COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

copd-rising-in-india-children-at-risk-causes-symptoms-and-prevention-november-copd-awareness-orange-is-power

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

ক্রমশ বাড়ছে রোগের দাপট! বিশেষত আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই উদ্বেগও বাড়ছে।
ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে! ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদ হতে পারে।

সিওপিডি কী? কেন এই রোগ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা?

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সিওপিডি হল ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসের নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সিওপিডি আক্রান্ত হলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া সিওপিডি আক্রান্তের নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ সিওপিডি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সমস্ত বয়সেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। পাশপাশি সিওপিডি-র কারণে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তাই এই রোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি।

সচেতনতা বাড়াতে কেন গেরুয়া রঙে ভরসা?

নভেম্বর মাস সিওপিডি সচেতনতার মাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশপাশি রোগের দাপট কমাতে সামগ্রিক সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, পরিবেশ এই রোগে একটা গুরুত্ব বিষয়। দূষণ মুক্ত সুস্থ পরিবেশ থাকলে সিওপিডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে। তাই এই মাস জুড়ে একাধিক কর্মশালা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
চলতি বছরে প্রচারের মূল বিষয়— ‘‘অরেঞ্জ ইস পাওয়ার!’’ অর্থাৎ, গেরুয়া রঙকে হাতিয়ার করেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গেরুয়া রং উজ্জ্বল। তাছাড়া গেরুয়া রং শুদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
সিওপিডি -র মতো রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশের দূষণ এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। গেরুয়া বার্তা জানান দেবে শুদ্ধ পরিবেশের গুরুত্ব। তাছাড়া উজ্বল রঙের স্পর্শে সচেতনতা কর্মসূচিকে‌‌ বাড়তি আকর্ষণীয় করে তুলবে। শিশুদের কাছেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বার্তা পৌঁছনো সহজ হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় রোগের বোঝা হতে চলেছে সিওপিডি। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি।

ভারতীয় শিশুরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

একাধিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে গর্ভস্থ শিশুদের ফুসফুসের গঠনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জন্মের পরেও দূষিত পরিবেশ শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে।
ভারতীয় শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ধূমপান নিয়ে অসচেতনতা। এই অভ্যাস শুধু ধূমপান কারীর শরীরেই ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। বরং তার আশপাশের মানুষের শরীরেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে, গর্ভস্থ মহিলার সামনে ধূমপান করলে সেই গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রভাব পড়ে। আবার শিশুদের সামনে ধূমপান করলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই তাদের সিওপিডি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই রোগের প্রকোপ কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

ধূমপান বন্ধ!

চিকিৎসকদের পরামর্শ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট কমাতে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ভারতে কম বয়সীদের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। তাই সে নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতনতা!

পরিবেশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। বায়ু দূষণ যাতে না বাড়ে, সেটা নিয়ে সব মহলে সতর্কতা জরুরি। পাশপাশি বাইরে বেরলে মাস্কের ব্যবহার প্রয়োজন। ঠিকমতো নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

রোগ নির্ণয় জরুরি!

ভারতে সিওপিডি চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হল রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক সময়েই লাগাতার কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় না।‌ সিওপিডি-র অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ হল দীর্ঘদিন কাশির ভোগান্তি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন , রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে জটিলতা কমে।

স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি!

রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে। আবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। ফলে যেকোনো সংক্রামক রোগে সহজে কাবু হবে না।

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share