Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে গত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে চিন এবং ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একদিকে চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে, অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত- ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা (India Indonesia Relationship) নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

    সাবাং বন্দর (Sabang Port)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাবাং বন্দর (Sabang Port) শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ভারতের কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী এই ‘মুক্তোর মালা’ কৌশল?

    আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে ‘মুক্তোর মালা’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে। এই ধারণা অনুযায়ী, চিন ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ, আফ্রিকার জিবুতিতে নৌ-সুবিধা, সব মিলিয়ে চিন তার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এগুলি মূলত বাণিজ্যিক প্রকল্প। তবে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধাও দিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর?

    সাবাং বন্দর (Sabang Port) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ওয়েহ দ্বীপে অবস্থিত। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল, এটি মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের খুব কাছাকাছি। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। এই কারণেই সাবাং বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সাবাং বন্দর (Sabang Port) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়। এরপর থেকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় বন্দর উন্নয়ন, জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে (India Indonesia Relationship) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ভারতের কী লাভ?

    সাবাং বন্দরের (Sabang Port) অবস্থান ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে। ভারতীয় জাহাজ প্রয়োজনে সেখানে পরিষেবা পেতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্রপথে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে এমন সহযোগিতা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।

    ভারতের অবস্থান

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধু স্থল সীমান্ত নয়, সমুদ্র নিরাপত্তার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে ভারত ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

    চিনের সরাসরি জবাব?

    এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাবাং বন্দরকে (Sabang Port) ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সাবাং কোনও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই।

    কেন বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাবাং বন্দর সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও ভারত সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

    পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

    সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার (India Indonesia Relationship) সহযোগিতা শুধু একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। এটি ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখাই তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন।

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কোথাও হঠাৎ বৃষ্টিতেই নাজেহাল পরিস্থিতি। আর এই আবহাওয়ায় বিপদ বাড়াচ্ছে টাইফয়েড। রাজ্য জুড়ে বাড়ছে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে আগাম সচেতনতা না বাড়ালে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই টাইফয়েড রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার পাশপাশি, কীভাবে এই সংক্রমণ আটকানো যাবে, আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন, সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকা জরুরি। না হলে, বিপদ আরও বাড়বে।

    টাইফয়েড কী?

    পরজীবী রোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ। সালমোনেলা টাইফি নামে এক ব্যাকটেরিয়া থেকে এই রোগ ছড়ায়।

    কীভাবে এই রোগ সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত জল এবং খাবার থেকেই এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার জেরে এই রোগ হতে পারে। বর্ষায় রাজ্য জুড়ে একাধিক জায়গায় জমা জলের ভোগান্তি রয়েছে। বৃষ্টির জেরে অনেক জায়গায় পরিশ্রুত খাওয়ার জল পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকেই অপরিচ্ছন্ন জল খাচ্ছেন। তার ফলে টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, হাত ধুয়ে না খাওয়ার অভ্যাস যে কোনও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, এই আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। তাছাড়া খোলা জায়গায় রাখা খাবার থেকে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই বর্ষায় বাজার থেকে কেনা তেলেভাজা কিংবা মশলা মাখানো কাটা ফল খান। এই ধরনের খাবারে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে বুঝবেন টাইফয়েড আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে তার উপসর্গ স্পষ্ট হয়। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পারলে রোগ চিহ্নিত করা সহজ হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রবল জ্বর, মাথা ও পেটে ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং একাধিকবার মলত্যাগের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলো টাইফয়েডের লক্ষণ। তবে এর পাশপাশি টাইফয়েড আক্রান্ত হলে, অনেকের ত্বকে ছোটো ছোটো গোলাপি দাগ দেখা দেয়। তাই তাঁদের পরামর্শ, বর্ষার মরশুমে জ্বর হলে এবং ত্বকে কোনো রকম দাগ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাতে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে বাড়তি স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। পরিবারের শিশু সদস্যের জন্য প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের টাইফয়েডে দ্রুত সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের পানীয় জলের গুণমানের প্রতি বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বাজার থেকে ফল ও সব্জি কিনে আনার পরে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কাটা ফল কিংবা খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা যে কোনও রকম খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। এগুলো থেকে দ্রুত টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে গরম রান্না করা খাবার খেলে এই ধরণের রোগের ঝুঁকি কমবে। শৌচালয় ব্যবহার নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শৌচালয় নিয়মিত পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। টাইফয়েড, ডায়ারিয়ার মতো বর্ষার মরশুমে একাধিক সংক্রামক রোগ শৌচালয় থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শৌচালয় ব্যবহারের পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত-মুখ ধোয়া জরুরি।‌ তাহলে টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    রোগে আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অবহেলা করলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যেতে পারে। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা দরকার। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পরে, মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে লিভার, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করছেন কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেয়। ক্লান্তি বাড়ে। ঠিকমতো পুষ্টির জোগান না থাকলে সেরে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, আক্রান্তকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হজমের সমস্যা না হয়। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সিদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ভাত, ডাল, সব্জি সিদ্ধ করে নিয়মিত খেতে হবে। যাতে শরীরে ভিটামিন, খনিজের চাহিদা পূরণ হয়। আবার ডিম, মাংসের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে। কিন্তু সিদ্ধ বা স্টু জাতীয় পদ দিতে হবে। যাতে প্রোটিন শরীরে গেলেও হজমে সমস্যা না হয়। তাছাড়া, ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। যাতে শরীরে বাড়তি ক্লান্তি গ্রাস না করে। তবেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

  • Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের জারি করা একটি আগাম নিরাপত্তা সতর্কতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে, ১৭ জুলাই প্রকাশিত ওই সতর্কতায় ২০ ও ২১ জুলাই দিল্লিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ভিড়, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন দূতাবাস এত আগে এবং এত নির্দিষ্ট তথ্য কীভাবে পেল। ঘটনার সূত্রপাত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও, আন্দোলনে অ-ছাত্র গোষ্ঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় কী বলা হয়েছিল?

    ১৭ জুলাই প্রকাশিত মার্কিন দূতাবাসের “ডেমনস্ট্রেশন অ্যালার্ট”-এ মার্কিন নাগরিকদের ২০ জুলাই সংসদ ভবন ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়েছিল, ওই দিন বড় জমায়েত হতে পারে এবং দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও ২১ জুলাই কিষাণ ঘাটে আরেকটি বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রায় ২৫০টি কৃষক সংগঠনের অংশগ্রহণ এবং মোটরসাইকেল মিছিলের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।

    মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পরামর্শ ছিল—

    বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন।
    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ করুন।
    ট্রাফিক বিলম্ব ও রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
    স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
    পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
    স্টেপ (Smart Traveler Enrollment Program)-এ নিবন্ধন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট গ্রহণ করুন।

    বিতর্কের কারণ কী?

    দিল্লি পুলিশ ১৮ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তবে তার আগেই মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থান, তারিখ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কৃষক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের মতো বিশদ তথ্য উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিয়মিতভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, প্রশাসনিক সূত্র, প্রকাশ্য তথ্য এবং নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করে থাকে। ফলে এমন সতর্কতা জারি করা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    ‘ডিপ স্টেট’ ও জর্জ সোরোস প্রসঙ্গ

    বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক মহলে তথাকথিত “ডিপ স্টেট” বা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোস-এর নামও টানা হচ্ছে। তবে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা এবং এসব অভিযোগের মধ্যে কোনও সম্পর্কের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত অভিজিৎ দিপকে-র অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জানা গিয়েছে, তিনি আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত বা রাজনৈতিক অতীতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলে কোনও সরকারি সংস্থা দাবি করেনি।

    সরকারি অবস্থান

    প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রস্তাবিত সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মার্কিন দূতাবাসের আগাম সতর্কতা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, দূতাবাসের তথ্য সংগ্রহ বা এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষ ও প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

  • Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত কাশ্মীর (Jammu And Kashmir)। পুলিশবাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা হল জম্মু ও কাশ্মীরে। গোলাগুলিতে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অনন্তনাগের (Attacks in Anantnag) লালচকে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ লালচকে টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। আচমকাই সেই দলের উপর গুলি চলে। পুলিশকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা জঙ্গলের আড়াল থেকে গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হন হেড কনস্টেবল আশিক হুসেন।

    হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত পুলিশকর্মীকে দ্রুত অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (GMC) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আশিক হুসেনের বাড়ি বুদগাম জেলার বীরওয়াহ এলাকায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনন্তনাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে বার বার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি লক্ষ করে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনার দাবি, কঠোর নজরদারির জেরেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দিনচারেক আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের রজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) অনুপ্রবেশ আটকেছে সেনা।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    উল্লেখ্য, অমরনাথ যাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যেই অনন্তনাগে এই জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনীও।

  • WB Assembly: ক্যাগ রিপোর্টে নাম উঠলেই এফআইআরের সুপারিশ! বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    WB Assembly: ক্যাগ রিপোর্টে নাম উঠলেই এফআইআরের সুপারিশ! বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬, তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, ‘‘বিকাশ ভি হোগা, হিসাব ভি হোগা।’’ অর্থাৎ উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতিরও হিসাব নেওয়া হবে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই বার্তারই প্রতিফলন যেন দেখা গেল বিধানসভায় (WB Assembly)। স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের জবাবি ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) যাঁদের নাম উঠবে, তিনি যত বড় নেতা-মন্ত্রীই হোন না কেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার সুপারিশও করা হবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    বিধানসভায় (WB Assembly) দাঁড়িয়ে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘‘আগামী ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট (CAG Report) পেশ হবে। পরবর্তী অধিবেশনে আমরা ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করব এবং তার সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব। যেখানে যেখানে দুর্নীতি হয়েছে, ক্যাগ তা ধরবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন, মন্ত্রী হোন কিংবা যত বড় নেতাই হোন না কেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য আমরা রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করব।’’ এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দুর্নীতির অভিযোগে ব্যক্তি নয়, প্রমাণই হবে সরকারের পদক্ষেপের ভিত্তি।

    ফের সামনে আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ 

    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি (Narendra Modi) আমফানের সময় দু’দফায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমফানে বড় দুর্নীতি হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি, বিধানসভাতেও (WB Assembly) পেশ করা হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’ সেই বিশেষ ক্যাগ তদন্তের রিপোর্টও এবার প্রকাশ্যে এনে বিধানসভায় আলোচনা করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adjikari)।

    বিশেষ অধিবেশনের ইঙ্গিত

    এদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান,”সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাজ শেষ হলেই রিপোর্ট জমা পড়বে। এরপর রাজ্যপালের কাছে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সুপারিশ করা হবে। যাতে আমফানের বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট-সহ ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে এই বিধানসভায় আলোচনা হয়। যারা বড় বড় ভাষণ দিয়েছেন, এবার তাঁদের মুখোশও খোলা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ১ অগাস্ট থেকে সচল হবে সাংবিধানিক কমিশনগুলি

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকার মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, শিশু রক্ষা কমিশন, এসসি-এসটি, ওবিসি, সংখ্যালঘু কমিশন এবং তথ্য কমিশনার-সহ একাধিক সাংবিধানিক সংস্থাকে কার্যত অচল করে রেখেছিল। পশ্চিমবঙ্গে যতগুলি সাংবিধানিক সংস্থা আছে, সবকটিকেই অচল করে রাখা হয়েছিল। আগামী ১ অগাস্ট থেকে সব কমিশন আবার কাজ শুরু করবে। তারা সব অভিযোগ নিতে বাধ্য থাকবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করবে।’’ একইসঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলির উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

    কুণাল ঘোষের পাল্টা প্রশ্ন

    তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। কালীঘাটের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) পাল্টা প্রশ্ন, ক্যাগ রিপোর্টে যদি বালিশ শিবিরের কারও নাম থাকে, সেখানেও কি ব্যবস্থা হবে? এর আগেও একটা ঘটনায় এক বিধায়কের সই দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। তারপর কী হয়েছিল?

    ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা, এখন নজর ক্যাগ রিপোর্টে

    বিজেপি সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন মামলায় পদক্ষেপ কার্যত সেই বার্তাই দিয়েছে। এবার ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশের পর তাতে উঠে আসা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়? আমফান দুর্নীতির বিশেষ তদন্তের রিপোর্ট কবে বিধানসভায় আসে? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, এই রিপোর্টকে ঘিরেই বাংলার রাজনীতিতে যে নতুন সংঘাতের সূচনা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

  • BJP Slams Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না, রাহুলকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ বিজেপির

    BJP Slams Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না, রাহুলকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধর্না ঘিরে ক্রমেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এদিন রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) শীর্ষ নেতৃত্বের। অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।

    কী অভিযোগ বিজেপির?

    বিজেপির (BJP) দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে ধর্নায় বসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাসক দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষিত ব্যক্তিদের অন্যতম। ফলে তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর যে সাংবিধানিক মর্যাদা রয়েছে, সেই পদমর্যাদার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই মানানসই নয়। রাহুল গান্ধী দিশাহীন রাজনীতি করছেন, কটাক্ষ বিজেপির। একইসঙ্গে বুধবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও করেছে গেরুয়া শিবির।

    বিএল সন্তোষের কড়া আক্রমণ

    রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’’, ‘‘শিশুসুলভ’’ বলেও কটাক্ষ বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের। বিএল সন্তোষ বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে কংগ্রেস অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে।’’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ি লক্ষ্য করে এ ধরনের কর্মসূচি দেশের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ঘটনা ‘‘রাষ্ট্রদ্রোহের কাছাকাছি একটি কাজ’’।

    ‘‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জাজনক দিন’’

    বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, মঙ্গলবার ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ‘‘লজ্জাজনক দিন’’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব তাঁর অজানা নয়। তা সত্ত্বেও তিনি যে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। নিট ইস্যুতে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস সেই আলোচনার পথ ছেড়ে সংঘাতের রাজনীতি করেছে।’’ তাঁর প্রশ্ন দেশ কি রাহুল গান্ধীর ইচ্ছেমতো চলবে? সংসদে আলোচনা না করে কেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না? তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

    নিশিকান্ত দুবের বিস্ফোরক অভিযোগ

    সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। রাহুলের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন সাংসদের। রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরগুলির তদন্তের দাবি করেছেন নিশিকান্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিদেশে রাহুল গান্ধী কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন? কোন কোন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন? ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না? কিংবা বিদেশি সংস্থার কোনও অর্থায়নের যোগ রয়েছে কি না?- সেই সমস্ত বিষয় সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।’’

    ‘‘বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার’’

    অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ ও রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোরের অভিযোগ, ‘‘লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কিছু বিশেষ সাংবিধানিক সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। এটি কংগ্রেসের হতাশা, দিশাহীনতা এবং শিশুসুলভ রাজনীতির পরিচয় বহন করে।’’

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    মঙ্গলবার নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ধর্না দেয় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) পদত্যাগের দাবিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের বাইরে ধর্নায় বসে কংগ্রেস (Congress)। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডি জোটের (INDI Alliance) একাধিক বিরোধী নেতাও। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। যদিও পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    দেশজুড়ে বিজেপির প্রতিবাদ

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে আন্দোলনে বিজেপি। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের রাজ্য ও জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন।

    ক্রমশ তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র। বিজেপির অভিযোগ, নিট ইস্যুর আড়ালে কংগ্রেস রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে এবং বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী। তাই এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামছে বিজেপি। শাসক দলের বার্তা, গণতন্ত্রের নামে দেশের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক শালীনতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার এই রাজনৈতিক টানাটানি কোন দিকে মোড় নেয়?

  • ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল। রাজ্যের চারটি জেলায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের (West Bengal Oil Exploration) জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনকে অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার (ONGC West Bengal)। শিল্পমহলের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে শুধু জ্বালানি ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন জেলায় অনুসন্ধান?

