Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিষবৃক্ষে ফলতে শুরু করেছে বিষময় ফল! তার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল-শাসিত (TMC) রাজ্যের একাধিক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে বার্ষিক হিন্দু উৎসব সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি শহরে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বাধা সৃষ্টি হয় সরস্বতী পুজোয়।

    তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মন্দিরে তালা (Saraswati Puja)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলঘরিয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা চৌক সোসাইটি মন্দিরটিতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় হিন্দু মহিলারা সরস্বতীর আরাধনা করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট টিএমসি কাউন্সিলরও। পুলিশ জানিয়েছে, টিএমসির বিবদমান দুই গোষ্ঠী কোনও সমঝোতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত তারা তালা ভাঙবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরটি সকলের জন্য একটি সাধারণ উপাসনাস্থল হোক। এখানে একটি মাত্র তালা থাকবে, যার দুটি চাবি থাকবে, একটি ওদের কাছে, অন্যটি আমাদের কাছে।” আর এক মহিলা বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার।”

    পুজো বন্ধ কলেজ-স্কুলেও

    এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সরস্বতী পুজোর আয়োজন করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া টিএমসি নেতার নাম দাউদ আলম মোল্লা। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ওই ছাত্রী বলেন, “দাউদ আলম মোল্লা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে আমায় হুমকি দিয়েছে যে সে আমার এলএলএম (LLM) নষ্ট করে দেবে।” উল্লেখ্য, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী (TMC), কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ শব্বির আলি সরস্বতী পুজোর আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।

    এদিন, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে টিএমসির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তলব করা হয়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার ওসি এবং এসডিপিও কলেজ চত্বরে পৌঁছন (Saraswati Puja)। পুজোয় অংশ নিতে আসা হিন্দু ভক্তদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, শাসক দলের দুষ্কৃতীরা কলেজ ক্যাম্পাসকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরের আর একটি ঘটনায়, স্কুল চত্বরে সরস্বতী পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকায় পুজোর অনুমতি নাকচ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের দেবী সরস্বতীর পুজো করতে বাধা দিচ্ছেন।

    ফুটপাতে পুজোর আয়োজন!

    শেষ পর্যন্ত হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে, ফুটপাতে পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য করা হয় (Saraswati Puja)। প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তারা বলেছে, এই স্কুলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় এখানে পুজো করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে থাকা হিন্দুদের অবস্থা আর বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই (TMC)।” তিনি এও বলেন, “পুলিশ দেবী সরস্বতীকেও স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল দিতে হয়েছে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইট-বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গ কি এখন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে?” তিনি এও লেখেন, “এই ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়, যদি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে।” উপরোক্ত চারটি ঘটনা স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই যেমন দেখা যায়, হিন্দুদের অধিকার সংক্রান্ত বহু খবরই মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই সরস্বতী পুজো ব্যাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা (TMC) কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না (Saraswati Puja)।

  • SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২৯৪ সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার, কী ভাবছে নির্বাচন কমিশন?

    SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২৯৪ সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার, কী ভাবছে নির্বাচন কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR in Bengal) কাজে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকে ২৯৪ জন সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার আসছেন বাংলায়। রাজ্যের কাজে আর কোনওরকম ভরসা করতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। অগত্যা তাই স্ক্রুটিনি ও নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য নির্বাচন কমিশন এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।

    কেন এই পদক্ষেপ

    পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (State and Union Territory) এই মুহূর্তে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে, যাকে বলা হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR in Bengal)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কমিশনের থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল তিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়েছিলেন ২৯৪ জন আধিকারিককে এই রাজ্যে পাঠানোর জন্য। যাদের সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজে ব্যবহার করা হবে রাজ্যের এসআইআর এর চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী সোমবারের মধ্যে এই ২৯৪ জন আধিকারিক রাজ্যে এসে পৌঁছে যাবেন এবং প্রত্যেকেই ২৯৪ টি এলাকার ইআরওদের সঙ্গে মিলে কাজ করবেন। একদিকে স্ক্রুটিনি, অন্যদিকে নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই রাজ্যের ওপর আর কোনওরকমেই ভরসা করতে পারছে না। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।

    সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে রাজ্য সরকারের কাছে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের জন্য বারংবার চিঠি দিলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। সেই কারণেই রাজ্যে চলা এসআইআর (SIR in Bengal) এর কাজে অনেক বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তাই আর সময় নষ্ট না করে এবং কোনওভাবেই রাজ্যের ওপর ভরসা না করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা ক্ষেত্রে ২৯৪ জন সিনিয়র মাইক্রো অবজারভারকে নিয়োগ করার। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে শনিবার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে। সেখানেও দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। এখনও পর্যন্ত সব তালিকা প্রস্তুত নেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় এই তালিকা শনিবার কতটা প্রকাশ পায় সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কাছে।

