Tag: Bengali news

Bengali news

  • Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া নির্দেশিকা জারি করল তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। তাতে ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক বিমান-সহ উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান (Iran) ছেড়ে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Embassy)। ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পূর্ববর্তী সতর্কতার পরে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, কারণ দেশজুড়ে বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান প্রেক্ষাপটে ইরানে বর্তমানে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    হিংসার আগুনে জ্বলছে ইরান (Indian Embassy)

    এই নির্দেশিকাটি দেশব্যাপী হিংসাত্মক বিক্ষোভের প্রতিফলন, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০,০০০ এরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং মুদ্রার অবনতির জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের সমস্ত প্রদেশের ১৮০টিরও বেশি শহরে (Indian Embassy)। বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহণ ব্যাহত এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে হিংসাত্মক ঘটনাও। ইরান ৮৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করেছে, যার ফলে ইরানিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছেন না, পারছেন না কোনও ভিডিও পোস্ট করতেও।

    ফ্লাইট বাতিল

    বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইরানে এবং সেখান থেকে ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে। ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অনেক ভারতীয় পরিবার ইরানে (Iran) থাকা আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর পাচ্ছে না। তাদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট (Indian Embassy)। ভারতের বিদেশমন্ত্রক ৫ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিকদের আপাতত ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বানও জানিয়েছে। সর্বশেষ পরামর্শটি সেই সতর্কতার আরও তীব্রতা তুলে ধরেছে। যেহেতু ইরানে অশান্তির পারদ ক্রমশ চড়ছে, তাই এখন অবিলম্বে সে দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জাপান, জার্মানি এবং ফ্রান্স-সহ অন্যান্য দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরণের নির্দেশিকা জারি করেছে।

    ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যদিও ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের কারণে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারত এর আগে ২০২৫ সালের জুনে অপারেশন সিন্ধু চালু করেছিল, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় ৩,৪০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ইরান (Iran) থেকে সরিয়ে নিয়েছিল (Indian Embassy)।

  • INSV Kaundinya Crew: প্রথম বিদেশ সফর শেষ করল ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএসভি কৌন্ডিন্য

    INSV Kaundinya Crew: প্রথম বিদেশ সফর শেষ করল ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএসভি কৌন্ডিন্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হল বুধবার। গুজরাটের পোরবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বিদেশ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে ওমানের মাস্কাট বন্দরে নোঙর করল ভারতীয় নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জাহাজ আইএনএসভি কৌন্ডিন্য। বন্দরে পৌঁছনোর পর জাহাজটিকে দেওয়া হয় বিশেষ ওয়াটার স্যালুট। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী ‘স্টিচড সেল শিপে’র এই সাফল্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামুদ্রিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল নিদর্শন বলে অভিহিত করেছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল।

    নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ (INSV Kaundinya Crew)

    তিনি বলেন, “আইএনএসভি কৌন্ডিন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতের প্রাচীন জাহাজ নির্মাণ কৌশলকে পুনরুজ্জীবিত করে তা বিশ্বের দরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরাই ছিল তাঁর সংকল্প।” মন্ত্রী বলেন, “এই জাহাজ আমাদের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের কালজয়ী শক্তি, দক্ষতা ও টেকসই উদ্ভাবনের প্রতীক।” মন্ত্রী জানান, ইনএসভি কৌন্ডিন্যের নকশা অনুপ্রাণিত পঞ্চম শতাব্দীর একটি জাহাজ থেকে, যার চিত্র অজন্তা গুহার দেওয়ালে পাওয়া গিয়েছে। জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে কিংবদন্তি ভারতীয় নাবিক কৌন্ডিন্যর নামে, যিনি ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

    স্টিচড সেলিং ভেসেল

    জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুজরাটের পোরবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিযানে অংশ নেন চারজন অফিসার ও ১৩ জন নৌসেনা। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার বিকাশ শেওরান, এবং অফিসার-ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কমান্ডার ওয়াই হেমন্ত কুমার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালও এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিয়মিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাত্রার আপডেট শেয়ার করেন। আইএনএসভি কৌন্ডিন্য একটি ঐতিহ্যবাহী স্টিচড সেলিং ভেসেল, যা ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ইতিহাসে ব্যবহৃত সেলাই করা কাঠের জাহাজ নির্মাণ পদ্ধতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    অর্থায়ন করে সংস্কৃতি মন্ত্রক

    এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং হোডি ইনোভেশনসের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে শুরু হয়। প্রকল্পটির অর্থায়ন করে সংস্কৃতি মন্ত্রক। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কিল লেয়িং-এর পর, কেরালার দক্ষ কারিগরদের একটি দল ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে জাহাজটি নির্মাণ করেন। মাস্টার শিপরাইট বাবু শঙ্করনের  নেতৃত্বে নারকেল ফাইবার, কয়ার দড়ি ও প্রাকৃতিক রেজিন ব্যবহার করে কাঠের তক্তা সেলাই করে তৈরি করা হয় জাহাজের গঠন। প্রাচীন জাহাজগুলির কোনও নীলনকশা না থাকায়, অজন্তার গুহাচিত্র ও অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র থেকে নকশা নির্ধারণ করা হয়।
    জাহাজটির নকশা ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব যাচাই করা হয় আইআইটি মাদ্রাজের ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে হাইড্রোডাইনামিক মডেল টেস্টিং এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের মাধ্যমে।

    জাহাজটির পালে রয়েছে গণ্ডভেরুণ্ড ও সূর্য প্রতীক, সামনের অংশে খোদাই করা সিংহ-ওয়ালি, এবং ডেকে শোভা পাচ্ছে হরপ্পা যুগের আদলে তৈরি পাথরের নোঙর, যা প্রাচীন ভারতীয় সামুদ্রিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। আইএনএসভি কৌন্ডিন্য শুধুমাত্র একটি জাহাজ নয়, বরং এটি ভারতের প্রাচীন সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Pakistani Policemen Killed: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আইইডি বিস্ফোরণ, হত অন্তত ৭ পুলিশ কর্মী

    Pakistani Policemen Killed: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আইইডি বিস্ফোরণ, হত অন্তত ৭ পুলিশ কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তক্ষয়ী হামলা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। আফগান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের (Khyber Pakhtunkhw) ট্যাঙ্ক জেলার গোমাল এলাকায় সোমবার একটি আইইডি বিস্ফোরণে অন্তত ছয় থেকে সাতজন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন (Pakistani Policemen Killed)। এঁদের মধ্যে একজন স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোমাল থানার একটি সাঁজোয়া পুলিশ যান গোমাল এলাকা থেকে ট্যাঙ্ক শহরের দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা রিমোট-কন্ট্রোলড আইইডির বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ছজন পুলিশের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়।

    যাঁরা নিহত হয়েছেন (Pakistani Policemen Killed)

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গোমাল থানার এসএইচও সাব-ইন্সপেক্টর শের আসলাম, চালক আবদুল মজিদ, কনস্টেবল আরশাদ আলি, হজরত আলি, এহসান উল্লাহ- সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী (Pakistani Policemen Killed)। বিস্ফোরণের পর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ট্যাঙ্ক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। ওই একই দিনে পাশের লাক্কি মারওয়াত জেলার দাররা তাং এলাকায় আর একটি আইইডি বিস্ফোরণে তিন পুলিশ কর্মী জখম হন, যাঁদের মধ্যে একজন এসএইচও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই দুটি হামলাই খাইবার পাখতুনখোয়াজুড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার অংশ (Khyber Pakhtunkhw)।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি

    ঘটনার তীব্র নিন্দে করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তিনি বলেন, “নিহত পুলিশ কর্মীরা দেশের শান্ত ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন। জাতি তাঁদের এই আত্মত্যাগ চিরকাল স্মরণ করবে (Pakistani Policemen Killed)।” খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অটল রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহের তির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দিকে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে।

    টিটিপি!

    পাকিস্তান সরকার প্রায়ই আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে অভিযুক্ত করে যে তারা টিটিপিকে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তাদের নিজস্ব বিষয় (Pakistani Policemen Killed)। ২০২১ সালে আফগান তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই (Khyber Pakhtunkhw) পাকিস্তান-আফগান সম্পর্ক উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী শান্তির কোনও সমাধান মেলেনি।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যাঙ্ক, পেশোয়ার, বান্নু, বাজাউর ও কারাক জেলায় একের পর এক হামলা প্রমাণ করছে যে জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় এবং বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলার উদ্দেশ্য শুধু রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করাও। পুলিশ কর্মীদের এই প্রাণহানি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মানবিক মূল্যকে সামনে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, সন্ত্রাসবাদের সামাজিক (Khyber Pakhtunkhw) ও অর্থনৈতিক মূল কারণগুলির সমাধান এবং আস্থাভিত্তিক আলোচনায়ই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে পারে (Pakistani Policemen Killed)।

