Tag: news in bengali

news in bengali

  • Food Safety Raids: শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই রাজ্যে পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দাফাঁস! জানেন কী খাচ্ছিলেন এতদিন?

    Food Safety Raids: শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই রাজ্যে পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দাফাঁস! জানেন কী খাচ্ছিলেন এতদিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে রাজ্যে ফিরে এল সেই ভাগাড়ের পচা মাংসের আতঙ্ক! খাদ্য সুরক্ষা দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযানে পর পর অভিযানে মিলল চোখ কপালে ওঠা ছবির হদিশ। শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই ফাঁস হয়ে গেল পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দা। তাতেই উঠে এল ভয়াবহ ছবি। কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রেও এমন অভিযানে দেশজুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। এবার শুরু হয়ে গেল এরাজ্যেও। কলকাতা থেকে শুরু করে একাধিক জেলায় নামী রেস্তরাঁ, খাবারের (Food Safety Raids) দোকান ও মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে কেজি কেজি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস (Rotten Meat), মাছ, মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির, আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয়। কোথাও ফ্রিজে ঠাসা ছিল পুরনো মাংস-মাছ, কোথাও আবার খাবারে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল হোলির রং। পর্যটনকেন্দ্র দিঘার একাধিক হোটেল ও রেস্তরাঁয় নিম্নমানের বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে পুজোর আগে রাজ্যে খাবারের মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল।

    ভাগাড়ের মাংসকাণ্ড (Food Safety Raids)

    ২০১৮ সালে ভাগাড়ের মাংস কাণ্ডে কার্যত তোলপাড় হয়েছিল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য। অভিযোগ উঠেছিল, ভাগাড়ে পড়ে থাকা মৃত পশুর মাংস সংগ্রহ করে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে-সহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। সেই মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে নানা রাসায়নিক ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ সামনে এসেছিল। পরে ওই মাংস মাছের স্তূপের আড়ালে করে অন্য রাজ্যেও পাচার করার অভিযোগ ওঠে। বসিরহাটের বাদুড়িয়ায় এই চক্রের বড়সড় হদিশ মেলার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছিল ধরপাকড় ও নজরদারি।

    এবার ২০২৬ সালে পুজোর ঠিক আগে ফের সেই বাদুড়িয়াতেই উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ পচা মাংস ও মাছ। খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ অভিযানে একটি নামী রেস্তরাঁ থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মুরগি ও খাসির মাংস ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিপুল পরিমাণ পাঁঠার মাংস পচে যাওয়ার পরেও, তা ফ্রিজে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই মাংস রান্না করে সাধারণ মানুষকে পরিবেশন করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রাম, একই ছবি

    শুধু বাদুড়িয়াতেই নয়, কলকাতা, সল্টলেক, মধ্যমগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের একাধিক নামী রেস্তরাঁতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও ফ্রিজ খুলতেই তীব্র দুর্গন্ধ বেরিয়েছে। কোথাও মাংসে ছত্রাক ধরেছে। আবার কোনও কোনও জায়গায় দীর্ঘদিনের পুরনো চিংড়ি মাছ ফ্রিজে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউনে চাইনিজ খাবারের জন্য প্রতিদিনই বহু মানুষ যাতায়াত করেন। সেই ট্যাংরার একটি পরিচিত রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি মাছ-মাংস উদ্ধার করেছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর। উদ্ধার হওয়া কোনও প্যাকেটেই তারিখ উল্লেখ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। পরে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে ধাপায় নিয়ে গিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়।

    রেস্তরাঁটির মালিক অবশ্য দাবি করেছেন, মাংসগুলি দীর্ঘদিনের পুরনো নয়। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয় এবং উদ্ধার হওয়া মজুত তিন দিনের মতো ছিল।

    মধ্যমগ্রামে ফ্রিজ খুলতেই দুর্গন্ধ

    উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারে একটি শপিং মলের খাবারের জায়গায় খাদ্য দফতর, পুরসভা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি নামী খাবারের দোকানের ফ্রিজ ও রান্নাঘরে ঢুকতেই খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের নজরে আসে পচা মাংস এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার (Food Safety Raids)।

    অভিযোগ, সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবারের প্যাকেট এবং পানীয় জলের বোতল পাওয়া যায়। পরিস্থিতি দেখে ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়। আধিকারিকরা পৌঁছনোর পর কর্মীরা পচা খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    সল্টলেকের তথ্যপ্রযুক্তি এলাকাতেও পচা মাংস

    সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়েও মিলেছে পচা মাংস। আরডিবি ভবনের কাছে ওই রেস্তরাঁর সংরক্ষণাগারে কাঁচা মাংস ভর্তি ছিল। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। খাবারের বিষয়ে কৈফিয়ৎ চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এরপর তাঁর দোকানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর (Rotten Meat)।

    দিঘায় বিরিয়ানি নিয়েও উঠল অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিঘাতেও খাবারের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রায় সারা বছরই এখানে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। সেই দিঘার ২০টি হোটেল ও রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর।

