Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যতের এক ঝলক তুলে ধরতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। ২৬ জানুয়ারি (Republic Day 2026) কর্তব্য পথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রাইফেল-মাউন্টেড রোবট। সাম্প্রতিক মহড়ায় দেখা গিয়েছে এই উন্নত চতুষ্পদ যন্ত্রগুলো। এই ধরনের অস্ত্র ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেই রীতি বদলের সূচনা করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মনির্ভরতার বার্তা দিতে দেশে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। সেই ধারা মেনেই এ বার ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্যপথে সামরিক উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নতুন কয়েকটি নমুনার সঙ্গে দেশবাসী পরিচিত হবেন।

    যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রোবট

    রাইফেল-মাউন্টেড রোবটগুলি সাধারণত মাল্টি-ইউটিলিটি লেগড ইকুইপমেন্ট (MULEs)। যুদ্ধ সহায়তা ও নজরদারির জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলি অস্ত্র, সেন্সর এবং নজরদারি সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই ১০০টি এমন রোবোটিক মডিউল নিজেদের অপারেশনাল ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটিকে স্বয়ংক্রিয়তা ও মানববিহীন যুদ্ধক্ষেত্র সহায়তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ধরনের চতুষ্পদ রোবট আগে অসামরিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছিল— ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট সম্প্রচারে চলমান ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রোবটগুলি। এবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নজরদারি, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধের জন্য অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে সেনাবাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও শত্রুপ্রবণ এলাকায় এই রোবটের কার্যকারিতা অপরিসীম।

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র

    একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। ভারত থেকে পাকিস্তান, ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র,—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ।

    অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল

    প্রযুক্তির এই প্রদর্শনীকে আরও জোরালো করবে ডিআরডিও-র তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (LRAShM)। আগামী ২৬ জানুয়ারি অর্থাৎ, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ভারতের নতুন দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রর নকশা ও প্রস্তুত করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও। অত্যাধুনিক এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর হাইপারসনিক গতি। অর্থাৎ, শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি বেগে উড়তে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। আর সেই কারণেই শত্রুপক্ষের রেডারে ধরা পড়ে না এই মিসাইল। বর্তমানে এই ক্ষেপণাত্র ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম। তবে, আগামীতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যাতে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করছে ডিআরডিও। এই ক্ষেপণাত্র বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহন করতে পারে। যাতে এই একই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের বর্ম ভেদ করতে পারে। এ ছাড়াও এই মিসাইল মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়তে পারে। ফলে আকাশের দিকে লক্ষ্য রাখা বিভিন্ন রেডার এড়িয়ে যেতে পারে। এই মিসাইলের এরোডায়নামিক দক্ষতা একে অনেক দূর পর্যন্ত গ্লাইড করতে বা উড়তে সাহায্য করে। এর প্রদর্শন ভারতের হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    কৌশলগত দিক থেকেও এই মিসাইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মিসাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। কারণ, এই মিসাইল সর্বোচ্চ দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ডিআরডিও দুই ধরনের মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। একটি হল হাইপারসনিক ইন্টার কন্টিনেন্টাল গ্লাইড মিসাইল ও হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। লং-রেঞ্জ অ্যান্টি শিপ মিসাইলের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রমাণ করে মিসাইল নিয়ন্ত্রণ কৌশল, মিসাইলের গতিপথের নকশা ও মিসাইল প্রযুক্তি তৈরিতে ভারত এখন গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে।

    কর্তব্য পথে আত্মনির্ভর ভারত

    ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ (Republic Day 2026) ভারত উদযাপন করবে তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। প্রথা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে থাকে বর্ণাঢ্য সামরিক প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশজুড়ে দেশাত্মবোধক কর্মসূচি। এ বছরের থিম বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে—‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই থিম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয় সংগীতের ভূমিকা এবং দেশের সামষ্টিক চেতনায় তার চিরস্থায়ী প্রভাবকে শ্রদ্ধা জানায়। সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র। বাড়ছে যুদ্ধ বিমান, যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা। উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। একদিকে যেমন বিদেশি সংস্থা বিনিয়োগ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা সেক্টরে তেমনই ভারতের ডিআরডিও সহ সংস্থাগুলোও কাজ করে চলেছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতাই হয়ে উঠেছে ভারতের মন্ত্র। এবার তারই ছবি ফুটে উঠবে দিল্লির কর্তব্য পথে।

  • Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    অতিমারির সংক্রমণ রুখতে কিংবা মায়ের প্রসবের জটিলতা কমাতে, প্রথম সারির স্বাস্থ্য ‘যোদ্ধা’ আশা কর্মী। রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁরাই দেন।‌ গ্রাম হোক‌ বা শহর, আশা কর্মীদের উপরেই জনস্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই নির্ভর করে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও রাজ্যজুড়ে আশা কর্মীদের সঙ্গে মমতার সরকারের বেনজির সংঘাত (ASHA workers vs Mamata Government) শুরু হয়েছে। নিয়মিত ভাতা পাওয়া সহ কয়েক দফা দাবিতে বারবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আবেদন জানানো সত্ত্বেও আশা কর্মীদের সমস্যা সমাধান নিয়ে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের অধিকাংশ আশা কর্মীর। আলোচনার আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার পথেও তাঁরা দিনভর হয়রানির শিকার হন। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি (Asha Workers Shortage) পালন করছেন আশা কর্মীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধের কথাও তাঁরা জানিয়েছেন‌। আর এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য আজ ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র (Public Health Crisis) মুখে দাঁড়িয়ে।

    আশা কর্মীদের অনুপস্থিতি কেন রাজ্যে স্বাস্থ্য বিপর্যয় তৈরি করতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আশা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত মহিলাদের সন্তান প্রসবকালে আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশা কর্মীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী। টিকাকরণ, প্রসবকালীন প্রয়োজনীয় সাহায্য তাঁরা করেন। তাছাড়া কোনও এলাকায় সংক্রামক রোগ হচ্ছে কিনা সেই তথ্য সংগ্রহ করা, কীভাবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা যাবে সেই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা আশা কর্মীদের কাজ। তাঁরা প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সেতু নির্মাণ করেন। জনস্বাস্থ্যে তাই আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব অর্থাৎ বাড়িতে নয়, হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব এবং মায়ের মৃত্যুরোধে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের জরুরি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন আশা কর্মী। আবার নবজাতকের কোন কোন টিকা প্রয়োজন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেই সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান হয় আশা কর্মীর মাধ‌মেই। আশা কর্মীর হাত ধরেই রাজ্যের কয়েক কোটি শিশু সময় মতো পোলিও, রুবেলা, মিজেলস ভ্যাকসিন পায়। রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে। আশা কর্মীর অনুপস্থিতি তাই শিশুদের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    যক্ষ্মা থেকে করোনা, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া থেকে নিপায় দরকার আশা কর্মীদের

    নবজাতক, গর্ভবতী ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কোথায় যক্ষ্মা রোগী আছে, আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাচ্ছেন কিনা, রোগ ছড়িয়ে যাতে না পড়ে সে দিকে নজর দেওয়া, সবটাই করেন আশা কর্মী। ভারতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে মূল প্রতিবন্ধকতা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। যা আশা কর্মীরা নজরদারি করেন। আক্রান্ত যাতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। আশা কর্মীর অভাবে সেই কাজেও ছেদ পড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    করোনা, নিপার মতো জটিল ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগ কিংবা ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, যেকোনও স্বাস্থ্য সঙ্কট রুখতে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার জনসচেতনতা। আর এই জনসচেতনতার কাজ চালান আশা কর্মীরা। দিন কয়েক আগেই রাজ্যে নিপা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছিলো। করোনা মহামারির স্মৃতি এখনো তাজা। তাছাড়া বছরভর ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার দাপট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশা কর্মী কতখানি জরুরি তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এলাকায় কোথায় কে কোন ধরনের অসুখে আক্রান্ত প্রশাসন সেই খবর আশা কর্মীদের থেকেই পায়। তাঁদের অনুপস্থিত কার্যত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছেদ ঘটালো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পথে আশা কর্মীরা?

    রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন‌। কয়েক মাস ধরেই তাঁরা নিজেদের নানান দাবিতে সরব হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার পুরুলিয়া, আসানসোল থেকে শিয়ালদা, নিউটাউন— রাজ্যের একাধিক জায়গায় আশা কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বেনজির সংঘাত সামনে এল। আশা কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তাঁরা নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। তাঁরা পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেই টাকাও অনিয়মিত পান। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি রাজ্য সরকারের আয়োজিত সমস্ত মেলা এবং অনুষ্ঠানে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু পরিবর্তে তাঁরা কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান না। ছুটির অধিকার তাঁদের নেই। ছুটি নিলেই কাজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি টাকাও কেটে নেওয়া হয়। আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া হোক। তাঁদের বেতন অন্তত ১৫ হাজার টাকা করা হোক। এছাড়াও তাঁদের ছুটির অধিকার রাজ্য সরকার নিশ্চিত করুক। অতিরিক্ত কাজ করলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি তাঁরা করেছেন।