  • Election Commission: গাফিলতি দেখলেই পদক্ষেপ করতে পারবেন সিইও! বিএলও-দের কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

    Election Commission: গাফিলতি দেখলেই পদক্ষেপ করতে পারবেন সিইও! বিএলও-দের কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কড়া বার্তা দিল দিল্লির নির্বাচন সদন (Election Commission of India)। পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সামনে রেখেই এই হুঁশিয়ারি বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ সিইও-দের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিধি মেনেই সব রাজ্যের সিইও-দের সেই এক্তিয়ার দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ইতিমধ্যেই সব রাজ্যের সিইও-দের কাছে চিঠি করেছেন। কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএলও-দের গাফিলতিতেই ভুল

    বিএলও-দের বিরুদ্ধে আরও কড়া কমিশন (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে বিএলওদের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে কমিশনকে দোষী হতে হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিভ্রান্তি, অভিযোগ আর অসন্তোষ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এই পরিস্থিতিতে আর নরম মনোভাব নয়, স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হল দিল্লি থেকে। নির্দেশিকায় পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1950) অনুযায়ী বিএলওরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ কর্মচারী। তাঁদের দায়বদ্ধতা একমাত্র কমিশনের প্রতিই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় কমিশনের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে নিজের মতো করে কাজ করছেন তাঁরা। এই প্রবণতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

    কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ

    যদি কোনও বিএলও কোনও ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতিতে যুক্ত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও (District Election Officer), যিনি পদাধিকার বলে জেলাশাসক (District Magistrate), তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ওই বিএলওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজে কোনও ঢিলেমি নয়। নিয়ম ভাঙলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেই। এবার থেকে সিইও-রা নিজে থেকেই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করতে পারেন। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা বা এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিতে পারেন সিইও। এত দিন সিইও-কে বাদ রেখে জাতীয় কমিশন সিদ্ধান্ত নিত৷ এবার সেই স্বাধীনতা দেওয়া হল সিওকে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি, অসদাচরণ, কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা, কিংবা ভোটার নিবন্ধন বিধি অমান্য করলে, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারেন সিইও। পাশাপাশি, কোনও এসআইআর-এর কাজে বিএলও-দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও তৎক্ষণাৎ এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • SSC Corruption: চরম চাপে তৃণমূল! এসএসসি দুর্নীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণের সাড়ে ৫৭ কোটির বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    SSC Corruption: চরম চাপে তৃণমূল! এসএসসি দুর্নীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণের সাড়ে ৫৭ কোটির বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC Corruption) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রি করার অপরাধে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna-Prasannas) এবং মামলায় মিডলম্যান হিসেবে চিহ্নিত প্রসন্নকুমার রায়ের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর এখনও পর্যন্ত মোট ৫৭ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন (SSC Corruption)

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত তালিকায় রয়েছে নগদ টাকা, হোটেল, রিসর্ট-সহ একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি। অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সঙ্গে এই সব সম্পত্তির যোগসূত্র রয়েছে। তবে সম্পত্তি যে কেবল নিজের নামেই কিনেছেন তা নয়, আত্মীয় পরিজনদের নামেও কিনেছেন অভিযুক্তরা। এমন কি নানা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানেও ব্যবহার করেছেন।

    ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Corruption) মুর্শিদবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধাক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে (Jibankrishna-Prasannas) গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময় নিজের মোবাইল পুকুরে ফেলে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। পরে অবশ্য জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে তদন্ত থেমে ছিল না। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে ফের একবার গ্রেফতার করা হয় জীবনকৃষ্ণকে। তবে এইবার গ্রেফতার হয়েছেন ইডির হাতে। এবার ফোন ফেলে দেন পাশের নর্দমায়। সেখান থেকে তা উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। পাঁচিল টপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও রেহাই মেলেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    প্রসন্ন রায়ের বাজেয়াপ্ত ১ কোটির বেশি

    অপর দিকে এসএসসিতে শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় (SSC Corruption) প্রসন্নকুমার রায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে ইডি। প্রসন্ন বর্তমানে জেল হেফাজতে। তদন্তে ইডি বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউণ্ট ২৬ কোটি ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৭২ টাকা থাকা সন্ধান মিলেছে। প্রসন্নের অবশ্য দাবি সব অর্থের উৎস কৃষিকাজ। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার হওয়া বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna-Prasannas) এই দুর্নীতির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। তিনি গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি এবং সহকারী শিক্ষক পদে বেআইনি নিয়োগের জন্য সংগৃহীত অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

  • Kolkata Air Pollution: কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট! শিশু এবং বয়স্কদের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ

    Kolkata Air Pollution: কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট! শিশু এবং বয়স্কদের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধূলিকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার নয়, বরং শহরের বাতাসের গুণমাণ নষ্ট করার নেপথ্যে খলনায়ক বিষাক্ত গ্যাস। নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) এবং গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন (O₃)-এর মতো ক্ষতিকারক গ্যাসগুলি কলকাতার বাতাসকে (Kolkata Air Pollution) বিষিয়ে তুলছে। শহরের বায়ুদূষণের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ জায়গায় পৌঁছেছে। বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। তিনি বলেছেন, দিল্লি এবং কলকাতার কারণে দূষণ বাড়ছে। দু’টি শহরের কাছে কোনও সমুদ্র নেই। ফলে যে দূষণ তৈরি হচ্ছে, তা বসে যাচ্ছে। দক্ষিণা বাতাস না থাকায় সেই দূষণ শহর থেকে বেরিয়ে যেতে পারছে না। ফলে বায়ু দূষণের মাত্রা এই জায়গায় পৌঁছেছে।

    কলকাতার দূষণ মানতে বাধ্য হল পুরসভা

    পরিবেশবিদদের মতে, কলকাতার দূষণ কখনোই মানতে চাননি পুরসভার কর্তারা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যত মেয়র বাধ্য হলেন কলকাতা পুরসভায় পরিবেশ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকতে। গত কয়েকদিন ধরে শহরের বায়ুদূষণের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বায়ু দূষণের সূচক অনুযায়ী, বাতাসের দূষণের মাত্রা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বুধবার রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সম্প্রতি ‘রেস্পাইরার লিভিং সায়েন্সেস’-এর (Respirer Living Sciences) একটি সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে । তাদের ‘অ্যাটলাস একিউ’ (Atlas AQ) প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ৮২ দিন এমন ছিল, যখন বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) নিয়ন্ত্রিত হয়েছে মূলত বিষাক্ত গ্যাসের দ্বারা। অর্থাৎ, পার্টিকুলেট ম্য়াটার বা ধূলিকণার থেকেও এই দিনগুলিতে বাতাসে গ্যাসের প্রকোপ ছিল বেশি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কলকাতার দূষণ এখন আর একমুখী নয়, বরং তা ‘মাল্টি-পলিউট্যান্ট’ বা বহু উপাদান-নির্ভর হয়ে উঠছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ৮২ দিন ধূলিকণা প্রধান দূষক ছিল না, তার মধ্যে ৬৮ দিনই বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের আধিপত্য ছিল। ১২ দিন দাপট দেখিয়েছে গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন এবং ২ দিন কার্বন মনোক্সাইড। তবে বছরের বাকি দিনগুলিতে অবশ্য ধূলিকণাই ছিল প্রধান। ১৬৬ দিন পিএম ১০ (PM10) এবং ১১৭ দিন পিএম ২.৫ (PM2.5) ছিল দূষণের মূল কারণ ৷ কিন্তু গ্যাসের এই ক্রমবর্ধমান দাপট নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পরিবেশবিদদের কপালে।

    স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন শহরবাসী

    রেস্পাইরার লিভিং সায়েন্সেস-এর সিইও রৌনক সুতারিয়া বলেন, “আমরা প্রায়শই বাতাসের গুণমান বা একিউআই বলতে শুধুই ধূলিকণা-জনিত দূষণকে বুঝি । কিন্তু তথ্য বলছে পরিস্থিতি আরও জটিল। শহরবাসীরা এমন সব স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা শুধুমাত্র ধূলিকণার হিসেব দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়।” তিনি সতর্ক করে জানান, শহরগুলি যদি দূষণকে শুধুমাত্র ধূলিকণার সমস্যা হিসেবে দেখে, তবে জনস্বাস্থ্যের উপর যে বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে, তার একটা বড় অংশ অদেখা থেকে যাবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড বাড়লে শ্বাসনালীতে প্রদাহ, হাঁপানির টান বাড়া এবং বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

    কেন এই অবস্থা

    বসু বিজ্ঞান মন্দিরের অধ্যাপক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এবছর তাপমাত্রা কম থাকায় মানুষ উষ্ণতার জন্য প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়িয়েছেন। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী পলিনিউক্লিয়ার অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন বাতাসে মিশছে, যা গুরুতর শ্বাসকষ্টের কারণ।” তিনি আরও জানান, এই দূষকগুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘পারোক্সিয়াসিটাইল নাইট্রেট’ (PAN) তৈরি করে, যা এবছর শীতের সকালে দেখা দেওয়া ধোঁয়াশার অন্যতম কারণ ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ধূলিকণা কমানোর চেষ্টা করলেই হবে না, বিষাক্ত গ্যাস নিয়ন্ত্রণেও অবিলম্বে বহুমুখী কৌশল বা ‘মাল্টি-পলিউট্যান্ট স্ট্র্যাটেজি’ নেওয়া প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে কড়া নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

