Author: pranabjyoti

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি। যা পৌষ পার্বণ (Paush Parbon) নামেও বাংলায় বহুল প্রচলিত। বাংলার, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে এই দিন পিঠে-পুলির উৎসব (Pithe-Puli Utsav) হয়। অন্দরে অন্দরে দুধ, ক্ষির, গুড়, নারকেলের গন্ধে ম-ম করে। হাড় কাঁপানো শীতে লেপ-কম্বলের আরাম ছেড়ে জোরকদমে পিঠে-পুলি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ির মা-বউরা। পৌষ পার্বণ অথচ পিঠে হবে না তা আবার হয় নাকি? যুগ যুগ ধরে পৌষ সংক্রান্তির (Makar Sankranti) দিনে এই মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে ভোলেন না বাংলার মানুষ।

    কেন সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয় জানেন?

    মূলত নতুন ফসলের উৎসব (Makar Sankranti) বলেই এই দিনটিকে পৌষ-পার্বণ হিসেবে উদযাপন করেন বাঙালিরা। এই সময়ে ঘরে ঘরে নতুন ফসল থাকে। সেই নতুন ফসল দিয়েই তৈরি করা হয় এই বিশেষ মিষ্টান্ন। এই নতুন ফসলকে স্বাগত জানাতেই ঘরে ঘরে বানানো হয় এই অসাধারণ মিষ্টান্ন। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এ দিন চাল গুঁড়ো, নারকেল, গুড়, দুধ, ক্ষির দিয়ে তারি করা হয় রকমারি পিঠে। সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠে হল— ভাপা পিঠে। এ ছাড়াও রয়েছে চিতই পিঠে, দুধচিতই, ছিট পিঠে, দুধপুলি, ক্ষীরপুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠে, মালাই পিঠে, মোলপোয়া, পাকন পিঠে, ঝাল পিঠে ইত্যাদি। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘পৌষ পার্বণ’ নামের কবিতায় রয়েছে, ‘গড়িতেছে পিঠে পুলি অশেষ প্রকার, বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ কুটুম্বের মেলা, হায় হায় দেশাচার ধন্যি তোর খেলা।’ এই কবিতাতেই বাঙালির কাছে পিঠের আসল গুরুত্ব ধরা পড়ে।

    হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য!

    তবে, এখন শহুরে বাঙালিদের হেঁশেলে পিঠে-পুলি তৈরি করার রেওয়াজ ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। ফলে, রসিক বাঙালি পিঠে (Makar Sankranti) খেতে আস্তানা গেড়েছে মেলায় বা মিষ্টির দোকানে। তাই আজ আর আগের মতো হেঁশেলে ঢুকলেই হাঁড়ির ভেতরে যবুথবু হয়ে থাকে না ক্ষিরে ভরা পাটিসাপটা। আগে তাও যৌথ পরিবার থাকায় মা, দিদিমারা মিলে বা বাড়ির বড় কোনও সদস্যা পিঠে বানানোর উদ্যোগ নিতেন। কিন্তু, এখন কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে সেই মা, দিদিমারাও। পরিবার ভেঙেছে। যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত। তাই বাড়িতে বাড়িতে কমে এসেছে পিঠে বানানোর হিড়িকও। কর্মব্যস্ততার যুগে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য। ফলে, এখন পৌষ পার্বণে পিঠেপুলির স্বাদ নিতে হলে অগত্যা স্মরণ হতে হয় ময়রার দোকানে নতুবা মেলার প্রাঙ্গণে।

  • Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Drump)। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর এবং চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেছেন (Bilateral Trade)। আমেরিকার এই ঘোষণার ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুতর চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অভিজ্ঞমহলের। বিদ্রোহের জেরে কার্যত জ্বলছে ইরান। তার মধ্যেই শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    ভারতের ওপর প্রভাব (Donald Drump)

    প্রশ্ন হল, ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? ভারত ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। নয়া এই শুল্ক ভারতের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের আমদানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (Bilateral Trade)। ইরানে ভারতের প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে, বাসমতী চাল, চা, চিনি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। অন্যদিকে, ভারত মূলত আমদানি করে জৈব রাসায়নিক, শুকনো ফল ও বাদাম এবং খনিজজাত পণ্য (Donald Drump)।

    শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে

    বর্তমানে ভারতীয় রফতানিকারীরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ জরিমানাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সংক্রান্ত নয়া এই শুল্ক যুক্ত হলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বস্ত্র শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র রফতানিকারী খাত (Bilateral Trade)। ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্তে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্পও জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু নয়া শুল্ক নীতির ফলে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে (Donald Drump)।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির আওতায় চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও রয়েছে। এই দেশগুলির সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে (Bilateral Trade) নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে (Donald Drump)।

  • PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক ছেড়ে নয়া কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) ছিল এখানেই। সেখান থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে যাচ্ছে পিএমও। জানা গিয়েছে, ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি)-র পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দফতর, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট নিয়ে নতুন সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে কাজ শুরু করতে পারেন।

     সেবা তীর্থ (PM Modi)

    রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দারা শিকো রোডে (পূর্বতন ডালহৌসি রোড) কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ বা সেবা তীর্থ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে যাবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট। সবশেষে, মকর সংক্রান্তির পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নতুন দফতরে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।  সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে পিএমও, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং এনএসসিএস—তিনটি আলাদা ভবন রয়েছে। আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গন থেকে কাজ করত, আর এনএসসিএসের দফতর ছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সর্দার প্যাটেল ভবনে (PM Modi)।

    নতুন সরকারি বাসভবন

    এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-১-এর কাছেই নির্মাণ কাজ চলছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবনের, যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-২ নামে পরিচিত (PMO)। সূত্রের দাবি, নতুন পিএমও ভবনের অধিকাংশ অফিস আধুনিক ওয়ার্কস্পেসের আদলে তৈরি, ঠিক যেমন সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত কার্তব্য ভবনগুলিতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলি তুলনামূলকভাবে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো। কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দফতর জানিয়েছিল, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এই প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয় (PM Modi)। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,১৮৯ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনায় ১০.৪৪ শতাংশ কম। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২৪ মাস।

    সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর

    তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক কিংবা সিপিডব্লুডি আর বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে পাঠানো প্রশ্নের কোনও জবাবও মেলেনি (PMO)। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ১৯২০-৩০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নর্থ ও সাউথ ব্লক ছিল কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মূল ভবন। সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ রাইসিনা হিলের এই লাল বেলেপাথরের ভবনগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। ইতিমধ্যেই নর্থ ব্লকের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রক সরে যাওয়ার পর, সাউথ ব্লকের সংস্কারের জন্যও টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ভবন খালি হলেই কাজ শুরু হবে (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঘোষিত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নয়া সংসদ ভবন, উপরাষ্ট্রপতির এনক্লেভ এবং ১০টি নতুন কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ভবনের মধ্যে প্রথম তিনটি কর্তব্য ভবন নির্মিত হয়েছে (PMO)।

  • Germany: ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা চালু জার্মানির

    Germany: ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা চালু জার্মানির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যাত্রা আরও সহজ করতে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের (Indian Passport) জন্য বড় ঘোষণা করল জার্মানি (Germany)। জার্মান বিমানবন্দর দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার সময় এখন থেকে ভারতীয় যাত্রীদের আর আলাদা করে ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। এই ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের যাত্রা  আরও স্বচ্ছন্দ, দ্রুত এবং কম নথিপত্রনির্ভর করে তুলবে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    ভারত-জার্মানি যৌথ বিবৃতি (Germany)

    সোমবার প্রকাশিত ভারত-জার্মানি যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎসের দু’দিনের ভারত সফর শেষে এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, এটি ছিল মার্ৎসের প্রথম ভারত সফর এবং ফেডারেল চ্যান্সেলর হিসেবে এশিয়ায় তাঁর প্রথম সরকারি সফর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জার্মান বিমানবন্দর হয়ে যেসব ভারতীয় অন্য দেশে যাবেন, তাঁদের আর ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রা আরও সুগম হবে বলেই আশা। এই ঘোষণার জন্য জার্মান (Germany) চ্যান্সেলর মার্ৎসকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    ভারত-জার্মানির কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ “শুধু ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও আরও গভীর হবে।” উভয় নেতাই (Indian Passport) সহমত পোষণ করেন যে, মানুষে-মানুষে সম্পর্কই ভারত-জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশই ছাত্র, গবেষক, দক্ষ পেশাজীবী, শিল্পী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আদান-প্রদানকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে জার্মানির অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিক জীবনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা, গবেষণা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সংস্কৃতি এবং যুব বিনিময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন দুই দেশের নেতৃত্ব (Germany)। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন। নেতারা লক্ষ্য করেন, জার্মানিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যৌথ ও ডুয়াল ডিগ্রি কর্মসূচির পরিধি বাড়ছে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ভারতীয় ছাত্র ও স্নাতকদের জার্মানিতে চাকরির বাজারে সংযুক্ত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকেও স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি, আইআইটি ও জার্মান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সহমত প্রকাশ করা হয়।

