Tag: Bengali news

Bengali news

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার বুকে এখনও টিকে রয়েছে এমন এক পানীয়, স্বাদে ও ঐতিহ্যে যার জুড়ি মেলা ভার। শহরের বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের পাশে (Old Heritage Drink) একটি সাধারণ ভ্যানে গরমের মরশুমে বিক্রি হচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’ (Neera Prash)। প্রায় ৭০ বছরের পুরানো এই পানীয়টি বাজারে এসেছিল ১৯৫৫ সালে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রথিতযশা চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে। বিদেশি নরম পানীয়ের দেশীয় বিকল্প হিসেবেই বাজারে আনা হয়েছিল নীরা প্রাশ।

    নীরা প্রাশের রসায়ন (Neera Prash)

    মূলত তালমিছরি দিয়ে তৈরি নীরা প্রাশে সামান্য সাইট্রিক অ্যাসিড মেশানো হয়, যা পানীয়টিকে হালকা টক স্বাদ দেয়। অল্প পরিমাণ খাদ্যোপযোগী সংরক্ষণকারী উপাদান থাকায় এটি প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকার উদ্যোগে তৈরি এই পানীয় আজও শহরের অন্যতম সস্তা ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে পরিচিত। ২৫০ মিলিলিটারের কাচের বোতলের দাম মাত্র ১০ টাকা, আর ৪০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিকের বোতলের দাম ২০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় সমিতির প্রবীণ আধিকারিক তথা ক্যাশিয়ার প্রসেনজিৎ ধাড়া বলেন, “এই মুহূর্তে বিবাদী বাগেই আমাদের একমাত্র ভ্যান চলছে। দেশপ্রিয় পার্কে আমাদের দফতর থেকে বোতল পাওয়া যায়। খুব শীঘ্রই নিউ মার্কেট এবং আলিপুর এলাকায়ও ভ্যান পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    নীরা প্রাশের কদর

    শুধু অফিসপাড়ার কর্মীরাই নন, বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও নীরা প্রাশের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দেশপ্রিয় পার্ক লাগোয়া এলাকায় অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই একসঙ্গে অনেক নীরা প্রাশের অর্ডার দেন (Neera Prash)। তবে সপ্তাহের কাজের দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় অফিসকর্মীদের। ভ্যানচালক তথা নীরা প্রাশ বিক্রেতা তন্ময় দাস জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি বোতল বিক্রি হয়। ব্যবহারের পর কাচের বোতলগুলি সংগ্রহ করে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর সেগুলিতে পানীয় ভরে পরদিন আবারও বিক্রি করা হয়।” সোম থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে নীরা প্রাশের এই ভ্যান। বিমা সংস্থার কর্মী দেবকুমার সমাজদার বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় কাজ করছি। প্রায় প্রতিদিনই নীরা প্রাশ খাই। কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। গরমে দারুণ সতেজ লাগে।” নীরা প্রাশের আর এক ফ্যান বিশ্বনাথ কল্যাণ। তাঁর কথায়, “কলকাতায় এই পানীয় অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এটাই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এটি পুষ্টিকর, ক্যাফেইনমুক্ত, এবং স্বাদও অসাধারণ।” প্রসঙ্গত, নীরা প্রাশের (Neera Prash) পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকা তালগুড় থেকে (Old Heritage Drink) তৈরি করে আচার, সস এবং জ্যামও।

     

  • India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হত। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর (Global Energy Leader) নির্ভরশীলতাই ছিল ভারতের ভবিতব্য। সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। তবে গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকার আমূল বদল হয়েছে। এখন শুধু অপরিশোধিত তেল আমদানি নয়, সেই তেল পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বহু দেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নয়া মূল্য সংযোজন।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি খাতে ভারতের আয় (India)