    অভিযোগ, বিরিয়ানিতে খাবারের উপযোগী রঙের পরিবর্তে রাসায়নিক মেশানো বিষাক্ত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে বেশ কয়েক দিন আগে রান্না করা মাংস ফের গরম করে বিক্রি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না বলেন, “দিঘার ২০টি হোটেল-রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে ১৫টি থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। ১২টি হোটেলকে আইনি নোটিশ ধরানো হয়েছে (Rotten Meat)।”

    হুগলিতে মিষ্টিতে হোলির রং, বেকারিতে পোকা ধরা ময়দা

    বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার মিষ্টি নিয়েও এবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুগলির আরামবাগে কয়েকটি মিষ্টির দোকানে খাবারে ব্যবহারের জন্য রাখা রঙের মধ্যে হোলিতে খেলার রং পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও দোকানদারদের দাবি, দোলের সময় ব্যবহারের পর ওই রঙের কৌটো রান্নাঘরে থেকে গিয়েছিল। মিষ্টি তৈরিতে সেই রং ব্যবহার করা হয় না বলেই তাঁদের দাবি।

    আরামবাগের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক যদুনাথ হেমব্রম বলেন, “মিষ্টিতে রং মেশানো হচ্ছে। আর সেই রং হল হোলির রং। এই রং দিয়ে হোলি খেলা হয়। দোকানের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হোলির সময় থেকে রঙের কৌটোটা কোনও ভাবে ওখানে রয়ে গিয়েছে। কিন্তু যেখানে মিষ্টি তৈরি হয়, সেই জায়গা থেকেই এই রং উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে সাজানো ছিল। অন্যান্য রঙের সঙ্গেই এই হোলির রংটা রাখা ছিল।”

    হুগলির ভদ্রেশ্বরেও একটি বেকারিতে অভিযান চালিয়ে কেক, বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরির উপকরণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। পোকা ধরা ময়দা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে (Rotten Meat)।

    বর্ধমানে পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির

    পূর্ব বর্ধমানেও খাবারের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্ধমান শহরের কয়েকটি মিষ্টির দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা সেই পনির নষ্ট করে দেন। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Food Safety Raids)।

    শুধু শহরেই নয়, বর্ধমানের শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

    পুজোর আগে একের পর এক এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কতটা কার্যকর। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে ক্রেতার সংখ্যা যখন কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তখন পচা, বাসি কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রির মতো অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও, পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের (Rotten Meat)।

     

  • BCCI on Players Fitness: ‘১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হলেই দলে’, আফগানিস্তান সিরিজে ফিটনেস নিয়ে সতর্ক বিসিসিআই

    BCCI on Players Fitness: ‘১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হলেই দলে’, আফগানিস্তান সিরিজে ফিটনেস নিয়ে সতর্ক বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবং বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স (CoE)। ১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করা হলেও চার ক্রিকেটারের দলে থাকা এখনও তাঁদের ফিটনেসের উপর নির্ভরশীল। সেই তালিকায় রয়েছেন পেসার জসপ্রীত বুমরাহ, অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং পেসার হর্ষিত রানা। সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটার বদলের ঘটনা একাধিকবার ঘটায় এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না সেন্টার অব এক্সেলেন্স। একজন ক্রিকেটারকে ফিট ঘোষণা করার আগে শুধু ১০০ শতাংশ নয়, বরং ‘২০০ শতাংশ নিশ্চিত’ হতে চাইছে তারা। বিসিসিআই সূত্রে খবর, “কোনও ক্রিকেটারকে দলে ফেরানোর আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে ১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে চায় বোর্ড।”

    শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটার বদলের জের

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সফরে চোট ও ফিটনেস সমস্যার কারণে দল ঘোষণার পরেও ক্রিকেটার বদল করতে হয়েছে ভারতকে। ইংল্যান্ড সফরে ফিট না থাকায় হর্ষিত রানার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছিল প্রিন্স যাদবকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক শুভমন গিলও ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের বাদ পড়া দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে। এছাড়াও সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ থেকে জসপ্রীত বুমরাহ এবং সাই সুদর্শন ছিটকে গেলে তাঁদের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় অকিব নবি ও সরফরাজ খানকে। ইংল্যান্ড সফরে চোটের কারণে নীতীশ কুমার রেড্ডির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন সূর্যাংশ শেডগে। আবার জিম্বাবোয়ে সিরিজে রবি বিষ্ণোইকে দলে নেওয়া হয়েছিল বরুণ চক্রবর্তীর পরিবর্তে।

    ফিটনেস নিয়ে ভিভিএস লক্ষ্মণ

    ক্রিকেটারদের দল ঘোষণার পর চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ। তাঁর বক্তব্য ছিল, দল পরিচালনাকারী টিম এবং সিওই-এর মধ্যে ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে স্পষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। লক্ষ্মণ জানিয়েছিলেন, অনেক সময় কোনও সিরিজ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই দল নির্বাচন করতে হয়। সেই কারণে কিছু ক্রিকেটারকে ‘ফিটনেস সাপেক্ষে’ দলে রাখা হয়। নির্ধারিত ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাঁদের পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়। লক্ষ্মণের কথায়, দল ঘোষণার সময়ই স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা ফিটনেস সাপেক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নির্বাচকদের কাছে বিকল্প ক্রিকেটারের নামও প্রস্তুত থাকে।

