা করতে সুদের হার কমানো জরুরি ছিল।

    অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ…

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাজারকে আরও গতি দেবে। তাঁদের মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির স্থিতাবস্থা এবং ষষ্ঠবার ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির অগ্রগতির প্রবণতা সত্ত্বেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখনও ধীরেসুস্থে এগনোর নীতি নিয়েছে। ভারতের উৎপাদন বৃদ্ধির হার গত ৬টি ত্রৈমাসিক দ্রুতগামী হয়েছে। অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতি বেশ খানিকটা কমে মাসিক হিসাবের নিরিখে নিম্নগামী রয়েছে। এই বিরল ঘটনায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এ নিয়ে পরপর চারবার রেপো রেট শক্ত হাতে ধরে রাখল।

  • Illegal Loan Apps Banned: প্রতারণা এবং দুর্নীতি রোধে ৮৭টি অবৈধ ঋণ প্রদানকারী অ্যাপ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

    Illegal Loan Apps Banned: প্রতারণা এবং দুর্নীতি রোধে ৮৭টি অবৈধ ঋণ প্রদানকারী অ্যাপ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্থিক প্রতারণা এবং দুর্নীতি রুখতে ৮৭টি অবৈধ ঋণ প্রদানকারী অ্যাপকে (Bans 87 Loan Apps) নিষিদ্ধ করল মোদি সরকার (Modi Sarkar)। কেন্দ্রীয় সরকারের (Government of India) ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক থেকে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০০-এর ৬৯এ-এর ধারার উল্লেখ করে এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার প্রয়োগ করে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা এই নির্দেশিকাটি একটি রিপোর্ট আকারে পেশ করেছেন লোকসভায়। আর্থিক প্রতারণা এবং দুর্নীতি রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ বিরাট কার্যকারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঋণের ফাঁদে ফেলার চক্র কাজ করত (Bans 87 Loan Apps)

    লোকসভার অধিবেশনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা (India Government) জানিয়েছেন, ভারত সরকার অবৈধ ঋণ অ্যাপগুলিকে (Bans 87 Loan Apps) বাতিল ঘোষণা করেছে। এর মূল কারণ হল, বহু মানুষ বা গ্রাহক অনলাইন অ্যাপে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। প্রলোভন দেওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ঋণের ফাঁদে ফেলার চক্র কাজ করছিল। অল্প পরিমাণে ঋণ দিয়ে বিপুল পরিমাণ সুদ আদায় করে থাকে এই অ্যাপগুলি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, এই সন্দেহজনক অ্যাপগুলি থেকে ব্যবহারকারীদের বিরত রাখা যাবে। সারা দেশে এই অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে হয়রানি, তথ্যের অপব্যবহার এবং এমনকি জালিয়াতির জন্য অনেক অভিযোগ পুলিশের কাছে দায়ের হয়েছে। বিপুল পরিমাণে অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার এই অ্যাপগুলিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অনলাইন অ্যাপের এই প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগ যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনি ব্যবহারকারীদের মানসিকভাবে নির্যাতন করে অনৈতিক উপায় বিব্রত করার ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

    প্রতি মাসে ২৫% পর্যন্ত সুদ নেয়

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, কোম্পানি আইন ২০১৩-এর অধীনে নিয়ম লঙ্ঘন হওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কোম্পানি আইনের দিকগুলিকেও সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সরকার (India Government) চেষ্টা করছে ডিজিটাল উপায়ে ভারতে ঘটমান যে কোনও ধরণের আর্থিক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত সমস্যা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা।

    একাধিক রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে, ভারতে তাৎক্ষণিক ঋণ অ্যাপগুলিতে (Bans 87 Loan Apps) প্রতি মাসে গৃহীত সুদের পরিমাণ হল ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর যখন ব্যবহারকারী এই পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতদের ঘন ঘন কল এবং আরও অনেক কিছুর বিকৃত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়। নিষিদ্ধ হওয়ার পরে এই ধরণের অ্যাপগুলি যদি নতুন ব্র্যান্ডিংও করে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকার আইনের মাধ্যমে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গিয়েছে।

  • Vladimir Putin India Visit: একান্ত নৈশভোজে বিশেষ আলাপ! বন্ধু পুতিনকে ভগবদ গীতা উপহার মোদির

    Vladimir Putin India Visit: একান্ত নৈশভোজে বিশেষ আলাপ! বন্ধু পুতিনকে ভগবদ গীতা উপহার মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin India Visit) ভগবদ গীতা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi Putin Meet)। এক্স হ্যান্ডলে বিশেষ এই উপহারের কথা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘গীতার শিক্ষা পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়।’’ তাই প্রেসিডেন্ট পুতিনকে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো উপহার আর কিছুই হতে পারে না, বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পুতিনের হাতে মোদি যে গীতা তুলে দেন, তা রুশ ভাষায় অনূদিত। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের একান্ত নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বন্ধু পুতিনকে এই বিশেষ উপহার দেন মোদি।