     

  • Sukanta Majumdar: “মোদি ক্ষণজন্মা, তাঁর কথা শুনুন”, আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে গিয়ে বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “মোদি ক্ষণজন্মা, তাঁর কথা শুনুন”, আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে গিয়ে বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মোদি (PM Modi) ক্ষণজন্মা, তাঁর কথা শুনুন। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে টাটারা ফিরবেই।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে গিয়ে কথাগুলি বললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সেই সভাস্থল পরিদর্শন করেন সুকান্ত। সেখান থেকে তিনি যান সাহানাপাড়া গ্রামে। বিলি করেন প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার আমন্ত্রণপত্র। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিদায় নেওয়ার পর এই প্রথম সেখানে সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সিংহরভেড়ি মৌজায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের মাঠে হবে সভা।

    তৃণমূলকে নিশানা (Sukanta Majumdar)

    সিঙ্গুরের মাটিতে টাটার শিল্প না হওয়ায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে দায়ী করেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার আসুক। এখানে টাটারা ফিরবে। আমরা জানি, কীভাবে করতে হয়। আমরা উত্তরপ্রদেশে ডিফেন্স করিডর করছি। ভারতের দুটো বড় করিডরের একটা উত্তরপ্রদেশে, আর একটা হয়েছে তামিলনাড়ুতে।” তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন টাটারা (Sukanta Majumdar)। পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেখানকার জমি ফিরে পেয়েছেন কৃষকরা। তবে সেই জমি আর আবাদযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্লায় পড়লে নাকও যাবে, নরুনও যাবে। তিনি শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবেন, বাকি কারও জন্য ভাবেন না। প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি (PM Modi)।” এর পরেই সুকান্ত বলেন, “তিনি (নরেন্দ্র মোদি) ক্ষণজন্মা। এমন মানুষ কম জন্মান। গোটা ভারতকে তিনি যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা শ্রদ্ধা জাগায়। তাঁর বক্তব্য শুনতে সবার আসা উচিত। তৃণমূলের লোকেদেরও আসা উচিত। তবে তাদের সৎ বুদ্ধি হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রী চান না, শিল্প হোক

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়ে সুকান্ত বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প নেই। কারণ মুখ্যমন্ত্রী চান না, শিল্প হোক। তিনি চান, মানুষ গরিব থাকুন, ঘুগনি বিক্রি করুন। তিনি ভাতা দেবেন, আর সেই ভাতার টাকায় ছোলা কিনবেন বউকে বলবেন ঘুগনি বানাতে, আপনি ঘুগনি বিক্রি করবেন আর মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোরা কোটিপতি হবে। ওঁর পরিবার ভালো থাকবে। এই কলঙ্ক সিঙ্গুরের মাথা থেকে ঘোচানোর (PM Modi) কাজ করবে ভারতীয় জনতা পার্টি।  টাটা-সহ অন্য শিল্পপতিদের এখানে নিয়ে এসে শিল্প করে দেখাব (Sukanta Majumdar) আমরা।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চৌত্রিশ বছরে বামেদের দুর্গ নাড়াতে সিঙ্গুরের এই আন্দোলন ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বামফ্রন্ট সরকার তৎকালীন সময়ে এই সিঙ্গুরে টাটা ন্যানোর কারখানা তৈরি করবে বলে কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে। তবে সেই সময় বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জেরে শিল্প না করেই সিঙ্গুর থেকে চলে যেতে হয় টাটাদের (Sukanta Majumdar)।

     

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ECI) রয়েছে, তবে সেই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এর সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নির্বাসন বা বহিষ্কারের ক্ষমতার কোনও সংঘাত নেই। সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court) এ কথাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গুচ্ছের মামলা (ECI)

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় আবেদনকারীদের মূল যুক্তির জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, তবে শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে দেশছাড়া করা হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র ভোটার তালিকার উদ্দেশ্যে যাচাই করে দেখবে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি না। এর ফল শুধু এতটুকুই হবে যে, তিনি ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য থাকবেন কি না। এর সঙ্গে নির্বাসনের কোনও সম্পর্কই নেই (Supreme Court)।”

    কী বললেন দ্বিদেবী?

    বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিবেদী বলেন, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদ ও বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং ভোটার হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ভারতের নাগরিক হওয়া (ECI)। তিনি জানান, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ভারতের নাগরিক না হন, তবে তাঁকে কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দ্বিবেদী এও বলেন, “ভারতের সংবিধানের আলোকে সংসদীয় আইন ব্যাখ্যা করতে হয়। নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।”

    এই বিষয়ে আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, “আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করার আগেই নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। কারণ, নাগরিক নন এমন কেউ ভোটাধিকার পান না (ECI)।” এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৯(২) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সেই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৬ ধারার মাধ্যমেই কমিশনের এই ক্ষমতা এসেছে (Supreme Court)। ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেয়, আর ১৬ ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব-সহ একাধিক কারণে কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার অযোগ্য ঘোষণা করা যায় (ECI)। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর ধারা এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ওই ধারা স্বেচ্ছায় বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলে, যা এসআইআরের আওতায় পড়ে না। কমিশনের আইনজীবী জানান,  এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার মূল লক্ষ্য যারা নাগরিক নয়, তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা ডিপোর্ট করার অধিকার কমিশনের নেই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না।

    দ্বিবেদীর বক্তব্য

    দ্বিবেদী আরও জানান, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০২ ও ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিতে পারেন। একইভাবে ১৯১ ও ১৯২ অনুচ্ছেদে বিধানসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (ECI)। আদালত এই (Supreme Court) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বৃহস্পতিবার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য মৃত ভোটার বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

     

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • 10 Minute Delivery: আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’, ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে কঠোর নির্দেশ কেন্দ্রের

    10 Minute Delivery: আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’, ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে কঠোর নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডেলিভারি বয়দের সুরক্ষায় এবার সক্রিয় পদেক্ষপ গ্রহণ করল কেন্দ্র। জানিয়ে দিল, আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’। ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, সুইগি, জোম্যাটোর মতো পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক (Central Government) জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে আর কোনও ভাবেই আপস নয়। তাই এখন থেকে মানতে হবে নতুন নিয়ম। ১০ মিনিটে ডেলিভারি (10 Minute Delivery) বন্ধ করতে হবে। সমস্ত ই-কমার্স বা অনলাইন পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার কাছে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বিশেষ নোটিস। বলা হয়েছে, অবিলম্বে অ্যাপগুলি থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এমন বিজ্ঞাপন।

    অনেকেই পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার (10 Minute Delivery)

    দেশজুড়ে গিগ ওয়ার্কদের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল আগেই পড়েছে। গত ২৫ এবং ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন।  শুধু তাই নয়, সংসদেও এই নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরে। তাড়াহুড়ো করে পণ্য ডেলিভারি করতে গিয়ে লাগাতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। এতো কম সময়ে দ্রুত পণ্য পৌঁছাতে গিয়ে অনেকেই পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তাই এবার থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগাম টানতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)।

    ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যে ১০ মিনিটে ডেলিভারি (10 Minute Delivery) বন্ধ করে দিয়েছে। গিগকর্মীদের মধ্যে একটা বড় অংশ একাধিকবার দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছেন আগে। চাকরির নিশ্চয়তা এবং ডেলিভারির ক্ষেত্রে ১০ মিনিটে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রাকে বন্ধ করার জোরালো দাবিও তুলেছিলেন তাঁরা। রা অভিযোগ তোলেন সুরক্ষাহীন কাজের পরিবেশ, সময়ের চাপ, উপার্জন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা না পাওয়ার বিরুদ্ধে। তাঁদের মতে, এই কাজ অত্যন্ত অমানবিক। পেশাগত কারণে এই কাজ অত্যন্ত অনৈতিক। তবে নাগরিক সামাজের মধ্যেও যদি এই ধরনের বিষয় নিয়ে আগেও একাধিকবার ব্যাপক প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে।

    বন্ধ করতে হবে বিজ্ঞাপন

    কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয় বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ব্লিঙ্কিট, জেপটোর মতো সংস্থাগুলিকে এই ১০ মিনিটে পরিষেবা (10 Minute Delivery) বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “ব্র্যান্ডিং বা প্রচারের কাজে যেন নির্দিষ্ট কোনও ডেলিভারি টাইম লিমিট ব্যবহার না করা হয়। ব্র্যান্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি থাকলে তা ডেলিভারি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। বিজ্ঞাপনের ভাষাতেও এখন থেকে এই প্রচার সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।” এই নির্দেশের পরেই কোম্পানিগুলি জানিয়েছে, ১০ মিনিটে যে গ্যারান্টি তারা দিত, সেখান থেকে তারা সরে আসছে। বিজ্ঞাপন, প্রচার বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, কোথাও আর এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হবে না। ফলে, গ্রাহকরা এখন থেকে এই ধরনের পরিষেবা আর পাবেন না। সমস্ত খাবার প্রস্তুত কারক সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে পরিষেবা বন্ধ করার পথেই তারা হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৮শে অগস্ট

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও যীশুখ্রীষ্ট (Jesus Christ)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — আর কিছু মেলে?