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি থেকে ভারতের বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রোজগার হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি খাত। আগামী কয়েক বছরে এই রফতানি আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলেই আশা। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হল দেশের পরিশোধন পরিকাঠামো সম্প্রসারণ। দেশের বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড হরিয়ানার পানিপথ, গুজরাতের ভদোদরা এবং বিহারের বরৌনি শোধনাগার সম্প্রসারণে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট পরিশোধন ক্ষমতা বছরে হবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির পরিমাণও আরও বাড়বে (Global Energy Leader)।

    ভারতে রয়েছে অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার

    ভারত এখন অপরিশোধিত তেল নয়, বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, উচ্চগতির ডিজেল, বিমান জ্বালানি, সামুদ্রিক জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ন্যাফথা, পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্য। অপরিশোধিত তেলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করে ভারত (India) একদিকে যেমন রফতানি আয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশের পরিবহণ, শিল্প, বিমান চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তেল শোধনাগার ভারতের রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা ও দামের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব হয়, যা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি

    কম পরিচালন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ভারত মহাসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে (India)। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ভারতের এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তখনও ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে (Global Energy Leader)। এর ফলে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকায় আগামী দিনে ভারতের সম্প্রসারিত পরিশোধন নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতেও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, উৎপাদনভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্রমেই হচ্ছে মজবুত। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তাও (India)।

    বাড়ছে বিনিয়োগও

    এছাড়া, বৃহৎ পরিসরে শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, পেট্রোরসায়ন শিল্প, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং বন্দর পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়নকে আরও গতি দিচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের গল্প এখন আর শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন মূল্য সংযোজন, রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছরে পৌঁছনোর পথে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভারত ধীরে ধীরে শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হচ্ছে।

    এই পরিবর্তন শুধু শিল্পোন্নয়নের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও পরিচয় বহন করে। আগামী দিনে পরিশোধন ক্ষমতা ও রফতানি আরও বাড়লে (Global Energy Leader) বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের গুরুত্ব যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য (India)।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিত শর্মা হত্যা (IB Officer Murder Verdict) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। তারপর মঙ্গলবার আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর দাবি, তাহির হুসেনের পাশাপাশি এই ঘটনার সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কারণ তিনি হুসেনকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতার বক্তব্য (IB Officer Murder Verdict)

    সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে গৌরব বলেন, “এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাহির হুসেন। ওই সময় তিনি আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৬৫ ধারায় অপহরণ এবং ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাহির হুসেনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।” ভাটিয়ার দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত প্রায় ৬০ জনের জন্য কিংবা অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেজরিওয়াল একটি কথাও বলেননি।

    জনতাকে উসকে দেন তাহির

    আদালতের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আদালত জানিয়েছে, অঙ্কিত যখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার সামনে এসেছিলেন, তখন তাহির জনতাকে উসকে দেন। আদালত আরও বলেছে, অভিযুক্তরা একটি ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দুদের হত্যা করতে চেয়েছিল এবং সেই কারণেই অঙ্কিত শর্মাকেও হত্যা করা হয়।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাহিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন? কেন তিনি অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি?” আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লা খানের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভাটিয়ার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে আম আদমি পার্টি। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের দেহে ৫১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, এত নৃশংস ঘটনার পরেও কেজরিওয়াল কখনও শর্মা পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

    আপ এবং কংগ্রেসকেও নিশানা

    কংগ্রেসকেও নিশানা করেন এই বিজেপি কর্তা। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি বলেন, “সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ আমি জানতে চাই, কতজন ভারতীয় মুসলিম তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? উত্তর একটিও নয়।” সোনিয়া গান্ধীর ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে (IB Officer Murder Verdict) ভাটিয়া বলেন, “যখন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন এই লড়াই কীসের জন্য ছিল?” রাহুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) দাঙ্গা কবলিত এলাকায় গিয়ে একটি মসজিদে গিয়েছিলেন, যদিও অঙ্কিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। এটি নিরাময়ের স্পর্শ নয়, বরং রক্তাক্ত করার স্পর্শ ছিল।”