    দূষণের কারণ ও জনস্বাস্থ্যের সতর্কতা

    শহরের (Kolkata Air Pollution) ডানলপ, উল্টোডাঙা, মৌলালি, রবীন্দ্র সরোবর এবং হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাগুলিকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আবহাওয়ার কারণে শহরের দূষণ বাড়ছে, তেমনটা নয়। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধুলো এবং স্থানীয় কলকারখানার ধোঁয়া কলকাতার দূষণের মূল কারণ। যার জেরে তাপমাত্রা বাড়লেও দূষিত বাতাস মাটি থেকে উপরে উঠতে পারছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের এই সময়ে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দূষণ কমাতে নির্দেশ

    কলকাতা পুলিশকে (Kolkata Air Pollution) মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন, দূষণ যাচাই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট যে গাড়িগুলিতে নেই, সেগুলি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়িগুলিকে ভালভাবে পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায়, এখানে যেভাবে ধোঁয়া বেরোচ্ছে, তাতে দূষণ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত গাড়িগুলিকে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করাতে হবে। যানজট মুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে কলকাতা পৌরসভার আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাস্তায় বালি যাতে না পড়ে থাকে। পাশাপাশি, রাস্তায় যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকছে। যেখান থেকে ধুলো উড়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে মত পরিবেশবিদদের। একইসঙ্গে নির্মীয়মান আবাসন বা নির্মাণের কাজ চললে সেগুলোকে বাইরে দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কাপড় দিয়ে বা নির্দিষ্ট আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে না রাখলে, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মেয়রের তরফে। অপরদিকে, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শহর জুড়ে একাধিক জায়গায় মেট্রোর কাজ চলছে। বেশ কিছু জায়গায় খোঁড়ার কাজ হয়েছে। লাইন বসানো হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হচ্ছে না। ঠিকমতো ঢেকে না রাখার জেরে, সেই জায়গাগুলি থেকে ধুলো উড়ে পরিবেশ দূষণ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে শহরে স্প্রিংকলার এবং ফগ ওয়াটার মেশিন ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহর জুড়ে জল স্প্রে করে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মেয়র জানিয়েছেন। প্রয়োজনে শহরে আনাচে-কানাচে জলের ট্যাঙ্ক রাখা হবে। সেখান থেকে জল সরবরাহ করে স্প্রে করা হবে।

  • ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার (Bengal Government) যেভাবে পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ইসিআইয়ের নির্দেশ, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    কড়া ভাষায় চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ECI)

    ২১ জানুয়ারি তারিখে পাঠানো কড়া ভাষায় লেখা এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত মামলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ধরনের পরামর্শ বাধ্যতামূলক এবং এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ আইনের চোখে অবৈধ বলে গণ্য হবে (ECI)। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম সংক্রান্ত। তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এক নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।

    সামান্য শাস্তি!

    কমিশনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এএইআরও) সাময়িক বরখাস্ত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং চুক্তিভিত্তিক এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথাও বলা হয়েছিল। এই নির্দেশ জারি করা হয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর বিধানের ভিত্তিতে (Bengal Government)। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনকে (ECI) জানায় যে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রি আধিকারিক তথাগত মণ্ডলকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এএইআরও সুদীপ্ত দাসকে সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    তবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তগুলিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। ২১ জানুয়ারির চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দেয়, এক আধিকারিককে অব্যাহতি দেওয়া এবং অন্যজনকে সামান্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে করা হয়েছে, যদিও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে এ বিষয়ে পূর্বপরামর্শ প্রয়োজন (ECI)। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ৩১ মে জারি করা তাদের স্থায়ী নির্দেশিকার উল্লেখ করে জানায়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া বন্ধ বা চূড়ান্ত করার আগে ইসিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলেও মন্তব্য করেছে কমিশন (Bengal Government)।

    প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ

    রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে “প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ” এবং “আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন” বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সরাসরি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশিকা ও আইনানুগ পদ্ধতি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (ECI)। নির্বাচন কমিশনের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলি সাধারণ বিভাগীয় বিষয় নয়। রাজ্য সরকার ইচ্ছে মতো কমিশনকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করতে পারে না। এই মামলায় যুক্ত চার আধিকারিক—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস সকলের বিরুদ্ধে গৃহীত শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপের সম্পূর্ণ নথি নির্বাচন কমিশন চেয়েছে। পাশাপাশি, কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত (ECI) নেওয়ার জন্য দায়ী আধিকারিক বা দফতরের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে।

    ইসিআই জানিয়েছে, এই নথি ও ব্যাখ্যাগুলি প্রয়োজনীয়, যাতে বোঝা যায় তাদের পূর্ববর্তী নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় আরও কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না (Bengal Government)। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি, রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলামূলক ফাইল হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন (ECI)।

     

  • TMC: ব্যর্থ মমতা, তৃণমূল রাজ্যের লগ্নি টেনে নিয়ে গেল বিজেপির ওড়িশা

    TMC: ব্যর্থ মমতা, তৃণমূল রাজ্যের লগ্নি টেনে নিয়ে গেল বিজেপির ওড়িশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১৫ বছর গদি আঁকড়ে পড়ে থেকে তৃণমূলের (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা পারেননি, মাত্র দু’দিনের বঙ্গ সফরেই তার চেয়েও ঢের বেশি কাজ করে দেখালেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন মাঝি। যার জেরে সেই বাম জমানা থেকে তৃণমূলের শাসনকাল (Syndicate Raj) পর্যন্ত ক্রমেই অধঃপাতে চলে যাচ্ছে রাজ্যের দশা। আর ওড়িশার উত্থান হচ্ছে রকেট গতিতে।

    পশ্চিমবঙ্গের অবনতি (TMC)

    পশ্চিমবঙ্গের এই অবনতি কোনও ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা নয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অবক্ষয় এবং এমন এক শাসনব্যবস্থার ফল, যেখানে উন্নয়নের চেয়ে নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক সময় ভারতের শিল্পক্ষেত্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বাংলা আজ পরিণত হয়েছে একটি অর্থনৈতিক সতর্কবার্তায়, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে মতাদর্শ, তোষণমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি মিলিয়ে কয়েক দশকের অগ্রগতিকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলা যখন ক্রমেই স্থবিরতার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন পাশের রাজ্য ওড়িশায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র। এক সময় অর্থনৈতিকভাবে বাংলার থেকে পিছিয়ে থাকা ওড়িশা এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে, বিনিয়োগ টানছে, তৈরি করছে কর্মসংস্থান, এবং তরুণদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন আশার দিগন্ত। আজ আর পূর্ব ভারতের উন্নয়নের গল্প কলকাতায় লেখা হচ্ছে না, নতুন করে তা লেখা হচ্ছে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে।

    পশ্চিমবঙ্গ ছিল শিল্পের সমার্থক নাম

    স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ ছিল শিল্পের সমার্থক নাম। হাওড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্র থেকে শুরু করে দুর্গাপুরের ইস্পাত কারখানা, কলকাতা বন্দর থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সব মিলিয়ে বাংলা ছিল পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। দক্ষ শ্রমশক্তি, শিক্ষাগত উৎকর্ষ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা, সবই ছিল। যে জিনিসটি বাংলার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে পারেনি, তা হল শিল্প-বিরোধী শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় তৃণমূলের রাজত্বে। এখানে মতাদর্শগত কঠোরতার জায়গায় এসেছে আরও বিধ্বংসী এক বাস্তবতা, দৃষ্টিহীন বিশৃঙ্খলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার শিল্পের গতি কেবল মন্থর হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে (Syndicate Raj)।

    পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন লগ্নিকারীরা

    ২০১১ সালের পর থেকে ৬,৬৮৮টি সংস্থা তাদের রেজিস্ট্রিকৃত অফিস পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এই একটিমাত্র তথ্যই তৃণমূলের উন্নয়নের দাবির অন্তঃসারশূন্যতা তুলে ধরে। কোনও কারণ ছাড়া কোনও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটোয় না। তারা লোটাকম্বল নিয়ে তখনই সরে যায়, যখন নীতিনির্ধারণ অনিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা দুর্বল এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ টিকে থাকার পূর্বশর্ত হয়ে (TMC) দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীরা যেসব পরিচিত কারণের কথা বলেন, সেগুলি হল, ‘দলীয় অনুদানে’র-এর নামে তোলাবাজি, চুক্তি ও পরিবহণে সিন্ডিকেট রাজ, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক হুমকি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা, এবং এটি ‘গরিবপন্থী’ শাসন নয়, এটি উন্নয়নবিরোধী শাসন।

    তৃণমূল রাজ

    তৃণমূলের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে উঠেছে এক সমান্তরাল অর্থনীতি, যেখানে কমিশন ছাড়া কিছুই এগোয় না। আর রাজনৈতিক আশীর্বাদ ছাড়া কোনও প্রকল্প টিকে থাকে না। কুখ্যাত ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি রাজ্যের শাসনের সমার্থক হয়ে উঠেছে, যা পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে বড় পরিকাঠামো প্রকল্প পর্যন্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয়িষ্ণু করেছে। এখানে উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নয়, বরং শোষণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়। এমন পরিবেশে উদ্ভাবন বিকশিত হয় না, দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। ফলস্বরূপ, একসময় ভারতের বৌদ্ধিক গর্ব হিসেবে পরিচিত বাংলার যুবসমাজ আজ মর্যাদা ও সুযোগের সন্ধানে রাজ্যের বাইরে পাড়ি দিচ্ছে কাজের খোঁজে। যে রাজ্য প্রতিভা রফতানি করে আর ঋণ ছাড়া কিছুই আমদানি করে না, সে রাজ্য এগোচ্ছে না, সে ভেঙে পড়ছে (TMC)।