    রেড্ডি ও সুন্দরকে নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো নয়

    নীতীশ কুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়েও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না সিওই। কোয়াড্রিসেপসের চোটের কারণে রেড্ডি ইংল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ে সফরে খেলতে পারেননি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলতে পারেননি সুন্দর। পরে জিম্বাবোয়ে টি-২০ সিরিজ থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেড্ডি-সহ চোট থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কোনও রকম তাড়াহুড়ো করবে না সিওই। সম্পূর্ণ সুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁদের মাঠে ফেরানো হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের টি-২০ সিরিজ শুরু হবে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। সিরিজ শুরুর আগে হাতে এখনও এক সপ্তাহের বেশি সময় থাকায় চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের ফিট হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ফিটনেস পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হওয়ার পরেই তাঁদের খেলার অনুমতি দিতে চাইছে বিসিসিআই।

  • Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামমন্দির প্রকল্পের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ (Ram Mandir Trust) আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ২ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে (Govind Dev Giri)। এর মধ্যে আধ্যাত্মিক নেতা গোবিন্দ দেব গিরিকে ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক, মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ, আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকে ট্রাস্টি এবং নির্মলা যাদবকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Ram Mandir Trust)

    নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী অলোক কুমার বিশেষভাবে গোবিন্দ দেব গিরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর আশা, গিরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ট্রাস্টের কাজকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ট্রাস্টের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে রামমন্দির প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি অযোধ্যায় সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বও ট্রাস্টের উপর রয়েছে। সেই কাজ আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য।

    সাধারণ সম্পাদক পদে গোবিন্দ দেব গিরি

    গোবিন্দ দেব গিরির নিয়োগকে এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্বে তিনি ট্রাস্টকে প্রয়োজনীয় দিশা দিতে পারবেন। অলোক কুমার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, গিরির অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

    রামমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ মহেশ ভাগচন্দকা

    বৈঠকে মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    অশোক সিংঘল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও তিনি হিন্দুত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল্যবান হবে (Govind Dev Giri)।

    কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে সংগঠনটি (Ram Mandir Trust)।

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডে হলেন ট্রাস্টি

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকেও ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    ট্রাস্টে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আইনি ও বিচারিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ, নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ট্রাস্টকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ট্রাস্টের কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।

    নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি, বাড়ল মহিলা প্রতিনিধিত্ব

    ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নির্মলা যাদবের নিয়োগও উল্লেখযোগ্য। তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, এর ফলে ট্রাস্টে প্রতিনিধিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে রামমন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কাজে মহিলাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংগঠনটির বক্তব্য (Ram Mandir Trust)।

    অলোক কুমার মনে করেন, সীতা ও রামের পবিত্র ভূমির সঙ্গে যুক্ত এই বৃহৎ কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নির্মলা যাদবের উপস্থিতি ট্রাস্টের কাজের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা তৈরি করবে।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র

    বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাঁকে অভিজ্ঞ, সম্মানিত এবং দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে সংগঠনটির আশা।

    পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়, সময়সীমা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন কাঠামো

    নতুন নিয়োগগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক, আইনি, প্রশাসনিক, আর্থিক এবং সাংগঠনিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গোবিন্দ দেব গিরির আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মহেশ ভাগচন্দকার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আর্থিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, মদন মোহন পাণ্ডের আইনি জ্ঞান, নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি এবং জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রশাসনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ট্রাস্টের কাজের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Ram Mandir Trust)।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শ্রী রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোধ্যার বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজকেও এগিয়ে (Govind Dev Giri) নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা সংগঠনটির।

    অলোক কুমার সমস্ত নবনিযুক্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির আশা, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অযোধ্যায় চলা কাজ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা রামরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আদর্শগুলিকে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (Ram Mandir Trust)।

     

  • Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো (UNESCO)-র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে বাঙলার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এবার উৎসবের দিনগুলোতে কলকাতাকে গ্লোবাল পুজো ডেস্টিনেশন করার ভাবনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Sevendu Adhikari)। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলায় এই প্রথমবার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এই আবহে পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) আনছে নয়া চমক। এই প্রথমবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) নজিরবিহীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগমনী সুর গঙ্গার প্রান্ত দিয়ে ভেসে যাবে শহরের আকাশে-বাতাসে। আগমনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নবান্নের শীর্ষ সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শোয়ের মূল উদ্দেশ্য।

    প্রস্তুতি শুরু, দরপত্র আহ্বান

    সরকারি সূত্রে খবর, মহালয়ার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান (Mahalaya Agamani Event)। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর শেষে কলকাতায় রেড রোডে পুজো কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। সেখানে শহরের নির্বাচিত প্রতিমা ও পুজো কমিটিগুলি অংশ নেয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার এ বার শুধু বিসর্জন-পরবর্তী কার্নিভালের মধ্যে উৎসবের প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং সরকারের শীর্ষ এক নেতার কথায়, কার্নিভাল ছিল সরকার পোষিত কিছু পুজোকে নিয়ে ভাঙা পুজোর হাট। তা গোটা রাজ্যের মানুষকে স্পর্শ করত না।

    কেন মহালয়ার দিনেই মেগা-শো

    মহালয়া বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তিথি নয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, তর্পণ এবং দেবীর আগমনী বার্তা—সব মিলিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে দিনটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই ইডেনে আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি বৃহৎ উপস্থাপনার ভাবনা রয়েছে। নবান্নের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে।

    ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠান, সিএবি-র সম্মতির অপেক্ষা

    কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইডেন গার্ডেন্স শুধু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত একটি জায়গা। বিপুল দর্শক ধারণের ক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশ্বজোড়া পরিচিতির কারণেই মেগা শোয়ের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে ইডেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ক্রিকেটের মরশুম, মাঠের সুরক্ষা, সিএবি-র সম্মতি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থার মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    কী থাকতে পারে মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠানে

    অনুষ্ঠানের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে একটি সুবিশাল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে আনার পরিকল্পনা চলছে। শুধু কলকাতার শিল্পীরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিল্পী ও ঢাকিকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হতে পারে। একই সাজে এবং একই ছন্দে কয়েক হাজার শিল্পীর সমবেত পরিবেশনার কথাও ভাবা হচ্ছে। নবান্নের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, আয়োজনের ব্যাপ্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে তা গোটা দেশের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল ও সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারের অংশ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অসমের রেকর্ড ভাঙবে বাঙলা

    ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় অসমের মেগা বিহু উৎসবের মডেলও আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। ২০২৩ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অসম সরকার একটি বিশাল বিহু নৃত্য ও ঢোলবাদনের আয়োজন করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পী একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী সমবেত বিহু পরিবেশনায় যোগ দেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) চূড়ান্ত নথিতে বৃহত্তম বিহু নৃত্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১১,২৯৮ বলে উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক একসঙ্গে পরিবেশন করে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অসম সরকারের হাতে রেকর্ডের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। অসমের সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেই অনুষ্ঠান বড় সাফল্য পেয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলার অনুষ্ঠানটির ব্যাপ্তিও এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে, যা অসমের আয়োজনকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

    ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড!

    মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠান সফল হলে পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নজর কলকাতার দিকে ঘোরানো সম্ভব হবে। এর ফলে হোটেল, বিমান পরিষেবা, রেল, পরিবহণ, খাদ্য এবং খুচরো ব্যবসায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষা ও বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় বাংলায় সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। তাই উৎসবের প্রাণবন্ত চরিত্র বজায় রাখা সরকারের কাছেও একটি বড় অর্থনৈতিক প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই দেবীপক্ষের শুরুটা জমজমাট করতে চাইছে সরকার।

     

  • Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ (Uttam Kumar Birth Centenary) উপলক্ষে চার দিন ধরে বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। আজ, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন্দনকে (Nandan) কেন্দ্র করে চলবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, আইএনসিএ এবং টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসবে মহানায়কের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য অবদানের নানা দিক।

    কী বলছেন প্রসেনজিৎ (Uttam Kumar Birth Centenary)

    নন্দনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুধু স্মৃতিচারণ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও উত্তমকুমারের কাজ ও অবদানকে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, আগামী একশো বছর পরেও যেন নতুন প্রজন্ম একই আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, “উত্তমকুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক, বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং আবেগের অন্য নাম।” মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগেই এই চার দিনের বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    মহানায়কের সহ-অভিনেতাদের বিশেষ সম্মাননা

    চার দিনের এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয় করা বরেণ্য শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা। এই তালিকায় রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিক, কল্যাণী মণ্ডল, প্রভাত রায়, রত্না ঘোষাল এবং বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। উত্তমকুমার অভিনীত একাধিক জনপ্রিয় ছবিও প্রদর্শিত হবে এই আয়োজনের অংশ হিসেবে। প্রসেনজিৎ জানান, নন্দনের পাশাপাশি রাধা স্টুডিওতেও মহানায়ক অভিনীত নির্বাচিত কয়েকটি ছবি দেখানো হবে।

    শিশির মঞ্চে বিশেষ আলোচনা

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দু’টি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি আলোচনার বিষয় ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’। অন্য আলোচনায় পরিচালকদের অংশগ্রহণে উঠে আসবে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’কে ঘিরে নানা স্মৃতি ও বিশ্লেষণ। উত্তমকুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব—এই সমস্ত বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসবে বলে জানা গিয়েছে।

    সত্যজিৎ রায়ের বক্তৃতার রেকর্ডিং ঘিরে তথ্যচিত্র

    মহানায়ককে স্মরণ করে আয়োজিত এক সভায় সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া বক্তৃতার রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে সন্দীপ রায়ের তৈরি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসেনজিৎ জানান, “জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রথম ও শেষ দিনে এই তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হবে।”