    কেন রাজ্য সরকারের সমালোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের ৮০ হাজার আশা কর্মী দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়বে। আর তার ফলে কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন। রাজ্য জুড়ে মা ও শিশু মৃত্যুর হার বাড়তে পারে। সংক্রামক রোগের দাপট ও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজ্য সরকার আশা কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারত। মঙ্গলবার আলোচনার আশ্বাস দেওয়ার পরেও যেভাবে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আশা কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত আশা কর্মীদের দাবি নিয়ে আলোচনা করে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে, রাজ‌্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) খেলতে হবে ভারতেই। একান্ত না চাইলে, বাদ দিয়ে দেওয়া হবে বিশ্বকাপ থেকেই। পরিবর্তে নিয়ে নেওয়া হবে টি-২০ ব়্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নীচে থাকা দেশকে। বোর্ড সদস্যদের (ICC Board Meeting) বৈঠকে ভোটাভুটির পর ঘোষণা করে দিল আইসিসি। বুধবার, ২১ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসি বোর্ড বৈঠক হয়েছে। ভারতের মাটি থেকে নিজেদের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরাতে বলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই বুধবারের বৈঠক বসেছিল। আইসিসির নির্দেশের পর থমথমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদর দফতর। কর্তারা ভেবেছিলেন, বৈঠকে আশার কথা শোনাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই গ্রুপ বদলানো যাবে না। তারা ভারতে খেলবে কি না সেই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

    বৈঠকে ছিলেন কারা

    এ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবির পক্ষে ছিলেন সভাপতি আমিনুল। ছিলেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ, সিইও স‌ংযোগ গুপ্ত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি শাম্মি সিলভা, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড, জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের সভাপতি তাভেঙ্গা মুকুহলানি, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি কিশোর শ্যালো, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাকনিস, ক্রিকেট নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে রবার্ট টোয়েস, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মহম্মদ মুসাজি এবং ক্রিকেট আফগানিস্তানের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ আশরাফ যোগ দেন। বৈঠকে ছিলেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, হেড অফ ইভেন্টস গৌরব সাক্সেনা এবং লিগ্যাল অফিসারেরা।

    আইসিসি-র বিবৃতি, সূচি পরিবর্তন অসম্ভব

    বুধবার সমাজমাধ্যমে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে। কোনও পরিবর্তন করা হবে না। বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠালে অন্য কোনও দেশকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। বুধবার আইসিসির বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সূচি বদলের বিভিন্ন সমস্যা আবার ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয় সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে গেলে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। বিসিবি কর্তা, বাংলাদেশের সমর্থক বা সাংবাদিকদেরও কোনও সমস্যা হবে না ভারতে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি নেই। তা ছাড়া এ ভাবে সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ তৈরি হবে। বলা হয়েছে, ‘‘আইসিসি সততা, বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে, ধারাবাহিক মান বজায় রাখতে এবং বিশ্বব্যাপী খেলার সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার (আইপিএল) সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে আইসিসি।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    আইসিসির বক্তব্য শোনার পরেও অনড় অবস্থান বজায় রাখেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আইসিসির বোর্ডের সভায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়। তাতে অধিকাংশই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে ম্যাচের কেন্দ্র বদল নিয়ে বিসিবির দাবি খারিজ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একমাত্র অলৌকিক কিছু হলেই বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব। বৈঠকে আইসিসি জানিয়েছে, এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশকে। আমিনুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছিলাম, দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটা শেষ সুযোগ দিন। ওরা আমার অনুরোধ রেখেছে।” আমিনুল বলেন, “মুস্তাফিজ়ুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে আমারই মনে হচ্ছে ভারতে খেলা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। সেটাই আইসিসির বৈঠকে বলেছি।” আমিনুল জানিয়েছেন, সরকাকে কোনও রকম চাপ দিতে চান না তাঁরা। তিনি বলেন, “সরকার তো চায় আমরা খেলি। কে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না? কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতে খেলা নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই দাবি থেকে আমরা সরিনি।”

  • Daily Horoscope 22 January 2026: ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 22 January 2026: ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) কোনও কাজে সময় নষ্ট হতে পারে।

