ABVP: অগ্নিনির্বাপক পাউডার দিয়ে চোখ অন্ধ করার অপচেষ্টা! আক্রন্ত এবিভিপি, জেএনইউতে বামপন্থীদের তাণ্ডব

abvp shocked by attempt to blind students with fire extinguisher powder left nusi violence in jnu

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২২ ফেব্রুয়ারি, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বেশ কয়েকজন ছাত্রের উপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আক্রান্তদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। মূল অভিযোগ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। সমতা মিছিলের পর আকস্মিক আক্রমণ বলে জানা গিয়েছে।

পাথর নিয়ে মুখঢেকে ছাত্রাবাসে হামলা

এবিভিপি (ABVP) সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির দ্বারা এই আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। লাঠি, লোহার রড এবং পাথর নিয়ে মুখঢেকে ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের ব্যাপক মারধর করা হয়। ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এবিভিপির ছাত্র নেতারা বলেছেন, “যা ঘটেছে তা স্বতঃস্ফূর্ত সংঘর্ষ নয় বরং রাতের সুযোগ নিয়ে বাম-সমর্থিত গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত একটি সমন্বিত আক্রমণ।”

স্টাডি রুমের ভেতরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা (ABVP)

এক বিবৃতিতে, এবিভিপি-এর (ABVP) জেএনইউ ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক বৈভব মীনা বলেছেন, “গত ৭-৮ দিন ধরে বামপন্থী দলগুলি ক্যাম্পাসে আক্রমণাত্মক ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। রবিবার রাতে, প্রায় ৩০০-৪০০ মুখোশধারীর একটি দল বিভিন্ন বিভাগের স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর জোরপূর্বক অধ্যয়ন কক্ষগুলি দখল করে নেয়। তাদের বাধা দিতেই প্রতীকের ওপর হামলা করা হয়। তাঁকে এখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থা গুরুতর। লাইব্রেরি এবং রিডিং হলগুলিতে যারা পড়াশুনা করছিলেন তাঁদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিজয় নামে এক ছাত্রকে ১০০-১৫০ জনের একটি দল ঘিরে ফেলে এবং নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। নিরাপত্তা কর্মী এবং পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

অগ্নিনির্বাপক পাউডার দিয়ে অন্ধ করার চেষ্টা

বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের ভেতরে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হল এই আক্রমণ। বায়োটেকনোলজির ছাত্র প্রতীক ভরদ্বাজকে বামপন্থী কর্মীরা অতর্কিত আক্রমণ করেছে। এবিভিপি (ABVP) অভিযোগ করেছে, নির্মমভাবে মারধর করার আগে সাময়িকভাবে অন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রতীকের চোখে অগ্নিনির্বাপক পাউডার ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।

এবিভিপির জেএনইউ মিডিয়া কনভেনর বিজয় জয়সওয়াল এই ঘটনাটিকে “পূর্বপরিকল্পিত” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বিশেষভাবে এবিভিপি কর্মী এবং শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

ভিসির মন্তব্যকে ঢাল করে উত্তেজনা

ইউজিসি ইক্যুইটি নিয়মকানুন নিয়ে উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের (JNU) কথিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বামা এনএসইউআই। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জেএনইউ ছাত্র ইউনিয়নের তরফে “সমতা মিছিল” বের করা হয়। আর তারপর উপস্থিত শক্তি দিয়ে হিংসার ঘটনাকে নেতৃত্ব দেয়। তবে এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রচুর বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সন্ত্রাসের রাত

এই ঘটনার পর, এবিভিপির (ABVP) তরফে প্রশাসনের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। গোটা ঘটনাকে সন্ত্রাসের রাত বলে অভিহিত করা হয়েছে। দেশের জাতীয় রাজধানীর একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এত বড় আকারের হিংসার ঘটনা ঘটবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এরপর থেকে ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share