Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরের জন্য উপকারি। কিন্তু খেলেই হাতে-পায়ে চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে উঠছে। এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হতে পারে। যা প্রাণ সংশয় পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। শিশু হোক বা বয়স্ক, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হলে কী ভাবে সেটা আটকানো যাবে। পুষ্টির ঘাটতি রুখতে বিকল্প খাবার কী হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা জরুরি।

    কোন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে?

    প্রাণীজ প্রোটিন এবং দানাশস্য, যে কোনও খাবার থেকেই অ্যালার্জি হতে পারে। তবে কয়েকটি খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম, সামুদ্রিক মাছ যেমন কড, আবার সামুদ্রিক প্রাণী যেমন লবস্টার, কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দুধ থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু দুধ, ডিম, কড মাছ বা কাঁকড়া, চিংড়ি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। তাই এগুলো ছোটো থেকে বয়স্ক, সকলের খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ধরনের খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি কিছু দানাশস্য এবং সব্জি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের দানাশস্য যেমন রাগি, বাজরার মতো দানাশস্য থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। আবার সোয়াবিনের থেকেও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু শরীরের পুষ্টির জন্য এই ধরনের খাবার খুব জরুরি। তবে অ্যালার্জি বিপজ্জনক। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কীভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি হয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ জানান দেয়, অ্যালার্জি হয়েছে কিনা। উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। অবহেলা না করে প্রথম থেকেই চিকিৎসা করলে বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে। খাবার খাওয়ায় কিছু সময় পরেই হাতে-পায়ে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় চুলকানি, লাল দাগ দেখা দেওয়া অ্যালার্জির অন্যতম উপসর্গ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিভ ও ঠোঁট ফুলে যাওয়া, লালা ঝরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আবার বমি, পেট ব্যথা, বারবার মলত্যাগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে কাশি, গলার ভিতরে জ্বালা এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি ও তৈরি হতে পারে।

    অ্যালার্জি রুখতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালার্জি রুখতে এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট একটা খাবার খেয়ে, যদি বারবার ত্বকে সমস্যা, গলার ভিতরে অস্বস্তি কিংবা পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথম থেকেই সতর্কতা প্রয়োজন। অবহেলা করলে বিপদ বাড়বে। পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো, অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। পাশপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে।‌

    বিকল্প পুষ্টি কী হতে পারে?

    ডিম, দুধ বা দানাশস্য, সোয়াবিন এই ধরনের খাবারেই অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলো শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস। তাই অ্যালার্জি হলে এই সব খাবার খাওয়া যায় না। কিন্তু শরীরে পুষ্টির ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তাই বিকল্প পুষ্টির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ডিম ও দুধ অত্যন্ত জরুরি দুটি খাবার। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। যদি এই দুই খাবার বাদ দিতে হয়, তাহলে বিকল্প খাবার হিসাবে অবশ্যই মাছ,‌ পনির এবং বাদামের দুধ খাওয়া যেতে পারে। দুধ থেকে অনেক সময়েই পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু বাদাম দুধে সেই ঝুঁকি কম। কিন্তু পুষ্টিগুণ একরকম। তাই যাদের দুধ খেলে সমস্যা হয়, তাঁরা বিকল্প খাবার হিসাবে বাদাম দুধ খেতেই পারে। আবার ডিমের মতোই পনীর এবং মাছ শরীরে সহজে পুষ্টির জোগান দেয়। নিয়মিত এমন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যাতে সেটা সহজে হজম হয়‌। তবেই শরীর উপকার পাবে। মাছ এবং পনীর সহজ পাচ্য। তাই ডিমে অ্যালার্জি থাকলে নিয়মিত এই দুই খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি কমবে। সোয়াবিনের মতো নিরামিষ প্রোটিনে অ্যালার্জি দেখা দিলে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। মুগ, মুসুর বা ছোলা যে‌কোনো ডাল নিয়মিত খেলে শরীরে প্রোটিন, ফাইবারের ঘাটতি হবে না। তাই এই ধরনের বিকল্প খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। যাতে শরীর সুস্থ থাকে। আবার অ্যালার্জি থাকলে, বড় বিপদ ও সহজে এড়ানো যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার (২৯ জুন), শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবকে দেবস্নান পূর্ণিমা বা স্নান পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হলেও, এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে মলমাস (অধিক মাস) পড়ায় আষাঢ় মাসের পূর্ণিমাতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা। ওড়িশার পুরী জগন্নাথধাম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ উৎসব। তবে ঐতিহ্য, আচার এবং জাঁকজমকের নিরিখে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয় পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে। ফলে সারা বিশ্বের জগন্নাথভক্তদের নজর এখন পুরীতেই।

