মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে (Election Commission) সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হল ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। এই জন্য কমিশন অত্যন্ত তৎপর হয়ে নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বুথ বা পোলিং স্টেশন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) রুট মার্চ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মুক্তভাবে প্রার্থী চয়ন করে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি কমিশন ভীষণ ভাবে দায়বদ্ধ।
এলাকা দখল (Election Commission)
ভোটের (Election Commission) আবহে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যকে ঠেকাতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, কেবল প্রধান রাস্তা নয়, বাহিনীর জওয়ানদের (Central Force) গ্রামের ভেতরের রাস্তা এবং গলিঘুঁজিতেও টহল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। বর্তমানে রাজ্যে ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে আরও বাহিনী বৃদ্ধি করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কমিশনের কড়া নজরদারি
জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রুট মার্চের নিয়মিত রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হয়। বাহিনীর গতিবিধি এবং মানুষের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করা হবে। সেনা জওয়ান এবং কর্মী মিলিয়ে এক কোম্পানিতে ১০০ থেকে ১২০ জন করে সদস্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য আনুমানিক ৫০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মার্চের প্রথম দিকে ২৪০ কোম্পানি অর্থাৎ ২৮,৮০০ জন বাহিনী (Central Force) রাজ্যে চলে এসেছে। কলকাতায় আপাতত ৩০ কোম্পানি অর্থাৎ ৩,৬০০ জন বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সোমবার এমনটাই জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর। এখন এলাকাগুলিকে (Election Commission) চেনানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই তৎপরতা?
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ ওঠায় এবার কমিশন (Election Commission) আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এই ‘অপারেশন রুট মার্চ’-এর প্রধান উদ্দেশ্য। নির্বাচন কমিশন চাইছে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যের প্রতিটি কোণায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) উপস্থিতি জানান দিতে, যাতে ভোটাররা কোনও প্রকার ভয় বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
কোথায় কত বাহিনী?
দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় তিন পুলিশ জেলা এবং দুই কমিশনারেট (Election Commission) মিলিয়ে বাহিনীর সংখ্যা হবে মোট ৫৮ কোম্পানি। মুর্শিদাবাদেও বাহিনীর সংখ্যা হবে ৫৮ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৩ কোম্পানি এবং কলকাতায় ৩০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। দুই ধাপে মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, হুগলিতে ২৭ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি, নদিয়ায় ২২ কোম্পানি, হাওড়া এবং বীরভূমে ২১ কোম্পানি করে, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ২০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। উত্তরবঙ্গে উত্তর দিনাজপুরে ১৯ কোম্পানি, মালদহে ১৮ কোম্পানি, পশ্চিম বর্ধমানে ১৭ কোম্পানি, দার্জিলিঙে ১৬ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৫ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৩ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ১১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়িতে ১০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) সংখ্যা হচ্ছে ৭ কোম্পানি এবং কালিম্পঙে ৪ কোম্পানি।

Leave a Reply