    শেষে বিজেপির পক্ষ থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে দিল্লিবাসী ও দেশের মানুষের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আমানতুল্লা খান এবং ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (BJP) নেওয়ারও দাবি তোলেন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “যে-ই যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রত্যেক অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে (IB Officer Murder Verdict)।”

     

  • India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লর্ডসের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া মহিলাদের টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখল ভারত (India)। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই (Womens Test) ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতের প্রমীলা বাহিনী।

    টেস্ট ক্রিকেটে অটুট ভারতের দাপট (India)

    এই জয়ের ফলে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক দাপট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। শেষ ১১টি টেস্টে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি জয়, তিনটি ড্র এবং মাত্র একটি হার। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলা ১১টি মহিলাদের টেস্টেও এখনও অপরাজিত ভারত।ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির দেশের ‘দুর্গা’রা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলায় মাত্র ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে অনায়াসেই ২৭০ রানের জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন যাস্তিকা ভাটিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে দুরন্ত শতরান করে তিনি লর্ডসে টেস্টে শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। তাঁর অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের লিড থাকায় ভারতের মোট লিড দাঁড়ায় ৪৫৬ রান। স্মৃতি মন্ধনা ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

    ‘অপরাজিতা’…

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। স্মৃতি মন্ধনা ৮৩, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। জবাবে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। অভিষেক ম্যাচেই পেসার ক্রান্তি গাউড পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেন (India)। ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ট্যামি বিউমন্ট শূন্য রানে প্রথম বলেই আউট হন। অভিজ্ঞ হেদার নাইটও অল্প রান করে ফিরে যান (Womens Test)। এরপর অ্যামি জোনস ও সোফি একলস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একলস্টোন ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও লড়াই করেন। তবে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। শেষ দিনে দীপ্তি শর্মা চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন এবং ভারতের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। যাস্তিকার ঐতিহাসিক শতরান এবং ক্রান্তির অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব যেমন ভারতের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি (Womens Test) হয়ে রইল, তেমনই অভিজ্ঞ হেদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের বিদায়ী টেস্ট ইংল্যান্ডের কাছে (India) হতাশার স্মৃতি হয়ে রইল।

     

  • Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল ইজরায়েল (Israel)। ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তাঁকেই দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ছকেছিল তেল আভিভ (ইজরায়েলের রাজধানী)। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেই এমনই দাবি করা হয়েছে (Ahmadinejad Intelligence Asset)।

    ইজরায়েলের ছক! (Israel)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম দিকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মোসাদের সদস্যরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ স্বয়ং ওই উদ্ধার অভিযানে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, এবং আস্থা হারিয়েছিলেন ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ইজরায়েলি পরিকল্পনার সাফল্যে। ফলে গোটা পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। সম্মেলনটি ছিল আসলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের আড়াল। সেই সময় মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজেও বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    আহমাদিনেজাদ-রহস্য

    গত বছরের জুন মাসে আবারও বুদাপেস্ট সফরে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানি রক্ষীরা পরে জানান, ওই সফরে অন্তত দু’বার তিনি তাঁদের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিদেশ সফর এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা (Israel)। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের থাকার ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়ি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের বক্তব্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা।

    ভূখণ্ড দখলের ছক!

    এরপর তাঁকে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। একই সময়ে ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানি কুর্দি বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভূখণ্ড দখল এবং পরে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কীভাবে আহমাদিনেজাদ নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এর কিছুদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের যাত্রায় খানিকক্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল আহমাদিনেজাদকে। তিনি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছিলেন, এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইরানের চার প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন আহমাদিনেজাদ, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠদের কাছে আহমাদিনেজাদ (নাকি) জানিয়েছিলেন, বিদেশি সমর্থনে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। শাসন পরিবর্তনের পর তিনি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে (Israel)। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোসাদ কিংবা আহমাদিনেজাদের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে (Ahmadinejad Intelligence Asset) কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাই জানা যায়নি, সত্যটা ঠিক কী।

     

  • Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি তুলে ধরে জনসমর্থন আদায় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)। প্রতিপক্ষের সামান্য ভুল বা বিতর্কিত মন্তব্যকেও তিনি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বহুবার (Leon Musk)। অবশ্য সম্প্রতি উল্টে গিয়েছে পাশা! একের পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই একাধিক তথ্যগত বিভ্রান্তি ও মুখ ফসকে ভুল মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক ভুলই এখন রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের।

    ভুল নিয়ে বিরোধীদের করতেন কটাক্ষ (Trump)

    নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প জো বাইডেনের বিভিন্ন ভুলের একটি সংকলিত ভিডিও পর্যন্ত দেখিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বাইডেন একবার ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের নাম গুলিয়ে ফেললে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “দারুণ কাজ, জো!” আবার ওবামা একবার ভুল করে বলেছিলেন তিনি ৫৭টি অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন। সেই সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, “আমি যদি এমন কথা বলতাম, সেটাই বছরের সবচেয়ে বড় খবর হয়ে যেত।”

    একাধিক ভুলের জন্য খবরে ট্রাম্প

    এবার সেই একই ধরনের একাধিক ভুলের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন ট্রাম্প নিজেই। সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে বসে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি তিনটি উল্লেখযোগ্য ভুল করেন। ইরানের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে দেশটিকে “জাপানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র” বলে উল্লেখ করেন। এরপর ইরানের পরমাণু চুক্তির সংক্ষিপ্ত রূপও ভুল উচ্চারণ করেন। সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য কোনও প্রশ্ন আছে?” অথচ তাঁর পাশেই বসে ছিলেন জেলেনস্কি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেনও জেলেনস্কি এবং পুতিনের নাম গুলিয়ে ফেলেছিলেন। সেই ঘটনায় তখন সব চেয়ে বেশি সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্পই।

    ট্রাম্পের ভুল

    এর আগেও একাধিক অনুষ্ঠানে একই ধরনের ভুল করতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। জুনে সংস্কার হওয়া রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমান পরিদর্শনের সময় শিল্পপতি ইলন মাস্ককে ভুল করে “লিয়ন” বলে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। যদিও কিছুক্ষণ পরেই ভুল শুধরে নেন। ন্যাটো সম্মেলনের কয়েক দিন আগে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রধান কেলি লফলারকে পরিচয় করাতে গিয়ে দু’বার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের নাম উচ্চারণ করেন। একবার ভুলবশত এবং পরে আবার যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই নাম ব্যবহার করেন। মে মাসে ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানতে চান দলের প্রধান প্রশিক্ষক কার্ট সিগনেটি কোথায়। অথচ সিগনেটি তখন তাঁর একেবারে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন (Trump)। ওই মাসে আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং কাবুল বিমানবন্দরে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেন। যদিও ওবামা সরে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালেই, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল বাইডেনের আমলে (Leon Musk)।

    ভুল, আরও ভুল

    মে মাসেই তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সেটিকে ইরান সংক্রান্ত প্রশ্ন ভেবে উত্তর দেন এবং “তাদের (হরমুজ) প্রণালী” নিয়ে মন্তব্য করেন। এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ইউক্রেন সামরিকভাবে পরাজিত।” কিন্তু পরে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি আসলে ইরানের নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলেন (Trump)। ওই মাসেই নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিটকে পরিচয় করাতে গিয়ে তাঁর পরিবর্তে কেলিয়ান কনওয়ের নাম বলেছিলেন ট্রাম্প। জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোস বৈঠকে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তে আইসল্যান্ডের নাম উচ্চারণ করেন। অথচ গ্রিনল্যান্ড নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। গত নভেম্বরে মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প শহরটিকে “দক্ষিণ আফ্রিকা” থেকে পালিয়ে আসা মানুষের আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য নিজেকে শুধরে নিয়ে “দক্ষিণ আমেরিকা” বললেও, আবারও ফিরে যান “দক্ষিণ আফ্রিকা” প্রসঙ্গে।

    প্রতিপক্ষকেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন ট্রাম্প!