    ২) চাকরির শুভ যোগাযোগ লাভে আনন্দ।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    বৃষ

    ১) মা-বাবার সঙ্গে বিশেষ আলোচনা।

    ২) ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মিথুন

    ১) ব্যবসার কাজে মাথাগরম করবেন না।

    ২) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াবেন না।

    কর্কট

    ১) মনের মতো স্থানে বেড়াতে যাওয়ায় আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    সিংহ

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মনঃকষ্ট।

    ২) সকাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা পড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    তুলা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের জন্য সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় বিবাদের যোগ থাকলেও লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) দুর্বুদ্ধিকে প্রশ্রয় দেবেন না।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ধর্মে মন দিন।

    ধনু

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক-বিতর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) বিবাদ থেকে সাবধান।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতির যোগ।

    ২) সকালের দিকে কোনও দুশ্চিন্তা মাথা খারাপ করবে।

    ৩) আরও বেশি ধৈর্য ধরতে হবে।

    কুম্ভ

    ১) বিষয়-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বাড়িতে বিবাদের সম্ভাবনা।

    ২) কোনও অতিথির জন্য বাড়িতে আনন্দ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) প্রিয়জনকে মনের কথা খুলে বলুন।

    মীন

    ১) সকালের দিকে পেটব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ২) কেনাকাটার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Suvendu Adhikari: “বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত”, আশাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত”, আশাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “রাজ্যের তৃণমূল সরকার একটি বর্বর সরকার, অত্যন্ত অমানবিক প্রশাসন, মাতৃশক্তি লাঞ্চিত এবং আক্রান্ত।” রাজ্যের আশাকর্মীদের (Asha Workers) পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঠিক এই ভাবেই আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) সাফ কথা, “অত্যচার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যা ব্রিটিশ আমলেও দেখা যায়নি।”

    বড় বড় লোহার ব্যারিকেড (Suvendu Adhikari)!

    বুধবার কলকাতায় এবং জেলায় জেলায় আশাকর্মীরা (Asha Workers) আন্দোলনে নেমেছেন। নিজেদের প্রাপ্য দাবি দাওয়া নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চড়াও হন আশাকর্মীরা। আন্দোলনকে দমন করতে পুলিশ এদিন লাঠিও চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেভাবে আশাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, তাতে খুব স্পষ্ট যে রাজ্যের মমতার সরকার একটি বর্বর সরকার চলছে, পুলিশ প্রশাসনের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। রাজ্যের মাতৃশক্তি আজ লুণ্ঠিত। অত্যাচার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যা ব্রিটিশ আমলকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। মানুষ সব কিছুর বিচার করবে, নির্বাচনে কড়া জবাব মিলবে।” তবে আশাকর্মীদের আন্দোলন দমন করতে প্রশাসনের তরফ থেকে আগেই স্বাস্থ্য ভবনকে বিশেষ দুর্গে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। বড় বড় লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ।

    ভোটেই যোগ্য জবাব!

    আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে ঘিরে আগেই পরিকল্পনা ছিল। সকাল থেকেই আশাকর্মীদের জমায়েতে রাজপথ ব্যাপক ভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। শহরের পাশাপাশি একাধিক রাজ্যসড়কও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আন্দোলনে যোগদানকারী আশাকর্মীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশকে সামনে রেখে রোলার চালিয়েছে তৃণমূল সরকার। গ্রেফতার, হুমকি, ধরপাকড় এবং মিথ্যা মামলা আশাকর্মীদের ব্যাপক ভাবে নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আন্দোলনকে দমন করতে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছেন।” এই মন্তব্যের পাল্টা তোপ দাগেন আশাকর্মীরা। রাজ্য আশা কর্মী ইউনিয়ানের সম্পাদিকা ইসমাত আরা খাতুন বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর যেভাবে পুলিশ দমন হুমকি এবং গ্রেফতার করেছে তার যোগ্য জবাব এবারের ভোটেই দেওয়া হবে।”

  • Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশচারী হিসেবে সুদীর্ঘ কেরিয়ার। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তাঁর বিচরণ ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকালোর মাঝে’। মহাশূন্যে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। এবার অবসরের পালা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রার পর অবসর নিলেন (Sunita Williams)। মঙ্গলবার সুনীতার অবসরের কথা ঘোষণা করল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। গত ২৭ ডিসেম্বর, ৬০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক বিবৃতি দিয়ে নাসা তাঁর অবসরের কথা জানায়।

