Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রিমিয়াম দূরপাল্লার রেল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল (Indian Railways) এখন ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশের প্রথম স্লিপার ভেরিয়েন্ট চালুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদা টাউন হয়ে হাওড়া ও কামাখ্যার মধ্যে চলাচলকারী ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই রেল কর্তৃপক্ষ এখন অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেন তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে।

    ব্যাপক যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি (Vande Bharat Sleeper)

    চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে এই নতুন ২৪ কোচের ট্রেনসেটটি বর্তমানে ডিজাইনের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানের ৮২৩টি বার্থের পরিবর্তে নতুন এই ট্রেনে ১,২২৪টি বার্থ থাকবে (৪০১টি বেশি)। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এর প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রেক তৈরি করা হবে। এতে ১৭টি এসি ৩-টায়ার, ৫টি এসি ২-টায়ার, ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ এসি প্যান্ট্রিকার (Indian Railways) থাকবে।

    আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

    যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের (Vande Bharat Sleeper) জন্য এই ভেরিয়েন্টে থাকছে—

    • আর্গোনমিক বার্থ, রিডিং লাইট, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট।
    • ওয়াই-ফাই, প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং ইনফোটেইনমেন্ট।
    • ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড টয়লেট এবং আধুনিক ইন্টিরিয়র।
    • দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সুবিধা: বিশেষ টয়লেট (Indian Railways) এবং র‍্যাম্পের ব্যবস্থা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    ট্রেন সংঘর্ষ এড়ানোর অত্যাধুনিক কবচ (Kavach) প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। সিসিটিভি ও আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ঘণ্টায় ১৬০ কিমি সর্বোচ্চ গতিবেগ এবং শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা।

    পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

    পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’, এলইডি লাইটিং এবং ভ্যাকুয়াম বায়ো-টয়লেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের (Indian Rail) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘রিমোট কন্ডিশন মনিটরিং’ সিস্টেমও যুক্ত করা হবে।

    ২৪ কোচের এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) ভারতীয় রেলের (Indian Railways) আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের এক বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য যে, বিএইচইএল (BHEL) ইতিমধ্যেই এই ট্রেনের প্রপালশন সরঞ্জামের সরবরাহ শুরু করেছে।

  • India–EU FTA: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে কার কী প্রাপ্তি হল? কে কী সুবিধা পাবে? বিশ্লেষণ

    India–EU FTA: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে কার কী প্রাপ্তি হল? কে কী সুবিধা পাবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement), সংক্ষেপে এফটিএ (FTA), যাকে উভয় পক্ষই আখ্যা দিয়েছে “মাদার অফ অল ডিলস” বা ‘সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে।

    মঙ্গলবার ঘোষিত এই চুক্তিটি প্রায় দুই দশকের টালবাহানা করা আলোচনার পর বাস্তব রূপ পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারত ও ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজার এক ছাতার নিচে আসবে। এর সম্মিলিত বাজারের পরিমাণ প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ।

    ২০ বছর আগে যেখানে আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল, সেখানে এখন ভারতের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৩ সালে ভারত তার অটোমোবাইল খাত খুলতে অনিচ্ছুক হওয়ায় আলোচনা থমকে যায়। তবে নতুন চুক্তির আওতায় ভারত ইউরোপীয় গাড়ির জন্য নিজস্ব বাজার খুলে দিয়েছে। ইউরোপ থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ গাড়ির ওপর শুল্ক ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানো হবে এবং ধাপে ধাপে তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

    চুক্তিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত?

    এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি যা পণ্য, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ— তিন ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করছে। ২০২৩ সালে ইইউ ভারতের জন্য জিএসপি (Generalised Scheme of Preferences) সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যার ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা পড়েছিল। এখন নতুন চুক্তিতে ভারতের জন্য বস্ত্র, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খাতে বড় সুবিধা এনে দেবে। ইইউ ভারতকে ১৪৪টি পরিষেবা উপখাতে প্রবেশাধিকার দেবে, আর ভারত ইইউকে ১০২টি উপখাতে সুযোগ দেবে, যার মধ্যে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক পরিবহণ ও টেলিযোগাযোগ খাত উল্লেখযোগ্য।

