Author: pranabjyoti

  • PM Modi: “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে”, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে”, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ১৮ বছর আগে সিঙ্গুর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল টাটারা। রবিবার ১৮ বছর পরে সেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে। গরিবদের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তকরণে সাহায্য করছে না। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা পান না তাঁরা। যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও খেলছে তৃণমূল।”

    বিদ্যাসাগর-রামমোহন-বিবেকানন্দ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীকে জাতীয়স্তরে পালন করার উদ্যোগও নিয়েছে আমাদের সরকার।” তিনি বলেন, “বিজেপি বিকাশ এবং ঐতিহ্য উভয়কেই গুরুত্ব দেয়। এই দুয়ের মডেলেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিকাশে গতি দেবে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক সামর্থ্য রয়েছে। অনেক বড় বড় নদী রয়েছে। বিশাল উপকূল রেখা রয়েছে। উর্বর জমি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় কিছু না কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। এখানকার সাধারণ মানুষের বুদ্ধি, প্রতিভা, সামর্থ্য রয়েছে। বিজেপি প্রত্যেক জেলার হিসেবে পরিকল্পনা তৈরি করবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জেলার মানুষই সব চেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জেলায় ধনিয়াখালি শাড়ি রয়েছে, এখানে পাট আছে, হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সামগ্রীও রয়েছে। বিজেপির এক জেলা, এক পণ্য প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক জেলার এমন পণ্যে উৎসাহ দেবে। রাজ্যে বিজেপি সরকার এলেই প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কড়া নীতি গৃহীত হবে। পাট শিল্পকে আরও উৎসাহিত করা হবে।” সিঙ্গুরের আলু-পেঁয়াজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গোটা পৃথিবীতে টাটকা সবজির চাহিদা রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত সবজিরও বিশাল বাজার রয়েছে।”

    অনুপ্রবেশকারী ইস্যু

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাকারী, মাফিয়া, লুটতরাজে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এখানে সব কিছুতেই সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসানো হয়। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স, মাফিয়া ট্যাক্সকে বন্ধ করবে রাজ্যে বিজেপির সরকার এলে। এটা মোদির গ্যারান্টি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না। রাজ্যবাসীর সঙ্গে শত্রুতা করছে তৃণমূল সরকার।”

    মহা-জঙ্গলরাজের পতন

    তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মহা-জঙ্গলরাজের পতন ও বিজেপির ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত নন। মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের কবজায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা (PM Modi)। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে, কেউ চাকরি পাবেন না। এখানে কলেজে ধর্ষণ, হিংসার ঘটনা বন্ধ হোক।” তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম’ আখ্যাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প না আসার কারণও এদিন জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে, পশ্চিমবঙ্গে দুষ্কৃতি-পুলিশ সবাই এক। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট-রাজ খতম করবে, এটা মোদির গ্যারান্টি।” এদিন প্রধানমন্ত্রী সভা শুরু করেন বাংলায় সম্ভাষণ করে। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের এই পবিত্রভূমিকে আমার প্রণাম। পশ্চিমবঙ্গে আসল পরিবর্তন চাইছেন মানুষ। সবাই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজের পতন চায়। সিঙ্গুরের এই পবিত্রভূমিকে আমার প্রণাম, সিঙ্গুরের এই উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত (PM Modi)।”

     

  • PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আজ সকালে আমি মা কামাখ্যার মাটিতে ছিলাম। এখন বাবা তারকনাথের মাটিতে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।” রবিবার সিঙ্গুরের (Singur Meeting) জনসভায় কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন অবশ্য তিনি বক্তৃতা শুরু করেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং মা সারদাকে দিয়ে। তার পরেই চলে আসেন মা কামাখ্যা এবং বাবা তারকনাথের অনুষঙ্গে। সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের। সিঙ্গুরের সরকারি মঞ্চ থেকে হুগলির বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী।

    গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ (PM Modi)

    এদিন সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের ট্রেন যোগাযোগের ক্ষেত্রে গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১০০ বছরে এত কাজ হয়নি।” এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আগেই ৬টি অমৃত ভারত ট্রেন পেয়েছে। আজ আরও ৩টি অমৃত ভারত ট্রেন পেল পশ্চিমবঙ্গ।” জয়রামবাটি-বড়গোবিন্দনাথপুর-ময়নাপুর নয়া রেললাইনের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। যাত্রার সূচনা করেন তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের এবং একটি নয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের (PM Modi)।

    রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রত্যাশিতভাবেই এসেছে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান। তিনি বলেন, “আমাদের আসল পরিবর্তন চাই। সকলে এই মনোভাব নিয়েই আজ সভায় এসেছেন। সকলেই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছেন। বন্দে মাতরম হুগলিতেই লেখা হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই মাটিতেই লিখেছিলেন।” তিনি বলেন, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজ আরও একবার আটকে দিয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গও টিএমসির মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।” রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুরও এদিন বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Singur Meeting)। তিনি বলেন, “পাল্টানোর দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুরো সংসদ, পুরো দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। হুগলি এবং বন্দেমাতরমের সম্পর্ক তো আরও গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, এখানেই ঋষি বঙ্কিমজি বন্দেমাতরমকে পূর্ণতা দিয়েছেন।”

    কর্তব্যপথে নেতাজি

    তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারই দিল্লিতে কর্তব্যপথে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসিয়েছে। প্রথমবার লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে (PM Modi)। আন্দামান নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। আগে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচি ২৪-২৫ তারিখ থেকে শুরু হত। শেষ হত ৩০ তারিখে। আমরা তা বদলে দিয়েছি। এখন ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষবাবুর জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু করেছি। মহাত্মা গান্ধীর পূণ্যতিথিতে তা পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পাচ্ছেন না রাজ্যের মানুষ। এজন্য তৃণমূল সরকার দায়ী। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও লাভ হয় না। জেলেদের জন্য কেন্দ্রীয় যোজনায় বাংলার জেলেদের রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “জেলেরা বঞ্চিত (Singur Meeting) হচ্ছেন। যুব সমাজের সঙ্গে ছেলেখেলা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার (PM Modi)।”

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশ, সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই একপ্রকার গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। গত কয়েক দশক ধরে গভীর ও উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জেরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতা উপেক্ষা করে এসেছে (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষ।

    মানবাধিকার সঙ্কট (Hindus Under Attack)

    ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু ঘটনার একটি ছবি তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই গুরুতর মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। মাদ্রাজ হাই কোর্ট তিরুপ্পারনকুন্দ্রমে অবস্থিত অরুলমিগু সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের নির্বাহী আধিকারিককে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত জমিতে একটি দরগার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। আদালতের মন্তব্য, এই কাজটি ফৌজদারি অনধিকার প্রবেশের শামিল।

    অধ্যাপকের অভিযোগ

    আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক রচনা কৌশল প্রায় তিন দশক ধরে চলা ধর্মীয় বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলে এমন এক শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে ২০০৪ সালে যমজ সন্তানের গর্ভধারণের সময় তাঁর গর্ভপাত ঘটে। এএমইউয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডিং ও নথিপত্রের ভিত্তিতে করা এই অভিযোগ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার মারাত্মক লঙ্ঘন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির চিত্র তুলে ধরে (Hindus Under Attack)।

    রাম’ শব্দে বিতর্ক

    ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় সরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার একটি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ঘিরে ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভ ছড়িয়ে (Roundup Week) পড়ে। প্রশ্নে একটি কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পের মধ্যে ‘রাম’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ৭ জানুয়ারির পরীক্ষায় প্রশ্নটি ছিল—‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘বালা’, ‘শেরু’, ‘নো ওয়ান’ এবং ‘রাম’। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির হুলিমাঙ্গলা এলাকায় এক উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হল শহরটি। অবৈধ ইসলামি বসতি উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক ইসলামপন্থী মহিলা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেসিবি মেশিন দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে হেব্বাগোডি থানার পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব

    দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে পুরনিগমের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘটিত হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Roundup Week)। পাকিস্তানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে হিন্দু সংখ্যালঘু নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু সিন্ধ প্রদেশেই প্রতি বছর অন্তত ১,০০০ সংখ্যালঘু মেয়ে এ ধরনের যৌন দাসত্বের শিকার হয়। এছাড়াও পাকিস্তানের হিন্দুরা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্য এবং অবহেলার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু মন্দিরে ঘনঘন হামলা, শিক্ষাক্রমে হিন্দুবিদ্বেষী উপস্থাপন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব, মৌলিক অধিকার অস্বীকার এবং এমনকি অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক বৈষম্য। পাকিস্তানে ভিল (Bheel) সম্প্রদায়ের মহিলাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের করুণ অবস্থার আর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

    প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত

    পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে প্রভাবশালী এক জমিদারের গুলিতে কাইলাস কোলহি নামে এক প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রামীণ সিন্ধে সামন্ততান্ত্রিক হিংসা, সংখ্যালঘু অধিকার ও বিচারহীনতার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আবারও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবিতে সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

    দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এক মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফতকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ঘটনাটি বাংলাদেশ-সহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং ভারত থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছিল। শরীয়তপুর জেলায় সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় জখম হয়ে বছর পঞ্চাশের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর। তিনি ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মালিক ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে কেওড়ভাঙা বাজারের কাছে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় (Roundup Week)।

    হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ড

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে এক হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ডে। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা জয় মহাপাত্রকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরে বিষ প্রয়োগ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Hindus Under Attack)। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক ঘটনায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মিঠুন সরকার নামে একজন। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার আর একটি উদাহরণ। পাবনা জেলার প্রখ্যাত হিন্দু সংগীতশিল্পী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রবীণ নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

    ঘৃণাজনিত অপরাধ

    বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে হিন্দুবিদ্বেষ, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভেতরে প্রোথিত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনপরিসরে হিন্দুবিদ্বেষের আর একটি সূক্ষ্ম রূপ রয়েছে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে (Roundup Week)। এই সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না বিদ্যমান আইন ও তার প্রয়োগের ধরন এবং সামগ্রিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে বাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। আপাতদৃষ্টিতে এটি দূষণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ এবং এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে সুসংগত যুক্তির অভাব লক্ষ্য করলে সংশ্লিষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

  • Indian Medicines: পাকিস্তানি নয়, আফগানিস্তানে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের

    Indian Medicines: পাকিস্তানি নয়, আফগানিস্তানে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি (Pakistani Drugs) নয়, আফগানিস্তানের মেডিসিন বাজারে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের (Indian Medicines)। এক আফগান ব্লগার যিনি এক্স হ্যান্ডেলে ফজল আফগান নামে পরিচিত, আফগানিস্তানে ওষুধ কেনার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। তিনি জানান, তিনি যখন প্যারল কিনতে যাচ্ছিলেন (এটি পাকিস্তান ও তুরস্কে প্রচলিত একটি প্যারাসিটামল ব্র্যান্ড), তখন ফার্মাসিস্ট তাঁকে জানান, একই ধরনের ওষুধ একটি ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যাবে, যার দাম অন্তত চার গুণ কম।

    ভারতীয় ওষুধের গুণাবলী (Indian Medicines)

    ফজল প্রথমে তুরস্কে তৈরি প্যারাসিটামলই চাইছিলেন, কারণ তিনি এর মানের ওপর আস্থা রাখতেন। তিনি লেখেন, “১০টি ট্যাবলেটের একটি প্যাকেটের দাম ৪০ আফগানি। এরপর দোকানদার আমাকে আর একটি বিকল্প দেখালেন, ভারতে তৈরি প্যারাসিটামল। পরিমাণ একই, কিন্তু দাম মাত্র ১০ আফগানি। তিনি আরও বললেন, ভারতীয় ওষুধ নাকি অন্যগুলোর তুলনায় ভালো কাজ করে।” দাম কম হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় ট্যাবলেটটি কিনে নেন এবং লেখেন, সেটি খুব দ্রুত তাঁর মাথাব্যথা সারিয়ে দিয়েছে। এরপরেই তিনি মন্তব্য করেন, “ভারতীয় ওষুধ ধীরে (Pakistani Drugs) ধীরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানি ওষুধের জায়গা নিচ্ছে (Indian Medicines)।” দুই দেশের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের পর আফগান ওষুধ বাজারে পাকিস্তানের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। যদিও ২০২৪ সাল থেকেই এই অংশ কমছিল, তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর–নভেম্বরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বরাদর পাকিস্তানি ওষুধের নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ভারত, ইরান ও মধ্য এশিয়া থেকে বিকল্প উৎস খোঁজার আহ্বান জানান।