    রাজ্য সরকারের অনুমোদন (ONGC West Bengal) পাওয়া চারটি জেলা হল নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের বাজেট পেশের সময় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ২০২৫ সালের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী ওএনজিসিকে (ONGC) এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া- এই তিন জেলায় প্রায় ২,৮৭২.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধানের কাজ হবে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর প্রকল্পেও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলেছে।

    রাজ্যের আয় বাড়ার আশা

    সরকারের আশা, এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসবে। বিশেষ করে অশোকনগর প্রকল্প থেকেই প্রায় ১০৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। অন্য তিন জেলার ক্ষেত্রেও চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন থেকে রাজ্যের নির্ধারিত অংশ রাজস্ব হিসেবে মিলবে।

    শিল্প ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

    তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে শিল্প দফতর। অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ঘিরে একাধিক সহায়ক শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সংক্রান্ত আরও প্রকল্পে বিনিয়োগের পথও খুলতে পারে।

    আগেই মিলেছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

    রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বহু বছর ধরেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওএনজিসি (ONGC)। এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, উত্তর ২৪ পরগনার কনকপুর এলাকায় প্রায় ২,৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। একইভাবে নদিয়ার রানাঘাটেও প্রায় ২,৭১৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    ভারত এখনও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশের মাটিতে নতুন জ্বালানির উৎস খুঁজে পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে চারটি জেলায় অনুসন্ধানের অনুমতি সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর থাকবে অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে। যদি পর্যাপ্ত মজুতের সন্ধান মেলে, তাহলে আগামী দিনে বাংলার মাটিতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

  • India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী বাংলাদেশ। সে দেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর জন্য সরকার অপেক্ষা করছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা ভারত সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না মিললেও, মনে করা হচ্ছে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি না হলে এ বছরের সেপ্টেম্বের বাংলাদেশ সফরে যাবে ভারতীয় দল (India vs Bangladesh)।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল!

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরের শুরুতেই ঘোষণা করেছিল, ২০২৫ সালে স্থগিত হওয়া ভারত সফরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ও তিনটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। ২০২৫ সালের নির্ধারিত সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়েছিল। একই পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন ঢাকার সরকার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ভারত সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

    তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারত সিরিজের টেলিভিশন ও মিডিয়া সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করায় সফরটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো হয়। পাশাপাশি আগস্টে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচিতে টি-২০ ম্যাচ না থাকায় বাংলাদেশ সফরের জন্য সময় বের হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভারতের সিরিজে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। যদিও মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির দরপত্র আহ্বান করার পরও ভারত সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সবাই সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাংলাদেশে এলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনার কারণে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”

    ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা

    এমনিতে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার সুর বেচে তথাকথিত নেতারা নিজেদের কেরিয়ারের গ্রাফ উপরে তোলার চেষ্টা করতেন। যার প্রভাব পড়ে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তারইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে ২০২৬ সালের আইপিএল (IPL 2026) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। সামনেই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন। ভোটের ময়দানে ফায়দা লুটতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। তবে তাতেও নির্বাচনে ফায়দা লুটতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মহল। বরং ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। যে সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট-তিক্ততা

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট তিক্ততা দূর করতে এবার ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশের ক্রীড়ামহল। এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রক। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেও পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত যদি বাংলাদেশে খেলতে যায় সে ক্ষেত্রে চার বছর পর ঢাকা সফরে যাবেন গিলরা। এই সফরে দুই দল তিনটি করে ওডিআই ও টি-২০ ম্যাচ খেলবে। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য বিসিবি হঠাৎ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির তোড়জোড় শুরু করার পরই আশার আলো দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিসিবির এক কর্তা সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমরা সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। যদিও এখনও বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত আসেনি। দল পাঠাবে না, এমন কথাও বলেনি ভারতীয় বোর্ড। আশা করছি, খুব দ্রুত বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাব।’’ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বৈঠকে গিয়েছিলেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ় আয়োজনের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। উল্লেখ্য, তামিম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক রক্ষা করতে চান।

     

     

     

     

  • Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বুধবার (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে কমিশন বা অন্তর্ভুক্ত হল ‘আইএনএস মালভান’ (INS Malvan)। এটি মাহে-ক্লাসের (Mahe-class) অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওাটার ক্র্যাফট (ASW-SWC) সিরিজের দ্বিতীয় স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম, যা আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং-এর উপস্থিতিতে জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম নৌ-কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাত্সায়নও।

    কেন বিশেষ আইএনএস মালভান?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘সাবমেরিন হান্টার’ আইএনএস মালভান আকারে ছোট হলেও যুদ্ধক্ষমতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। উপকূলীয় ও অগভীর জলসীমায় দ্রুত অভিযান চালানো, শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর জন্যই এটি বিশেষভাবে তৈরি। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজটি ‘‘ক্ষিপ্র, নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের উপযোগী’’, যা অগভীর জলসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শত্রুর সাবমেরিনের জন্য কেন ভয়ঙ্কর?

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান কাজ অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW)। উপকূলীয় অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে দ্রুত আক্রমণ চালানোর জন্য এতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর বসানো হয়েছে।

    জাহাজের প্রধান অস্ত্রসম্ভার—

    • ● আরবিইউ-৬০০০ (RBU-6000) অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার
    • ● দুই পাশে ৩২৪ মিমি ট্রিপল লাইটওয়েট টর্পিডো টিউব
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন মাইন বসানোর ব্যবস্থা
    • ● টর্পিডো ডিকয় লঞ্চারসহ ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ডিফেন্স স্যুট
    • ● ৩০ মিমি নৌ-কামান
    • ● দুটি ১২.৭ মিমি স্ট্যাবিলাইজড রিমোট-কন্ট্রোলড গান

    এছাড়াও জাহাজটি লো-ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস্ বা সংক্ষেপে লিমো (LIMO) এবং মাইন ওয়ারফেয়ার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

    উপকূলীয় যুদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকর

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের অগভীর জলসীমায় শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই ধরনের লিটোরাল (Littoral) বা অগভীর অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে ছোট, দ্রুতগামী এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন হয়। আইএনএস মালভান ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই তৈরি।

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    মাহে-ক্লাস যুদ্ধজাহাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্টেলথ ডিজাইনও ব্যবহার করা হয়েছে।

    প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭৮–৮০ মিটার
    • ● ওজন (ডিসপ্লেসমেন্ট): প্রায় ৯০০–১,১০০ টন
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ২৫ নট
    • ● অপারেশনাল রেঞ্জ: ১,৮০০ নটিক্যাল মাইল (১৪ নট গতিতে)
    • ● সমুদ্রে টানা থাকার ক্ষমতা: ১৪ দিন
    • ● ইঞ্জিন: তিনটি ৬ মেগাওয়াট মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন
    • ● প্রোপালশন: ওয়াটার জেট/পাম্প-জেট প্রোপালশন, যা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োগগুলির একটি

    জাহাজটিতে স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এর রেডার, শব্দ এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার অনেক কম থাকে। ফলে শত্রুর পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন।

    দেশীয় প্রযুক্তির বড় সাফল্য

    আইএনএস মালভানে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), মহীন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা। কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত মাহে-ক্লাসের মোট আটটি যুদ্ধজাহাজ ধাপে ধাপে অগাস্ট ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮-এর মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    নামের পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    ‘মালভান’ নামটি নেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর মালভান থেকে, যার সঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সমুদ্র প্রতিরক্ষার ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৩ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত পুরনো আইএনএস মালভান-এর ঐতিহ্যও এই নতুন যুদ্ধজাহাজ বহন করবে। কমিশনিংয়ের আগে ভারতীয় নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জাহাজটির ক্রেস্টও প্রকাশ করেছে। সেখানে শিবাজির বিখ্যাত ‘বাঘ নখ’ (Bagh Nakha)-কে সাহস, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্ধর্ষ মনোভাবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রেস্টে রয়েছে ‘Silent Claws’ মন্ত্র, আর নৌবাহিনীর বার্তা— ‘Silent. Swift. Lethal.’ ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন এই ‘সাবমেরিন হান্টার’ শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, স্টেলথ সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতারও শক্তিশালী প্রতীক।

LinkedIn
Share