    বর্তমানে ভারত-ইইউ বাণিজ্যের চিত্র

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভারত ও ইইউ—উভয়েরই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে গত এক দশকে ভারত-ইইউ পণ্য বাণিজ্য দ্রুত বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে। ফলে ইইউ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য বাণিজ্য অংশীদার।

    বর্তমানে ভারতের ইইউ-র সঙ্গে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ভারত ইইউতে রফতানি করে প্রায় ৭৫.৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যেখানে আমদানি করে ৬০.৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ইইউ মূলত যন্ত্রপাতি, পরিবহণ সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পণ্য রফতানি করে। আর ভারত রফতানি করে রাসায়নিক, ধাতু, খনিজ পণ্য ও বস্ত্র। দুই পক্ষই ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

    ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিষেবা বাণিজ্যও বেড়েছে। ভারতীয় পরিষেবা রফতানি ২২.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং ইইউ-র রফতানি বেড়েছে ১৭ বিলিয়ন থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। মূলত ব্যবসায়িক পরামর্শ ও আইটি পরিষেবায় এই লেনদেন বেশি। বর্তমানে ইইউ-র মোট বাণিজ্যের মধ্যে ভারতের অংশ ২.৪ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৭.৩ শতাংশ এবং চিনের ১৪.৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯.৩ লাখ ভারতীয় নাগরিক ইইউ দেশগুলোতে বসবাস করছেন। ইইউ জানিয়েছে, প্রায় ৬,০০০ ইউরোপীয় সংস্থা ভারতে কাজ করছে এবং প্রায় ১,৫০০ ভারতীয় সংস্থার উপস্থিতি রয়েছে ইউরোপে।

    ভারতের কী লাভ হবে?

    • ● ইইউ ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেবে এবং সাত বছরের মধ্যে তা ৯৩ শতাংশে পৌঁছাবে।
    • ● তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে সামুদ্রিক খাদ্য (চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ), রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার, চামড়া ও জুতো, বস্ত্র ও পোশাক, ধাতু, রত্ন ও গয়না শিল্প।
    • ● প্রায় ৬ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে আংশিক শুল্কছাড় ও কোটা প্রযোজ্য হবে। এতে ইইউ-র গড় শুল্কহার ৩.৮ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ০.১ শতাংশে।
    • ● মোটের ওপর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ৯৯.৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে শুল্কছাড়ের সুবিধা পাবে।
    • ● তবে, ভারত এখনও ইস্পাত রফতানির কোটা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বর্তমানে ইইউ ভারতকে বছরে ১৬ লাখ টন ইস্পাত শুল্কমুক্ত রফতানির অনুমতি দেবে, যা ভারতের বর্তমান রফতানির প্রায় অর্ধেক।

    ইইউ কী সুবিধা পাবে?

    • ● ভারত তাৎক্ষণিকভাবে ইইউ থেকে আমদানি হওয়া ৩০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেবে। মোটের ওপর ইইউ-র ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। এতে ইউরোপীয় সংস্থাগুলির বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হবে।
    • ● গাড়ি ছাড়াও যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ওষুধের ওপর ভারতের বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে।
    • ● ইইউ থেকে আমদানি হওয়া ওয়াইন ও মদের ওপর বর্তমান ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০–৩০ শতাংশ (ওয়াইন), ৪০ শতাংশ (স্পিরিটস) এবং ৫০ শতাংশ (বিয়ার) করা হবে।
    • ● এছাড়া আর্থিক ও সামুদ্রিক পরিষেবায় ইউরোপীয় সংস্থাগুলিকে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা হবে এবং মেধাস্বত্ব (Intellectual Property) সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে।
    • ● বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, ভারত ও ইউরোপের কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
  • Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা ওই সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতির একটি আশাব্যঞ্জক ছবি । সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল (India Growth Rate) প্রধান অর্থনীতির দেশ। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে যেখানে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪ শতাংশ হবে, সেখানে  বলে অনুমান করা হয়েছে, জিভিএ বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা 

    ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সমীক্ষায় (Economic Survey) বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, স্থিতিশীল কর্মসংস্থান এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কেড়েছে। কম মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ব্যয় দৃঢ় রয়েছে এবং গ্রামীণ ও শহুরে – উভয় ক্ষেত্রেই ভোগব্যয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমীক্ষায় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পুঁজি গঠন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারি ব্যয় পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খাতে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে (Economic Survey) । পরিষেবা খাত এখনও প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি, যা ভারতের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখছে। ভারতের রাজস্ব অবস্থানেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত কর ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে করদাতার পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ কমেছে, যদিও সরকারি বিনিয়োগ উচ্চ পর্যায়ে বজায় রয়েছে (India Growth Rate)।