    আফগানিস্তানে ভারতীয় ওষুধ রফতানি

    একই সময়ে আফগানিস্তানে ভারতীয় ওষুধ রফতানি দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত কাবুলে ১০.৮ কোটি ডলারের ওষুধ পাঠিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বাকি সময়জুড়ে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলারের ওষুধ রফতানি করা হয়েছে। স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় এবং নিজস্ব স্বাস্থ্যখাত দুর্বল থাকায় আফগানিস্তান চিরকালই মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল ছিল (Indian Medicines)। ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগে পর্যন্ত পাকিস্তানই ছিল আফগানিস্তানের প্রধান ওষুধ সরবরাহকারী দেশ (Pakistani Drugs)। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং তোরখাম ও চামান সীমান্ত দিয়ে স্বল্প খরচে স্থলপথে পরিবহণের সুবিধা পাকিস্তানকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তানে ওষুধ উৎপাদন প্রায় নেই বললেই চলে। দেশটি তার মোট চাহিদার ৮৫ থেকে ৯৬ শতাংশ ওষুধ আমদানি করে।

    রাষ্ট্রসংঘের ইউএম কমট্রেডের তথ্য

    ট্রেডিং ইকোনমিকসের মাধ্যমে প্রাপ্ত রাষ্ট্রসংঘের ইউএম কমট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান আফগানিস্তানে ১৮.৬  কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রফতানি করে। বিজনেস রেকর্ডারের হিসেবে, ২০২৩ সালে এই রফতানির পরিমাণ ছিল ১১.২৮ কোটি মার্কিন ডলার (Indian Medicines)। তালিবান প্রশাসনের তরফে নুরুল্লাহ নুরি জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগে আফগানিস্তানে ব্যবহৃত ওষুধের ৭০ শতাংশেরও বেশি পাকিস্তান থেকে আসত (Pakistani Drugs)। এই নির্ভরতা বহু দশকের পুরোনো। ২০০১ সালের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং পরীক্ষাগারের সঙ্কট পাকিস্তানি আমদানিকে সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্প করে তুলেছিল। তবে একাধিক সীমান্ত সংঘর্ষের পর গত বছর আফগান ব্যবসায়ীদের জন্য তোরখাম ও চামান সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তালিবান সরকার পাকিস্তানি ওষুধের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর ফলে দেশে ওষুধের বিরাট সঙ্কট দেখা দেয়। ডয়চে ভেলের (DW) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন ও হৃদরোগের ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক ফার্মাসিস্ট অতিরিক্ত দাম নেয় কিংবা নকল ওষুধ বিক্রি করে।

    আফগানিস্তানে ওষুধের সঙ্কট

    ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে, যখন আফগানিস্তানে ওষুধের সঙ্কট প্রকট হতে শুরু করে, তখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঘোষণা করেন যে, ৭৩ টন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিমানযোগে কাবুলে পাঠানো হচ্ছে। এটি আফগানিস্তানে ভারতের প্রথম চিকিৎসা সহায়তা নয়। গত বছরের এপ্রিলে ভারত জলাতঙ্ক ও হেপাটাইটিস-বি রোগের টিকা, ছ’টি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম-সজ্জিত অ্যাম্বুল্যান্স এবং একটি আধুনিক ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যানার পাঠিয়েছিল (Indian Medicines)। এরও আগে, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারত পাঠিয়েছিল ১৩ টন চিকিৎসা সামগ্রী, যার মধ্যে ছিল পাঁচ লক্ষ কোভিড টিকাও। ভারতের সহায়তা শুধু জরুরি ওষুধ পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত চার বছরে ভারত ৩২৭ টন চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েছে এবং পাকতিয়া, খোস্ত ও পাকতিকায় পাঁচটি মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কাবুলে একটি ৩০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    ওষুধ রফতানির পরিমাণ

    এছাড়া কাবুলে একটি অঙ্কোলজি সেন্টার, ট্রমা সেন্টার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও থ্যালাসেমিয়া সেন্টার নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তানের রেডিওথেরাপি মেশিন ও অতিরিক্ত চিকিৎসা সামগ্রীর অনুরোধও বিবেচনাধীন (Pakistani Drugs)। ভারত-আফগান সম্পর্কের এই উন্নতি হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও আফগান জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী মাওলভি নুর জালাল জালালির বৈঠকের পর। ভারত শীঘ্রই প্রবীণ ভারতীয় চিকিৎসকদের একটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যারা আফগানিস্তানে মেডিক্যাল ক্যাম্প চালাবে এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে। গত বছরের জুনে আয়োজিত এক মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৭৫ জন আফগান রোগীর শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে ভারতীয় অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ৪০০ শয্যার ইন্দিরা গান্ধী শিশু হাসপাতাল আজও চালু রয়েছে, যেখানে আফগানিস্তানের প্রথম সেরিব্রাল পালসি কেন্দ্র রয়েছে (Indian Medicines)।  বর্তমানে আফগানিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির ওষুধ বাজারের ১২–১৫ শতাংশ দখল করেছে। আগে যেখানে পাকিস্তানের অংশ ছিল ৩৫–৪০ শতাংশ।

    পাকিস্তানি ওষুধ বিক্রি বন্ধ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি ওষুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত ভবিষ্যতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ওষুধ রফতানি করতে পারে। ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলি শুধু বিক্রি করেই থেমে নেই। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দুবাইয়ে ভারতীয় সংস্থা জাইডাস লাইফসায়েন্সেস আফগানিস্তানের রফিস ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মউ (MoU) সই করে। প্রথমে রফতানির ওপর জোর দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, আফগানিস্তানে জাইডাসের প্রতিনিধি দফতর এবং স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে (Pakistani Drugs)। তালিবান কর্তারা আর এক ভারতীয় সংস্থা ফার্মেক্সিলের সঙ্গেও যৌথ বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র ও গবেষণাগার স্থাপন নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন (Indian Medicines)। সব মিলিয়ে, আফগান ব্লগারের তুর্কি ও পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের বদলে সস্তা ভারতীয় ব্যথানাশক বেছে নেওয়া আসলে আফগানিস্তানের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

     

  • Chhattisgarh: হিন্দু ধর্মে ফিরল ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবার

    Chhattisgarh: হিন্দু ধর্মে ফিরল ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে ফিরলেন ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবারের মোট ১০৪ জন সদস্য। বৃহস্পতিবার ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) মহাসামুন্দ জেলার সারাইপালিতে স্বামী সুমেধানন্দ বৈদিক গুরুকুলে ওই পরিবারগুলি হিন্দুধর্মে ফিরে আসেন। তাঁদের হিন্দুধর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে আয়োজন করা হয়েছিল এক অনুষ্ঠানের। ছত্তিশগড় বিজেপির রাজ্য ইউনিটের সহ-সভাপতি এবং সর্বভারতীয় ‘ঘর ওয়াপসি’ আন্দোলনের পুরোধা প্রবল প্রতাপ সিং জুদেও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এবং তাঁদের পা ধুয়ে সনাতন ধর্মে স্বাগত জানান।

    কখনওই বাংলা হতে দেওয়া হবে না (Chhattisgarh)

    অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও এক্স হ্যান্ডেলে  শেয়ার করে প্রবল প্রতাপ লেখেন, “ছত্তিশগড়কে কখনওই বাংলা হতে দেওয়া হবে না! গতকাল সারাইপালির মা রুদ্রেশ্বরীর পবিত্র ভূমিতে আমি ১০৪ জন ধর্মান্তরিত পরিবারের সদস্যের পা ধুয়ে সনাতন ধর্মে ফিরিয়ে এনে ‘ঘর ওয়াপসি’ সম্পন্ন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।” প্রবল প্রতাপ সতর্ক করে বলেন, “সারা দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি বলেন, “ধর্মান্তরের ষড়যন্ত্র ভারতের সামগ্রিক জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। ভারতের ৮০০টি জেলার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০০টি জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। এটি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। ধর্মান্তরই আজ দেশের সবচেয়ে বড় হুমকি। হিন্দু জনসংখ্যার এই পরিবর্তন দেশের জন্য এক গভীর সঙ্কট (Chhattisgarh)।”

    আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

    তিনি এও বলেন, “আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা কুমার দিলীপ সিং জুদেওজি যে ‘জাতি গঠনের ঘর ওয়াপসি আন্দোলন’ শুরু করেছিলেন, আমরা তা আজীবন এগিয়ে নিয়ে যাব।” প্রবল প্রতাপ জানান, এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করা হয় মহর্ষি দয়ানন্দ মঠ ধর্মার্থ ট্রাস্ট, সারাইপালি-কাতাংপালিতে অবস্থিত স্বামী সুমেধানন্দ বৈদিক গুরুকুল এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে। পাঁচদিনব্যাপী ‘সঙ্গীতময় বৈদিক শ্রীরাম কথা ও বিশ্বকল্যাণ মহাযজ্ঞে’র অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল (Chhattisgarh)।

  • BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি (BJP)-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুরসভা নির্বাচনে। শুক্রবার প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে ২৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে এই জোট। বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত মহাযুতি রাজ্যজুড়ে ১,৪০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)-কে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (BJP) 

    মুম্বইয়ের মর্যাদাপূর্ণ বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে (বিএমসি)—যা ভারতের সবচেয়ে ধনী পুরসভা এবং যার বার্ষিক বাজেট ৭৪,৪০০ কোটি টাকারও বেশি—মহাযুতি জোট ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৪টি আসন অতিক্রম করেছে। বিজেপি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় দুই দশক পর একজোট হওয়া ঠাকরে ভাইরা উদ্ধব ও রাজের জোট উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রায় তিন দশক ধরে শিবসেনার আধিপত্যের অবসান ঘটল। রাজ্যের অন্যান্য বড় শহরেও মহাযুতির জয়যাত্রা অব্যাহত। নাগপুর পুরনিগমের ১৫১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৫টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং পুণেতে তারা ৫২টি আসন পেয়েছে। নভি মুম্বইয়ে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে—১১১টি আসনের মধ্যে ৬৭টি দখল করে (BJP)।

    এগিয়ে বিজেপি

    নাসিকেও জোট বড় সাফল্য পেয়েছে। সেখানে বিজেপি ও শিন্ডে শিবসেনা মিলিয়ে ১২২টি আসনের মধ্যে ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। থানে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমেও মহাযুতি তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে (Maharashtra)। ১৫ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে ৮৯৩টি ওয়ার্ডের ২,৮৬৯টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ১৫,৯৩১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ভোটদানের হার ছিল ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে কোলহাপুরে সর্বোচ্চ ৫০.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এটি মহাযুতির জন্য এক বড় প্রত্যাবর্তন। সেই সময় অবিভক্ত শিবসেনা একাই মুম্বই বিএমসিতে ৮৪টি আসন জিতেছিল এবং বিজেপি-শিবসেনা মিলিয়ে বহু পুরসভা নিয়ন্ত্রণ করত।

    বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে

    শহরাঞ্চলজুড়ে বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। কংগ্রেস মাত্র ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে রয়েছে—এর মধ্যে সাংলি, কোলহাপুর ও লাতুরের কিছু অংশ রয়েছে (BJP)। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে), এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) ও কংগ্রেসকে নিয়ে গঠিত মহা বিকাশ আঘাড়ি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ঠাকরে ভাইদের পুনর্মিলনও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।এই নিরঙ্কুশ জয় দেবেন্দ্র ফড়নবিস-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মহারাষ্ট্রের শহর প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করল, যা আগামী দিনের (Maharashtra) নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (BJP)।

    জানা গিয়েছে, মুম্বই, পুনে, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড, কল্যাণ-ডোম্বিভলি, নাসিক, থানে ও নবি মুম্বই-সহ রাজ্যের ২৯টি পুরসভা কর্পোরেশনের অধিকাংশেই জোটটি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে রাজ্যের শাসক জোটটি মোট ২,৮৬৯টি আসনের মধ্যে ১,৬০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল।

  • Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে (Iran) বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indians in Iran) সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা আমেরিকা (US Strike Threats) পুরোপুরি নাকচ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার ভারত সরকার ইরানে বসবাসকারী সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপায়ে সে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

    ইরান থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা (US Strike Threats)

    জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি ক্রমাগত বদলে যাওয়ায়, যারা দেশে ফিরতে চান, সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের (Indians in Iran) প্রত্যাবর্তন সহজ করতে বিদেশমন্ত্রক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে সরকারি সূত্র (Iran)।জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান ছাড়াও সামরিক পরিবহণ বিমান ব্যবহার করে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে সরকার। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থী-সহ ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় ইরানে বসবাস করছেন। বুধবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শিক্ষার্থী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক-সহ সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে (US Strike Threats)। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদী এলাকায় না যাওয়ার এবং দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইন

    জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন, টেলিফোন: ৯৭২৫৪৭৫২০৭১১, ৯৭২৫৪৩২৭৮৩৯২, ই-মেল: কনস তেলআভিভ@এমইএ.গভ.ইন উল্লেখ্য, এই প্রথম নয় যে ভারত এই ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। গত বছর জুন মাসে মধ্যপ্রাচ্যে (Iran) সামরিক সংঘাতের জেরে উত্তেজনা বাড়ার পর ভারত সফলভাবে ইরান থেকে নিজের নাগরিকদের সরিয়ে এনেছিল। সেই সময় ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্ধু’ চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা (US Strike Threats)।

    ইরানে কী ঘটেছে?

    গত মাসের শেষের দিকে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। পরে এই বিক্ষোভ দেশের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ইরানে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভ দমনের সময় হত্যাকাণ্ড কমেছে বলে জানানো হলে সামরিক হামলার ইচ্ছা কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে বর্তমানে বড় ধরনের গণহত্যার কোনও পরিকল্পনা নেই, তবু পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির (US Strike Threats)। আগে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে অপেক্ষা করে দেখার নীতি গ্রহণ করেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একজন অনিশ্চিত নেতা হিসেবেই পরিচিত (Iran)। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো পল সেলেম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প আপাতদৃষ্টিতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হলেও, তিনি এখনও পুরোপুরি অনিশ্চিত চরিত্রের মানুষ (US Strike Threats)।

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁর স্বপ্ন ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তগত করা। কিন্তু তাঁর সেই কাঙ্খিত নোবেল পুরস্কার অধরাই রয়ে গিয়েছে। শেষমেশ অবশ্য দুধের স্বাদ ঘোলেই মেটালেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে গিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado) যখন তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন, তখন সেই মুহূর্তে ট্রাম্পের মুখে ছিল অর্থবহ এক হাসি। এই সম্মান বহুদিন ধরেই তাঁর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, এবং তিনি কখনওই তা প্রকাশ্যে চাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হননি। পুরস্কার হাতে নিয়ে এক গাল হাসি হেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “দারুণ এক সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ।”

    নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? (Donald Trump)

    মাচাদো শুধু ট্রাম্পকে পদকটি উপহারই দেননি, তিনি সেটি হোয়াইট হাউসেই রেখে গিয়েছেন। ট্রাম্পও প্রকাশ্যেই তা গ্রহণ করেন এবং একে পারস্পরিক সম্মানের প্রতীকী রূপ বলে অভিহিত করেন। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের পদক অন্য কারও হাতে তুলে দিলেন। প্রশ্ন হল, এভাবে কি নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? মাচাদোর হোয়াইট হাউস সফরের কয়েক দিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছিল নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট। রবিবার প্রতিষ্ঠানটি আবারও জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনও হস্তান্তর, ভাগ বা প্রত্যাহার করা যায় না। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করা হয় (Donald Trump)।

    নোবেল কমিটির বক্তব্য

    এক বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানায়, নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী। নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধির উল্লেখ করে তারা জানায়, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও আপিলের সুযোগ নেই। পাশাপাশি তারা জানায়, পুরস্কার পাওয়ার পর কোনও বিজয়ীর বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে (Maria Corina Machado) নোবেল কমিটি কোনও মন্তব্য করে না। বিবৃতিতে বলা হয়, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়ে গেলে তা আর কখনও প্রত্যাহার, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।”

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই মন্তব্য করে। নোবেল শান্তি পুরস্কার, যাকে সব নোবেল পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয় এবং যা মানবজাতির সর্বাধিক কল্যাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, চলতি বছর মাচাদোকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেবেন (Donald Trump)।

    পরবর্তী কালে মাচাদো জানান, এই উপহার তিনি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে (Maria Corina Machado)। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর মাচাদো বলেন, “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছি। আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর ব্যতিক্রমী অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই, তাঁকে এই উপহারটি দিয়েছি।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “মারিয়া আমার করা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারটি আমায় দিয়েছেন। পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ রূপ। ধন্যবাদ, মারিয়া (Donald Trump)!”

  • LET Commander: “হিন্দুদের গলা কেটে স্বাধীনতা আনতে হবে”! পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে হুমকি লস্কর কমান্ডারের

    LET Commander: “হিন্দুদের গলা কেটে স্বাধীনতা আনতে হবে”! পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে হুমকি লস্কর কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া জঙ্গি হুমকি এল পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (PoJK) থেকে। একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি আবু মুসা কাশ্মিরি প্রকাশ্যে জেহাদ (Jihad) ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার আহ্বান জানাচ্ছে (LET Commander)। ভিডিওটি তোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি কোনও অঞ্চল থেকে। এই ঘটনা এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন তার ঠিক এক দিন আগেই ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

    হিন্দুদের গলা কেটে স্বাধীনতা আনতে হবে (LET Commander)

    ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম ওসিন্টটিভি শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লস্কর-ই-তৈবার জম্মু ও কাশ্মীর ইউনাইটেড মুজাহিদিন (JKUM)-এর সিনিয়র কমান্ডার আবু মুসা কাশ্মিরি পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোট জেলার হাজিরা তহসিলের তাত্রিনোট এলাকায় এক সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছে। সেখানে সে প্রকাশ্যে হিংসার ডাক দেয় এবং দাবি করে যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান একমাত্র জেহাদের মাধ্যমেই সম্ভব। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভিক্ষা করে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে না। হিন্দুদের গলা কেটে তবেই স্বাধীনতা আসবে।” সে আরও দাবি করে, এই একই বার্তা সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রীদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’

    কাশ্মিরি এও বলে, “জেহাদের নামে সন্ত্রাস চালিয়েই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদি হিংসায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ আদর্শিক ও রাজনৈতিক মদতের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কাশ্মিরির এই ভাষণের সময়টিও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঠিক আগেও সে একই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল। ওই হামলায় গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয় (LET Commander)।উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার এক দিন আগেই ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী চলতি বছরের প্রথম ব্রিফিংয়ে ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’কে মাত্র একটি ট্রেলার বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতের যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত (Jihad)।”

    সেনাপ্রধানের বক্তব্য

    নয়াদিল্লিতে চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে দ্বিবেদী জানান, ৮৮ ঘণ্টার এই অভিযান ভারতের দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সেনাপ্রধান আবারও স্পষ্ট করে দেন, সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি একই সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের একইভাবে মোকাবিলা করা হবে (LET Commander)।” তিনি আরও জানান, ভারতের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়ার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বাইরের কোনও চাপ ভারতকে দমাতে পারবে না।

    অপারেশন সিঁদুরের শিক্ষা

    অপারেশন সিঁদুর থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেন দ্বিবেদী- সব স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন, সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয়, এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি। যদিও অপারেশন সিঁদুর স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৮৮ ঘণ্টা। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছরও চলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর পরেই ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে, যার আওতায় পাকিস্তান ও পাক- অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গি পরিকাঠামো এবং বিমানঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। পরে পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) আলোচনার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় (Jihad)। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানায়, এই অভিযান স্থগিত হয়েছে, শেষ হয়নি (LET Commander)।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে কোনও জঙ্গি হামলাকে যুদ্ধের সমতুল্য বলে গণ্য করা হবে। এছাড়াও সেনাপ্রধান জানান, ২০১৯ সালের অগাস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্পষ্টতা এবং ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে (LET Commander)।

LinkedIn
Share