মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরের (SIR) বিরোধিতায় তৃণমূলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত চরমে। এই অবস্থায় কমিশন নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল। যাঁকে এই পদে বসানো হয়েছে, তিনি অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত। ক্রমাগত মৃত্যু এবং কাজে বাধার মতো ইস্যুকে পর্যবেক্ষণ করতে শনিবার গুপ্তকে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্য দিকে রবিবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ঘোষণা করেছে ১২টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগে কাজ দ্রুত এগোবে (SIR)
বারবার নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সমর্থক বিএলওরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অবস্থান বিক্ষোভও করেছেন। এরপর কমিশন তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের করা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসআইআর একটি নির্দিষ্ট ক্রম এবং নিয়ম মেনে সংবিধানিকভাবেই করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, আপডেট এবং ত্রুটি মুক্ত করার জন্য এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একইভাবে বিএলওদের যারা হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে আবেদন করে বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি যেন অপপ্রচার ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি না করে। এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে করতে সুব্রত গুপ্ত এবং ১২ জন আইএএস পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
খসড়ার সময়সীমা বৃদ্ধি
রবিবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে বলা হয়, ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের জন্য নির্বাচন কর্মীদের আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়়ানো হয়েছে। জমা নেওয়া এবং খতিয়ে দেখার সময়সীমা ১১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তবে এই সময়সীমা আগে ৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার তা বাড়ানো হল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, এবার সেই খসড়া ভোটার তালিকা ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। বাংলায় তিন পর্যায়ে এসআইআর কাজের প্রথম পর্যায় শেষ হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্তমান ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারদের সংখ্যা ১৮.৭০ লাখ বলে জানিয়েছে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে এমন ভোটারের সংখ্যা ৩৫ লাখ হতে পারে বলে। তবে ৩৫ লাখের এই সংখ্যার মধ্যে ১৮.৭০ লাখ ভোটার রয়েছেন যাঁরা মারা গিয়েছেন। এদিকে, বাকিদের একই নাম একাধিক তালিকায় থাকা, ঠিকানা পরিবর্তন এবং জাল ভোটার হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply