Tag: news in bengali

news in bengali

  • Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রীর সভা সফল হয়েছে দেখে চিন্তিত হয়ে তড়িঘড়ি সভা করতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে টাটাকে তাড়ানো হয়েছিল এই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে। ব্যাড এম বলেছিলেন রতন টাটা, সেটা এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গুড এম বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদিকে। সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে। কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি এই বাংলায়।” এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরে বলেন, “আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটি থেকে বলেছেন আইন শৃঙ্খলা ঠিক করলে শিল্প আসবে।”

    ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ! (Suvendu Adhikari)

    দিন দুয়েক আগেই সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই সভায় ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের। তার পরেই সাত তাড়াতাড়ি করে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে সভা করানো হয় সেই তাপসী মালিকের সিঙ্গুরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওখানে গিয়েছেন বাংলার বাড়ি দেবেন বলে। প্রধানমন্ত্রী এর আগেই আবাস যোজনা চালু করেন। ৪০ লাখ ইউনিট আবাস যোজনার বাড়ি দিয়েছে। যেটা সাধারণ মানুষ পায়নি, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা সেই টাকা তুলে নিয়ে খেয়ে নিয়েছে, নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    এদিন শুভেন্দু প্রথম থেকেই চাঁদমারি করেন তৃণমূলকে। তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে বাংলার বালি চুরি হচ্ছে সেখানে এই টাকায় কোনও বাড়ি তৈরি হয় না। বিজেপিকে আনুন, বাড়ি করে দেবে বিজেপি। সোলার প্যানেল, জল, শৌচালয় দেবে বিজেপি। ২০০০ টাকার বালি হয়েছে ১৫,০০০ টাকা। অবৈধ বালি তোলা আর তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা তোলার কারণে দাম বেড়েছে সব জিনিসের। মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস করা দরকার, ৪০ লাখ বাড়ি লুঠ করেছে।” তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন, এখন সিঙ্গুরের মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।” শুভেন্দু বলেন, “এ রাজ্যে কোনও শিল্প হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গত ১৫ বছরে রাজ্য থেকে ৬ হাজার ৪৮৮টি শিল্প চলে গিয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের আসল ছবি (Suvendu Adhikari)।”

    এদিন সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেন মমতা। বলেন, “বারবার ডিভিসির জলে ভাসে ঘাটাল। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি। তার বদলে পেয়েছি শুধুই ধোঁকা।” তিনি বলেন, “অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু কথা রাখেন না। কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ কথা রাখার চেষ্টা করি, জুমলা করি না।” এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “ভোটের জন্যই তড়িঘড়ি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। পুরোটাই মিথ্যাচার। ঘাটালবাসী পরপর ভোট দিয়ে গিয়েছেন, অথচ মাস্টার প্ল্যান আজও হয়নি (Suvendu Adhikari)।”

     

  • T20 World Cup 2026: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পিসিবি প্রধানের অবস্থানে বিতর্ক! কড়া সমালোচনায় ইনজামাম, হাফিজ

    T20 World Cup 2026: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পিসিবি প্রধানের অবস্থানে বিতর্ক! কড়া সমালোচনায় ইনজামাম, হাফিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি-র সঙ্গে পাকিস্তানের কোনওমতেই সম্পর্ক খারাপ করা উচিত নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক মহম্মদ হাফিজ ও বোর্ড কর্তাদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তানের দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু সেজন্য কখনও নিজের দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। এ নিয়ে প্রকাশ্যে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি-র অবস্থানের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম উল হক-ও।

    পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য “অপূরণীয় ক্ষতি”

    সালমান আঘারা আদৌ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন কি না সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তাঁরা দল পাঠাবেন কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে শুক্র বা সোমবার। এই রকম টানাপোড়েনের মধ্যে মুখ খুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন তারকারা। তাঁদের পাশাপাশি পিসিবির প্রাক্তন চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ এবং সচিব আরিফ আলি আব্বাসি বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। আব্বাসির মতে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ না খেলে তাহলে পিসিবি-র সঙ্গে আইসিসি ও অন্য ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে। তার পরিণাম ভালো হবে না। তিনি বলেন,“পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাহলে কি তাদের কোনও লাভ হবে? শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। যদি আমরা না যাই তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে। এতে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটেরও ক্ষতি হবে।” আর এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য “অপূরণীয় ক্ষতি” ডেকে আনতে পারে।

    ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে

    খালিদ মাহমুদের দাবি, “মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের অবস্থানকে পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন করেনি। আমি বাংলাদেশ বোর্ডের দাবি জানি। তবে তাদের অন্য কেউ সমর্থন করছে না, সেটাও মেনে নিতে হবে।” ইনজামাম উল হক আবার ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা যেন এত বড় ইভেন্টে ভালো করতে পারে, সেটা দেখা প্রয়োজন।” একই কথা শোনা গিয়েছে মহম্মদ হাফিজের মুখেও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা উচিত। বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া। ইনজামাম বলেন, “বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সই আমাদের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া।” এছাড়া আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে পিসিবি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে—পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত এবং আইসিসি রাজস্ব বণ্টনে বড় ধরনের কাটছাঁট, ভবিষ্যতের এশিয়া কাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা। এর ফল হবে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ভয়াবহ।

  • Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

    এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

    অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

    শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

    অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

    বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

  • President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বুধবার শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের সংসদের বাজেট অধিবেশন (Budget Session)। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এই অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগে সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “গত এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রাপথে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।”

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য (President Murmu)

    রাষ্ট্রপতি জানান, গত দশ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচ থেকে উঠে এসেছেন এবং দরিদ্রদের জন্য প্রায় চার কোটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ।” সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ কোটি নাগরিক রয়েছেন, যেখানে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ কোটি।” তিনি বিআর আম্বেদকরের আদর্শের কথা স্মরণ করে সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান। কর্মসংস্থানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত–গ্রাম আইন’ গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে (President Murmu)। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে প্রথম ব্যাচের মহিলা ক্যাডেটদের স্নাতক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।”

    মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বর্তমানে তা মাত্র আটটি জেলায় সীমাবদ্ধ। আগে যেসব অঞ্চল মাওবাদী সমস্যায় দীর্ণ ছিল, সেখানে এখন শান্তি ফিরছে। গত এক বছরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছেন (President Murmu)।” জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ‘অপারেশন সিঁদুরে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি দৃঢ় ও আপসহীন। প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতে সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্রে’র ওপর কাজ করছে।” রেল উন্নয়নের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারতীয় রেল শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পৌঁছতে চলেছে।” তিনি দিল্লি–আইজল রাজধানী এক্সপ্রেস এবং কামাখ্যা–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন-সহ নতুন রেল পরিষেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে (Budget Session)।”

    রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। ২৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করা হবে এবং ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (President Murmu)।

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • Sonmarg Avalanche: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর! সোনমার্গে ভয়াবহ তুষারধস, উপত্যকায় আটকে পর্যটকরা

    Sonmarg Avalanche: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর! সোনমার্গে ভয়াবহ তুষারধস, উপত্যকায় আটকে পর্যটকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর! জম্মু-কাশ্মীরের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সোনমার্গে (Sonmarg Avalanche) একটি রিসর্টকে তছনছ করে দিল এক ভয়াবহ তুষারধস। যেন বরফের সমুদ্র। রিসর্টের উপরে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ল তার ঢেউ। চারদিক মুহূর্তে সাদা। মঙ্গলবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের সোনমার্গে তুষারধসের এই ভিডিও ভাইরাল রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গায়ে কাঁটা দেওয়া এই ভিডিও দেখে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মেলেনি হতাহতের খবরও। তুষারধসের পরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

    ভারী তুষারপাত চলছেই

    কাশ্মীর উপত্যকায় লাগাতার কয়েকদিন ধরে ভারী তুষারপাত চলছেই। জনজীবন আগে থেকেই বিপর্যস্ত। মধ্য কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় রাত প্রায় ১০টা ১২ মিনিটে আসে এই তুষারধস । এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ভয়ানক ছবি। মনে হচ্ছে, পাহাড় থেকে ভেঙে নেমে আসা বরফের বিরাট দেওয়াল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা অনেকগুলো বাড়িঘর তছনছ করে দিচ্ছে। ভিডিও সামনে আসার পর স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তুষার ধস আছড়ে পড়ল রিসর্টের উপরে। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ঢেকে গেল সাদা বরফে। আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি, গাড়ি, গাছের মাথা – সর্বত্র শুধু বরফ আর বরফ।

