Author: ishika-banerjee

  • IPL 2026: পাকিস্তানের লিগ থেকে নাম তুলে আইপিএলে! মুস্তাফিজুরের বিকল্প মুজারাবানি, হর্ষিতের চোটে ধাক্কা কেকেআর-এর

    IPL 2026: পাকিস্তানের লিগ থেকে নাম তুলে আইপিএলে! মুস্তাফিজুরের বিকল্প মুজারাবানি, হর্ষিতের চোটে ধাক্কা কেকেআর-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প পেয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুক্রবার বিকল্প হিসেবে সই করানো হল জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার ব্লেসিং মুজারাবানিকে। কেকেআরের (IPL 2026)  ডাক পেয়েই পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে নাম তুলে নিয়েছেন মুজারাবানি। ১৭ তারিখ, মঙ্গলবার কলকাতায় আসছেন তিনি। তবে, মুস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প খুঁজে পাওয়ার দিনই ফের ধাক্কা খেল কেকেআর। অলৌকিক কিছু না হলে আসন্ন আইপিএলে হর্ষিত রানাকে পাওয়া যাবে না। ফলে বোলিং বিভাগ অনেকটাই কমজোরি হয়ে গেল তাঁদের।

    হর্ষিতের চোট বাদ পুরো সিজন থেকে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ চোট পান হর্ষিত। সেই চোট এখনও সারেনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রোপচার হয় হর্ষিতের। আইপিএলের মধ্যে তিনি সুস্থ হতে পারবেন না। ২০২৪-এ কেকেআরের ট্রফিজয়ী মরসুমে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন হর্ষিত। তিনি ১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। এর পর ভারতের সব ফরম্যাটের দলেই খেলে ফেলেছেন। কোচ গৌতম গম্ভীরের পছন্দের ক্রিকেটার তিনি। ২০২৫ মরসুমের আগে তাঁকে চার কোটি টাকায় ধরে রাখা হয়েছিল। গত বছর ১৩টি ম্যাচে ১৫টি উইকেট নিয়েছিলেন। কেকেআর এখনও বিকল্প ক্রিকেটারের নাম ঠিক করে উঠতে পারেনি। এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে ভারতীয়দের মধ্যে আকাশ দীপ, বৈভব অরোরা, উমরান মালিক এবং কার্তিক ত্যাগী রয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে ব্লেসিং মুজারাবানি এবং মাথিশা পাথিরানা রয়েছেন।

    পাকিস্তান লিগ নয়, আইপিএল-ই লক্ষ্য

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল খেলেছিলেন জিম্বাবোয়ের মুজারাবানি। দল সুপার এইট থেকে বিদায় নিলেও তিনি ১৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ৮৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০৬টি উইকেট রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়ান তিনি। ফলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মাথিশা পাথিরানার পাশাপাশি দ্বিতীয় বিদেশি জোরে বোলার হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। পিএসএলে প্রথমে কোনও দল পাননি তিনি। পরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড সই করায় মুজারাবানিকে। শামার জোসেফের জায়গায় সই করানো হয় তাঁকে। অতীতে লাহোর কলন্দর্সের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মুজারাবানির। তিনি ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার পিএসএলে সুযোগ পাওয়া কোনও ক্রিকেটার আইপিএলে সুযোগ পেয়ে দল ছাড়লেন। গত বছরের মতো এ বছরও আইপিএলের সময় পিএসএল হবে। গত বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নিয়েছিল করবিনশ বশকে। তাঁকে নিয়েছিল পেশওয়ার জালমি। পিএসএল থেকে নাম তোলায় তাঁকে এক বছর নির্বাসিত করা হয়েছে। মুজারাবানির ক্ষেত্রেও তেমন শাস্তি হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে সভার (PM Modi Brigade Rally) আগে বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার কলকাতায় ব্রিগেডে মেগাসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, সেই নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু ব্রিগেড আসার পথেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। অভিযোগ, তাঁদের বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, মারধর করা হয়েছে চালককেও। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে, বলে অভিযোগ বিজেপির।