    দুই দেশই রাজি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ভারত-জার্মানি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রী জার্মানির (Indian Passport) শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি (NEP)-র আওতায় ভারতে ক্যাম্পাস খোলার আমন্ত্রণও জানান (Germany)।

  • Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু খুনের ঘটনা। রবিবার রাতে এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। এ নিয়ে দেশে (Hindu Rickshaw Puller Killed) সাম্প্রতিক হিংসায় বলি হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। উল্লেখ্য, ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। জানা গিয়েছে, সমীর ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

    ফের হিন্দু খুন (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি উপজেলা হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি ডাকাতি ও খুনের। তদন্ত চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিন কয়েক আগেই নরসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানির দোকানে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার জেরে আরও দুই হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি বিষ খান। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, কিস্তি বাবদ ৫০০ টাকা না (Hindu Rickshaw Puller Killed) দেওয়ায় দোকানদার আমিরুল ইসলাম তাঁকে মারধর, অপমান ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন (Bangladesh)।

    আরও হিন্দু খুন

    এদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক হিন্দু যুবক একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এক হিন্দু স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু ডেপুটি কমিশনারকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভয় দেখানো হয়েছে (Bangladesh)। তবে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনার নিন্দা করলেও, বারবার দাবি করেছে যে এই ঘটনাগুলি সাম্প্রদায়িক নয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ব্যতিক্রমী মাত্র (Hindu Rickshaw Puller Killed)। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh)।

    ইউনূসের বাংলাদেশে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ

    • ১) ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২) ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩ ও ৪) ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ৫) ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ৬) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ৭) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ৮) ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৯) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ১০) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ১১) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
  • Nepal: “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হবে না নেপালে”, সাফ জানালেন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    Nepal: “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হবে না নেপালে”, সাফ জানালেন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের (Nepal) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি (Sushila Karki) সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার কোনওভাবেই দেশকে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার পথে যেতে দেবে না। যদিও এই মন্তব্যটি এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন সব রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

    সুশীলার বক্তব্য (Nepal)

    কাঠমান্ডুতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুশীলা কার্কি সরকারের পদত্যাগের দাবির কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের দাবি দেশের মধ্যে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে এবং সরকারের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশেষ করে জেন জেড (Gen Z) প্রজন্মের কিছু ছোট (Nepal) কিন্তু অত্যন্ত সক্রিয় গোষ্ঠী লাগাতার সরকারের পদত্যাগ দাবি করে চলেছে (Sushila Karki)। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের দাবির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং সরকারকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না কেন?

    উদ্বেগ প্রকাশ সুশীলার

    সুশীলা কার্কির দাবি, প্রশাসনের আধিকারিকরা ক্রমাগত জনগণের চাপ ও মৌখিক আক্রমণের মুখে পড়ছেন, যার ফলে সরকার স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারছে না (Nepal)। তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, তরুণ সমাজের একাংশের মধ্যে নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে। অনেকেই প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন, ভোট দেওয়ার আদৌ কোনও মূল্য আছে কি না! নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে সুশীলা বলেন, “নেপাল কোনওভাবেই বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি (Sushila Karki)। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য আমরা গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকার আবেদন জানাচ্ছি (Nepal)।”

  • Iran Protests: ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরান, এক ডলারের মূল্য ১৪ লাখ রিয়াল! কেন এই হাল?