    কেন ভয়াবহ তুষারপাত

    আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলে সাধারণত এমন তুষারধস নামে না। এটা দূরের কোনও পাহাড় থেকে এই এলাকায় নেমে এসেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে সোমবারই গান্ডেরবালে ‘হাই ডেঞ্জার’ তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দফতর। তাই ওই অঞ্চলে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছিল। খালি করে দেওয়া হয়েছিল বাড়িঘরও। যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, লাগাতার ভারী তুষারপাতের কারণে পাহাড়ের উপর জমে থাকা বরফের বিরাট চাঁই ভেঙে হঠাৎ করে নিচে নেমে আসে। সোনমার্গ প্রায় ২,৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

    তুষারপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন

    সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী তুষারপাতের কারণে কাশ্মীরে রাস্তাঘাট অধিকাংশই বন্ধ। বিদ্যুৎ সরবরাহও অনেকাংশে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জম্মু-শ্রীনগর ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বরফ জমার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজিগুন্ডের কাছে নবযুগ টানেল এবং বানিহাল সেক্টরে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলেই সূত্রের খবর। এর জেরে শয়ে শয়ে যানবাহন আটকে পড়েছে, যার মধ্যে জরুরি পণ্য বোঝাই ট্রাকও রয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বিমান চলাচলও বিপর্যস্ত। শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫৮টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। রানওয়েতে ঢাকা পুরু বরফে। শত শত পর্যটক বিমানবন্দর এবং হোটেলগুলোতে আটকে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং হোটেল সংস্থা পর্যটকদের সহায়তা করতে লেগেছে। ১১টি জেলায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গান্দেরবাল জেলায় ২,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকাগুলিতে ‘হাই ডেঞ্জার’ তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম, কুপওয়ারা, ডোডা, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি এবং রামবান জেলাগুলিতে ‘মিডিয়াম ডেঞ্জার’ তুষারধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

  • ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) (ECI) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনজন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের (IAS Officers) বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে জানান, ওই বদলির নির্দেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।

    বদলির নির্দেশ বাতিল করতে হবে (ECI)

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, অশ্বিনী কুমার যাদব এবং রণধীর কুমারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, “বদলির নির্দেশগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।” এছাড়াও চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসআইআর চলাকালীন মুখ্যসচিবকে নিশ্চিত করতে হবে যে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়, “কমিশন ২৭.১০.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষনা করেছে। ওই চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এসআইআর চলাকালীন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না।”

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

    নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, “২৮.১১.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে কমিশন ডিভিশনাল কমিশনারদের সঙ্গে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এসআইআর (IAS Officers) পরিচালনার জন্য এই আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনে ডিমড ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশনের নজরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ০১.১২.২০২৫, ২০.০১.২০২৬ এবং ২১.০১.২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাক্রমে অশ্বিনী কুমার যাদব, আইএএস উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, রণধীর কুমার, আইএএস উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, এবং স্মিতা পাণ্ডে, আইএএস পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক – এই তিন আধিকারিকের দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছে (ECI)।

    কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বদলি!

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “এই বদলিগুলি নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে, যা ২৭.১০.২০২৫ তারিখের কমিশনের নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন। উপরোক্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এই বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট ২৮.০১.২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টার মধ্যে কমিশনে পাঠাতে হবে।” এর আগেও নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ফারাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এফআইআর দায়ের করেনি (IAS Officers)।

    উল্লেখ্য, গত বছর অগাস্ট মাসে নির্বাচন কমিশন বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ১২৭ জন ভুয়ো ভোটার নথিভুক্তির অভিযোগে চার সরকারি আধিকারিক এবং এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই চার আধিকারিকের মধ্যে ছিলেন বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, বারুইপুরের সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তথাগত মণ্ডল, ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাস (ECI)। চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যদিও রাজ্য সরকার সুরজিৎকে আগেই সাসপেন্ড করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

  • Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারের, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash)। মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে থাকা আরও পাঁচ যাত্রীর। বুধবার সাতসকালে এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই বিমানেই ছিলেন শরদ পাওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত। এই দুর্ঘটনার পর যে সমস্ত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে দমকল। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশও। বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    এনসিপি সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের ‘মহাজুটি’ সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। এদিন বারামতিতে তিনটি জনসভা ছিল ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ারের। একটি ব্যক্তিগত বিমানে সফর করছিলেন তিনি। বারামতী বিমানবন্দরের (Baramati Airport) ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একদম ধারে চলে যায়। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। টুকরো টুকরো হওয়ার পরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিজিসিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি পাহাড় এবং জঙ্গলে ঘেরা। প্রাকৃতিক, যান্ত্রিক না অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পাইলট ‘মে ডে’ ঘোষণা করেছিলেন। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাক বক্সের খোঁজে চলছে তল্লাশি। ফ্লাইট রেডারের তথ্য বলছে, ভেঙে পড়ার আগে ২৬০০ ফুট উঁচুতে ছিল বিমানটি। হঠাৎই উচ্চতা কমে আসে বিমানের। সে সময়ে বিমানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫৩ কিমি।

    বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন

    রাজনৈতিক জীবনেও অজিত পাওয়ারের উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শরদ পওয়ারের দাদা অনন্তরাও পাওয়ারের ছেলে। নিজের কাকার পথ অনুসরণ করেই তিনি রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। মহারাষ্ট্রের সমবায় ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলে ধীরে ধীরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন অজিত পওয়ার। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন অজিত পাওয়ার। ১৯৯১ সালে তিনি বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, পরে সেই আসনটি তাঁর কাকা ও এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের জন্য ছেড়ে দেন। তিনি মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা উপ-মুখ্যমন্ত্রী—মোট ছয়বার, যদিও তা ছিল অসতত। পৃথ্বীরাজ চহ্বন, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি এই পদে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ জুলাই অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় আসে। তিনি শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি থেকে পৃথক হয়ে বিজেপি–শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) জোটে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই ‘আসল’ এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলীয় নাম ও ‘ঘড়ি’ প্রতীক বরাদ্দ করে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কৃষি, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

  • Arijit Singh: একই ধাঁচের গানে ক্লান্ত! আর প্লে-ব্যাক নয়, গানের ভেলা এবার মনের স্রোতে ভাসাতে চান অরিজিৎ

    Arijit Singh: একই ধাঁচের গানে ক্লান্ত! আর প্লে-ব্যাক নয়, গানের ভেলা এবার মনের স্রোতে ভাসাতে চান অরিজিৎ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা’ থেকে ‘গেহরা হুয়া’! কখনও ‘বোঝে না সে বোঝে না’ আবার কখনও ‘কেশারিয়া’-বলিউড থেকে টলিউড! হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু সাম্প্রতিক বহু ছবির গানেই তিনি রয়েছেন। বয়স মাত্র ৩৮, এখনও ৪০ পেরোয়নি! সামনে বিস্তীর্ণ সোনালি অধ্যায়! এ হেন সময়ে হঠাতই ঘোষণা প্লেব্যাক করবেন না অরিজিৎ (Arijit Singh)। মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যমে নিজেই এই ঘোষণা করে দিলেন অরিজিৎ সিং। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সঙ্গীতমহল যেমন স্বাগত জানিয়েছে, তেমনই হতবাক তাঁর অগণিত ভক্তরা। নিজের বার্তায় অরিজিৎ লেখেন, “নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকলকে। শ্রোতা হিসেবে এত বছর ধরে আমায় যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, এ বার থেকে আমি আর প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে কোনও কাজ করব না।” এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

    কেন এই অবসর?

    অনুরাগীদের এই একটাই প্রশ্ন, কেন গায়ক হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তারই উত্তরে কমেন্টে অরিজিৎ লেখেন, “এর একটা কারণ আছে। নতুন কোনও গায়ক উঠে এসে আমাকে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা দেবে, এই অপেক্ষায় আমি রইলাম।” অরিজিতের (Arijit Singh) গান ভালবাসেন না, এমন শ্রোতা খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। তাঁর কণ্ঠের আবেশ মুহূর্তের মধ্যেই শ্রোতাকে টেনে নিয়ে যায় এক অন্য অনুভবের জগতে। ঠিক সেই গায়কই মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, তিনি আর প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে কাজ করবেন না। ‘মার্ডার ২’ ছবিতে গাওয়া তাঁর ‘ফির মহব্বত’ গানটিই ছিল বলিউডে প্রথম গান। ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি অরিজিৎ সিংয়ের জীবনের মোড় বদলে দিয়েছিল। তারপর থেকে গায়ককে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং কন্নড় ভাষায় গান গেয়েছেন। ৩০০ টিরও বেশি ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার সহ অসংখ্য সম্মান। স্পটিফাই, ইউটিউব এবং অন্যান্য সঙ্গীত প্ল্যাটফর্মে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক শ্রোতা ভারতীয় শিল্পীদের মধ্যে একজন তিনি।