    স্নান পূর্ণিমার তিথি

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ৩টা ৮ মিনিটে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ২টো ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৪টে ৪৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথি অত্যন্ত পবিত্র। তাই এদিন বহু মানুষ পূজা-পাঠ, দান-ধ্যান, ব্রত পালন এবং বিভিন্ন শুভ কাজ সম্পন্ন করেন।

    স্নানযাত্রা থেকেই শুরু রথযাত্রার প্রস্তুতি

    জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রাকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা বলেই মনে করা হয়। যদিও তারও আগে চন্দনযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় প্রস্তুতি পর্ব, তবুও স্নানযাত্রার পর থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় রথযাত্রার কাউন্টডাউন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে মানুষের মতোই কষ্ট পান মহাপ্রভু জগন্নাথ। তাই গরমের সময় তাঁর কপালে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়, যা চন্দনযাত্রা নামে পরিচিত। বর্ষার সূচনালগ্নে সেই পর্ব শেষ করে পালিত হয় স্নানযাত্রা।

    ১০৮ কলস সুগন্ধি জলে মহাপ্রভুর মহাস্নান

    স্নানযাত্রার দিন শ্রীমন্দিরের স্নানবেদীতে বিশেষ বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে ১০৮টি পবিত্র কলসে ভরা সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রথমে শ্রীজগন্নাথ, তারপর বলভদ্র এবং সবশেষে দেবী সুভদ্রার পূজা সম্পন্ন করে তাঁদের মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। স্নান সম্পন্ন হওয়ার পর তিন দেবদেবীকে বিশেষ গজবেশে সজ্জিত করা হয়, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। স্কন্দপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই এই স্নানযাত্রা উৎসবের প্রচলন করেন।

    কেন জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথদেব?

    স্নানযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বছরে একবার ১০৮ কলস জল দিয়ে মহাস্নানের পর মহাপ্রভুর জ্বর আসে। সেই কারণেই স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’ বা ‘অনবাসর’ পর্ব। এই সময় প্রায় ১৫ দিন ধরে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রা ভক্তদের দর্শনের বাইরে থাকেন। শ্রীমন্দিরের দরজা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং দেবদেবীদের গোপন কক্ষে বিশ্রাম ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, রাজবৈদ্য আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও পাঁচন দিয়ে মহাপ্রভুর চিকিৎসা করেন। এই সময় দেবতাদের বিশেষ খাদ্যও নিবেদন করা হয়।

    ১৫ দিন পর নবযৌবন দর্শন

    অনসর পর্ব শেষ হলে সুস্থ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু। এরপর নতুন রূপে, নতুন সাজে তিনি ভক্তদের দর্শন দেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন দর্শন। এই দিনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে লক্ষ লক্ষ ভক্তের। নতুন সাজে মহাপ্রভুর প্রথম দর্শনকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

    এরপর মহাপ্রভুর রথযাত্রা

    নবযৌবন দর্শনের পরই শুরু হয় রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। রাজবেশে সজ্জিত হয়ে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চেপে মাসির বাড়ি— গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভগবানের ভক্তদের কাছে স্বয়ং এসে আশীর্বাদ করার প্রতীক। তাই স্নানযাত্রা থেকেই শুরু হয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রার আবহ। এবছর রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। উল্টোরথ (পুনর্যাত্রা) ২৪ জুলাই, শুক্রবার।

    ধর্মীয় গুরুত্ব

    স্নানযাত্রা শুধু একটি আচার নয়, এটি ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেবতার মানবিক রূপ—গরমে কষ্ট পাওয়া, স্নানের পর অসুস্থ হওয়া, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা—এই সমস্ত বিশ্বাস জগন্নাথ সংস্কৃতিকে অন্য সব ধর্মীয় পরম্পরা থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই কারণেই স্নানযাত্রা থেকে রথযাত্রা পর্যন্ত প্রতিটি পর্বকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ, অপেক্ষা এবং উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পুরী হোক বা মাহেশ—আজ দেবস্নান পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে সর্বত্রই ধ্বনিত হচ্ছে, ‘‘জয় জগন্নাথ’’।