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন

    নাসা জানিয়েছে, বড়দিনের পর পরই, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুনীতার (Sunita Williams Retires) অবসর কার্যকর হয়েছে। অবসর গ্রহণ করেছেন ৬০ বছর বয়সি সুনীতা। নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের মহাকাশ অভিযানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার রূপকার তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বাণিজ্যিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন’। নাসা কর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন পথিকৃৎ। বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথ তৈরি করা থেকে শুরু করে আইএসএস-এ নেতৃত্ব, সব ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা, তাতেই চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস এবং মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আগামী প্রজন্ম ওঁর থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, স্বপ্ন দেখতে শিখবে। অবসরকালে অভিনন্দন জানাই ওঁকে। নাসা এবং দেশের যে সেবা করেছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ”

    শিকড় ভারতেই

    ম্যাসাচুসেটসে জন্ম হলেও সুনীতার (Sunita Williams) শিকড় ভারতের গুজরাটে। সুনীতার বাবা দীপক পান্ডিয়া পেশায় নিউরোঅ্যানাটমিস্ট। জন্ম গুজরাটের মেহসানার ঝুলাসন গ্রামে। পরে তিনি কর্মসূত্রে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় চলে যান। যদিও ভারতে কখনই নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি বা সুনীতা। স্লোভেনিয়ার বনি পান্ডিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান দীপক। সেখানেই জন্ম সুনীতার। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা মেলবোর্নের ফ্লরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    নাসায় যোগদান

    এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা (Sunita Williams) জানিয়েছিলেন তিনি আসলে পশুচিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষে যোগ দিয়েছিলেন মেরিল্যান্ডের ইউএস নেভাল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে গিয়েও প্রথম আগ্রহের বিষয় ছিল ডাইভিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছিলেন একজন পাইলট অর্থাৎ বিমান চালক। সেখানেও তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল জেট বিমান। কিন্তু তাঁর বদলে সুনীতাকে ওড়াতে দেওয়া হয় হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং পাইলট হিসাবে ৪০টি বিমানে মোট ৪,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে সুনীতার জীবনের পথ বদলে দেয় জনসন স্পেস সেন্টার পরিদর্শন। স্পেস সেন্টার পরিদর্শনের সময়েই মহাকাশচারী জন ইয়ং-এর সংস্পর্শে আসেন মহাকাশ বিজ্ঞানে নজির সৃষ্টি করা এই অ্যাস্ট্রোনট। সেখান থেকেই সুনীতার স্বপ্নে হানা দেয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি। মহাকাশচারী প্রশিক্ষণের জন্য নাসার কাছে আবেদন পাঠালেও প্রথমবারে সফল হননি সুনীতা। কিছু যোগ্যতার অভাবে সুযোগ হারান তিনি। কিন্তু হার মানেননি মহাকাশ কন্যা। ততদিনে মহাকাশকেই নিজের মিশন বানানোর জেদ চেপে গিয়েছে তাঁর। পাইলট স্কুলে ফিরে নাসায় যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ১৮ তম মহাকাশচারী দলের অংশ হিসাবে নাসায় যোগ দেন সুনীতা উইলিয়ামস। তার পর বাকিটা ইতিহাস।

    মহাকাশযাত্রার মহা কাহিনী

    সুনীতার (Nasa Astronaut Sunita Williams) মহাকাশযাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। ডিসকভারি শাটলে ভেসে প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছন তিনি। এক্সপিডিশন ১৪/১৫–র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সেই মিশনে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মিশনে ১২৭ দিনের জন্য মহাকাশে ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁকে মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে আইএসএস-এ পৌঁছনো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নভশ্চর বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের জন্য পরিকল্পিত সেই মিশন শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে আটকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন তাঁরা। দীর্ঘ কর্মজীবনে মোট তিনটি মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন (608 days in space)-নাসার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। পাশাপাশি ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিটে মোট ৯টি স্পেসওয়াকের রেকর্ড রয়েছে তাঁর, যা যে কোনও মহিলা মহাকাশচারীর নিরিখে সর্বাধিক (Space Mission records)। এমনকি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করা প্রথম মানুষও তিনিই।