    কাজ করবেন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জন্য

    ১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ২০০৫ সালে, তিনি অংশ নেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এ। গুরু রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির অনুপ্রেরণায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী না হলেও, এই মঞ্চই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এখান থেকেই সংগীতজগতের দরজা ধীরে ধীরে খুলে যেতে শুরু করে। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যান যে প্রায় সব সিনেমার গানে তাঁর কণ্ঠ শোনা যেত। কিন্তু আর না, এবার থেকে প্লে-ব্যাক নয়। তবে গান চালিয়ে যাবেন। কাজ করবেন। ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জন্য। অরিজিৎ বলেন,“ঈশ্বর আমার প্রতি সত্যিই সদয়। আমি সঙ্গীতের একজন ভক্ত। ভবিষ্যতে আরও শিখব এবং একজন ছোট শিল্পী হিসেবে নিজে আরও কাজ করব। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে সেগুলো শেষ করতে হবে। সেগুলি শেষ করব। স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে আমি সঙ্গীত তৈরি করা বন্ধ করব না।”

    একই ধাঁচের কাজ করতে করতে তিনি ক্লান্ত

    ‘তুম হি হো… বস তুম হি হো…’, এই গান শুনে থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। কত প্রেমিকের রাত জাগার ওষুধ এই গান। কত অপূর্ণ প্রেম মানে খুঁজে পেয়েছে তাঁর গানে। কিন্তু সবকিছুতে তিনি দাঁড়ি টানলেন। স্বেচ্ছায় প্লে-ব্যাক সঙ্গীতের দুনিয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন। যা করতে সাহস লাগে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অকপট স্বীকারোক্তি দিলেন গায়ক। তাঁর প্লে-ব্যাক ছাড়ার কারণ কোনো বিতর্ক নয়, বরং তাঁর নিজের ‘একঘেয়েমি’। অরিজিৎ নিজের ব্যক্তিগত এক্স হ্য়ান্ডেল-এ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তিনি হুট করে নেননি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্লে-ব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা প্রধান কারণ তিনি হাঁফিয়ে উঠেছেন। অরিজিৎ বলেন, তিনি খুব দ্রুত একঘেয়েমিতে ভোগেন। একই ধরনের গান বা একই ধাঁচের কাজ করতে করতে তিনি ক্লান্ত। তিনি জানিয়েছেন, একঘেয়েমি কাটানোর জন্যই তিনি মঞ্চে পারফর্ম করার সময় নিজের পুরোনো গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট বা সুর বদলে দেন। তাঁর কথায়, ‘আমি বোর হয়ে গিয়েছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাকে অন্য ধরনের সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে হবে’।

    মুর্শিদাবাদ থেকে মুম্বই কঠিন যাত্রা

    জিয়াগঞ্জের সেই সাধারণ ছেলেটি যেমন করে নিজের স্বপ্ন ছুতে পেরেছে। তেমন করেই আজও তিনি শিখতে চান, নিজের মতো করে আরও কিছু করতে চান। সংগীতকে নিজের মতো করে ভালবাসতে চান। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে আজও অরিজিৎ সিংকে (Arijit Singh) দেখা যায় স্কুটি চেপে সাধারণ মানুষের মতোই ঘুরে বেড়াতে। তারকা খ্যাতি, বিশ্বমঞ্চের সাফল্য কিছুই তাঁকে শিকড় থেকে আলাদা করতে পারেনি। তবে এই জিয়াগঞ্জ থেকে মুম্বই পর্যন্ত যাত্রাটা তাঁর মোটেই সহজ ছিল না। ছিল কঠোর পরিশ্রম আর নিরন্তর সংগ্রাম। মুম্বইয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়িতে থেকে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন অরিজিৎ। গায়ক হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই তিনি কাজ করতেন মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে। দিনের পর দিন স্টুডিওতে কাটিয়েছেন, গান বানানোর খুঁটিনাটি শিখেছেন, তৈরি করেছেন নিজের স্টুডিও। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শিখতে থেকেছেন সংগীতের নানা দিক। শঙ্কর-এহসান-লয়, মিঠুন, প্রীতম, বিশাল-শেখরের মতো তাবড় সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করেছেন। ছুঁয়েছেন সাফল্যের শিখর।