  • India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল  সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াল ভারত। ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে ভারত শুরু করেছে ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ (Operation Amistad)। স্প্যানিশ ভাষায় আমিস্তাদ শব্দের অর্থ ‘বন্ধুত্ব’। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দিয়ে ভারত-ভেনেজুয়েলার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) দু’টি সি-১৭ বিমান ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। ওই বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

    মানবিক সহায়তা ভারতের

    মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল। বিখ্যাত ‘৬০ প্যারা ফিল্ড হসপিটাল’-এর ৪১ জন সেনা-মেডিক্যাল কর্মী রয়েছেন এই দলে। এর মধ্যে ৯ জন অভিজ্ঞ মিলিটারি মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার)। এই দল দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আপৎকালীন চিকিৎসা, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং অস্ত্রোপচারের মতো জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। উল্লেখ্য, বুধবার মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। একাধিক বিল্ডিং ও পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ -এর বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তা করতেই বিশেষ অপারেশন শুরু করেছে ভারত। লেখেন, “ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি C-17 বিমান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছে। রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দুটি ভীষ্ম কিউব। এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ভারতীয় সেনার এই মানবিক মিশন আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল, যে কোনও আন্তর্জাতিক সংকটে বন্ধু দেশের পাশে সবার আগে দাঁড়াতে প্রস্তুত ভারত।

    উপহার অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাঠানো প্রায় ৬ টন জরুরি ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে বায়ুসেনার বিমান দুটি। তবে এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক মোবাইল হাসপাতাল ‘ভীষ্ম কিউব’ (BHISHM Cube – Bharat Health Initiative for Sahyog, Hita & Maitri)। ভারতের ‘আরোগ্য মৈত্রী প্রজেক্ট’-এর অধীনে এই মডিউলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। যেকোনও বড় বিপর্যয় বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যেখানে স্থায়ী হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যায়, সেখানে এই ‘ভীষ্ম কিউব’ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। একে খুব কম সময়ের মধ্যে খোলা জায়গায় একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়। এই মিনি হাসপাতালে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটর, ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, নিজস্ব জেনারেটর এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সিস্টেম রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন গুরুতর আহত রোগীকে ট্রমা কেয়ার ও জরুরি অস্ত্রোপচারের সুবিধা দিতে পারে এই ভীষ্ম কিউব।

    বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই উদ্যোগ ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) নীতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভারতের অন্যতম দূরপাল্লার মানবিক ত্রাণ অভিযান বলে জানানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে এবং লাতিন আমেরিকায় মানবিক সহায়তা প্রদানে নিজের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “মানবতার সেবায় ভারতের এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। ভীষ্ম কিউব মোতায়েন শুধু একটি পেশাগত সাফল্য নয়, এটি মানবসেবার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।” সরকারের মতে, অপারেশন অমিস্তাদ প্রমাণ করেছে যে, সংকটের সময় ভারত একটি নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সামরিক দক্ষতা, কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

    বিপর্যয়ের সাক্ষী ভেনেজুয়েলা

    গত বুধবার প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে ভেনেজুয়েলা (Venezuela Earthquake)। সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ। এই যমজ ভূমিকম্পের (Twin Earthquakes) জেরে এ পর্যন্ত ৯০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি। উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Photos) ধরা পড়েছে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের বুক কাঁপানো দৃশ্য, যেখানে মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবলই ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি আর উপড়ে যাওয়া রাস্তার ছবি দৃশ্যমান। ভেনেজুয়েলার এই চরম মানবিক সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল (Search-and-Rescue Teams) কারাকাসে পাঠাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে সরাসরি নেমেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN)। একটি বৈশ্বিক জরুরি তহবিলের মাধ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের সামগ্রিক সমন্বয় সাধন করছে তারা। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষদের সংখ্যা। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সংখ্যক মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

  • Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের রাজধানী বেজিংয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা (Beijing Plane Crash)। শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং সিআইটিআইসি টাওয়ারে শনিবার ভেঙে পড়ে একটি বিমান। ওপর থেকে নিচে পড়তে পড়তে সোজা ওই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায় বিমানটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এদিনের ঘটনার একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিমানটির সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ের ধাক্কা লাগার পরেই মাটিতে পড়ছে ধ্বংসাবশেষ। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ছোট বিমান বেজিংয়ের সর্বোচ্চ অট্টালিকা ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ আছড়ে পড়েছে। সংঘর্ষের জেরে ওই অট্টালিকার দুটি জানালা ভেঙে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চিনের অন্যতম উঁচু বিখ্যাত এই টাওয়ারে দুর্ঘটনার ঘটনায় হইচই বিশ্বজুড়ে৷ ভাইরাল ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১,৭০০ ফুট উঁচু বাড়িটির উপর থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। টাওয়ারের নীচের তলায় ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের ভাঙা অংশ। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর গোটা ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    ভেঙে পড়ল চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমান

    বিমানের গায়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০১ অরোরা’ নামের একটি লাইট স্পোর্ট বিমান। এই বিমানটি তৈরি করে থাকে স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন সংস্থা। ওই সংস্থার তরফে মূলত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত জেট এবং আকাশপথে ছবি তোলার মতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা চিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। চিনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হলেও, সেগুলি দ্রুত অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি গাড়ির আকারের একটি ছোট বিমান।

     

     

     

     

     

     

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম জেলার হাটনারা গ্রামে মহররমের (Muharram Tazia Accident) মিছিলের সময় একটি তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বড় বিপত্তি ঘটল। সূত্রের খবর, মহরমের মিছিলটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাজিয়ার একেবারে উপরের অংশ হাই-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে আসায় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ-এর সংস্পর্শে আসতেই ইলেকট্রিক শক লাগে তাজিয়া বহনকারী মানুষদের। জ্বলে ওঠে তাজিয়াটি। প্রায় ১২ জন আগুনে ঝলসে যান। আহতদের সবাইকে দ্রুত রতলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি নয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত ৩ জনের নাম হল রশিদ খান, সাদ্দু হুসেন ও আরবাজ খান।

    দুর্ঘটনার কবলে মহরমের তাজিয়া

    শুক্রবার পালিত হয়েছে মহরম। ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসই হল মহরম। দেশ জুড়ে বহু রাজ্যে পালিত হয়েছে দিনটি। তারই মধ্যে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে হাটনারা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহররমের মিছিলটি প্রতি বছর একই পথ দিয়ে যায় এবং মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের (এমপিইবি) কর্মীরা মিছিলের সঙ্গে থাকেন। যাতে তাজিয়াটি ওভারহেড লাইনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাদের দাবি, এ বছরও লাইনম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, যার ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বিষয়টি তদন্তাধীন

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ১১ কেভি হাই-ভোল্টেজ লাইনটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিচু দিয়ে গেছে, যার ফলে এর নিচ দিয়ে বাস ও ট্রাকেরও চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তাঁরা বিদ্যুৎ লাইনটি স্থানান্তর অথবা এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার লাল বলেছেন, আহতদের রতলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিবেক কুমার আরও জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিকরণ ইস্যুতে ফের বিতর্ক ইউরোপে। মুখঢাকা বোরখা পরে জনসমক্ষে বেরোনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল আগেই। এবার ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে কোপ পড়তে চলেছে লাউডস্পিকারে শোনানো আজানে! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি মেল’-এ প্রকাশিত খবরে দাবি, ‘ক্রমবর্ধমান ইসলামিকরণ’ ঠেকাতে সম্প্রতি এমনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডস্কভ। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসেন ইতিমধ্যেই তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেনে আগে থেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। এবার গোটা দেশেই সেই ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।

    আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি নয়

    ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেনের মন্তব্য, ‘‘ডেনমার্কের কিছু কিছু এলাকা এখন দেখে মনে হয়, যেন তা ইসলামাবাদেরই (পাকিস্তানের রাজধানী) কোনও শহরতলি। এমনটা হতে দেওয়া যায় না।’’ এর পরেই ডেনমার্কের বামপন্থী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টির ওই মন্ত্রীর মন্তব্য, “ডেনিশ ছাদগুলোর উপর দিয়ে আজানের শব্দ যাওয়া বাঞ্ছিত নয়।’’তিনি জানান আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ নয়। ডেনমার্কের মানুষের যাতে মনে না হয়, তাঁরা ডেনমার্কের বদলে ইসলামাবাদে বসবাস করছেন।

    ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার প্ল্যান

    ডেনমার্কে আজান (Azaan Controversy in Denmark) নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত মঞ্জুরি মেলেনি। ডেনমার্কের সংবিধানে সর্বজনীন ভাবে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই সরকারকে এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। ডেনমার্কের বিরোধী দল সহ সব পক্ষের সহমত দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ইউরোপীয় দেশে অভিবাসন, হিজাব, ধর্মীয় পরিচয় এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বহু দেশের ডানপন্থী ও অভিবাসন বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, ব্যাপক অভিবাসন ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ক্ষুণ্ণ করছে। ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে, ডেনমার্কে বসবাসের বৈধ অধিকার নেই এমন বিদেশিদের পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হবে।

    ইসলামিক অভিবাসন নিয়ে কড়া ডেনমার্ক

    ডেনমার্কের জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম। সে দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমরাই। গত এক দশকে পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রমাগত মুসলিম শরণার্থীদের আগমন বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কড়া করার কথাও ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসেনের সরকার। ঘটনাচক্রে, বছরখানেক আগেই ডেনমার্ক সরকার জনসমক্ষে ‘ইসলামিক পূর্ণ মুখঢাকা পর্দা’ (বোরখা) নিষিদ্ধ করার একটি আইন পাশ করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নির্দেশিকা পাঠিয়ে নমাজের জন্য কোনও ঘর আর বরাদ্দ না-রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

  • FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করতে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর অধীনে নতুন সংশোধিত বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নিয়মে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদান কোনওভাবেই ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট বেসরকারি সংস্থা (NGO), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মিশনারি সংগঠন সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে ধর্মান্তরণের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করছে। বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পর কেন্দ্র এফসিআরএ-র নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এফসিআরএ (FCRA)-র ইতিহাস

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act) প্রথম চালু হয় ১৯৭৬ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশি অর্থ যাতে দেশের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো বা জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে না পারে। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধিত হয়। এরপর ২০২০ এবং ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরে তা নবীকরণ করতে হয়।

    নিবন্ধনের সময় জানাতে হবে উদ্দেশ্য ও কাজের ক্ষেত্র

    সেবা ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ রাকেশ মিত্তলের দাবি, নতুন সংশোধনের ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে। এখন থেকে নিবন্ধন বা নবীকরণের আবেদন করার সময় সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান নেওয়া হচ্ছে এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যেসব সংস্থার ইতিমধ্যেই এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে, তাদেরও এক বছরের মধ্যে নিজেদের ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী হালনাগাদ করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।

    পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কার্যক্রম

    সংশোধিত নিয়মে বিদেশি অনুদানে পরিচালিত কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক। এর অধীনে একাধিক উপ-বিভাগও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ২২টি উপ-শ্রেণি রাখা হয়েছে। তবে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক সচেতনতা সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করতে হলে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ১৮টি উপ-শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সমকালীন শিল্পকলার প্রসারের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ধর্মীয় কার্যক্রমে ধর্মান্তরণে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

    নতুন সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় কার্যক্রমের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান শিবির, ধর্মীয় সাহিত্য প্রকাশ, উপাসনালয় নির্মাণ এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা প্রদানের মতো কার্যক্রমের অনুমতি থাকলেও, নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কোনও কার্যকলাপ বিদেশি অনুদানে করা যাবে না।

    বিদেশি নাগরিক থাকলে নিবন্ধনে কড়াকড়ি

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণভাবে সেই সংস্থাকে এফসিআরএ নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদেশি অনুদানের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার আগে আগের প্রাপ্ত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে বলে দেখাতে হবে। সংস্থাগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, প্রকাশনা এবং ট্রাস্টি, পরিচালক, অংশীদার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। ফলে পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের আইনগত জবাবদিহিও বাড়বে।

    সরকারের লক্ষ্য কী?