    তৃণমূল শাসিত রাজ্যের পক্ষে অপমানজনক

    ওড়িশার সঙ্গে তুলনা তৃণমূল শাসিত একটি রাজ্যের পক্ষে আরও অপমানজনক (Syndicate Raj)। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি কলকাতায় মাত্র দু’দিনের বৈঠকেই ১.০৩ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নির প্রতিশ্রুতি আদায় করে ফিরে গিয়েছেন। এগুলি কোনও প্রতীকী ঘোষণা নয়, বরং সময়সীমা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা-সহ বাস্তব শিল্প চুক্তি। জানা গিয়েছে, ২৭টি মউয়ের মাধ্যমে ৮১,৮৬৪ কোটি টাকা, ৯০,০০০-এর বেশি যুবকের কর্মসংস্থান, ইস্পাত, আইটি, উৎপাদন ও সবুজ শক্তি খাতে বিনিয়োগ, এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সমৃদ্ধ ওড়িশা’র স্পষ্ট রোডম্যাপ দিয়ে গিয়েছেন। এটাই আত্মবিশ্বাস, স্পষ্টতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। এই তিনটি গুণ আজ পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বাংলার নিজস্ব শিল্পপতিরাও এখন গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ওড়িশাকেই।

    সিন্ডিকেট রাজ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন গড়ে তুলেছেন আন্দোলন, বাধা ও সংঘাতের রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে বিকল্প না দিয়ে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেছে, প্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থায় রাজনীতিকরণ করেছে, শাসনের বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাটককে প্রাধান্য দিয়েছে। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। লগ্নিকারীরা চান আশার আলো। বাংলা কোনওটাই দেয় না (TMC)। ভারতের পূর্বাঞ্চলের পুনরুত্থান, ‘পূর্বোদয়ে’র স্বাভাবিক নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের। অথচ আজ সেই রাজ্যই নিজের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে (Syndicate Raj) দাঁড়িয়েছে। ওড়িশার উত্থান নির্মমভাবে বাংলার ব্যর্থতা উন্মোচন করে দেয়। এটি প্রমাণ করে, ভৌগোলিক অবস্থানই ভাগ্য নয়, আর ইতিহাস কোনও নিশ্চয়তা দেয় না। আসল বিষয় হল যোগ্য নেতৃত্ব।

    বাংলায় শিল্পায়নই ব্যর্থ

    যে রাজ্য একসময় অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এগিয়ে ছিল, সে যদি এমন একটি রাজ্যের কাছে পিছিয়ে পড়ে, যাকে সে একসময় ছাপিয়ে গিয়েছিল, তবে লগ্নিকারীদের রায় স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শুধু বাংলায় শিল্পায়নেই ব্যর্থ হননি, তাঁরা সক্রিয়ভাবে এর অর্থনৈতিক ভিত্তিও ধ্বংস করে দিয়েছেন। সিন্ডিকেট সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে, কাটমানিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এবং বিনিয়োগকারীদের তাড়িয়ে দিয়ে তাঁরা ভারতের অন্যতম (Syndicate Raj) সম্ভাবনাময় রাজ্যকে পরিণত করেছেন শিল্পের কবরস্থানে (TMC)।

  • Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    অতিমারির সংক্রমণ রুখতে কিংবা মায়ের প্রসবের জটিলতা কমাতে, প্রথম সারির স্বাস্থ্য ‘যোদ্ধা’ আশা কর্মী। রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁরাই দেন।‌ গ্রাম হোক‌ বা শহর, আশা কর্মীদের উপরেই জনস্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই নির্ভর করে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও রাজ্যজুড়ে আশা কর্মীদের সঙ্গে মমতার সরকারের বেনজির সংঘাত (ASHA workers vs Mamata Government) শুরু হয়েছে। নিয়মিত ভাতা পাওয়া সহ কয়েক দফা দাবিতে বারবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আবেদন জানানো সত্ত্বেও আশা কর্মীদের সমস্যা সমাধান নিয়ে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের অধিকাংশ আশা কর্মীর। আলোচনার আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার পথেও তাঁরা দিনভর হয়রানির শিকার হন। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি (Asha Workers Shortage) পালন করছেন আশা কর্মীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধের কথাও তাঁরা জানিয়েছেন‌। আর এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য আজ ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র (Public Health Crisis) মুখে দাঁড়িয়ে।