    মহাকাশ কন্যার বিদায়ী সম্ভাষণ

    স্বামী মাইকেল এবং পোষ্যদের নিয়ে সংসার সুনীতার (Sunita Williams)। তবে সুনীতা জানিয়েছেন, মহাকাশই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নিয়মের বেড়াজালে ৬০-এ পা দিতেই অবসরে মহাকাশ কন্যা। তবু আজও তাঁর বুকে বাসা বেঁধে রয়েছে আবারও ব্রহ্মাণ্ডে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন তা তাঁর বিদায়ী সম্ভাষণেই স্পষ্ট। সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, ‘‘যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন, মহাকাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নাসাতে কাজ করা এবং তিনবার মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। নাসায় আমার ২৭ বছরের অসাধারণ কেরিয়ারের মূল কারণ আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অসাধারণ ভালোবাসা এবং সমর্থন।’’ এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য গবেষণার কাজকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, আধুনিক প্রযুক্তি টেকনিক, অ্যাডভান্স সায়েন্স চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপগুলিকে সম্ভব করে তুলেছে। আমি আশা করি আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করেছি তা এই সাহসী পদক্ষেপগুলিকে আরও সহজ করবে। নাসা-এর পরবর্তী প্রজেক্টগুলি নতুন করে ইতিহাস লিখুক। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।’’

    ফের মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছা

    নিজের অবসরের প্রসঙ্গে সুনীতা হাসতে হাসতে বলেন, “আমি অবশ্যই আবার মহাকাশে যেতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী বোধহয় আমাকে ছাড়বেন না!” ভালোবাসার টানে কিছুদিন ঘরে কাটালেও সুনীতার এই কথায় রয়েছে অন্য ইঙ্গিত? তাহলে আবার কি মহাকাশে পাড়ি জমাবেন সুনীতা? নাসা ছাড়লেও বেসরকারি সংস্থার দরজা তো খোলা। কে বলতে পারে ফের হয়ত মহাবিশ্বে পাড়ি জমাবেন মহাকাশ-কন্যা।  তাঁর রেকর্ড-বুকে হয়তো জুড়ে যাবে সবথেকে বেশি বয়সে মহাকাশে পাড়ি জমানোর নজির!

  • Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে (Bangladesh) দুই মেধাবি হিন্দু (Hindu Student) পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃতদেহ সাতদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর নদীতে উদ্ধার হয়েছে। দ্বিতীয় জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেস থেকে। দুই ক্ষেত্রে হত্যা করে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার শিকার বলে উল্লেখ করার চেষ্টা হয়েছে। তবে অভিযোগের তির কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের দিকেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন তাই নির্বাচনের আগে সংখ্যা লঘু হিন্দুদের টার্গেট করে ভয় ভীতির পরিবেশ গড়তে চাইছে।

    কালীতলা শ্মশানের কাছে উদ্ধার দেহ (Bangladesh)

    শনিবার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার একটি নদী থেকে নিখোঁজ এক কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন বিকেলে নওগাঁ শহরের কালীতলা শ্মশানের কাছে একটি নদীতে মৃতদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরে মৃতদেহটি অভির নামে শনাক্ত করা হয়। এই ছাত্র জেলার একটি সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের ছাত্র। অনার্স ডিগ্রির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে

    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারী ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। মৃতদেহটি পাওয়া যাওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অভির পরিবার খোঁজ করতে করতে নদীর তীরে ছুটে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পরা পোশাক দেখে মৃতদেহটি শনাক্ত করে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভি বগুড়া (Bangladesh) জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের ছেলে। নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

    মেসে উদ্ধার মৃত দেহ!

    অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবি হিন্দু ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে এই ঘটনার পেছনে কোনও সাম্প্রদায়িক কারণ নেই, কিন্তু হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh) থিয়েটার বিভাগের ছাত্র আকাশ সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি পুরাতন ঢাকার একটি মেস থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ (Hindu Student) উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানালেও, সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় স্তরে অভিযোগ উঠেছে যে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যা। কট্টর মৌলবাদীরা তার ওপর বর্বরতা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলোকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটা ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিসংখ্যান মানতে নারাজ।

    বাংলাদেশে লাগাতার হিংসা অভ্যাহত

    বাংলাদেশের (Bangladesh) বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং খুনের ঘটনা ঘটেই চলছে। ধারাবাহিক এই হিংসাত্মক হামলায় বাংলাদেশজুড়ে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং চারটি মামলায় এখনও কোনও গ্রেফতার হয়নি। বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে উন্মত্ত জনতার সম্মিলিত আক্রমণে। তার সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার মধ্যে রয়েছে দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা, যাঁকে ময়মনসিংহে পিটিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খোকন চন্দ্র দাসের ওপর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু হয় তাঁর।  যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে নরসিংদীতে শরৎ মণি চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যার ফলে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রণোদনা কর্মকার নামে একজন জুয়েলারিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফরিদপুরে মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে প্রলয় চাকিকেও নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।