    বড় ধরনের পরিবর্তন

    সমীক্ষা (Economic Survey) অনুযায়ী, ব্যাঙ্কিং খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে ২.২ শতাংশে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মহিলা। বৈদেশিক ক্ষেত্রে ভারতের রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক পরিষেবা খাত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে, যা বৈশ্বিক ধাক্কার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে (India Growth Rate)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ, যা ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন (Global Headwinds)। ভালো বর্ষার ফলে কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    সমীক্ষায় (Economic Survey) পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছে। ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেশটি বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে (Indias Growth Rate)।সারসংক্ষেপে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জোরে ভারত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থার ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে এগোতে ভারত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

  • India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এনার্জি উইক (IEW) ২০২৬-এর মঞ্চে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছে ভারত-কানাডা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং কানাডার জ্বালানি (Energy Dialogue) ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী টিমোথি হজসন যৌথভাবে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন (India Canada Relation)। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আট বছরের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ। এটি জুন ২০২৫-এ কানানাস্কিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়।

    কী বললেন হরদীপ সিং পুরি (India Canada Relation)

    মন্ত্রী বলেন, “উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। কানাডার কাছে সম্ভবত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।” পুরি জানান, সরবরাহ শৃঙ্খল ও দ্বিপাক্ষিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল মন্ত্রী হজসনের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় বৈঠক। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের মূল ক্ষেত্রগুলি হবে, জ্বালানি রফতানি, কানাডা থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)-এর সরবরাহ বাড়ানো, এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেল রফতানি বাড়াতে ট্রান্স মাউন্টেন এক্সপ্যানশন (TMX) পাইপলাইনের ব্যবহার, ভারতের উচ্চ পরিশোধন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত থেকে কানাডায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ (India Canada Relation)।

    বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বৈদ্যুতিক যান এবং নবায়নযোগ্য শক্তি পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL)-কে কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও অধিগ্রহণের জন্য একটি কনসর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ খনিজ পদার্থের খনি অনুসন্ধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে।” অয়েল ইন্ডিয়ার সিএমডি রঞ্জিত রাঠ বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস অনুসন্ধানের দিকে নজর দেবে। বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। ভারত তার সম্পূর্ণ জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খলে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, কানাডা জানায় যে বর্তমানে তাদের দেশে প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি প্রকল্পে উন্নয়ন চলছে।

    এই বৈঠকে গ্রিন হাইড্রোজেন, বায়োফুয়েল এবং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। দুই (Energy Dialogue) দেশের মন্ত্রীরাই বলেন, “বৈশ্বিক সরবরাহ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল বহুমুখীকরণ এখন অগ্রাধিকারের তালিকায়।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, কানাডার একটি নির্ধারিত বাণিজ্য মিশনের সময় (India Canada Relation)।

     

  • PM Modi: “কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করুন”, সাংসদদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করুন”, সাংসদদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সাংসদরা যেন কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করেন”, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি এমনই আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণকে জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি-লক্ষ্যমাত্রাকে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন, যাকে তিনি সবচেয়ে (Budget Session) বড় চুক্তি বা সব চুক্তির জননী বলে অভিহিত করেন। নয়াদিল্লিতে বাজেট অধিবেশনের সূচনায় ভাষণ দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১ ফেব্রুয়ারি তিনি ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন, যা হবে তাঁর টানা নবম বাজেট পেশ।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণ ১৪০ কোটি নাগরিকের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার রূপরেখা তুলে ধরে।” সংস্কার ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের উচিত সংস্কারের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবদান রাখা এবং তা সমর্থন করা।” ভারতের সংস্কারযাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের সমস্যার যুগ থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছি।” প্রযুক্তি ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের প্রযুক্তিগত সংস্কার মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা দরকার।” বিশ্বে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের গণতন্ত্র ও জনসংখ্যাগত শক্তি বিশ্বশক্তির বড় স্তম্ভ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের পথে এগিয়ে যাব।” ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “ভারত-ইইউ এফটিএ একটি আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিযোগিতামূলক ভারতের দিকে বড় পদক্ষেপ (PM Modi)।”