    আশা কর্মীদের অনুপস্থিতি কেন রাজ্যে স্বাস্থ্য বিপর্যয় তৈরি করতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আশা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত মহিলাদের সন্তান প্রসবকালে আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশা কর্মীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী। টিকাকরণ, প্রসবকালীন প্রয়োজনীয় সাহায্য তাঁরা করেন। তাছাড়া কোনও এলাকায় সংক্রামক রোগ হচ্ছে কিনা সেই তথ্য সংগ্রহ করা, কীভাবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা যাবে সেই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা আশা কর্মীদের কাজ। তাঁরা প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সেতু নির্মাণ করেন। জনস্বাস্থ্যে তাই আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব অর্থাৎ বাড়িতে নয়, হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব এবং মায়ের মৃত্যুরোধে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের জরুরি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন আশা কর্মী। আবার নবজাতকের কোন কোন টিকা প্রয়োজন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেই সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান হয় আশা কর্মীর মাধ‌মেই। আশা কর্মীর হাত ধরেই রাজ্যের কয়েক কোটি শিশু সময় মতো পোলিও, রুবেলা, মিজেলস ভ্যাকসিন পায়। রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে। আশা কর্মীর অনুপস্থিতি তাই শিশুদের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    যক্ষ্মা থেকে করোনা, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া থেকে নিপায় দরকার আশা কর্মীদের

    নবজাতক, গর্ভবতী ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কোথায় যক্ষ্মা রোগী আছে, আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাচ্ছেন কিনা, রোগ ছড়িয়ে যাতে না পড়ে সে দিকে নজর দেওয়া, সবটাই করেন আশা কর্মী। ভারতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে মূল প্রতিবন্ধকতা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। যা আশা কর্মীরা নজরদারি করেন। আক্রান্ত যাতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। আশা কর্মীর অভাবে সেই কাজেও ছেদ পড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    করোনা, নিপার মতো জটিল ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগ কিংবা ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, যেকোনও স্বাস্থ্য সঙ্কট রুখতে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার জনসচেতনতা। আর এই জনসচেতনতার কাজ চালান আশা কর্মীরা। দিন কয়েক আগেই রাজ্যে নিপা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছিলো। করোনা মহামারির স্মৃতি এখনো তাজা। তাছাড়া বছরভর ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার দাপট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশা কর্মী কতখানি জরুরি তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এলাকায় কোথায় কে কোন ধরনের অসুখে আক্রান্ত প্রশাসন সেই খবর আশা কর্মীদের থেকেই পায়। তাঁদের অনুপস্থিত কার্যত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছেদ ঘটালো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পথে আশা কর্মীরা?

    রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন‌। কয়েক মাস ধরেই তাঁরা নিজেদের নানান দাবিতে সরব হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার পুরুলিয়া, আসানসোল থেকে শিয়ালদা, নিউটাউন— রাজ্যের একাধিক জায়গায় আশা কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বেনজির সংঘাত সামনে এল। আশা কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তাঁরা নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। তাঁরা পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেই টাকাও অনিয়মিত পান। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি রাজ্য সরকারের আয়োজিত সমস্ত মেলা এবং অনুষ্ঠানে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু পরিবর্তে তাঁরা কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান না। ছুটির অধিকার তাঁদের নেই। ছুটি নিলেই কাজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি টাকাও কেটে নেওয়া হয়। আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া হোক। তাঁদের বেতন অন্তত ১৫ হাজার টাকা করা হোক। এছাড়াও তাঁদের ছুটির অধিকার রাজ্য সরকার নিশ্চিত করুক। অতিরিক্ত কাজ করলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি তাঁরা করেছেন।

    কেন রাজ্য সরকারের সমালোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের ৮০ হাজার আশা কর্মী দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়বে। আর তার ফলে কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন। রাজ্য জুড়ে মা ও শিশু মৃত্যুর হার বাড়তে পারে। সংক্রামক রোগের দাপট ও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজ্য সরকার আশা কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারত। মঙ্গলবার আলোচনার আশ্বাস দেওয়ার পরেও যেভাবে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আশা কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত আশা কর্মীদের দাবি নিয়ে আলোচনা করে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে, রাজ‌্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন কলিযুগের ধৃতরাষ্ট্র! ব্যক্তি একজনই। অথচ তাঁর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা শত শত। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই আজবকাণ্ড ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR) ছাঁকনিতে। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে গত কয়েকটি নির্বাচনে এমন একাধিক উদাহরণ সামনে এসেছে, যেখানে শত শত ভোটারের নথিতে একজন ব্যক্তিকেই তাঁদের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (Election Commission)। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায়, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ২৮৩ (আসানসোল জেলার বারাবনি), এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ (SIR)