    স্মৃতিচারণে যুক্ত হবেন বর্ষীয়ান সাংবাদিকরাও

    উত্তমকুমারের কর্মজীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন সাংবাদিকদের একাংশ। তাঁদেরও এই বিশেষ উদ্‌যাপনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Uttam Kumar Birth Centenary)। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এমন বহু সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা উত্তমকুমারকে কাছ থেকে দেখেছেন, চিনেছেন এবং তাঁর কর্মজীবনের নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রবীন্দ্র সদনে মহানায়কের ছবির গানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    উদ্‌যাপনের শেষ দিন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের শিল্পীরা মহানায়ক উত্তমকুমারের জনপ্রিয় ছবির গান পরিবেশন করবেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীতজগতেও তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্মৃতিচারণ হবে এই অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিনেতা জিৎ। তাঁর কথায়, “আমাদেরই জগতের একজনকে এভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। আগামী প্রজন্মকে এই উদ্যোগ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”

    বর্ণাঢ্য আয়োজন

    অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত বলেন, “খুব অল্প সময়ের নোটিশে হলেও মহানায়ককে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনকে সফল করতে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই একজোট হয়েছেন। এই উদযাপন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের।”

    ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যে বর্ণাঢ্য আয়োজন হতে চলেছে, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলেই (Nandan) মনে করছে টলিপাড়া। শুধু মহানায়কের স্মৃতিচারণ নয়, তাঁর শিল্পসৃষ্টিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (Uttam Kumar Birth Centenary) নেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

     

  • Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে রাজনীতির পারদ। একদিকে যেমন পুরভোটের (Kolkata Municipal Election 2026) রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে (Shamik Bhattacharya)। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লক্ষ্যে বিজেপি যে একক শক্তিতেই লড়াই করবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমীকরণ থাকলেও পুরভোটে বিজেপি কোনও জোটের উপর নির্ভর করতে চাইছে না বলেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক এনডিএর শরিকদের সঙ্গে সমীকরণ, দলের অভ্যন্তরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, বাংলার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, প্রবাসীদের বিনিয়োগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পুরভোটের লড়াই নিয়ে তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নিজের শক্তিতেই নির্বাচনে লড়াই করতে সক্ষম। তাঁর কথায়, “বিজেপি একার শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছে। কারওর দয়ায় নয়, কারওর আশীর্বাদে নয়, কোনও মতাদর্শের ডাইলিউশন করে নয়।”

    জোট নয়, নিজেদের শক্তিতেই পুরভোটে বিজেপি (Shamik Bhattacharya)

    এনডিএর কয়েকটি শরিক দল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে শমীক জানান, এনসিপি বা অন্য কোনও শরিক দল দেশের অন্য রাজ্যে কিংবা কেন্দ্রীয় স্তরে এনডিএর অংশ হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পুরভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের জন্য রাজ্য বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই যথেষ্ট বলে দাবি তাঁর।

    রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প—এই প্রচলিত কথাটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তবে সেই সম্ভাবনার রাজনীতির মধ্যেও পুরভোটে এককভাবে লড়াই করার পক্ষেই তিনি জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কর্মীরা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লড়াইয়ে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

    দলের অন্দরের ক্ষোভ নিয়ে কী বললেন শমীক?

    বিজেপির অন্দরে কয়েকজন বিধায়কের প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং মন্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিতেন তিওয়ারি এবং অমরনাথ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও বিষয়টিকে বড় ধরনের বিদ্রোহ বা সাংগঠনিক সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ শমীক।

    তাঁর মতে, কোনও ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। ফলে কোথাও কোথাও সামান্য বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে কোনও বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়নি।

    বাংলার খনিজ সম্পদ নিয়ে বড় সম্ভাবনার দাবি

    রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি বাংলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শমীক (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, বহু বছর আগেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরের একাংশে বিপুল পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ ও রেয়ার আর্থের সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সেই সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলেই অভিযোগ তাঁর (Kolkata Municipal Election 2026)।

    ২০১৮ সালে অশোকনগরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর রানাঘাটেও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কালিম্পং ও বাঁকুড়ায় সোনার সন্ধানও চলছে বলে দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সুজলা-সুফলা ভূপ্রকৃতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়া সম্ভব।

    প্রবাসীদের বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহ

    সম্প্রতি বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শমীক। নেদারল্যান্ডসে ‘বিদেশস্থ বিজেপির বন্ধু’ সংগঠনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বহু প্রবাসী ভারতীয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের দাবি, বাংলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

    পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী এবং বিশ্বখ্যাত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লর্ড বাগড়ির পরিবারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলায় নতুন করে বিনিয়োগ ও কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও মনে করছে বিজেপি।

    জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারের সাফল্যের দাবি

    দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জিডিপি বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত কোভিড পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

    তাঁর দাবি, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে টিকা এবং বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ায় গোটা বিশ্ব বিস্মিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Shamik Bhattacharya)।

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার এ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকেরা (Kolkata Municipal Election 2026)।

    পুরভোটে ভোটার তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ১ জুলাই প্রকাশিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই পুরভোটের ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পুর এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আসন সংরক্ষণ, বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সেই তালিকা নিয়ে বিভিন্ন আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখার পর অক্টোবরের শেষদিকে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ১৫ পুরসভায় নেই নির্বাচিত বোর্ড

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করেই পুর পরিষেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হাওড়া পুরসভা। সেখানে গত ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি।

