SIR: রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনছে এসআইআর, ২ কোটি অবৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ উত্তরপ্রদেশে

sir-is-bringing-about-a-change-in-state-politics-20-million-invalid-names-removed-from-the-voter-list-in-uttar-pradesh

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভোটার ডাটাবেস পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের মতো বড় রাজ্যে অত্যন্ত বড় ঘটনা। ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কেবল ভোটার তালিকা ‘আপডেট’ করেনি, বরং রাজ্যের অনেক নির্বাচনী এলাকার সমীকরণ বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে লখনউ, কানপুর, বারাণসী এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মতো শহর ও গ্রাম মিশ্রিত জেলাগুলোতে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশাসনিক সহায়তায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের তথ্যের তুলনা এসআইআর-এর আগে ও পরে (SIR)

প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখন ভোটার (SIR) সংখ্যা প্রায় ১৩.৩৯ কোটি। অক্টোবর ২০২৫-এ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। অর্থাৎ, ভেরিফিকেশনের পর প্রায় ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ মৃত) স্থানান্তরিত বা ভুয়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • সংশোধনের আগের ভোটার সংখ্যা: ১৫.৪৪ কোটি
  • সংশোধনের পর ভোটার সংখ্যা: ১৩.৩৯ কোটি
  • মোট হ্রাস: ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ)

সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ২.৯১ কোটি এন্ট্রি সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:

  • ১.২৭ কোটি মানুষ যারা বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন।
  • ৮৪.৭ লক্ষ মানুষ যারা অনুপস্থিত ছিলেন।
  • ৪৬ লক্ষ মৃত ব্যক্তি।
  • ২৩.৭ লক্ষ ডুপ্লিকেট (একই নাম দুবার থাকা) নাম।

রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব

ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (SIR) একটি বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এই কাজের ফলে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাপক পরিমাণে সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। যার মধ্যে হল—

স্বচ্ছ নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকা সঠিক করা, যাতে ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

শহরাঞ্চলে প্রভাব

লখনউ উত্তর, লখনউ পূর্ব এবং সরোজিনী নগরের মতো শহুরে আসনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে। লখনউ উত্তরে সর্বোচ্চ ১.৫৪ লক্ষ নাম কাটা গেছে।

মিরাট, সাহারানপুর এবং বারেরির মতো জেলাগুলোতেও অভিবাসী শ্রমিকের যাতায়াতের কারণে অনেক ভুয়া ভোটার ছিল, যা এখন পরিষ্কার করা হয়েছে। আগ্রায় প্রায় ৬.৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ

বিরোধী দলগুলো এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সরকারের দাবি, এটি একটি প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতিটি নাগরিককে তাদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

২ কোটিরও বেশি সন্দেহজনক নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ শাসনব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলগুলোকে এখন পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বুথ স্তরে প্রকৃত ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। তবে এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath)  প্রশাসনিক দক্ষতাকেই অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোক।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share