    মোদি-পুতিন বিশেষ সম্পর্ক

    ভারতের মাটিতে পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে নিজেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করমর্দন ও আলিঙ্গন করে দুই রাষ্ট্রপ্রধান রওনা দিয়েছিলেন একই গাড়িতে। পুতিনকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দরে রুশ শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। তার পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি গাড়ি ‘ফরচুনার’-এ চেপেই দুই নেতা ৭, লোককল্যাণ মার্গে পৌঁছন। পুতিন ‘ফরচুনার’-এ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয় হুবহু সেই মুহূর্ত যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চিনের তিয়ানজিন দেখেছিল। সেখানে এসসিও সামিটের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর ‘অরাস সেনাত’-এ মোদিকে ডেকে নিয়েছিলেন! এ বার ডিসেম্বরের শীতে গোটা দুনিয়া দেখল ঠিক তার উল্টো ছবি। ‘ফরচুনার’ পিছু পিছু চলল ‘সর্ববিপদহরেষু’ অরাস সেনাত।

    মোদির আমন্ত্রণে নৈশভোজে পুতিন

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে যোগ দেন পুতিন। সেখানেই তাঁর হাতে গীতা তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতার বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনে, যেখানে ভারত–রাশিয়া বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিশেষ আলোকসজ্জা ও দুই দেশের পতাকা সাজানো ছিল। বৈঠকের আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লিখেছিলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে যাবতীয় আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। ভারত–রাশিয়া বন্ধুত্ব বহু দশকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এই সম্পর্কে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হয়েছে। ভারতে আসের আগেই অবশ্য রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব বহু পুরোনো। ইউক্রেন যুদ্ধের অনেক অনেক আগে থেকেই তা রয়েছে। তাতে কোনও ফাটল ধরেনি।’

  • Blood Pressure: শীত এলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তচাপ! কোন কোন বিপদ বাড়ছে?

    Blood Pressure: শীত এলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তচাপ! কোন কোন বিপদ বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডিসেম্বরের আগমনে শীতের জানান আরও বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্যজুড়ে শীতের আমেজ! কমছে তাপমাত্রার পারদ। বিশেষত ভোর ও রাতের দিকে শীতের উপস্থিতি ভালোই অনুভব করা যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শীত আরও স্পষ্ট জানান দেবে বলেই জানাচ্ছেন আবহবিদদের একাংশ। তবে শীতের আমেজ নানান উৎসব আর উদযাপনের ইঙ্গিত দিলেও, শীতে কিছু বাড়তি বিপদ ও জানান দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত পড়লেই বাড়তে থাকে রক্তচাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে এই সমস্যা বেড়েছে। তারমধ্যে শীতের আবহে সেই সমস্যা আরও বাড়ছে। এমনকি যাদের রক্তচাপ বছরভর স্বাভাবিক থাকে, তাঁদেরও, বছরের এই সময়ে রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

    কেন শীত পড়লেই রক্তচাপ বাড়ে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীত পড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। শরীরের সঙ্গে প্রকৃতির যোগ ওতোপ্রোতভাবে রয়েছে। তাপমাত্রার পারদ নামলেই রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ধমনীতে তার প্রভাব পড়ে। আর তার জেরেই রক্তচাপ বাড়ে। শীতের আবহে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন দেখা যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার পারদ নামলে নোরপাইনফ্রাইন, ক্যাটেকোলামাইনের মতো হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এগুলো শরীরে রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই শীত পড়লে রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।

    আবহাওয়ার পাশপাশি শীতে জীবন যাপনের ধরনেও পরিবর্তন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে ঘাম কম হয়। শারীরিক পরিশ্রমও কম হয়। বয়স্কদের একাংশ শীত পড়তেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। এর ফলে রক্তচাপ বাড়ে। শীতকাল মানেই পিকনিক কিংবা নানান আনন্দ উৎসব। আর সব উৎসবের উদযাপনেই থাকে ভুরিভোজ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই অতিরিক্ত পরিমাণ প্রাণীজ প্রোটিন, চর্বিজাতীয় খাবার খান। আর তার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।

    উচ্চ রক্তচাপ কোন বিপদ বাড়িয়ে দেয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়লে হার্টের উপরে চাপ বেশি পড়ে। তাই উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্যান্য হৃদরোগের অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির উপরেও প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির উপরে চাপ পড়ে। যার জেরে কিডনির কার্যকারিতা কমতে থাকে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়লে মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    শীতেও কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

    শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন পালং শাক খেলে রক্তচাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম‌্যাগনেশিয়াম। এই দুই উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শীত আর কমলালেবু বাঙালির কাছে প্রায় সমার্থক শব্দ। সকালের ঘরোয়া জলখাবারের সঙ্গে হোক কিংবা পিকনিকের শেষ বেলায় বাঙালির পাতে থাকে কমলালেবু। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই কমলালেবু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফল হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।

    শীতের বাজারে সহজেই পাওয়া যায় বিট। এই সব্জি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিট থেকে শরীর স্বাভাবিক নাইট্রেট পায়। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশপাশি নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত যোগাভ্যাস জরুরি। এতে শরীরে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন হয়। আবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যও ঠিক থাকে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share