    জানুয়ারিতেই লাগাতার হত্যাকাণ্ড

    রাজবাড়ীতে রিপন সাহা নামে এক হিন্দু পেট্রোল পাম্প কর্মীকে এসইউভি দিয়ে পিষে হত্যা করা। সিলেটে হিন্দু শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ। পাবনায় পুলিশ হেফাজতে হিন্দু সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকীর মৃত্যু। চট্টগ্রামে সমীর কুমার দাস নামে এক অটোচালকের ওপর গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাত। বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, গত ছয় সপ্তাহে অন্তত এক ডজন হিন্দু হত্যার শিকার হয়েছেন। ভারত সরকারও বাংলাদেশে হিন্দুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিতে গিয়ে এবার লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সিতে থাকা ১ কোটি ৩৬ ভোটারকেই শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নামের বানানের ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে বিএলওরাই তা ঠিক করে দেবেন। এই ধরনের কেসে শুনানিতে ডাকা হবে না। এমনকি যাদের নামে শুনানির নোটিশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেই নোটিশও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে ১ কোটি ৩৬ লক্ষকে নয়, শুনানিতে শুধুমাত্র ডাকা হবে ৯৪ লক্ষকে। এর ফলে পিছিয়ে যেতে পারে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন। কমিশন সূত্রে খবর, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নাও যেতে পারে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    শুধু ৯৪ লক্ষকে নয়, এরই মধ্যে লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের আবেদন করে আদালতে যায় রাজ্যের শাসক দল। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় লজিক্যাল ডিষ্কৃপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার। সূত্রের খবর, সেক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ করার সময় ১ কোটি ৩৬ লক্ষের তালিকায় প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। ফলতো আর ৯৪ লক্ষকে নয়, এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষকেই শুনানিতে ডাকা হবে। সুপ্রিম কোর্ট মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশনকে।

    কী কী করতে হবে ভোটারকে

    এসআইআর (SIR in Bengal) ঘিরে বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। সেই নিয়ে আপাতত সিইও দফতরের কাছ থেকে কোনও তথ্য চায়নি নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে জেলাশাসকরাও কোনও অভিযোগ জানাননি। শুনানি সম্ভব না হলে, কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো গাইডলাইন ঠিক করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে নথি যাচাইয়ের। ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে যাঁদের, যাঁদের নাম নেই সেই তালিকায়, এবং যাঁদের তথ্য়ে অসঙ্গতি রয়েছে, এমন তিনটি গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছে ভোটারদের। নথি জমা দিতে বিএলএ সহ কাউকে পাঠানো গেলেও, শুনানিতে ভোটারকে থাকতেই হবে। শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বয়সের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে লাগবে সার্টিফিকেটও। রিসিভ কপি সিল লাগিয়ে দিলেই হবে, কোন আলাদা ফরম্যাট নেই। ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে এখনও এরাজ্যের জন্য কোন নির্দেশিকা আসেনি।

  • India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh General Elections) প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন হিন্দু হত্যার খবর আসছে। বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ (India-Bangladesh Relations)। সেই আবহেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ বিদেশ মন্ত্রকের। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে। সেখানে কাজও চলবে। শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সেখান থেকে কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার, তাঁদের উপর নির্ভরশীল লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

    ভোটের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। ওই দিন আবার গণভোটেরও ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে ভাবী প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিধিতে সম্মতি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তার আগেই পদ্মাপার থেকে নিজের দেশের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। দিল্লি সূত্রে খবর, নির্বিঘ্নে এই ‘উদ্ধারকার্য’ চালানো হবে। বাংলাদেশে স্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য সব মিশন থেকে কূটনীতিক এবং অন্য আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    কবে ভোট বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং

    সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য পদে অধিষ্ঠিত যাঁরা, তাঁদের কাজকর্ম আগের মতোই চলবে। ঢাকায় হাইকমিশনের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেটেও ভারতীয় কূটনীতিকরা মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং (Non-Family Destination) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার নিয়ে গিয়ে থাকার অনুপযুক্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান আগে থেকেই ওই তালিকায় রয়েছে।

