মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের সমান্তরালে প্রশাসনিক তৎপরতাও এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে জল্পনা তীব্রতর হয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে কমিশন (Election Commission) এখন অন্তিম মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফর (Election Commission)
সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission) জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ আগামী ৯ মার্চ দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসতে পারে। এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাধারণত কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের এই ধরনের পরিদর্শনের পরপরই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা তফসিল ঘোষণা করা হয়। এই সফরে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
ভোটার তালিকা ও এসআইআর বিতর্ক
এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ভোটার তালিকার সংশোধন। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। খসড়া তালিকায় (SIR) ৭ কোটি ৮ লক্ষেরও বেশি নাম থাকলেও, বিভিন্ন কারণে প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়েছে। বর্তমানে রাজ্যে অনুমোদিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন পর্যায়ে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই নামগুলোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে এবং যোগ্য প্রমাণিত হলে সম্পূর্ণ তালিকার মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার (Election Commission) নিশ্চিত করা হবে।
বুথ বিন্যাস ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোটার সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কমিশন (Election Commission) এবার নতুন করে বড় আকারের বুথ পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। বর্তমানে রাজ্যে বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮১টি। তবে নাগরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে বহুতল আবাসনগুলোতে কিছু অতিরিক্ত বুথ করা হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই থাকবে উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে।
নির্বাচনের সম্ভাব্য নির্ঘণ্ট ও পর্যায়
২০২১ সালের নির্বাচন আট দফায় অনুষ্ঠিত হলেও, ২০২৬-সালে কয় দফায় হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন সম্ভবত ছয় থেকে সাত দফায় ভোট গ্রহণ করতে পারে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বিধানসভা গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকায়, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভোট ঘোষণার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকাই (SIR) হলো মূল ভিত্তি। সেই তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব। আগামী সপ্তাহে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরের পর বাংলার নির্বাচনী চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে। অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচনের (Election Commisison) প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছে গোটা রাজ্য।

Leave a Reply