    গত বছরই দু’বার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আজারবাইজান ও আলবেনিয়ার মধ্যে সংঘাত মেটানোর কৃতিত্ব তাঁর। যদিও ওই দুই দেশের মধ্যে এমন কোনও যুদ্ধই হয়নি। বাস্তবে তিনি যে সংঘাতের কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেটি হয়েছিল আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে (Trump)। এদিকে, এই অগাস্টেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প দু’বার প্রকাশ্যে বলেন, তিনি রাশিয়ায় যাচ্ছেন। যদিও বৈঠকটি হওয়ার কথা আলাস্কায়, যা উনিশ শতকের ছয়ের দশক থেকে আর রাশিয়ার অংশ নয় (Leon Musk)। ট্রাম্প অতীতে প্রতিপক্ষদের একই ধরনের ভুল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেও, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও নাম গুলিয়ে ফেলার ঘটনাগুলি এখন নতুন নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক সমালোচকদের হাতেই (Trump)।

     

  • Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের (China) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক (Global Diplomacy) কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আক্ষরিক অর্থেই দিনরাত এক করে এশিয়া, ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট ১৩টি দেশ সফর করে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করেছেন, তখন ওই একই সময়ে জিনপিং গিয়েছেন মাত্র একবার বিদেশ সফরে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ঘিরে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উঠতে শুরু করেছে হাজারো প্রশ্ন।

    জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর (Global Diplomacy)

    জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর ছিল ৮ থেকে ১০ জুন, উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর বাইরে তিনি বিদেশ সফরে না গিয়ে বেজিংয়েই ছিলেন, এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। অতীতে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় কূটনৈতিক সফরের জন্য পরিচিত জিনপিংয়ের এই অতি-সীমিত বিদেশ সফর জন্ম দিয়েছে নানা জল্পনার। অথচ, ওই সময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মালয়েশিয়া ও ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। মে মাসে সফর করেন ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশ। জুনে গিয়েছিলেন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায়। এই মাসেরই শেষের দিকে সফর করেন সেশেলস। জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ইন্দো-প্যাসিফিক সফরসূচি।

    একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে চিন

    এর মধ্যে সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় চার দশক পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেন, যা ওই অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (China)। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক বৈপরীত্য এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন চিন একইসঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএতে চলা ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান। গত অক্টোবরে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ন’জন শীর্ষ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে এই নির্দেশটি দেওয়া হয়, কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ প্লেনামের ঠিক আগে আগে, যেখানে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামো অনুমোদিত হয়েছিল (Global Diplomacy)।

    গোপন টিউমার

    অপসারিত আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল হে ওয়েইদং, যিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। সামরিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে হে জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিলে শুরু হয় গুঞ্জন। পরে তাঁকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পিএলএর সরকারি মুখপত্রে তাঁকে এবং অন্য অপসারিত কর্তাদের “অবিশ্বস্ত” ও “গোপন টিউমার” বলে উল্লেখ করা হয়। শুদ্ধি অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ন’জন প্রবীণ সামরিক প্রতিনিধিকে জাতীয় গণ কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চার মাস পরে স্থায়ী কমিটি আরও ছ’জন পদস্থ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল শু শুয়েচিয়াং, জেনারেল লি ফেংবিয়াও, জেনারেল গো পুশিয়াও, ওয়াং কাংপিং, ঝাং মিংহুয়া এবং ইন হংসিং। বিমানবাহিনী, স্থলবাহিনী, সাইবার বাহিনী, সরঞ্জাম উন্নয়ন বিভাগ এবং পূর্ব ও পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড—সব ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে (Global Diplomacy)।

    আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিত!