    এই ধরনের ভুল তথ্যকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও জয়মাল্য বাগচির  বেঞ্চের সামনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই তথ্য তুলে ধরেন আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি বলেন, “এই ধরনের ভোটারদের যে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হল নথি সংশোধন করা। সঠিকভাবে পিতা-মাতার নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রাসঙ্গিক নথি পেশ করার দায় সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই।”

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ১৬৯ (হাওড়া জেলার বালি)-তেও এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, সাতজন ব্যক্তিকে ১০০ জনের বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে, ১০ জনকে ৫০ জন বা তার বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে, আরও ১০ জনকে ৪০ জন বা তার বেশি ভোটারের পিতা হিসেবে, ১৪ জনকে ৩০ জন বা তার বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৫০ জনকে ২০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৮,৬৮২ জনকে ১০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ২,০৬,০৫৬ জনকে ছ’জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে এবং ৪,৫৯,০৫৪ জনকে পাঁচ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (SIR)।

    ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা

    হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা ৪.৪। দ্বিবেদী বলেন, “এর অর্থ, গড়ে প্রতিটি পরিবারে ২–৩ জন সন্তান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন অভিভাবকের সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি ভোটার যুক্ত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া জরুরি।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “যেসব ক্ষেত্রে ছ’জন বা তার বেশি ভোটার নিজেদের একজন ব্যক্তিকেই অভিভাবক হিসেবে যুক্ত করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে ওই সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে বাড়তি যাচাই প্রয়োজন। এই কারণে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা নোটিশ জারি করছেন, যাতে যাচাই করা যায় এই মিল সঠিকভাবে হয়েছে কি না এবং কোনও প্রতারণামূলক ম্যাপিং হয়েছে কি না, যা বাদ দেওয়া যায়।”

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগে আরও চারটি কারণে ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেগুলি হল, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে না মেলা, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী ভোটারের (Election Commission) বয়স ও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকা অনুযায়ী গণনা করা অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া, ভোটারের বয়স ও অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি হওয়া, ভোটারের বয়স ও দাদু-ঠাকুমার বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম হওয়া (SIR)।

  • Suvendu Adhikari: “বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত”, আশাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত”, আশাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “রাজ্যের তৃণমূল সরকার একটি বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত এবং আক্রান্ত।” রাজ্যের আশাকর্মীদের (Asha Workers) পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঠিক এই ভাবেই আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) সাফ কথা, “অত্যচার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যা ব্রিটিশ আমলেও দেখা যায়নি।”

    বড় বড় লোহার ব্যারিকেড (Suvendu Adhikari)!

    বুধবার কলকাতায় এবং জেলায় জেলায় আশাকর্মীরা (Asha Workers) আন্দোলনে নেমেছেন। নিজেদের প্রাপ্য দাবি দাওয়া নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চড়াও হন আশাকর্মীরা। আন্দোলনকে দমন করতে পুলিশ এদিন লাঠিও চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেভাবে আশাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, তাতে খুব স্পষ্ট যে রাজ্যের মমতার সরকার একটি বর্বর সরকার চলছে, পুলিশ প্রশাসনের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। রাজ্যের মাতৃশক্তি আজ লুণ্ঠিত। অত্যাচার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যা ব্রিটিশ আমলকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। মানুষ সব কিছুর বিচার করবে, নির্বাচনে কড়া জবাব মিলবে।” তবে আশাকর্মীদের আন্দোলন দমন করতে প্রশাসনের তরফ থেকে আগেই স্বাস্থ্য ভবনকে বিশেষ দুর্গে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। বড় বড় লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ।

    ভোটেই যোগ্য জবাব!

    আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে ঘিরে আগেই পরিকল্পনা ছিল। সকাল থেকেই আশাকর্মীদের জমায়েতে রাজপথ ব্যাপক ভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। শহরের পাশাপাশি একাধিক রাজ্যসড়কও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আন্দোলনে যোগদানকারী আশাকর্মীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশকে সামনে রেখে রোলার চালিয়েছে তৃণমূল সরকার। গ্রেফতার, হুমকি, ধরপাকড় এবং মিথ্যা মামলা আশাকর্মীদের ব্যাপক ভাবে নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আন্দোলনকে দমন করতে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছেন।” এই মন্তব্যের পাল্টা তোপ দাগেন আশাকর্মীরা। রাজ্য আশা কর্মী ইউনিয়ানের সম্পাদিকা ইসমাত আরা খাতুন বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর যেভাবে পুলিশ দমন হুমকি এবং গ্রেফতার করেছে তার যোগ্য জবাব এবারের ভোটেই দেওয়া হবে।”

LinkedIn
Share