    Iran Protests: ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরান, এক ডলারের মূল্য ১৪ লাখ রিয়াল! কেন এই হাল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইরান (Iran Protests)। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন পতনে এক মার্কিন ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি। লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধজনিত ধাক্কা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক (Rial vs Dollar) অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি গভীর মন্দার দিকে এগোচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

    মুদ্রা-পতন (Iran Protests)

    বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির জন্য এই মুদ্রা-পতন কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ধাক্কা সামাল দিলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে রিয়ালের এই পতন নজিরবিহীন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইরানের বাজারে এক ডলার রিয়ালের দর ১৪ লাখ ছুঁয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে রিয়াল তার প্রায় ৯০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টানছেন বিশ্লেষকেরা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় এক ডলারের দাম ছিল মাত্র ৭০ রিয়াল। চার দশকে ইরানের মুদ্রাটির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার গুণ। শুধু ২০২৫ সালেই রিয়ালের দর কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ, যার ফলে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ হুড়োহুড়ি করে সঞ্চয় ভেঙে ডলার, সোনা ও অন্যান্য নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে শুরু করে (Iran Protests)।

    অর্থনৈতিক বিপর্যয়

    ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ত্বরান্বিত করেছে একাধিক ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সঙ্কট। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষ, এরপর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং নতুন করে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা, সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় (Rial vs Dollar)। এর আগেই ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তেল রফতানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, যার জেরে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছে।এই সম্মিলিত চাপ সামলাতে না পেরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পদত্যাগ করেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর মহম্মদ রেজা ফারজিন। এটি সরকারের ব্যর্থতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সরকারি হিসাবে ইরানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪২.২ শতাংশ হলেও অর্থনীতিবিদদের মতে প্রকৃত হার আরও অনেক বেশি। অথচ বেতন ও মজুরি কার্যত স্থবির, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে ভয়াবহভাবে (Rial vs Dollar)।

    বিপদে মধ্যবিত্তরা

    খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সরকার যখন জরুরি পণ্যের জন্য থাকা বিশেষ বিনিময় হার বাতিল করে, তখন সঙ্কট আরও তীব্র হয়। রাতারাতি ভোজ্যতেল, গমজাত পণ্য ও মুরগির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে লাখো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যায় (Iran Protests)। এই মুদ্রা বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরানের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণি। শহুরে স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত মধ্যবিত্তরা দেখছে, দশকের পর দশক ধরে জমানো সঞ্চয় কয়েক মাসেই উবে গিয়েছে। ব্যাঙ্ক আমানত, পেনশন ও বাড়ির স্বপ্ন, সবই অনিশ্চিত। শ্রমজীবীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, যাতায়াত ও ভাড়া মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে নিচ্ছে, চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছে। দৈনিক মজুরিই হয়ে উঠছে বেঁচে থাকার কৌশল (Rial vs Dollar)।

    কালোবাজারে ডলার কেনা

    রিয়ালের ওপর আস্থা হারিয়ে বহু মানুষ কালোবাজারে ডলার কেনা, সোনা কেনাবেচা ও সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছে, যার জেরে ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে সে দেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশ হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘটে নামেন। জোমহুরি অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র, শ্রমিক ও নানান পেশাজীবীদের মধ্যে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশেই। অর্থনৈতিক দাবির গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরাসরি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে (Iran Protests)। ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ‘শাহের জয় হোক’—পাহলভি রাজতন্ত্র পুনর্বহালের স্লোগান শোনা যাচ্ছে মাশহাদ ও কুমের মতো ধর্মীয় শহরেও (Rial vs Dollar)। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রিয়ালের পতনের সঙ্গে সঙ্গে শাসনব্যবস্থার ভিত্তিও ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত।

    ইন্টারনেট বন্ধ

    বিদ্রোহীদের দমনে সরকার প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী টিয়ার গ্যাস এবং গুলিও ব্যবহার করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির হিসেব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বহু মানুষ নিহত ও হাজারো মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। তবুও আন্দোলন থামেনি। বিশ্বব্যাঙ্কের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালে ইরানের জিডিপি ১.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশি বিনিয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া রিয়ালের এই পতন অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরানের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের কাছে এখন প্রশ্ন আর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নয়, স্রেফ শুধু কীভাবে টিকে থাকা যায়। রিয়ালের (Rial vs Dollar) এই দরের পতন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শুধু আর্থিক নয়, বরং শাসনব্যবস্থা, বৈধতা ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সঙ্কট (Iran Protests)।

  • Pakistan: পাক সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ কবুল শীর্ষ লস্কর নেতার

    Pakistan: পাক সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ কবুল শীর্ষ লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রকাশ্যে পাক সেনা এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ (India)। এই আঁতাতের বেলুনটি ফাটিয়েছেন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা সইফুল্লাহ কাসুরি। হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ কাসুরি স্বীকার করেন, পাকিস্তান (Pakistan) সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে তাঁকে নিজেদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনাদের শেষকৃত্যে নমাজে জানাজা পড়ানোর দায়িত্বও দেয়। পাকিস্তানের একটি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এই স্বীকারোক্তি দেন কাসুরি। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি তারিখহীন ভিডিওতে এই বক্তব্য ধরা পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসারান উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী এই কাসুরিই। ওই হামলায় ২৬ জন নিরীহ হিন্দু নাগরিক নিহত হন।