    সবচেয়ে বড় চুক্তি

    উৎপাদন ও রফতানি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এই চুক্তিকে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারতীয় উৎপাদকদের জন্য একটি বিশাল বাজার খুলে দেবে।” একই সঙ্গে তিনি পণ্যের গুণগত মানের ওপরও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নে যেন সর্বোচ্চ মানের পণ্যই যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গুণগত মানই আগামী কয়েক দশক ধরে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে এবং ইউরোপে ‘ইন্ডিয়া ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করবে।” বাজেট অধিবেশনের প্রধান লক্ষ্য কী, এদিন তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেন, “দেশের জন্য বাজেটের ওপর মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার, কার্যকর করা বা বাস্তবায়ন ও রূপান্তর—এই তিনটি লক্ষ্যই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য (Budget Session)।” এদিনই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করার কথা। এতে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে ভারতের অর্থনীতির বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে বাজেট। প্রসঙ্গত, এই বাজেটটি হবে নির্মলা সীতারামনের টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট। এর মাধ্যমে (Budget Session) তিনি দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী এবং প্রথম মহিলা হিসেবে এই নজির তৈরি করতে চলেছেন (PM Modi)।

     

  • Education Ministry: “অপব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না”, ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা বিতর্কে আশ্বাস কেন্দ্রের

    Education Ministry: “অপব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না”, ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা বিতর্কে আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউজিসির (UGC) ‘ইকুইটি’ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন (Education Ministry) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর আশ্বাস, এই বিধিতে কাউকে হয়রান করা হবে না এবং ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা অপব্যবহারের সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। তবে এই আশ্বাস ‘জেনারেল কাস্টে’র বিরুদ্ধে এই বিধিগুলির অপব্যবহার নিয়ে যে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা খুব একটা দূর করতে পারেনি। কারণ ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) ছাত্রছাত্রীরাই ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্যের’ শিকার হওয়ার দাবি তুলতে পারবেন। শিক্ষামন্ত্রক এবং ইউজিসির কাছে এই নির্দেশিকাগুলি এক বড়সড় বিচারবিভ্রাটের উদাহরণ। এই দফতরকে ঘিরে ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য (Education Ministry)

    ধর্মেন্দ্র বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলা একটি প্রক্রিয়ার ফল।” তবে এই নির্দেশিকাগুলি যে অবশ্যম্ভাবী ছিল, তা নয়। বাস্তবে, ইউজিসি নিজেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি আলাদা খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। ইউজিসি (UGC) ইকুইটি রেগুলেশনস ২০২৬-এর উৎস খুঁজে পাওয়া যায় দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায়, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা এবং ২০১৯ সালে পায়েল তাদভি। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের পরিবার অভিযোগ করেছিল যে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে রোহিত ভেমুলার মা রাধিকা এবং পায়েল তাদভির মা আবেদা সেলিম তাদভি সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন। তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বৈষম্যরোধী ব্যবস্থা চালুর আবেদন জানান। এই মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং, তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী প্রসন্ন এস এবং দিশা ওয়াডেকর।

    নতুন বিধি প্রণয়নের দাবি

    আবেদনকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পিটিশনে সম্পূর্ণ নতুন বিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়নি। বরং ২০১২ সালের ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস’ কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছিল। ওই বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল’ গঠন করতে হতো, বিশেষত এসসি এবং এসটি ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে (Education Ministry)। পিটিশনাররা অভিযোগ করেন যে ভর্তি, মূল্যায়ন, হস্টেল বরাদ্দ এবং ক্যাম্পাস জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিগত পক্ষপাত রয়েছে। পাশাপাশি, ২০১২ সালের কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয়, কার্যত কোনও নজরদারি নেই, খুব কম সংখ্যক ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল রয়েছে এবং ন্যাকের (NAAC) মতো স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে কোনও সমন্বয়ই নেই।

    সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

    ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ জারি করলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। শেষমেশ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়া ইউজিসির গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং সেল, অভিযোগ ও গৃহীত পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠান। এর জবাবে ইউজিসি জানায়, তারা নতুন নির্দেশিকা খসড়া করছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৫’ শীর্ষক খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয় (UGC)। এই নথিটি আবেদনকারীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি, জাতিগত পরিচয় ও বিভাজন যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে না পারে, তার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী প্রয়াস হিসেবে উঠে আসে। অনেকে যে র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের আশঙ্কা করেছিলেন, এই খসড়া তা নয়। বরং সুরক্ষা জোরদার করা এবং একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রাখার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা হয় (Education Ministry)।

    জাতিভিত্তিক বৈষম্যের মূল বিষয়

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়াটি এসসি/এসটি ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের মূল বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে রাখা হয়েছিল, যা সরাসরি পিটিশনের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এতে অপ্রাসঙ্গিক বা ব্যাপক শ্রেণি যুক্ত করে বিষয়টিকে বিস্তৃত করা হয়নি। খসড়াটিতে বৈষম্যের আধুনিক সংজ্ঞায় বলা হয়, জাতি বা উপজাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্যায্য, ভিন্নতামূলক বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। সমালোচকেরা একে ২০১২ সালের নিয়মে বর্ণিত নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ কার্যকলাপের তালিকার তুলনায় অস্পষ্ট বললেও, এই সরল সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রেক্ষিত অনুযায়ী নিয়ম প্রয়োগের নমনীয়তা দেয় এবং অতিরিক্ত আইনি জটিলতায় অচলাবস্থা এড়াতে সাহায্য করে (UGC)। খসড়ার একটি বিশেষভাবে যুক্তিসঙ্গত দিক ছিল মিথ্যা বা কুৎসিত অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান। এতে বলা হয়েছিল, প্রমাণিতভাবে মিথ্যা বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের করলে ইকুইটি কমিটি জরিমানা ধার্য করতে পারবে।

    প্রয়োজনীয় সুরক্ষা

    এই বিধান প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং অপব্যবহার রোধে একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা হিসেবেই বিবেচিত হয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, শিক্ষাগত প্রতিযোগিতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিবেশে এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অভিযোগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক। ইকুইটি কমিটির গঠন নিয়েও খসড়াটি বাস্তববাদী ছিল। কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে রাখা হয় এবং প্রায় দশজন সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ভুক্ত রাখার কথা বলা হয়। এতে শিক্ষক, ছাত্র ও প্রশাসনিক কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমষ্টিগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয় (Education Ministry)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, খসড়াটি যথাযথ তদন্ত ছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একতরফা শাস্তি আরোপের প্রলোভন এড়িয়ে চলে (UGC)। এতে অভিযোগ খতিয়ে দেখার সময় উভয় পক্ষকে বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভারতীয় আইনে স্বীকৃত প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

    কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা

    প্রতিটি অভিযোগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করে, সমাধান, মধ্যস্থতা ও সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খসড়াটি সচেতনতা কর্মসূচি, সংবেদনশীলতা বিষয়ক কর্মশালা এবং বার্ষিক প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়, তবে ক্যাম্পাস পরিচালনায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার, অবস্থান ও সংস্কৃতির পার্থক্য স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও বজায় রাখা হয়। মোটের ওপর, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়াটি ছিল একটি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ। এটি আবেদনকারীদের দাবি মেনে নিয়েও আইনের সামনে সমতার নীতিকে বিসর্জন দেয়নি। দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থাও রেখেছিল, ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল (Education Ministry)। অনেক পর্যবেক্ষক, এমনকি সমালোচকরাও স্বীকার করেছিলেন যে জনমত থেকে প্রাপ্ত ৩৯১টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে কিছু সংশোধন করা হলে এটি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যরোধী নীতির একটি আদর্শ মডেল হতে পারত।