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অপসারিত অনেক কর্তাকেই জিনপিং নিজে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভিযান কেবল দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নয়, বরং সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। যদিও গত কয়েক বছরে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্তার হঠাৎ অন্তর্ধান, বরখাস্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী চিন গ্যাংয়ের অন্তর্ধান, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর অপসারণ, রকেট বাহিনীর একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং সাম্প্রতিক সামরিক শুদ্ধি অভিযান সেই জল্পনাকে আরও একবার উসকে দিয়েছে (Global Diplomacy)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতবিরোধ সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। বরং হঠাৎ পদচ্যুতি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত মিলতে পারে। গত এক দশকে জিনপিং নিজেই পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকজন নিয়োগ করেছেন। ফলে তাঁর নিজের বেছে নেওয়া কর্তাদের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ (China)।

    নানা সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতি

    এদিকে, চিনের অর্থনীতিও নানা সমস্যা জর্জরিত। একসময় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সম্পত্তি খাত। বড় বড় নির্মাণ সংস্থার ধসের পর সেই খাত এখনও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জমি বিক্রি থেকে স্থানীয় প্রশাসনের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পরিকাঠামো প্রকল্পেও। ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, তরুণদের বেকারত্ব, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং মূল্যপতনের চাপ চিনের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় শিল্প উৎপাদন ধরে রাখতে রফতানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে (Global Diplomacy)।

    কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব

    অন্যদিকে, বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা উৎপাদনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। “চায়না প্লাস ওয়ান” কৌশলের ফলে চিনের উৎপাদনভিত্তিক আধিপত্যও আগের মতো অটুট নেই। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়া এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (China)। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    জল্পনা জল্পনাই

    তবে জিনপিংয়ের সীমিত বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যত জল্পনাই থাকুক না কেন, শুধুমাত্র বিদেশ সফর কম হওয়াকেই তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা হারানোর কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সামরিক শুদ্ধি অভিযান, ধারাবাহিক প্রশাসনিক রদবদল, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সফর—সব মিলিয়ে চিনের নেতৃত্ব যে একটি জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। একই সময়ে ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার (Global Diplomacy) দিকটিকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে (China)।

     

  • Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফি বছর ১৩ জুলাই দিনটি ‘ব্ল্যাক ডে’ (Black Day) হিসেবে পালন করে আসছে বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি হিন্দু সম্প্রদায়ের (Kashmiri Hindus) একটি বড় অংশ। দেশের বিভিন্ন শহর এবং বিদেশে বসবাসরত বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত এই দিনটিকে ১৯৩১ সালের ঘটনাবলির স্মরণে পালন করেন। তাঁদের দাবি, ওই দিন থেকেই কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত হিংসার সূচনা হয়েছিল, যার পরিণতি ১৯৮৯-৯০ সালের গণ-নির্বাসন। ১৯৩০ সালে লন্ডনে হওয়া গোল টেবিল বৈঠকে দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মহারাজা হরি সিং। সেখানে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। কাশ্মীরি হিন্দুদের একাংশের মতে, এর পর থেকেই ব্রিটিশ প্রশাসন মহারাজার অবস্থান দুর্বল করার লক্ষ্যে নানা রাজনৈতিক পদক্ষেপ করে এবং রাজ্যের মুসলিম অভিজাতদের একটি অংশকে সেই কৌশলের অংশ করে তোলে।

    সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে ইন্ধন (Black Day)