    ভারতকে হুমকি কাসুরির (Pakistan)

    ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে কাসুরি প্রকাশ্যে ভারতকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, তাঁর উপস্থিতিতেই ভারত ভীত। ভারতবিরোধী বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আমার খ্যাতি আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, “ভারত আমার নাম শুনেই ভয় পায়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসুরির (Pakistan) এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সেই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বলে আসছে যে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে (India)। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া, বিশেষ করে নিহত সেনাদের ধর্মীয় আচার সম্পাদনের ক্ষেত্রে, স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে লস্কর-ই-তৈবার মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক মদত রয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকরা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ তুলে আসছেন (Pakistan)।”

    লস্কর-ই-তৈবার ছদ্ম সংগঠন

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছদ্ম সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টে’র সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের হামলায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছয়। এই হামলার পাল্টা জবাবে ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। মোট ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়, যেগুলি লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। চার দিন ধরে সীমান্তের দু’পাশে তীব্র সংঘর্ষের পর ২০২৫ সালের ১০ মে উভয় দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় (India)। উল্লেখ্য, যিনি সাজিদ সাইফুল্লাহ জাট বা খালিদ নামেও পরিচিত, এর আগেও একাধিকবার লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি কার্যকলাপের সাফাই গেয়েছেন। তিনি কবুল করেন, অপারেশন সিঁদুরে জঙ্গি ঘাঁটির বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, ভারত কেবল পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভুল করেছে এবং আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল না (Pakistan)।

    কাশ্মীর মিশন

    কাসুরি আবারও ‘কাশ্মীর মিশনে’র প্রতি লস্কর-ই-তৈবার অটল প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এই সংগঠন কখনও তাদের লক্ষ্য থেকে সরে আসবে না। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুন করে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে পাকিস্তানের দ্বিচারী অবস্থান, জঙ্গিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, কাসুরির প্রকাশ্য উপস্থিতি ও তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য প্রমাণ করে যে পাকিস্তানে ঘোষিত জঙ্গিরা কার্যত কোনও বাধা ছাড়াই কাজ করার স্বাধীনতা ভোগ করছে (Pakistan)। এদিকে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে স্বাগত জানিয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সংগঠনটির উপপ্রধান সইফুল্লাহ কাসুরি ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অভিনন্দন জানিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন (India)।

    মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক

    রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত জঙ্গি এবং পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার মূলচক্রী কাসুরি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়াকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য শুরু হওয়াকে প্রশংসনীয় এবং অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসুরির এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে (Pakistan)। সূত্রের খবর, কাসুরি পাকিস্তান–বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগকে ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পুনর্বিন্যাস’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এটি ভারতের বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তৈবার দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    কাসুরির বক্তব্যে ইঙ্গিত

    সূত্রের খবর, কাসুরির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি এই নতুন আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে তাদের জন্য সম্ভাব্য ‘অপারেশনাল সুযোগ’ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ায় জেহাদি প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মূল্যায়ন করা হচ্ছে (Pakistan)। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে লস্কর-ই-তৈবার বিস্তৃত লজিস্টিক, নিয়োগ এবং আদর্শগত নেটওয়ার্ক রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসে অর্থ জোগান ও যাতায়াতের তদন্তে বাংলাদেশের নাম উঠে আসায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে (India)। সূত্রের দাবি, লস্কর-ই-তৈবার এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে অ-রাষ্ট্রীয় জেহাদি সংগঠনগুলি আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কখনও কখনও তা নিয়ন্ত্রণ করার পর্যায়েও পৌঁছচ্ছে।

    সন্ত্রাস দমন সংস্থাগুলির মতে, কাসুরির এই বক্তব্য কাশ্মীরকেন্দ্রিক সন্ত্রাসের পরিসর বিস্তৃত করে একই মতাদর্শে বিশ্বাসী আঞ্চলিক নেটওয়ার্কগুলিকে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। ফলে এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ ভারত ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে (India) অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে (Pakistan)।

LinkedIn
Share