    কেন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। পদ্মাপারে কূটনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াতেও বাধা এসেছে লাগাতার। বিশেষ করে গত বছর ডিসেম্বেরে ইসলামি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সেখানকার কট্টরপন্থীদের ভারতবিরোধী মনোভাব আরও প্রকট হয়েছে। লাগাতার হুমকি-হুঁশিয়ারি উড়ে আসছিল। হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনে যায় ‘জুলাই ঐক্য মঞ্চ’। এমতাবস্থায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ঢাকাকে বার্তাও দেয় দিল্লি। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তেমন। ওই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সে দেশের একটি গোষ্ঠী। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের কাছেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

    নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা

    নির্বাচন ঘিরেও অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি। তাই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh Election) ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত ইসলামের ও বিএনপি (BNP) জোট নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে জামাত ও তাদের জোর শরিকদের তরফেই জোরালো অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের (Yunus) সঙ্গে দেখা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি ইঙ্গিত করেছে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। অন্যদিকে, জামাতের বক্তব্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি এখনও দেশে তৈরি হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি নেতারাও। তারাও গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। ‌যদিও এনসিপি এবং জামাতের সঙ্গে বিএনপির অভিযোগের ফারাক হলো তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম দোষারোপ করেনি। বরং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই হিংসার সম্ভাবনা বাড়ছে। দেশটিতে হামলা, হত্যার ঘটনা অব্যাহত। ভোটের আগে ভারত বিরোধিতা চরমে উঠবে বলে নানা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দু-হত্যা চলছেই

    সম্প্রতি দফায় দফায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলার খবর আসতে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে। ময়মনসিংহে বেধড়ক মারধরের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, অসম এবং ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশও সাময়িক ভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখে। তাদের তরফেও বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের বার্তা আসে।

    ইউনূসের আমলে অপরাধ বেড়েছে

    বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছ। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আসন্ন ভোটপর্বে বড়সড় জয় নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ফিরতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। এমনই আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভোট মিটলে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না , সেদিকেই নজর রাখছে দিল্লি।

  • Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাড় কিংবা পেশির পাশপাশি মস্তিষ্কের শক্তি (Brain Power) কতখানি রয়েছে! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত চল্লিশ বছরের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বাড়বে বিপদ! অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইংল্যান্ডের একদল চিকিৎসক গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বজুড়ে কমছে স্মৃতিশক্তি। বিশেষত চল্লিশ বছরের পরে মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস (Memory Problems After 40) পাচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অ্যালজ্যাইমার (Alzheimer’s Disease) কিংবা ডেমেনশিয়ার (Dementia) মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের (Brain Function Slowing Down) একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো উপযুক্ত খনিজ পদার্থের সরবরাহের অভাব। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে।

    কোন খনিজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium Benefits Brain) অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি এবং হাড় মজবুত রাখতে এই খনিজ পদার্থ খুব জরুরি। তবে হাড়-পেশির পাশাপাশি মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতেও এই খনিজ খুব জরুরি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমছে।

    মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে সাহায্য করে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের একাধিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো ভাবে চলতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই খনিজ পদার্থের জোগান ঠিকমতো থাকলেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার উপরেও এর প্রভাব পড়বে।
    ম্যাগনেশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম এই ক্লান্তিবোধ কমায়। ফলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমন জরুরি। অতিরিক্ত জেলা উত্তেজিত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশেষ সাহায্য করে। তাই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিও কমে।

    কেন চল্লিশের চৌকাঠে স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যালজাইমারের শিকার। ভারতেও এই সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন‌। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স ৬০-র চৌকাঠ ছুঁলেই অনেকেই এই রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রোগের জানান পাওয়া যেতে পারে চল্লিশের পরেই। নানান উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক হলেই পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। আর রোগের ঝুঁকি কমাতে তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। চল্লিশ বছরের পর থেকেই তাই স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা যাতে না কমে সেদিকে নজরদারি জরুরি।

    কীভাবে সহজে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মেটাতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও বাদাম জাতীয় খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেয়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম যে কোনও একধরনের বাদাম নিয়মিত খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সহজ হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত যে কোনও ধরনের ডাল‌ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডালে প্রোটিনের পাশপাশি প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। ডালের পাশাপাশি ছোলা, মটরের মতো দানাশস্য নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সব্জির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করে‌। এছাড়া কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টক দই ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিয়মিত খেলে ম্যাগনেশিয়াম জোগান ঠিকমতো হয়‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share