    সেবা ভারতীর জাতীয় সম্পাদক রমেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র যে উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেই কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

    কত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক বার্ষিক রিপোর্ট জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২১,৯৩৩টি এনজিওর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অথবা তাদের নবীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এসব সংস্থা আর বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

    একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে

    গত কয়েক বছরে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মার্কিন সংস্থা কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল (Compassion International)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নবীকরণ আটকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া (World Vision India) এবং গসপেল ফর এশিয়া (Gospel for Asia)-সহ একাধিক বিদেশি অর্থপুষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসে। ২০২১ সালে মাদার টেরেসা প্রতিষ্ঠিত Missionaries of Charity-র FCRA নবীকরণও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সম্প্রতি, ২০২৬ সালের জুনে বেঙ্গালুরু পুলিশ মার্কিন মিশনারি সংস্থা দ্য টিমোথি ইনিসিয়েটিভ (The Timothy Initiative)-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বৈধ এফসিআরএ নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং মিশনারি কার্যক্রমে তা ব্যবহারের অভিযোগে ৯২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আরও কঠোর নজরদারির পথে কেন্দ্র

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সংশোধিত এফসিআরএ বিধি ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রথমবার ধর্মান্তরণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, কার্যপরিধি এবং সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় কাজ করতে হবে।

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হল। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু’জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। যদিও উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও কেউ আটকে আছে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়। এটা এনডিআরএফ ও সেনা চূড়ান্ত জানালে, আমি কলকাতা পুলিশকে জানাব।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    বুধবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিটের বিশাল অংশ, লোহার বিম এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক ও কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রেন, হাইড্রোলিক কাটার, অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের ঘটনাস্থলে তৈরি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, কারণ এখনও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও অভিযান বন্ধ করা হয়নি।

    তদন্তে সিট, গ্রেফতার একাধিক

    ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসন তদন্তভার দেয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এবং গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদনপত্র এবং প্রযুক্তিগত দিকও পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অতীতেও ফৌজদারি মামলার অভিযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    সিটের জালে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কে তিনি?

    এই তদন্তেই নতুন মোড় আসে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সিট তাঁকে গ্রেফতার করে। ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণের প্ল্যান কীভাবে অনুমোদন পেল এবং সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়েই মূলত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। একটি নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্মাণের অনুমোদনপত্রে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মেয়র জড়িত। দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, “কালীকে তুললেই সব হয়ে যাবে। পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ হয় না। আর কালী ক্যামাক স্ট্রিটের দ্বারা নিযুক্ত।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

    পরিচয় জানার চেষ্টা, অভিযান অব্যাহত

    শুক্রবার উদ্ধার হওয়া দুই মৃতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাঁদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, আঙুলের ছাপ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরিয়ে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। একইসঙ্গে তদন্তে যদি কারও গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা আইনভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।

  • Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) ২০২৬’ বিল। পাশাপাশি দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি এবং গুণ্ডাদমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও আনা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউসিসি বিল এবং দুর্নীতি-বিরোধী বিলকে সরকার তাদের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    সোমবারই বিধানসভায় ইউসিসি বিল

    বিধানসভা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি সোমবার পেশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যবিবরণী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও ইউসিসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় পৌঁছনোর পর চলতি অধিবেশনেই বিলটি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ

    বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যটি দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হতে পারে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    একই অধিবেশনে আসছে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিল

    বিশেষ অধিবেশনেই সরকার দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও পেশ করতে চলেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে দু’মাস পরে জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”

    কী থাকছে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আইনে বেআইনি আয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, গুণ্ডামি, ঘুষের অর্থ সাদা করা এবং অপরাধমূলক উপায়ে সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিলের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও দখলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
    • ● ‘গুণ্ডা’ শব্দকে আইনের অংশ করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা।
    • ● গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি প্রয়োগের সুযোগ।
    • ● দুর্নীতি দমনের অভিযানে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
    • ● বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিধান।
    • ● রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই আইনি বিধান প্রয়োগ।
    • ● বেআইনি দখল, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ।
    • ● দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনার ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্তির দাবি জানানো যাবে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

    একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং দুর্নীতি-বিরোধী—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এনে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই দুই বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

LinkedIn
Share