    সেই সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে ভেস্তে যায়

    কিন্তু সেই সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে ভেস্তে যায়। আবেদনকারীরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়ার বিরোধিতা করেন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে ইন্দিরা জয়সিং দশটি মূল সংস্কারের দাবি জানান (UGC)। এর মধ্যে ছিল প্রান্তিক গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব-সহ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন এবং নির্দেশিকা না মানলে অনুদান প্রত্যাহারের প্রস্তাব। বেঞ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করার সময়সীমা বেঁধে দেয় এবং বড় কোনও ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারিও দেয়।এরপর ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ যখন চূড়ান্ত ইউজিসি (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়, তখন পরিবর্তনটি ছিল চোখে পড়ার মতো (Education Ministry)। এতে জয়সিংয়ের একাধিক দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ ও ডিবারমেন্টের ক্ষমতা (ধারা ১১), বিচ্ছিন্নকরণের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিধান (ধারা ৭(ডি)), ওবিসি/প্রতিবন্ধী/মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করে বৈচিত্র্যময় ইকুইটি কমিটি (ধারা ৫(৭)), গোপনীয়তা ও প্রতিশোধরোধী সুরক্ষা, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব (ধারা ৪(৩)), বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং (ধারা ৭(এফ)) এবং প্রো-অ্যাকটিভ ইকুইটি স্কোয়াড ও অ্যাম্বাসাডর। কিন্তু এর বিনিময়ে ২০২৫ সালের খসড়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

    চূড়ান্ত সংস্করণে ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্য’

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, চূড়ান্ত সংস্করণে ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্য’ কেবল এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়। ফলে সাধারণ শ্রেণির ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অপব্যবহার থেকে সুরক্ষার কোনও সমতুল ব্যবস্থা রইল না। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে যে সুরক্ষা খসড়ায় ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই একতরফা প্রবণতা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এবং শিক্ষাজগতের বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এর জেরে দেশজুড়ে প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়। সমালোচকরা এই বিধিকে বিভাজনমূলক এবং সংবিধানের সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন (Education Ministry)। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়া দেখিয়েছিল যে শিক্ষামন্ত্রক ও ইউজিসি যুক্তিসঙ্গত ও অ-বৈষম্যমূলক নীতি তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পরবর্তী মোড়, চাপ, আত্মসমর্পণ বা অভ্যন্তরীণ ভুলের কারণেই হোক, এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যা ন্যায়বিচারের বদলে বাছাই করা প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেয় (UGC)। যে সংস্কার একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল, তা এখন এক হারানো সুযোগের সতর্কবার্তায় পরিণত হয়েছে, যেখানে ‘সমতা’ বিভাজনের রূপ নিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত ন্যায়বিচার মানে এমন সুরক্ষা, যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, এমন অস্ত্র নয়, যা যে নীতিকে রক্ষা করার দাবি করে, তাকেই ক্ষয় করে (Education Ministry)।

     

  • India-EU: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে কোন কোন পণ্য হবে সস্তা? জেনে নিন

    India-EU: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে কোন কোন পণ্য হবে সস্তা? জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (India-EU) মধ্যে মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় ভোক্তারা এখন থেকে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ব্যাপক মূল্য হ্রাসের আশা করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যে (Free Trade Agreement) ভারতের জন্য তাতে অনেকটাই সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ৯৬ শতাংশের বেশি আইটেমে শুল্ক হ্রাস (India-EU)

    সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতে (India-EU) রফতানি করা ইউরোপীয় পণ্যের ৯৬ শতাংশের বেশি সামগ্রীর ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস (Free Trade Agreement) করা হবে। এর ফলে বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে নিত্যদিনের মুদি পণ্য—সবকিছুর দামেই বড় পরিবর্তন আসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আসুন জেনে নিই কোন কোন পণ্যে মিলবে ছাড়।

    বিলাসবহুল গাড়ি

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন আসছে অটোমোবাইল খাতে। বার্ষিক ২.৫০ লক্ষ গাড়ির কোটার জন্য আমদানিকৃত ইউরোপীয় (India-EU) গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তবে তা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে কয়েক বছরের মধ্যে। মার্সিডিজ-এএমজি, বিএমডব্লিউ, অডি, পোর্শে, ল্যাম্বরগিনি এবং রোলস-রয়েসের মতো ব্র্যান্ডগুলো ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী (Free Trade Agreement) হয়ে উঠবে।

    সুরাজাতীয় পানীয়

    ইউরোপীয় (India-EU) ওয়াইনের ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০-৩০ শতাংশে নামবে। এছাড়া স্পিরিটের ক্ষেত্রে শুল্ক হবে ৪০ শতাংশ এবং বিয়ারের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ।