    বেলদায় বাসে ভাঙচুর

    ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বেশ কিছু দুষ্কৃতী বাসটিকে আটকায় এবং চালককে জিজ্ঞাসা করে বাসটি কোথায় যাচ্ছে। তখন তিনি জানান, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসটিকে নিয়ে এসেছেন। তখনই বাসটিকে অতর্কিতে ঘিরে ধরে বাইক-বাহিনী। চারদিকে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় চালক ও খালাসির হাতে লেগেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, যেহেতু ব্রিগেডে সভা রয়েছে, সেই কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাসটিতে হামলা চালিয়েছে।

    বাস থেকে খুলে নেওয়া হল দলীয় পতাকা

    অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশওয়াড়ি থেকে ব্রিগেডের দিকে আসা বাসেও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, হামলা চালানোর পাশাপাশি চালককে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমনকি দলীয় পতাকাও খুলে ফেলতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের কয়েকজন চোট পেয়েছেন এই ঘটনায়। অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূলের দিকেই। আজ, শনিবার, শহরে কার্যত বিজেপির মহাযজ্ঞ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi Rally At Brigade)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এটাই বিজেপির শেষ সভা হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। এদিকে, মোদির সফরের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার নানা প্রান্তে দেখা গেল ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিং। শহরের অন্যতম ব্যস্ত উড়ালপুল মা ফ্লাইওভার-সহ আশপাশের এলাকায় টাঙানো এই পোস্টার দ্রুতই পথচলতি মানুষ এবং যাত্রীদের নজর কেড়ে নেয়। শহরের একাধিক জায়গায় টাঙানো ওই হোর্ডিংয়ে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও চোখে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই হোর্ডিং লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ নেই। ফলে বিষয়টি ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ বছর পর ফের ব্রিগেডে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Modi Brigade 2026)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম কলকাতার ঐতিহাসিক ময়দানে ভাষণ দিতে চলেছেন তিনি। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে অসম থেকে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাজসাজ রব গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্বের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এবারে ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক কর্মসূচির পর তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন।

    বাঙালি অস্মিতায় জোর

    আজকের সমাবেশে বাঙালি অস্মিতায় জোর দিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ (PM Modi Brigade Rally) সেজে উঠছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। ৮০ ফুট চওড়া মূল মঞ্চে থাকছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ দক্ষিণেশ্বরের থিম হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে জোরকদমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমার পাল্টা জবাব দিতেই ব্রিগেডের মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বাঙালিয়ানা’কে। মঞ্চের পটভূমিতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্প, দার্জিলিঙের চাবাগান, পটের কাজ, এবং বাউল-কীর্তনের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বাঙালি সংস্কৃতির মিশেল মুগ্ধ করবে বাংলার মা-মাটি-মানুষকে।

    উন্নয়ন ও রাজনীতির যুগলবন্দি

    শুধু রাজনৈতিক জনসভা অবশ্য নয়, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেষ ছ’টি কর্মসূচির মতো এটির ক্ষেত্রেও প্রথমে প্রশাসনিক সভা, তার পরে জনসভা হবে। প্রশাসনিক সভাস্থল থাকছে মূল সভামঞ্চের একটু পিছন দিকে মাঠের এক পাশ ঘেঁষে। তার দায়িত্বে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যে সব বিভাগের নানা প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী শনিবার ব্রিগেডে দাঁড়িয়েই করবেন। এবারের ব্রিগেড সমাবেশ কেবল রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুটি বিষয়ের ওপর— প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সরকারকে প্রধানমন্ত্রী কোন পথে আক্রমণ শানান এবং দ্বিতীয়ত, অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর প্রধানমন্ত্রী নিজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন কোনও বড় ঘোষণা করেন কি না।

    সংঘাত ও রাজনৈতিক তর্জা

    প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এদিকে কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে। এই পোস্টারই ওদের আতঙ্কের প্রমাণ।” যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ১৪ মার্চ দিনটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় ঘোরায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

    বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম

    মোদীর সভার জন্য শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম হবে ব্রিগেডে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবে মিছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, হাওড়া, শিয়ালদার মতো স্টেশনগুলি থেকে মিছিল হওয়ার কথা। এ ছাড়াও, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডমুখী মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সব মিছিল, জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না-হয়, সে দিকে কড়া নজর থাকবে পুলিশের। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ৫০টি পিকেট থাকবে। চেকিং হবে বিভিন্ন জায়গায়। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে মঞ্চ এবং সংলগ্ন এলাকায়।

    বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার অসম থেকে মোদির বিমান নামবে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি আসবেন রেসকোর্সের মাঠে। সেখান থেকে গাড়ি করে তিনি পৌঁছোবেন সোজা ব্রিগেডের সভাস্থলে। ফলে ওই এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, শনিবার মোদির সফরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশের তিন হাজার বাহিনী। পুরো এলাকা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে খবর কলকাতা পুলিশ সূত্রে। জানা গিয়েছে, এই প্রতিটি সেক্টর বা ভাগের দায়িত্বে থাকবেন এক জন করে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার আধিকারিক। আবার এমন চার-পাঁচটা সেক্টর মিলিয়ে একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক।

    শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান-চলাচল

    শনিবার ভোটমুখী বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আজ রাস্তায় থাকলে, কোন কোন রোড এড়িয়ে চলতে হবে, বুঝে নিন। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতা কলকাতা পুলিশ এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি, গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। তবে ছাড় রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল/লুব্রিকেন্ট, অক্সিজেন, শাকসবজি, ওষুধ, ফলমূল, মাছ এবং দুধের গাড়ির ক্ষেত্রে। শনিবার ময়দান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় পার্কিং-ও নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা পুলিশ। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের আশেপাশে, এজেসি বোস রোড (মাঝখানে হেস্টিংস ক্রসিং এবং ক্যাথেড্রাল রোড), খিদিরপুর রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাথেড্রাল রোড, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনে পার্কিং নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, জনসভায় আসা গাড়ির জন্য ময়দানের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা অধিকরণ এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের অনুমান, শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আসবেন। শিয়ালদা এবং হাওড়া থেকে অনেকেই পায়ে হেঁটে সভাস্থলের দিকে যেতে পারেন। ফলে ট্র্যাফিকে বিঘ্ন হতে পারে। এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন প্রয়োজনে যানবাহন অন্যান্য রাস্তায় ডাইভার্ট করা হতে পারে।

    কোথায়-কখন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী মোদির মেগা সফর ঘিরে উৎসাহ বিজেপির। দুপুর ১টা ৪৫-এ কপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বেলা ১টা ৫৫-এ গাড়িতে ব্রিগেডে যাবেন মোদি। দুপুর ২টো-২টো ৩০ বিভিন্ন প্রকল্পর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দুপুর ৩টে ৩৫- এ ব্রিগেডের সভাস্থল ছাড়বেন মোদি।

  • Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল-স্থান (Presidential Protocol Issue) বদল বিতর্কে নতুন মোড়। বিতর্কের আবহেই ২ অফিসারকে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি কেন্দ্রের। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সিপিকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন দার্জিলিংয়ের ডিএম মণীশ মিশ্র। তাঁকে ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্র।

    কেন এই পদক্ষেপ

    গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল গড়াল অনেক দূর। নিরাপত্তা ও স্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা এবং ‘অসৌজন্যের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যের পাঠানো রিপোর্ট পর্যালোচনার পর দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। এই দুই আইপিএস ও আইএএস অফিসারই বেঙ্গল ক্যাডারে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই সমস্ত উচ্চ পদমর্যাদার অফিসারদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে তারাই এই দুই অফিসারকে ডেপুটেশনে চাইছে।

    যেতেই হবে ডেপুটেশনে

    রাষ্ট্রপতি যেহেতু দেশের সংবিধানিক প্রধান তাই তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকলে কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র চাইলে রাজ্য সরকারকে কিছু না বলেও কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে তাঁদের তুলে নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইপিএস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪-এর রুল ৬(১)-এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস অফিসারদের ট্রান্সফার ও ডেপুটেশন নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র প্রয়োজনে অগ্রাহ্য করতে পারে। এখন কোনও রাজ্য সরকার যদি নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে সেই অফিসারকে ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। ২০১১ ব্যাচ বা তার পরের আইপিএস অফিসারদের জন্য কমপক্ষে ২ বছরের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন বাধ্যতামূলক, নইলে তাঁরা ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে এমপ্যানেলমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন না।

    অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপতি, কী ঘটেছিল

    সাঁওতালদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে মূল অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে সন্তোষিনী বিদ্যাচক্রের মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই মাঠে আরও বেশি সাধারণ মানুষের সমাগম হতে পারত। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।” রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।” এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন।

  • Abrar Ahmed in Sunrisers: পাক ক্রিকেটারকে কেনায় বিতর্ক, সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড, আইপিএলেও বয়কটের ডাক

    Abrar Ahmed in Sunrisers: পাক ক্রিকেটারকে কেনায় বিতর্ক, সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড, আইপিএলেও বয়কটের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পরই বিপাকে পড়ল ‘সানরাইজার্স লিডস’ (Abrar Ahmed in Sunrisers)। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামে আবরারকে দলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়। কাব্য মারানের দলে পাক স্পিনারের যোগদান ভাল ভাবে নেননি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। সমাজমাধ্যমে সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বয়কট করার কথাও বলেছেন অনেকে। বিতর্ক বাড়ায় সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এক্সের তরফে কী কারণে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে তার কোনও ব্যাখা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মনে করা হচ্ছে, বহু ক্রিকেটপ্রেমী রিপোর্ট করায় অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে।

    কেন তৈরি হয় বিতর্ক

    সান গ্রুপের মালিকানাধীন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নেতৃত্বে রয়েছেন কালানিধি মারান। জানা গিয়েছে, নিলাম চলাকালীন পাকিস্তানের মিস্ট্রি স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নিতে পরপর বিড করে সানরাইজার্স। প্রায় ২.৩৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নেওয়া হয়। লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে অনুষ্ঠিত নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও কাব্যা মারান নিজে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দলের হেড কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরিও। নিলামের টেবিলে বসে তারা ট্রেন্ট রকেটসকে হারিয়ে আবরার আহমেদকে দলে নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইংল্যান্ডের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এই দলের অধিনায়কত্ব করবেন। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় আসল বিতর্ক। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই প্রথম কোনও আইপিএল–সংযুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেটারকে দলে নিল। দলে পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে আবরারের জার্সি পরা ছবিও পোস্ট করা হয়। তার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্র্যান্ড ইমেজে। মাত্র একদিনেই দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ফলোয়ার কমে গিয়েছে। অরেঞ্জ আর্মির চরম ভক্তরাও আগামী আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যাচ বয়কট করার কথা ঘোষণা করেছেন।

    জাতীয় আবেগ বিরোধী পদক্ষেপ

    এর জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে বয়কট করার ডাকও দেন। সমাজমাধ্যমে সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। কাব্যের সংস্থার বিরুদ্ধে জাতীয় আবেগ বিরোধী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বহু বছর ধরে দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারতীয় দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চলেছে। কিন্তু বিদেশি লিগে টাকা এলেই সেই অবস্থান বদলে যায়। ভারতীয় মালিকানা, ভারতীয় ব্র্যান্ড, কিন্তু দেশের বাইরে অবস্থান অন্যরকম।’

    ভারতীয় সেনাবাহিনীকে কটূক্তি আবরার আহমেদের

    এই বিতর্কের পিছনে মূল কারণ আবরার আহমেদের ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে করা কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সীমান্তে উত্তেজনার সময় আবরার এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে যা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেক ভারতীয় সমর্থক। ভারতীয় বায়ুসেনাকে নিয়ে উপহাস করার জন্যও কুখ্যাত আবরার। প্রায়শই এক কাপ চায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লিখতেন, ‘চমৎকার চা’ (পাকিস্তানে সাময়িক বন্দিদশায় থাকা ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ভিডিয়োর প্রতি যা ইঙ্গিতবাহী)আবরারকে দলে নেওয়ার খবর সামনে আসতেই এক্স হ্যান্ডেলে #ShameOnSRH এবং #BoycottSunrisers হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, যে ক্রিকেটার ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, তাকে মোটা অঙ্কের চুক্তিতে দলে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরা দেশের অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করেছেন। অনেকে আবার সানরাইজার্স ব্র্যান্ডের মুখ কাব্যা মারানকেও কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত নিলামে তিনি আবরার আহমেদের জন্য বিড করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    পাকিস্তানি ক্রিকেটারের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ

    ২০০৯ সাল থেকে আইপিএলে নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয়দের মালিকানাধীন দলগুলিতেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নেওয়া হয় না। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এও তেমন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি আঁচ করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আগেই দলগুলিকে সতর্ক করেছিল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলামে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ক্রিকেটারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ ভারতীয় মলিকানাধীন চারটি দল রয়েছে। এগুলি হল ম্যাঞ্চস্টার সুপার জায়ান্টস (সঞ্জীব গোয়েন‌্কার আরপিজি গ্রুপের ৭০ শতাংশ মালিকানা), এমআই লন্ডন (মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্সের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সাদার্ন ব্রেভ (গ্রান্ধি কিরণ কুমারদের জিএমআর গ্রুপের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সানরাইজার্স লিডস (কলানিথি মারানের সান গ্রুপের ১০০ শতাংশ মালিকানা)। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইএলটি-টোয়েন্টি লিগেও আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলিকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিড করতে দেখা যায়নি।

    আবরারকে নিতে ব্যস্ত কাব্যা

    ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আট দলের এই টুর্নামেন্ট আগামী ২১ জুলাই থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলামে পাকিস্তানের দু’জন ক্রিকেটার দল পেয়েছেন। নিলামে হ্যারিস রউফ, শাদাব খান ও সাইম আয়ুবকে কোনও দল কেনেনি। চতুর্থ ক্রিকেটার উসমান তারিক দল পান। তাঁকে কেনে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। সেই দলে কোনও ভারতীয় মালিক নেই। চমক দেখা যায় আবরারের নিলামের সময়। ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে লড়াই চলে সানরাইজার্সের। কাব্য মারানকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি আবরারকে কিনে তবেই ছাড়়বেন। সেটাই করেন আইপিএলে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশনদের দলের মালকিন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই সানরাইজার্সের জার্সি পরা আবরারের ছবি সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করে তারা। এই পোস্টের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    বিদেশিদের গুরুত্ব দেয় সানরাইজার্স

    চলতি মাসেই শুরু আইপিএল। অনেকে দাবি করেছেন, আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সকলের বয়কট করা উচিত। কেউ কেউ বলেছেন, আইপিএলেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের থেকে বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশি গুরুত্ব দেয় সানরাইজার্স। যেখানে বাকি ন’দলে ভারতীয় অধিনায়ক রয়েছেন, সেখানে একমাত্র সানরাইজার্সের অধিনায়ক বিদেশি (প্যাট কামিন্স)। এর থেকেই প্রমাণিত, তারা ব্যবসা ছাড়া কিছু বোঝে না। অনেকে তো এ-ও বলেছেন, আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের যা হাল হয়েছে, ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে সেটাই হবে আবরারের। তাও ফিজ (মুস্তাফিজুরের ডাক নাম) ভারত সম্পর্কে কোনও কু-মন্তব্য করেননি। তা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ শীতল সম্পর্কের আবহে নিলামে কিনেও মুস্তাফিজুরকে ছাড়তে বাধ্য হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঠিক একই রকম ভাবে আবরারকে লিগ শুরুর আগেই ছাড়তে বাধ্য হবে সানরাইজার্স।

  • Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে । যে কোনও মুহূর্তে নির্বাচনের (Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগেই রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনায় বড় বদল আনল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে এই প্রথমবার অন্যান্য রাজ্যের মতো রিটার্নিং অফিসার পদে জেলাশাসকদের বদলে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের এই পদে নিয়োগ করল কমিশন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

    উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নয়া বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সবকটি অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্যই মহকুমা শাসক বা তার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম এসডিএম-দের এই পদে নিয়োগ করার কথা। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের অনুরোধ মেনে নিচুতলার কর্মীদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। তবে এবার আর নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম যে হবে না তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য মহকুমাশাসক বা এসডিএম (সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট) পদমর্যাদার অফিসারদের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হল বলে জানানো হয়েছে। এখন থেকে সারা দেশের নিয়ম মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও এসডিএম সমমর্যাদা বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এর থেকে নীচের পদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না বলে জানান হয়েছে।

    তালিকায় জায়গা পেলেন কারা?

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের কাছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। অর্থাৎ, সব পদই উচুস্তরের। পশ্চিমবঙ্গে আগে নির্বাচনে ডিএমডিসি (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটি কালেক্টর) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করলেও এ বার সেই প্রবণতা থেকে যে কমিশন সরে এল সদ্যপ্রকাশিত তালিকাতেই তা স্পষ্ট।

    রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর কেন

    সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সাফ বলেছিলেন ভোটের সময় রাজ্যে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। সেই লক্ষ্যেই এবার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর দিল কমিশন। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নিয়মের বাইরে গিয়ে যে একটিও কাজ হবে না, তা পদে পদে বুঝিয়ে দিচ্ছে কমিশন। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার সারা দেশের নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদারা অধিকারিকদের ইচ্ছামতো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেই তালিকা পাঠান হতো নির্বাচন কমিশনের কাছে। কিন্তু এবার থেকে আর সেই জিনিস চলবে না। বরং আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনেক বেশি কঠোর হয়েছে বলে খবর।

  • BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) জন্য অন্তত ১৫০টি আসনের প্রার্থী (BJP Candidate List) চূড়ান্ত করে ফেলল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ এমনটাই খবর সূত্রের। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও এ দিনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন৷ এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিপ্লব দেব, সুনীল বনশল, সতীশ ধন্দ, অমতি মালব্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷

    ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত

    দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপি-র এবারের প্রার্থী তালিকায় প্রত্যাশিত ভাবেই বর্তমান বিধায়কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে৷ পাশাপাশি, দলের পুরনো কর্মী এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম নেতা কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের ২৯৪টির মধ্যে ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগই আবার টিকিট পাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থী তালিকায় পুরনো জয়ী প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আগে কখনও বিধানসভা বা লোকসভার ভোটে লড়েননি, এমন কিছু নতুন মুখও টিকিট পাচ্ছেন। তবে তাঁরা সকলেই সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত।

    আসনগুলিকে এ, বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ 

    ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ১৫০ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। জয়ের সম্ভাবনা বিচার করে রাজ্যের বিধানসভা আসনগুলিকে এ,বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। জয়ের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, সেই আসনগুলিকে রাখা হয়েছে৷ এ ক্যাটেগরিতে৷ এই আসনগুলিতে ষোল আনা খাঁটি বিজেপি নেতা, কর্মী ছাড়া কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না। বি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয় ও পরাজয়ের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। সি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয়ের আশা বিশেষ নেই, তবু লড়াই জারি থাকবে। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ এবং দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসন নিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ থেকে এবং দিলীপ ঘোষকে খড়্গপুর সদর থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

  • Lieutenant Deeksha Tripathi: নারীশক্তির নয়া নজির! আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কমব্যাট কোর্সে সফল প্রথম মহিলা অফিসার দীক্ষা ত্রিপাঠী

    Lieutenant Deeksha Tripathi: নারীশক্তির নয়া নজির! আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কমব্যাট কোর্সে সফল প্রথম মহিলা অফিসার দীক্ষা ত্রিপাঠী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নতুন ইতিহাস গড়লেন লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী। তিনি কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন (AMAR) কমব্যাট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করলেন। এই প্রথম কোনও মহিলা সেনা অফিসার এই নজির স্থাপন করেছেন। পুনের আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং (AIPT)-এ এই কঠোর প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করেন তিনি। সেনাবাহিনীর মতে, আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কোর্সটি অন্যতম কঠিন কমব্যাট প্রশিক্ষণ, যেখানে একজন সেনার শারীরিক সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতাকে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।

    অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায়ের ফল

    লাদাখভিত্তিক সেনার ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কর্পস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, “লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী এই কোর্সের কঠিন চ্যালেঞ্জ শুধু সহ্যই করেননি, বরং অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায় এবং সংকল্পের মাধ্যমে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।” এতে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি লাদাখ অঞ্চলে দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই কোর্সটি একটি আধুনিক ও কাঠামোবদ্ধ কমব্যাট প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট এবং আন্তর্জাতিক কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি। এতে খালি হাতে যুদ্ধ, অস্ত্রসহ লড়াই, স্ট্যামিনা বৃদ্ধি এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য মানসিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

    উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয়

    এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হল কাছাকাছি সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে সৈনিকদের দক্ষ করে তোলা, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র সবসময় ব্যবহারযোগ্য নাও হতে পারে। এতে আক্রমণাত্মক কৌশল, অস্ত্রভিত্তিক যুদ্ধ এবং ধারালো বা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধ করার জন্য এই কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমন এলাকায় শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা দুটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে নারী শক্তি

    গত কয়েক বছরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে। আগে যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের প্রবেশ সীমিত ছিল, এখন তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করছেন। এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, আর্মি মেডিক্যাল কর্পসের মেজর দীক্ষা সি. মুদুদেভান বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পরিচয়বাহী সম্মানজনক ‘বলিদান ব্যাজ’ পাওয়া প্রথম মহিলা হন। বর্তমানে ইনফ্যান্ট্রি ও আর্মার্ড কর্পস বাদে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় সব শাখাতেই মহিলা অফিসাররা কাজ করছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় প্রথমবারের মতো মহিলা ফাইটার পাইলট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একটি বড় মাইলফলক তৈরি হয়। এখন তারা রাফাল ও সুখোই-৩০-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান চালাচ্ছেন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজেও দায়িত্ব পালন করছেন। লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠীর এই সাফল্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

  • Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তির বার্তা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মধ্যপ্রাচ্য যখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন মোদি (Modi Pezeshkian Discussion)। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল হ্য়ান্ডেলে সেই আলোচনার কথা তুলে ধরলেন।

    আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। মোদি বলেন, “ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।” পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেভাবে একের পর এক হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যেভাবে উত্তেজনার আবহে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”

    ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে জোর

    আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। মোদি নিজেই তাঁর পোস্টে জানান, যুদ্ধের আবহে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয়র সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে

    ভারত সরকার এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত যে কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা আবারও ওনাকে বলেছি। আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বার্তা আবার প্রমাণ করেছে ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে।

    মোদিকে বার্তা পেজেশকিয়ানের

    মোদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

    বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ইরানে থাকা ভারতীয়দের সহায়তা

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র ও তীর্থযাত্রীরা আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংকটের সময় অনেক ভারতীয়কে ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করার কাজও চলছে। সামগ্রিকভাবে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলপথ ব্যবহার করে সেখান থেকে বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া, সীমান্ত পারাপার এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে।

    ‘হরমুজ প্রণালী’

    এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” তবে বুধবারই হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। এর আগে অবশ্য গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, “শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

    মোদির বার্তা, ভারত-ইরান যোগ কূটনৈতিক উদ্যোগ

    আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের (US-Iran Conflict) অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই এবং ইরানের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তাই আরও স্পষ্ট করছে।

  • Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar)। এর পরেই হরমুজ প্রণালীতে সেফ প্যাসেজ পেল ভারতের অশোধিত তেলবাহী জাহাজ। ভারতের জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিল ইরান। বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বই বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছেও গিয়েছে।  বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজে (Strait Of Hormuz) আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিও সেফ প্যাসেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের ১৩তম দিনে তেল সঙ্কটে ভোগা ভারতে স্বস্তি।

    ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি

    মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। কার্যত গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম ছিল রাশিয়া এবং চিন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। ভারতীয় পতাকা লাগানো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে ইরান, আক্রমণ করা হবে না তাকে। এমনটাই জানিয়েছে ইরান। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড কোর।

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশল’

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশলে’ মন গলল ইরানের। হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দল ইরান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুস্পক এবং পরিমল নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজও নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলেও খবর। শীঘ্রই ভারতের বন্দরে এই জাহাজ দু’টি পৌঁছবে। এছাড়া দেশ মহিমা, দেশ অভিমান, স্বর্ণ কমল, বিশ্ব প্রেরণা, জগ বিরাট, জগ লোকেশ এবং এলএনজিসি অসীম নামের জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে পৌঁছে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী পার করে। একদিন আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জানা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয় আরাগাছি এবং জয়শঙ্করের মধ্যে। এর আগেও বার দু’য়েক ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জয়শঙ্কর। বস্তুত গত দুসপ্তাহ ধরে লাগাতার ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলছে দু’দেশের। তাতেই মিলল সাফল্য। আপাতত অন্তত হরমুজের ওপারে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে ফেরানোর অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।

    কেন ভারতকে অনুমতি

    ইরান যুদ্ধে শুরু থেকেইপ্রকাশ্যে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নিয়েছে। অন্তত । কিন্তু ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার অদূরে ইরানের রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে আবার হরমুজেই আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী একটি তাইল্যান্ডের জাহাজ। তাতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। তারপরই মোদি সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায়। সেটারই সুফল মিলল। এর ফলে দ্রুত দেশের জ্বালানি সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    হরমুজ পার করে মুম্বই বন্দরে

    এদিকে বুধবার হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকা লাগানো ওই জাহাজটির নাম শেনলং সুয়েজম্যাক্স (Shenlong Suezmax)। ওই জাহাজে ছিল ভারতের জন্য জ্বালানি। গত ১ মার্চ জাহাজটি সৌদি আরবের রাস টানুরা বন্দরে ক্রুড অয়েল ভরেছিল । তার দু’দিন পরে সেটি ওই বন্দর থেকে রওনা দেয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন এক ভারতীয়। ৮ মার্চ ওই জাহাজের শেষ সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজটিতে ছিল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ক্রুড অয়েল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুলের রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে। মুম্বইয়ে শেনলংয়ের প্রতিনিধি জিতেন্দ্র যাদব জানান, শেনলং সুয়েজম্যাক্স জাহাজে ছিলেন ২৯ জন ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং ফিলিপাইন্সের ক্রু। জাহাজে ক্যাপ্টেনের ভূমিকায় ছিলেন সুকান্ত সিং সান্ধু।

    কীভাবে ভারতে এল তেলবাহী জাহাজ

    লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে রওনা দেয়। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা যায় যে, জাহাজটির সিগন্যাল শেষবার ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীর ভিতরে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা গিয়েছিল, তারপর নিখোঁজ হয়ে যায়। এর থেকে বোঝা যায় যে, জাহাজের ক্রুরা বিপজ্জনক জলপ্রপাত অতিক্রম করার সময় জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সফলভাবে অতিক্রম করার পর, পরের দিন ভারতের দিকে যাত্রা শুরু করার সময় জাহাজটি আবার সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা দেয়।

    হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে উত্তেজনা

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ পার করার চেষ্টা করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। এই হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে আরও চড়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পারদ। একদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারি—নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী দিয়ে এক বিন্দু তেলও রফতানি হতে দেবে না তারা। অন্যদিকে আমেরিকার হুমকি—ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে অন্য দেশের জাহাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে ফল ভালো হবে না। সবমিলিয়ে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হয়।

    হরমুজ প্রণালীর আশে পাশে ভারতীয় জাহাজের অবস্থান

    ভারতের শিপিংয়ের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও হরমুজে আটকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী পার করে আটটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ সমুদ্রের সুরক্ষিত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছিল। এদিকে ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে এবং ১০১ জন ভারতীয় নাবিকসহ চারটি জাহাজ প্রণালীর পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা সমন্বয় করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

LinkedIn
Share