    মন্ত্রিসভা গঠনের পর হাওড়া পুরসভা-সহ পুর নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা (Shamik Bhattacharya)।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেরই শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকা পুরসভাগুলিতে ভোট আয়োজন নিয়ে এবার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—দুই মহলেই তৎপরতা বাড়ছে। একদিকে বিজেপি একক শক্তিতে পুরভোটে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে আসন সংরক্ষণ ও ভোটগ্রহণ পরিকাঠামো প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন পুরভোটকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও (Kolkata Municipal Election 2026) উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Shamik Bhattacharya)।

     

  • Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশপথে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুদ্ধকালীন অসামান্য নেতৃত্ব ও পরিষেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বিশিষ্ট (Ram Temple Trust) পরিষেবা সম্মান  ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’।

    যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এই পদক দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে মাত্র ১০ বার এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ফলে জিতেন্দ্রর এই স্বীকৃতি তাঁর সামরিক জীবনের বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)

    জিতেন্দ্রর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভোপথপুরায়। অযোধ্যা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টা। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জিতেন্দ্রর বাবা ছিলেন অধ্যাপক। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অবসর নেন। এরপরই শ্রীরামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

    রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশাল মন্দির চত্বরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব সামলাতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে হল নির্বাচন প্রক্রিয়া?

    রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। প্রতিরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    ১১ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড চূড়ান্ত করা হয়। ১৪ জুলাই শিল্পপতি সমীর পাণ্ডাকে কমিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাজ সামলানোর জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি দলও গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মোট ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনগুলি যাচাই ও মূল্যায়নের পর ১,৫৮০ জন আবেদনকারীকে যোগ্য ও উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয় (Jeetendra Mishra)।

    ৩ থেকে ৬ অগাস্ট যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ১০৮ জনের সঙ্গে অনলাইনে পারস্পরিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই ১০৮ জন ছিলেন যোগ্য ও উপযুক্ত আবেদনকারীদের শীর্ষ ৭ শতাংশের মধ্যে। এরপর ১১ ও ১২ আগস্ট অযোধ্যায় শ্রীরাম মন্দিরের গ্রিন হাউসে ১৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়।

    সার্চ কমিটির রিপোর্ট

    অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর সার্চ কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক পদের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেলের সুপারিশ করা হয়।

    এই পুরো প্রক্রিয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নিয়োগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

    সামরিক জীবনে অর্জিত কৌশলগত পরিচালন দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্দির চত্বরের প্রতিদিনের বিপুল (Ram Temple Trust) কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ সামলানোর ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে (Jeetendra Mishra) পারেন বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • Indian Football Team: ঢাকের আগেই সাম্বার তালে মাতবে মহানগর! ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে বিপক্ষ ব্রাজিল, দল ঘোষণা ভারতের

    Indian Football Team: ঢাকের আগেই সাম্বার তালে মাতবে মহানগর! ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে বিপক্ষ ব্রাজিল, দল ঘোষণা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই ফুটবল জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোয় রীতিমতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্লু-টাইগার্স। প্রতিপক্ষ বিশ্ব ফুটবলের তিন শক্তি—ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং পানামা। সদ্যসমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপে (2026 FIFA World Cup) খেলেছে এই তিনটি দেশ। ৩ অক্টোবর বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। ঠিক তিনদিন বাদে, ৬ অক্টোবর, একই মাঠে প্রতিপক্ষ দু’বারের বিশ্বজয়ী উরুগুয়ে (India vs Uruguay)। ঢাকের তালে কোমর দোলানোর আগে সাম্বার ছন্দেই মেতে উঠবে মহানগর।

    বেঙ্গালুরুতে জাতীয় দলের ক্যাম্প

    বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মহড়া নিতে ২৬ জনের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করলেন ভারতের জাতীয় দলের হেড কোচ খালিদ জামিল (Indian Football Team)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে শুরু জাতীয় দলের ক্যাম্প। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলির আগে প্রস্তুতির জন্য প্রায় দু’সপ্তাহ সময় পাবেন ফুটবলাররা (Indian Football Squad)। ব্রাজিল বা উরুগুয়ের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ ভারতীয় ফুটবলে বিরল। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) কর্তাদের মতে, এই তিন ম্যাচ ভারতীয় দলের জন্য বিশাল এক্সপোজার। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগে প্রথম পঞ্চাশে থাকা পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিড টেস্ট। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্লু-টাইগার্সদের আসল দৌড় কতটা, তা মেপে নেওয়ার এটাই সেরা মঞ্চ জামিলের কাছে।

    কবে কোন প্রতিপক্ষ

    প্রথম ম্যাচ ২৬ সেপ্টেম্বর, বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে। ভারতের প্রতিপক্ষ পানামা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৪ নম্বরে থাকা এই শক্তিশালী মধ্য আমেরিকান দেশটির বিরুদ্ধে এর আগে কখনও খেলেনি ভারত (India vs Panama)। ফলে প্রথম ম্যাচেই কড়া চ্যালেঞ্জ। পানামা পর্ব মিটিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় উড়ে আসবে দল। আসল আকর্ষণ অপেক্ষা করছে ফুটবলের মক্কায়। ৩ অক্টোবর বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। ৬ অক্টোবর, একই মাঠে প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে (India vs Uruguay)।

    ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট কীভাবে পাবেন, কত দাম

    ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল খেলবে কলকাতায়। ভারত-ব্রাজিল ম‍্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে ডিস্ট্রিক্ট অ‍্যাপে। ২৫ কোটি টাকার চুক্তি ফেডারেশনের সঙ্গে সংস্থার। ব্রাজিল ম্যাচে টিকিটের দাম কত হতে পারে-প্রাথমিকভাবে যা আলোচনা হয়েছে সব থেকে কম টিকিটের দাম আড়াই হাজার থেকে তিন হাজারের মধ্যে রাখা হবে। একটি সূত্রের খবর ১০০০ টাকা দামেরও কিছু টিকিট রাখার একটা ভাবনাচিন্তা চলছে৷ সর্বোচ্চ টিকিটের দাম যেখানে ভিভিআইপি ২২ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে থাকতে পারে। এআইএফ এর টিকিটের দাম নির্ধারণ করবে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসেছিল৷ ব্রাজিলের ৯৬ জন সদস্য অস্ট্রেলিয়া প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার পর ৩০ তারিখ কলকাতায় আসার কথা৷

    খালিদের দলে অভিজ্ঞতার জোর

    ঘোষিত ২৬ জনের স্কোয়াডে রয়েছেন চার গোলরক্ষক, আট ডিফেন্ডার, আট মিডফিল্ডার এবং ছয় ফরোয়ার্ড। দলে অভিজ্ঞতার উপরই জোর (FIFA Friendlies) দেওয়া হয়েছে। গুরপ্রীত সিং সান্ধু, অনিরুদ্ধ থাপা, আনোয়ার আলি, মনবীর সিংয়ের মতো চেনা মুখেরা ডাক পেয়েছেন। আক্রমণে বড় মুখ রায়ান উইলিয়ামস।

    ইস্টবেঙ্গলের চার ফুটবলার

    এই ২৬ জনের মূল স্কোয়াডে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) থেকে রয়েছেন মোট চারজন। তাঁরা হলেন গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল, ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি ও জয় গুপ্ত এবং ফরোয়ার্ড এডমুন্ড লালরিনডিকা। ২০২৬-এর ডুরান্ড কাপে এই চার ফুটবলারই লাল-হলুদ জার্সিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বিশেষ করে এডমুন্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে।

    মোহনবাগানের পাঁচ প্রতিনিধি

    মোহনবাগানের (Mohun Bagan Super Giant) দিক থেকেও রয়েছে শক্তিশালী উপস্থিতি। বর্তমান ক্লাব স্কোয়াডের সঙ্গে মিলিয়ে ভারতের ২৬ জনের দলে রয়েছেন পাঁচজন—অভিষেক সিং টেকচাম, অনিরুদ্ধ থাপা, লালেংমাওইয়া রালতে (আপুইয়া), সাহাল আবদুল সামাদ এবং মনবীর সিং। ফলে কলকাতার দুই প্রধান ক্লাব মিলিয়ে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে মোট ৯ জন ফুটবলার রয়েছেন।

    রিজার্ভেও চার ফুটবলার

    মূল ২৬ জনের বাইরে চারজনকে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন গোলরক্ষক হৃতিক তিওয়ারি, ডিফেন্ডার চিংলেনসানা সিং কোনশাম ও রোশন সিং নাওরেম এবং মিডফিল্ডার সুরেশ সিং ওয়াংজাম। প্রয়োজন হলে এই চার ফুটবলারকে মূল দলে ডাকা যেতে পারে।

    ভারতের ২৬ জনের স্কোয়াড

    গোলরক্ষক: গুরপ্রীত সিং সান্ধু, আলবিনো গোমস, সোম কুমার, প্রভসুখন সিং গিল।

    ডিফেন্ডার: আকাশ মিশ্র, অভিষেক সিং টেকচাম, বিজয় ভার্গিস, আনোয়ার আলি, জয় গুপ্ত, হমিংথানমাউইয়া রালতে, প্রমবীর, রিকি মিতেই হাওবাম।

    মিডফিল্ডার: ম্যাকার্টন নিকসন, আশিক কুরুনিয়ান, ফারুক চৌধরি, অনিরুদ্ধ থাপা, লাললেংমাউইয়া রালতে, সাহাল আবদুল সামাদ, মহম্মদ সানান, রিকি শাবং।

    ফরোয়ার্ড: ইরফান ইয়াদওয়াদ, এডমন্ড লালরিনডিকা, রহিম আলি, মনবীর সিং, রায়ান উইলিয়ামস, বিক্রমপ্রতাপ সিং।

  • Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছনোই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের শেষ কথা নয়। একদিন চাঁদ, মঙ্গল বা অন্য কোনও মহাজাগতিক গন্তব্যে মানুষকে দীর্ঘ সময় বসবাস করতে হলে প্রয়োজন হবে এমন এক আবাসস্থলের, যা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মানুষকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। সেই ভবিষ্যতের ‘মহাকাশের বাড়ি’-র (Space Habitat BHEEM) একটি ধারণা সামনে আনলেন ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। ভিনগ্রহে মানুষের বাসযোগ্য ঠিকানার একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন তিনি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভীম’ বা ‘ভারতীয় হ্যাবিটেবল এক্সপ্যান্ডেবল এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল হ্যাবিটেট’ (BHEEM)।