    মণি—আজ্ঞা, আপনি যেমন বলেন—‘ছোকরাদের ভিতর কামিনী-কাঞ্চন ঢুকে নাই; ওরা উপদেশ ধারণা করতে পারবে,—যেমন নূতন হাঁড়িতে দুধ রাখা যায়। দই পাতা হাঁড়িতে রাখলে নষ্ট হতে পারে’; তিনিও সেইরূপ বলতেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)— কি বলতেন?

    মণি—‘পুরানো বোতলে নূতন মদ রাখলে বোতল ফেটে যেতে পারে।’ আর ‘পুরানো কাপড়ে নূতন তালি দিলে শীঘ্র ছিঁড়ে যায়।’

    “আপনি যেমন বলেন(Kathamrita), ‘মা আর আপনি এক’ তিনিও তেমনি বলতেন, ‘বাবা আর আমি এক’।” (I and my father are one.)

    মণি—আপনি যেমন বলেন, ‘ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন (Kathamrita)।” তিনিও বলতেন, ‘ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে!’ (Knock and it shall be opened unto you.)

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, অবতার যদি হয়, তা পূর্ণ, না অংশ, না কলা? কেউ কেউ বলে পূর্ণ।

    মণি — আজ্ঞা, পূর্ণ, অংশ, কলা, ও-সব ভাল বুঝতে পারি না। তবে যেমন বলেছিলেন ওইটে বেশ বুঝেছি। পাঁচিলের মধ্যে গোল ফাঁক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কি বল দেখি?

    মণি—প্রাচীরের ভিতর একটি গোল ফাঁক—সেই ফাঁকের ভিতর দিয়ে প্রাচিরের ওধারের মাঠ খানিকটা দেখা যাচ্ছে। সেইরূপ আপনার ভিতর দিয়ে সেই অনন্ত ঈশ্বর খানিকটা দেখা যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—হাঁ, দুই-তিন ক্রোশ একেবারে দেখা যাচ্ছে।

    মণি চাঁদনির ঘাটে গঙ্গাস্নান করিয়া ঠাকুরের কাছে ঘরে উপনীত হইলেন। বেলা আটটা হইয়াছে।

    মণি লাটুর কাছে আটকে চাইছেন—শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের আটকে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কাছে আসিয়া মণিকে বলিতেছেন, “তুমি ওটা (প্রসাদ খাওয়া) করো—যারা ভক্ত হয়, প্রসাদ না হলে খেতে পারে না।”

    মণি—আজ্ঞা, আমি কাল অবধি বলরামবাবুর বাড়ি থেকে জগন্নাথের আটকে এনেছি — তাই রোজ একটি দুটি খাই।

    মণি ভূমিষ্ঠ হইয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিতেছেন (Kathamrita) ও বিদায় গ্রহণ করিতেছেন। ঠাকুর সস্নেহে বলিতেছেন, তবে তুমি সকাল সকাল এসো—আবার ভাদ্র মাসের রৌদ্র—বড় খারাপ।

  • JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Cases) দুটি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। ঠিক তারপরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে দ্রুত সংক্রমণ বিস্তারের রোধে একটি কেন্দ্রীয় পরিদর্শকের টিম গঠন করেছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সব রকম ভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।

    জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু (JP Nadda)

    ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। আর এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু করেছে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের (Nipah Cases) তথ্য পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকারী সমন্বয় কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য সচিবের সঙ্গে প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আলোচনাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda)।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়

    রাজ্য সরকারকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট (পুণে), জাতীয় মহামারীবিদ্যা ইনস্টিটিউট (চেন্নাই), অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (কলকাতা), এইমস কল্যাণী এবং পরিবেশ মন্ত্রকের বন্যপ্রাণী বিভাগ সহ শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্তরের সমন্বয় টিম কাজ শুরু করেছে।

    দিল্লির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারকেও সক্রিয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরীক্ষাগার সহায়তা, সংক্রমণে নজরদারি, সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রোটোকল এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান, সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ (Nipah Cases) রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    নিপা ভাইরাস একটি ‘জুনোটিক’ সংক্রমণ যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংক্রমণ দ্রুত মৃত্যুর প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণকে বার বার গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

LinkedIn
Share