    খাদ্যদ্রব্য

    চকলেট, বিস্কুট, পাস্তা, পাউরুটি এবং অলিভ অয়েলের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর শুল্ক প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

    স্বাস্থ্যসেবা

    চশমা (অপটিক্যাল), মেডিকেল এবং সার্জিক্যাল সরঞ্জামের ওপর বর্তমান ২৭.৫ শতাংশ শুল্ক প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। এছাড়া ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইসের ওপর থেকে ১১ শতাংশ শুল্কও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরিয়ে দেওয়া হবে।

    শিল্প খাত

    রাসায়নিক (বর্তমানে ২২% পর্যন্ত শুল্ক), যন্ত্রপাতি (৪৪% পর্যন্ত শুল্ক) এবং প্লাস্টিকের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার (Free Trade Agreement) করা হবে।

    চুক্তির প্রভাব ও বাস্তবায়ন

    এই চুক্তিটি (Free Trade Agreement) বিশ্বের ২৫ শতাংশ জিডিপি এবং প্রায় ২০০ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইউরোপীয় (India-EU) রফতানি কারকরা বার্ষিক প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সাশ্রয় করবেন, যার সরাসরি সুফল পাবেন ভারতের সাধারণ মানুষ। আইনি যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর চলতি বছরের মধ্যেই এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন (Budget 2026) । আজ, বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ (Economic Survey) করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগের ধাপ হল অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ। ফি বছর অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর থাকে। কারণ এই নথিতে গত এক বছরে ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিস্তারিত মূল্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা মেলে।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা কী (Economic Survey)

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা একটি বিস্তৃত বাৎসরিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, যা অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) অর্থনৈতিক বিভাগ প্রস্তুত করে। এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এই নথিতে অর্থনৈতিক সূচক, গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব ও আর্থিক সূচকগুলির গভীর বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতমুখী মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স নথি হিসেবে কাজ করে, যা প্রায়ই আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কী ধরনের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারিত হতে পারে, তার ইঙ্গিত দেয় (Economic Survey)।

    বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করা হবে বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ, সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। এর পরেই প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে হবে সাংবাদিক বৈঠক। অর্থনৈতিক সমীক্ষা সাধারণত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সার্বিক ছবি তুলে ধরে। চলতি বছরে এতে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব, কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য হ্রাস নিয়ে আলোচনার কথা থাকতে পারে। এই সমীক্ষায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নতুন নীতি-ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯৫০–৫১ অর্থবর্ষে বাজেট নথির অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্বতন্ত্র নথি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সংসদে পেশ করা হয়। প্রতি বছর সমীক্ষার মূল থিম নীতিনির্ধারক ও পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে (Budget 2026)। এই সমীক্ষায় খাতভিত্তিক বিশদ পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাদা অধ্যায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে (Economic Survey)।

  • Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। তার পরেই উঠছে সেই মোক্ষম প্রশ্নটি, ‘আসল’ এনসিপির (NCP) নেতৃত্বে এবার কে? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত কমিটি নয়, ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্বে চলে। সংগঠনিক কর্তৃত্বের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্যারিশমার গুরুত্ব বেশি, এনসিপিও এর ব্যতিক্রম নয়।

    ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ (Ajit Pawar)

    মহারাষ্ট্র রাজনীতির ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ শরদ পাওয়ারের হাতে গড়া ও লালিত এই দলটিতে বরাবরই নেতৃত্বে ছিলেন কোনও না কোনও ‘পাওয়ার’। ২০২৩ সালের মে মাসে এর এক আবেগঘন উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সেদিন ভাইপো অজিত পাওয়ারের বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে শরদ পাওয়ার দল ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  কিন্তু তৎক্ষণাৎ দলীয় কর্মীরা তাঁকে স্লোগানে স্লোগানে ভরিয়ে দেন। এমনকি যখন এনসিপি ভেঙে দু’টি শিবির তৈরি হয়েছিল, তখনও দলের রাশ ছিল পাওয়ার পরিবারেরই হাতে। কিন্তু অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যুর পর সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অজিত-উত্তর ‘আসল’ এনসিপির মালিকানা নিয়ে শীঘ্রই টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। কারণ, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও সরকার চালাতে হবে, মন্ত্রিসভায় শূন্য পদ, এমনকি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদও পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে দু’টি স্পষ্ট ক্ষমতার ভরকেন্দ্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    প্রথম শিবির