    সাহসী ঘোষণা খুব কম শিল্পীই পারেন

    কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকে এমন সাহসী ঘোষণা খুব কম শিল্পীই করতে পারেন। অরিজিৎ জানিয়েছেন, অবশেষে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করেছেন। বাণিজ্যিক গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন স্বতন্ত্র মিউজিক (Independent Music) এবং নতুন সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করতে চান। অরিজিতের এই স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল, তিনি কেবল একজন গায়ক নন, তিনি একজন খাঁটি শিল্পী। জনপ্রিয়তার মোহে অন্ধ না হয়ে তিনি বেছে নিলেন সঙ্গীতের সেই পথ, যা তাঁকে নতুন করে বাঁচার আনন্দ দেবে। গান বাঁচতে শেখায়, ভালবাসাতে শেখায়, জীবনের রসদ জোগায়। তাই হয়তো ‘গানের ভেলায় বেলা অবেলায় প্রাণের আশা’-ই মনের স্রোতে ভাসাতে চান অরিজিৎ।

  • Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গভীর সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) টেক্সটাইল শিল্প। শুল্কমুক্ত সুতো আমদানির প্রতিবাদে দেশটির স্পিনিং মিল মালিকরা দেশব্যাপী (Textile Industry) উৎপাদন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের টেক্সটাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে, বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন ও ভারতীয় সুতো সরবরাহকারীদের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার সুযোগ কি ভারতীয় টেক্সটাইল প্রস্তুতকারীরা নিতে পারবেন?

    স্পিনিং শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে (Bangladesh)

    বাংলাদেশের স্পিনিং শিল্প ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে, কারণ সরকার যদি সুতো আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার না করে, সে ক্ষেত্রে মিল মালিকরা তাঁদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই সঙ্কটের সূত্রপাত বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের সুতো আমদানি থেকে, যার বড় অংশই ভারত থেকে আসে। এর ফলে দেশের স্পিনিং শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করায় স্পিনিং মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে (Bangladesh)। একই সঙ্গে জ্বালানি সঙ্কটও এই শিল্পকে চাপে ফেলেছে। গত তিন থেকে চার মাস ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে সরব হয়েছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা (Textile Industry)।

    ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ

    এই সঙ্কটের ফলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং স্পিনিং মিলগুলির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সস্তা ভারতীয় সুতোর জোগান বেড়ে যাওয়ায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সুতো অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মিল মালিকদের দাবি, জ্বালানি, ঋণের সুদ এবং ভ্যাট অব্যাহতির অভাবের কারণে তাঁরা আমদানি করা সুতোর সঙ্গে দামে এঁটে উঠতে পারছেন না। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শুল্কমুক্ত সুতো আমদানি বন্ধ করা, ভর্তুকিমূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা, সুদের হার কমানো এবং ট্যাক্স হলিডে দেওয়া।

    রফতানিকারীদের বক্তব্য

    এদিকে, পোশাক রফতানিকারীরা শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধের যে কোনও উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশীয় সুতো, বিশেষ করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলোর সুতো দামে অনেক বেশি এবং অনেক সময় মানের দিক থেকেও নিম্ন। রফতানিকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলির কাছে ভারতীয় সুতো বেশি নির্ভরযোগ্য (Bangladesh)। সতর্ক করে দিয়ে তাঁরা বলেন, “যদি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশের রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রতিযোগিতার (Textile Industry) ক্ষমতা কমে যাবে।

    ভারতীয় সুতোর ওপর টিকে বাংলাদেশের বস্ত্র-শিল্প

    ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি কেজি সুতো আমদানি করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ভারতীয় সুতোর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যদি শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধ করে দেয় বা স্পিনিং মিলগুলি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পোশাক শিল্পের জন্য সুতো আমদানির প্রয়োজন থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সুতো, বিশেষ করে তুলো ও ব্লেন্ডেড সুতোর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়তে পারে। স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় টেক্সটাইল সংস্থাগুলি লাভবান হতে পারে। তারা বেশি অর্ডার পেতে পারে এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পারে। ভারতের স্পিনিং মিল ও সমন্বিত টেক্সটাইল সংস্থাগুলির উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে এই বিষয়ের ওপর যে, বাংলাদেশ সরকার দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষায় আমদানি বন্ধ করে কি না (Textile Industry), নাকি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সস্তা সুতো আমদানি অব্যাহত রাখে (Bangladesh)।

LinkedIn
Share