    এদিকে, মহারাজার বৃত্তি নিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র পরবর্তীকালে ডোগরা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মহম্মদ আবদুল্লা। তিনি প্রথমে শ্রীনগর স্টাডি সার্কেল গড়ে তোলেন, যা পরে জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্সে রূপান্তরিত হয়। অভিযোগ, এই সংগঠনই ১৯৩১ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এবং কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে উসকে দেয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশের বক্তব্য, ১৩ জুলাই ১৯৩১ ছিল কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় আকারের সংগঠিত হামলার দিন। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ প্রশাসন, মুসলিম কনফারেন্স এবং বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর ভূমিকা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল (Black Day)। ব্রিটিশদের মদতে পেশোয়ারের বাসিন্দা আবদুল কাদিরকে কাশ্মীরে এনে মহারাজার বিরুদ্ধে মুসলিম জনমত গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে মুসলিম কনফারেন্স “কাশ্মীর ছাড়ো” স্লোগান তুলে আন্দোলন শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় মহারাজার সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে টার্গেট করা হয় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের।

    জেলে ভেঙেছিল বন্দিরা

    এই বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৩১ সালের ২৯ জুলাই খ্রেওর মা জ্বালা দেবীর জন্মোৎসব উপলক্ষে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত শ্রীনগরের বাইরে থাকবেন, সেই সুযোগে তাঁদের বাড়িঘর লুট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও সেই পরিকল্পনার খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বানচাল হয়ে যায় (Black Day) ষড়যন্ত্র। এর কিছুদিন আগে, ১২ ও ১৩ জুলাই শ্রীনগরের হরিপর্বত সেন্ট্রাল জেলে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, আবদুল কাদিরের প্ররোচনায় বন্দিদের একাংশ জেল ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফলশ্রুতিতে শ্রীনগরের বিচারনাগ, মহারাজগঞ্জ, আমিরাকাদল, হরি সিং হাই স্ট্রিট, বোহরি কাদল-সহ একাধিক এলাকায় হিন্দুদের (Kashmiri Hindus) বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার (Black Day) অভিযোগ ওঠে।এখনকার বদগাঁও জেলার কানিকুট গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলা হয় বলেও অভিযোগ। সেখানে একটি পরিবারের সদস্যদের বহুতল বাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ একতরফা হামলা এবং নিরীহ হিন্দুদের ওপর সংঘটিত এক সংগঠিত হিংসা।

    শেখ সাহেব…

    প্রাক্তন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রামনাথ কৌল তাঁর “শেখ মহম্মদ আবদুল্লা: আ পলিটিক্যাল ফিনিক্স” গ্রন্থে ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার একটি বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে কয়েকজন জখম হন। পরে তাঁদের মুসলিম কনফারেন্সের সদর দফতর মুজাহিদ মঞ্জিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় গুরুতর জখম এক ব্যক্তি শেখ আবদুল্লাকে বলেন, “শেখ সাহেব, আপনি আমাদের যা বলেছিলেন, আমরা তাই করেছি।” এরপর তাঁর মৃত্যু হয় বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে। এই বিবরণ অনুযায়ী, পরে নিহতদের “শহিদ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা এই ঘটনাকে “বাটা লুট” নামে উল্লেখ করতে শুরু করেন এবং ১৯৩২ সাল থেকে ১৩ জুলাই দিনটিকে “ব্ল্যাক ডে” হিসেবে পালন করে আসছেন। নির্বাসিত জীবনেও এই প্রথা বজায় রয়েছে (Black Day)।

    কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ফল

    কাশ্মীরি হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, ১৩ জুলাই ১৯৩১-এর ঘটনাই পরবর্তী কয়েক দশকে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ভিত্তি তৈরি করে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই কাশ্মীর থেকে হিন্দুদের উৎখাতের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা শুরু (Kashmiri Hindus) হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের দাবি, ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হিংসার স্মৃতিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের উচিত দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “ব্ল্যাক ডে” ঘোষণা করা। প্রসঙ্গত, ১৩ জুলাই ১৯৩১ সালের এই সব ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক, গবেষক এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যাখ্যাও আলাদা। তবে একথা ঠিক যে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আক্ষরিক অর্থেই ভিটেছাড়া হওয়ার (Black Day) নেপথ্যে ছিল ইংরেজদের রোপণ করা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের বীজ।

     

LinkedIn
Share