    প্রথম শিবির পাওয়ার পরিবার। এই শিবিরের কেন্দ্রে রয়েছেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। অন্তত আপাতত তিনি বিপুল সহানুভূতির হাওয়া পাবেন, এমনকি তাঁদের কাছ থেকেও, যাঁরা সাধারণত এনসিপি বা অজিত পাওয়ারের রাজনীতির সমর্থক নন। রাজনীতিতে বংশানুক্রমের দৃষ্টিভঙ্গি ধরলে, স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে সুনেত্রাই দলীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। তবে সুনেত্রা রাজনৈতিকভাবে নবাগত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা প্রবীণ ও কৌশলী নেতা, যেমন ছগন ভুজবল বা সুনীল তটকরের পূর্ণ আনুগত্য আদায় করার পক্ষে যথেষ্ট নাও হতে পারে (Ajit Pawar)। এই শিবিরে (NCP) রয়েছেন অজিতের দুই ছেলে—পার্থ ও জয় পাওয়ার। তবে দু’জনকেই সুনেত্রার থেকেও কম বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পার্থকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পুনে জেলার মাভাল কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হন। কিন্তু শিবসেনার শ্রীরং বার্নের কাছে বিরাট ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পার্থ পাঁচ লাখের কিছু বেশি ভোট পেলেও, বার্নে পেয়েছিলেন ৭.২ লাখেরও বেশি ভোট। এর পর থেকে পার্থকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে আবেগ তৈরি করতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারলেও, তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক আইনি মামলার কারণে সেই সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।  অজিতের ছোট ছেলে জয় এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বিকল্প বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। গত কয়েক বছর ধরে জয় মূলত পারিবারিক ব্যবসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। বোর্ডরুমের কাজেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে মনে করা হয়। যদিও বারামতিতে, পরিবারের শক্ত ঘাঁটিতে, গ্রামস্তরে কিছু সক্রিয়তার খবর পাওয়া গিয়েছে। এবং সেটাও সম্ভবত তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা হিসেবে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, জয় কখনও কোনও নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় শিবিরে কারা?

    এতো গেল প্রথম শিবিরের কথা। দ্বিতীয় শিবিরে রয়েছেন এনসিপির শক্তিমান নেতারা। এই শিবিরে রয়েছেন অজিত -ঘনিষ্ঠ প্রবীণ তিন নেতাও, ছগন ভুজবল, সুনীল তটকরে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল (NCP)। এঁদের মধ্যে প্রফুল্ল প্যাটেলই বর্তমানে অজিতের এনসিপির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্যাটেল একসময় দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের দরকষাকষির প্রধান মুখ ছিলেন (Ajit Pawar)। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজধানীতে যোগাযোগের জোরে তিনি অজিতের এনসিপির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে অনেকের মতে, দলের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অজিতের যে দাপট ছিল, তা প্যাটেলের নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবুও, দল পুনর্গঠনের সময় তিনি একজন আদর্শ তত্ত্বাবধায়ক নেতা হতে পারেন। সুনীল তটকরে আবার একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে উঠে আসা নেতা। রায়গড় জেলায় অজিতের এনসিপি গড়ে তুলতে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি মহারাষ্ট্রের জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

    অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে?

    তবে প্যাটেলের মতো তাঁরও রাজ্যজুড়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই, যা ভবিষ্যতে দলের ভেতরে বিদ্রোহ হলে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশের মতে, সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি হতে পারে এটিই – যে এনসিপি বিধায়কদের শরদ পাওয়ার ছেড়ে অজিত পাওয়ারের দিকে টানা হয়েছিল, তাঁরা ‘পাইড পাইপারে’র মৃত্যুর পর পুরানো শিবিরে ফিরে যেতে পারেন। এমনটা কি হতে পারে? অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে, বা কার্যত তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে (NCP)? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চলতি মাসের শুরুতেই পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে শরদ ও অজিত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। ফল আশানুরূপ না হলেও, এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটে অজিতের কোণঠাসা হওয়ার ফলেই এই জোট গড়ে উঠলেও, পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই গিয়েছে (Ajit Pawar)।

  • Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

    এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

    অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

    শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

    অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

    বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

LinkedIn
Share