    ‘ভীম’-এর জন্মবৃত্তান্ত

    রাশিয়া থেকে ফিরে ভারতে মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন শুভাংশু। তখনই এই গবেষণার সূত্রপাত। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc) অলোক ল্যাবে তৈরি হয়েছে এই ‘ভীম’ কনসেপ্ট। ভারতের রকেট সিস্টেম ও অরবিটাল মডিউলের খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি শারীরিক কসরতও চলছিল। এর মাঝেই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান নিয়ে অ্যাকাডেমিক গবেষণায় উৎসাহিত করা হয় তাঁদের। শুভাংশুর কথায়, ‘যে মহাকাশযানে ওড়ার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম, আমি তার বাইরে গিয়ে ভাবতে চেয়েছিলাম। গন্তব্যে নামার পর মানুষ কোথায় থাকবে, সেটা নিয়েই কাজ শুরু করি।’ পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, বিশেষ করে চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি আবাসস্থল তৈরির সম্ভাবনাই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। এই গবেষণার ফলেই তৈরি হয় ভীম-এর ধারণা। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর অলোক ল্যাব-এ এই প্রকল্পের গবেষণা হয়েছে।

    মহাকাশে থাকার চ্যালেঞ্জ

    ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল পৃথিবীর বাইরে মানুষকে দীর্ঘ সময় নিরাপদে রাখা। রকেটে চেপে ভিনগ্রহে পৌঁছনো এক জিনিস। কিন্তু সেখানে গিয়ে মানুষের বেঁচে থাকা ও কাজ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিগত লড়াই (Gaganyaan Mission)। শুধু পৌঁছলেই তো হল না! ভবিষ্যতের সেই বাসস্থানে মহাকাশচারীদের চরম মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করার বন্দোবস্ত থাকতে হবে। থাকবে তাপমাত্রার বিপুল হেরফের। রুক্ষ ও বিপজ্জনক পরিবেশ। এই সব কিছু সামলে নিরবচ্ছিন্ন জীবনদায়ী ব্যবস্থা বা লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা ভীষণ জরুরি। এই আশ্রয়স্থলে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, যেমন—শক্তি উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং অক্সিজেনের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। প্রয়োজন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চয়ের নিখুঁত পরিকাঠামো। একইসঙ্গে সেই বাসস্থান নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ব্যবহারিক পদ্ধতিও তৈরি রাখতে হবে। শুভাংশুর সোজা কথা, ‘আমরা কোথায় থাকব? এই সহজ প্রশ্নটাই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।’

    এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে

    শুক্লা বলেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষকে বসবাস করাতে চাইলে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০ বছর পরে মানুষকে পৃথিবীর বাইরে বসবাস করাতে হলে সেই কাজ ২০ বছর পরে শুরু করলে চলবে না—শুরু করতে হবে এখন থেকেই। ভারতের মানব মহাকাশযাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ক্রমশ বাড়ছে। গগনযান কর্মসূচি ভারতীয় মহাকাশচারীদের নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে পাঠানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের আরও দূরবর্তী মানব মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের ‘গগনযান’ প্রকল্পের পথ ধরে এই দূরদর্শী গবেষণা দেশের মহাকাশ গবেষণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘ভীম’-এর মূল লক্ষ্য হল, পৃথিবী থেকে ভাঁজ বা কমপ্যাক্ট অবস্থায় বাসস্থানের উপকরণ চাঁদ কিংবা মঙ্গলে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করা। ফলে সীমিত পে-লোড-এর মধ্যেই তুলনামূলক বড় থাকার জায়গা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

    সাহস দেখাতে হবে, ভাবতে হবে

    ভিনগ্রহে মানুষের বসতি গড়ার দৌড়ে ভারতের গবেষণাগারগুলোও যে আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। শুভাংশু শুক্লার মতে, ‘ভিন্ন বিশ্বে বাসস্থান তৈরির প্রথম ধাপটা হয়তো প্রথম ইট গাঁথা নয়। প্রথম ধাপটা হল, সেই বাসস্থান কেমন হতে পারে, তা কল্পনা করার সাহস দেখানো।’ শুক্লার ভীম প্রকল্প তাই শুধু একটি মহাকাশ-আবাসনের নকশা নয়; এটি পৃথিবীর বাইরে মানুষের ভবিষ্যৎ বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। শুক্লার ভাষায়, অন্য কোনও গ্রহে বা মহাজাগতিক জগতে মানুষের আবাসস্থল তৈরির প্রথম ধাপ হয়তো তার প্রথম ইটটি বসানো নয়—প্রথম ধাপ হতে পারে সেই বাড়িটিকে কল্পনা করার সাহস দেখানো। চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি তৈরির স্বপ্ন যখন ক্রমশ বাস্তব গবেষণার দিকে এগোচ্ছে, তখন সেই ‘মহাকাশের বাড়ি’-র ভাবনাও যে ভারতের গবেষণাগার থেকেই উঠে আসছে, ভীম তারই ইঙ্গিত।

LinkedIn
Share